Home সুখময় যন্ত্রণা তুমি সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৯৮+৯৯

সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৯৮+৯৯

সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৯৮+৯৯
neelarahman

হুমায়ূন রহমান ফজলুর রহমান সবাই একত্রে খাওয়া-দাওয়া কমপ্লিট করলেন ।সাইমন রিমা চুপচাপ খাওয়া-দাওয়া কমপ্লিট করে যার যার রুমে চলে গেল ।নওরিন আফরোজ ও সামিহা বেগম রান্নাঘরের গোজগাছ করছিলেন হঠাৎ এমন সময় হুমায়ন রহমান ডাক দিলেন একটু শুনে যাও।
নওরিন আফরোজ রান্না ঘর থেকে হাত ধুয়ে ড্রয়িং রুমে আসতেই বললো ,”উপরে একটু রুমে এসো কথা আছে।”
কথাটি বলেই হুমায়ান রহমান চুপচাপ উপরে দিকে চলে গেল ।ফজলুর রহমান তাকিয়ে দেখলেন কি এমন কথা এখানে বলল না।

নওরিন আফরোজ বলল ,”আচ্ছা ঠিক আছে তুমি বসো আমি দেখে আসছি তোমার ভাই কি কথা বলবে হয়তো ওষুধ বা অন্য কিছু প্রয়োজন ।”কথা কাটিয়ে নওরিন আফরোজ পিছনে পিছনে উপরের দিকে চলে গেলেন।
নরিন আফরোজ এর কেমন যেন মনের ভিতরে ধুকধুক করছিল কি এমন কথা বলবে যার জন্য এত আর্জেন্ট ডেকে নিয়ে আসলো ?ভিতরে ঢুকতেই দেখলেন হুমায়ূন রহমান সোফায় বসে ছিলেন।
নওরিন আফরোজ সামনে এসে দাঁড়াতেই কিছুক্ষণ নওরেন আফরোজ কে পর্যবেক্ষণ করলেন ।তারপর বললেন ,”তুমি কি আমাকে বোকা মনে করো নুরিন?”
নরিন আফরোজ এর যেন কলিজাটা শুকিয়ে গেল বলল ,”যে কি বলছেন বোকা মনে করব কেন?”

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

“না কয়েকদিন ধরে মনে হচ্ছে তোমরা যেন আমাকে বোকাই মনে করছ ।বোকার স্বর্গে বসবাস করছি তোমাদের ভাষ্যমতে ।
নওরিন আফরোজ কাজের বাহানায় এদিক ওদিক হেটে বললেন ,”কি বলছেন যা তা ?কেন বোকা মনে করব? কি হয়েছে খুলে বলুন ।”
হুমায়ূন রহমান বললেন ,”তোমার কি মনে হয় আমার কলিজার টুকরা ছেলে কোথায় আছে কি করছে কোথায় থাকছে আমি কোন বিষয়ে কোনো খোঁজ রাখি না?”
নওরিন আফরোজ মনে হয় বুঝতে পারলেন এবার উনি ধরা খেয়ে গেছেন ।আমতা আমতা করে বললেন ,”আপনার ছেলে আপনি খোঁজ রাখতেই পারেন ।এটা আমাকে এভাবে বলার কি আছে?”
“বলার অনেক কিছু আছে আমি জানি ।আমার ছেলে কোথায় আছে কিভাবে আছে ।কিন্তু আজকে যে কাজটা করেছে সে কাজটা কি করা ঠিক হয়েছে?”

“সন্দেহ তো আমার কালকেই হয়েছিল যখন সাদাফের সব পছন্দের প্রিয় খাবারগুলি রান্না করে সবাই গিল্লে তখন থেকে বুঝতে পেরেছি এই খাবার আমার ছেলেও খেয়েছে ।সেটা নিয়ে কোন সমস্যা নেই কিন্তু আজকে যে কাজটা করলে সেটা সেটার জবাব দাও?”
নরিন আফরোজ এক হাত দিয়ে আরেক হাতের আঙ্গুল খুঁটতে খুঁটতে বললেন ,”কি করেছি ?”
হুমায়ূন রহমান দাড়িয়ে গেলেন ।দাড়িয়ে দরজাটা ভালো করে একবার লাগিয়ে দিলেন ।লাগিয়ে নওরিন আফরোজ এর কানের কাছে এসে ধীরে ধীরে বললেন,” নূরকে কেন ও বাড়িতে পাঠালে?
পাঠিয়েছো পাঠিয়েছো সন্ধ্যার আগে নিয়ে আসতে ।তুমি নিজে গিয়ে থাকতে তা না বাচ্চা মেয়েটাকে সারারাত তুমি তোমার ছেলের কাছে দিয়ে রাখলে?”

নরিন আফরোজ এবার যেন একটু ক্ষেপে গেলেন ।স্বামীর দিকে তাকিয়ে বললেন ,”বাচ্চা মেয়ে মানে ?সাদাফের স্ত্রী ও ।সাদাফের শরীর অসুস্থ জ্বর ও যাবে না তো কে যাবে ?হ্যাঁ আমি যেতেই পারতাম কিন্তু আমার ছেলে তার স্ত্রীকে দেখতে চেয়েছে তাই পাঠিয়েছি ।আর আমি কোন ভুল করেছি বলে আমার মনে হয় না।
আর নুর ইচ্ছা করে গিয়েছে আমি তোকে জোর করে পাঠাইনি।
আর আপনি ভুলে যাবেন না নূর ওর তিন কবুল করা স্ত্রী। স্বামী অসুস্থ তাই ও যাবে না তো কে যাবে?”
আর এত বাচ্চা মেয়ে বাচ্চা মেয়ে করবেন না এর থেকে বাচ্চা বয়সে আমি সাদাফকে জন্ম দিয়েছি তখন আপনার মনে হয়নি আমি বাচ্চা মেয়ে ছিলাম?

হুমায়ূন রহমান ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলেন আজ মা যেন ছেলের ভাষায় কথা বলছে ।এতদিন ছেলে এই কথাটা বলতো আজকে মা ওই কথাটা বলল ।কি জবাব দিবে হুমায়ূন রহমান ?বুঝতে পারছেন না ।উনি শুধু বললেন ,”দেখো আমি বুঝাতে চেয়েছি সবকিছু ঠিক হলে যেত কিন্তু এখন যেখানে ফজলুর জানেই না যদি জানে কি হবে বুঝতে পেরেছ?”
“কি হবে ?কি হবে আমি বুঝতে চাই ?ওর স্ত্রীকে নিয়ে গেছে ওর স্ত্রী ওর কাছে নিজের ইচ্ছায় গেছে ।কি হবে নুরকে বাসা থেকে বের করে দিবে ?দেক আমার ছেলের কি ক্ষমতা নেই বউকে নিয়ে বাইরে থাকার ?প্রয়োজন পড়লে নূর আর আজকে থেকে বাসায় আসবে না ওই বাসায় থাকবে ।ওই বাসায় ওর সংসার হবে ।”বলেই নওরিন আফরোজ আর এক মুহূর্ত দাঁড়ালেন না ।দরজা খুলে গটগট করে রুম থেকে বের হয়ে গেলেন।
হুমায়ুন রহমান অবাক নয়নে চেয়ে রইলেন বোকা নারী কি বুঝাতে চাইলেন আর কি বুঝলেন এই মুহূর্তে ফজলুর রহমান একটু রাগ ছিল রাগতো অবস্থায় যদি শোনে নূর আজ সারারাত ওই বাড়িতে থাকবে হয়তো ওর রাগ আরো বেড়ে যাবে তাই চাচ্ছিলেন সন্ধ্যার আগে মেয়েটা ফিরে আসলেই হত।

গতকাল খাবার-দাবারে আয়োজন দেখে সন্দেহ হয়েছিল হুমায়ন রহমানের তাই সোহানের সাথে যোগাযোগ করে সমস্ত কিছু ডিটেলস নিয়ে নিয়েছে এবং এটাও জানতে পেরেছে আজকে সাদাফের শরীর অনেক অসুস্থ বাড়ির নিচে গিয়ে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলেন হুমায়ুন রহমান কিন্তু উপরে ওঠেনি সোহানের কাছ থেকে জেনেছে জ্বর কিছুটা কমেছে এখন ঘুমাচ্ছে তখন উনি ফিরে এসেছেন বাসায়।
এদিকে রাত বাজে প্রায় বারোটা ফজলুর রহমান মোবাইল নিয়ে বসে আছেন ভাবছেন শ্বশুরবাড়িতে ফোন লাগাবে কিনা ?এত রাতে ফোন দেওয়াটা কি ঠিক হবে ?পরে ফোনটি রেখে দিলেন ।রেখে সামিহা বেগমের দিকে তাকিয়ে বললেন ,”হঠাৎ করেই নূর চলে গেল ঘটনাটা কি ?”

সামিহা বেগম আমতা আমতা করে বললেন ,”ওর নাকি ভালো লাগছিল না তাই বলল একদিন বেরিয়ে আসবে ।কথা বলতে চাইলে ফোন দিন ফোন দিয়ে কথা বলে নিন।”
সামিহা বেগম ভালো করে জানেন ফজলুর রহমান এত রাতে কখনোই তার সমন্দিকে ফোন দিবে না ।তাই এই চান্সটি নিয়েছে এবং কাজেও দিয়েছে ।ফোন রেখে ফজলুর রহমান বললেন ,”থাক সকালে দিব এত রাতে ফোন দেওয়া টা সমীচীন হবে না ।সবাই হয়তো ঘুমাচ্ছে ।নুরু হয়তো ঘুমিয়ে গেছে এ কথা বলে ফজলুর রহমান শুয়ে পড়লেন।”

রাত বাজে প্রায় একটা নূরের চোখে কোন ঘুম নেই কেন যেন ঘুমাতে পারছে না খাটে বাম পাশে শুয়েছে ঠিকই কিন্তু এমন চেপে শুয়েছে যেন ইঞ্চি পরিমাণ জায়গা অবশিষ্ট নেই ।একটু এদিক ওদিক হলে যে কোন মুহূর্তে পড়ে যাবে ।সাদাফ লক্ষ করল খাটের মাঝখানে পুরো খাট ফাঁকা পড়ে আছে অথচ নূর এমনভাবে চেপে শুয়েছে যেন ওকে কেউ জোর করে অতখানি জায়গায় দিয়েছে।
সাদাফ ধীরে ধীরে হালকা স্বরে ডাকলো ।নূরের কোন সারা শব্দ নেই ।সাদাফ বুঝতে পারছে না নূর কি ঘুমিয়ে গেছে কিনা ?গায়ে হাত দিবে সেটাও মন চাচ্ছে না ।যদি কেঁপে উঠে মেয়েটি ?আরেকটু জোরে বললো,” নূর ?”
নুর শুনছে সাদাফের প্রত্যেকটি বলা কথাই তারপর ধীরে ধীরে জবাব দিল হুম।
সাদাফ জিজ্ঞেস করল ,”ঘুমিয়েছিস ?”
নুর জবাব দিল হ্যাঁ ।সাদাফ মুচকি হাসলো ।বলল ,”ঘুমালে কথা বলছিস কি করে ?”
নূর আর কোন কথা বলল না ।সাদাফ বললো আরেকটু এদিকে এসে ঘুমা ।পড়ে যাবি ঘুমের মধ্যে ।তোর এখানে একটুও জায়গা নেই।”

“না না আমি ঠিক আছি পড়বো না ।”বলল নূর ।
সাদাফ বলল বেশি কথা বলিস না আর একটু এদিকে চেপে ঘুমা।পড়ে যাবি বলছি ।”
নুর সাদাফের দিকে ঘুরতে গিয়ে ধপাস করে বিছানা থেকে পড়ে আহ করে চিৎকার দিয়ে উঠলো।
সাদাফ সাথে সাথে বিছানা থেকে উঠে ওইপাশে গিয়ে নূরের কাছে গিয়ে বললো ,”কোথায় লেগেছে দেখি ?” নুর বললো,”না না দেখতে হবে না ।কারণ কোমরে লেগেছে ।নূর চাচ্ছে না কোমরে এখন সাদাফ হাত দিক ।
সাদাফ বললো কোথায় লেগেছে বলছি দেখা ?নুর আবার বললো ,”না কোথাও লাগেনি এমনি শব্দ হয়েছে।”
সাদাফ আর কোন কথা না বলে নুরকে সাথে সাথে কোলে তুলে নিল ।নিয়েই সাথে সাথে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে বলল ,”কোথায় ব্যথা পেয়েছিস বল ।আমাকে এখন মালিশ করতে না দিলে পরে এটাতে অনেক ভুগতে হবে ।”
নুর কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলল ,”এইদিকে কোমরের দিকে ব্যথা পেয়েছি।”

সাদাফ বুঝতে পারল এই জন্যই হ্যাজিটেড ফিল করছিল নুর ।সাদাফ সাথে সাথে রুম থেকে বাইরে বের হয়ে গিয়ে ফ্রিজ থেকে এক টুকরো বরফ নিয়ে আসলো ।এসে সাথে সাথে নূর কে বলল জামাটা একটু ওঠা।
নুর বলল ,”না না প্রয়োজন নেই ।এমনি একটু মালিশ করলে ঠিক হয়ে যাবে ।সাদাফ বললো ,”বেশি কথা বলিস না জামাটা একটু ওঠা ।এই আমি চোখ বন্ধ করে নিচ্ছি। তোর সমস্যা নেই জামাটা উঠা আমি তো বরফ দিয়ে দিচ্ছি তাহলে আর সমস্যা হবে না।”

বলে সাদাফ সাথে সাথে চোখ বন্ধ করে ফেলল ।নূর দেখল সাদাফের চোখ বন্ধ তাই কোমরের দিকে জামাটা একটু উঠিয়ে দিল ।সাদাফ কোমরের হাত দিতেই প্রথম কোমরে সাদাফের হাতের স্পর্শ পেয়ে নূর কেঁপে উঠল ।সাদাফ চেপে ধরল নূরের কোমর ।চোখ বন্ধ করা অবস্থায় বলল ,”নড়াচড়া করিস না বরফ দিতে দে।”
বলেই ঠান্ডা বরফ নুরের কোমল ত্বকে লাগাতেই যেন ছ্যাত করে উঠলো নূর ।সাথে সাথে চেপে ধরল সাদাফের হাত। তারপর বলল ,”পারছিনা অনেক ঠান্ডা দিতে হবে না প্লিজ ।”সাদাফ বলল না একটু দিতে হবে হাতছাড়।নূর বলল ,”না না অনেক ঠান্ডা ভীষণ খারাপ লাগছে ঠান্ডা লাগছে আমার।”

সাদাফ বিরক্ত হয়ে চোখ খুলে ফেলল ।এক ঝটকা নুরের হাতটা সরিয়ে উন্মুক্ত কোমর এক হাত দিয়ে চেপে ধরে আরেক হাত দিয়ে বরফ লাগাতে লাগল ।নূর লজ্জায় সাথে সাথে চোখ বন্ধ করে ফেলল।
নূরের ভীতর কেমন লাগছে বুঝাতে পারবেনা নূর ।উন্মুক্ত কোমরে হাত দিয়ে রেখেছে সাদাফ ।লজ্জা ভয় শিহরণ সবকিছু মিলিয়ে যেন একাকার হয়ে যাচ্ছে ।কেমন ভীষণ এক যন্ত্রণাময় সুখ অনুভব হচ্ছে নূরের।
মিনিট দুয়েক বরফ দেওয়ার পর বরফটি শেষ হয়ে গেলে সাদাফ খালি হাত দিয়েই নূরের কোমরটি ধীরে ধীরে মালিশ করে দিতে লাগলো ।কিছুক্ষণ পর মালিশ দেওয়া শেষ হয়ে গেলে জামাটি নামিয়ে দিয়ে ধীরে ধীরে তাকালো নুরের দিকে।
তারপর নুরের দিকে তাকিয়ে ধীরে ধীরে খুব আস্তে ঘোর লাগা কণ্ঠে বললো ,”সারারাত আজকে আমার বুকে শুয়ে থাকবি।না হলে আবার পরে যাবি ।রাত ভরা জ্বর শরীরে বরফ হাতে নিয়ে তোকে আমি মালিশ করতে পারবো না ।তাই চুপচাপ আমার বুকে শুয়ে থাকবি কোন কথা শুনতে চাই না ।”বলেই নূরের পাশে শুয়ে পড়লো সাদাফ নুর কে জড়িয়ে ধরে।

রাত বাজে দুইটা। নূরের চোখে কোন ঘুম নেই ।তবুও নিঃশ্বাসটা হালকা চেপে সাদাফের বুকে গুটিসুটি মেরে শুয়ে আছে ।সাদাফ পেছন থেকে নুরকে বুকে জড়িয়ে ধরে রেখেছে ।সাদাফ ঘুমাতে পারছে না এত কাছে নিজের প্রেয়সী নিজে সহধর্মিনী নতুন বিয়ে করা বউ থাকলে কোন পুরুষটা ঘুমিয়ে থাকতে পারে।
ধীরে ধীরে যেন সাদাফের অস্বস্তি বাড়তে লাগলো ।ধীরে ধীরে নূরকে আরেকটু জোরে নিজের কাছে জড়িয়ে ধরতে লাগলো সাদাফ ।নূরের যেন মনে হচ্ছে নিঃশ্বাসটাই এবার সত্যি সত্যি বন্ধ হয়ে যাবে।
সাদাফ নিজেকে আর নিয়ন্ত্রণ করে রাখতে পারছে না ।খুব কষ্ট হচ্ছে ।ধীরে ধীরে নিজের কপাল ঠেকালো নুরের কাঁধে ।জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে সাদাফ।কানের কাছে ঘোর লাগা কন্ঠে ফিসফিস করে বলল ,”নূর থেকে ঘুমিয়ে গেছিস?”
নুর কি বলবে বা কি রিয়েকশন দিবে বুঝতে পারছে না তাই চুপ করে রইলো।

সাদাফ নুরের কাঁধে নাক ঘষতে ঘুষতে আবার ফিস ফিস করে বলল ঘুমিয়ে গেছিস নুর?
সারা শরীরে শিহরণ বয়ে গেল নুরের।সুরসুরি লাগছে নূরের কাঁধে বারবার নাক ঘষার কারণে । কাঁধটা একটু সরিয়ে বলল ,”না ঘুমাতে পারছি না ।যেভাবে আপনি ধরে রেখেছেন ঘুমানো যায় নাকি?”
সাদাফ মুচকি হাসল ।তারপর আবারও ফিসফিস করে বলল ,”এখন থেকে এভাবে ঘুমানোর অভ্যাস করে নে। আমি এভাবে প্রতিদিন তোকে চেপে ধরে শুয়ে থাকবো।”

নুর ঠাস করে বলে উঠলো ,”ইশ প্রতিদিন চাইলেই হলো ?প্রতিদিন বুঝি আমাকে এখানে পাবেন আপনি ?আর এভাবে চেপে ধরে থাকলে কেউ ঘুমাতে পারে ?নিঃশ্বাসটা যেন আমার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।”
সাদাফ অবাক হয়ে গেল নূরের কথা শুনে ।তার পরে বলল ,”মোটা মাথা গা*ধী এটাকে চে*পে ধরে শুয়ে থাকা বলে না ।তোর স্বামী তোকে কতটা ভালোবেসে নিজের সাথে মিশিয়ে শুয়ে আছে সেটা ফিল কর।
এটাকে স্বামীর আ*দর স্বামীর ভালোবাসা বলে ।স্বামীর আদর স্বামীর ভালোবাসা এরকমই হয়।”
এদিকে সাইমন অনেকক্ষণ ধরে চিন্তা করছে ।রিমার কথা মনে পড়ছে ।রিমাকে একটু দেখতে ইচ্ছে করছে কিন্তু রিমার রুমে যাওয়া কোনভাবেই পসিবল না ।বাড়ির যে পরিবেশ যদি কেউ দেখে ফেলে তাহলে আর রক্ষে নেই।
তাই হাতে মোবাইলটি নিয়ে সাথে সাথে ফোন করলো রিমাকে দুই রিং হওয়ার সাথে সাথে রিমা ফোন ধরতেই সাইমন বলে উঠলো ,”কিরে ফোন ধরতে এত দেরি লাগে কেন ?ফোন তো হাতেই ছিল ফোন ধরিস নি কেন?”
রিমা বলল ,”মাত্র দুই রিং হয়েছে কোথায় দেরি করলাম ?ফোনটা হাতে ধরে দেখে ধরতে তো একটু সময় লাগে ।ঠিক আছে যাও এরপর থেকে ফোনে রিং হওয়ার আগেই ধরবো ।তুমি খালি চিন্তা করবে আমাকে ফোন দিবে আমি তার আগে ফোন রিসিভ করব খুশি এবার?”

সায়মন বলল ,”তুই অনেক বেড়েছিস ।মুখে মুখে অনেক বেশি কথা বলিস।এইরকমই যদি তোর পারফরমেন্স হয় তুই কিন্তু ভালো বউ হতে পারবি না ।স্বামীর কথা না শুনলে কিন্তু ভালো বউ হওয়া যায় না।”
রিমা বলল ,”সেদিন অনেক দূরে ।আপনার সাথে আমার এখনো বিয়ে হয়নি তাই আপনি আমার স্বামী না যে আপনার সব কথা আমার শুনতে হবে।”নীলা রহমান
সাইমন একটু থেমে গেল ।তারপর রিমাকে উদ্দেশ্য করে বলল ,”আচ্ছা শোন একটা কথা মাথায় এসেছে রাখবি?”
রিমা ও একটু শান্ত হল বলল ,”কি।”

সাইমন বলল ,”আয় আজকে আমরা বিয়ে করি আমি তিনবার কবুল বলবো তুই তিনবার কবুল বলবি ।কেউ আর না জানুক কিন্তু তুই আর আমি জানব তুই আর আমি স্বামী স্ত্রী ।ঠিক আছে ?তাহলে কেউ আমাদের আলাদা করতে পারবে না আলাদা করতে আসলে বলবো আমাদের তো বিয়ে হয়ে গেছে।”
রিমা বলল ,”সাহস তো কম না তোমার তুমি কবুল কবুল করে বিয়ে করতে চাইছো দেখলে না সাদাফ ভাইকে বাড়ি থেকে বের করে দিল ?”

সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৯৬+৯৭

সাইমন বলল ,”এই জন্যই বলছি গা*ধী বাড়ি থেকে বের করেছে কিন্তু এটা কি অস্বীকার করেছে নূরের সাথে ভাইয়ার বিয়ে হয়েছে ?অস্বীকার করতে পারেনি ।তাই তোর আমার যদি বিয়ে হয়ে যায় অস্বীকার করতে পারবেনা ।আয়না কেউ তো জানবে না শুধু তুই আর আমি জানবো।”

সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১০০+১০১