সে আমার বন্দিনী পর্ব ৪২
তানিয়া হুসাইন
রহমান ভিলার ভেতরে নিস্তব্ধতা ছড়িয়ে আছে,
সায়মা বেগম বিছানায় নিস্তেজ হয়ে পড়ে আছেন কয়েকদিন ধরে।
ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের সমস্যায় জর্জরিত এক শরীর।
চোখের নিচে কালি, ঠোঁট ফ্যাকাশে মনে হয় যেন যন্ত্রণা তার শরীর নয়, আত্মায়ও বাসা বেঁধেছে।
রাত গভীর হতেই ঘরের বাতি নিভে যায়, কিন্তু সায়মা বেগমের ঘুম আসে না।
ইদানীং ঘুমের ওষুধ নেওয়ার পরে ও তার ঘুম আসে না।
অনেকক্ষণ এদিক সেদিক করার পর আস্তে আস্তে চোখের পাতা ভারি হয়ে আসে।
কিন্তু অন্ধকার ঘরে হঠাৎ এক বিষাক্ত দুঃস্বপ্ন দেখে চিৎকার করে উঠে বসেন তিনি
___না! ইশু!
হঠাৎ আর্তচিৎকারে ছুটে আসে বাড়ির গৃহপরিচারিকা, আর জান্নাত।
শরীর কাঁপছে সায়মা বেগমের, বুকের বাঁদিকের তীব্র ব্যথায় নিঃশ্বাস নিতে পারছেন না ভালোভাবে।
চারপাশে ছোটাছুটি শুরু হয়।
আদনান সাহেব গিয়েছেন সাফার মায়ের বাড়ি।
বোনকে একনজর দেখতে।
সবকিছুর পরেও তার তো আরো দুইটা ছেলে আছে।
কিন্তু তার বোনের একমাত্র মেয়েটাকে হারিয়ে ফেললো সে,সে তো একেবারে অসহায়।
___সায়মা বেগম আহাজারি করে যাচ্ছেন,
আমার ইশু, আমার মা টা
বলতে বলতে একাকার হয়ে যান কান্নায়।
বাড়ির ফোন পেয়ে আবির ও আদ্রিয়ান দ্রুত ছুটে আসে।
দুই ভাইয়ের চোখে ভয়, দুশ্চিন্তা মায়ের এমন অবস্থার কথা শুনে কাঁপছে তাদের বুক।
আবির দ্রুত মায়ের কক্ষে ঢোকে একজন ডাক্তার প্রেসার চেক করছে।
সায়মা বেগম চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছেন। আবিরের পা কাঁপে।
___আবির এগিয়ে এসে ডাক্তার কে জিজ্ঞেস করে, আমার মা ঠিক আছেন তো?
ভয় আর উৎকণ্ঠায় কণ্ঠ কেঁপে ওঠে তার।
ডাক্তার বলে,
__এমনিতে ভয়ের কিছু নেই, তবে অতিরিক্ত চিন্তা, মানসিক চাপ আর হার্টের সমস্যায় এই অবস্থা।
আমি ইনজেকশন দিয়ে দিয়েছি। প্রেসক্রিপশনে কিছু ওষুধ লিখেছি, এখনই আনানোর ব্যবস্থা করুন।
___আবির কিছু না বলে দৌড়ে বেরিয়ে পড়ে।
আর ওদিকে রান্নাঘরে জান্নাত ভেজা চোখে স্যুপের হাঁড়ি নাড়ছে শাশুড়ির জন্য।
তাকে কিছু খাওয়াতে হবে ইদানিং খাওয়া-দাওয়াও ছেড়ে দিয়েছেন তিনি একেবারে।
সবাই চলে যেতে আদ্রিয়ান চুপচাপ মায়ের বিছানার পাশে বসে।
সায়মা বেগম কষ্ট করে চোখ মেলে ছেলেকে দেখেন।
তার ঠোঁট কেঁপে ওঠে। চোখে অশ্রুর নদী।
__তুই আইছোস বাবা,
শব্দগুলো যেন কষ্টের পাহাড় ডিঙিয়ে আসে তার ঠোঁট থেকে।
আদ্রিয়ান এখন খুব একটা পরিবারের কারো সাথে সময় কাটায় না,একপ্রকার এড়িয়ে চলে সবাইকে।
___আদ্রিয়ান মায়ের হাত ধরে।
মা, আমি আছি, তুমি কাঁদো না,প্লিজ।
কিছুক্ষণ চুপচাপ, নিস্তব্ধতা।
__তুই জানিস না রে আদ্রিয়ান,
আমার বুকের ভিতর যন্ত্রণাটা কেমন।
ইশু আমার পাশে নাই, বছর হতে চলল।
আমার ছোট্ট মেয়েটা আমাদেরকে ছেড়ে চলে গেছে।
তোরও মুখে হাসি দেখি না আর।
আমার হাসি খুশি চঞ্চল ছেলেটা একেবারে চুপ হয়ে গেছে।
কতদিন তোদের ভাই বোনের খুনসুটি দেখি না।
জীবনের শেষ দিন এসে আল্লাহ আমাকে কেন এই দিনগুলো দেখাচ্ছে।
___আদ্রিয়ানের চোখ ছলছল করে ওঠে ।
সে মাথা নিচু করে বলে,
আমি জানি মা, কিন্তু আমাদের তো শক্ত থাকতে হবে।ইশু কি চাইতো তার মা এভাবে ভেঙে পড়ুক?
____মেয়ের কথা বলতেই সায়মা বেগম কেঁদে ফেলেন আবার।
আমি হয়তো আর বেশি দিন বাঁচবো না বাবা।
এই ব্যথা আমার আর সহ্য হয় না।
___আদ্রিয়ান রেগে যায় সায়মা বেগমের কথায়।
মা,প্লিজ! আমি কতবার বলেছি এই কথাগুলো বলবে না।
সায়মা বেগম নিজেকে সামলান।
তার কণ্ঠ নরম হয়ে আসে।
রাহিকে নিয়ে আয় বাবা, ও থাকলে ঘড়টা একটু ভরা ভরা থাকে,
ও থাকলে আমি একটু হলেও নিজের কষ্ট গুলো ভুলে থাকতে পারি।
তোর বাবা ও চলে গেছে।
___আদ্রিয়ান কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে।
তার মুখ শক্ত হয়ে ওঠে।
ঠিক আছে।
আনার জন্য আনবো মা,
শুধুই আনার জন্য আনবো।
তোমাদের জন্য, তোমাদের কথায়। কিন্তু শুধু এটুকুই পারবো।
এর বেশি কিছু আশা করো না।
তুমি এখন রেস্ট নাও।
বলেই আদ্রিয়ান রুম থেকে বেরিয়ে যায়।
সায়মা চোখ বন্ধ করেন। তার চোখের কোনে অশ্রু ঝরে পড়ে।
তবুও তিনি একটু স্বস্তি পান।
সবচেয়ে পিছনের গাড়ি থেকে নেমে আসে ভীর।
কালো বুলেটপ্রুফ গাড়ির দরজা খুলতেই যেন বাতাসের গতিপথ থেমে যায়।
তার চোখে চোখ রাখা যাচ্ছে না, পাগল হয়ে গেছে সে ,শক্ত চোয়াল, এলোমেলো চুল , রক্ত লাল চোখ।
তার রাগ, তার ভয়, তার ভালোবাসা সবকিছু মিশে গেছে এক প্রাণঘাতী রুপে।
ধুলোমাখা জুতা, কালো কোটের নিচে শরীরটা টান টান, চোখদুটো আগুনের মতো জ্বলছে। ভীর নামতে নামতে চারপাশ স্ক্যান করে, তার পেছনে দাঁড়িয়ে পড়ে সান্তিয়াগো, এনরিকো, ডিয়েগো, নিকো সবাই গর্জন করা সিংহের মতো প্রস্তুত।
___ইশায়া মেইন গেইট এর কাছাকাছি আসতে-ই হঠাৎ সামনে ভীর আর তার গার্ডদের দেখে ভয়ে দু কদম পিছিয়ে যায়, আত্মা শুকিয়ে আসে ইশায়ার।
দ্রুত সরে যায় কারো চোখে পড়ার আগেই,গেটের পাশেই একটা ধ্বংস হওয়া গাড়ির আড়ালে বসে হাঁপাতে থাকে, ইশায়ার বুকের ধুকপুকানি যেন গলা চিরে বেরিয়ে আসছে। চোখ দুটো ছানাবড়া, ঠোঁট কাপছে, দম বন্ধ হওয়া মতো অবস্থা। সে চাদর দিয়ে মুখ ঢেকে বসে পড়ে, পেছনে ভীর যদি এক ঝলক তাকে দেখে ফেলে, সে আর বাঁচবে না।
ইশায়ার সারা শরীর কাঁপছে,
হাত পা অবশ, তবুও সে ঠান্ডা লোহা ছোঁয়া গাড়ির বডির সঙ্গে লেপ্টে থাকে। গাড়ির ছায়া তাকে ঢেকে রাখলেও তার মধ্যে চলছিলো প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড়। ভীর তার সামনে।
এদিকে ভীর আর তার সৈন্যরা ঝাঁপিয়ে পড়ে মিগুয়েলের ও তার সৈন্যদের উপরে।
গেট পেরিয়ে সামনে এগোয় সব।
ভীর হাত উঠিয়ে নির্দেশ দেয় সবাইকে, শেষ করে দাও!
এখান থেকে কেউ যেন জীবন্ত বেরোতে না পারে।
মুহূর্তেই চারদিক থেকে গর্জে ওঠে গুলি, বিস্ফোরণ আর আর্তনাদের আওয়াজ।
___এই মুহূর্তে এখানে ভীরকে দেখে অবাক হয়ে যায় মিগুয়েল, এত তাড়াতাড়ি তো ওর আসার কথা না।
মিগুয়েল পুরো স্তব্ধ। সে ভাবছিলো ভীর এখনো রাস্তায়,
ভীরের এই মুহূর্তে এখানে উপস্থিত থাকাটা অসম্ভব। কিন্তু সে তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে । তার চোখে আগুন, চেহারায় যেন ছায়া নেমে এসেছে। ভয় চেপে ধরে মিগুয়েলের গলা, হাত কাঁপে,
চাঁর দিক থেকে ওদের সব সৈন্যরা ঘিরে ফেলেছে ওদেরকে,
মিগুয়েল পালানোর চেষ্টা করে আবারও,
কিন্তু ওরা চারদিক থেকে ঘেরাও করে রেখেছে।
মিগুয়েলের এক গার্ড গুলি চালাতে চায়, কিন্তু এর মাঝেই আক্রমণ করে ভীর।
___তুই কি ভেবেছিলি আমায় দুর্বল করে দিবি?
গর্জে ওঠে ভীর।
গু*লি ছোড়ে প্রথমেই ডান হাতে। র*ক্তের ফোয়ারা ছুটে আসে চারপাশে। ডিয়েগো, সান্তিয়াগো, নিকো ঘিরে ফেলে মিগুয়েলের বাকি সৈন্যদের।
চতুর দিক থেকে ঘিরে ফেলে ডিয়েগো, নিকো, সান্তিয়াগো, এনরিকো।
চারদিকে শব্দ,
ভীরের হাতে অ*স্ত্র, রাগে তার শরীরের শিরা উপশিরা কাঁপছে।
তার চোখে রক্ত, তার নিশ্বাস হিংস্র প্রাণীর মতো ভারী, শরীর টানটান।
ইশায়ার দিকে হাত বাড়ানোর চেষ্টা যারা করেছে তাদের অস্তিত্ব পৃথিবী থেকে মুছে ফেলাই এখন তার একমাত্র উদ্দেশ্য।
তার সব থেকে বেশি রাগের কারণ, তাকে দুর্বল করতে তার প্রাণের উপর হাত দেওয়া।
ইশায়া তার একমাত্র দুর্বলতা, তার বন্দিনী, তার অধিকার। আর কেউ সেই অধিকার ছুঁতে পারবে না এটা ছিল তার নিয়ম, আর সেটাই ভাঙার চেষ্টা করেছে মিগুয়েল।
ভীর একের পর এক গু*লি চালায়, চিৎকার করে, সে নিজেই যেন এক প্রলয় হয়ে নামে শত্রুদের উপর।
এদিকে ইশায়া বেরিয়ে আসে, ধীরে ধীরে পার করে মেইন গেইট।
প্রতিটা পা যেন আগুনের উপর রাখছে সে, ভয়ে তার কলিজা কেঁপে উঠছে, গেটের কাছাকাছি আসতেই একবার পিছনে ফিরে তাকায় সে সেই র*ক্ত, সেই বিস্ফোরণ, সেই মৃ*ত্যু। চোখ ঝাপসা হয়ে আসে তার কিন্তু সে থামে না।
গেইট থেকে বের হয়ে দোর লাগায়, এক দৌড়ে যেতে থাকে জঙ্গলের রাস্তা ধরে।
তার মাথায় কেবল একটা শব্দ দৌড়াও পালাও,
এটাই সুযোগ এটাই শেষ সুযোগ এখান থেকে বাঁচতে হবে।
চাদর দিয়ে মুখ ঢাকা, গায়ের ওপর ছাইয়ের মতো ধুলো, কাটা পা তবুও সে থামে না। পেছনে বিস্ফোরণের আলো, সামনে অজানা অন্ধকার। কিন্তু এটাই তার স্বাধীনতা।
থামার নাম নেই পাগলের মত দৌড়াচ্ছে ইশায়া।
কোনো পথ চিনে না, দিক বুঝে না,তবুও সে ছুটে চলেছে, প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে, সাহস আর সাফার শেষ কথাগুলোকে বুকের মধ্যে নিয়ে।
এদিকে দুই পক্ষের চলছে তুমুল সংঘর্ষ।
র*ক্ত মাখা মাখি চারপাশ, কেউ কারো চোখে চোখ রাখছে না, কারণ সেকেন্ড দেরি মানেই মৃত্যু। এদের কেউ মানুষ নয়।
বিস্ফোরণে কেঁপে উঠছে মাটি।
এটাই ভীর আলভারেয তার সাম্রাজ্য, তার প্রতিশোধ, তার হিংস্রতা।
সে কাউকে ছাড় দেওয়ার মানুষ না।
___এরমধ্যে ভীর তার কিছু গার্ডকে নির্দেশ দেয়,
প্রাসাদের মূল ফটক ঘীরে রাখতে যাতে কেউ ভিতরে প্রবেশ করতে না পারে।
____সান্তিয়াগো আর এনরিকো নেতৃত্ব নেয় সামনের ইউনিটে। এমিলিও ও হাভিয়ের ভেতরে ঢুকেই গ্রে*নেড ছুঁড়ে দেয় ইউনিটের দিকে যেখানে মিগুয়েলের কিছু শুটার অবস্থান করছিল।
গর্জন, চিৎকার, র*ক্ত, বা*রুদের গন্ধ চারদিক এক মৃত্যুপুরীতে রূপ নেয়।
মিগুয়েলের দল যতই গুলি চালাক, ভীরের লোকেরা একেকটি শেডো’র মতো ঘুরে ঘুরে তাদের গলায় ছু*রি চালাচ্ছে।
তারা সবাই বুঝতে পারছে আলভারেয সম্রাজ্যের উপর হাত বাড়িয়ে তারা কি ভুল করেছে।
মিগুয়েলের সেনারা চারপাশ ঘিরে পড়ে, সবাই পালানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু কোনো দিক থেকে পালানোর পথ নেই।
সেবাস্তিয়ান ও লুইস একসাথে ৭ জনকে গু*লি করে এরা মিগুয়েলকে ঘিরে রেখেছে , ডোমিনিকো পিছন থেকে একজনের ঘা*ড় এ ছুরি বসিয়ে দেয়।
নিকো ছুরি দিয়ে বুক ছিঁ*ড়ে র*ক্তে ভাসিয়ে দেয় মিগুয়েলের এক লিডারকে।
যার সাহায্যে মিগুয়েল আজ আবার ওদের উপর আক্রমণ করার সাহস পেয়েছে।
যে আশ্রয় দিয়েছিল এতদিন ওকে।
মিগুয়েল পেছনের সিঁড়ি দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু তার পিছন পিছন সেখানে পৌঁছে যায় ভীর।
ভীরের পিছন পিছন আসে নিকো, ডিয়েগো।
ভীরের চোখে রাগের লাল ঝিলিক, হাতে গ্লোভস পরা, বাম হাতে রি*ভলভার, ডান হাতে স্পেশাল ব্লে*ড।
ভীর বলে,
আমাকে শেষ করার জন্য এত প্ল্যানিং প্লটিং, নিজের রাজত্ব হারিয়েও ক্ষান্ত হলি না,
শেষমেষ আমার প্রাণের দিকে হাত বাড়ালি, এখন দেখ তোর পরিণতি।
___মিগুয়েল গুলি চালাতে চাইলে, ডিয়েগো তার হাতের ছুরি ছুঁড়ে মারে মিগুয়েলের দিকে।
মিগুয়েলের হাত থেকে রি*ভলবার পড়ে যায়।
নিকো মিগুয়েলকে একের পর এক ঘুষি, কিক মারতে থাকে,
অতিরিক্ত মারের ফলে মিগুয়েলের মুখ থেঁ*তলে যায়।
নিকো মিগুয়েলের এ*ক হাত কে*টে ফেলে,
মিগুয়েল গলাকাটা মুরগির মত ছটফট করতে থাকে।
প্রাণের ভিক্ষা চায় বলে ছেড়ে দিতে ও সব কিছু ছেড়ে চলে যাবে।
কিন্তু এখানে কারোর মনে একটুও দয়া হয় না তার জন্য।
শেষে ভীর রিভ*লভার বের করে খুব কাছে থেকে তিনটা গু*লি চালায়
মাথা, বুক আর পেটে,
মিগুয়েল ছটফট করতে করতে পড়ে যায় র*ক্তে ভেজা মেঝেতে।
এভাবে কিছু সময় ছটফট করতে করতে একসময় প্রাণ হারায়।
ভীর তার পাশে বসে বলে,
আমার প্রাণের দিকে তাকানোর আগে দুইবার ভাবিস পরের জন্মেও।
ওর দিকে বাড়ানো প্রত্যেকটা হাত আমি গুড়িয়ে দিব, আর চোখ উপরে ফেলব।
কারোর অস্তিত্ব রাখবো না আমি এই দুনিয়ার বুকে।
ও শুধু আমার ওর দিকে তাকানোর অধিকার কারোর নেই আর না ওর কথা ভাবার।
সবাই শেষ হয়ে গেলে,
ভীর চিৎকার করে বলে,
সবগুলো লা*শ আগুনে পুড়িয়ে দাও! কারো ছায়াও যেন না থাকে এখানে।
সবকিছু পরিষ্কার করো দ্রুত।
সে আমার বন্দিনী পর্ব ৪১
___গার্ডরা একত্রে সব মৃত*দেহ টেনে আনে,
সবাইকে একসাথে জঙ্গলের পাশে জড়ো করে,পে*ট্রোল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। পুরো আকাশ রক্তের লাল আভায় রঞ্জিত হয়ে ওঠে।
