সে খলনায়ক পর্ব ৩৬
ফারহানা সানিয়াত
ভ্র যুগোল কুঁচকে প্রানপ্রিয়া বিস্ময়ের ঘোর তাকিয়ে আছে। যে ব্যক্তির কণ্ঠস্বর তার ভেতর অস্বস্তি বয়ে যেত। যার প্রতিটা কথায় তার অপমানে দৃষ্টি নত হয়ে থাকতো আজ তার অমায়িক হাসির সাথে অত্যন্ত ভালো ব্যবহার!!!
__ তোমার বসা উচিত। দামিয়ান তার পাশের সোফায় ইশারা করে বলল।
প্রানপ্রিয়া কয়েকবার চোখের পলক ফেলে,
এমনটা কি অবিশ্বাস্য নয় !!
দামিয়ানের ঠোঁটে কোণে মৃদু হাসি। এক অদ্ভুত দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে।
__ মিস প্রাণপ্রিয়া!! সে ডেকে ওঠে।
প্রানপ্রিয়ার ঘোর ভেঙ্গে থমথমে মুখ নিয়ে বলে,
__ ধ, ধন্যবাদ আমি এখা,,, বাকি কথা বলার মাঝে দামিয়ানের ফোন কর্কশ শব্দে বেজে ওঠে।
থেমে যায় প্রানপ্রিয়া।
দামিয়ান ঘাড় ঘুরিয়ে ফোনের দিকে দৃষ্টি ফেলে। স্ক্রিনে ক্যাথরিন নাম জ্বলজ্বল করছে। কপালে ভাঁজ পড়ে তার হাত বাড়িয়ে ফোন রিসিভ করে কানে ধরে।
__ yes mom
প্রানপ্রিয়া চোখ নামিয়ে সাবধানে শ্বাস ফেলে। হঠাৎ এই পাগলের ব্যবহার তার মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে। নিজ মনে ভেবে প্রানপ্রিয়া তার পাশে তাকায়,
__ শখ!!!
চোখ বড় বড় হয়ে যায় প্রানপ্রিয়া পাশে শখ নেই এই মাত্র ই না ছিল। সে দ্রুত ঘাড় ঘুরিয়ে আশেপাশে দেখা শুরু করে তবে সদর দরজার দিকে চোখ যেতে ই তার মুখ ।
দরজার কাছে দাঁড়িয়ে দাঁত বের করে হাসছে শখ।
__ আমি বাহিরে আছি তুমি কথা শেষ করে আসো, ছোট্ট শখ ফিসফিস কন্ঠে হাতের ইশারায় বুঝিয়ে হেলে দুলে চলে যায়।
প্রানপ্রিয়া নাক মুখ কুঁচকে ঠোঁট কামড়ে ধরে। কোন আশায় সে এই মেয়েকে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিল!!
দামিয়ান রাশিয়ান ভাষায় ক্যাথরিনের সাথে কথা বলতে বলতে বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়। প্রানপ্রিয়া তার দিকে ফিরে।
__ অপেক্ষা করো।
সে কান থেকে ফোন খানিকটা দূরে সরিয়ে বলে আবারো ফোনে ব্যস্ত হয়ে তার বেডরুমের দিকে চলে যায়।
প্রানপ্রিয়া তার যাওয়ার দিকে বিরক্ত চোখে তাকিয়ে বিড়বিড় করে ওঠে। নিশ্চিত তাকে অপমান করে মনের মত বিনোদন নেওয়ার পরিকল্পনা সাজাচ্ছে নাহলে হঠাৎ ব্যবহারের পরিবর্তন! প্রানপ্রিয়া চোখ সরিয়ে ঝিলের দিকে তাকায় অতঃপর পাশে সোনালী রঙের পাখির খাঁচা দিকে যেখানে হালকা গোলাপি রঙের বাজিগার পাখি তার দিকে তাকিয়ে ডানা ঝাপটাচ্ছে আর কিচিরমিচির শব্দ করছে।
__ কত বড় নিষ্ঠুর লোক পাখি হত্যা করে তো করে সাথে আবার বন্দি করেও রেখেছে।
নরম দৃষ্টিতে প্রানপ্রিয়া পাখিটি দিকে তাকিয়ে থাকে ।
কিছু সময় পর,
দামিয়ান হাতে চেক বুক আর পেন নিয়ে বেডরুম থেকে বের হয়ে তার আগের জায়গায় এসে পায়ের উপর পা তুলে বসে।
তার থেকে কয়েক হাত দূরে প্রানপ্রিয়া একই ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে।
দামিয়ান এক নজর প্রানপ্রিয়াকে দেখে হাতের চেক বুকে সিগনেচার করতে করতে বলে ,,
__ তোমার ভালো রেজাল্টের জন্য আমাদের তরফ থেকে টাকা দেওয়া হচ্ছ সাথে ভার্সিটির ভর্তি সবকিছু খরচ আমরা বহন করব।
কথাটা বলতে বলতে দামিয়ান চেকবুকের পৃষ্টা ছিড়ে প্রানপ্রিয়ার দিকে ধরে।
প্রানপ্রিয়া তার হাতের দিকে তাকায়, কানের পিছে চুল গুঁজে নিজেকে স্বাভাবিক রেখে ধীর গতিতে এগিয়ে চেক নেওয়ার জন্য হাত বাড়াতেই। দামিয়ান ছেড়ে দেয় এমন একটা ভাব যেন তার হাত থেকে পড়ে গেছে।
প্রানপ্রিয়া দাঁত চেপে নিচু হয়ে দামিয়ানের পায়ের কাছ থেকে চেক টা হাত নেয়।
দামিয়ান অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বাঁকা হাসে।
প্রানপ্রিয়া ওঠে দাঁড়ায় তার মধ্যে কি পরিবর্তন এটা নিয়ে ভাবার থেকে জলদি এখান থেকে যাওয়া প্রয়োজন নাহলে আসল রূপ বের হতে কতক্ষণ।
__ আপনাদের অনেক ধন্যবাদ।
প্রানপ্রিয়া অতি কষ্টে ঠোঁটে হাসির রেখা টেনে বলে এরপর ঘুরে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই দামিয়ান বলে ওঠে
,__ তুমি আরো কিছু চাইতে পারো।
প্রানপ্রিয়ার পা থেমে যায়। দামিয়ান বসা থেকে উঠে
এক হাত দিয়ে কপালে পড়ে থাকা চুলগুলো পিছের দিকে ঠেলে দেয়।
__ ধন্যবাদ আমার আর কিছু চাই না। প্রানপ্রিয়া হালকা ঘাড় ঘুরিয়ে বলে।
দামিয়ান বুকে হাত গুজে, ঠিক আছে তবে এখন থেকে আশ্রমের কিছু প্রয়োজন হলে আমাকে সরাসরি জানাবে।
প্রানপ্রিয়া এবার ভ্র কুঁচকে তার দিকে পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়ায়,
দামিয়ান তার দিকে এগোতে এগোতে বলে,
__ অবশ্যই একজন মালিকের সরাসরি খবর রাখা উচিত তাই না।
প্রানপ্রিয়ার দৃষ্টি এদিক ওদিক ওদিক,
__ আমি মিস্টার রহমান কে জানাবো, কিছুটা মিনমিন কন্ঠ। কাছে আসা ব্যক্তির থেকে অপমানিত হাওয়া ছাড়া স্বাভাবিক কথা তার ভীষণ অদ্ভুত লাগছে,
দামিয়ান তার থেকে এক হাত দূরত্ব রেখে দাঁড়ায়।
তৎক্ষণাৎ খাঁচার ভিতর বাজিগার পাখির কর্কষ কন্ঠে কিচিরমিচির শুরু করতেই দুজন এক সাথে পাশে তাকায়।
পাখিটি বাহিরের দিকে তাকিয়ে উড়ার জন্য ছটফট করছে,
__ খাঁচায় নয় খোলা আকাশে পাখিকে মানায় ।
আনমনে প্রানপ্রিয়া কথাটা বলে মুহূর্তে মুখ চেপে ধরে। ইসস সে কথা বাড়াতে চায় নি,
দামিয়ান পাখিটির দিকে দৃষ্টি রেখে কিঞ্চিৎ শব্দ করে হাসে ।
__ প্রকৃতির সৌন্দর্য আটকে রেখে কাছ থেকে দেখা ভুল না।
প্রানপ্রিয়া মুখ চেপে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে অতঃপর,
__ অবশ্যই ভুল,
__ কেনো? দামিয়ান প্রশ্ন করে ।
__ সব কিছুর সৌন্দর্য কাছ থেকে দেখা যায় না কিছু সৌন্দর্য জায়গামতো সুন্দর দেখায়।
__ আর তোমার সৌন্দর্য? দামিয়ান বাঁকা হাসে
তার এই প্রশ্নে প্রানপ্রিয়া কপাল কুঁচকে ফেলে।
__ মানে?
দামিয়ানের দৃষ্টি পাখিটির দিকে ছিল সে খাঁচার দিকে এগিয়ে যায়,
প্রানপ্রিয়া কপাল দ্বিগুণ কুঁচকে ফেলে।
দামিয়ান কাছে গিয়ে খাঁচা খুলে ছোট্ট পাখিটিকে বের করে। ,
__ ঠিক বলেছ সব কিছুর সৌন্দর্য কাছ থেকে দেখা যায় না বলেই দামিয়ান পাখিটিকে মুক্ত করে দেয় ।
প্রানপ্রিয়ার বিস্ময়ে চোখ বড় বড় হয়ে যায় এটা কি সেই নিষ্ঠুর নির্দয় পাগল লোক!!
দামিয়ান ঠোঁটের হাসি চওড়া করে প্রানপ্রিয়ার দিকে তাকায়।
যে পাখিকে আকর্ষণের জন্য রেখেছিল সময়মতো হত্যা করবে বলে আজ প্রাণপ্রিয়ার কথায় ছেড়ে দিল!!!
প্রানপ্রিয়া পাখিটির উড়ার দিক থেকে চোখ সরিয়ে দামিয়ানের দিকে দৃষ্টি ফেলতেই দুজনের চোখে চোখ মিলে। প্রানপ্রিয়া তার পড়নের জামা খিচে ধরে এক পা এক পা করে পিছে যেতে যেতে ছুটে গেস্ট হাউস থেকে বের হয়ে যায়।
সে যেতেই দামিয়ানের ঠোঁট থেকে ও হাসি আস্তে আস্তে সরে যায়।
প্রানপ্রিয়া ছুটে বের হয়ে গার্ডেনে বসা শখকে নিয়ে দ্রুত গতিতে হাঁটা ধরে। এটা কি অদ্ভুত না হঠাৎ লোকটার ব্যবহারের পরিবর্তন নাকি এর পিছে তার কোনো পরিকল্পনা আছে???
পরদিন,
প্রতিদিনের মত প্রানপ্রিয়া আজও স্কুলে দিনের অর্ধেক সময় কাটিয়ে আশ্রমের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে তবে কিছু পথ হাটার মাঝে পাশ থেকে আকম্মিক কারো সালাম শুনে পাশে তাকাতেই,
__ ওয়ালাইকুম আসসালাম ম্যাডাম আপনি,
স্কুলে পঞ্চম শ্রেণীর ইংলিশ টিচার সুমা ।
প্রানপ্রিয়া ঠোঁটে হালকা হাসির রেখা টানে,
__ এই পথ দিয়ে আজ বাসায় যাচ্ছিলাম তোমার বাসাও কি এই পথে নাকি। সুমা জিজ্ঞেস করে।
প্রানপ্রিয়া মাথা নাড়ায় হ্যাঁ কিছু টা সামনেই।
__ তাহলে তো ভালো তোমার সমস্যা না থাকলে এক সাথে কথা বলতে বলতে যাওয়া যাক।
প্রাণপ্রিয় কিছুটা বিবৃত হয়ে হাসে,, সমস্যা কিসের অবশ্যই চলুন এক সাথে যাওয়া যাক।
নিরিবিলি গাছ গাছালিতে ঘেরা রাস্তায় গাড়ি চলাচল অনেকটা কম ।শহর থেকে ভিতরের দিকে বলে পূর্বাচলের এই দিকটা গ্রাম গ্রাম ভাব সবুজে ঘেরা মাঝে বাড়ি ঘর । তবে আবরার ম্যানশন থেকে অনেকটা জায়গা জুড়ে আবরারদের জমি তারা এভাবেই ফেলে রেখেছে বলে সবুজ প্রকৃতি পূর্বাঞ্চলের এ দিকটা একদম অন্যরকম।
দামিয়ান গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়ায়, হঠাৎ রাস্তার মাঝে তার গাড়ি থেমে গেছে। ড্রাইভার আরেক গাড়ি পাঠানোর জন্য অন্য ড্রাইভারকে ফোন দিতে চাইলে দামিমান না বলে ওঠে। এখান থেকে আবরার ম্যানসনে পোছাতে পাঁচ মিনিটের রাস্তা তাই সে হেঁটে যাবে।
ড্রাইভার ও আর কিছু বলে না।
সে সোজা ধীর গতিতে হাঁটা শুরু করে। রাস্তা দুপাশের গাছের ছায়ার জন্য সূর্যের তাপ তার গায়ে লাগছে না । হেমন্তের মৃদু শীতল হাওয়ায় তার কপালে পড়ে থাকা চুলগুলো কিছুটা উড়ছে। দায়িয়ান আশেপাশের চোখ বুলায়। মুখে কিছুটা ক্লান্ত ভাব ফ্যাক্টরি থেকে এসেছে। বলে।
কিছু পথ হাটার পর সে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে গলার টাই ডিলে করে শার্টের দুটো মত খুলে ক্লান্তির শ্বাস ফেলে দামিয়ান। এখানকার আবহাওয়া তাকে এবার কাবু করেছে।
প্রানপ্রিয়া আর টিচার সুমা কথা বলতে বলতে থেমে যায় এবার দুজনের পথ আলাদা।
__ আবার কাল দেখা হবে ম্যাডাম। প্রানপ্রিয়ার ঠোঁটের কোণে হাসি রেখে বলে ওঠে।
__ অবশ্যই,
দুজন দুজনের নিজ পথের দিকে হাটা ধরে,
অতঃপর কিছুটা পথ হেঁটে চলার মাঝে হঠাৎ প্রানপ্রিয়ার পায়ের গতি আস্তে আস্তে কমে যেতে থাকে। রাস্তার পাশে দাঁড়ানো ধূসর রঙের কোট প্যান্ট পরা দামিয়ান একটা গাছে হাত ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
এই লোক এখানে? মনে মনে বলে প্রানপ্রিয়া ঠোঁট কামড়ে ধরে,, মনে পড়ে কালকের স্বাভাবিক অবিশ্বাস্য তার ব্যবহার । প্রানপ্রিয়া মাথা ঝাঁকায় হঠাৎ করে লোকটি মস্তিষ্কে একদিনের কেমন বসে গেছে যেখানে কিছুদিন কিছুমাস আগের জঘন্য অপমান আর বাজে স্পর্শ তাকে করেছিল।
প্রানপ্রিয়ার চোখ মুখ শক্ত করে চুপচাপ না দেখার ভান করে হাঁটা ধরে।যত যাই হোক এই লোক থেকে দূরে থাকাই ভালো,,
দামিয়ানের দৃষ্টি রাস্তার পাশে খালের দিকে ছিল যেখানে স্বচ্ছ পানি সূর্যের আলোয় জ্বলজ্বল করছে। সে রাস্তার দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় প্রানপ্রিয়া ও হাঁটার মাঝে কৌতুহল দৃষ্টিতে আড়চোখে দেখে সাথে সাথে দুজনের চোখাচোখি ।
প্রানপ্রিয়া থেমে যায় মনে মনে নিজেকে দুটো গালি দিয়ে ওঠে কেনো সে কৌতূহল হয়ে আড়চোখে দেখলো,,
__ কেমন আছেন ছোট সাহেব? ভদ্রতার সাথে ঠোঁটে হালকা হাসি টেনে জিজ্ঞেস করে প্রানপ্রিয়া।
দামিয়ান শান্ত দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে থেকে গাছে ঠেকিয়ে রাখা হাতটা সরিয়ে নেয়। অপ্রত্যাশিতভাবে প্রাণপ্রিয়া নামের আশ্রমের মেয়েটির সাথে তার আবারো দেখা।
দামিয়ান হালকা মাথা দুলায়, ভালো,
প্রানপ্রিয়া দৃষ্টি নত করে,
__ তোমার কাছে পানি হবে ? তার আকম্মিক প্রশ্নে
প্রানপ্রিয়া বিস্ময় দৃষ্টিতে তার দিকে চোখ তুলে তাকায়,
দামিয়ান কিছু টা এগিয়ে আসে,
__ হবে? তার ক্লান্তি মাখা কন্ঠে,
প্রানপ্রিয়া কয়েকবার চোখের পলক ফেলে। লোকটি তার মত মেয়ের কাছ থেকে পানি চাইছে!!
দামিয়ান গভীর শ্বাস ফেলে,
__ ঠিক আছে তোমার কাছে হয়তো নেই,
প্রানপ্রিয়ার মুখে বিব্রত ভাব চলে আসে। তার কাছে আছে একজন মানুষ পানি চলে অবশ্যই তাকে দিতে হয় সে যেই হোক।
প্রানপ্রিয়া দ্রুততার সাথে ব্যাগ থেকে পানির বোতল বের করে দামিয়ানে দিকে বাড়িয়ে দেয়।
__ দুঃখিত আমার কাছে ছিল,
দামিয়ান স্বাভাবিকভাবে হাত বাড়িয়ে নেয়।
প্রানপ্রিয়া কানের পিছে চুল গুজে আপাতত যা হচ্ছে সব অদ্ভুত।
দামিয়ান ডগডগ করে পানি খেয়ে স্বস্থির শ্বাস ফেলে,
__ ধন্যবাদ তোমাকে,
সে তার বোতল আবার ফিরিয়ে দেয়।
প্রানপ্রিয়া বিব্রত মুখে বোতল হাতে নিয়ে বলে, আমি এখন যাই,
দামিয়ান মাথা নাড়ায়, হুম
প্রানপ্রিয়া জড়োসড়ো হয়ে হাঁটা ধরে
সে জানে না আপাতত কি হচ্ছে সে শুধু জানে লোকটি পাগল।
__ তুমি কিছু বলতে চাও?
প্রানপ্রিয়ার থেমে ঘুরে তাকায়, এটা ঠিক তার কৌতূহল মন জানার ইচ্ছা ছিল হঠাৎ তার এরূপ ব্যবহারের কারণ কি কিন্তু ,,,
__ আমার কিছু বলতে চাওয়ার মত আপনার সাথে তেমন সম্পর্ক নেই,
দামিয়ান মৃদু হাসে। প্রাণপ্রিয়া অবাক হয়,
__ সম্পর্ক! তুমি কি সম্পর্ক চাইছো?
__ আমার জানা মতে আমি এমন কেউ না,
__ তাহলে,
__ আপনি এমন একজন ব্যক্তি যে আমাদের মালিকের ছেলে যার সাথে সারা আপুর বিয়ে ঠিক তার সাথে সম্পর্কের কথা আমি ভাবি না।
দামিয়ান মাথা নাড়িয়ে দু কদম প্রানপ্রিয়ার দিকে এগোয়। প্রানপ্রিয়া কিছুটা পিছে চলে যায় এখন অবশ্যই তাকে অপমান করবে তবে দামিয়ান তাকে ভুল প্রমাণ করে দিয়ে,
তার চুল গুলো কাঠি দিয়ে পেঁচিয়ে রাখা সে কাঠি আচমকা হাত বাড়িয়ে খুলে ফেলে,
প্রানপ্রিয়া হতভম্ব, দামিয়ান তার দিকে তাকিয়ে।
__ আজকাল তোমার সব ধরনের প্রতিক্রিয়া কথাবার্তা আমার কাছে ভালো লাগে ।
প্রানপ্রিয়া চোখ বড় বড় করে ছিটকে দূরে সরে বলে ওঠে,,
__ কি বলছেন আপনি,
দামিয়ান তার খোঁপার কাঠি হাতে নিয়ে পিছে দুহাত বেধে দাঁড়ায়।
__ তোমাকে খোলা চুলে মানায়।
প্রানপ্রিয়া হতবাক না চাইতেও তার গাল দুটো লাল হয়ে যাচ্ছে।
__ দয়া করে এসব কথা আর ব্যবহার বন্ধ করুন।
দামিয়ান হাসে,
প্রানপ্রিয়া আর দাঁড়ায় না ঘুরে সোজা পায়ের গতি পারে হাঁটা শুরু করে, এতে তার খোলা চুল গুলো হাওয়ায় দোল খাচ্ছে।
সে খলনায়ক পর্ব ৩৫
দামিয়ান তার জায়গায় দাঁড়িয়ে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বাঁকা হাসে।
এখানে কথা হচ্ছে কেনো সে হঠাৎ তার ব্যবহার প্রানপ্রিয়া প্রতি পরিবর্তন?
দামিয়ান ফিচেল হাসে তার পিছের থেকে হাত সামনে এনে প্রানপ্রিয়ার খোপার কাঠির দিকে তাকায় যেটা সে নিজের কাছে রেখেছে,
আমি জানি তোমাকে পেতে হলে প্রথম তোমার মস্তিষ্কে আর মনে প্রবেশ করতে হবে এরপর ভালোভাবে হোক বা খারাপ ভাবে তোমার উপর আমার অধিকার হবে।
