Home ৪ বছরের চুক্তির মা ৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৩৭

৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৩৭

৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৩৭
সারা চৌধুরী

অহনা চোখ বড় বড় করে বলে উঠে…
-“তুমি এখানে…?
অহনার কথায় কোনো ভাবাবেগ দেখা গেলো না ফাতিহার চোখে মুখে। ফাতিহা দরজা খুলে ভিতরে ঢুকলো।ফাতিহার এমন আচরনে অহনা রাগে ফেটে পড়লো মনে ম্লনে কিন্তু কিছু বলতে পারলো না।ফাতিহা রুমে ঢুকে বিছানায় বসে। শান্ত দৃষ্টিতে অহনার দিকে তাকালো।ফাতিহা খুব চতুর চালাক একটা মেয়ে।অল্পতেই সব কিছু ধরে ফেলতে পারে।অহনা দরজার কাছ থেকে বিছানার দিকে এগিয়ে এসে ফাতিহার উদ্দেশ্যে বলে উঠলো…

-কোনো দরকার হটাৎ এই রুমে..?
ফাতিহা অহনাকে পা থেকে মাথা অব্দি পরখ করে শান্ত কন্ঠে বলে উঠলো…
-“আচ্ছা রিহান ফোন ধরছে না কেন আপু বলতে পারেন..?
অহনা ভ্রু কুচকায়।ফাতিহা রিহানের কথা জিজ্ঞাসা করছে কেন তার কাছে।সে ধরা পড়ে যায় নি তো।অহনা নিজের মনে নিজেই সাহস জুগালো যে ধরা পড়ার কোনো চান্স নেই। ফাতিহা আগে কখোনো তাকে দেখেনি।সেই বুক ভরা সাহস নিয়ে অহনা সাবলিল ভাবে বললো…
-“ঠিক বুজলাম না তুমি কোন রিহানের কথা বলছো…?
ফাতিহা অহনার কথা শুনে হেসে বললো..

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

-“কেমন বোন আপনি নিজের ভাইয়ের নাম ও ভুলে যান ছিহ..!
-“মানেহ..?
-“মানে এই যে রাহি আপু আপনি আসলে অহনা সেটা আমাকে আগে বলেন নাই কেনো…?
-“মানে রাহি কে…?
ফাতিহা এবার রেগে যায় তবুও রাগ কন্ট্রোল করে মোবাইল থেকে একটা ছবি বের করে অহনার সামনে ধরে ছবি টা অহনা আর রিহান এর। রিহানের জন্মদিনে তোলা।রিহান ভুল করে দিয়ে ফেলছিলো অনেক আগে সাথে সাথে ডিলেট ও করেছিলো তবে ফাতিহা তার আগেই সেভ করে নিয়েছিলো।আর আজ হটাৎ গ্যালারিতে ছবিটা পেতেই ফাতিহার ব্রেন খুলে যায়।
ফাতিহার হাতে নিজের আর রিহানের ছবি দেখে অহনার চক্ষু চড়ক গাছ। কি বলবে বুজতে পারছে না।রিতিমতো ঘামছে অহনা।ফাতিহা কিছু বলতে যাবে তার আগেই অন্তু ছুটে আসে রুমে দরজার কাছে তারপর হাপিয়ে বলে উঠে…

-“আপি চাচি ডাকছে এখোনি ছোট ভাইয়া ও ডাকছে তাড়াতাড়ি আসো।
কথা টা বলার পর ফাতিহা ওকে যেতে বলে।অন্তু চলে যেতেই ফাতিহা দরজার দিকে পা বাড়িয়ে আবার ফিরে আসে অহনার সামনে তারপর কানের কাছে ফিসফিস রাগী কন্ঠে বলে উঠে…
-“আপনি এখানে এসেছেন ভালো কথা তবে বাড়ির কোনো মানুষ আপনার দারা দ্বিতীয় বার ক্ষতিগ্রস্ত হলে আমি আপনার শেষ দেখে ছাড়বো মিঃ মোল্লার বোন।মাইন্ড ইট..!

কথাটি বলেই ফাতিহা চলে যায়।এদিকে ফাতিহা চলে যেতেই অহনা বিছানায় পাশে নিচে মাটিতে বসে পড়ে চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে নোনাজল।অহনা তো এখানে কারোর শত্রুতা করতে আসে নি সেতো এসেছে তার মেয়ে তার রত্নকে নিতে।সেতো কারোর জিবনে ভিলেন হতে আসে নি।না আগে কারোর সাথে সে খারাপ ছিলো।তবে এ বাড়ির সবাই তাকে ভিলেন কেনো মনে করছে।এ বাড়িতে এসে তার পুরোনো ক্ষত আবার জেগে উঠেছে সেই কষ্ট কেও দেখছে না।সেতো সারা নামক বাচ্চা মেয়েটাকে কোনো রকম কষ্ট দিতে চাইনি কি থেকে কি হয়ে গেছে অহনা বুজতে পারি নি।অহনা বালিশ টেনে নিয়ে বালিশে মুখ গুজে কেদে উঠে নিরবে।
অর্ক বসে বসে চা খাচ্ছে আর জারার সাথে কথা বলছে কিছুদিন পর বোনটার বিয়ে। শুভ্র পাশে বসে অর্ক দের কথা বকা দেখছে আর অর্কের তখন কার বলা কথা গুলো মনে আওড়াচ্ছে।

-“সারাকে তো নাজমুল হুদা সিলেটের মেলা থেকে পেয়েছিলো।তখন সারার বয়স তিন এর কাছাকাছি ছিলো।সারা শুধু নিজের নাম ই বলতে পেরেছিলো।সারার আসল পরিবার সিলেটের ই হবে।কথা গুলো যেনো ঘুরে ফিরে অর্কের বলা কথায় এসে মিলে যাচ্ছে।
হটাৎ শুভ্রর মনে হয় সত্যি সত্যি সারা অর্কের বোন না তো।শুভ্র মনে কৌতুহল জাগে সব সুত্র যখন একই অংকে এসে মিলে যায় তখন কৌতুহল জাগার ই কথা।শুভ্র কি মনে করে অর্কের মাথায় হাত বুলিয়ে দেই।অর্ক তখন ও জারার সাথে কথা বলছে।অর্ক চায়ের কাপে ঠোঁট ছোয়াতে শুভ্র হুট করে অর্কের চুল জোরে টান দেই। এতে কয়েকটা চুল ছিড়ে শুভ্রর হাতের তালুতে চলে আসে।অর্ক ব্যাথায় আর্তনাদ করে উঠে মুখ থেকে চা পড়ে যায় সাথে হাত থেকে কাপ নিচে পড়ে শব্দ করে টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে যায়।অর্ক মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে শুভ্রর দিকে রাগি দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলে উঠে…

-“পাগল হলি নাকি আমার চুল শেষ করে দিলি।
শুভ্রর মুখে কোনো রিয়েকশন দেখা গেলো না।শুভ্র শান্ত কন্ঠে বললো..
-“সরি তোর চুল গুলো সুন্দর তাই টেনে দেখলাম।
বলেই শুভ্র উঠে সিড়ির দিকে পা বাড়ালো উদ্দেশ্য রুমে যাওয়া সারা অনেক ক্ষন রুমে একা আছে।শুভ্রর এমন ভাবলেশ হীন ভাবে চলে যাওয়া দেখে অর্ক বিরক্ত হলো কি পেয়েছে টা কি তাকে ওরা।কাপ ভাঙার শব্দে রান্না ঘর থেকে আনিতা ছুটে এসে অর্ক কে জিজ্ঞাসা করলো…
-“কি হয়েছে বাবা…?
অর্ক কিছু বলার আগেই সোফায় বসে টিভি দেখতে থাকা অন্তু বলে উঠে..
-“ছোট ভাইয়া অর্ক ভাইয়ার চুল টেনে দিয়েছে তাই হাত ফস্কে পড়ে গিয়েছে।
আনিতা বেগম মনে করলেন ছেলেরা দুষ্টামি করে এমন টা করেছে তাই তিনি আর কথা না বাড়িয়ে অর্ক কে বললো…

-“থাক বাবা কিছু মনে করোনা বেশি লেগেছে নাকি..?
-“না না আন্টি ওই একটু…!
-“আচ্ছা চা কি আর দিবো…?
-“না না আন্টি আর লাগবে না।
অর্ক ও সোফার উপর থাকা মোবাইল টা নিয়ে রুমের দিকে হাটা ধরলো উদ্দেশ্য উপরের রুম শুভ্ররা ওটাই বরাদ্দ করেছে তার জন্য। অর্ক রুমে গিয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে মোবাইল নিয়ে গেম খেলা শুরু করে।
শুভ্র রুমে এসে দেখলো সারা এখোনো গভীর নিদ্রায়।শুভ্র সারার মাথার কাছে গিয়ে বসলো।সারার মায়াবী ঘুমন্ত মুখশ্রীর দিকে কতক্ষন রাকিতে রইল তারপর সারা কপালে দীর্ঘ একটা চুমু খেলো।ডয়ার থেকে একটা বক্স বের করে অর্কের সেই চুল গুলো রাখলো টিস্যু তে জড়িয়ে তারপর আস্তে করে সারা মাথা থেকে একটা চুল টান দিলো।যদিও সারা এর বেথা বুজতে পারে নি তবে শুভ্রর যেনো খুব বেথা লেগেছে।সারার চুল টাও খুব যত্নে টিস্যু তে মুড়িয়ে বক্সে রেখে দিলো।

শুভ্র ডি এন এ টেস্ট করতে চাই৷তাইতো ইচ্ছা করে অর্ক কে বেথা দিয়ে চুল ছিড়ে নিলো এমনিতে চাইলে হাজার টা প্রশ্ন করতো।শুভ্র নিজের মনে কৌতুহল রাখতে চাই না।কৌতুহল মানুষ কে ঘুমাতে দেই না।শুভ্র সারার দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বকে উঠলো..
-“পিচ্চি পাখি যানো এই আমি আগে কখোনো তোমার মতো কাউকে দেখিনি,, তোমার মতো করে কাউকে এতটা চাইন,, তুমার মতো করে কারোর মায়ায় ডুবে যায়নি,, তুমি বিশ্বাস করতে পারবে না আমি ঠিক কতটা তোমাকে ভালোবাসি…!
শুভ্রর বলা কথা ঘুমন্ত সারা শুনতে পেলো না।শুভ্র হাসলো। এই ছোট মেয়েটাকে সে সত্যিই ভালোবাসে কিছুদিন আগেও সে কনফিউজড ছিলো আর সে এখন নিজেই বুজতে পারছে এই মেয়েটাকে সে ভালোবাসে।এই মেয়েটার গায়ে নোকের আচড় শুভ্রর হৃদয়ে ছুরির আঘাতের মতো লাগে।

আনিশা পড়ছে তবে মন ছুটে বেড়াচ্ছে অন্য কোথাও।হুম আনিশার মন সেই শ্যামলা গম্ভীর রাগী বদ মেজাজী শ্রাবন কে খুজছে দুপুরের পর থেকে শ্রাবনের দেখা মেলে নি আনিশার আখিঁদয়ে।আনিশা বইয়ের পাতা উল্টাচ্ছে তো উল্টাচ্ছে পড়ায় মন বসছে না।আনিশা পড়ার টেবিল থেকে উঠে পা বাড়ালো শ্রাবণ এর ঘরের দিকে উদ্দেশ্য বকা শুনে হলেও তার ভোম্বল এর একবার মুখ দর্ষন। আনিশা কয়েকপা এগিয়ে অর্কের রুমের দিকে দরজা দিয়ে ভিতরে তাকালো। স্পষ্ট দেখা যাচ্চে চেয়েরে হেলান দিয়ে শ্রাবন বসে আছে।আনিশা মনে মনে একটা গালি আওড়ালো…

৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৩৬

-“বেদ্দপ বেডা ভোম্বল মানুষ কে চিন্তায় ফেলে এখানে শান্তিতে বসে আছে বেদ্দপ যতসব।
শ্রাবন কে সেখানে বসে থাকতে দেখে আনিশা মন ঠান্ডা করে সস্তির নিশ্বাস ফেলে পিছু ঘুরতেই ধাক্কা খেলো কারোর চওড়া বুকের সাথে।আনিশা লোকটির দিকে তাকানোর আগেই…

৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৩৮