Home এক রহস্যময় ভালোবাসা এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৪৮

এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৪৮

এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৪৮
Chadny islam

নতুন দিন নতুন সকাল, ভোরের আলো ফুটেছে ধরণীতে ,আশরাফ সিকদার বসে বসে সকালের খবরের কাগজ পরছেন এবং গরম গরম ধোঁয়া ওঠানো কফি খাচ্ছেন। আদিস সিকদার বসে বসে কোম্পানির প্রজেক্ট দেখছেন! অহনা সিকদার এবং মাইমুনা সিকদার সকালের নাস্তা রেডি করছেন! পাশেই হাত লাগিয়ে কাজ করছেন বেশ কিছু সারবেন্টরা! আদিস সিকদার আশরাফ সিকদার কে উদ্দেশ্য করে বললেন!!

___ভাইজান!
আশরাফ সিকদার চোখ গুরালেন খবরের কাগজ হতে,কফিতে চুমুক চুমুক দিতে দিতে বললেন!!
___কিছু বলবি??
আদিস সিকদার বেশ কিছুটা উদাসীন হয়ে বললো!!
___হ্যা ভাইজান!!
___হুম বল,
আদিস সিকদার কিছুটা মিনমিনিয়ে বলে উঠলেন!!
____কলি কে বিয়ে দিতে চাই, বাদ বাকি পড়াশোনা না হয় বিয়ের পর করবে,
আশরাফ সিকদার কিছুটা বিরক্তি টেনে বললেন!!
____কলি এখনো ছোট, আপাতত আমি কলির বিষয়ে তেমন কিছু ভাবছি না, এসব ফালতু টেনশন মাথা থেকে জেড়ে ফেল!
আদিস সিকদার কখনো বড় ভাই এর মুখের উপর কথা বলে না, হয়তো আজকেও মুখের উপর কিছু বলবে না,তবে অনুরোধ তো করতে পারে, তাই আদিস সিকদার বলে উঠলেন!!

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

____আমার বন্ধু বেলাল চেয়ারম্যান এর এক মাএ ছেলে আমেরিকা থাকে, বিজনেস করে নিজের কোম্পানি ও আছে আমেরিকাতে, এখন আমার বন্ধু বেলাল বেশ অনুরুধ করছে ভাইজান আমি তাদের কে নিরাশ করতে চাই না। আপনি যদি একবার ভেবে দেখতেন!!
আশরাফ সিকদার কিছু সময় নিয়ে বিষয় টা ভাবলেন,যেহেতু আদিস এর বন্ধু তার মানে তো চেনা পরিচিত মানুষ, বাবার যেহেতু আপওি নেই সেই খানে বড় বাবা হয়ে আপওি করাটা বেমানান, তাই আশরাফ সিকদার বললেন!!
____যেহেতু আদিব এখনো বিয়ে করেনি,তাই আমার মনে হয় কলির আগে আদিব কে বিয়ে করানো প্রয়োজন যেহেতু বংশের একটি রীতিনীতি বলে ও কথা আছে!
আদিস সিকদার বেশ স্বাভাবিক ভাবে বললেন!!

____ভাইজান, বেলাল এর একটি মেয়ে ও আছে আপনি চাইলে আমরা আদিব এর জন্য ওই মেয়ে টা কে দেখতে পারি।
আশরাফ সিকদার নিজের ছেলে কে না জানিয়ে কোনো কিছু বলতে বা ইচ্ছে প্রকাশ করলেন না,বরং অল্প কথায় উওর করলেন,
____আগে আদিব কি বলে শুনি তার পর না হয় ভেবে দেখবো!
আদিস সিকদার বললেন!!
____আচ্ছা ভাইজান!

আদিল দুহাতে শক্ত করে জড়িয়ে দরে আছে ইরার কোমর , সারারাত এই ভালোবাসা নামক অত্যাচার দিয়ে খনে খনে ব্যাথা দ্বারা প্রভাবিত করে রেখেছে ইরার ছোট্ট শরীর টাকে। সারা রাত এক চিলটে পরিমান ও ঘুম আসতে দেয় নি ইরাকে ! যখন ধরণী জুড়ে সূর্যের আলো ফুটায় ব্যাস্ত তখন থেমে গিয়েছে এই নিষ্ঠুরতম ভালোবাসা।শেষ রাতে সাওয়ার নিয়ে গুমিয়ে আছে একে অপরের সাথে আষ্ঠেপৃষ্ঠে, আদিল এর বলিষ্ঠবান শক্ত বাহুতে জড়িয়ে রেখেছে ইরা নামক ছোট্ট মেয়ে টা কে! শেষ রাতে সাওয়ার এর পর বেশ কাঁপা-কাঁপি শুরু হয়ে গিয়ে ছিলো ইরার! রাতে বেশ সজাগ থাকার ফলে এখন দুইজন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন,!

আদিল এর ফোনে এ্যালাম টা বাজছে সেই কখন থেকে,বার বার এ্যালাম এর শব্দে ঘুম ভেঙে যায় ইরার! আদিল এর শক্ত পুরুষালি হাত দ্বারা দুহাতে শক্ত করে জড়িয়ে রেখেছে ইরা কে সেই মধ্যে রাত থেকে,ইরার ঘুম ভেঙে যাওয়াতে ছটপট করছে বিছানা থেকে ওঠার জন্য,আদিল এর হাত টাকে কোনো রকম নিজের শরীর থেকে আদিল কে ছাড়িয়ে, প্রথমেই ফোনের এ্যালাম বন্ধ করে, তার চলে যায় ওয়াশরুমে! রাতের অনাকাঙ্ক্ষিত অত্যাচারিত ভালোবাসার ফলে শরীরে বেশ অনেক টাই ব্যাথার সৃষ্টি হয়েছে!
ইরা দূত ফ্রেশ হয়ে রুমে চলে আসে,আদিল এর লং টিশার্ট টা চেন্স করে নরম সুতির থ্রি পিস পরে নেই! চুল গুলাকে হাত খোঁপা করে, মাথায় বেশ লম্বা করে কাপড় টেনে আদিল কে ডেকে তুলতে চেষ্টা করলো!!

____শুনছেন!!
ইরা একবার ডাকে আদিল কে,তারপর বড় দেয়াল ঘড়িতে সময় টা একবার দেখে নিলো,সকাল আটটা একুশ মিনিট। মূহুর্তেই ইরা কপাল কুঁচকে ফেলে এত সকাল হয়ে গেছে তারপর ও ঘুম থেকে ওঠে নিচে যায় নি! ইরা দূত আদিল কে ডাকলো গুম থেকে তোলার জন্য,এর মাঝে ফের আবারও বেজে উঠলো সেই বাজে এ্যালাম টা, ইরা এগিয়ে গেলো ফোনের দিকে,এরপর আদিল এর ফোন টা কে হাতে তুলে নিয়ে প্রথমেই এ্যালাম টা বন্ধ করে দিল!কি বাজে এ্যালাম! গুম থেকে উঠতে পারে না সময় মতোন, তাহলে আবার এ্যালাম দিয়ে রাখতে হয় কেনো,বললেই তো হয় সময় মতোন তুলে দিও সেটাও বলতে পারে না আবার এ্যালাম দিয়ে রাখে! ইরার হঠাৎ চোখ পরলো ফোনের ওয়েলপ্রেপারে এর দিকে যা দেখে রীতি মতোন অবাক হয়ে গেলো ইরা! ইরার লাল চুড়িদার পড়া ছবিটা কেমন ঝকঝক করছে ফোনের ওয়েলপ্রেপারে, ইরা এক রাশ ভালোবাসায় মিশিয়ে তাকালো আদিল এর দিকে!
এত ছবি থাকার পর ও কেনো তার ছবি দিতে হবে, আদিল সিকদার তো নিজেই একজন সৌর্দশন পুরুষ, তাহলে নিজের ছবি কেনো দেয় নি! কেনো এই অগোছালো নারীর ছবি দিয়ে রাখতে হবে! ইরা কিছু টা সময় নিয়ে ছবি টা দেখলো, তারপর নির্দিষ্ট জায়গায় ফোন টাকে রেখে দিয়ে আসলো!তারপর আবার ও চলে গেলো আদিল এর কাছে তাকে গুম থেকে উঠানোর মতোন বিশ্বযুদ্ধে!

এর মাঝে বার বার কল আসছিলো আদিল এর ফোনে, ইরা বেশ বিরক্ত হয়, কে কল দিয়েছে কে জানে ইরা তো জানে না, আদিল সে তো গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন! ইরা কখনো আদিল এর ফোন রিসিভ করে না! হয়তো আজকেও করবে না, কিন্তু না আজ এমন টা হলো না বার বার কল আসায় ইরা কিছু টা বিরক্তি নিয়ে এগিয়ে গেলো ফোনের দিকে, ফোন টা হাতে তুলে নিতেই চোখ পরলো রিজ লুমান নাম দিয়ে সেভ করা একটি নাম্বারে! ইরা বেশ কিছু টা সংকোচ নিয়ে ফোন টা রিসিভ করলো!!ইরার হ্যালো বলার আগেই অপর প্রান্তের লোক টা রাগী গম্ভীর গলাই বলে উঠলো!!

____আজকের মধ্যে নারী সহ অস্ত্র পাঠাতে হবে, নয়তো তার পরিমান খুবি খারাপ হতে চলেছে,তুই আমার বন্ধু এর জন্য সুযোগ দেয়া হয়ে ছিলো বার বার, এখন আর সময় নেই! তারা এখন আর টাকা ও ব্যাক নিবে না! বুঝতে পারছিস দশ কোটি টাকার লেনদেন! এবারের মতোন ডিল টা ওকে করি, পরের বার থেকে ভাবা যাবে!
রিজ লুমান এক মূহুর্তেই এত কথা বলে ফেললেন। কিন্তু অপর পাশ থেকে কোনো উওর না আসাতে, তিনি রাগে রিরি করে উঠলেন!!
____সময় বিকাল পাঁচটা শুনতে পাচ্ছিস!

অপর পাশ থেকে কথার শব্দ না আসাতে, রিজ লুমান বেশ বিরক্ত হয়ে কয়েক টা গালি দিয়ে ফোন টা কেটে দিলো, ইরার শরীর কাঁপছে কাঁপা কাঁপা হাত নিয়ে ফোন টাকে কোনো রকম দূরে রাখলো!ইরার ভিষণ কষ্ট হচ্ছে, সে কি কখনো পারবে না তার স্বামী কে ভালো পথে আনতে! তাদের কি আর সুখের ছোট সংসার আর হবে না, এত পাপ একজন মানুষ কিভাবে বয়ে বেড়ায়,একজন পাপীর সাথে সংসার কিভাবে সম্ভব! ইরা এমন ভাবনার মাঝেই টুকরে কেঁদে উঠলো! ইরা হাতের বাহু দিয়ে চোখের পানি মুছতে মুছতে নিচে চলে গেলো! এই মূহুর্তে তার একদম ইচ্ছে করছে না, স্বামী রূপি অমানুষ টার সাথে কথা বলতে!

সকাল সকাল বাড়িতে কমিশনার আবদুল মামুন এর উপস্থিত না চাইতেও অনেক কিছু বলে দিচ্ছে!আবদুল মামুন আজ প্রোপার পুলিশ ড্রেসে নয়, বরং একজন নরমাল মানুষ এর মতোন শার্ট পার্ন্ট পরেছেন! তার হঠাৎ এই বাড়িতে আসার কারন টা সম্পূর্ণ ভাবে অজানা! আবদুল মামুন আশরাফ সিকদার কে লম্বা সালাম দিয়ে সোফায় গিয়ে বসলেন! আশরাফ সিকদার যথেষ্ট সহমত প্রকাশ করলেন,এবং বিনয়ীর সাথে সালাম এর উওর নিলেন!
আশরাফ সিকদার এর এমন ভালো ব্যাবহার দেখে আবদুল মামুন কিছুটা অবাক হলেন, আশরাফ সিকদার তো এত ভালো মানুষ নয়! তাহলে হঠাৎ করে এত ভালো ব্যাবহার এর মানে কি! আশরাফ সিকদার বাড়ীর সার্বেন্ট ডেকে বললেন, চা নাস্তা দিয়ে যেতে, মিনিট পাঁচের মধ্যে ট্রি ভর্তি থালায় খাবার সাজিয়ে দিয়ে গেলেন বেশ কিছু সারবেন্টরা!
আশরাফ সিকদার আবদুল মামুন কে উদ্দেশ্য করে জিজ্ঞেস করলেন!!!

____এত সকাল সকাল কেনো! কোনো সমস্যা হয়েছে কি!
আবদুল মামুন বেশ স্বাভাবিক ভাবে বললেন!!
___জ্বি স্যার একটু তো সমস্যা হয়েছে!
আশরাফ সিকদার বেশ মনোযোগ দিয়ে আবদুল মামুন এর কথা টা গুলো কে শুনতে লাগলেন, আবদুল মামুন স্থির গলায় বললেন!!
____কাল থেকে আজ সকাল দশ টা পর্যন্ত ৫০ টা মেয়ের উধাও!তাদের খোঁজ খবর কোনো ভাবেই পাওয়া যাচ্ছে না! তাদের পরিবারের সবাই পুলিশ কমপ্লেন করছেন, এছাড়া মিডিয়াতে এসব প্রচার করা হচ্ছে!
উপর মহল থেকে বললো,আপনার সাথে এই বিষয় নিয়ে কথা বলতে! আমার সে জন্যই আপনার কাছে আসা!
আশরাফ সিকদার মূহুর্তেই মুখটা কুঁচকে ফেললেন!এবং গম্ভীর গলাই বললেন!!

____বিষয় টা খুবি দুঃখ জনক, তবে এই বিষয়ে আমি কি সাহায্য করতে পারি তোমাকে!
আবদুল মামুন অল্প হেসে বললেন!!
___স্যার আপনি তো একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, এবং আপনার ছেলে স্বয়ং আদিল সিকদার এমপি সেই সুবাধে আপনারা দুই জনি বেশ কাছে লাগবেন সরকারের! তাছাড়া এমন টাও তো হতে পারে আপনারা ও এর সাথে জড়িত থাকতে পারেন বিশেষ ভাবে!
আবদুল মামুন এর শেষ কথাটা একদম আগুনে ঘি ডালার মতোন কাজে লাগলো! আশরাফ সিকদার মূহুর্তে রেগে উঠলেন, গা জারা দিয়ে বলে উঠলেন!!

____কোনো প্রমাণ ছাড়া, অনুমান করে আমাদের ঘিরে মিথ্যা অপবাদ দেয়ার জন্য তোমাকে আমি এই মূহুর্তে চাকরি থেকে বরখ্যাস্ত করে দিতে পারি!
আবদুল মামুন তাচ্ছিল্যের হাসি মিশিয়ে বলে উঠলেন!!
____আমাকে চাকরির নিয়ে কোনো হুমকি দিবেন না, আমরা আইনের লোক এমন হুমকি দুমকিতে আমরা ভয় পাই না! আর হ্যা আপনি হয়তো চোখ থাকতেও অন্ধ হয়ে গেছেন! আমি কমিশনার আবদুল মামুন হয়ে আপনার এই সিকদার মহলে আসে নি, বরং শুধুই সামান্য একজন আবদুল মামুন হয়ে এসেছি! যার শরীরে না আছে আইনের পোশাক, আর না আছে চাকরি হারানোর ভয়!
আশরাফ সিকদার নিজেকে খুবি অপমানিত বোধ করলেন! ওনার মনে হলো হয়তো তাকে অপমান করা হচ্ছে!আশরাফ সিকদার ভিষণ রেগে গেলেন, এবং রাগে হুংকার দিয়ে বলে উঠলেন!!

____একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়িতে এসে তাকে অপমান করার শাস্তি কি হতে পারে, তুমি নিশ্চয় জানো! তাছাড়া আমি স্বয়ং আশরাফ সিকদার এত টাও দয়ালু নয় যে, আমাকে অপমান করার স্বার্থে আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিবো!
আবদুল মামুন শব্দ করে হেসে উঠলেন,এবং বললেন!!

____এই না হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আসল রুপ টাকে কোন ইট পাথরের নিচে চাপা দিয়ে রেখেছেন। এবার প্রকাশ করে ফেলেন! সময় তো চলে এসেছে!আর হ্যা একটা কথা মনে রাখবেন! আপনি রাজনীতি বিধ হতে পারেন, আপনার হাত ঠিক যতটা লম্বা তার থেকেও হাজার গুন লম্বা হয় আইনের হাত! আশা করি, কি বলতে চাইছি বুঝতে পারছেন!
ইরা সিঁড়িতে দাড়িয়ে এত খন সব গুলা কথায় মনো যোগ সহকারে শুনল, কিছু খন আগে আসা আদিল এর ফোনে কল, এখন আবার কিছু নারী উধাও হয়ে যাচ্ছে! ইরা একে একে দুই মিলিয়ে নিলো! যদি আদিল সব কিছু সাথে জড়িয়েও থাকে। তবে এত গুলা মেয়ে কে কোথায় রাখবে! বাড়িতে আনার মতোন বোকামি তো সে মুটেও করবে না! তাহলে কোথায় রাখতে পারে!
ইরার ভাবনার মাঝে আইরা বলে উঠলো!!

___কি হয়েছে তোমার, তুমি কাপতেছো কেনো??
হঠাৎ করে আইরার ডাকে ইরা ভাবনার ছেদ ঘটলো, আইরা হয়তো অফিসে যাওয়ার জন্য প্রোপার ভাবে রেডি হয়ে নিয়েছে! ইরা কিছুটা থতমত খেয়ে উঠলো! তারপর কিছু টা আমতা আমতা করে বলে উঠলো!!
___কিছুই তো হয় নি আপু!
আইরা খুব স্বাভাবিক ভাবে বললো!!

___মিথ্যা বলছো কেনো, তোমাকে দেখে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে তুমি কিছু নিয়ে ভিষণ টেনশনে আছো!
ইরার এক মূহুর্তের জন্য আইরা কে বেশ আপন মনে হলো, ঠিক তার বড় বোন আদ্রিতার মতোন হয়তো সে বেঁচে থাকলেও এমন ভাবে কেয়ার করতো!ঠিক এই মূহুর্তে দাড়িয়ে ভিষণ মিস করলো আদ্রিতা কে! ইরা কে এত সময় নিয়ে চিন্তা করতে দেখে আইরা বলে উঠলো!!
____ইরা ঠিক আছো তুমি??
ইরা এবার খুব স্বাভাবিক ভাবে বললো!!
____আপু আমি ঠিক আছি, প্লিজ চিন্তা করবেন না আমাকে নিয়ে!
আইরা এবার স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো! এবং হাত ঘড়িতে সময় টা একবার দেখে নিলো! আর এক সেকেন্ড ও দেরি করলো না, বরং ড্রয়িংরুমের সবাই কে উপেক্ষা করে বেরিয়ে গেলো সিকদার মহল থেকে! ইরা বেশ কিছু সময় নিয়ে আইরার চলে যাওয়ার প্রাণে তাকিয়ে রইলো!

আবদুল মামুন একবার চোখ গুরিয়ে তাকালেন ড্রয়িংরুমের সবার দিকে,তারপর স্থির নয়নে তাকালেন ইরার দিকে। আবদুল মামুন একবার তাকাতেই চোখ পরলো ইরার চোখে, আবদুল মামুন এর অপলক দৃষ্টি বলে দিচ্ছে অনেক কিছু! হয়তো তা বোঝার ক্ষমতা হয়েছে ইরার যথেষ্ট! আবদুল মামুন আর কিছু বললো না, শুধু ঠোঁটে এক রাশ হাসি নিয়ে বেরিয়ে গেলো সিকদার মহল থেকে।
অহনা সিকদার এবং মাইমুনা সিকদার খাবার টেবিলে সবার জন্য নাস্তা রেডি করছেন! সাথে সাথে সারবেন্ট রাও সাহায্য করছেন! ইরা এবার সিঁড়ি ডিঙ্গিয়ে ড্রয়িং রুমে আসলো! অহনা সিকদার এর সাথে সাথে কাজে সাহায্য করতে চাইলে, অহনা সিকদার গম্ভীর গলাই বললেন!!

____তুমি বসো আমি খাবার দিচ্ছি,আমাকে হেল্প করার জন্য বাসায় আরও অনেক লোক আছে!
ইরা যে আরেক বার বলবে আম্মু আমি ও আপনাকে একটু সাহায্য করি, তত টা সাহসে বোধহয় কোললো না তাই ইরা বাধ্য মেয়ের মতোন, চুপটি করে বসলো চেয়ারে! ইরার পাশে যে আদিল নেই সেটা কারোর চোখে না পরলেও আশরাফ সিকদার এর চোখে ঠিক পড়ে গেলো।আশরাফ সিকদার যথেষ্ট বিনয়ের সাথে ইরা কে জিজ্ঞেস করলেন!!
__আদিল কি এখনো গুম থেকে ওঠেনি আম্মু!
আশরাফ সিকদার এর বলা শান্ত কথায় ইরা চট করে উওর করলো!!
___না আব্বু! আমি যখন নিচে আসলাম তখনও তিনি গুমিয়ে ছিলেন!
ওহহহ..!
অহনা সিকদার কলি কে উদ্দেশ্য করে বললেন!

____তোমার ভাইয়া কে খাওয়ার টেবিলে আসতে বলো, আদিল এর সাথে আমার ইমপোর্টেন্স কথা আছে!
কলি টেবিল ছাড়লো উপরের রুমে যাবে বলে, তখনি দেখা গেলো আদিল টু কোয়ার্টার পান্ট এর সাথে শর্ট হাতার গেনছি পরে ফোন দেখতে দেখতে নিচে আসছে! পুরো টেবিল ভর্তি মানুষ সবাই তাকিয়ে দেখছে আদিল কে।অথচ আদিল এর ফোকাস প্রথম থেকেই ফোন এর দিকে। ইরা এক বার তাকিয়ে ফের চোখ গুরিয়ে নিল!
আদিল সোজা এসে বসলো ইরার পাশের চেয়ারে, ইরা বিষয় টাকে দেখে ও না দেখার নাটক করে নিজের খাবারে মন দিলো!
আদিব এই মূহুর্তে খাওয়ার সাথে সাথে ফোন দেখতে ও বেশ বেজি, আদিব এর পাশেই কলি বসে আছে! আশরাফ সিকদার সবাই কে উদ্দেশ্য করে বললেন!!

____আদিব তোমার যথেষ্ট বিয়ের বয়স হয়েছে, তুমি এখন আর বেকার নও! আমি তোমাকে বিয়ে করাতে চাই, যদি তোমার পছন্দের কেউ থাকে তবে আমাকে জানাও! নয়তো আদিস এর বন্ধু বেলাল এর মেয়ে কে দেখতে যাবো তোমার জন্য!
আদিব মনে মনে খুশিতে একটা লুঙ্গি ড্যাস দিতে চাইলো, কিন্তু এত মানুষ এর সামনে তো আর লুঙ্গি ড্যান দেয়া যাবে না।আদিব এর মনে হলো! যেনো মেঘ না চাইতেই জল পেয়ে গেলো!তবে আশরাফ সিকদার এর শেষ কথা টা মুটেও ভালো লাগলো না! কোনো বেল টেল এর মেয়ে কে আদিব একদম বিয়ে করবে না।সে তো বিয়ে করবে রিমঝিম কে! আদিব কে এক মনে ভাবতে দেখে কলি পায়ের উপর পা দিয়ে লাথী মেরে ফিসফিস করে বললো!!

____যদি এই মূহুর্তে হানিমুনে ও যেয়ে থাকো, তবে অতি শীঘ্রই ফিরে আসো! তোমার মতামতের অপেক্ষা করছে সবাই!
আদিব নিমিষেই বোকা বনে গেলো। কলির মাথাই শব্দ করে গাট্টা মেরে, আশরাফ সিকদার কে বললো!!
____না ড্যাড কোনো আলু বা বেল আলুর মেয়ে কে আমি বিয়ে করবো না!
আদিব এর এমন অদ্ভুত কথায় কলি ফিক করে হেসে ফেললো, কলি কে এমন ভাবে হাসতে দেখে মাইমুনা সিকদার চোখ গরম করে মেয়ের দিকে তাকালেন।মাইমুনা সিকদার কে এমন ভাবে তাকাতে দেখে কলি মূহুর্তেই মাথা নিচু করে খাওয়াতে মন দিলো! আদিস সিকদার কিছুটা কপাল কুঁচকে তাকালেন আদিব এর দিকে! আশরাফ সিকদার কিছু রাগী গলাই বললেন!!

____বিয়ে কি করবা না নাকি??
আশরাফ সিকদার এর কথা শেষ করার আগেই আদিব টুস করে বলে ফেললো!!
___অবশ্যই বিয়ে করবো ড্যাড “আমার বয়স কত তুমি জানো???
আশরাফ সিকদার কপাল চাপড়াতে চাপড়াতে গম্ভীর গলাই বললেন!!
__তোমাকে জন্ম আমি দিয়েছি! তোমাকে খাওয়ে পড়িয়ে বড় আমি করছি, আর তুমি কিনা আমাকে জিজ্ঞেস করছো, তোমার বয়স আমি জানি কিনা! আক্কেল ছাড়া বেক্কল ছেলে জন্ম দিয়েছি আমি!
আদিব রাগে ফুসফুস করতে লাগলো,অহনা সিকদার এর গম্ভীর মুখে চেয়ে বলে উঠলো!!
____মম আমি তো জানতাম, আমাকে জন্ম তুমি দিয়েছো, কিন্তু ড্যাড যে বলছে ড্যাড আমাকে জন্ম দিয়েছে! তার মানে আমার কি তুমি মম নও ড্যাড মম! হাও ফ্যানি” আমার জন্ম কিনা আমার ড্যাড দিয়েছে ,মানে একজন ছেলে! সরি ড্যাড আমি তোমাকে মা হিসাবে চিনতে ভিষণ ভুল করে ফেলেছি! ড্যাড রুপি মম সরি কিন্তু!
আদিব এর এমন বেক্কল মার্কা কথা শুনে সবাই এক সাথে শব্দ করে হেসে উঠলো!শুধু মাএ আশরাফ সিকদার বাদে, তিনি গম্ভীর মুখে চেয়ে রইলেন আদিব এর দিকে! আদিব ছোট মানুষ সেটা নয় ঠিক আছে! তাই বলে ড্রয়িংরুম ভর্তি মানুষ এর সামনে বাবা কে, বাবা থেকে মা বানানো টা কি খুব জুরুরি ছিলো! অহনা সিকদার আশরাফ সিকদার এর রাগের কারন টা বুঝতে পেরে অহনা সিকদার বেশ শব্দ করে রেগে বলে উঠলো!!

___আদিব কি হচ্ছে এসব! বাবা হয় তোমার!
আদিব গাড় ঘুরিয়ে মায়ের দিকে তাকালো, এবার মাকে উদ্দেশ্য করে বললো!!
____এসব বলতে হয় না ড্যাড! তুমি তো আমার ড্যাড ওনি তো আমার মম!
অহনা সিকদার চোয়াল শক্ত করে বললেন!!
___আদিব তুমি এখনো বাচ্চা নও! তাই উল্টা পাল্টা কথা বলা বন্ধ করো!
আদিব এবার শান্ত হয়ে বললো!!
___ওকে..!
এখন খন আদিল শুধু মাএ নিরব দর্শক হয়ে সব টাই দেখলো! এবার কিছুটা গলা উঁচিয়ে বললো!!
___কামাল স্যার এর মেয়ে টা দেখতে ভালোই! আমার মনে হয় আদিব এর ও পছন্দ হবে আর তোমাদের ও! তাই আমি চাই কালকে ওনাদের বাড়িতে তোমরা সবাই যাও! মেয়ে টাকে দেখে আসো এবং বিয়ের পাকা কথা সেরে আসো!

কামাল স্যার টা কে, কেউ জানে না, শুধু আদিব আর কলি জানে তবে আদিল কিভাবে জানলো, তাহলে কি ভাই কে কলি সব কিছু বলে দিলো! আদিব চোখ গরম করে কলির দিকে তাকালো!এর মাঝে আদিব এর চোখ গরম করার ব্যাপার টা কলি বুঝতে পেরে, কলি ইশারায় বুঝিয়ে বললো সে কিছুই জানে না এবং আদিল কে কিছু বলেও নি! তবে আদিল কিভাবে জানলো! আদিব আমতা আমতা করে বললো!!
___ভাই তুমি কিভাবে….
আদিব এর কথা চুলুই যাক, আশরাফ সিকদার গম্ভীর মুখে বলে উঠলো!!
____কামাল স্যার কে??
আদিব কে পাওা না দিয়ে, কলি টুস করে বলে উঠলো!!
___কামাল স্যার তো আমাদের শিক্ষক!রিমঝিম এর বাবা! বড় ভাইয়া তুমি কি কোনো ভাবে রিমঝিম এর কথা বলছো!
আদিল জুস টা খেতে খেতে বললো!!

___হয়তো তাই হবে, আদিব ভালো ভাবে বলতে পারবে!
আদিল হাতের গ্লাস টা টেবিলে রেখে চলে গেলো নিজের রুমে। সবাই বড় বড় চোখ নিয়ে তাকিয়ে আছে আদিব এর দিকে, আদিব নিষ্পাপ মুখে কিছু খন চেয়ে রইলো আদিল এর দিকে, এরপর এক এক করে বাড়ির সবার দিকে! আদিব মনে মনে ভাবলো,
আদিল কি তাকে সাহায্য করলো নাকি আরামসে নরমাল বাঁশ দিলো! আদিব থতমত খেয়ে যাচ্ছে বার বার! কি বলবে বুঝতে পারছে না! আদিব কে এমন নাজেহাল দেখে আশরাফ সিকদার বলে উঠলেন!!
____কামাল স্যার এর নাম্বার টা মনে করে আমাকে দিও!
আদিব খুশিতে গদগদ হয়ে বললো!!
___ওকে!

এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৪৭

আশরাফ সিকদার মূহুর্তেই আদিব কে জব্দ করে ফেললেন, এবং গা ছেড়ে বলে উঠলেন!!
___তুমি কোথায় পাবে কামাল স্যারের নাম্বার! তার মানে কি আগে থেকেই তুমি ওনাদের কে চিনো??
আদিব এর খুশি টা মূহতেই ভ্যানিশ হয়ে গেলো, আমতা আমতা করে বলে উঠলো!!
___আসলে ড্যাড ইয়ে মানে…!
আশরাফ সিকদার ছেলের মন টা নিমিষেই বুঝতে পেরে বলে উঠলেন!!
___হয়েছে যাও আর নাটক করতে হবে না! আমি একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সব কিছুই বোঝার ক্ষমতা রাখি!আর তেমাকে ও..!
আদিব এক রাশ হাসি মেখে বললো!!
___ধন্যবাদ ড্যাড!

এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৪৯

1 COMMENT

Comments are closed.