The Silent Manor part 45+46
Dayna Imrose lucky
চব্বিশ ঘন্টার নয় ঘন্টা কেটে গেছে। সুফিয়ান বর্তমানে আছে মরূভূমির উত্তর দিকের শেষ প্রান্তে।রঙার উপর চেপে বসা সে। পাগড়ির আঁচল দিয়ে তখন মুখটি ঢেকেই বের হয়। আশেপাশে উট নিয়ে উপস্থিত অনেক কাফেলা। তাঁদের থেকে সুফিয়ান জানতে পারে বিদেশ পাড়ি দেওয়ায় পথ ব্রিটিশ সরকার হিজ ম্যাজেস্টিস গত পনেরো দিন থেকে আগামী একমাস ধরে বন্ধ রেখেছে।উট হোক, জাহাজ হোক সব দিক থেকেই বিদেশ পাড়ি দেয়ার পর বন্ধ।
সুফিয়ান এর মুখের অভিব্যক্তি পাল্টে গেল।চোখ দুটি ক্ষুধার্ত বাঘের মত ধাবার মত করছে।যেন এই চোখ এখুনি কাউকে গিলে ফেলতে সক্ষম। মরূভূমির পথ পাড়ি দিয়ে দ্রুত গতিতে রাঙাকে নিয়ে আলিমনগর এর উদ্দেশ্যে রওনা হয়।ফারদিনা আলিমনগর আছে, তালুকদার বাড়িতে আছে,সে নিশ্চিত।হাতের স্পর্শে তালুকদার বংশের কাউকে পাওয়ার জন্য ছটফট করছে। ইচ্ছে করছে আদিবের গর্দান কে’টে ফেলতে। ওঁর তিন ভাই সহ সবাইকে জানে মেরে ফেলতে।পারছে না।সে দূরে। হুট করে সিদ্ধান্ত নেয়া বোকামি।ফারদিনা ওঁদের বন্দি। সুফিয়ান সেসব নিয়ে ভয় পেল।ফারদিনা কেমন আছে সে জানার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠল। যদি সম্ভব হয় উড়ে উড়ে সে পথ পাড়ি দিত। মানুষ কেন পাখির মত উড়তে পারে না? মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব, এরপরও সুফিয়ান যেন খানিকক্ষণ এর জন্য নিজেকে বোকার মত প্রশ্ন করে ফেলল।
দিন ফুরিয়ে যাচ্ছে। ফুরিয়ে ফুরিয়েও ফুরাচ্ছে না।এখন বাজে বিকেল ঠিক তিনটে।সুফিয়ান ঘন্টা দুয়েক এর মধ্যে পৌঁছে গেছে আলিমনগর। সীমান্ত পেরিয়ে দেখতে পেয়েছে সোলেমান, লাল মিয়া,বদরু,হাবলু কে। ওঁরা তাঁর জন্য অপেক্ষা করছে।আজ ওঁরা সবাই একসাথে সাদা লুঙ্গি, সাথে সাদা ফতুয়া পড়েছে। পরিপাটি দেখাচ্ছিল ওঁদের।
সুফিয়ান ফিরে রাঙাকে খেতে দিয়েছে।রাঙা যেন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে হাঁপিয়ে গিয়েছিল।খিদেও পেয়েছে বলে সুফিয়ান খাবার দিল।এক বালতি জল।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
হাতে তুলে নিল সিগারেট। সিগারেট ফুঁকতে ফুঁকতে পায়চারি করতে করতে বলল “আদিব আমার সাথে বেইমানি করল।ফারদিনা ওঁদের কাছেই আছে,তবে মিথ্যে কেন বলেছে!শুয়ো’রের বাচ্চা কে আমি শেষ করে ফেলব।”
মুখে মধুর মত শব্দ সুফিয়ান এর। তাঁর মুখে হঠাৎ নিকৃষ্ট ভাষার গা’লি শুনে ওঁরা আশ্চর্য হল।একে অপরের সাথে চাওয়াচাওয়ি করল। সোলেমান লুঙ্গিটা ভাঁজ করতে করতে বলল “ধান কাটার জন্য হাতে কাঁচি নিতে পারি ঠিকই, কিন্তু আপনি বললে ওদের চাঁর ভাইয়ের গর্দান আলাদা করে ফেলি?”
সোলেমান এর তেজ দেখে সুফিয়ান তাকাল ওঁর দিকে। ঠোঁট অদ্ভুত রহস্যময় সহ তৃপ্তির হাঁসি এনে বলল “আজ আমার মনে হচ্ছে, আমার বোধহয় আপন বলতে কেউ আছে।”
“নিজেকে একা ভাববেন না,আমরা আছি আপনার সাথে, আপনার যেকোনো বিপদে আমরা ঢাল হয়ে দাঁড়াব। দরকার হয় নিজের জীবন উৎসর্গ করব।” সুফিয়ান শুধু শক্ত চোখে ওঁর দিকে তাকিয়েই রইল।বাকিরা একে অপরের সাথে চাওয়াচাওয়ি করল। সোলেমান সুফিয়ান এর দিকে এগিয়ে গেল। সুফিয়ান কে বলল “আপনার হাতটি বাঁড়ান।” সুফিয়ান বলিষ্ঠ হাতটি এগিয়ে দিল। সোলেমান হাতে হাত রেখে বলল “আমি আছি আপনার সাথে।” থেমে ওঁদের তিনজনের দিকে তাকাল।ওঁরা সেকেন্ড কয়েক চুপ থেকে একই সাথে হাতে হাত রাখল।বলল “আমরাও আছি। শুধু সোলেমান কে সঠিক পথে আনেননি, বরং আমাদেরও এনেছেন।”
সুফিয়ান এর বাড়ির মূল ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে আছে মজিদ মিয়া। ওঁরা সবাই ঘুরে তাকাল মজিদ মিয়ার দিকে। মজিদ মিয়া কেমন তরতাজা যুবক এর মত হাবভাব করে যেন দাঁড়িয়ে তাঁদের দিকে দেখছে। তাঁর চোখে এক ঝলক আগু’নের ছায়া।সোলেমান চেঁচিয়ে বলল “ও পা’গল চাঁচা, হঠাৎ যুবকের মত তাজা হয়ে উঠলেন যে”
মজিদ মিয়া তীক্ষ্ণ ভারি কন্ঠে বলল “আমি পা’গল নই।” থেমে সুফিয়ান এর দিকে তাকিয়ে আবার বলল “সুফিয়ান আজ সময় এসেছে,তোমাকে হায়না গুলোকে শেষ করতে হবে। অপেক্ষা করো না,যাও দ্রুত।”
সোলেমান ওঁরা দ্বিতীয় বার এর মত আশ্চর্য হল। ভীষণ রকম অবাক হল। সুফিয়ান এর দিকে তাকিয়ে সোলেমান বলল “আপনি সে-ই সাধারণ কৃষক নন, আপনি রাখাল বাঁশিওয়ালা নন, আপনি সাধারণ কেউ নন, কিন্তু আসলে আপনি কে?”
সুফিয়ান বলল “সব জানতে পারবে।”
“গতরাতে আপনার কোট কেউ খুলে নিয়েছিল, তাঁর পরনে সাদা পোশাক ছিল।আপছা অন্ধকারে এতটুকুই দেখেছিলাম,কে ছিল সে?” মজিদ মিয়ার কানে প্রশ্ন পৌঁছেছে।সে খটখট করে দাঁত বের করে হেসে উঠল।আজ আর সে পা’গলের মতন আচরণ করছে না। সুফিয়ান অবাক হচ্ছে না। সেও মজিদ মিয়ার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল। তবে এই হাসির মাঝে লুকানো কিছু।যা ওঁরা কেউ ধরতে পারল না।
সুফিয়ান হাঁফ ছেড়ে বলল “তালুকদার বাড়িতে যাব।আজ ওঁদের সাথে শেষ বোঝাপড়া পড়ে,হয় মরে আসব,তবে শেষবার ফারদিনাকে দেখে।নয় ওঁদের মেরে আসব।” চোখে র’ক্ত ভেসে উঠেছে সুফিয়ান এর। সোলেমান ওঁরা বলল চলুন।আমরাও আছি সাথে।”
তাৎক্ষণিক মুহূর্তে একজন অশ্বধারী হাজির হয়। সাদা রঙের অশ্ব। তির্যক আওয়াজে অশ্বটি হ্রেষাধ্বনি তুলল। সুফিয়ান ঘুরে তাকাল।সঙ্গে ওঁরাও তাকাল।অশ্বের পিঠে বসা একজন ভিনদেশী নাগরিক। সাদা প্যান্ট, সাদা শার্ট এর সাথে লাল কোটি। মাথায় ক্যাপ। সুফিয়ান ওনার দিকে এগিয়ে গেল।তবে মনে হল সে বিরক্ত হয়েছে লোকটিকে দেখে। সোলেমান ওঁরা কানে কানে বলল “মনে হচ্ছে, লোকটি ব্রিটিশ বাহিনীর মধ্যে কেউ। কিন্তু ওনার সাথে সুফিয়ান এর কি সম্পর্ক?” ওঁরা কেউ কিছু বুঝতে পারল না।
অশ্বে বসা ব্রিটিশ ব্যক্তিটি একটি ঘাম এগিয়ে দিল সুফিয়ান এর দিকে।এরপর উনি চলে যান। সুফিয়ান ব্রিটিশ ব্যাক্তির যাওয়ার পানে তাকিয়ে ছিল কিছুক্ষণ। এরপর খামটি খুলল। ইংরেজিতে কিছু লেখা।সোলেমান কাছে এসে উঁকি দিয়ে দেখলেও কিছু বুঝতে পারল না।সুফিয়ান লেখাটুকু পড়ে মুহুর্ত স্তব্ধ হয়ে গেল। চোঁখের পাতায় হালকা কাঁপুনি। মুহুর্তে অভিব্যক্তি পরিবর্তন করে বলল “এঁদের জন্য আজ আমি যেন সমুদ্রের মাঝখানে।কিনারা আমার হতে অনেক দূরে।ছাড়ব না কাউকে।”
“কি হয়েছে?” সোলেমান জিজ্ঞেস করল।
“আমাকে গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজে যেতে হবে।”
“আমরা যাব কি আপনার সাথে? বদরু জিজ্ঞেস করল।
“না।আমি ফিরে আসব। এরপর এখানেই দেখা হবে।” মজিদ মিয়া কিছুটা দূর থেকে দেখছে তাঁদের।
সুফিয়ান ঘরে ঢুকে কোমরের ভাঁজে কিছু একটা গুঁজে নিল। সোলেমান দূর থেকে খেয়াল করলেও স্পষ্ট হল না। এরপর সুফিয়ান রাঙাকে নিয়ে বেরিয়ে যায় কোথাও। কিন্তু এই যাত্রা মোটেই সহজ ভাবে নিল না ওরা চারজন।বলল সোলেমান “চল,আমরাও পেছন পেছন যাই। কোথায় যাচ্ছে দেখা দরকার। তালুকদার বাড়ি থেকে এই মুহূর্তে তাঁর কি এমন জরুরি কাজ?”
“হুঁ,চল, যদি তাঁর কোন ক্ষতি হয়?” বলল লাল মিয়া। তাঁরাও অনুসরণ শুরু করল সুফিয়ান কে। মজিদ মিয়া কিছু বলল না।
সুফিয়ান তালুকদার বাড়ি ছেড়ে যেতেই সামনে পড়ল কুদ্দুস।ওকে বেশ হতাশায় নিমজ্জিত দেখাল।সুফিয়ান রাঙাকে দাঁড় করিয়ে দিল।নিচে নেমে দাঁড়াল। কুদ্দুস এর সামনে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করল “তুই কোথায় ছিলিস, রশীদ চাঁচা কোথায়?ফারদিনা কোথায়?”
কুদ্দুস সুফিয়ান এর দু হাত ধরে কেঁদে বলল “সরদার শহরে গেছেন। আপনি ফারদিনাকে বাঁচান।ওই রাক্ষস গুলো তাঁকে বন্দি করে রাখছে। আপনার সম্বন্ধে সবকিছু জেনে গেছে। আপনি যত দ্রুত সম্ভব ফারদিনার কাছে যান। ওনাকে বাঁচান।”
সুফিয়ান এর চোখে মুহূর্তে জল চলে আসল।ফারদিনার উপর ওঁর ভাই গুলো নিশ্চয়ই অত্যা’চার করেছে। সুফিয়ান কুদ্দুস কে কাঁপা কাঁপা গলায় বলল “কোথায় আছে ফারদিনা?
“গোপন একটি বন্দিশালায়।যে বন্দিশালার হদিস কেউ সহজে পায় না।আমি পেয়েছি। চলুন আমার সাথে।”
সুফিয়ান কয়েক মুহূর্তের জন্য থ’ হয়ে দাঁড়াল। ঘুরে একবার সোলেমান ওদের দিকে দেখল। ওঁরা তাঁর পিছু পিছু আসছিল বুঝতে পেরেছে। কিছু না বলে পকেট থেকে ব্রিটিশ বাহিনীর চিঠিটা বের করল।কিছু ভাবল। এরপর পুনরায় পকেটে রেখে দিল।এখন তাঁর মূল উদ্দেশ্য ফারদিনা।অন্য কিছু ভাবতে পারল না।ফারদিনা বন্দি।যে করেই হোক তাঁকে উদ্ধার করতে হবে ভেবে কুদ্দুস এর সাথে তালুকদার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হল।
তালুকদার বাড়ি আজ পুরোপুরি চুপসে গেছে।বাড়ির আশেপাশের কাক, চিল, সমস্ত পাখিরা কোন কারণে স্তব্ধ হয়ে গেছে। অশ্বশালা থেকে অশ্বের হ্রেষাধ্বনি ভেসে আসছে না। খামার থেকে গরুর ঘন্টার টুংটাং শব্দ আসছে না।দাসীদের আনাগোনা দেখা গেল না।ঘরের ভেতরে প্রবেশ করতেই একটা কালো বিড়াল পড়ল ঠিক সুফিয়ান এর সামনে।কুদ্দুস দাঁড়িয়ে পড়ল।কালো বিড়ালটির দিকে তাকিয়ে বলল “নিশ্চয়ই অমঙ্গল কিছু হবে। আল্লাহ তুমি সবকিছু ঠিকঠাক করে দাও। শয়তান গুলোকে দমন করে দাও।” বলে সুফিয়ান কে নিয়ে সে-ই গোপন অলিগলির পথ ধরে হাঁটতে লাগল।প্রথম চলে গিয়েছিল তিনতলায়। তিনতলার একটি গোপন সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমেছে।সেটা বেঁয়ে তাঁরা হেঁটে চলেছে সরু একটি অন্ধকার পথে।পথের দুধারে মশাল।যে পথে যাচ্ছে সে পথে কিছু লোহার দরজা। সুফিয়ান আর কুদ্দুস একটা একটা দরজা অতিক্রম করে যেতেই অটোমেটিক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দরজাগুলো। সুফিয়ান খানিকটা অবাক হয়েও কিছু বলল না।যত পা তাঁর এগোচ্ছে শুধু বুকের ভেতর ধুকধুক শব্দটা স্পষ্ট বাড়ছে।আজ সে কতদিন পর ফারদিনাকে দেখবে। ভেবে আনন্দ পেলেও বেশিক্ষণ আনন্দ স্থায়ি হল না।
হাঁটতে হাঁটতে প্রায়ই পনেরো মিনিট পর একটা বড় দরজার সামনে এসে দাড়াল। কুদ্দুস দড়ির মতো কিছু একটা ধরে টানল। এরপর দরজা খুলে গেল। ভেতরে প্রবেশ করতেই সায়েম সামনে পড়ল।সে সুফিয়ান কে দেখে হেঁসে উঠল। কয়েক পা সামনে এগোতেই চোখে পড়ল একটি খাঁচায় বাঁধা বাঘ। অপরদিকে একটি কুপের মত কিছু একটা। সেখানে একজন বসে কুমিরকে মাংস খাওয়াচ্ছে।কে জানে মানুষের না প্রানীর।
কিছুটা সামনে রানির হালে একজন বসে আছে। সুফিয়ান তাঁর মুখ দেখতে চাইল।পা বাড়িয়ে তাঁর সামনে গেলে দেখতে পেল ঝিলমিল কে। বসে বসে ফল খাচ্ছে। বিভিন্ন ধরণের ফল রাখা। সুফিয়ান ওকে দেখে বলল “ফারদিনা কোথায়?”
“যা প্রশ্ন করার আমাকে কর।” আদিবের কন্ঠ। সুফিয়ান ঘুরে তাকাল।দোতলার মত একটি জায়গায় দাঁড়ানো আদিব।হাতে সিগারেট। সিগারেট এর ধোঁয়া সরু ঠোঁটে ছেড়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামছে ধীরস্থির পায়ে।
সুফিয়ান তাঁর দিকে তাকিয়ে বলল “তুই অমানুষ তাতো আমি আগে থেকেই জানতাম।এখন দেখছি তুই জানোয়ার এর থেকেও খারা’প।”
আদিব সুফিয়ান এর মুখোমুখি হয়ে বলল “তুই নিজেকে বড্ড চালাক মানিস।তোর আসল পরিচয় আমরা জেনে গেছি। কিন্তু ফারদিনা এখনো সবকিছু জানে না।তুই নিজের মুখে ওকে সত্যটা বলবি।”
“আমিত সবকিছু বলতেই চেয়েছিলাম, তাহলে এতদিন কেন আমাকে মিথ্যা বলেছিস?”
“এর পেছনেও কারন আছে।সেসব পড়ে বলব।আগে তুই তোর গল্প বল।” বলে আদিব একটি চেয়ারের উপর বসল।
সুফিয়ান বলল “আগে আমি ফারদিনাকে দেখতে চাই। তারপর তোদের সাথে না হয়, বৈঠকে বসব।”
আদিব সিগারেটে সুখটান দিল।ঘাড় ঘুরিয়ে কুদ্দুস এর দিকে তাকিয়ে বলল “তোকে ধন্যবাদ। সুফিয়ান কে এখানে নিয়ে আসার জন্য।” কুদ্দুস কেঁদে কেঁদে সুফিয়ান এর দিকে চেয়ে বলল “আমাকে মাফ করবেন ভাই, উনারাই বলছে আপনাকে এখানে নিয়ে আসতে।কেন তা জানি না।”
সুফিয়ান কিছু না বলে আদিবের অপর পাশের চেয়ারে বসল।বলল “ফারদিনাকে নিয়ে আয়।”
আদিব সায়েম কে বলল “ওকে নিয়ে আয়”
সুফিয়ান এর বুকের মাঝে কি যেন বেজে উঠল।হাত পায়ের শক্তিটা হঠাৎ লোপ পেল।ফারদিনা তাঁকে ভুল বুঝেছে। মানুষটি কতটা কষ্ট পেয়েছে,এখন কিভাবে তাঁর সামনে চোখ তুলে তাকাবে ভেবে সুফিয়ান এর লজ্জা লাগল।
কিছুক্ষণ পরেই নূপুর এর শব্দ আসল। সুফিয়ান তাকাল।ফারদিনার হাত দুটো বাধা।আরিব আর রায়ান তাঁকে টেনে হেঁচড়ে নিয়ে এসে সুফিয়ান এর পায়ের কাছে ছুড়ে ফেলল। সুফিয়ান দ্রুত ফারদিনার সামনে হাঁটু ভাঁজ করে বসে তাঁকে সোজা করে বসিয়ে দিল।হাত দুটোর বাঁধন খুলে ফেলল।ফারদিনার সেই আগের চাকচিক্য করা রুপটি নেই। ধোঁয়াশা ছাপ মুখে।চোখ জলে ভিজে গিয়েছে। ছিপছিপে গড়ন হয়েছে মুখের। সুফিয়ান ফারদিনাকে নিজের বুকের সাথে জড়িয়ে ধরতেই সায়েম,আরিব মিলে ফারদিনাকে সরিয়ে ফেলল। হঠাৎ ঘুর্নিঝড়ের মত তাকে সরিয়ে নেয়ায় সুফিয়ান কিছু বুঝে উঠতে পারল না।
সুফিয়ান এর মেজাজ বিগড়ে গেল। ছুটে গিয়ে আরিবের কলার চেপে ধরে বলল “আঘাত করার হলে আমাকে কর, দোষ সব আমার ছিল, ওকে মারছিস কেন?
দু’জন অনুচর এসে সুফিয়ান কে সরিয়ে ফেলল।আদিব ঠান্ডা মাথায় বলল “রেগে গেলেই সব হারাবি।এখানে বস,তোর মুখোশের আড়ালে থাকা রুপটা ফারদিনাকে দেখা। তারপর শুরু হবে আসল খেল।”
সুফিয়ান শান্ত হল।ফারদিনাকে এখান থেকে নিয়ে যাওয়া সহজ হবে না। ভেবে চুপচাপ চেয়ারে বসল।ফারদিনা দেয়ালের পাশে হাত পা এক করে বসে আছে। তাঁর সামনে আরিব এবং রায়ান।
আদিব বলল “কিছুক্ষণ আগে তোর কাছে একটা চিঠি এসেছে।কি লেখা ছিল?”
সুফিয়ান থেমে একবার ফারদিনার দিকে তাকাল। ঘুরে আদিবের দিকে তাকিয়ে বলল “ব্রিটিশ একদল বাহিনী আমার গ্রাম ঘিরে ফেলেছে।”
“কেন? আদিব সব জেনেও না জানার ভান ধরছে।
সুফিয়ান দৃষ্টি সরিয়ে ফেলল। কিছু বলল না।আদিব পুনরায় তাড়া দিল।বলল “চুপ করে থাকিস না।বল।একটা একটা করে বলিস না, শুরু থেকে সব বল।”
সুফিয়ান কন্ঠ খাদে নামিয়ে বলতে শুরু করল_ “সিন্ধুতলি আমাদের গ্রাম।সহজ এবং সুন্দর ভাবে জীবনযাপন করছিলাম আমরা।আমি এবং আমার মা বাবা,ছোট্ট দুই বোন মিলিয়ে ছিল আমাদের সুখের সংসার। ছোট্ট বোন বিন্তি,বড় বোন পিয়াশা। আমার বাবা ছিলেন সিলমন হায়দার।একজন প্রতাপশালী জমিদার।তোর বাবার একমাত্র বন্ধু।তোর বাবার সাথে আমার বাবার সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।তোর বাবার ইচ্ছে ছিল আমার বড় বোন পিয়াশাকে তোর বউ বানাবে। একদিন তোর বাবা তোকে নিয়ে আমাদের গ্রামে যান বিয়ের প্রস্তাব দিতে। কিন্তু সে-ই মুহূর্তে আমি সিন্ধুতলি গ্রামে ছিলাম না।একটা কাজে আমি বিদেশ ছিলাম।তোর বাবা বিয়ের প্রস্তাব দিলে আমার বাবা রাজি হন।পিয়াশাও এই বিয়েতে রাজি হয়।
ও তোকে তখন থেকেই ভালোবাসতে শুরু করে। এরপর দুই পরিবার মিলে বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করেছিল। আমার কাছে সেসব নিয়ে চিঠি গিয়েছিল।আমি সম্মতি জানিয়েছিলাম। কারণ আমার বোনের খুশিই আমার কাছে সব।এভাবে কিছুদিন কেটে যাওয়ার পর তোরা বিয়ের দিন তারিখ ঘুরিয়ে দু মাস বাড়িয়ে দিস।আর তুই ঠিক এর মাঝে পিয়াশার সাথে দেখা করতে আমাদের বাড়িতে যাস।ওর সাথে তুই অন্তরঙ্গ মুহূর্ত কাটাস। অবৈধ ভাবে মিলিত হয়েছিলিস ওঁর সাথে। এরপর সেদিন তুই সেখান থেকে চলে আসিস। এভাবে দুমাস কেটে যাওয়ার পর বিয়ের তারিখ ঘনিয়ে আসে।আর ঠিক সেই মুহূর্তে জানা যায় পিয়াশা অন্তঃসত্ত্বা। বিষয়টি কোনভাবে তোর বাবার কানে যায়।তবে উনি সত্যটা জানতেন না যে এই সন্তান তোরই ছিল।তাঁকে বলা হয় সিলমন হায়দার এর মেয়ের চরিত্রের ঠিক নাই।তোর বাবা আমার বোনকে বে’শ্যা বলেছিল। এরপর তোর কাছে চিঠি পাঠায় আমার বোন।আর তুই চিঠিতে জবাব দিয়েছিলিস তুই নূরজাহান নামে একটা মেয়েকে ভালোবাসিস।
তোদের সাথে ওঁদের শ’ত্রুতা।তাই,তোর বাবা কোনদিন নূরজাহান এর সাথে তোর বিয়ে দিবে না।আর তুই তোর বাবাকে যথেষ্ঠ সম্মান এবং ভয় করিস। তাঁর মন রক্ষার্থে তুই বিয়ের আশা দিয়েছিলিস আমার বোনকে। বিয়ের তারিখ তুই ঘুরিয়ে আমার বোনের সাথে মিলিত হোস।যাতে পথের কাঁটা তুই সহজে সরিয়ে ফেলতে পারিস।তোর সত্যটা জানার পর পিয়াশা ভেঙ্গে পড়ে।আমাদের সম্মান চলে যায়।গ্রামের সবাই ছিঃ ছিঃ করতে শুরু করে।এত লাঞ্ছনা আমার বোন সহ্য করতে না পেরে গলায় ফাঁ’স দিয়ে নিজের জীবন কোরবা’ন করে। শেষ হয়ে যায় আমার নিষ্পাপ বোনের জীবনটা। বোনের শোক, গ্রামের সবার অপমান সহ্য করতে না পেরে আমার মা বাবাও আত্মহ’ত্যা করে।চলে যায় আমার মা বাবা। ধ্বং’স হয়ে যায় আমাদের পরিবার।হাসিখুশি ভরা জীবনটা নষ্ট হয়ে যায়। শুধু বেঁচে ছিল আমার দাদা এবং ছোট্ট বোন বিন্তি। সংবাদ পেয়ে বিদেশ থেকে আমি ফিরে আসি।জাহাজ পথে বিদেশ থেকে ফিরতেও সময় লাগে।ফিরে এসে আমার বোন আর মা বাবার ক’বর দেখেছিলাম।”
সুফিয়ান এতটুকু বলে কেঁদে উঠল। কুদ্দুস মেঝেতে বসে সুফিয়ান এর কথাগুলো শুনছিল।ও কাঁদছে।
সুফিয়ান নিজেকে সামলে আবার বলল “আমি সবকিছু বিন্তির কাছ থেকে জানতে পারি।তোদের ঠিকানা সংগ্রহ করি। উদ্দেশ্যে ছিল তোদের সাথে বোঝাপড়া করার।আর ঠিক সে-ই মুহূর্তে আমার দাদাকেও ব্রিটিশরা বন্দি করে। ওঁরা দাদাকে নিয়ে অত্য’চার করতে করতে উনিও মা’রা যান।আমি কিছুই করতে পারিনি।সেদিন পুরোপুরি ভাবে আমি একা হয়ে গিয়েছিলাম। আমাকে শান্তনা দেয়ার মত শুধু বেঁচে ছিল আমার ছোট্ট বোন বিন্তি। কিন্তু মা বাবার এবং আমার বোনের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃ’ত্যু সহ্য করতে পারছিলাম না। আমার তখন উদ্দেশ্যে এবং লক্ষ্য একটাই ছিল, তোদের পরিবার শেষ করা।আমি দিনক্ষণ ঠিক করি আলিমনগর আসার জন্য।আর ঠিক সে-ই মূহুর্তে ব্রিটিশ দল পুরো সিন্ধুতলি ঘেরাও করে ফেলে।বাবা চলে যাওয়াতে তাঁদের উত্তম সুযোগ হয় আমাদের গ্রাম দখল করা।
আমার বোনকে ওরা বন্দি করে ফেলেছিল।আর আমাকে বলেছিল ওঁদের দলে যোগদান দেয়ার জন্য।আমি কি করব ভেবে পাচ্ছিলাম না।পা’গলের মতন শুধু ছটফট করছিলাম। এরপর আমার মাথায় বুদ্ধি আসে। তোদের গ্রামকে আমি লক্ষ্য করি। আমাদের গ্রামের থেকেও তোদের গ্রাম বড় ছিল।আমি ব্রিটিশদের বোঝালাম, আলিমনগর গ্রাম অনেক বড়,আপনাদের ফ্যাক্টরি তৈরি করার জন্য সে-ই গ্রাম উপযুক্ত হবে। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল গ্রামের মানুষ মে’রে ফেলে গ্রামকে মানবশূন্য করে সেখানে বিভিন্ন ফ্যাক্টরি তৈরি করা।যখন আমি বললাম তোদের গ্রাম বড়,তখন তাঁরা লোভে পড়ে গেল।বলল “কিন্তু আলিমনগর গ্রামের সরদার রশীদ তালুকদার এর সাথে প্রসাশনের লোকদের সাথে ভালো সম্পর্ক। তাঁর গ্রাম দখল করা এত সহজ হবে না।’সেদিন আমি ওদের ভরসা দেই, আমি নিজেই এই গ্রাম কৌশলে মানবশূন্য করব।কারণ আমার এমনিতেই ক্ষোভ ছিল তোদের উপর।
তোদের গ্রাম ধ্বং’স হলে আমার কিছুই যায় আসত না। ব্রিটিশ প্রধান কে বললাম বিন্তিকে ছেড়ে দিতে।ও আমাদের বাড়িতে থাকবে।ওর যেন কোন ক্ষতি না হয়।উনি রাজি হন। এবং আমাকে নির্দিষ্ট সময় দেন আলিমনগর কে উনাদের হাতের মুঠোয় নেয়ার জন্য।আমি রাজি হই। এভাবে দু’দিন কেটে যাওয়ার পর আমি আলিমনগর এর উদ্দেশ্যে রওনা হই।এই গ্রামে সেদিন আমি রাতে পৌঁছাই। প্রথমেই এসেছিলাম তোদের বাড়ির চৌকাঠে। সারারাত ঘুরে ঘুরে চারপাশ দেখে নিশ্চিত হই তোদের বাড়িতে এত সহজে হানা আনা যাবে না। কিন্তু আমার লক্ষ্য ছিল অন্তত কাউকে দেখা। তোদের মধ্যে।আমি তোদের বাড়ির প্রাচীর টপকে একটি ঘরের জানালার কাছে পৌঁছে ছিলাম।সেদিন আমি সর্বপ্রথম ফারদিনাকে দেখেছিলাম। এরপর আমি জানতে পারি তোদের একমাত্র বোনের কথা।আমি আমার লক্ষ্য বদলে ফেললাম। ফিরে গেলাম আমার গ্রামে।
ব্রিটিশ প্রধান এর কাছ থেকে সময় বাড়িয়ে নেই। কারণ আমার মূল উদ্দেশ্য ছিল তোর বোনকে আমার প্রেমে ফালানো। সবকিছু ঠিকঠাক করে আমি আলিমনগর ফিরে আসলাম একজন কৃষকের পরিচয়ে। একজন রাখালের পরিচয়ে। নিজের একটা পরিচয় তৈরি করলাম তোদের গ্রামে এসে। মজিদ মিয়ার সাথে সর্বপ্রথম পরিচয় হয়।উনি আমাকে কৃষিকাজ শিখিয়ে দেন।যদিও উনি আমার আসল পরিচয় জানতেন না। এভাবে কিছুটা সময় যাওয়ার পর সততা দেখিয়ে তোর বাবার সাথে আমি ঘনিষ্ঠ হই।তোর সাথে বন্ধুত্ব করি।আর ঠিক সে-ই সময়ের পর একদিন রাতে শিমুল গাছের নিচে বসেই বাঁশি বাজাচ্ছিলাম। আমি জানতাম এই বাঁশির সুর শুনে ফারদিনা ছুটে আসবে।ফারদিনা সেদিন সত্যিই এসেছিল। আমি পরিচিত হলাম ওঁর সাথে।
মুগ্ধ হল ফারদিনা।আর সে-ই রাতে আমার ভারা করা লোক তোদের শ’ত্রু সেজে ফারদিনাকে আ’ক্রমণ করে।আমি ফারদিনাকে বাচাঁই। আমার লোক সেদিন ইচ্ছে করে আমার হাতেও আঘাত করেছিল যাতে,ফারদিনা আমার উপর আকৃষ্ট হয়। এবং সন্দেহ না করে। এভাবেই দিন কেটে যাচ্ছিল। হঠাৎ একদিন সিদ্ধান্ত বদলে নেই।ফারদিনাকে অপ’হরণ করার পরিকল্পনা করি। আমার চিঠি পেয়ে একদল আমার লোক নদীর পাড়ে অপেক্ষা করছিল।আমি সেদিন রাতে ফারদিনাকে নিয়ে নদীর পাড়ে যাই।নদীতে পালতোলা নৌকায় উপস্থিত ছিল আমার লোক।তীর ছুঁড়ে একটা চিঠি পাঠিয়েছিল। সেখানে লেখা ছিল আপনি অনুমতি দিলে জমিদার কন্যাকে তুলে নিয়ে যাই?আমি চোখের ইশারায় ওঁদের না করি। হঠাৎ কেন জানি ইচ্ছে করছিল না ফারদিনা আমার থেকে দূরে যাক। নিজেকে শান্ত করলাম।ফারদিনা জিজ্ঞেস করলে আমি মিথ্যে বলি।ফিরে আসি আমার বাড়িতে দুজন। প্রতিশো’ধের আগু’নটা ধীরে ধীরে নিভে যাচ্ছিল। তারপরও কোথায় যেন একটা জেদ রয়েই গেল।আর সে-ই জেদ থেকে ফারদিনাকে ভোগ করি। ওঁর ভালোবাসাকে আমি ব্যবহার করি।ভেবেছিলাম তোরা যেমনটি করেছিস আমিও তেমনটি করব।ফারদিনা অন্তঃসত্ত্বা।আমি জানতে পেরেছিলাম। কিন্তু আমি ওকে সত্যিকারের ভালোবেসে ফেলেছি।”
সুফিয়ান কেঁদে উঠল।সব সত্যটা জানার পর ফারদিনা চাপা স্বরে কাঁদল। তাঁর ইচ্ছা করছে এখুনি নিজের জীবন উৎসর্গ করতে।পিয়াশার মত ম’রে যেতে।পারছে না। সুফিয়ান এর দিকে চোখ তুলেও তাকাচ্ছে না।যে মানুষটিকে সব থেকে ভালোবাসত সে-ই সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিল তাকে!ভেবেই ফারদিনা ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাচ্ছে।
সুফিয়ান চোখের জল মুছে বলল “ধীরে ধীরে গ্রাম মানবশূন্য হতে শুরু করে।আমি সবাইকে গা’য়েব করে দেই।যখন এবং যেদিন গ্রামবাসীদের গা’য়েব করতাম সেদিন,আমার সাথে ব্রিটিশদের সদস্যরা থাকত।রোজ রাতে ওঁরা গ্রাম বাসীদের অশ্বে বেঁধে নিয়ে যেত।যে বেঁচে থাকত সে বেঁচেই থাকত।আর যে ম’রে যেত তাঁকে আমি আমার গোলাপ বাগানে পুঁতে রাখতাম।’
থেমে দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবার বলল “এবার আসি আমার কিছুদিন আগের সিন্ধুতলি যাওয়ার বিষয়ে। আলিমনগর পুরোপুরি মানবশূন্য করতে প্রায়ই আড়াইশো গ্রামবাসীকে সরাতে হত।আমি বাকিদের বন্দি করতেই,সেদিন সিন্ধুতলি যাওয়ার নাটক করি।আসলে আমি সেদিন ফারদিনার সামনে থেকে রওনা হলেও আমি যাইনি।ফিরে এসেছিলাম। সেদিন রাতেই বাকিদের বন্দি করি।এরপর লক্ষ্য ছিল তোদের উপর।তুই সহ তোর তিন ভাইয়ের উপর। কিন্তু এরপর আমি সিন্ধুতলি যাই। বিন্তির বিয়ে ছিল। ওঁর বিয়ে আমার জন্যই হচ্ছিল না।যেদিন আমি পৌঁছাই সেদিনই বিয়ে হয় ওঁর। বৈদেশিক এক নাগরিক এর সাথে।আমি আলিমনগর বাকিদের বন্দি করতে সক্ষম হয়েছি শুনে ব্রিটিশ প্রধান খুশি হয়ে বিন্তির বিয়ের জন্য রাজি হন। কেননা, উনি বলেছিল আমি যতদিন না গ্রাম মানবশূন্য করছি ততদিন ওঁর বিয়ে হবে না।সেদিন বিয়ে হয়েছে। কিন্তু অমন অবস্থায় ফারদিনা আমাকে দেখে ফেলেছিল।এরপর আমি আলিমনগর ফিরে আসি।এসে খোঁজ পেলাম না ফারদিনার।আজ যখন ওর খোঁজ করতে এখানে আসব ভেবে মনস্থির করি,ঠিক তখনই বার্তা আসে আলিমনগর থেকে একশো গ্রামবাসীদের তাঁরা নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।বাকি দেড়শদের খোঁজ পাচ্ছে না।আর বাকিদের ব্রিটিশ প্রধান জীবিত অবস্থায় চান, কেন চান আমি জানি না।”
আদিব বলল “তুই হচ্ছিস সব থেকে বড় মাপের খেলোয়াড়। কিন্তু আমরাও কম নই। আমাদের মাথায় একটা বোঝা পড়েছে।আর এই বোঝা সরাতে তোকে দরকার ছিল।তোকে আগে থেকেই সন্দেহ হত বিধায় তোর খোঁজ নেই।সব জানতে পারি।তুই যখন মরুভূমিতে গিয়েছিস ফারদিনার খোঁজ করতে তখন বাকি গ্রামবাসীদের আমরা বন্দি করে নিয়ে এসেছি। ওঁদের মুক্ত করতে, এবং নিজের বোন এবং গ্রাম বাঁচাতে একটা কাজ করতে হবে।”
The Silent Manor part 44
সুফিয়ান বলল “আমারও অনেক প্রশ্ন আছে, সেগুলোর উত্তর দিতে হবে”
“কি প্রশ্ন?
সুফিয়ান বলল “সামসুল নিজের সন্তান হারিয়েও কেন আনন্দে ছিল?ফারদিনা কেন একদিন মাঝরাতে গোসল করেছিলো?তুই মজিদ মিয়ার মেয়েকে কেন হ’ত্যা করেছিস?”
