সে আমার বন্দিনী পর্ব ৯০
তানিয়া হুসাইন
____আলো এসে পড়ে বিছানার উপর ছড়িয়ে থাকা এক দেহে।অতিরিক্ত ড্রিংক করার পর কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছে সে নিজের-ই খেয়াল নেই। উন্মুক্ত শরীর, বুক পর্যন্ত কম্ফোটারে মোড়া, অগোছালো অথচ এক ধরনের বুনো সৌন্দর্য ছড়িয়ে আছে তার ভঙ্গিমায়।
ঘুম ভাঙতেই চোখ-মুখ কুঁচকে ওঠে তার। মাথাটা ভারী পাথরের মতো চাপ দিচ্ছে। এক হাত তুলে কপাল চেপে ধরে ধীরে ধীরে উঠে বসে ভীর। মাথার ভেতর ধকধক করছে,
কিছুক্ষণ নিশ্চুপ বসে থাকে। শ্বাসগুলো ভারী, কিন্তু নিজেকে সামলায়। তারপর অনিচ্ছা সত্ত্বেও উঠে ওয়াশরুমে যায়। ঠান্ডা পানির ছোঁয়ায় একটু হলেও জ্ঞান ফেরে, চোখে ফিরে আসে স্বাভাবিকতা।
ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে আসে সে।
উন্মুক্ত শরীর পেটানো গঠন, উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ ত্বক সব মিলিয়ে একদম আলফা লুক। গভীর চোখ, ঘাড় ছোঁয়া চুল যে কেউ তাকিয়ে থাকতেই বাধ্য।
কিন্তু এই নিখুঁত শরীরেও এক অসম্পূর্ণতা স্পষ্ট ইশায়ার করা সেই ক্ষতটা এখনও জ্বলজ্বল করছে। যেন শুধু চামড়ায় নয়, ভেতরেও কোথাও দাগ কেটে গেছে।
এই সময় দরজায় হালকা নক করে একজন ঢোকে। হাতে ব্ল্যাক কফি। কোনো কথা না বলেই সেটা টেবিলে রেখে চলে যায়।
ভীর কাপটা হাতে নেয়। এক চুমুক দিতেই কপালটা আরও কুঁচকে যায় আজ মাথাটা সত্যিই বেশি ধরেছে।কাল বেশি-ই হয়ে গেছে।
কফির কাপে চুমুক দিতে দিতেই সে চুপচাপ বসে সামনে রাখা সিংগেল সোফায়।
কিন্তু এক অজানা অস্বস্তি বুকের ভেতর ছটফট করছে।
ইশায়াকে দেখেনি কতক্ষণ হয়ে গেছে?কাল এতো কিছুর ঝামেলায় আর ইশায়ার কোন খবর ও নেওয়া হয় নি,ভাবনাটা মাথায় আসতেই ভীর দ্রুত ল্যাপটপ অন করে।
কিন্তু তার চোখে মুখে ইশায়াকে দেখার যে উৎসুকভাব ছিলো মূহুর্তেই সেটা বিলীন হয়ে যায়।
স্ক্রিন অফ দেখে।
কপাল কুঁচকে আসে ভীরের।
সে আরেকটা ল্যাপটপ চালু করে একই অবস্থা।ভীরের রুমের প্রতিটি কোনায় সিসিটিভি এরকম হওয়ার কথা না।ভীর সব কটা চেক করে।
মুহূর্তেই মাথার ভেতর দপ করে আগুন জ্বলে ওঠে তার।
রাগে দাঁত চেপে ফিসফিস করে বলে,
___এবার কিছু উল্টা-পাল্টা করলে একেবারে জানে মেরে ফেলবো তোকে। একেবারে শেষ করে ফেলবো যদি নিজের কিছু করো।আমার বেইবির কিছু হলে আমি ছাড়ব না কাউকে।ভীরের শরীর কাঁপছে।
রাগে।বার বার এই ছেলে মানুষি সহ্য হচ্ছে না তার।
দ্রুত ফোনটা হাতে নেয় ভীর।
স্ক্রিনে তাকাতেই মুখের রং বদলে যায়।
নিকের ১০০+ মিসড কল।হঠাৎ করেই এক অজানা ভয় তাকে গ্রাস করে।এতো গুলো ফোন এসেছে আর সে ঘুমিয়ে ছিলো ওভাবে।
বুকের ভেতরটা অস্বস্তিতে মোচড় দিয়ে ওঠে,এটা ভেবে হয়তো কিছু ঠিক নেই।
ভীর আর দেরি করে না। দ্রুত নিককে কল লাগায়।
ওপাশে নিকের ফোনটা বাজতে দেখে ঠোঁটের কোণে একটা হাসি ফুটে ওঠে।চোখে খেলা করে এক অদ্ভুত ঝিলিক।মনে মনে বলে,
__এখন শুরু হবে গেম, ব্রো।আমাকে তো তুমি চেনো না।এবার দেখো কি হয়।
আসবেনা বলেছিলে না, কি দৌড়ের উপর আসো এখন আমি ও দেখবো।
ইচ্ছে করেই নিক ফোনটা ধরে না সে।ভীরকে আরেকটু ভোগাতে আরও একটু অস্থির করে তুলতে।
নিককে বারবার ফোন করেও কোনো সাড়া না পেয়ে ভীরের গলা শুকিয়ে আসে।
বুকের ভেতরটা ধকধক করছে অজানা এক ভয় নিয়ে। সে রুম জুড়ে পায়চারি করতে থাকে। শরীর ঘামে ভিজে যাচ্ছে অথচ ঠান্ডা লাগছে ভেতরে।
এখন তার মনে হচ্ছে সে ভুল করেছে এত দূরে এসে। যদি ইশায়ার কিছু হয়ে যায়?
যদি আবার ও হারায় ঠিক মায়ের মতো?না না সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব আমি তোমাকে হারাতে পারবো না।
না… না… কিছু হবে না।
নিজেকে জোর করে সামলায় ভীর। দাঁতে দাঁত চেপে আবারও ফোন লাগায় নিককে।
এইবার আর মজা না করে ফোনটা ধরে নিক।
ফোন ধরতেই ভীর গর্জে ওঠে,
___B*loody h*ell, নিক। ফোন ধরছিস না কেনো? কি হয়েছে, আমার রুমের সিসিটিভি অফ কেনো, কি হয়েছে ইশায়ার? ও কোথায়,ঠিক আছে তো কিছু করেছে কি ও? আমি কিন্তু একেকটাকে শেষ করে ফেলবো নিক। একটা বাচ্চা মেয়েকে সামলাতে পারিস না তোরা এতোজন মানুষ মিলে।
ওপাশে নিক কিছুক্ষণ চুপ থেকে গলা নামিয়ে বলে,
__শান্ত হোও ব্রো… ইশায়া কিছু করেনি।
নিকের মুখে এই কথাটা শুনেই যেন ভীরের বুকের উপর থেকে একটা বিশাল পাথর নেমে যায়। শ্বাসটা স্বাভাবিক হয়। সে চোখ বন্ধ করে নিজেকে সামলায়, তারপর নিচু গলায় বলে,
___তাহলে… আমার রুমের সব ক্যামেরা অফ কেনো?
___জানিনা ব্রো ।
কে যেন কন্ট্রোল রুমে গিয়ে সব অফ করে দিয়েছে।
ভীরের কপালে সঙ্গে সঙ্গে ভাঁজ পড়ে। চোখে রাগের ঝিলিক।
___What? এটা কে করবে, কার এত বড় সাহস। কেউ কি প্যালেসে ঢুকেছে? এত সিকিউরিটি থাকতে এটা কী করে হলো, নিক?
চিৎকার করে ওঠে ভীর।
তুই কি মজা করছিস আমার সাথে, এত টাকা দিয়ে কাদের পালছি আমি। সবকটাকে শে*ষ করে ফেল!
তার কণ্ঠ আরও কঠিন হয়ে ওঠে,
___ইশায়া কোথায়? ওকে দে এক্ষুনি।
নিক সিরিয়াস ভাব নিয়ে বলে,
___ও কথা বলতে পারবে না ব্রো।
ভীর থেমে যায়। তার গলার স্বর হঠাৎ বদলে যায়,
___ক…কথা বলতে পারবে না মানে?
নিক এবার ধীরে ধীরে বলে,
___ওর সেন্স নেই ব্রো। হঠাৎ কি হয়েছে মারিয়া এলেনা বললো বমি করতে করতে অজ্ঞান হয়ে গেছে।
এই কথাটা শুনে ভীরের শরীর হিম হয়ে যায়। হাত কাঁপতে থাকে অজান্তেই। ঠোঁট শুকিয়ে আসে। সে কিছু বলতে চায় কিন্তু শব্দ বের হয় না।
নিক বুঝে এবার ঠিক জায়গায় আঘাত লেগেছে,
সে আরও ঠান্ডা গলায় বলে,
___ডাক্তারও কিছু বলতে পারছে না। আন্দাজ করছে, হয়তো ওর খাবারের মধ্যে কিছু ছিল।
ভীর অনেক কষ্টে গলা থেকে শব্দ বের করে বলে,
___এখন কেমন আছে ও, ঠিক হয়ে যাবে তো। ডাক্তার কি বলেছে?
___ডাক্তার এখনো কিছু বলেনি। সব টেস্ট করলে জানা যাবে।
এক সেকেন্ড নীরবতা।তারপর ভীর বলে,
___আমার রুমে যা এক্ষুনি আমি ওকে দেখবো।
নিক আর দেরি করে না। সে ভীরের কথামতো কাজ করে।
সব ব্যাবস্থা সে আগেই করে রেখেছে।
নিক যেতেই স্ক্রিনে ভেসে ওঠে সেই দৃশ্যইশায়া শুয়ে আছে, একদম চুপচাপ। কোনো নড়াচড়া নেই। পাশে ডাক্তার দাঁড়িয়ে, সিরিয়াস মুখে কিছু পরীক্ষা করছে।
ভীর কিছুক্ষণ চুপ করে তাকিয়ে থাকে। তার চোখের ভেতর ধীরে ধীরে জমে ওঠে অন্ধকার।
তারপর খুব ঠান্ডা, নির্মম গলায় বলে,
___সব কটাকে আমি নিজের হাতে শেষ করবো। এত কোটি কোটি টাকা খরচ করে আমি কাদের পালছি? আমার প্যালেসে আমার রুমে আমার বউ বাচ্চা সেইফ না?
সে দাঁত চেপে বলে,
আসছি আমি। তুই থাকিস, কিছু যেন না হয় ওর। আমি সবকিছু ধ্বংস করে ফেলবো নিক যদি ওর কিছু হয়।ওর শরীরে একটা আচ আসলে আমি কাউকে ছাড়বো না।বলে ভীর ফোন কেটে দেয়।
ফোন কেটে যেতেই নিকোর ঠোঁটে ফুটে ওঠে হাসি।
একটা বিশ্বজয়ের হাসি।
___এদিকে মারিয়া এলেনা কোণের দিকে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ ফ্যাকাশে, চোখে আতঙ্ক স্পষ্ট। এই মিথ্যাচারের জন্য ভীর তাদের সাথে কি করবে সে কল্পনাও করতে পারছে না।
আরেকদিকে ক্যাটালিনা, তার তো ভয়ে জান যায় যায় অবস্থা। এই ঘটনার কিছুই সে জানে না, তবুও ভয় তাকে গ্রাস করে ফেলেছে। যদি হঠাৎ সব দোষ তার উপর এসে পড়ে?ভীর যে কেমন মানুষ তা সে খুব ভালো করেই জানে।
কিছু না করেও ক্যাটালিনা ভয়ে জমে যাচ্ছে।তার মনে হচ্ছে সিনালোয়া থেকে এখানে এসে সে ভুল করেছে।ওখানেই ভালো ছিলো সে।ইশায়ার কিছু হলে ভীর শেষ করে ফেলবে তাকে।
_____শরীরে তীব্র বেপরোয়া স্পর্শে ঘুমের মাঝেই চোখ-মুখ কুঁচকে আসে ইশায়ার।
শ্বাস নিতে না পেরে ছটফটিয়ে ওঠে সে। বুকের ভেতর দম যেন আটকে আসছে, পিটপিট করে চোখ খুলতেই নিজের মুখের উপর ঝুঁকে থাকা অন্ধকার ছায়া দেখতে পায় ইশায়া।
ভয়ে আর দম আটকে আসায় দুহাতে সামনে থাকা মানুষটার গলা খামছে ধরে ইশায়া।
ভীর বিরক্ত ভঙ্গিতে চোখ মুখ কুঁচকে ইশায়ার দুই হাত এক হাতেই আটকে মাথার উপর চেপে ধরে। তারপর মাদকতা মেশানো স্বরে ফিসফিসিয়ে বলে,
___Baby… don’t fight.
I need you far too badly right now.So stop resisting and lose yourself in me. if you keep teasing me like this.I’ll only become more desperate for you.
কথাগুলো বলতে বলতেই ভীর আবারও নিজের শুষ্ক অধর ডুবিয়ে দেয় ইশায়ার নরম, কোমল ওষ্ঠে।
ভীরের গভীর স্পর্শে ধীরে ধীরে নরম হয়ে আসে ইশায়া তার অস্তিত্ব অবশ হয়ে আসে।
এই মানুষটাকে দেখার জন্য গত ক’দিন ধরে তার ভেতরে যে তোলপাড় চলছিল, তা মুহূর্তেই বিস্ফোরিত হয়।
ভীরের উষ্ণ নিঃশ্বাস, শক্ত বাহুর বাঁধন আর সেই অন্ধকার মাদকতা ধীরে ধীরে ইশায়াকে নিজের মধ্যে গলিয়ে নিতে থাকে।
ভীর উন্মাদ হয়ে উঠেছে।এতগুলো দিন পর ইশায়াকে এত কাছে পেয়ে তার সমস্ত সংযম একে একে ভেঙে যায়।কিন্তু ভীর আরেকটু গভীরে নামতেই ভয় পেয়ে যায় ইশায়া।ভীর কতটা উগ্র হয়ে উঠে সেটা তার চেয়ে ভালো আর কে জানে।কাঁপা স্বরে আবারও ভীরকে থামানোর চেষ্টা করে ইশায়া।
কাপা কাপা গলায় বলে,
___আমার বেইবি…
ভীর সঙ্গে সঙ্গে ইশায়ার ঠোঁটের উপর আঙুল চেপে ধরে তাকে থামিয়ে দেয়।তারপর কপালে কপাল ঠেকিয়ে নিচ স্বরে ফিসফিসিয়ে বলে,
___My baby, not yours. Mine.Though you can call us ours, and I wouldn’t mind at all.
And stop worrying, sweetheart. Just stay calm for me.I’ll be gentle tonight. I promise Nothing’s going to happen to you. So just say my name,
and let yourself drown in me the way you were always meant to.
ইশায়া আর কিছু বলে না। বলতে পারে না, সবসময়কার মতোই চুপ হয়ে যায় সে। আর ভীর সে ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে থাকে উন্মাদের মতো ইশায়ার মাঝে।ঘরের নিস্তব্ধতা ভেঙে মাঝে মাঝে ইশায়ার কুঁকড়ে ওঠা শব্দ ভেসে আসে।ভীর তখন কয়েক মুহূর্তের জন্য নিজেকে সামলায়, তার স্পর্শ নরম হয়ে আসে,ইশায়াকে আগলে রাখে।কিন্তু সেই নিয়ন্ত্রণ বেশিক্ষণ থাকে না।কয়েক মুহূর্ত পরই আবার নিজের বেপরোয়া, অন্ধকার রূপে ফিরে যায় সে।
_____নিক ডিভানের উপর আধশোয়া হয়ে বসে আছে।
ডাক্তার একটু আগেই তার নাক ব্যান্ডেজ করে দিয়েছে।
ব্যথায় নিকোর অবস্থা একেবারে করুণ।
চোখ মুখ কুঁচকে দাঁত চেপে বিড়বিড় করে বলে,
__শা*লা, আমাকে মেরে এখন বউয়ের সাথে রোমান্স করছে।আমার জন্যই তো বউয়ের কাছে যাওয়ার সুযোগ পেলি, আর মারটাও খেলাম আমি,শা*লা সাই*কো।
তার কথায় রানিয়া চোখ ঘুরিয়ে তাকালেও কিছু বলে না।চুপচাপ বরফের সেক দিতে থাকে নিকোর ফুলে ওঠা আঘাতে।
ঘরের এক কোণে মারিয়া আর এলেনা নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে আছে।তাদের মুখ এখনও ফ্যাকাশে।এই যাত্রায় তারা প্রাণে বেঁচে গেছে এটাই সবচেয়ে বড় অলৌকিক ব্যাপার।কারণ সবাই জানে, ভীর রাগলে ঠিক কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে।সেই মুহূর্তটার কথা মনে পড়তেই মারিয়ার শরীর কেঁপে ওঠে।
তখন…..
ভীরের প্রাইভেট জেটের শব্দে পুরো প্যালেস থমথমে হয়ে ওঠে। গার্ডরা মাথা নিচু করে দাঁড়ায়। জেট থামার সাথে সাথে ভীর দ্রুত নেমে পড়ে। তার চোখ রক্তিম, মুখ শক্ত। পুরো শরীর থেকে আগুন ঝরছে। এক মুহূর্তও নষ্ট না করে সোজা ভেতরে ঢুকে উপরে যাওয়ার জন্য পা বাড়ায় ভীর।কারোর সাথে কোন কথা না বলে।
নিক তখন ভীরের অপেক্ষাতেই দাঁড়িয়ে, পরিস্থিতিটা সামলানোর জন্য।
ভীর উপরে উঠার আগেই নিকের গলা ভেসে আসে পেছন থেকে।ভীর থামে না। ঠান্ডা গলায় বলে,
___পরে কথা বলছি তোর সাথে।
নিক শুনেনা ভীরের সামনে এসে দাঁড়ায়। মুখে অদ্ভুত গম্ভীরতা।
___আগে আমার কথা শোনো ব্রো।
ভীর তার দিকে তাকায়। সেই দৃষ্টি ভয়ংকর,এখন এই মূহুর্তে তুই আমাকে কথা শুনতে বলছিস?
নিক গভীর শ্বাস নেয়। তারপর নিচু গলায় বলে,
___ইশায়া ঠিক আছে ব্রো।
ভীরের চোয়াল শক্ত হয়ে যায়।
___মানে?
নিক কিছুক্ষণ চুপ থাকে। তারপর ধীরে ধীরে বলে,
___ও অজ্ঞান হয়নি, খাবারে কিছু ছিল না,ডাক্তারও কিছু বলেনি। সব… মিথ্যে ছিল।
ইশায়ার খাবারে ঘুমের ঔষধ মেশানো হয়েছে,আর আমার কথায়-ই সিসিটিভি অফ করা হয়েছে।
এক মুহূর্তে পুরো পরিবেশ নিস্তব্ধ হয়ে যায়।
ভীর স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। নিক কি বলছে বুঝে উঠতে পারেনি সে।তার চোখের পলক পর্যন্ত পড়ে না। শুধু নিচু, ভয়ানক শান্ত গলায় বলে,
___কি বললি তুই?
নিক চুপ হয়ে যায়,এখন তার ভয় হচ্ছে ভীরকে সামলাবে কি করে।
ভীরের চোখ দুটো বদলে যায়, সেখানে জমতে থাকে ভয়ংকর অন্ধকার। চোয়াল শক্ত কপালের রগ ফুলে উঠেছে।
নিক বুঝতে পারে খুব খারাপ কিছু হতে যাচ্ছে।
তবুও সে শান্ত গলায় বলতে যায়,
___ব্রো… আমি শুধু তোমাকে আনা*** কথাটা শেষ হওয়ার আগেইইই…..
ঠাসসসসসসসস!
ভীরের শক্ত মুঠো সজোরে এসে লাগে নিকের নাক বরাবর।
আচমকা আঘাতে নিক পিছিয়ে যায়। নাক চেপে ধরে, কয়েক ফোঁটা রক্ত সাদা মার্বেলের মেঝেতে পড়ে লাল দাগ তৈরি করে।কিন্তু ভীর থামে না।সে আবার ও নিককে একই শক্তিতে দ্বিতীয় আঘাত করে। নিক নিচে পড়ে যায়। মাথা ঝিমঝিম করছে তার। চোখের সামনে কয়েক সেকেন্ডের জন্য অন্ধকার নেমে আসে।
চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা সবাই জমে যায় আতঙ্কে।
রাগে হাসফাস করে ওঠে ভীর,আবারো আঘাত করতে যায়, কিন্তু নিজের হাত মুষ্টিবদ্ধ করে সামলায় নিজেকে।
চারপাশে ডিয়েগো, সান্তিয়াগো, এনরিকো,রোসাস, রাফা সবাই মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে।
___মারিয়া এলেনা দুহাত মুখে চেপে দাঁড়িয়ে আছে। তার শরীর কাঁপছে।রানিয়ার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। সে এক পা নড়ানোর সাহস পর্যন্ত পাচ্ছে না।পুরো প্যালেস নিস্তব্ধ। শুধু ভীরের ভারী শ্বাসের শব্দ শোনা যাচ্ছে।ভীর নিচে পড়ে থাকা নিকের দিকে তাকিয়ে দাঁত চেপে বলে,
____আর কখনো,
তার গলার স্বর চিৎকারে পরিণত হয়।
আর কখনো এই বিষয় নিয়ে কোনো মিথ্যা কথা বলবি না।যা-ই হয়ে যাক না,
ভীরের ভয়ংকর গর্জনে পুরো হল কেঁপে ওঠে।
___আমার বউ, আমার বাচ্চা নিয়ে আবার যদি এমন মিথ্যা আমি শুনি ভীর চারপাশে তাকায়, চোখে নির্মম আগুন।সব কটাকে জ্যান্ত পু*তে ফেলবো।
রানিয়ার হাত ঠান্ডা হয়ে গেছে আতঙ্কে। কেউ মাথা তুলে তাকানোর সাহস পায় না।
ভীর কয়েক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে থাকে সেখানে। বুক ওঠানামা করছে রাগে।তারপর আর কোনো কথা না বলে সোজা উপরের দিকে চলে যায় নিজের রুমের উদ্দেশ্যে।তার জুতোর ভারী শব্দ ধীরে ধীরে মিলিয়ে যেতে থাকে সিঁড়ির উপর।
সে আমার বন্দিনী পর্ব ৮৯
___ভীর চলে যেতেই মারিয়া এলেনা হাফ ছেড়ে বাচে।
সবাই এসে নিককে ধরে।
কিন্তু নিকো একটা জিনিস আজ বুঝতে পারে।
ভীরকে সবাই ভয় পায়।সবাই যমের মতো ভয় পায় কিন্তু ইশায়ার ব্যাপারে ভীর নিজেও নিজেকে ভয় পায়ে।
এতোটা চেঞ্জ কবে হয়ে গেলে ব্রো।এতো ভালো কবে বাসলে।শেষমেষ মেয়েটা কি তোমার কাছে আমার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলো।
