mad for you part 30
তানিয়া খাতুন
রাত বেশ গভীর।
সবাই ডিনার সেরে যে যার রুমে চলে গেছে, কিন্তু সোহান এখনো ক্রিশের পিছু ছাড়ছে না।
এতক্ষণ সে ক্রিশের সঙ্গে বক্সিং করছিল—দু’জনেই হাঁপিয়ে উঠেছে।
রুহি নিজের রুমে বসে ল্যাপটপে কিছু কাজ করছিল।
হঠাৎ দরজা খোলার শব্দে সে চমকে চোঁখ তুলে তাঁকায় —আর সেই মুহূর্তেই তার দৃষ্টি আটকে যায় ক্রিশের উপর।
ক্রিশ হাত-কাটা টি-শার্ট পরে আছে, তার শক্ত মাংসপেশিগুলো ঘামে চকচক করছে।
চুল এলোমেলো, বুক ওঠানামা করছে হাঁফানোর কারণে অ্যাডামস অ্যাপল টা ওঠানামা করছে, যেটা রুহির কাছে অদ্ভুতরকম আকর্ষণীয় লাগে।
পুরো শরীর দিয়ে ঘাম ঝরছে, যেন ঠিক এইমাত্র রিং থেকে বেরিয়ে এসেছে।
রুহি কে নিজেৱ দিকে তাঁকিয়ে থাকতে দেখে ক্রিশ এগিয়ে এসে হালকা হাঁসিতে বলে—
“কি দেখছো, বাটারফ্লাই?”
ক্রিশের কথায় রুহির গলা শুকিয়ে আসে।
সে তড়িঘড়ি করে ল্যাপটপের দিকে তাকিয়ে বলে—
“তেমন কিছু না…”
সোহান দরজার কাছে দাঁড়িয়েই বলল,
“ও জিজু, চলো না… কানামাছি খেলি! মজা হবে!”
ক্রিশ তখনো হাঁপাচ্ছে। ঘাম ভেজা গলা মুছে হালকা স্বরে বলল—
“এভাবে খালি খেললে হবে নাকি? সালা বাবু, ভবিষ্যতে তো বউ অসুস্থ হয়ে পড়বে।”
সোহান চোখ কুঁচকে ফেলল।
সোহানঃ “কেন? কেন? আমার বউ কেন অসুস্থ হবে?”
রুহি ল্যাপটপ বন্ধ করে বিরক্ত মুখে বলল—
“আপনার মুখে কিছুই আটকায় না, তাই না?”
ক্রিশ বিছানায় হেলান দিয়ে হেঁসে বলল—
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
“একদম ঠিক। আর রাত হচ্ছে… তাই সব কিছুই আটকানো কঠিন হয়ে পড়ছে ।”
এই কথা বলার মাঝেই ক্রিশের মাথায় হঠাৎ একটা দুষ্টু বুদ্ধি খেলে গেল।
সে সোজা হয়ে বসল, চোখে ঝিলিক।
সোহান আবার তাড়া দিল—
“জিজু চলো না প্লিজ, কানামাছি খেলি!”
ক্রিশ ভ্রু তুলে বলল—
“খেলব… নিশ্চয়ই খেলব সালা বাবু। কিন্তু… দু’টো শর্ত আছে।”
সোহান উত্তেজনায় লাফিয়ে উঠল।
“কি শর্ত? বলুন!”
ক্রিশ আঙুল তুলে বলল—
“এক—তোর দিদিকে খেলায় নিতে হবে।
দুই—চোখ বাঁধার পর যতক্ষণ না কাউকে ধরতে পারবি, ততক্ষণ চোখ খোলা যাবে না।”
রুহি কিছু বলার আগেই সোহান হাত উঁচু করে চিৎকার করে উঠল—
“রাজি! রাজি! আমি রাজি! আপু চলো চলো! তোমাৱ রুমে আজকে জমজমাট খেল হবে!”
রুহি বিরক্ত মুখে কিছু বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু সোহান তার হাত ধরে এমনভাবে টানাটানি শুরু করল যেন সে খেলতে না নিলে পৃথিবী থেমে যাবে।
শেষ পর্যন্ত সোহানের আগ্রহের কাছে হার মেনে রুহি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল—
“আচ্ছা… ঠিক আছে, খেলব।”
সাথেসাথেই সোহান দৌড়ে গিয়ে কাপড় এনে নিজেৱ চোখ বেঁধে নিলো—
ক্রিশ ঠোঁটের কোণে দুষ্টু হাসি নিয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে—
রাতের খেলা এখনই মজার হতে শুরু করেছে।
সোহানের চোখে কাপড় বাঁধা হতেই সে দুই হাত সামনের দিকে বাড়িয়ে দিল, যেন অন্ধ হয়ে হঠাৎ পৃথিবীটা খুঁজছে।
“জিজু! আপু! আসছি ধরতে…”
তার গলা উত্তেজনায় কাঁপছে।
রুহি হেঁসে পেছনে সরে গেল।
ক্রিশও নিঃশব্দে দু’পা সরল, যাতে সোহান ভুল দিকে যায়।
সোহান হাত বাড়িয়ে এগিয়ে এলো—
ডানদিকে টিপ টিপ করে হাঁটছে, বাচ্চার মত হাত দোলাচ্ছে।
রুহি চাপা হাঁসিতে ফিসফিস করে বলল—
“ধরতে পারবি না…”
সোহান হঠাৎ বাঁ দিকে ঘুরে হাত বাড়াল—
রুহি চমকে সরে গেলে প্রায় তার গালে ছুঁয়েই ফেলেছিল।
ক্রিশ মজা পেয়ে নিচু গলায় বলল—
“এদিকে না, উদিকে… উদিকে।”
তার কথা শুনে সোহান আরও বিভ্রান্ত হলো।
রুহি ও ক্রিশ দু’জনেই পেছন দিকে সরে গেল।
সোহান আবার হাত বাড়িয়ে বলল—
“ধরলাম! ধরলাম!—আরে… কই গেলে?”
রুহির হাঁসি থামছে না।
ঠিক তখনই ক্রিশ হঠাৎ সামনে এল, রুহির কোমরের কাছে নিচু হয়ে ফিসফিস করে বলল—
“চলো… খেলা এখানেই শেষ।”
রুহি কিছু বলার আগেই ক্রিশ তাৱ কোমর ধৱে তুলে নিল কোলে।
রুহির অবাক হয়ে ওঠা “আহ!” শব্দটা তার বুকের সঙ্গে মিশে গেল।
ক্রিশ নিঃশব্দে দরজার দিকে এগিয়ে গেল—
রুহির দু’হাত তার কাঁধে জড়িয়ে গেল স্বাভাবিকভাবেই।
দরজার কাছে পৌঁছে সে পেছন ফিরে তাকাল—
সোহান তখনো দুই হাত নেড়ে ডান–বাম করছে, বিছানার চাদরে পা জড়িয়ে ফেলল প্রায়।
“জিজু! আপু! কোথায় গেলা তোমরা… ধরব এখনই!”
ক্রিশ ঠোঁটে দুষ্টু হাসি এনে খুব আস্তে দরজাটা লাগিয়ে দিল—
টিক…
সোহান ভেতরে একা অন্ধকারে চেঁচাতে লাগল—
“ধরব! একটু থামো তো! হাঁটুর নিচে কিছু লাগল নাকি…?”
আর বাইরে—
ক্রিশ রুহিকে এখনো কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে,
রুহির মুখ লজ্জায় রাঙা, বুক দ্রুত উঠানামা করছে।
ক্রিশ নিচু গলায় বলল—
“বাটারফ্লাই…এবার আমাদের খেলা শুৱু হবে।”
Are you ready.
রুহি নিচু গলায় বলে,
“ক্রিশ… কিন্তু ও ওখানে একা… কি করবে? ওকে কিছু বলবেন না।”
ক্রিশ রুহির কানে আলতো করে ফিসফিস করে,
“চুপ… এখন কোনো কথা না, বাটারফ্লাই।
ও আমাদের না পেয়ে ঠিক, ঘুমিয়েই পড়বে।”
এ কথা বলেই ক্রিশ রুহি কে নিয়ে সোহানের ঘরের দিকে হেঁটে যায়।
ঘরে ঢুকেই রুহিকে নামিয়ে দিয়ে দরজাটা জোরে টেনে বন্ধ করে দেয়।
রুহি অবাক হয়ে বলে,
“এই ঘরে?”
ক্রিশ বাকা হেঁসে বলে,
“তাহলে আর কী করবো… সালা বাবুৱ সামনে তো আর খেলা যায় না।”
রুহি পিছিয়ে গিয়ে বুক ধরা কণ্ঠে বলে,
“যদি আমি কিছু করতে না দিই?”
ক্রিশ ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে আসে, চোখে দুষ্টু ঝিলিক—
“না দিলেও আমি করে নেব বাটারফ্লাই…”
তার গলা নিচু, কিন্তু কথায় উত্তেজনাৱ উত্তাপ।
রুহি হেঁসে বলে,
“তাহলে আমাকে ধরে দেখান!”
বলেই সে এক লাফে খাটে উঠে দাঁড়ায়।
ক্রিশ নিজের বুড়ো আঙুল ঠোঁটে বুলাতে বুলাতে রুহির দিকে তাকিয়ে বলে—
“ভেবে নে বাটারফ্লাই… তুই নিজে ধরা দিলে কম কষ্ট পাবি।
কিন্তু যদি আমাকে কষ্ট করে তোকে ধরতে হয়… It will be very hard.”
রুহি ঠোঁট ফুলিয়ে মুখ বাঁকিয়ে বলে,
“আমি আপনাকে ভয় পাই নাকি? হুঁ!”
রুহির এই অভিমানী মুখ দেখে ক্রিশ বাঁকা হেঁসে ওঠে।
এক লাফে খাটে উঠে রুহিকে জড়িয়ে ধরে দু’জনেই বিছানায় লুটিয়ে পড়ে।
সবকিছু এত দ্রুত ঘটে যে রুহি ঠিক বুঝতেই পারে না কী হলো।
ক্রিশ রুহিকে বিছানায় চেপে ধরে নিচু গলায় ফিসফিস করে—
“শিকারিৱ হাত থেকে পালানো অত সহজ নয় বাটারফ্লাই …”
বিছানায় চেপে থাকা রুহির বুক ওঠা–নামা করছে দ্রুত।
ক্রিশ দু’হাত দিয়ে রুহির দুই কবজি ধরে উপরে তুলল, যেন তাকে পুরোপুরি নিজের আয়ত্তে নিয়ে নিল।
রুহি শ্বাস টেনে বলে,
“ছাড়েন… প্লিজ ছাড়েন…”
কিন্তু তার গলার কম্পনেই বোঝা যায়—ওর ভিতরের ভয়টা আসলে অদ্ভুত এক টান।
ক্রিশ রুহির গলা বরাবর মুখ নামিয়ে ফিসফিস করে,
“ছাড়ব কেন? আজ তোকে ছাড়া আর কিছুই চাই না।”
রুহির চোখ বুজে আসে।
সে গলা কাঁপিয়ে বলে,
“ক্রিশ… এটা ভাইয়েৱ ৱুম…”
ক্রিশ একটু উঠে রুহির মুখের কাছে আসে—নাকে নাক ছোঁয়ানোর মতো দূরত্ব।
ক্ৰিশঃ “… তাতে কি? আমাৱ এখনি তোকে লাগবে।”
রুহির বুকের ওপর মুখ নামিয়ে ক্রিশ ধীরে ধীরে তার শ্বাসে গরম স্রোত ফেলতে থাকে।
রুহির বেসামাল হয়ে ওঠে, হাত দুটো শক্ত হয়ে যায়।
ক্রিশ ধীরে ধীরে তার ঠোঁট রুহির ঠোঁটের দিকে নামিয়ে আনে।
মুহূর্তটা যেন থমকে দাঁড়ায়—
ক্রিশের পুরুষালি অধর অবশেষে ছুঁয়ে ফেলে রুহির নরম, গোলাপি অধরকে।
যেন বহুদিনের অপেক্ষায় থাকা কোনো স্পর্শ আজ নিজের আয়ত্তে পেয়ে গেল।
তার শক্ত, উষ্ণ হাত রুহির উদৱ থেকে
স্লো-ভাবে নেমে যায় রুহির কোমরের কাছে,
যেন তার ত্বকের উষ্ণতা নিজের মুঠোয় ধরে রাখতে চায়।
পরক্ষণেই ক্রিশ গভীরভাবে চুমু খেতে শুরু করে—
একদম এমনভাবে,
যেন বহু বছরের জমে থাকা ক্ষুধা,
বহুদিনের চেপে রাখা আকুলতা
আজ রুহির ঠোঁট ছুঁয়ে মুক্তি খুঁজে পেল।
রুহির নিঃশ্বাস কেঁপে ওঠে,
শরীরের ভেতর দিয়ে অজানা শিহরণ বয়ে যায়,
আর ক্রিশ আরও কাছে টেনে নেয় তাকে—
ক্রিশ ধীরে ধীরে রুহিকে নিজের ভেতর থেকে উন্মুক্ত করে নেয়,
যেন তার হৃদয়ের গোপন বাগানে আলতো করে প্রবেশ করছে।
রুহির পোশাকের স্তরগুলোর স্থান হয় দূৱে মেঝেতে।
দু’জনের শরীরের ফাঁকগুলো মিলিয়ে যায় নিঃশব্দে।
ক্রিশ নিজের সমস্ত আড়াল সরিয়ে
নিগূঢ় স্বচ্ছতায় রুহির সামনে দাঁড়ায়—
যেন দু’জন মানুষের মাঝে
আর কোনো পর্দাই নেই এই মুহূর্তে।
রুহি লজ্জায় নিজেকে আড়াল করতে চাইলেও,
অজান্তেই ক্রিশের গলায় জড়িয়ে ধরে—
যেন তার উষ্ণতাই তার নিরাপদ আশ্রয়।
ক্রিশের শক্ত, বিশাল পুরুষালি শৱীৱেৱ উষ্ণতার নিচে,রুহি যেন নরম কোনো পাপড়ির মতো থিতিয়ে পড়ে—
অভয় আর আকর্ষণের মিশ্র স্রোতে ভেসে।
পুরুষের গভীর প্রবলতা রুহিকে এক অদ্ভুত ঘূর্ণিতে জড়িয়ে ফেলে,
যেখানে দম, লজ্জা আর অনুভূতির ঢেউ
একসঙ্গে কেঁপে ওঠে তার ভেতর।
ক্রিশের দু’হাত রুহির শরীর জুড়ে
নরম বাতাসের মতো ঘুরে বেড়ায়,
প্রতিটি স্পর্শে আরেকটু বেশি করে
ভর করে থাকে আদরের নীরব ভাষা।
রুহির চোখ ভিজে উঠল,
আর সেই মুহূর্তে মনে হল—
যে রাতটা শুধু কাছাকাছি আসার ছিল,
সেটাই দুই হৃদয়ের নতুন শুরুর সাক্ষী হয়ে রইল।
ক্রিশ রুহির কানের ঠিক পাশে মুখ নিয়ে ধীরে ফিসফিস করে বলল,
“পূরোটা গেছে, বাটারফ্লাই…”
রুহির নিঃশ্বাস কেঁপে উঠল,
“উম্ম… হ্যাঁ…”
ক্রিশ আরও গভীর হয়ে গিয়ে চাপা গলায় বলল,
“আর একটু যাই…”
রুহি তৎক্ষণাৎ তার হাত ধরে থামাতে চাইল,
“না… প্লিজ…”
ক্রিশ নিচু গলায় বলে,
“সরি বাটারফ্লাই… আজ আর নিজেকে আটকাতে পারছি না…”
আজ যেন ক্রিশ নিজেকে থামানোর ক্ষমতাই হারিয়ে ফেলেছে—তার পুরো অস্তিত্ব দিয়ে রুহিকে আদর করা ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারছে না।
রুহি বুঝে গেল—আজ ক্রিশকে আর থামানো যাবে না।
তার শরীর নিঃশব্দেই অনুমতি দিয়ে দিল, আর সেই অনুভবেই রুহির সারাটা দেহ কেঁপে উঠল।
ক্রিশ আরও বেপরোয়া হয়ে রুহিকে কাছে টেনে নিল।
সময় অতিবাহিত হয়, ঘড়ির কাঁটার হিসেব নেই—
mad for you part 29
প্রায় তিন ঘণ্টা পেরিয়ে গেল অনবরত আদরে, নিশ্বাসে ও কাছে থাকার উষ্ণতায়।
শেষে ক্লান্ত হয়ে ক্রিশ রুহির ওপর পুরোটা ভর করে শুয়ে পড়ল,
মুখ গুঁজে দিল তার গলায়।
রুহি আস্তে করে তার চুলে হাত বুলিয়ে দেয় ভালোবাসা আর শান্তির ছোঁয়ায়।
ক্ৰিশঃ “How did it feel butterfly?”
ৱুহিঃ “Most filling in the world”
