সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১০০+১০১
neelarahman
“কি হলো বলবি না কবুল ?”
রিমা ভয় পেয়ে গেলো।বলল ,”পাগল হয়ে গেছো তুমি ?আর এখন আমরা কবুল বললে বুঝি বিয়ে হয়ে যাবে?”
সাইমন বলল ,”তোর আর আমার জন্য তো হয়ে যাবে ।তুই জানবি হয়েছে আমি জানব হয়েছে ।বাকিরা পরে জানবে সমস্যা নেই।বলনা প্লিজ?”
রিমা আমতা আমতা করে বলল ,”ঠিক আছে কবুল ।”
সায়মন খুশিতে বলল ,”আমিও কবুল ।”রিমা আবার বলল ,”কবুল ।”
সায়মন আবারো বলল ,”আমিও কবুল ।”
রিমা বলল ,”কবুল কবুল কবুল কবুল ।”আজকে থেকে কিন্তু তুই আমার বউ।বললো সায়মন।
সাদাফ অনেকক্ষণ ধরেই নুর কে বুকের সাথে চেপে জড়িয়ে ধরে রেখেছে ।নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা বড় দায় হয়ে যাচ্ছে এদিকে সাদাফের জ্বর ও ধীরে ধীরে বেড়ে যাচ্ছে।
সাদাফের শরীরের উষ্ণতায় নূরের যেন মনে হচ্ছে পুরো শরীর পুড়ে যাচ্ছে এতটা গরম ।কিন্তু সাদাফের আরাম লাগছে নূর কে জড়িয়ে ধরে থাকতে ।নুরের ঠান্ডা শরীর পেচিয়ে মনে হচ্ছে একটু শান্তি শান্তি লাগছে ।ধীরে ধীরে সাদাফ নিজের থুতনি নামিয়ে আনলো নূরের কাঁধে।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
সাদাফ কিছুক্ষণ নূরের কাঁধে নাক ঘষতে ঘষতে ধীরে ধীরে ঠোঁট মিশিয়ে দিল ।নূরের কাঁধে ছোট ছোট করে চুমু খাচ্ছে সাদাফ।সাদাফের উষ্ণ গরম নিঃশ্বাস নূর যেন আর সহ্য করতে পারছে না অসহনীয় যন্ত্রণা মনে হচ্ছে সবকিছু।
আগেও তো সাদাফ ভাই স্পর্শ করতো তখন এরকম মনে হতো না তাহলে কি বৈধ পুরুষের স্পর্শ এরকম হয় ?নূর কেমন ভিতরে গুটিয়ে যাচ্ছে লজ্জায় সংশয় দ্বিধায় বুঝতে পারছে না কি করবে।
সাহস করে আমতা আমতা করে ধীরে ধীরে বলল ,”কি করছেন ?”
সাদাফ ঘোর লাগা কন্ঠে বলল ,”নিজের বউকে আদর করছি ।আদর বুঝিস আদর ?এটাকে স্বামীর আদর বলে ।আদর করছি তোকে আমি।”
নুর লজ্জায় চোখ বন্ধ করে ফেললো।পেটে ভিষন ব্যাথা হচ্ছে নুরের।
সাদাফ ধীরে ধীরে নূরের হাত ছেড়ে নুরে নরম উদরের হাত গলিয়ে দিলে নূর সাথে সাথে হাত ধরে ফেলল ।সাদাফ বললো,” খবরদার নূর আটকাবি না হাতছাড় আমাকে একটু স্পর্শ করতে দে প্লিজ।
আমার ভীষণ জ্বর ভীষণ ঠান্ডা লাগছে একটু ধরে শুতে দে।তোর শরীরের উষ্ণতা চাই আমার।”
নূর ধীরে ধীরে হাত সরিয়ে দিলে সাদাফ নুরের কামিজ ভেদ করে উন্মুক্ত উদরে হাত দুটো দিয়ে পেঁচিয়ে ধরল নূর কে।নুর সাথে সাথে নিজের জামা খামচে ধরলো।
সাদাফের ভালোবাসার আগ্রাসন ধীরে ধীরে যেন বাড়তে লাগলো ।সারা উদোরে সাদাফের হাতের অবাধ বিচরণ চলতে লাগলো ।ধীরে ধীরে নূরকে নিজের কাছে আরো একটু জড়িয়ে ধরে কাঁধে গভীর ভাবে চুমু খেতে লাগলো।
নূর কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বললো ,”প্লিজ থামুন আমার আর সহ্য হচ্ছে না প্লিজ।”
সাদাফ নুরের কানের কাছে ফিসফিস করে ঘোড় লাগা কন্ঠে বলল ,”চুপচাপ থাক আজকে থামাবি না আমাকে প্লিজ আমার আর সহ্য হচ্ছে না।”
নূর চুপ হয়ে গেল ।আর কোন কথা বলতে পারলো না ।ধীরে ধীরে সাদাফ নুর কে নিজের কাছে আরো কাছে গভীরে ভালোবাসা দিয়ে ভরিয়ে দিতে লাগলো।
নুর বললো,” শুনুন আমার…………
সাদাফ বললো,” হুঁশ কথা বলিস না।”
নুর বললো,” কিন্ত……….
নুরের ঠোঁট আকড়ে ধরলো সাদাফ।
অফিসে বসে আছে হুমায়ূন রহমান ।কেমন যেন টেনশন হচ্ছে খুব ।ফজলুর রহমান দ্রুত পায়ে হেঁটে এসে বলল ,”ভাইয়া কিছু বের করতে পারলেন কিভাবে কি হয়েছে ?”
হুমায়ূন রহমান বলল ,”আমার মাথায় তো কিছু আসছে না ।গতকাল পর্যন্ত সব ঠিক ছিল আজকে কি হয়ে গেল!”
ফজলুর রহমান বললেন ,”ভাই এখন কি করবো ?আমাদের প্রোডাকশন এর ডেটার সাথে ফাইলের এমনকি অফিশিয়াল কোন কিছুই মিলছে না ।রাতারাতি এত পরিবর্তন আমি তো বুঝে উঠতে পারছি না ।গতকাল পর্যন্ত তো সব চেক করলাম ভুলটা কোথায় হয়ে গেল?
প্রোডাকশন যেহেতু টাইম মতো হতে পারেনি শিপমেন্ট ক্যান্সেল করে দিবে ।কিন্তু ক্যান্সেল করবে সেটা ঠিক আছে ওনাদের সাথে যে আমার চুক্তি সেই চুক্তি ও যদি বাতিল করে দেয় চুক্তি অনুযায়ী আমাদের বহুৎ বড় একটা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে যেটা আমাদের জন্য অনেক বিশাল অংকের ক্ষতি হয়ে যাবে ভাইজান।”
এমন সময় পিএস শফিক সাহেব ভিতরে এসে বললেন ,”স্যার সমস্যা হয়ে গেছে ।ওনারা তো ইমেইল করেছে আমাদের প্রোডাকশনে নাকি অনেক বড় প্রবলেম দেখা দিয়েছে ।যেটা ওনাদের প্রত্যাশার বাইরে এমন ডিফেক্টিভ প্রোডাক্ট কি করে হলো সেটা আমাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে।”
হুমায়ূন রহমানের কপাল চুইয়ে চুইয়ে ঘাম পড়ছে ।তাকিয়ে রইল ফজলুর রহমানের দিকে ।কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না ।ওনারা তো বেশ কিছুদিন ধরে সব দায়িত্ব থেকে অফ নিয়েছিলেন যা বলার সেটা তো শুধু সাদাফ বলতে পারবে ।কিন্তু সাদাফ ওতো বেশ কিছুদিন ধরে এখানে নেই তাছাড়া ছেলেটার জ্বর।
আজ রাত ৯ টা বেজে গেল ।এখনো অফিস থেকে ফেরেনি ফজলুর রহমান ও হুমায়ুনুর রহমান।
নওরিন আফরোজ ও সামিহা বেগম রান্নাঘরে কথা বলছেন ।নওরিন আফরোজ জিজ্ঞেস করলেন ,”আজ এত দেরি হবে তোকে কিছু বলে গিয়েছিল নাকি?”
সামিহা বেগম তরকারি নাড়তে নাড়তে বললো,” না ভাবি আমাকে তো কিছু বলে যায়নি উনি ।তোমাকেও কি কিছু বলে যায়নি ?ঘটনা কি দুই ভাই আজ এত লেট করছে ?আজ অব্দি কখনো তো এরকম লেইট করে অফিস থেকে বাসায় ফিরেনি ।কোন ঝামেলা হলো নাকি?”
নওরিন আফরোজ চিন্তা করছেন কি করবেন ।সায়মনকে কি অফিসে পাঠাবে কিনা ?সাদাফ কে জানাতে মন সায় দিচ্ছেনা ।ছেলেটার জ্বর এমনিতে ।কিছুক্ষণ পর নূরকে নিয়ে আসবে ।উনারা অফিস থেকে বের হওয়ার আগেই দিয়ে যেতে বলেছে তবে সাদাফ এ যে কেন এখনো ফিরছে না ?মনে মনে টেনশন করতে লাগলেন।
নূর গাড়িতে বসে ভাবছে গতকাল রাত থেকে ঘটে যাওয়া প্রত্যেকটি ঘটনা।
গতকাল রাতে যখন সাদাফ যখন প্রায় নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছিল নূর কোনভাবে আটকাতে পারছিল না । স্রোতে গা ভাসিয়ে দিচ্ছিলো নুর ও।সাদাফ নুর কে জড়িয়ে ধরতেই হঠাৎ নুরের ভীষণ পেটে ব্যথা শুরু হয়।সাদাফ যখন বুঝতে পারল নুরের এই চিৎকার বা আর্তনাদ অন্য কোন কারণে সাদাফ নুরকে ছেড়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করল,” কি হয়েছে ?তুই এত চিৎকার করছিস কেন ?আমি তোকে এত জোরে তো ধরিনি ?খুবকি ব্যাথা পেয়েছিস নুর ?”
নুর কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল ,”আমার পেটে ভীষণ ব্যথা করছে ।”
সাদাফ জিজ্ঞেস করল ,”কেন ?”
নুর সাদাফের দিকে তাকিয়ে আমতা আমতা করে বলল ,”মনে হয়,,,,,, আর বলে শেষ করতে পারল না নুর ।সাদাফ সাথে সাথে বলল ,”পিরিয়ড হয়েছে? ডেট মনে ছিল না ?আগে হয়েছে নাকি?”
নূর সাদাফ কে বলল ,”পিরিয়ডের ডেট তো এখন নয় আরো দেরি ছিল ।তাই কোন প্রিপারেশন নিয়ে আসিনি ।আরো ৪-৫ দিন বাকি ছিল কিন্তু হঠাৎ করে এখন কেন হয়ে গেল?আমার সম্পুর্ন ড্রেস……… আচ্ছা আচ্ছা আমি দেখছি।বললো সাদাফ।বুঝতে পেরেছে সাদাফ নুরের নষ্ট হয়ে গেছে।কি করবে ভাবতে ভাবতেই নতুন একটা টাওয়েল এনে নুরের সামনে দিয়ে বললো ,”বিছানায় বিছিয়ে নে।রাত টা পার কর।সকালে ড্রেস এনে দিবো।”
সাদাফ দেখল নূরের চেহারা পরিবর্তন হচ্ছে ।তার মানে ভীষণ ব্যথা করছে মেয়েটির ।তাই বলল,” তুই বস আমি এখুনি আসছি ।”বলে জ্বর শরীরে ধীরে ধীরে উঠে সাদাফ রান্না ঘরের দিকে চলে গেল ।কিছুক্ষণ পর পানি গরম করে একটি হট ওয়াটার ব্যাগ নিয়ে আসলো ।সাথে নিয়ে আসলো গরম রং চা।
এসেই নূরের দিকে চা টা বাড়িয়ে দিয়ে বলল ,”এটা গরম চা ।একটু একটু করে খা ভাল লাগবে ।আর পেটের মধ্যে এই হট ওয়াটার ব্যাগ দিয়ে রাখ আমি বাহিরে যেয়ে ওষুধ নিয়ে আসছি ।”
নুর বলল ,”পাগ*ল হয়ে গেছেন ?রাত বাজে কয়টা ?আপনি এতো রাতে বাহিরে ওষুধ আনতে যাবেন ?সাদাফ বলল ,”তোর পিরিয়ডের জন্য তো আমার কাছে কোন ওষুধ নেই তবে হ্যাঁ নাপা আছে সেটা খেলে চলবে?”
নুর বলল ,”হ্যাঁ চলবে ।এমনিতেই গরম পানির ছ্যাকা দিচ্ছি একটু ভালো লাগছে আপনি প্লিজ শান্ত হয়ে থাকুন আপনার জ্বর।”
সাদাফ নুরের দিকে তাকিয়ে ধমক লাগিয়ে বললো ,”চুপ থাক তোর কাছ থেকে শিখতে হবে কি করবো?ব্যথায় চেহারা নীল হয়ে যাচ্ছে তোর ।নাপা এনে দিচ্ছি খেয়ে তুই শুয়ে থাক ।আমি পেটের মধ্যে ছ্যাকা দিয়ে দিচ্ছি।”বলেই নাপা এনে নুরের দিলো।নুর ও খেয়ে নিলো।
নুর লজ্জা পেয়ে গেল ।বলল ,”না না লাগবে না ।আমি নিজেই পেটের মধ্যে ছ্যাক দিতে পারব ।”
সাদাফ বলল ,”একদম চুপ করে শুয়ে থাক ।আমি ছ্যাকাদিয়ে দিচ্ছি।
বিয়ে করেছি আমি তোকে ।স্বামী হই তোর আর ভুলে যাস না এতক্ষণে এই পেটে আমি হাত দিয়ে রেখেছিলাম। তাই এখন স্যাক দিলে মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে না।”
ব্যথায় এতটাই কাতর হয়ে যাচ্ছে নূর যেন লজ্জা পেতো ভুলে গেল ।চুপচাপ শুয়ে পড়লো ।সাদাফ ধীরে ধীরে পেটে থেকে কামিজটি সরিয়ে উন্মুক্ত উদরে গরম পানির হট ওয়াটার ব্যাগ রাখলো।
এভাবে অনেকক্ষণ পানির গরম স্যাক দিতে দিতে ধীরে ধীরে নূরের ব্যথাটা একটু কমলো ।সাদাফ নুরের মাথায় ধীরে ধীরে হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো ।বলল ,”তুই ঘুমানের চেষ্টা কর ।আমি মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি ।ধীরে ধীরে ব্যথাও কমে যাবে।”
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেই স্যানিটারি ন্যাপকিন ওষুধ যা যা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সবকিছু নিয়ে এসেছে সাদাফ।
সাথে নিয়ে এসেছে নতুন একটি ড্রেস ।গতকাল রাতে ড্রেসের কিছু কিছু অংশ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল সাদাফ লক্ষ্য করেছে তাই নূরকে না জানিয়ে একটি ড্রেস নিয়ে এসেছে ।এই ড্রেস পরেই নূর বের হবে।
নূর পিটপিট করে চোখ খুলতেই সাদাফ গুড মর্নিং জানালো ।তারপর বলল ,”ব্যথা কমেছে নুর ?”
নুর হালকা মাথা ঝুঁকিয়ে একটু সায় জানাতেই সাদাফ বললো ,”ঠিক আছে ওঠ ফ্রেশ হো। নাস্তা করবি নাস্তা নিয়ে এসেছি আমি।”
নুর একা একা বিছানা থেকে উঠতে চাইলে সাদাফ সাথে সাথে নূর কে বিছানা থেকে নিজের কোলে তুলে নিল ।তারপর বলল ,”চল আমি ওয়াশরুমে দিয়ে আসছি ।কষ্ট করে হেঁটে যেতে হবে না ।”
বলে ওয়াশরুম পর্যন্ত নূরকে নামিয়ে দিয়ে ,”বলল এবার ভিতরে যা।”
মনে মনে ভীষণ লজ্জা পাচ্ছে নুর।এসেছে সাদাফ ভাইয়ের সেবা করতে জ্বর এসেছে তাই অথচ এসে নিজেই সেবা নিয়ে যাচ্ছে।
১০-১৫ মিনিট পর নূর ফ্রেশ হয়ে ওয়াশরুম থেকে ড্রেস চেঞ্জ করে বের হয়ে দেখল বেডরুম এই নাস্তা সাজিয়ে বসে আছে সাদাফ।নুরকে দেখে বলল ,”আয় হেটে আসতে পারবি নাকি আবার কোলে করে নিয়ে আসবো ?”হাসতে হাসতে কথাটি বলল সাদাফ।
একসাথে দুজনে বসে নাস্তা করল ।সাদাফ একটু একটু করে রুটি ছিঁড়ে নূরকে খাইয়ে দিচ্ছে ।নূরের আজকে নিজের কাছে নিজেকে কেমন প্রিন্সেস মনে হচ্ছে ।যেভাবে সাদাফ নুরের সেবা করছে মনে হচ্ছে ওর চেয়ে বেশি ভাগ্যবতী বোধ হয় আর কেউ নেই।
এইভাবে সারাদিন রেস্ট করতে দিল নূরকে ।বলল ,”বাবা যখন অফিস থেকে ফিরবে ঠিক তার আগেই তোকে বাড়িতে দিয়ে আসবো ।এখন তো তারা অফিসে চলে গিয়েছে তাহলে আজকের দিনটা ছুটাছুটি না করে এখানে রেস্ট কর ।”
নুরু সাদাফের কথা মত বিছানায় শুয়ে রইলো ।আসলে নূরের ব্যথা তেমন একটা কমেনি।যদিও সব ওষুধ খেয়েছে কিন্তু কখনো এরকম হয় না। পিরিয়ড হলে নরমাল ব্যথা হয় ওষুধ খেলে চলে যায় কিন্তু আজ কোন ওষুধেই যেন কাজ হচ্ছে না ।তবে যখন একটু পর পর সাদাফ গরম পানির ছ্যাকা দিয়ে দিচ্ছে তখন একটু ব্যথা প্রশমিত হচ্ছে।
দুপুরে খাওয়ার পর যে নূর ঘুমিয়ে ছিল ঘুম থেকে উঠেছে সেই আটটায় ।এর মধ্যে আর নূর ঘুম থেকে জাগেনি ।সাদাফ বারবার চিন্তা করছে নরমাল পিরিয়ড হলে তো কখনো নূর কে এরকম ঘুমাতে বা সারাদিন ব্যথায় কাতরাতে দেখেনি।
বিদেশ থেকে আসার দুই এক দিন পরই দেখেছিল নূরের পিরিয়ড অবস্থা কিন্তু তখন স্বাভাবিক সাধারণ চলাফেরা করেছে নূর ।কখনো নূরকে এইভাবে ব্যথায় কাতরাতে দেখেনি সাদাফ।
এসব চিন্তার মাঝেই যখন নুরের ঘুম ভাঙলো দেখল আটটা বাজে ।সাথে সাথে সাদাফের দিকে তাকিয়ে ঘুমো ঘুমো কন্ঠে বলল ,”আটটা বেজে গিয়েছে ?বাবারা নিশ্চয়ই অফিস থেকে চলে এসেছে ?”
সাদা বললো,”না এখনো রওনা দেয়নি ।তুই রেডি হয়ে নে আমরা এখনই বের হব ।”
বলেই সাদাফ নিজেও রেডি হয়ে নিল।
বর্তমান গাড়িতে নূরের ভাবনার ছেদ ঘটিয়ে সাদাফ বলল ,”আজ অনেক বেলা হয়ে গেল ।রাত হয়ে গেল এখনো বাবা বাসায় ফিরল না ।তুই কি জানিস কিছু?”
নুর বলল ,”না অফিসের কোন ব্যাপার তো আমি জানি না ।রিমা আপু বা সাইমন ভাইয়া আমাকে কিছু জানায়নি ।আপনাকে জানায়নি ?আমিতো সারাদিন ঘুমিয়ে ছিলাম।”
সাদাফ ভাবনার মধ্যে পড়ে গেল ।কি হতে পারে ?কখনো বাবাকে বা ছোট বাবাকে এরকম এত রাত পর্যন্ত অফিসে থাকতে দেখেনি ।সাদাফ ভাবল অফিসে একটা ফোন করবে ।ফোন করে জেনে নিবে কি অবস্থা বর্তমানে।
এদিকে সায়মন নিজের রুমে বসে ছিল হঠাৎ দেখল রিমা রুমের পাশ দিয়ে যাচ্ছে তাই আস্তে করে ডাক লাগালো ,”এই রিমা চা নিয়ে আসো।”
রিমা চমকে উঠল ।সাথে সাথে ডানদিকে ঘুরে তাকালো ।দেখল দরজা খোলা ।চেয়ারে বসে ছিল সাইমন। রিমা রুমে ঢুকে বলল ,”আমাকে কিছু বললে ?”
সাইমন বলল ,”জি হ্যাঁ তোমাকে বলেছি ।”
রিমা আবারো চমকালো ।রিমাকে তুমি করে কেন বলছে ?রিমা অবাক হওয়ার ভান ধরে বলল ,”আমাকে তুমি করে বলছ কেন?”
সায়মন হালকা এদিক ওদিক তাকিয়ে ধীরে ধীরে বলল ,”স্বামী স্ত্রী একজন আরেকজনকে তুমি করে বলে ।এতে ভালোবাসা বাড়ে ।তোর ভাইয়ের মতো না তুই তুকারি করবো।”
রিমা বলল ,”খবরদার ভাইয়ের কথা বলবে না ।আর কবে থেকে তুমি করে বলা শুরু করলে স্বামী স্ত্রী কবে থেকে হলাম?”
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৯৮+৯৯
সাইমন রিমার দিকে তাকিয়ে বললো,”বাহ! এর মধ্যে ভুলে গেলি ?গতকাল রাতে যে কবুল পড়লি ?আমি এখন তোর স্বামী হই সম্মানের সাথে কথা বলিস না কেন ?বেয়াদব নারী।”
রিমা রাগে ফুসতে ফুঁসতে বললো,”বেয়াদব নারী মানে ?কিসের বিয়ে কিসের কি ?মাথাকি ডিস্টার্ব হয়ে গেছে ?তোর সাথে রাতে একটু দুষ্টুমি করেছি সেটা কি সিরিয়াসলি নিয়ে নিয়েছিস?”
সায়মন পড়ার চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে গেল ।দাঁড়িয়ে রিমার হাতে কনুই ধরে নিজের কাছে এনে বলল ,”একবার কবুল যখন বলেছিস তাহলে বলেছিস ।রাত থেকেই তুই আমার স্ত্রী ।আর ভাই বোন দুজন এক রকম হয়েছিস ।ভাই ও বউকে তুই করে বলে বোন তার স্বামীকে তুই করে বলে ।দুইটাই নরকবাসী হবে।”
