Home সে আমার বন্দিনী সে আমার বন্দিনী পর্ব ৬২

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৬২

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৬২
তানিয়া হুসাইন

ভীরের রুমে বিশৃঙ্খলার পর পুরো প্রাসাদজুড়ে এক ধরনের নিস্তব্ধ আতঙ্ক।
___নিকো ফোনে একটি এন*ক্রিপ্টেড অ্যাপ খোলে, Sh*adow Line, যেখানে পৃথিবীর সবচেয়ে নি*ষিদ্ধ ডা*ক্তারদের সঙ্গে কথা বলা যায়। যে ডাক্তার রাষ্ট্রগুলো নিষিদ্ধ করেছে, অথচ মাফিয়ারা লুকিয়ে লুকিয়ে তাদের রক্ষা করে।
স্ক্রিনে একটি নাম জ্বলে উঠে Dr. Al*ejandro Castella The M*ind Sculptor.
একজন নিউরো অ্যা*লটারেশন বিশেষজ্ঞ, যার উপর রাষ্ট্র ৩২টি দেশে ওয়ারেন্ট দিয়েছে, কিন্তু মাফিয়া দুনিয়ায় তার মূল্য আকাশচুম্বী।
নিকো একটি কোড পাঠায়, R*ed Lily Protocol এই কোড মানে ম*স্তিষ্ক পরিবর্তন, স্মৃতি-বাতিল সবকিছুর ডিমান্ড।

___কয়েক সেকেন্ড পর ডাক্তার ভিডিও কল করে। মুখের অর্ধেক ছায়ায় ঢাকা, চোখে বরফঠাণ্ডা নির্লিপ্ততা।
ড. কাস্তেলান।
নিকো** নিকো রামিরেজ।মেক্সিকো, আলভারেয স্টেট।
ডাক্তারের ভ্রু সামান্য নড়ে, এই সাম্রাজ্যের নাম তার কাছে নতুন না।বর্তমানে রাষ্ট্রগুলো শাসন করা সবচেয়ে ভয়ংকর মাফিয়া রাজভীর আলভারেয । আর তার ঘনিষ্ঠ ব্যাক্তি নিকো রামিরেজ।
___ড. কাস্তেলান আমাকে ডাকলে কারণ ।
___একটা মেয়ে আছে। আমি চাইছি তার পুরো স্মৃ*তি মুছে দিতে।
__ডাক্তারের ঠোঁটে অস্বস্তিকর এক হাসি ফুটে ওঠে। এটা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। কখনও মৃত্যুও হতে পারে।
___নিকোর উত্তর ঠাণ্ডা, মৃত্যুর ভয় আমাদের নেই। কাজটা কত দিনে করতে পারবে?
ডাক্তার বলে,আমি আজই রওনা হবো। আমাকে নিতে তোমাদের প্রাইভেট জেট পাঠাও। তোমাদের দেশে পৌঁছাতে ১৪ ঘণ্টা লাগবে।
___নিকো মাথা নাড়ে। তারপর লাইন কেটে দেয়।
নিকো সঙ্গে সঙ্গে ভীরের এয়ারস্ট্রিপে খবর পাঠায়।
একটি কালো B*ombardier Global 6000 জেট রাতেই তোলা হয় রানওয়ে জুড়ে। ভেতরে বিশেষ মেডিক্যাল স্যুইট, নিয়ন আলো, অ*স্ত্রধারী ৬ জন ব্ল্যাক-অপ্স গার্ড।
পাইলটকে কোড দেওয়া হয়, নিকো GPS কোঅর্ডিনেট পাঠায় রাশিয়ার একটি পরিত্যক্ত মি*লিটারি স্ট্রিপ। সেখানে ড. কাস্তেলান গোপনে আছেন।
জেট রাত ৩:৪৫-এ উড়ে যায়। নিকো নিজে যায় না কারণ তাকে প্রাসাদেই থাকতে হবে।
১৪ ঘণ্টা পর, বেলা নাগাদ, জেট আবার আলভারেজ স্টেট এর আকাশে ভেসে ওঠে।
___জেট নামতেই দু’পাশে দাঁড়ানো গার্ডরা মাথা নত করে। কালো কোট পরা, ধাতব সুটকেস হাতে ড. কাস্তেলান নামেন।
তার চোখ দুটো নির্লিপ্ত, মানুষের আবেগ তাকে ছুঁতে পারে না।

___নিকো তাকে রিসিভ করে। সব কিছু রেডি।
ডাক্তার শুধু মাথা নাড়ে। রোগীকে দেখতে চাই?
__পরে আগে ভীরের সাথে কথা বলতে হবে।
বলে নিকো ডাক্তারকে নিয়ে ভীরের কাছে যায়।
___নিকো ভীরের অফিসের দরজা ঠেলে ঢুকে বলে, ডাক্তার এসেছে।
ভীর যে মুহূর্তে খবরটি শোনে তার চোখের রক্তিমতা একটু নড়ে ওঠে রাগের জায়গায় আসে উদ্বিগ্ন ভীতি।
সে উঠে দাঁড়ায়। তাকে আন।
____ ড. কাস্তেলান ভীরের সামনে দাঁড়ায়, চোখ বুলিয়ে দেখে পুরো পরিবেশ গার্ডদের ঘন সারি, স্টিল দরজা, সিকিউরিটি লকড সিস্টেম।
___ভীর জিজ্ঞেস করে এটাকি পার্মানেন্ট নাকি ক্ষণস্থায়ী।
___ডাক্তার বলে এটা পার্মানেন্টলি করা সম্ভব না , মেডিসিন লাইন সেকশনের কারণে ক্ষণিকের জন্য এটা সম্ভব, ওষুধের প্রভাব শরীরের মস্তিষ্কের ৩/৪ মাসের মতো থাকবে। এরপর আবার ধীরে ধীরে পুরনো সব স্মৃতি চলে আসবে।
___ডাক্তারের কথায় ভীরের কপালে তীক্ষ্ম ভাজ পড়ে। তাহলে ৩/৪ মাস পর সে যদি আবার এরকম অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে তখন কি করব। এটা করানোর একমাত্র কারণ আমি চাইনা যাতে সে নিজের কোন ক্ষতি করুক।

___ডাক্তার বলে,
না আপনি চাইলে ওষুধের প্রভাব শেষ হওয়ার আগে আবার ইনজেকশন দিয়ে দিবেন তাহলে আবার সেইম ইফেক্ট হবে। যতদিন পর্যন্ত আপনি মেডিসিন দিয়ে যাবেন ততদিন পর্যন্ত সে এভাবেই থাকবে। কিন্তু ৩/৪ মাস পর যদি কোন কারণে আপনি তাকে মেডিসিন না দেন তাহলে আবার আস্তে আস্তে তার পুরনো স্মৃতি চলে আসবে। তখন উনি আবার স্বাভাবিক হয়ে যাবেন।আগের সবকিছু তার মনে পড়ে যাবে।
___ভীর কিছু বলে না, সে কেনো জানি সাহস পাচ্ছেনা।
___ডাক্তার ভীরকে জিজ্ঞেস করে,
রোগীর বয়স?
___ভীর ঠান্ডা গলায় বলে,
১৮।
ডাক্তার ভ্রু তোলে। এটা ঝুঁকিপূর্ণ বয়স। মস্তিষ্ক পরিবর্তন এ প্রবল প্রতিরোধ থাকবে, মনের প্রতিরোধ খুব বেশি থাকবে।
ভীর দাঁত চেপে বলে,

_কত লাগবে লাগবে?
__ডাক্তারের মুখে হাসি ফুটে ওঠে, এবার সরাসরি তাকায় সে চোখে আর্থিক নেকড়ের আলো।
এই কাজের জন্য ৫০ মিলিয়ন ডলার লাগবে। অগ্রিম ৩০ মিলিয়ন। বাকিটা কাজ শেষ হওয়ার পর।
নিকোও স্তব্ধ হয়ে যায়। ডাক্তারের ডিমান্ড শুনে।
কিন্তু ভীরের একটুও দ্বিধা নেই।
___পেমেন্ট রেডি। কাজ শুরু করো।
ডাক্তার হাত তুলে বলে, অপেক্ষা করুন। প্রক্রিয়া এক দিনে হয় না।
ড. কাস্তেলান ভীরকে সব কিছু বলে,
প্রথমে মস্তিষ্ক স্ক্যান করতে হবে। নি*উরো-ইমেজিং, স্নায়বিক চাপের ম্যাপিং। তারপর সিলেক্টিভ মেমরি অ্যানেস্থেশিয়া। মুখ্য স্মৃতি ফোল্ডার *ব্লক করতে হবে। সব শেষে নি*উরাল রি*রাইট থেরাপি। এতে ওর অতীতের বেশিরভাগ ছবি অদৃশ্য হয়ে যাবে। _এটা করতে ৭–১০ দিন লাগবে। কয়েকটা সেশন করতে হবে। প্রতিটি সেশনে ওর শরীর ঝুঁকিতে থাকবে। মাঝে মাঝে কার্ডিয়াক স্ট্রেসও হতে পারে।
___ভীরের গলা ভারী হয়ে আসে। ওকে আমি রিস্ক নেবো। কিন্তু ওর কোন ক্ষতি হলে।
___ডাক্তার ধীরে বলে,
তাহলে আমি বাঁ*চব না। বুঝেছি।
ভীর ডিয়েগোকে বলে,
সব রেডি করো। ডাক্তারের যেটা লাগবে সব দাও।
ইশায়ার কোন ক্ষতি যেন না হয়।
ভীর আবারো ডাক্তারকে সাবধান করে।

_____আলভারেয স্টেটের আন্ডারগ্রাউন্ড মেডিক্যাল ল্যাব পুরোপুরি কালো কাচে ঢাকা, ভেতরে হালকা নীল আলো, যেটা দেখলে মনে হয় মৃত্যুর নীরবতা ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে।
ইশায়াকে স্টিলের অপারেশন বেডে শুইয়ে রাখা হয়েছে।
দুই পাশে চারজন নারী গার্ডমুখে উদ্বিগ্নতা, চোখে ভয়।
ড. কাস্তেলান তার মেটাল কেস খুললেন।
ভেতরে সারি সারি রুপালি সিরিঞ্জ, মাইক্রো-নিউরাল কেবল, নীল ও লাল ভায়ালসবকিছু এত নিখুঁতভাবে সাজানো যে মনে হয় এগুলো দিয়ে মানুষের স্মৃ*তি নয়, অস্তিত্ব পাল্টে ফেলা হয়।
ভীর সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
তার মুখ শক্ত, চোখ লাল, কিন্তু ভেতরের ভয় বুক ভেঙে বেরিয়ে আসার মতো।
___ডা. ভীরকে বলে,
এই ধাপে ভায়টাল চেক লাগবে। আপনার অনুমতি?
ভীর ঠাণ্ডা, কিন্তু তীক্ষ্ম স্বরে বলে,
__Only female doctors. No man touches her.
ড. কাস্তেলান মাথা নেড়ে সম্মতি দেয়।
সে সঙ্গে এনেছে তার দুইজন মহিলা নিউরোলজিস্ট:
ডা.লিয়ানা,ডা.সফিয়া
Neuro-Pharmacology Expert

___ভীর রুমের কোণে দাঁড়িয়ে, এক সেকেন্ডের জন্যও তার চোখ ইশায়া থেকে সরায় না।
ড. লিয়ানা ধীরে বলে,
আমরা প্রথমে ব্রেইন ওয়েভ ম্যাপিং করবো। এতে রোগীর কোন ব্যথা হবে না।
ইশায়াকে স্লো অ্যানেস্থেশিয়া দেওয়া হয়, শুধু গভীর ঘুম সচেতনতা নেই, ব্যথা নেই।
ভীর রুমে থাকলেও তাকে কিছুটা দূরে দাঁড়াতে হয়।
মহিলা ডাক্তাররা ইশায়ার মাথায় স্মার্ট-ইলেকট্রোড ক্যাপ লাগায়।
মেশিন চলতেই ইশায়ার মাথার চারপাশে নরম আভার মতো আলো ছড়িয়ে পড়ে।
ভীর দাঁড়াতে না পেরে সামনে এগিয়ে আসে,তার বুক কাঁপছে,এই ভয়ে যদি কিছু হয়ে যায়।
__ড. কাস্তেলান হাত তুলে থামায়,
পেছনে যান।
___ভীর রক্তলাল চোখে তাকায় তার দিকে।
___মহিলা ডাক্তাররা ইনজেকশন দেয়,
ইশায়ার শ্বাস কখনো দ্রুত হয়, কখনো ধীরে।হৃদস্পন্দন বাড়লে কার্ডিয়াক অ্যালার্ম বেজে ওঠে।
___ভীর কয়েকবার ডাক্তারদের দিকে ছুটে গিয়েছে ইশায়ার অবস্থা দেখে।
সে বারবার বলে,
হালকা করে দাও! ওকে ব্যথা দিও না!
ড. কাস্তেলান ঠাণ্ডাভাবে জবাব দেয়,
ব্যথা নেই। শুধু স্নায়ুর প্রতিরোধ। সময় লাগবে।

___ইশায়াকে গ্লাস-চেম্বারের মতো একটি সাইলেন্ট রুমে রাখা হয়।এখানে কোন শব্দ নেই, আলো নেই শুধু নরম, উষ্ণ নীল আলোর ছটা।
ওষুধ ধীরে ধীরে রক্তে ঢুকতেই ইশায়ার আঙুল কেঁপে ওঠে।শ্বাস দ্রুত হয়ে যায়।মেশিনের গতি বাড়ে।
ইশায়া হঠাৎ বুক বাঁধা ব্যথায় কেঁপে ওঠে।
ইশায়ার ব্যাথা সহ্য হচ্ছে না ভীরের, সেদাঁতে দাঁত চেপে বলে, এটা কতক্ষণ চলবে?
__ড. কাস্তেলান শান্ত, প্রথম সেশন ৮ মিনিট।সবচেয়ে কষ্টের অংশ প্রথম ৩ মিনিট।
ভীরের শিরা ফুলে ওঠে,
__আরও দ্রুত করো।
ডাক্তার ঠাণ্ডা গলায় বলে, দ্রুত করলে সে মারা যাবে।
এই কথায় ভীর হঠাৎ থমকে যায়।তার ঠোঁট শক্ত হয়ে আসে।আর কিছু বলে না সে,তাদেরকে তাদের কাজ করতে দেয়।

সেশন শেষ হওয়ার পর পুরো ল্যাব নিস্তব্ধ। নীল আলো হঠাৎ নিভে যায়, বাতাসে নরম শীতলতা। ইশায়া নিস্তেজ, চোখ বন্ধ, নিঃশ্বাস ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। চারপাশের গার্ডরা এখনও ভয়কে নিজের মধ্যে ধরে রেখেছে।
ড. কাস্তেলান ধীরে ধীরে ইশায়ার কাছে এগিয়ে আসে, হাতে ল্যাপটপ। তিনি ভীরের দিকে তাকান, চোখে কঠোর, নির্লিপ্ত ভাব।
প্রথম সেশন সফল হয়েছে, তিনি বলেন। মেমরি নোডগুলোর প্রাথমিক ব্লক সম্পন্ন হয়েছে। তার অতীতের ১২% স্মৃ*তি পুরোপুরি মুছে গেছে।
ভীর শ্বাস ধরে, চোখে চোখ রেখে। এটা ঠিকই হচ্ছে তো?
ড. কাস্তেলান চোখে হালকা অস্বস্তি দেখিয়ে বলেন, হ্যাঁ। প্রতিটি সেশন সঠিকভাবে হয়েছে। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে প্রতিটি সেশন শারীরিক ও মানসিক চাপের সঙ্গে আসে। কার্ডিয়াক স্ট্রেস হয়েছে, কিছুক্ষণ মাইক্রো-পালস হৃৎপিণ্ডের কার্যক্ষমতায় ত্রুটি আনতে পারে। কিন্তু এখন সব স্বাভাবিক।
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, পরবর্তী সেশনগুলো ধাপে ধাপে করা হবে। প্রতিটি সেশন পরবর্তী স্মৃতির ব্লককে দৃঢ় করবে। শেষ সেশনের পর, তার মস্তিষ্ক সম্পূর্ণরূপে রিসেট হয়ে যাবে সে আর অতীতের পরিচয় মনে রাখবে না। অতীতের ভীতিকর স্মৃতি, ব্যথা, মানসিক চাপ সবই মুছে যাবে। আর ওকে নতুনভাবে ফর্ম করা যাবে।

___ভীর শূন্য চোখে তাকিয়ে থাকে। ভেতরে তোলপাড়, বাইরে কঠোর নিয়ন্ত্রণ।
ড. কাস্তেলান বলেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখন থেকে তাকে শুধু পর্যবেক্ষণ করতে হবে। শরীরে কোনো সাইড এফেক্ট নেই, তবে মনে রাখবেন, চার মাস পর যদি ইনজেকশন বন্ধ করেন, মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে আগের অবস্থায় ফিরে আসতে পারে। তার মানসিক প্রতিরোধ খুব বেশি, তাই নিয়মিত সেশন ছাড়া তার আচরণ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হবে।
তিনি ভীরকে সতর্কভাবে জানান, এটা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ, কিন্তু আপনি সঠিক মানুষের কাছে এসেছেন।
ড. কাস্তেলান শেষবার ভীরের চোখে চোখ রাখেন, মনে রাখবেন এটা সম্পূর্ণ কন্ট্রোলেবল, কিন্তু কখনোও দায়িত্বহীন হবেন না।
ভীর কিছু বলেন না।
ড. কাস্তেলান ধীরে ধীরে কেস প্যাক করে। পরবর্তী সেশন ঠিক সময়ে হবে।
এভাবে একে একে সেশন গুলো শেষ হয়।
১০ দিনের কঠোর সেশন শেষে, শেষ সেশনও সম্পন্ন হয়েছে। ইশায়ার শরীর ধীরে ধীরে স্থির, নিস্তেজ, চোখ বন্ধ। সব নার্স তার চারপাশে দাঁড়িয়ে এখন আর আতঙ্ক নয়, বরং অদ্ভুত প্রশান্তি। নীল আলো নিভে গেছে, ল্যাবে নিস্তব্ধতা নেমে এসেছে।

___ভীর এখানেই ছিলো,
ড. কাস্তেলান ধীরে ভীরের দিকে এগিয়ে আসে, চোখ কঠোর, মুখে একরকম নির্লিপ্ততা। তিনি ল্যাপটপ খুলে দেখান সমস্ত ডেটা।
সব সেশন সফলভাবে শেষ হয়েছে। মেমরি ব্লক সম্পূর্ণ। তার অতীতের পরিচয়, স্মৃতি, ব্যথা সবই সম্পূর্ণরূপে মুছে গেছে।
ভীর চোখ বড় করে তাকায়, কপালে ভাজ।
অর্থাৎ এখন সে ?
ড. কাস্তেলান মাথা নাড়ে। এখন শুধু ওকে যা দেখানো হবে যা চিনানো হবে সে সেটাই দেখবে সেটাই চিনবে আর সেটাই জানবে। অতীতের কোনো স্মৃতি নেই। আর কোনো ব্যথা, কোনো মানসিক চাপ নেই সব শূন্য।
তিনি ভীরকে সতর্ক করেন, সাফল্য সত্ত্বেও কিছু বিষয় মনে রাখতে হবে। চার মাস পর যদি নতুন ইনজেকশন না দেন, মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে পূর্বের কিছু আচরণ পুনরুদ্ধার করতে পারে। কিন্তু যতদিন ইনজেকশন চালাবেন, সে এভাবেই থাকবে নিরাপদ, নিয়ন্ত্রিত।
ভীর কিছু বলেনা। সে কেবল ইশায়ার দিকে তাকিয়ে আছে।
ড. কাস্তেলান অবশেষে বলে, এবার আপনি ওনাকে নতুনভাবে গঠন করতে পারবেন। ওনার মস্তিষ্কে পুরনো কোনো দাগ নেই। কোনো ক্ষতি হয়নি, প্রতিটি সেশন নিরাপদ ছিল কার্ডিয়াক স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণে ছিল।
ভীর ডাক্তার কে জিজ্ঞেস করে ওর জ্ঞান ফিরবে কখন,

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৬১

___৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ফিরে আসবে। তার আগেও আসতে পারে।
ড. কাস্তেলান আবার বলে, এখন শুধু আপনার দায়িত্ব ওকে নিরাপদে রাখা। আর কোনো অন্য কিছু নয়। সাফল্য সম্পূর্ণ, এবং আপনার নিয়ন্ত্রণেই সব।
ভীর নীরবতার মাঝে স্থির হয়ে বসে থাকে। ভিতরে অগাধ আবেগ, বাইরে অপরাজেয় শক্তি। ইশায়ার মন মস্তিষ্ক সব এখন তার হৃদয় সবসময় তার অধীনে।

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৬৩