সায়রে গর্জন পর্ব ৪০
নীতি জাহিদ
শরীর ঝাঁকি দিয়ে উঠেছে। বুক কাঁপছে এই অনর্থ আজই কেনো হতে হলো। আকাশের রূপ বদলেছে। মেঘের ঘনঘটা শুরু হচ্ছে। ছাদের চিলেকোঠায় আজ অমাবস্যা নেমেছে। আর দাঁড়িয়ে থাকা সম্ভব হচ্ছেনা। পাভেলের সামনে এখন সাক্ষাৎ যমরাজের উপস্থিতি টের পাচ্ছে। টেবিলের পাশে চেয়ার টেনে বসলো। পাভেলকে ইশারা দিলো পানি পান করার। গলাটা ভিজিয়ে পাভেল চুপচাপ খাটে বসলো। সরাসরি প্রশ্ন, কোনো বনিতা ছাড়াই,
– দোষটা কার?
কিছুক্ষন আগে শাহাদ উপরে এসে যা দেখার দেখে গিয়েছে। মধ্যরাতে একটা মেয়ে কখনোই সম্পর্ক ব্যতীত পর পুরুষের ঘরে আসবেনা। কিছুক্ষন আগে শিফা এসে পাভেলকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে গেলো, সাথে নিজের হাতে বানানো পায়েশ খাওয়ালো। পাভেল আজ শিফাকে নিষেধ করেনি। নিজের শরীর ও ক্লান্ত, মেয়েটা কষ্ট করে বানিয়ে নিয়ে এসেছে বারণ করলে হয়তো কেঁদে দিত। এই পুরো ঘটনা শাহাদ লক্ষ্য করেছে ছাদে এসে। চুপচাপ দেখেছে। শিফা চলে যাওয়ার পর পাভেলের রুমে ঢুকেছে। শাহাদ নিজেই উপরে এসেছিলো পাভেলের উপহার দিতে। এছাড়া কিছু রাজনৈতিক আলোচনাও ছিলো। কিন্তু যা দেখলো তাতে সব ইচ্ছে দমে গেলো। পুনরায় প্রশ্ন করলো,
– দোষটা কার?
পাভেল কেঁপে উঠলো। সাথে সাথে উত্তর করলো,
– বস আমার।
– শিফা কেনো এসেছে এখানে? তুমি ডেকেছো?
পাভেল শাহাদের দিকে তাকিয়ে থ হয়ে গিয়েছে। কি উত্তর দিবে? নিজেকে আশ্বস্ত করলো। যা হওয়ার হবে, আগে ব্যাপারটা স্বাভাবিক করতে হবে। নোমান, শেফালীর পরিনতির কথা সবাই জানে। পাভেলের হঠাৎ মনে হলো আজকের পর সব পরিবর্তন হয়ে যাবে। গলা শুকিয়ে যাচ্ছে। হয়তো শিফাকে আর দেখতে পাবেনা।
শাহাদ উঠে দাঁড়িয়ে বললো,
– গো ব্যাক টু ইউর ফ্ল্যাট। ইফ নিডেড আই উইল কল। ওকে?
– বস?
শাহাদ ঘুরে দাঁড়িয়ে সরাসরি পাভেলের চোখের দিকে তাকালো। পাভেল শাহাদের চোখ দেখে ভয় পেয়ে গিয়েছে। সাথে সাথে নিজের চোখ বন্ধ করে ঢোক গিলে বললো,
– ঠিক আছে বস।
আর কিছু বলার সাহস হয়নি। শাহাদ নেমে এলো নিচে। শাহাদের মনে প্রশ্ন ঘুরছে, দোষটা কার? পর মুহূর্তে মনে হলো, দোষটা তার। সুযোগটা শাহাদের কাছ থেকেই পেয়েছে সবাই। ব্যালকনিতে এসে চুপটি করে বসে আছে।
পাশে চেয়ার টানার শব্দে ঘুরে তাকালো। নিস্তব্ধ রজনীতে এই শব্দটাও ভয়ানক লাগছে। দিয়া পাশে বসেই বললো,
– জানিনা আপনার মাঝে কি চলছে। তবে এতটুকু বলতে পারি আপনি নিজের মধ্যে নেই। কি হয়েছে?
– ঘুমাওনি কেনো?
– আসছেনা।
– ইদানীং শূন্যতা অনুভব করি, রাশেদকে মনে পড়ে। সব সামলে নিতে যেয়ে ক্লান্ত আমি। সবই স্বাভাবিক এরপর ও অস্বাভাবিক।
দিয়া উঠে দাঁড়িয়ে রজনীগন্ধা গাছটার কাছে গিয়ে বললো,
– আমি আপনাকে মন থেকে মাফ করে দিয়েছি শেহজার বাবা। ভালোবেসে সংসারটা সামলাতে চাই কিন্তু আপনি যা চাইছেন ওটা পেতে যে সত্যি সময় লাগবে।
– কতদিন?
দিয়া হেসে বলে,
– বছর, দিন নয়।
মাথা নত শাহাদ। চক্ষুস্থির মেঝেতে। দিয়া পুনরায় বললো,
– আমার তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা।
শাহাদ মুচকি হেসে জোরেই বললো,
-ফ্যান্টাস্টিক।
দিয়া নিশ্চুপ। নিজেকে দমিয়ে আনত স্বরে পুনরায় বললো,
– ফারাহ্…
– জ্বি।
– ধন্যবাদ। এখন বুঝতে পারছি। পরীক্ষা কখন?
– বাইশ তারিখ থেকে।
– কখন যেতে চাও?
– আব্বু-আম্মুকে বলেছি। আগামীকাল যেতে চাচ্ছি।
– আমি এখন জানলাম!
আবারো নিরবতা।
– যাও ঘুমিয়ে পড়ো।
বারান্দা থেকে রুমে ঢুকে গেলো। দিয়া বারান্দার দরজা আটকে রুম থেকে বের হওয়ার সময় শাহাদ বলে উঠলো,
– এভাবে মাফ না করে কাছে থেকে আরো কঠিন শাস্তি দিলেও সয়ে নিতাম। দু বছর যতটুকু আঘাত দিয়েছি, তার চেয়ে আশঙ্কাময় হবে আমার আগামী দিনগুলো।
আর কথা বাড়ানো হয়নি। দিয়া রুম থেকে বেরিয়ে গেস্ট রুমে চলে গেলো। এই রুমটা তার বড্ড প্রিয়। কষ্টের দিনগুলোর সাক্ষী। চোখের পানির স্বাক্ষী।সংসারটা দিয়া করবেই। তবে সব গুছিয়ে। এত ঝামেলার মাঝে নিজেকে গুছানো হয়নি। গত পরশু চাচাজান ফোন দিয়ে জানিয়েছে পরীক্ষার কথা। মজুমদার বাড়ির পরিবেশ আগের তুলনায় স্বাভাবিক। কল্পনা,মঈন এবং তমা চাচী প্রতিটি মানুষ অধীর আগ্রহে থাকে দিয়ার জন্য। তমা চাচীও এখন দমে গিয়েছে। কল্পনার বিয়ে হয়েছে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে। শ্বাশুড়ির অত্যাচার সইতে না পেরে বাবার বাড়ি থাকে।
ছয়মাসের একটা মেয়ে আছে। স্বামী বিদেশ থাকে। স্বামীর নির্দেশেই বাবার বাড়ি থাকছে। দূরত্বটা হয়তো পরীক্ষা অবধি সবাই ভেবে নিচ্ছে, এই দূরত্ব বেশ সময়ের। এছাড়াও কিছু অসমাপ্ত কাজ রয়ে গিয়েছে যা এতদিন ভুল জেনে এসেছে। মজুমদার বাড়ির দেয়াল জানে সেসব গল্প, বাবাজানের গড়ে তোলা দিয়ার প্রিয় খামার বাড়ির দরজা খুলবে এবার। কি আছে সেই বাড়ির প্রাঙ্গনে। সেদিন রাতেই বুঝতে পেরেছিলো শাহাদ ইমরোজ কিছু একটা লুকাচ্ছে। এম সাফায়েত যে বাবাজানের নাম সে কথা দিয়া জানে। হঠাৎ বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠলো। একা শাহাদকে রেখে যাবে, মনি যদি পুনরায় কু-দৃষ্টি দেয়। নিজেকে আশ্বস্ত করে ভাবলো, তবে তাই হবে দিয়ার ভবিতব্য। মনে প্রাণে বিশ্বাস করে, আল্লাহ যা করেন সব ভালো করেন।
সকালটা বিষন্ন। সারা রাত গগন কাঁপিয়ে বজ্রপাত, মুষলধারে বৃষ্টি, মাটিতে সোধা গন্ধ৷ আজ নাস্তার টেবিল শান্ত। টুকটাক চামচের আওয়াজ। শেহজা লেপ্টে আছে বাবার বুকে৷ একটু করে মেয়েকে খাইয়ে দিচ্ছে। রায়হান সাহেব এর মাঝে দিয়াকে জিজ্ঞেস করলেন,
– বৌমা পরীক্ষা শেষ কবে?
দিয়া আবিরকে খাওয়াতে খাওয়াতে উত্তর দিলো,
– আব্বু ভাইভা সহ শেষ হতে দু মাস লাগতে পারে।
– আচ্ছা। শেফালীকে নিয়ে যাবে সাথে? ওখানে মঈন বা তমা ভাবী কি একা সামলাতে পারবে?
– সমস্যা নেই। কল্পনা আপু আছে। এছাড়া ওই বাড়িতে তো কাজ গুছানোর অনেক মানুষ আছে। শেফালী আপু বেড়াতে চাইলে যেতে পারে। কিন্তু আবিরের যে স্কুল আছে।
শাহাদ বলে উঠলো,
– শেফালী যাওয়ার দরকার নেই৷ আমি যাবো।
দিয়া তৎক্ষনাৎ বলে উঠলো,
– আপনার অনেক কাজ যাওয়ার প্রয়োজন নেই।
কতটা সূক্ষ্মভাবে প্রত্যাখ্যান করলো প্রস্তাব। সুলতানা কবির কিছুটা আঁচ করলেন ব্যাপারটা। তিনিও চান ছেলে আর তার বউ ব্যাপারটা নিজেরা মিটিয়ে নিক। তাই রায়হান সাহেব কথা বলার আগেই নিজেই বলে উঠলেন,
– বাবু তুমি গেলে বৌমার পড়া হবেনা। এখানে থেকে সারা বছর পড়তে পারেনা। আমার দাদুপাকে সামলানোর জন্য তমা ভাবী, কল্পনা আছে। আদরে আদরে থাকবে ওরা৷ প্রয়োজন হলে আমি যাব। তোমার যাওয়ার প্রয়োজন নেই।
শাহাদ মায়ের চোখের ভাষা স্পষ্ট বুঝতে পেরেছে। এই চোখের ভাষাই বলে দিচ্ছে আজ মা দিয়াকে সাপোর্ট করছে। শাহাদ মাথা নেড়ে সম্মতি দিয়ে চুপচাপ খেয়ে যাচ্ছে। শিফা প্রশ্ন করলো,
– ভাবীজান কখন বের হবেন?
– এইতো কিছুক্ষন পর।
এরপর সবাই টুকটাক কথা বলছে। এর মাঝে শাহাদ বললো,
– ফারাহ্ বিকেলে যাও। আমি মিটিং টা শেষ করে আসি।
– সমস্যা নেই। চাচাজান আসছে গাড়িতে। চলে যেতে পারবো আমি। আপনি চিন্তা করবেন না প্লিজ।
শাহাদ আর কথা না বাড়িয়ে উঠে দাঁড়ায় মেয়েকে নিয়ে। দরজার সামনে এগিয়ে গেলো, মেয়েকে আদর করে বুকের সাথে চেপে ধরে দিয়ার দিকে তাকিয়ে বললো,
– তুমি নিজেও জানো না ফারাহ্ কি ছিনিয়ে নিয়ে যাচ্ছো আমার কাছ থেকে। এমনভাবে দ্বিধায় ফেললে ওই বাড়িতেও আমি যেতে পারবোনা। সুস্থ মস্তিষ্কে দেয়াল তুলে দিলে।
– আপনাকে তো আমি যেতে বারণ করিনি।
– যে দেয়াল তুলেছো আমার কাছে ভাঙ্গার অ/স্ত্র নেই।
মেয়েকে কোলে দিয়ে বেরিয়ে যাবে এমন সময় শিফা ছাদ থেকে নামছে মুখ কালো করে। বিষন্নতার ছাপ মুখ জুড়ে। শাহাদ গলা ভারী করে বললো,
– এখন কি কাজে ছাদে গিয়েছো?
ভয় পেয়ে গিয়েছে শাহাদকে দেখে। ভীত ভাব নিয়ে উত্তর দিলো,
– না মানে ভাইজান। এমনি।
– যাও পড়তে বসো।
শাহাদ পা বাড়াবে এমন সময় শিফা প্রশ্ন করলো,
– ভাইজান আজ তো কোচিং আছে বিকেলে।
– হুম তো?
– আমাকে তো পাভেল ভাই নিয়ে আসে প্রতিদিন। উনি তো নেই বাসায়…
– গাড়ি পাঠিয়ে দিব। আজ থেকে ড্রাইভার দিয়ে আসবে নিয়ে আসবে। পাবলিক বাসে চড়তে পারো আমি জানি। এখন আপাতত প্রয়োজন নেই। রুমে যাও।
বেরিয়ে গেলো শাহাদ। দিয়া সব শুনছে এতক্ষন। শিফার চেহারায় মলিনতা দেখে মনে হলো কিছু ব্যাপার আছে।
গাড়ি চলছে মজুমদার বাড়ির উদ্দেশ্যে। শেহজা মায়ের কোলে ঘুমাচ্ছে। আসার সময় বুঝেনি কি ফেলে আসছে। দিয়াদের গাড়ি বেরিয়েছে সাড়ে এগারোটার দিকে।
শাহাদ অফিসের মিটিং পোস্ট পন্ড করে গুরুত্বপূর্ণ কাজ সেরে পুনরায় বাড়ির পথে রওয়ানা হলো। বাড়ির গেটে গাড়ি প্রবেশ করতেই ডোর খুলে ছুটে বেরিয়ে গেলো। উপরে সিড়ির কাছে দৌঁড়ে উঠলো। দরজা খোলা থাকাতে ভেতরে ঢুকেই দেখলো লিভিং রুমে সবাই বসে আছে। সুলতানা কবিরের চোখে পানি৷ আঁচলে চোখ মুছে সামনে আগাতেই ছেলেকে দেখতে পেয়ে চমকে উঠলো,
– বাবু, কখন আসছো বাবা?
– আম্মু ওরা চলে গিয়েছে?
– হ্যাঁ এই মাত্র।
– শেহজা আমাকে খুঁজে নি?
– প্রথমে বুঝে নাই কোথায় যাচ্ছে। গাড়িতে উঠে ছটফট শুরু করে দিয়েছে বাবা,বাবা করে।
শাহাদ মাথা ঝাঁকালো। বিনা বাক্য ব্যয়ে বেরিয়ে এলো পুনরায়। রওয়ানা দিলো অফিসের দিকে। মেয়েটাকে দেখার জন্য ভেতরটা ফেটে যাচ্ছে। দিয়াকে ফোন দিলো। ফোন রিসিভ হলোনা। পুনরায় দিলো। তবুও রিসিভ হলোনা। আর পারলো না নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে। সিটে মাথা এলিয়ে কপালে হাত রেখেই চোখ বন্ধ করলো। গড়িয়ে পড়লো অশ্রু দু চোখ বেয়ে। মনে মনে একটাই কথা বললো,
– ফারাহ্, এভাবে কষ্ট দিচ্ছো? আমার কাছ থেকে মা – মেয়ে দুজনই দূরে সরে গেলে? আমি কিভাবে থাকবো তোমাদের ছাড়া।
পথের দূরত্বটা কিছুই নয়। কিন্তু মনের দূরত্ব! শাহাদের মনে হলো দিয়ার স্পেস প্রয়োজন। নিজেকে সংযত করা প্রয়োজন।
হন্তদন্ত করে প্রতিটি মানুষ উপস্থিত হয়েছে হাসপাতালে। একেক দিক থেকে একেকজন ছুটে এসেছে। রক্তের প্রয়োজন। কোনো রকম প্রোটেকশন ছাড়াই ছুটে এসেছে সব ফেলে শাহাদ। দু ব্যাগ র*ক্ত দিয়ে বেরিয়ে এসেছে। শরীর একেবারে ছেড়ে দিয়েছে। এত বিপদ।এত ঝড়-ঝাপটা আর শরীর সইছে না। পাভেল হাসপাতালের সব ফরমালিটিস পূরন করেছে। এখানে কেউই এতটা অসতর্ক নয় যে এত বড় এক্সিডেন্ট ঘটে যাবে। ছেলেটা আই সি ইউতে। শাহাদ ইয়াজের দিকে বড় বড় চোখ করে তাকাতেই ইয়াজ শাহাদের পা জড়িয়ে বললো,
– বস আমি লিমনকে ইনফোরমেশন দেয়ার আগেই ও বেরিয়ে পড়ে৷ বাইক নিয়ে বেরিয়ে ছিলো। যখন তিনশ ফিট পেরিয়ে গেলো একটা গাড়ি ওকে ফলো করছিলো। ও শুধু ফোনে এতটুকুই বলেছিলো, ইয়াজ ভাইয়া আমাকে ফলো করছে, দশজনের মতো। হাতে ধারালো দেশীয় অস্ত্র। ভাইজানকে খবর দিও জেঠুমনির লোক এরা। আমি এদের মধ্যে একজনকে উনার বাসায় দেখেছি। এরপর লাইন ছুটে যায়।
পাভেল কাছে এসে বললো,
– চাচাজান কেনো এমনটা করবে?
শাহাদ শান্ত স্বরে বললো,
– তুলে নিয়ে আয় পাখিকে।
ইয়াজ এবং পাভেল ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলো। বস বলছে এই কথা? পাভেল পুনরায় বললো,
– বস, আপনি শ্যুর?
– ততক্ষন খাতির করবি যতক্ষন মুখ দিয়ে আসল কথা বের না করে, আমার লিমনের প্রতি ফোঁটা রক্তের মূল্য আমি চুকাবো। কাউকে কোনো নিউজ দেয়ার প্রয়োজন নেই।
– জ্বি বস।
তাহি ছুটে এসেছে শাহাদের ফোন পেয়ে। শাহাদ তাহিকে বললো,
– আমাকে হেল্প কর। ওকে এখানে দেখার মত আপাতত কেউ নেই। চাচী আম্মুর অবস্থা জানিস। একজন নারীর সেবা দরকার।
– ভাইজান ও কেমন আছে?
– বুঝতে পারছিনা। আল্লাহ রহম করুক। মাথা, বুকে লেগেছে। বুকে অনেক গুলো স্টিচ পড়েছে।
– বুকে কি করে লাগলো?
শাহাদ নিরব। বুকে যে দাগ ওটা কোপানোর দাগ। তাহি একপাশে বসলো।
ইয়াজ এবং পাভেল মিলে ডাক্তারকে কনভিন্স করেছে। পুলিশ কেস হওয়ার সম্ভাবনাও ছিলো। সিচুয়েশন শান্ত করতে অনেকটা সময় লেগেছে। পাভেলকে আড়ালে নিয়ে গেলো।
– জ্বি বস।
– তোমার ম্যাডামের জন্য ওই বাড়িতে নিরাপত্তার কি অবস্থা?
– বাড়ি অলরেডি সেফ আছে। ভেতরে তিনজন আছে। বাইরেও বেশ কয়েকজন আছে।
– তুমিও সাবধানে থেকো।
শাহাদ সামনে থেকে চলে গেলো। পাভেল দীর্ঘ শ্বাস ফেলে ভাবলো, ভাইজান সাবধানে তো থাকতেই হবে। আমার ঘরে- বাইরে সব জায়গায় বিপদ। তাই তো কোনো রকম প্রতিবাদ না করেই আপনার ইচ্ছেকে প্রাধান্য দিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসলাম। জানালাম না ছোট মেয়েটাকে। বুঝতে দিলাম না যে, আর কখনো ওই বাড়ির চিলেকোঠা টা পাভেলের হবে না।
সায়রে গর্জন পর্ব ৩৯
টিভিতে নতুন হেডলাইন
“নায়িকা মোহনা মিশু কিডন্যাপড।
বিকেল চারটার দিকে দূর্বৃত্তরা তার বাড়িতে এসে তুলে নিয়ে গেলো।
-পদ্মা টিভি।”
“মোহনা মিশুর মুক্তির জন্য রাস্তায় নেমে এসেছে শিল্পী গোষ্ঠী। চারদিকে গুজবে ভরপুর। তদন্ত করতে গিয়ে ধরা পড়ে মোহনার আসল ইতিহাস।
– বাংলা নিউজ।”
প্রতিটি খবরের চ্যানেল ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে একই নিউজ। শাহাদ এলইডি স্ক্রিনে তাকিয়ে কুটিল একটা হাসি দিলো।
