৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৩৮
সারা চৌধুরী
আনিশা মুখ উঁচু করে তাকাতেই অর্কের হাতে থাকা জগের পানি হাত ফসকে আনিশার উপর পড়ে গেলো।এমন ঠান্ডা এক সময়ে মাথার উপরে এমন ঠান্ডা পানি পড়াই আনিশা চিৎকার দিয়ে উঠে।আনিশার চিৎকারে অর্ক ভড়কে যায়।আনিশার চিল্লানো শুনে শ্রাবন পিছু ঘুরে ভেজা আনিশা কে দেখে হতভম্ব হয়ে যায়।এই সন্ধাই এমন ভিজা কেন মেয়েটা,শ্রাবন কিছু বলতে যাবে তখনই খেয়াল করে অর্কের হাতের জগ আর অর্কের দিকে।
আনিশা রাগে ঠান্ডায় জোরে একটা অর্ক কে ধাক্কা দিয়ে বড় বড় পা ফেলে রুমে চলে যায়।সে জানে আর এক মিনিট বেশি দাড়ালে শ্রাবন ভাই তাকে ধমকাবেন।আর আনিশার কোনো মুড নেই ভর সন্ধ্যায় বকা খাওয়ার তবে অর্কের উপর খুব রেগে গেলো যদি শ্রাবন ওখানে না থাকতো তাহলে অর্কর মাথা ফাটিয়ে দিতো আনিশা ওই জগ দিয়ে।আনিশা রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিয়ে একটা বদ বুদ্ধি আটলো অর্ক কে জালানোর।
নতুন একটা দিনের সুচনা হয়েছে ধরনীতে।আজ ফারুক তালুকদার ও আনিস বাড়িতে ফিরবে।বাড়ির তুই কর্তী রান্নায় ব্যাস্ত,, ঘড়ির কাটায় সকাল এগারোটা।আনিতা রান্না করছে আর সুমনা হাতে হাতে কাজ করে সব এগিয়ে দিচ্ছে।সাথে অহনা মেয়েটাকে নিয়ে কয়েকটা কথা বলছে।হটাৎ রান্না করতে করতে আনিতা বলে উঠে..
-“ছোট শুনছিস..?
-“হুম আপা বলো..?
-“আজ তোর ভাই,, আনিস রা বাড়িতে আসার পর কি হতে পারে আন্দাজ করতে পারছিস।
-“হুম আপা আমার তো ওই ছোট্ট সারাকে নিয়ে চিন্তা হচ্ছে মেয়েটা এখোনো ছোট।
-“আমারো তো মেয়েটাকে আপন মনে হয় খুব কিন্তু এর পর কি হবে।
-“আপা অহনা তো অরুকে নিয়ে যেতে চাই ও তো সংসার করতে আসে নাই..?
-“তোর ভাইরে দেখেছিস তো অরুকে কত যত্ন করে আর অরুকে কিভাবে দিয়ে দিবে।
-“কিন্ত সারা..?
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
আনিতা বেগমের মুখে আধার নেমে আসে।সে জানেনা সামনে কি আছে।মেয়েটার প্রতি তার বড্ড মায়া।তবে আজ যখন বাড়ির কর্তারা বাড়ি ফিরবে তখন কোন সিদ্ধান্ত নিবে।ভেবে পাই না আনিতা।আনিতা কে কিছু বলতে না দেখে সুমনা আর কথা বাড়ায় না।তার ও মনের মধ্যে কু ডাকছে কিছুই ভালো লাগছে না।
আনিশা কোচিং এ গেছে।ফাতিহা ও সাথে গেছে,,শ্রাবন এখোনো জেগে চোখ লাল টকটকে।সারারাত না ঘুমিয়ে বেলকোনিতে সিগারেট এর ধোঁয়া উড়িয়েছিলো সে।মনে বিষাদ। শুভ্রর উপর তার খুব রাগ হচ্ছে আবারও। তার প্রিয় জিনিস গুলোই কেন শেষ পর্যন্ত শুভ্রর হয়ে যায়।এই যে অহনাকে সে রাগ করে অভিমানের বশে ছেড়েছিলো। আর শুভ্র ছিলো রাগের কারন।
শ্রাবন ভাবতে থাকে তার আর অহনার ভালোবাসার গল্পের সেই দিনগুলো….
ফ্লাসব্যাক….
শুভ্র আর অহনা খুব ভালোবন্ধু ছিলো।একদিন শ্রাবন এর সাথেও অহনার বন্ধুত্ব সৃষ্টি হয়।শুভ্র ও জানতো।অহনা শুভ্রর বেস্ট ফ্রেন্ড থাকলেও শ্রাবনের সাথে প্রনয়ে জড়িয়ে পড়ে।শুভ্রকে গোপ্ন করেই।ওক সময় এই ভালোবাসা এতোটাই গভীর হয় যে শ্রাবন আর অহনা বিয়ের সপ্ন দেখে ফেলে।শ্রাবন নিজের মায়ের সাথে কথা বললে মিসেস মনিরা কিছুদিন অপেক্ষা করতে বলেন। তখন সবে মাত্র চাকরি তে জয়েন করেছে ভালো বেতন ও ছিলো।অহনা যেহেতু ঢাকায় হোস্টেলে থাকতো তাই আর পড়াশোনা করতো তাই অহনার সাথে বেশি একটা কথা হতো না।
শ্রাবন অহনার প্রতি এতই মগ্ন ছিলো যে এক সময় অহনাকে কাজি অফিস থেকে বিয়ে করে নেই সবার গোপনেই এমন কি শুভ্র ও জানতো না।শ্রাবন নিজের ও অহনার জন্য ভাড়া বাসা ঠিক করে সেখানে থাকতে শুরু করে সপ্তাহে ৫ দিন অফিস আর দুদিন ঢাকা এসে নিজের প্রিয়তমার সান্নিধ্য পাওয়া।এটাই নেশা হয়ে যায় শ্রাবন এর কাছে।খুব ভালোই চলছিলো তাদের সংসার হুট করে এলোমেলো হয়ে গেলো সব। সে আর সিলেট থেকে ফিরলো না তার সেই ছোট সংসারে এমন কি ফোন করেও খোজ নিতে ইচ্ছা করে নি তার সেই ফেলে রেখে আসা বউটার কি অবস্থা কেমন আছে সে।
কিছুদিন পর ডিভোর্স পাঠিয়ে দেই সে।আর তার কয়েকমাস পরে জানতে পারে অহনা শুভ্রকে বিয়ে করেছে আর অহনা প্রেগনেন্ট।সেখান থেকেই শ্রাবনের রাগ জন্মে শুভ্রর উপর যেখানে বউটা তার আর আর সন্তান টা তার থাকতো সেখানে দুজন ই শুভ্রর।। এগুলা ভেবেই বেশি রাগ উঠতো শ্রাবন এর।
হটাৎ দরজা খোলার শব্দে শ্রাবন বাস্তবে ফিরে আসে তাড়াহুড়ো চোখের উপর হাত দেই,,ঘুমের ভান ধরে,,চোখ জোড়া তার ভেজা।অহনা চুপিচুপি শ্রাবনের রুমে ঢুকে দরজার কোনা থেকে শ্রাবন এ লম্বা হয়ে সুয়ে থাকতে দেখে খুব রাগ হয় তার। শ্রাবন কে দেখলেই রাগ হয়।তবুও মনটা অনেক খুজছিলো তাকে আজ।আশা পর্যন্ত অরুকে কোলে তুলতে পারলো না।আচ্ছা শ্রাবন কি অরুকে কোলে নেই অহনা আপন মনে ভাবে শ্রাবন এর দিকে ভালো করে লক্ষ করে দেখে চুল দাড়ি গুলো বড় হয়ে গেছে কাটে নাই মনে হয়।
আগের চেয়ে রোগা হয়ে গেছে।অহনা যেভাবে এসেছিলো সেভাবে বেরিয়ে যায় দরজা থেকে।অহনা চলে যেতেই শ্রাবন চোখের উপর থেকে গাত সরায়,,সে চোখে না দেখলেও বুজে যায় কে এসেছিলো।এই রুমে একজন পার্মিশন ছাড়া ঢুকে না তবে আজ সে নয় আজ অহনা এসেছে।কিন্তু কেন।শ্রাবনের হার্টবিট দ্রুত চলতে থাকে।
অহনা ধীরে নিচে চলে এসে নিজের রুমে চলে আসে।খুব এক গিয়ে লাগছে তার সবাই চুপচাপ কেমন জেনো।সারা রুমে সুয়ে আছে বা হাত টা বেথা, ধীরে ধীরে উঠে বসে,,সারাকে কেমন বিদ্ধস্ত লাগছে চোখ গুলো ফুলো ফূলো,, ফর্সা মুখ টা ফ্যাকাশে,,চুল গুলো এলোমেলো।সারা আশে পাশে তাকিয়ে দেখে রুম ফাকা বাইরে আলো পর্দা ভেদ করে রুমে ঢোকার বৃথা চেষ্টা চালাচ্ছে।
সারা ডান হাত দিয়ে চুল গুলো ক্লিপ দিয়ে আটকে নেই বাম হাতে তাকিয়ে দেখে টেপ মারা বুজে জায় এখানে সেলাইন দিয়া ছিলো তাই বেথা হয়েছে,, উঠে দাঁড়িয়ে টলতে টলতে ফ্রেশ হয়ে এসে বসে বিছানায়।বিছানার পাশে প্লেটে খাবার ঢেকে রাখা উপরে একটা সবুজ চিরকুট।সারা বড় একটা হামি তুলে চিরকুট হাতে তুলে নেই চোখ বুলালে মুচকি হাসি ফুটে উঠে মুখে।চিঠিতে লেখা…
-“পিচ্চি পাখি গুড মর্নিং..
ফ্রেশ হয়ে এসে খেয়ে নাও,,সম্পুর্ন খাবার শেষ করবা নয়তো আমি কিন্তু খুব রাগ করবো।আজ একটু জরুরি কাজ আছে তাই আমি আর অর্ক বেরিয়েছি।তুমার কোথাও জাওয়ার দরকার নেই আমি না আশা অব্দি দরজা খুলবা না যেই ডাকুক।আল্লাহ হাফেজ।
এটুকু পড়েই সারার খুব ভালো লাগে,,মানুষ টা তাকে নিয়ে কত ভাবে,, কত টা ভালোবাসলে এভাবে ভাবতে পারে একটা মানুষ আর একটা মানুষ কে নিয়ে সারা ভেবে পাই না। সারা খাবারের প্লেট টা হাতে নিউএ খাওয়া শুরু করে রুটি আলু ভাজি ডিম ভাজি সিদ্ধ ডিম আর এক গ্লাস দুধ।সারা জানে সিদ্ধ ডিম আর দুধ শুভ্র দিতে বলেছে।তবে সারা তো দুধ খাই না।সেটাও জানেনা ওই লোকটা সারা হাসে কি করে জানবে সেতো কখোনো বলেই নি। সারা খাওয়া শুরু করে।
হসপিটালের করিডোরে বসে আছে শুভ্র আর অর্ক। অর্ক যদিও বেজায় বিরক্ত কারন সে জানেও না কি জন্য এসেছে,,কোনো কারন ছাড়াই পুরো এক ঘন্টা যাবত বসে আছে।শুভ্রকে কিছু জিজ্ঞাসা করলেও বলছে না।শুভ্র কানে হেডফোন গুজে দিয়েছে।তার কৌতুহল দূর করতে সে আজ ডি এন এ রিপোর্ট করাতে এনেছে।যদিও অর্ক কে এখন বলে দিলে অর্ক ও চুপচাপ বসে থাকবে। তবে শুভ্র চাই সারপ্রাইজ দিতে।
শুভ্রকে এমন ভাবলেশহীন বসে থাকতে দেখে অর্ক কিছু বলতে উদ্দেত হতেই একজন লোক এসে শুভ্রর হাতে রিপোর্ট দিয়ে যায়।অর্ক রিপোর্ট দেখে ভ্রু কুচকায়।শুভ্র রিপোর্ট খুলে পড়া শুরু করে।বেশ কিছুক্ষন পর অর্কের জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে শুভ্র বিরশ মুখে উঠে দাঁড়িয়ে অর্ক কেও টেনে তুলে হাটা শুরু করে বলে…
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৩৭
-“ফাও কষ্ট করলাম আজাইরা,,টাইম নষ্ট আগেই বোহা উচিত ছিলো আমার।
অর্ক এমনিতেই বিরক্ত শুভ্রর এই কথাই আরো বিরক্ত হয়ে বলে উঠে কি হয়েছে বলবি তো ইয়ার.. শুভ্র বিরস কন্ঠে বলে উঠে

next part kobe asbe? adeo ki asbe?
part 43 dewa hoyese gese apni part 43 porjonto na pele abar msg koren