Home সুখময় যন্ত্রণা তুমি সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১১২+১১৩

সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১১২+১১৩

সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১১২+১১৩
neelarahman

সাদাফ বসেছিল অফিস রুমে কিছু একটার এরেক্ষায়।ঠিক ঘন্টাখানেক পরে ফারদিন এসে জানালো ,”স্যার একটা সুখবর আছে ।একটি সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে।”
সাদাফ মুচকি হেসে ফারদিনের দিকে তাকালো ।তারপর বললো,” কি আছে সেই ফুটেজে অন করো দেখি।”
ল্যাপটপের ভিডিও ফুটেজটি অন করার সাথে সাথেই সাদাফের মুখে খেলে গেল মুচকি হাসি ।সাদাফ ল্যাপটপটি বন্ধ করলো ।তারপরে মোবাইলটি হাতে নিয়ে ফোন দিল সাজিদকে।

সাজিদ অবাক হলো হঠাৎ সাদাফের ফোন পেয়ে ।সাদাফের তো ফোন দেওয়ার কথা না ।দুই তিন রিং হওয়ার সাথে সাথে ফোন রিসিভ করলো সাজিদ। ফোন ধরে বললো,” বন্ধু খোঁজখবর নেওয়ার জন্য ফোন দিলাম ।তোর তো অভিযোগ ছিল আমি নাকি তোর খোঁজ খবর নেই না তাই ফোন দিলাম।”
সাজিদ অবাক হয়ে গেল । তারপরেও সিরিয়াস হয়ে বললো,” হেয়ালি না করে বল কি জন্য ফোন দিয়েছিস ?সাদাফ বললো,” বললাম তো তোর খোঁজ খবর নেওয়ার জন্য ফোন দিয়েছি ।আচ্ছা তা তোদের গার্মেন্টসের ব্যবসা কেমন চলছে রে?”

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

সাজিদ অবাকের পর অবাক হচ্ছে গার্মেন্টস ব্যবসার কথা কেন জানতে চাচ্ছে ভেবে।সে ব্যবসার মধ্যে ওর কি ইন্টারেস্ট থাকতে পারে ?তারপর বললো,” কেন তোর কি ইন্টারেস্ট তোর কি প্রয়োজন ?চাকরি নিবি নাকি আমাদের ফ্যাক্টরিতে?”
সাদাফ হাসতে হাসতে বললো,”না তোদের ফ্যাক্টরি তো ছোট ছোট পোলাপান দিয়ে কাজ করাস ।ভিতরে গভীরে সেখানে আমার মত বড় মানুষের কি কাজ বল?”
সাজিদ অবাক হয়ে বললো,” কি বলতে চাচ্ছিস সেটা বল ।আর এমন কোন কথা বলবি না যেটা তুই নিজে কোনদিনও চোখে দেখিস নি।”

সাদাফ বললো ,”হ্যাঁ তা অবশ্য ঠিক ।চোখে দেখিনি তবে দেখতে কতক্ষণ?”
“কি চাস সেটাই বল ?”জানতে চাইলো সাজিদ ।
সাদাফ বললো,” কি আর চাইবো ?চাই যে তুই যা করেছিস সেটা তুই স্বীকার করে নে ।তোর দোষ তুই স্বীকার করে নিলে বাইয়ার রা কনভিন্স হবে ।হয়তো শিপমেন্ট আমাদের ক্যানসেল হবে কিন্তু চুক্তি থাকবে।প্রোডাকশনে এখনো তুই জব করিস আমাদের এখানে তাদের ডাটা মতে তাই তুই এর দায় নিবি কারণ তুই এই কাজটা করেছিস।”
“আমি কেন করবো আর আমার কি দায় পড়েছে তোদের ফ্যাক্টরি তোদের প্রতিষ্ঠান বাঁচানোর জন্য কোন কিছু দায় নিজের কাঁধে নেওয়ার?” বললো সাজিদ।

সাদাফ বললো ,”তাহলে করবি না ?”
সাজিদ বললো,” না যা পারিস করে নে।” বলেই ফোন কেটে দিল সাজিদ
সাজিদ এ ব্যাপারে পুরোপুরি অজ্ঞ কোন ধরনের ভিডিও ফুটেজ পেয়েছে সাদাফ যার জন্য এই কথাগুলো বলছে কারণ সাজিদের জানামতে তাদের সবকিছু এতই গোপনে এতই লুকোচুরিতে হয় যে সাদাফের মত লোকের পক্ষে সেগুলো ভেদ করে কোন ফুটেজ বের করা সম্ভব নয়। এমন কি কোন হ্যাকারের পক্ষ হ্যাক করা সম্ভব নয় তার ফুটেজ গুলো এতটাই সিকিউরিটি দিয়ে সবকিছু করা হয়।
সাদাফ ফোন কেটে ফুটেজের দিকে ইশারা করে ফারদিন কে বললো,” ঠিক যতটুকু প্রয়োজন অতটুকু ফুটেজ এডিট করে পুলিশকে পাঠিয়ে দাও ।এই মুহূর্তে অন্য কারো নাম যেনো না আসে।আগামীকাল যেন ওর ফ্যাক্টরিতে রেট হয় ।একটা একটা করে ধরবো ফ্যাক্টরি রেট হওয়ার পরেও যদি ও স্বীকার করে সব দায় নিজে না নেয় তারপরে বাকিগুলো ধরা হবে।”

ফারদিন বলল ,”জি স্যার কাজ হয়ে যাবে।”
এদিকে সাইমন অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছে রিমার জন্য ।ফোনে কথা তো বলেছে রিমা সাথে রিমা রাগ করে হলেও সাইমনের সাথে দেখা করতে আসবে এটা সাইমন জানে । হলো ও তাই ।দরজা হঠাৎ করে খোলা শব্দ হলো ।সায়মন আড় চোখে তাকিয়ে দেখলো রিমা এক কাপ চা নিয়ে এসেছে।
সামনের দিকে হেঁটে এসে রিমা বললো,” এই নাও চা ।”
সাইমন বললো,” শুধু চা ?আর কিছু কই?”
রিমা বললো,” আর কি ?তুমি তো চায়ের কথাই বলেছ ?”
সাইমন মুচকি হেসে গলার স্বর নরম করে বললো ,”আচ্ছা ঠিক আছে একটু সামনে আয় তো।”
রিমা অবাক হয়ে গেল ।এদিক ওদিক তাকিয়ে বললো,” কেন ?”

“আয়না একটু কাছে ।প্লিজ ।”বললো সায়মন।
“আম্মু বকা দিবে ।”বললো রিমা।
সামনের এবার মেজাজ চড়ে গেল । বললো,”আম্মুর কাছে জিজ্ঞেস করে কি তুই আমার সাথে প্রেম করেছিলি ?না আম্মুর সাথে জিজ্ঞেস করে তুই আমাকে কবুল বলেছিলি?”
রিমা বললো,” চুপ কর কি বলতেছ ?হঠাৎ করে কেউ শুনে ফেলবে ।আর কবুল কবুল মানে কি ?এই কবুল এ কি বিয়ে হয় ?এটা তো এমনি দুষ্টুমি করে বলেছি ।সাইন ছাড়া বিয়ে হয় নাকি ?কাগজ ছাড়া কিসের বিয়ে?”আর কি প্রমাণ আছে তোমার সাথে আমার বিয়ে হয়েছে ?দেখাতে পারবে কোন প্রমাণ ?”
সায়মন বললো ,”ও তার মানে আমার প্রমাণ রাখা উচিত ছিল ?তুই যে আল্লাহকে সাক্ষী রেখে কবুল বললি এটা কি কোন প্রমাণ না?”

রিমা এবার চুপ হয়ে গেল ।একটু নরম হলো ।নরম হয়ে বললো,” দেখো আম্মু যা বলেছে আমাদের ভালোর জন্য বলেছে ।আর কিছুদিন পর সাদাফ ভাইয়া আর নূরের ব্যাপারটা সমাধান হয়ে গেলে তারপর যদি কেউ জানে সমস্যা নেই। কিন্তু এখন জানলে একটা কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে ।বাবারা কতটুকু হার্ট হবে বুঝতে পেরেছ ?মান সম্মান শেষ হয়ে যাবে তাদের ।যে তাদের চারটা ছেলেমেয়ে একই কাজ করেছে ভেবে।”
সাইমন বললো,” ঠিক আছে একই কাজ করেছি ভালই তো বেসেছি কোন অন্যায় তো করিনি?”
রিমা মুচকি হেসে সায়মনের দিকে তাকালো ।তারপর ধীরে ধীরে এক পা দু পা করে একটু কাছে আসলো । বললো এসেছি এবার বল কি বলবে ?”

সায়মন রিমাকে বললো,” আমার গালে একটা চুমা খা প্লিজ।”
কেন যেন সাইমনের আবদার আজ রিমার ফেলতে ইচ্ছে হলো না ।তাই এদিক ওদিক তাকিয়ে টুপ করে সাইমনের গালে একটি চুমা খেয়েই রুম থেকে দৌড় দিল সোজা রুমের বাইরে।সায়মন অবাক হয়ে গেল এক মুহূর্ত দাঁড়ালো না মেয়েটা ।সায়মনের ও তো একটা চুমা খেতে ইচ্ছে করেছিল।
সায়মন নিজের গালে হাত দিয়ে একটু মুচকি হাসলো ।এতটুকুই বা কম কিসে ?ও যে চা নিয়ে এসেছে কাছে এসেছে একটা চুমু খেয়েছে এটাতেই সায়মন অনেক খুশি ।তাই সুন্দর করে চায়ের দিকে তাকিয়ে রইল মুগ্ধ নয়নে ।তারপর ধীরে ধীরে চায় চুমুক দিয়ে চা পান করতে লাগলো।
এদিকে নূর ধীরে ধীরে বিছানা থেকে নেমে আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো ।কেন যেন নিজেকে আজকে একটু পরিপাটি করতে ইচ্ছে করছে ।সাদাফ ভাইয়া বলেছে যাওয়ার সময় দেখা করে যাবে ।রাত তো অনেক হলো নিশ্চয়ই সাদাফ ভাইয়া আসবে ।আসলে জোর করে খাইয়ে তারপর এখান থেকে যেতে দিবে ।না হলে যেতে দিবে না ।ভাবলো নুর।

ধীরে ধীরে চিরুনি নিয়ে চুলগুলো আচড়াতে লাগলো ।আর মনে মনে ভাবতে লাগলো ,”আয়নার সামনে গেলে কেন যেন আজকাল নিজেকে বড্ড মিসেস সাদাফ মিসেস সাদাফ মনে হয়।”
হঠাৎ আয়নার দিকে তাকিয়ে নূরের চেহারার মধ্যে কিছু একটা মিসিং মনে হল ।অনেকক্ষণ ধরে নূর ভাবছে কি নেই কি নেই হঠাৎ করে মনে পড়ল নূরের তো নাক ফোঁড়ানো নেই ।নাকে একটা ফুল নেই ।সব বিবাহিত মানুষের তো নাকে একটা ফুল থাকে ।নুর লজ্জা পেল ।লজ্জা পেয়ে মনে মনে ভাবল আজকে সাদাফ ভাই আসলে বলবে নূরের জন্য একটা নাকের ফুল এনে দিতে।

রাত দশটা সাদাফের গাড়ি রহমান ভিলা আসতেই গাড়ির শব্দে নুরের হৃদয়টা যেন কেঁপে উঠল ।যেন মনে হচ্ছে কতদিন পর সাদাফ ভাই বাসায় আসছে ।সাদাফ ভাই আসছে নূর পারছে না তো দৌড়ে দৌড়ে নামবে কিন্তু শরীর সায় দিচ্ছে না ।তাই নুর ধীরে ধীরে বেলকনি পর্যন্ত গেল ।
চুলে এখনো চিরুনি ।চুল যে আর গোছানোর সময় নেই ।সাথে সাথে রুমে এসে চুলগুলো খোঁপা করে নিল ।হঠাৎ মনে হল মায়ের একটি খোপার কাটা আছে যেটাতে কাঠগোলাপ লাগানো আছে ।সাদাফ ভাইয়ের তো কাঠগোলাপ ফুল খোঁপায় পড়া পছন্দ।নুর সাথে সাথে মায়ের রুমের দিকে গেল।

মায়ের রুমে গিয়ে দেখল রুমে কেউ নেই ।সবাই জানে আজকে সাদাফ আসবে তাই নওরিন আফরোজ সামিহা বেগম রান্নাবান্নার আয়োজন করছিলেন ।পুরুষরা সবাই নিচে ড্রয়িং রুমে সংবাদ দেখছে।
নূর মায়ের ড্রেসিং টেবিলের হাতরে কাঙ্খিত জিনিসটি পেয়ে গেল ।খোপার কাটা যেটিতে একটি কাঠগোলাপ খচিত।সেটি মাথায় দিয়ে ধীরে ধীরে আবার নিজের রুমে ফিরে চলে গেল নুর।নুরের লজ্জা লাগছে ।ভীষণ লজ্জা লাগছে নিচে যেতে তাই ভাবলো নিজের রুমে অপেক্ষা করবে ।সাদাফ ভাই নিশ্চয়ই আসবে নুরের রুমে নূরের সাথে দেখা করতে।

সাদাফ গাড়ি থেকে নেমে নূরের বেলকনির দিকে তাকালো ।দেখল রুমের লাইট জ্বলছে তার মানে নূর এখনো রুমে ।গাড়ির ডোর লক করে মেইন দরজা কাছে আসতেই দেখল নিচে সবাই বসে আছে ।হঠাৎ কেন যেন সাদাফের লজ্জা লাগলো ।এখানে বসে থাকলে টাইম নষ্ট হবে কিন্তু সাদাফের যে ইচ্ছে করছে দৌড়ে উপরে চলে যেতে।নুরের রুমে নুরের কাছে।
কিন্তু নিচে এতগুলো মানুষকে রেখে তাদের চোখে সামনে দৌড়ে উপরে নূরের রুমে যেতে হঠাৎ কেন যেন সংকোচ বোধ কাজ করল তাই সাদাফ ভিতরে ঢুকেই প্রথম ড্রয়িংরুমে সামনে এসে সোফায় বসলো।
সায়মন সাথে সাথে সাদাফের দিকে তাকিয়ে বললো,” কি অবস্থা ভাইয়া ?অফিসে ঝামেলা মিটেছে?”
সাদাফ বললো ,”না এখনো মিটেনি তবে মিটে যাবে মোটামুটি ব্যবস্থা করে এসেছি ।এ নিয়ে কারো টেনশন করতে হবে না ।”

বলেই আড় চোখে তাকালো হুমায়ুন রহমান ও ফজলুর রহমানের দিকে ।হুমায়ূন রহমান ছেলের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে পারছে না বারবার মনে পড়ে সে চড় মারার দৃশ্য ।ভিতরে ভিতরে উনি খুবই ব্যথিত এবং লজ্জিত তবে ছেলেকে মেরেছে এজন্য উনি ছেলের দিকে তাকিয়ে যে কথা বলবে মনে হচ্ছে সেই সাহসটা করতে পারছে না।ফাজিল ছেলে টা একটু নিজে থেকে কথা ও তো বলতে পারে বাবার সাথে না তা করবে না। প্রতিশোধ নিচ্ছে।মনে মনে ভাবলো হুমায়ূন রহমান।

সাদাফ বুঝতে পারছে বাবার মনোভাব।তাই নীরবতা ভেঙে নিজেই বলল,” টেনশন করো না বাবা ঝামেলা মনে কর মোটামুটি শেষ ।বাকি যতোটুকু আছে আমি দেখে নিব তোমাদের টেনশন করতে হবে না।”
হমান রহমান যেন একটি শক্তি পেল ছেলে নিজে থেকে উনার সাথে কথা বলেছে ।খুশি চেহারায় ফুটে উঠল যেনো। সাথে সাথে বলে উঠলো ,”টেনশন করছি ও না ।যেখানে তুই আছিস সেখানে আমার টেনশনের কোন কারণ নেই ।আর আজকে সব তোর পছন্দের খাবার হয়েছে অবশ্যই এখানে বসেই খাবি।”
সাদাফ মুচকি হাসলো।চোখে ইশারা করলো উপরে যাবে। হুমায়ূন রহমান অবাক হলেন সবার সামনে ওর ইশারা করা দেখে।

সাদাফ না করল না জানে আজকে খেয়ে যেতেই হবে ।এমনিই সাদাফের জ্বর ছিল দুই দিন তার উপরে অসুস্থতা নূরের ।অফিসে ব্যস্ততা সবকিছু মিলিয়ে খাওয়া দাওয়ার কোন ঠিক নেই বাড়ির সবাই যে ওকে না খেয়ে যেতে দিবে না সেটাও আগে থেকে ভালো করেই জানে।
সাদাফ ফজলুর রহমানের দিকে তাকালেন ।ফজলুর রহমান বললেন ,”যাও হাতমুখ ধুয়ে এসো সবাই একসাথে খাব।”

ভিতরে ভিতরে সাদাফ এটাই চাচ্ছিল ।সাদা উঠে সবার উদ্দেশ্যে বললো,” আমি উপর থেকে হাতমুখ ধুয়ে আসছি ।”
সাদাফ মুখে না বললেও ফজলুর রহমান জানে সাদাফ উপরে যাওয়ার জন্য আকুপাকু করছিল ।নূরের রুমে যাবে নূরকে দেখতে যাবে এতে ফজলুর রহমানের কোন সমস্যা নেই ফজলুর রহমান শুধু চায় সাদাফ সব কিছু জেনে বুঝে ওকে গ্রহণ করুক ।যার জন্য একটু সময় লাগবে।যদি নুরের সমস্যা ওর কাছে গ্রহণযোগ্য না হয় তবে নুর কে সাদাফের থেকে দুরেই রাখবে।

সাদাফ উপরে উঠেই সাথে সাথে চলে আসলো নূরের রুমের কাছে ।নুর কিভাবে যেন বুঝে গেল সাদাফ ভাই এসেছে ।হয়তো পায়ের শব্দে হয়তো বা সাদাফ এর ব্যবহার করা বডি স্প্রের সুগন্ধে নূর বুঝতে পারছে তবে নূরের আজ ভীষণ লজ্জা লাগছে ।বিছানায় বসেই লজ্জায় যেন কাঁপছে নূর ।নিচে সবাই বসে আছে বাবা বড় বাবা সবাই সবাইকে পার করে নূরের কাছে এসেছে।
ধীরে ধীরে রুমের দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশ করল সাদাফ। প্রবেশ করেই নূর কে কেমন যেন হঠাৎ চোখে আজ অন্যরকম লাগলো ।অবাক চোখে চেয়ে এগোলো নুরের দিকে।সাদাফ বুঝতে পারছে না নুরকে আজ অন্যরকম কেন লাগছে ?নুর মাথা নিচু করে রইল সাদাফ ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে বিছানায় নূরের পাশে বসে নূরের দিকে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ।

নুর বলল ,”কি হয়েছে , কি দেখছেন ?”
সাদাফ বললো,”তোকে আজ ভীষণ অন্যরকম লাগছে ।কিছু একটা পরিবর্তন মনে হচ্ছে ।”
নুর বললো,”কি ?”
সাদাফ অনেকক্ষণ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখল ।বুঝতে চেষ্টা করল আসলে কি পরিবর্তন ?তারপর সাদাফ বললো,” তুই আজ খোপা করেছিস দুই বেনী করিস নি ।খোঁপায় কাঠ গোলাপ ফুলের কাটা দিয়েছিস।

সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১১০+১১১

তাইতো বলি তোকে আজকে এমন বিবাহিত বিবাহিত লাগছে কেন ?”
হঠাৎ নূরের বিবাহিত কথা টি শুনে মনে পড়ল বিবাহিত হলে তো নাকে ফুল পড়ে সবাই ।নুর মাথা তুলে বললো,” আমাকে একটা নাকে ফুল কিনে দিবেন সাদাফ ভাই?”

সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১১৪+১৫