The Silent Manor part 81
Dayna Imrose lucky
চিয়াং মাই থাইল্যান্ডের উত্তর অংশের একটি ঐতিহাসিক শহর।শহরটি তুলনামূলকভাবে শান্ত ও সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ। চারপাশে পাহাড় আর বনভূমি ঘেরা এই শহরটি বৌদ্ধ মন্দিরের জন্য বিখ্যাত।বিশেষ করে শহরের ভেতরে থাকা প্রাচীন মন্দিরগুলো। বর্তমানে চিয়াং মাই স্থানীয় হস্তশিল্প, কৃষিপণ্য ও ধর্মীয় শিক্ষার একটি কেন্দ্র। আধুনিক পর্যটনের জাঁকজমক কিছুটা।শহরজীবন ছিল ধীর, সরল আর ঐতিহ্যনির্ভর।
বান হো এর শন নিবাসন বাড়িটির নিস্তব্ধতায় ঘেরা বারান্দায় ডেভিড বসে আছে। তাঁর হাতে মার্লবোরো একটি সিগারেট আগুনের উষ্ণ তাপে জ্বলছে।সে টানছে না এখন। নীরবে বসে আছে।মীর গতকাল রাত চারটের দিকে থাইল্যান্ডে পৌঁছেছে। শেষ রাতে তাঁকে আনতে গিয়েছিল ডেভিড।তখন এসে মীর বিশ্রাম নিতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।ঘুম থেকে সবেই উঠে হাত মুখ ধুতে স্নানঘরে প্রবেশ করে অপরাধী ভঙ্গিতে। তাঁর মনে হল ঘুমিয়ে পড়াটা উচিত হয়নি।যে কাজে এসেছে সে-ই কাজ দ্রুত সাড়াই উত্তম।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
হাত মুখ ধোয়া শেষে সেও বারান্দায় এসে বসে।হাতে তোয়ালে। ডেভিড সিগারেট টা এগিয়ে দেয় মীর এর দিকে।মীর না বলল ইশারায়।মীর কে ভীষণ উদাসীনতার ছায়ায় ঘিরে থাকতে দেখে ডেভিড তাঁকে জিজ্ঞেস করে কি হয়েছে!সে এখনো জানে না,মীর তাঁর বিবাহিত স্ত্রী কে রেখে কেনই বা দেশ থেকে ফিরেছে!
মীর তোয়ালে রেখে বাড়ির আয়াকে দু কাপ চা এর জন্য ফরমায়েশ করল। তিনি চলে যান চা করতে। ডেভিড রাতে মীর কে নিয়ে তাদের বাড়িতে আসার পর থেকে থমাস শন কে দেখেনি। তাঁর কথা ভেবে জিজ্ঞেস করল “আঙ্কেল কোথায়?
মীর তোয়ালে টা রেখে ডেভিড এর থেকে সিগারেট টা নিয়ে টানতে শুরু করল।বেশ ক’টান দেয়া শেষে বলল
“বাবাকে পু’লিশ গ্রেফ’তার করেছে।সে এখন লকআপ এ আছে।”
“মানে? ডেভিড আশ্চর্য ভঙ্গিতে প্রশ্ন করল।
“হুঁ।”
“কি কেস?
“ধর্ষ’ন”
ডেভিড এবার আকাশ সমান অবাক হল।মীর এর দিকে ঘুরে বসে।বলল “কি বলছিস এসব!তুই পাগল হয়ে গিয়েছিস!”
মীর সিগারেট এশট্রেতে রেখে বলল “এখনো হইনি। তবে মনে হচ্ছে হয়ে যাব। মায়াকে রেখে এসেছি। ওঁর কথা ভেবে মোটেই ভালো লাগছে না।বড্ড ফাঁকা ফাঁকা লাগছে।”
“কিভাবে কি হল,কে মা’মলা করেছে! আঙ্কেল তো এমন নয়”
“মিথ্যে মা’মলা। আমাদের যে মে-পিং ট্রেডিং কম্পানি টা আছে,সেটার সাথে আরো একটা কম্পানি আছে।অরিয়েন্টাল কমোডিটি কম্পানি। মূলত অরিয়েন্টাল আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এরপরেরটা আমাদের। আমাদের কম্পানি টা দাঁড় করানোর পর অরিয়েন্টাল থেকে আর আমদানি রপ্তানি বেশি একটা হত না। কম্পানির পরিচালক মি.এডওয়ার্ড এ বিষয়ে ক্ষিপ্ত হন। তিনি বাবাকে বলেন কম্পানি টা যেন এডওয়ার্ড এর নামে লিখে দেয়। এবং এ নিয়ে হু’মকিও দেন।বাবা এড়িয়ে যান। এরপর সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও হঠাৎ এখন বাবার নামে মিথ্যে মা’মলা দিয়ে দিল সে। এডওয়ার্ড ওর এক ভাগ্নি কে বাবার অফিসে সেদিন পাঠায়। একটা ষড়’যন্ত্র করে। মেয়েটি নিজেকে নিজেই আঘাত করে বাবার সামনে চেঁচামেচি করে। এরপর সবাই ছুটে এলে বলে ওকে ধ’র্ষণ করে।হয়ত এডওয়ার্ড মিথ্যা মেডিক্যাল রিপোর্ট ও তৈরি করেছেন। তাই খুব সহজে বাবাকে গ্রেফতার করাতে সক্ষম হয়েছে।আর আমি না থাকায় উনি আরো বেশি সুযোগ পেয়েছেন।এ সবকিছু বাবার ম্যানেজার তিনদিন আগে আমাকে গভীর রাতে কল করে বলে।মায়া কাছে ছিল। ওকে আমি সব কথা খুলে বলিনি। আইন-আদালত এর বিষয় জানলে হয়ত আমাকে নিয়ে আরো বেশি চিন্তা করবে, এমনিতেই আমাকে হারানোর ভয় ওর।”
ডেভিড এলিয়ে বসে বলল “মায়াকে জানাসনি ভালো হয়েছে। ধ’র্ষণ এর কথা শুনলে কি না কি মনে করত কে জানে! মেয়ে মানুষ,হয়ত বিষয়টি সত্য ভেবে বসে থাকত। কিন্তু এখন কি করবি?”
মীর ঘড়ির দিকে তাকাল। দশটা বাজে। “এখন বাবার সাথে দেখা করতে যাব। এরপর দেখি কিভাবে কি করা যায়। কিন্তু ভাবার বিষয় হচ্ছে,এত বছর পর এডওয়ার্ড এসব কেন করছে!”
“সেসব তো পড়েই জানতে পারবি।আগে আঙ্কেল এর সাথে দেখা কর! এরপর এডওয়ার্ড এর সাথে।যত দ্রুত সম্ভব তাঁকে মুক্ত করতে হবে।তুই তো জানিস এই দেশের নিয়ম কি! ধর্ষণ এর অপরাধে ফাঁ’সি হয়। অবশ্য কখনো কখনো ফায়া’রিং স্কোয়াড ঘোষণা হয়।”
মীর ডেবিড এর মুখের পানে চেয়ে অসহায় কণ্ঠে বলল “না।এমন কিছু না হোক। আমি বাবাকে ভীষণ ভালোবাসি। মানুষটি আমার জন্য কত কি-ই না করেছেন।মা চলে যাওয়ার পর চাইলে দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারত। করেনি। আমি একদিন জিজ্ঞেস করেছিলাম দ্বিতীয় বিয়ের কথা। অন্যভাবে।কেন করোনি! তিনি বলেন,সৎ মা কেমন হয় কে জানে,সে যদি তোমাকে ভালো না বাসে! অবশ্য তা ছাড়া বাবা মাকেও ভীষণ ভালোবাসত। সে-ই বাবার চোখের সামনে কিছু হতে পারে না।” মীর বিরতি নিল। নিজের জন্মদাতা মা বাবার কথা মনে পড়ল। তাঁরা দুনিয়ার বুকে নেই। থমাস শন এর রক্তের সন্তান সে না হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে ঘিরেই থমাস শন বাকি জীবনটা কাটাচ্ছে।সব হারিয়ে আজ বাবারুপি মানুষটাকে হারালে তাঁর যে কষ্ট হবে।খুব। তীব্রকার।
ডেভিড বলল “কি ভাবছিস!যাবি না! চল যাই!”
মীর বলল “মায়াকে একটাবার কল করি। ওকে বলেছিলাম পৌঁছেই কল করব।”
“দেরি করছিস কেন, দ্রুত কল কর।”
মীর বারান্দা ছেড়ে ঘরের ভেতরে এল। মায়াকে কল করল। প্রথমবারের কলটাই মায়া রিসিভ করে।মীর মায়ার ভালো মন্দ জিজ্ঞেস করে বলল “রাতে তোমাকে কল করব।”
মায়া দুই শব্দে জবাব দিল ‘অপেক্ষায় থাকব’!
বেন হো থেকে প্রায়ই কুড়ি কিলোমিটার দূরে কেওসান থানা।মীর ও ডেভিড সেখানে পৌঁছায়।থানার ভেতরে প্রবেশ করে একজন অফিসার এর সাথে মীর কথা বলে। অফিসার মীর কে একটা খাতায় স্বাক্ষর করিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য থমাস শন এর সাথে দেখা করার অনুমতি দেন। ডেভিড উক্ত স্থানেই অপেক্ষাকৃত।
মীর লকআপের সামনে গেল।থমাস শন দেয়াল ঘুরে বসে আছেন। উনাকে এমতাবস্থায় দেখে বুকে পাহাড় জমে মীর এর।সে কাঁদে। তবে নিঃশব্দে। দ্রুত জল মুছে চোখের। এরপর ধীরস্থির কণ্ঠে ডাকে। ‘বাবা’
থমাস সজাগ হলেন যেন হঠাৎ। তড়িঘড়ি করে উঠে দাঁড়াল। পেছন ঘুরে আবারো স্তব্ধ হল। লজ্জায় প্রথমে মাথাটা নত করে।মীর ফের ডাকে আবেগী হয়ে।থমাস শন ধীরে হেঁটে গ্রিল ধরল লকআপের। কিছু বলেন না। মীর আগ বাড়িয়ে বলল “আমি ম্যানেজার এর থেকে জেনেছি সবকিছু। তোমার কোন দোষ নেই। আমি তোমাকে বিশ্বাস করি। সবকিছু এডওয়ার্ড এর পরিকল্পনা। তুমি চিন্তা করোনা। আমি শীঘ্রই তোমাকে ছাড়িয়ে নেব।”
থমাস শন বললেন “খুব কঠিন কেস। যদি এডওয়ার্ড নিজে এ কেস না তুলে, ওঁর ভাগ্নি সত্য স্বীকার না করলে আমাকে আর মুক্ত করার উপায় নেই।”
“কিন্তু বাবা,এত বছর পর হঠাৎ উনি এসব কেন করলেন!”
“এত বছর পর নয়! এডওয়ার্ড সবসময়-ই আমাকে হুমকি দিয়েই যাচ্ছিল। কিন্তু আমি তোকে বলিনি এসব। কিন্তু এখন আর না জানিয়ে পারলাম কোথায়!”
মীর নীরবে থমাসের দু চোখের নিচ দেখল।কালো হয়ে গেছে। তাঁর কষ্ট হচ্ছে।বলল “আমি এখুনি যাব এডওয়ার্ড এর সাথে দেখা করতে।দেখি উনি কি বলেন। তুমি একদম ভেবো না।”
“আমি ভাবছি না!ভয়ও পাচ্ছি না। জানি, আমার ছেলে আছে। বুদ্ধিমান। সাহসী।”
মীর কিছু বলবে করে শব্দ বের করতেই একজন কয়ের্দি বলল “সময় শেষ। চলুন!”
সে আর কিছু বলতে পারল না। থমাসের দিকে মায়ার দৃষ্টিতে চেয়ে চেয়ে যেতে শুরু করল। থমাস গ্রিল ধরেই হঠাৎ বলল “বউ মা কেমন আছে রে!”
মীর নিয়মের বাইরে গিয়েও আবার ফিরে আসে থমাসের কাছে। মৃদু হেসে বলল “ভালো আছে।”
থমাস নীরবে নিভৃতে দু ফোঁটা জল ফেলে বললেন “আমি তোকে খুব ভালোবাসি মীর”
মীরও বলল “আমিও তোমাকে খুব ভালোবাসি বাবা।”
বাবা ডাকটি থমাসের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। তিনি আর কিছু বলেন না।মীর চলে যায়!
অরিয়েন্টাল কমোডিটি কম্পানির সামনে মীর।সাথে ডেভিড আছেই।মীর চোখ তুলে একবার তাঁদের কম্পানির দিকে তাকাল। এরপর অরিয়েন্টাল কমোডিটি কম্পানির ভেতরে প্রবেশ করল। একজন স্টাফ এসে মীর কে এডওয়ার্ড এর অফিস রুমে নিয়ে যায়। ডেভিড বাইরে অপেক্ষা করল। মীর অফিস রুমের ভেতর প্রবেশ করল ধীর পায়ে। এডওয়ার্ড চেয়ারে বসে অপর দিকে ঘুরে আছে।মীর বলল “মি.এডওয়ার্ড!”
এডওয়ার্ড ঘুরে তাকাল চেয়ারটি নিয়েই।পরনে তার সুটবুট।বয়স আর কত,ষাট ছুঁই ছুঁই।তবু দেখে বয়সের রেখা বোঝার উপায় নেই। এডওয়ার্ড মীর কে বলল “আমি জানতাম তুমি আসবে।বসো।”
মীর আপত্তি ভঙ্গিতেই বসে। এডওয়ার্ড বললেন “চা না কফি!”
“আমি আপনার সাথে আড্ডা দিতে আসিনি।”
এডওয়ার্ড হো হো করে হেঁসে বললেন “সেটা আমিও জানি মীর! অতিথিদের আপ্যায়ন না করলে খারাপ দেখায়।”
“খারাপ তো করেই ফেলছেন!আর কি বাকি রেখেছেন।”
“তোমার বাবার দোষ।”
মীর চোয়াল শক্ত করে বলল “বাবাকে মিথ্যা কোন অপবাদ দিবেন না। আমি জানি সবটা আপনার পরিকল্পনা।”
“হ্যাঁ, কিন্তু সবকিছু যে মিথ্যে তা আইনের কাছে প্রমাণ করো।সময় কিন্তু বেশিদিন নেই!”
“আপনি কেস তুলে ফেলুন।”
“সম্ভব নয়!”
“যত টাকা দরকার দেব!”
“আমার কি টাকা পয়সা কম আছে!”
“তবে কেন আমাদের কম্পানির উপর নজর দিয়েছেন!”
এডওয়ার্ড বললেন “যত টাকা পয়সা আছে,এর থেকে বেশি থাকত, যদি না তোমার বাবা আমার কম্পানির পাশে আর একটা কম্পানি না দাঁড় করাত। অনেক বুঝিয়ে ছিলাম, কম্পানি টা আমার নামে লিখে দিতে। দেয়নি।এখন বুঝুক।”
“আমার বাবার স্বপ্নের কম্পানি।নিজ হাতে একটু একটু করে গড়েছে। অসহায় মানুষদের এই কম্পানি দ্বারা সাহায্য করেছেন। বেকারদের কাজ দিয়েছেন। তাঁর উদ্দেশ্য সৎ। আপনার মত নিকৃষ্ট নয়।”
এডওয়ার্ড চেয়ারে ঘুরে ঘুরে দোল খেতে খেতে বললেন “খুব তেজ দেখছি তোমার।”
“রক্তের আষ্টেপৃষ্ঠে তেজ লেখা। দেখবেন তো বটেই।”
“আমি কেস তুলব না! তোমার আর কিছু বলার আছে!”
“কি করলে আপনি কেস তুলবেন!”
“কম্পানিটা আমার নামে লিখে দাও”
“সম্ভব নয়!”
“তবে স্বচোক্ষে তোমার বাবার মৃত্যু দেখো। ফাঁসি হবে।নয়ত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।”
মীর থমকে যায় বাক্যটি শুনে। এডওয়ার্ড এর কথার উপরে আর কোন শব্দ উচ্চারণ করতে পারল না।এ কোন সমুদ্রের অতলে মীর তলিয়ে যাচ্ছে বুঝতে পারছে না। কোনদিকে কিণারা নেই। যেদিকে তাকায় শুধুই জল। তীব্র স্রোত। একদিকে বাবা। অন্যদিকে তাঁর গড়া কম্পানি। শত শত মানুষের কর্মস্থল। সৎপথে ভ্রমণ করতেন থমাস। কর্মচারীদের তাঁদের অধিকার টুকু সমানভাবে ধরে রাখতেন।যা এডওয়ার্ড কখনো করবেন না।
মীর এর নিরবতা দেখে এডওয়ার্ড বললেন “কি ভাবছো!”
“আপনি অন্যায় করছেন।”
এডওয়ার্ড ফের হাসলেন। বললেন “সেসব ছাড়ো। এখন কি করবে তাই বলো!”
“কম্পানি টা বাবার নামে। আপনি কেস তুলে ফেলুন। বাবা ঘরে আসুক। উনি ঠিক কম্পানিটা আপনার নামে লিখে দিবেন।”
“মীর, কম্পানি তো তোমার বাবার নামে নয়! তোমার নামে লেখা। তোমার বাবার যা কিছু আছে সব তোমার নামে। তুমি একটা স্বাক্ষর করে দিলেই যথেষ্ট।”
মীর গভীর নিঃশ্বাস ত্যাগ করল।সে রিতিমত নির্বাক হল।থমাস শন এর সমস্ত কিছু মীর এর নামে!অথচ এ কথা সে আজ প্রথম শুনছে।মীর হতবাক।
এডওয়ার্ড মীর কে পর্যবেক্ষণ করেন। কালো রঙের শার্ট,সাদা রঙের প্যান্ট।হাতে ঘড়ি।চোখ দুটো লাল। তাঁর সাহস, বুদ্ধিমত্তা, আচরণ সবকিছু এডওয়ার্ড কে মুগ্ধ করে। তিনি মীর এর সর্ব সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হন।মীর কণুই চেয়ারের হাতলে রেখে দাঁড়ির ভর রেখে ভাবছে।বাবা- নাকি তাঁর গড়া স্বপ্নের কম্পানি! কোনদিকে পা ফেলবে ঠিক বুঝতে পারছে না। অন্যদিকে বুকের ভেতর ধুকপুক করছে। হৃদয় কাঁপছে।যেন খারাপ কিছুর জানান দিচ্ছে।
একজন স্টাফ আসেন।হাতে চা। টেবিলের উপর রাখেন। এডওয়ার্ড নিজেই চায়ের কাপটা এগিয়ে দেয় তাঁর দিকে।বলেন “চা খেতে খেতে ভাবো।”
মীর এডওয়ার্ড কে ক্রোধে ফেটে বলল “চা নয়, সিগারেট দরকার!হবে?
এডওয়ার্ড খুব হাসেন এবার।গর্ব করে বলেন “তোমার মত একজনকে দরকার।যে কিনা আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েও জজ এর সাথে বিনা ভয়ে কথা বলে।” একটা সিগারেট ও আগুন এগিয়ে দিলেন।মীর অবাক হল এডওয়ার্ড এর কথা শুনে। তাঁর প্রশংসা করার কারণ ধরতে পারল না।
মীর সিগারেট ফুঁকে গভীর ধ্যানে।এক পর্যায়ে সিগারেট টানা শেষ হয়।মীর কিছু বলবে করে প্রস্তুতি নিতেই এডওয়ার্ড বলেন “তোমার জন্য একটা প্রস্তাব আছে। যেটা গ্রহণ করলে, তোমাদের কম্পানি থাকবে,বাবা ফিরে আসবে তোমার, আগের মত তোমরা সুখেও থাকবে।”
“কি সে-ই প্রস্তাব?’
“আমার মেয়েকে তোমার বিয়ে করতে হবে!”
মীর এডওয়ার্ড এর প্রস্তাবটা শুনে আশ্চর্যজনক ভাবে থমকে গেল।বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে পড়ল।বলল “কি বলছেন আপনি এসব!
“আমি ঠিকই বলেছি। আমার তোমাদের কম্পানি দরকার নেই। আমার মেয়ের খুশি দরকার।ও তোমাকে অনেক আগে থেকেই ভালোবাসে। আমার একমাত্র মা মরা মেয়ে।ওর শেষ আবদার তোমাকে নিজের করে পাওয়া।”
মীর বলল “আমি বিবাহিত। আমার বউ আছে। আমি দেশে ফিরেছিলাম বিয়ে করার জন্য সেটা সবাই জানে। আশাকরি আপনিও জানতেন। একজন বিবাহিত ছেলের কাছে মেয়ে বিয়ে দিবেন!”
“ভুলে যাও!গ্রাম থেকে ও মেয়ে তোমার জন্য থাইল্যান্ডে আসবে না। তোমাকে অন্য বাড়ি দেব। সেখানে শুধু আমার মেয়েকে নিয়ে থাকবে। নতুন সংসার শুরু করবে।”
মীর স্বশব্দে হেসে বলল “তারমানে এটাই ছিল আপনার পরিকল্পনা।খুব ভালো করে গিঁট বেঁধেছেন আপনি! পাক্কা খেলোয়াড় বলতে হবে আপনাকে”
এডওয়ার্ড বসা থেকে উঠে থাই- জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়ায়। তাঁর পাশের বড়বড় ভবনের দৃশ্য দেখা গেল। প্যান্টের দু পকেটে হাত চেপে বললেন “এখন তোমার কাছে তোমার বাবাকে বাঁচানোর জন্য একটা পথ-ই খোলা আছে! আমার মেয়েকে বিয়ে করা। আমার মেয়ে তোমার বিবাহিত স্ত্রী এর থেকে কম সুন্দরী নয়।রুপেগুনে স্বর্বপরী।”
“ভালোবাসা রুপ দেখে হয় না। আপনি ভুল করছেন,এটা কোনদিন সম্ভব নয়।আর আপনি যে জঘন্য মনের মানুষ তা তো তখনই বুঝেছি,যখন নিজের ভাগ্নি কে দিয়ে এমন একটা মিথ্যে ধর্ষণের নাটক করালেন।ভালো হয়, যদি সত্যটা স্বীকার করিয়ে কেস উইথড্র করে নেন।”
“তারমানে তুমি আমার মেয়েকে বিয়ে করবে না!”
“না!”
এডওয়ার্ড জানালা ছেড়ে কিছুটা উৎফুল্ল হয়ে বলল “বেশ, তবে নিজের চোখের সামনে নিজের বাবাকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলতে দেখো,নয়ত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডিত দেখো।”
“দেখা যাক কি হয়!”
‘কিছু হবে না মীর! যতক্ষণ না আমি এই কেস উইথড্র করব, ততক্ষণ, ততদিন যত চেষ্টাই করো,কাজ হবে না।”
মীর কিছু বলল না। শরীর এর ভেতর অংশ জ্বলেপুড়ে উঠছে। টেবিলের উপর মুষ্টি হাতটি দিয়ে একটা বিকট শব্দ তৈরি করল। শব্দটি পৌঁছায় ডেভিড এর কানে। ডেভিড থাই-গ্লাস এর ওপার থেকে ভেতরের পরিবেশ দেখল।মীর এডওয়ার্ড এর দিকে একবার চেয়ে অফিস রুম থেকে বাইরে বের হয়। ডেভিড ‘কি হয়েছে জিজ্ঞেস করলে কোন জবাব আপাতত মিলে না।মীর অরিয়েন্টাল কমোডিটি থেকে বের হয়ে তাঁর গাড়িতে উঠে বসে। ডেভিড ড্রাইভিং সিটে বসে। ডেভিড জিজ্ঞেস করল “কোথায় যাবি এখন?
“আমাদের অফিসের সামনে নিয়ে চল।”
মীর দাঁড়িয়ে আছে মে-পিং ট্রেডিং কম্পানি অর্থাৎ তাঁদের ভবনের ছাদে। ভবনটি থেকে সমুদ্র দেখা যায়।সে রেলিং ধরে ঝুঁকে আছে। বাতাসে উব্র চুল গুলো দুলছে।সময় এসে থেমেছে সন্ধ্যা ছুঁই ছুঁই পর্যায়ে।মীর এদিক ওদিক তাকাতে চোখ পড়ে অরিয়েন্টাল ভবনের ছাদের দিকে। কিছুটা দূরত্ব অরিয়েন্টাল এবং মে-পিং কম্পানির মাঝে।লাল রঙের পোশাকে একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে সেখানে। চুলগুলো উড়ছে ওর।মীর তাৎক্ষণিক চোখ সরিয়ে ফেলে।মেয়েটি তাঁকেই দেখছিল। ডেভিড তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়ে বলল “এডওয়ার্ড এর একমাত্র কন্যা।”
মীর বিরক্ত হল।সে অন্যদিকে সরে একটা চেয়ারে বসল। ডেভিড এসে তাঁর সামনের চেয়ারে বসে।মীর এর চিন্তিত মুখটির পানে চেয়ে ডেভিড বলল “ কি বলেছে এডওয়ার্ড?কি করবি?তখন থেকে এসে গম্ভীর মুখেই বসে আছিস! কিছু বলছিস না! না বললে বুঝব কিভাবে পরবর্তী ধাপে আমরা কিভাবে এগোবো?’’
মীর ভেজা কণ্ঠে বলল “আমি আমার সামনে ধ্বং’স দেখতে পাচ্ছি।বলার মতন কিছু পাচ্ছি না।”
“মানে? বিস্ফারিত চোখ ডেভিড এর।
মীর নীরব কণ্ঠে বলল “আমি যদি বাবাকে বাঁচাতে চাই!কেস উইথড্র করতে চাই, তবে আমার ভালোবাসা কে কোরবান করতে হবে!”
“কি বলছিস এসব?
The Silent Manor part 80
“হুঁ।” মীর দীর্ঘ দম ছেড়ে ফের হেলে পড়া সূর্যের দিকে চেয়ে বলল “আমার সামনে দুটো পথ,এক বাবার মা’মলা আমার ঘাড়ে নেয়া। এরপর হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড,নয় মৃত্যু।নয়ত নিজের ভালোবাসা কে কোরবান! জানি না জীবনে কি এমন পাপ করেছি,যার খেসারত এভাবে দিতে হচ্ছে!ভাবছি এর শেষ কি হবে, ধ্বংস নাকি! সৃষ্টি!”
