এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৪৭
Chadny islam
প্রকৃতি জোড়ে বয়ে যাচ্ছে উওাল ঠান্ডা হাওয়া, এলো মেলো আবহাওয়া শরীরের প্রতিটি শীরা উপশিরায়
বয়ে যাচ্ছে! বাইরে ঠিক যত বেশি ঠান্ডা ঠিক তত টাই আকাশ ঘন করা কুয়াশায় মুরানো! বাইরের তেমন কোনো কিছুই স্পষ্ট নয়! আদিল নিজের কালো BMW চালিয়ে বাড়িতে ফিরছে। আজকে সারা দিন এর ব্যাস্ততায় একবার এর জন্য ও বাড়ি ফেরা হয় নি তার! আদিল দখ্য হাতে গাড়ি চালাচ্ছে,তার মনে বেশ বার বার ভেসে আসছে!
রোশান এর বলা প্রতিঘাত এর কথা,তার বউ কে জড়ানো হাজার টা কথা! আচ্ছা রোশান এর যেমন ফিল হয় ইরার জন্য,ইরার ও কি তবে ওই রকম ফিল হয়, ভাবতেই আদিল মূহুর্তেই গাড়ি স্পিড একদম কমিয়ে দেয়। একটি পর্যায়ে গাড়িটি কে থামিয়ে দেয়, এবং গাড়ির সিটে গা এলিয়ে দেয়। এলো মেলো মন টা যেনো আরও এলো মেলো হয়ে উঠছে বার বার! তার ভাবনার মাঝে হাজার হাজার পুরনো সৃতি, অতীত এর সব কিছু কড়া নারতে থাকে বার বার৷
আমেরিকার মোস্ট পপুলার কিং ওফ আদিল সিকদার! যেখানে তার নাম শুনলে ভাগে ঘাটে এক জলে পানি খাই!সেই খানে কিনা শুধু মাএ একজন সামান্য এমপি হয়েও চুপচাপ আছে,মানুষ এর পাশে দাড়িয়ে! সে কি আজ ও এত ভালো মানুষ??
কোনো উওর নেই! সে সত্যি ভালো মানুষ নয়! আদিল সিকদার এর আরও খারাপ হতে ও সমস্যা নাই, তবে তার বউ এর দিকে কারো নজর পরলে জানে মেরে দিবে। এই রোশান ছেলে টার মরার দিন হয়তো গণিয়ে আসছে! আদিল সিকদার নিশ্চয় তার বউ এর দিকে কারো কুনজর সহ্য করবে না তাই!
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
আদিল মূহর্তেই পকেট থেকে ফোন টা বের করলো! তার পর সোজা চলে গেলো গ্যালারিতে যেই খানে ইরার সাথে বেশ অনেক অনেক ছবি আছে এক সাথে! আদিল দীর্ঘ সময় নিয়ে এক এক করে সব গুলা ছবি দেখলো, পরবর্তী ছবি টা লাল টুকটুকে চুড়িদার পরা। ছবি টাকে বেশ কিছু সময় নিয়ে দেখলো, তারপর আলতো করে এক এক করে কয়েক টা চুমু একে দিলো, ঠোঁটের কোণে এক রাশ অনুভূতি মিশিয়ে আনমনে গেয়ে উঠলো!!
চলনা হাত দরে এক”পা দু”পা করে
ঘুরে ফিরি আজ আবার….!
যত কথা বাকি ছিলো মন গোপনে
শেষ করি আয় এবার…!
এক বার তোকে বুকে নিয়ে একথা
আমি বলে দিতে চাই…!
জান রে আমার জান রে বেঁচে
থাকার তুই কারন….!
রাতের খাওয়া শেষ করে, ইমপোর্টেন্স কিছু কাজ ও ইতিমধ্যে শেষ করে ফেলেছে আদিব! আদিব বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে ফোন করলো রিমঝিম কে! এক বার দুই বার তিন বার রিং হওয়ার পর, রিমঝিম কল রিসিভ করলো! অপর পাশ থেকে গুম জড়ানো কন্ঠে বলে উঠলো রিমঝিম!!
___এত রাতে কল করেছেন কেনো!
আদিব আদুরে গলাই বলে উঠলো!!
____মিস করছি তোমাকে তাই!!
রিমঝিম চোখের এলোমেলো পাতা উল্টে ফের বললো!!
___এত রাতে মিস করছেন কেনো! ঘুমান!!
আদিব কিছু টা বিরক্তি নিয়ে বললো!!
___মিস করার জন্য বুঝি দিন রাত লাগে! আচ্ছা রাখি তুমি ঘুমাও!
আদিব এর বলা প্রতি শব্দ জুরে অভিমান, তাই রিমঝিম ঘুম থেকে উঠলো,এবং রুমের লাইট ওন করে সুধরালো!!
___রাগ করছেন কেনো! এগারো টা বাজে তাই বললাম গুমাতে!
আদিব এক চিলটে অভিমান নিয়ে বললো!!
___ওকে!
__কি ওকে!
__ঘুমাই! তুমি ও ঘুমাও।
রিমঝিম বিরক্তি টেনে বললো, ছোট একটি কথায় মানুষ রেগে যায় কিভাবে!তাই রিমঝিম আদিব কে মানানোর জন্য বললো!!
___এখন তো ঘুমাবো না আর, একটু কথা বলি!
__না কোনো কথা নাই! তুমি ঘুমাও!
আদিব এর গা ছাড়া কথা বলতে দেখে রাগ হলো রিমঝিম এর, তবুও প্রকাশ করলো না, বরং রাগ কমানোর জন্য বলে উঠলো!!
____আই লাভ ইউ ডক্টর সাহেব!
রিমঝিম এর ছোট একটি ব্যাকে মূহুর্তেই আদিব এর মুখে এক রাশ উজ্জ্বল হাসি দেখা গেলো। আদিব ভালোবাসা সহীদ বললো!.
____আই লাভ ইউ টু!
মূহুর্তেই একে অপরের প্রতি ভালোবাসা অনেক টাই বেড়ে গেলো। আদিব আর রিমঝিম প্রায় বেশ সময় নিয়ে কথা বলতে শুরু করলো!
ইকবাল খান সহ ওনার ওয়াইফ এক সাথে বসে বসে কফি খাচ্ছেন! বাড়ির বাইরে অসংখ্যক বডিগার্ডরা চারপাশে ঘুরাঘুরি করছে। আজ নতুন নই আপাতত রাতের কাজ এইটাই তাদের। কোনো রকম কোনো শএু যেনো এ্যাটাক করতে না পারে তার জন্য মূলত পাহারা দিচ্ছে। ইকবাল খান আজকাল খুব বেশি বাড়ির বাইরে বের হন না।খানিক টা অসুস্থতার জন্য।
এর মাঝে রোশান চলে আসে, সে আপাতত কাউকে দেখেও না দেখার অভিনয় করে নিজের রুমে চলে যায়। ইকবাল খান বিষয় টা বেশ ভালো করে লখ্য করলেন! কিন্তু কিছু বললেন না, কারন রোশান কখনো কারোর সামনে নিজের ব্যাক্তিগত কথা শেয়ার করে না এমন কি নিজের মায়ের সামনে ও না। যদি আবার কোনো কিছু নিয়ে হার্ট হয়ে যায়। তাই নিজের দূর্বলতা কখনো মায়ের সামনে ও প্রকাশ করে না রোশান৷ ইকবাল খান মিনিট পাঁচ এক পরে চলে গেলেন ছেলের রুমে। রোশান বেলকনিতে দাঁড়িয়ে এক মনে সিগারেট খাচ্ছে, আগুনের উড়ন্ত চুমুক বলে দিচ্ছে! তার হৃদয় টা ঠিক কিভাবে দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছে,হয়তো এই তীব্র যন্ত্রণা টা শুধু সে আর স্বয়ং আল্লাহ জানেন! ইকবাল খান বেলকনিতে দাঁড়িয়ে রোশান এর হাতের উপর হাত রেখে বললেন!!
____কোনো সমস্যা হয়েছে বেডা???
রোশান ইকবাল খান এর উপস্থিতি ঠিক বুঝতে পারে নি, ইকবাল খান কে দেখে হাতের সিগারেট টা ফ্লোরে ফেলে দিয়ে, দীর্ঘ শ্বাস টেনে বললো!!
____আমি বাংলাদেশে আর থাকবো না ড্যাড! আমার পাসপোর্ট রেডি করো !
ইকবাল খান ছেলের কথায় তথষ্ঠ হয়ে উঠলেন, বাংলাদেশে থাকবে না মানে, তাহলে কোথায় যাবে এই ছেলে! ইকবাল খান বেশ বিরক্তি নিয়ে বললেন!!
___কোথায় যাবে তুমি!
রোশান বেশ স্বাভাবিক ভাবে বললো!!
____যেই দেশে ভালোবাসার মানুষ পাওয়া হলো না, ভালো থাকা হলো না, সেই দেশে আমি আর থাকবো না! সবাই কে মুক্তি দিয়ে অনেক দূরে চলে যাবো আমি!
ইকবাল খান মূহুর্তেই রেগে গেলেন, সামান্য একজন নারীর জন্য দেশ ছাড়তে হবে। নিজের স্রমাজ্য সম্মান সব কিছু! ইকবাল খান রাগে হিসহিসিয়ে বলে উঠলেন!!
____একটা মেয়ের জন্য নিজের জন্মভূমি কে ছেড়ে চলে যাওয়া তোমার জন্য বোকামি হবে! তুমি শুধু একবার বলো বিয়ে করতে চাও আমি মেয়ে দের লাইন লাগিয়ে দিবো! আর যদি বলো ওই নারীই লাগবে জীবিত কিংবা মৃত আমি তাও এনে দিবো তোমার পায়ের কাছে!!!
রোশান হাসলো বেশ, তবে নিলিপ্ত সেই হাসি,বেশ ভয়ংকর হয়তো বাবার মুখে ইরা কে ঘিরে কিছু কথা তার পছন্দ হয় নি! তবুও নিঃশব্দে বলে উঠলো!!
____জোর করে এই পৃথিবীর বুকে সব কিছু পাওয়া গেলেও সত্যি কারের ভালোবাসা টা আজও পাওয়া যায় না!
ইকবাল খান দীর্ঘ শ্বাস টেনে বললেন!!
___তাহলে বিশ্বের সব থেকে সুন্দরী রমনীকে উপস্থিত করি তোমার সামনে। তুমি এক পলক দেখো যদি তোমার……
ইকবাল খান এর কথা শেষ করার আগেই রোশান বলে উঠলো!!
____চুপ করো ড্যাড! আমার আর কোনো সুন্দরী রমনীকে চাই না! আমি জীবনসঙ্গী ছাড়াই কাটিয়ে দিতে পারবো এই ছোট্ট জীবন! আমার জন্য টিকিট কাটো আমি ইমিডেটলি দেশ ছাড়বো ড্যাড!
ইকবাল খান জানেন নিজের ছেলে সম্পর্কে, এই মূহুর্তে তাকে হাজার বার বুঝালেও হয়তো সে বুঝতে না! ইকবাল খান অসহায় দৃষ্টিতে বেশ কিছু খন তাকিয়ে থাকলেন। তারপর বাধ্য ছেলের মতোন রুম থেকে গুটিগুটি পায়ে বেরিয়ে গেলেন। ইকবাল খান এর কি বলা উচিত আপাতত তিনি ভেবে পাচ্ছেন না!
ইকবাল খান কে বেরিয়ে যেতে দেখে, রোশান প্যাকেট থেকে আরেক টি সিগারেট বের করে দরালো! পরিহিত কালো রংঙের সুট টিকে শরীর থেকে খুলে ছুরে ফেলে দিলো ফ্লোরে, এরপর মুখ ডুবালো সিগারেটে।
বুকের ভেতরে আজ ভিষণ কষ্ট হচ্ছে, যেনো পুড়ে ছারখার হয়ে যাচ্ছে! সব কিছু এলোমেলো হয়ে গেছে! ভিষণ করে ব্যাথা করছে বুকের বাম পাশ টাই, কেনো করছে জানে না, চিৎকার করে কান্না করতে ইচ্ছে করছে! নিশ্বাস আটকে আসছে, ভেতর টা পুড়ে যাচ্ছে, আজ সব হারিয়ে গেলো আজ। সব অপেক্ষা অবসান ঘটলো! ভালোবাসা ঠিক রয়ে গেলো, শুধু মানুষ টি হারিয়ে গেলো! হয়তো একতরফা ভালোবাসা এমনি হয়, যেখানে আমি তোমাকে সব সময় অনুভব করি ভালোবাসি, অথচ তুমি বুঝতেও পারো না! কখনো চাইনি তোমাকে আমার করে নিতে, আমি তো চেয়ে ছিলাম তোমার পাশে থাকতে! তোমাকে নিজের মতোন করে ভালোবাসতে,
হয়তো এক তরফা ভালোবাসার কষ্টটা অপ্রকাশিত,
তুমি অন্য কারোর সাথে হেসে কথা বললেও
আমার বুকটা কেঁপে ওঠে, আমার নিশ্বাস আটকে
যায়! তবুও বলি ভালো থাকো সুখে থাকো
আমার এই এক তরফা ভালোবাসার অধিকার আছে,
চাহিদা নেই, হয়তো ঠিক তুমি ও জানবে না আমার এই এক তরফা ভালোবাসার গভীরতা ঠিক কতটুকু ছিলো ইরাবতী! জীবন এর শেষ দিন পর্যন্ত মনে রাখবো আমি তোমাকে, ভালোবাসবো অনন্ত কাল!
“তোমার গল্পে আমি হিরো নয়, বরং ভিলেন হয়ে এসে ছিলাম!
তুমি তোমার রিয়েল লাইফের হিরো কে নিয়ে ভালো থাকো””
ভালোবেসে ছিলাম, ভালোবাসি, ইনশাআল্লাহ ভালোবেসে যাবো ইরাবতী….!
আমার না হওয়া পূর্ণিমার চাঁদ ভালো থাকো….!
আমাকে কালকে প্লিজ ইরার কাছে নিয়ে যাবেন??
ঈশান এতখন ল্যাপটপে মুখ গুজে থাকলেও, জুথীর কথা তৎক্ষনাৎ কানে গিয়ে ঠেকলো!বউ এত মিষ্টি করে আবদার করলে তা তো অবশ্যই পূরন করতে হবে! ইশান আদুরে গলাই বললো!
___কেনো যাবে! কোনো প্রয়োজন??
জুথী কিছুটা এগিয়ে আসে ঈশান এর দিকে, তারপর গম্ভীর মুখে সুধায়!!
____হাতে গুনা আর পনেরো দিন পর ফাইনাল এক্সাম! অনেক দিন ক্লাস করা হয়নি! এখন পরীক্ষার পিপারেশন এক দম ভালো না সেই বিষয় নিয়ে কথা বলতে হবে! আপনি একটু নিয়ে যাবেন প্লিজ!
ঈশান খুব স্বাভাবিক ভাবে বললো!!
____আচ্ছা কালকে নিয়ে যাবো! এদিকে আসো!!
জুথী কিছুটা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস
___কেনো!!
ঈশান দুষ্ট হেসে ঠোঁটে ঠোট কামড়ে বললো!!
___একটু ইটিস পিটিস করি!!
জুথী নাক ঘসতে ঘসতে বিরক্তি টেনে বললো!!
____মুখে লাগাম দিয়ে চলেন! যখন তখন এসব বলেন ছি…
কে শুনে কার কথা ঈশান বিছানা থেকে উঠে গিয়ে সোজা কোলে তুলে নিয়ে আসলো বিছানায়! ঠোঁটে ঠোট বুঁজে কয়েক মিনিট নিয়ে তপ্ত একটা চুমু খেয়ে নিলো! তারপর আস্তে ধীরে একে অপরের সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেলো।
রাত প্রায় বারো টার দিকে……
ইরা ছোট বিড়াল ছানা কে নিয়ে সুয়ে আছে বিছানায়। গভীর রাত গুম টাও গভীর বাইরের ঠান্ডা শীতল হাওয়া! ইরা বেশ কিছু খন অপেক্ষা করে ছিলো আদিল এর জন্য। কিন্তু আদিল এর আসতেই অনেক টাই লেট, তাই ইরা অপেক্ষা করতে করতে না চাইতেও ঘুমিয়ে পরেছে!
প্রায় মধ্যরাতের সূচনা, ঘড়ির কাটা টিংটং আওয়াজ তুলে তারি জানান দিচ্ছে। ইরা এই মূহর্তে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, আদিল এলো মেলো পায়ে তরি গড়ি করে রুমের ভেতরে প্রবেশ করলো।রুমের লাইট আগে থেকেই ওন ছিলো, ইরা বরাবরি অন্ধকার দেখে বেশ ভয় পাই, আদিল হাতের কালো সুট টাকে এক ডেল মেরে ফেলে দেয় বেশ কিছু টা দূরে,তারপর শব্দ করে রুমের দরজা লাগিয়ে দিয়ে! হাতের শক্তি অনুযায়ী দরজায় একটা শক্ত গুসি মেরে দেয়,প্রচন্ড রাগে হিসহিসিয়ে উঠছে বার বার, দরজায় এত শক্ত করে শব্দ হওয়ায় তৎক্ষনাৎ ইরা গুম থেকে তড়িঘড়ি করে ওঠে যায়,
ইরা মূলত আদিল এর রাগের কারন টা বুঝতে পারছে না, পারার কথা ও না সে তো এত খন গভীর গুমে ছিলো! হঠাৎ কি এমন হলো যে এত বেশি রেগে আছে আদিল, ইরা দূত বিছানা ছাড়লো, বরং এগিয়ে গেলো আদিল এর দিকে,এলোমেলো চুল ছড়িয়ে আছে কোমর পযর্ন্ত ঘুমের রেশ এখনো কাটে নি, ইরা চোখ মুখ ডলতে ডলতে এগিয়ে গেলো আদিল এর দিকে, আদিল কে বলে উঠলো!!
____কি হয়েছে আপনার এমন ভাবে রেগে আছেন কেনো!!
আদিল ইরার কথা কে কোনো রকম পাওা না দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে গেলো, এতে করে ইরা ভিষণ কষ্ট পেলো! কি এমন হয়েছে যে তার সাথে কথা পর্যন্ত বলছে না! এত কিসের রাগ অভিমান তার উপর! ইরা দূত আদিল এর সামনে গিয়ে দাড়ালো! এবং অসহায় কন্ঠে বলে উঠলো!!
___কি হয়েছে আপনার, এমন করছেন কেনো??
আদিল ইরার বাহু টেনে রাগে রিরিরি করে বলে উঠলো!!
___কি আছে তোর মাঝে, অন্য পুরুষ কিভাবে আকৃষ্ট হয় তোর মাঝে??
ইরার বাহুতে খুব শক্ত ধরেছে আদিল,এতে করে ইরা ভিষণ ব্যাথা অনুভব করছে! ইরা কোনো কিছু বোঝার আগেই আদিল আবারও চেচিয়ে বলে উঠলো!!
___কুওার বাচ্চা, তোর দিকে মানুষ নজর দেয় কিভাবে??
ইরা আদিল এর কথার মানে টা একদমি বুঝতে পারে না, বুঝবে কিভাবে সে তো জানেই না কি হয়েছিলো, আদিল এর রাগের কারন, কে বা কারা তাকে কি নজর দিয়েছে! আদিল এর এমন দমকে ইরা ঝরঝর করে কেঁদে উঠলো! আদিল কি করে এতটা বাজে ব্যবহার করতে পারে! ইরা ভিষণ রাগ চেপে বললো!!
____কি এমন করেছি আমি, যে আপনি আমার সাথে এই রকম ব্যবহার করছেন কেনো??
ইরার কথাই মূহুর্তে আদিল এর মাথায় রাগের তাপমাত্রা ভিষণ বেড়ে গেলো,তার মুখে মুখে কি না তর্ক করছে, আদিল ইরা কে ধাক্কা মেরে দূরে সরিয়ে দিয়ে বলে উঠলো!!
___পর পুরুষ কে খুব ভালো লাগে তাই না, অসভ্য নারী তোকে অন্য পুরুষ বাজে ভাবে দেখলো কিভাবে!!
ইরা সত্যি কিছুই বুঝতে পারছে না কে দেখছে তাকে, কোন পর পুরুষ কার কথা বলছে আদিল, ইরার এবার বড্ড রাগ হলো। আদিল এর এমন ব্যবহারে, ইরা ভিষণ ভালোবাসে বলেই কি সব ভুল ত্রুটি তার হবে, মুটেও না ভুল সবারি হয়। কিন্তু আজ ইরা কোনো ভুল করে নি! তাই ইরা আদিল এর কাছে আর গেলো না বরং অন্য দিক গুরে চলে গেলো বিছানার দিকে। এক গুচ্ছ অভিমান নিয়ে!ইরা আদিল এর রাগ না ভাঙ্গিয়ে বরং চলে গেলো বিছানার দিকে তা দেখে আদিল ভিষণ রেগে উঠলো! আদিল ইরা কে বিছানার যাওয়ার আগেই শক্ত হাতে বাহু টেনে নিজের দিকে গুরিয়ে নিলো! আদিল কে এমন ভাবে দরতে দেখে ইরা রাগে ছটপট করতে লাগলো! কিছু খন আগে কোনো ভুল ছাড়াই তাকে কত গুলা কথা শুনিয়ে দিলো আর এখন কিনা ভালোবাসা দেখানো হচ্ছে, চাই না তার এমন ভালোবাসা! তাই ইরা রাগে কটমট করে বলে উঠলো!!
এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৪৬
___ছাড়ুন আমাকে, একদম ছুবেন না আমাকে!
কে শুনে কার কথা, আদিল এর রাগী মস্তিষ্ক টা আরও রেগে উঠলো,রাগ কন্ট্রোল করার জন্য এই মূহুর্তে বেছে নিলো ইরার উষ্ণ ঠোঁট! খুব শক্ত করে ইরার ঠোঁটে নিজের ঠোঁট ডুবিয়ে দিলো, ইরাকে কোনো কিছু বলার সুযোগ পর্যন্ত দিলে না, এমনি কোনো রকম ছটপট পর্যন্ত করতে দেয় না,রীতিমতো নিজের সবটুকু রাগ জিদ মিশিয়ে চুম্বন করতে থাকে ইরার অধরে,আদিল কোলে তুলে নিয়ে ছুরে ফেললো বিছানার উপর,,তারপর ঝাপিয়ে পরলো ইরার ছোট্ট বাহুর উপর,সমস্ত রাগ অভিমান জিদ ভালোবাসা ঢেলে দিলো ইরার উপর! ইরা দুই হাতে শক্ত করে আকড়ে দরে আছে আদিল কে। কে জানে এই ভালোবাসা নামক অত্যাচার ঠিক কতখন চলবে……
