সে আমার বন্দিনী শেষ পর্ব
তানিয়া হুসাইন
___বাবা…
হঠাৎ ভেসে আসা মেয়েলি কণ্ঠস্বরে সবাই দরজার দিকে তাকায়।
আদ্রিয়ানের ঠোঁট থেকে আসা শব্দ আর পরিপূর্ণ হয় না সেখানেই থেমে যায়।
ঘরের ভেতরের সমস্ত কথাবার্তা, সমস্ত শব্দ, সমস্ত কোলাহল এক মুহূর্তে নিঃশেষ হয়ে গেছে।
সবার দৃষ্টি দরজার দিকে।
সময়ের চাকা যেন উল্টো দিকে ঘুরতে শুরু করেছে।দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আছে একটি মেয়ে।তার চোখ দুটো অশ্রুতে ভেজা।ঠোঁট কাঁপছে,সে তাকিয়ে আছে সবার দিকে।এক এক করে পরিচিত মুখগুলোর দিকে।এই মুখগুলো…
যাদের সাথে তার জীবনের প্রতিটা সকাল, প্রতিটা বিকেল, প্রতিটা উৎসব, প্রতিটা স্মৃতি জড়িয়ে আছে।কতদিন পর কত শত রাতের অপেক্ষার পর আজ আবার এত কাছ থেকে তাদের দেখতে পাচ্ছে সে।
___কেউ বুঝতে পারছে না কী হচ্ছে।কাকে দেখছে। সায়মা রহমান,আদনান রহমান,
আদ্রিয়ান আবির রাহি জান্নাত সবাই স্তব্ধ হয়ে দরজার দিকে তাকিয়ে আছে।যেন চোখের সামনে কোনো অলৌকিক ঘটনা ঘটছে।
জান্নাত এটাই ভাবছে যার মৃ*তদেহ দেখেছে তারা, সে এখানে কি করে আসবে। এটা কিভাবে সম্ভব।
সবাইকে তার দিকে স্তম্বিত হয়ে তাকিয়ে থাকতে দেখে ইশায়ার চোখের পানি গড়িয়ে পড়ে।
ইশায়া আবারো কাপা কাপা গলায় আওড়ায়,
___বাবা।
আদনান রহমান এক পা এগিয়ে আসেন।
পরের মুহূর্তেই ইশায়া ছুটে যায়।
সোজা আদনান রহমানের দিকে।এক নিমিষে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে
শক্ত করে।এতটাই শক্ত করে যেন ছেড়ে দিলে আবার হারিয়ে যাবে।
___বাবা… বাবা…
তার কণ্ঠ ভেঙে যাচ্ছে।গলা কাপছে।
ইশায়া বারবার আদনান রহমানকে ডাকতে থাকে।
___বাবা… বাবা।
সায়মা রহমাব কিছুই বুঝতে পারছেন না।তার মাথা ঘুড়ে ওঠে,শরীর ঢলে পড়তে নিলে।
জান্নাত দ্রুত তাকে ধরে ফেলে।নইলে হয়তো তিনি মেঝেতেই পড়ে যেতেন।
এদিকে আদনান রহমান বাস্তব আর অবাস্তবের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছেন।তার শরীর শক্ত হয়ে গেছে।চোখ স্থির।মুখ দিয়ে কোনো শব্দ বের হচ্ছে না।তার বুকের সাথে লেপ্টে থাকা ইশায়া কাঁদছে।তাকে জড়িয়ে ধরে ডাকছে।
___বাবা…বাবা…বাবা..
সেই ডাক সেই পরিচিত কণ্ঠস্বর।সেই স্পর্শ…
ধীরে ধীরে আদনান রহমানের সমস্ত অবিশ্বাস ভেঙে দেয়।
তিনি জড়িয়ে ধরেন আদরের একমাত্র মেয়েকে।
তার চোখ ভিজে উঠে
না…এটা স্বপ্ন নয়।আগে যা ছিলো সব মিথ্যে
এটা আমার মেয়ে।আমার ইশায়া।মেয়েকে পেয়ে মূহুর্তেই আবেগি হয়ে ওঠেন আদনান রহমান।
যাকে তিনি হারিয়ে ফেলেছিলেন।
যাকে ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন।
ইশায়া তখনও চিৎকার করে ডাকছে,
___ও বাবা…
ঘরের প্রতিটি মানুষের বুক কেঁপে উঠছে সেই আর্তনাদে।এদিকে সায়মা রহমান আর নিজেকে সামলে রাখতে পারলেন না।তিনি টলতে টলতে সামনে এগিয়ে আসেন।প্রতিটা পদক্ষেপ যেন তার জন্য পাহাড় টপকানোর মতো কঠিন।চোখ ঝাপসা হয়ে আছে।নিশ্বাস কাঁপছে।তিনি এসে দাঁড়ালেন আদনান রহমানের সামনে।তারপর কাঁপা হাতে ইশায়াকে আদনান রহমানের বুক থেকে টেনে আনেন।দুই হাতে মেয়ের মুখ চেপে ধরলেন।
মুখোমুখি করলেন।হঠাৎ টানে ইশায়া মাথা তুলে তাকায়
___আম্মু…
সায়মা রহমান কিছু বলেন না।তিনি শুধু তাকিয়ে রইলেন।অবিশ্বাসভরা চোখে।একদৃষ্টিতে তিনি মেয়ের চোখ মুখ দেখলেন।কপাল দেখলেন।
ঠোঁটের উপরের ছোট্ট তিলটা দেখলেন।
নিচের তিলটাও দেখলেন।একবার,দুইবার
বারবার।নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছেন না, ভয় পাচ্ছেন যদি এটা স্বপ্ন হয়।যদি চোখের পলক ফেলতেই সব মিলিয়ে যায়।
ইশায়ার ঠোঁট কেঁপে উঠে ভাঙা গলায় সে ডাকে,
___আম্মু…
শব্দটা শোনামাত্র সায়মা রহমানের সমস্ত বাঁধ ভেঙে যায়। তিনি হু হু করে কেঁদে উঠেন।
এক ঝটকায় মেয়েকে নিজের বুকের মধ্যে টেনে নেন।এত শক্ত করে জড়িয়ে ধরেন যেন পৃথিবীর কোনো শক্তি আর তাদের আলাদা করতে না পারে।
___আমার মেয়ে,আমার ইশু।ও গো দেখো আমার বাচ্চা আমার বুকে ফিরে এসেছে।
পাগলের মতোন করতে থাকে সায়মা রহনান।
___কোথায় ছিলি তুই,
তিনি আহাজারি করতে থাকেন।
ইশায়া কিছু বলতে পারলো না।একটা শব্দ ও না।
সে শুধু কাঁদছে।ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে।মায়ের বুকের মধ্যে মুখ লুকিয়ে।
আদ্রিয়ান সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে গেছে।সে নিজের জায়গা থেকে একচুলও নড়তে পারছে না।
তার চোখ বিস্ফারিত।শ্বাস ভারী হয়ে আসছে।
সে একবার ইশায়ার দিকে তাকাচ্ছে।আবার দরজার দিকে তাকাচ্ছে।আবার ইশায়ার দিকে।
মনে হচ্ছে তার ফুসফুসে বাতাস ঢুকছে না।
মস্তিষ্ক কাজ করছে না।সে কি সত্যিই ইশায়াকে দেখছে।নাকি এও কোনো মরীচিকা।
___অন্যদিকে রাহির শরীর কাঁপছে।তার হাত ঠান্ডা ঠোঁট শুকিয়ে গেছে।রেহেনা বেগম এক নজর দেখেই মেয়ের অবস্থা বুঝতে পারলেন।
তিনি দ্রুত এগিয়ে গিয়ে রাহির কাঁধ জড়িয়ে ধরেন,পাশে দাঁড়ালেন।রাহি এই ভয় পাচ্ছে যদি ইশুর মতো সাফা চলে আসে তাহলে কি হবে
আবিরের চোখ ভিজে গেছে।জান্নাত কাঁদছে।
আত্মীয়-স্বজনদের চোখেও পানি।কেউ কিছু বুঝতে পারছে না।কেউ কোনো কথা বলতে পারছে না।শুধু নিঃশব্দে এই অবিশ্বাস্য দৃশ্যের সাক্ষী হয়ে আছে সবাই।ঘরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছেন সায়মা রহমান।তিনি এখনও মেয়েকে জড়িয়ে ধরে আছেন।আদনান রহমান তাদের পাশেই দাঁড়িয়ে।তার হাত মেয়ের মাথার উপর।
ধীরে ধীরে তিনি মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন।
তার চোখ থেকেও অনবরত পানি ঝরে পড়ছে।
অসংখ্য অন্ধকার রাতের পর, ইশায়া আজ আবার ফিরে এসেছে।
সায়মা রহমানের বুক থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয় ইশায়া।পরক্ষণেই সে ডেকে উঠে,
__ছোট দাদাভাই,
শব্দ দুটি যেন সোজা গিয়ে আঘাত করে আদ্রিয়ানের বুকে।ডাকটাই কানে বাজতে থাকে,
___ছোট দাদাভাই…
কতদিন সে এই ডাক শোনেনি।আদ্রিয়ানের বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠে।সে সামনে এগিয়ে আসে, ইশায়াও তার দিকে হাঁটে।দুজনের মাঝখানের দূরত্বটুকু মিলিয়ে যেতে সময় লাগল না।ইশায়া গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে।একদম আগের মতো।যেন সময় কখনও তাদের আলাদা করেনি।আদ্রিয়ানের ঠোঁট কাঁপে,কিন্তু কোনো শব্দ বের হয় না।কিছু বলতে চেয়েও বলে না।তার চোখ দুটো অসম্ভব লাল হয়ে উঠেছে।বহু দিনের জমে থাকা শূন্যতা, কষ্ট,একসাথে এসে গলায় দলা পাকিয়ে আটকে আছে।অনেক কষ্টে সে বলে,
__ঠিক আছিস, ইশু পাখি?
গলাটা ভেঙে যাচ্ছে তার।
___এতদিন কই ছিলি?কোথায় ছিলি তো…
শব্দগুলো বের হওয়ার সাথে সাথে তার গলা আরও ভারী হয়ে উঠে।ইশায়া বুঝতে পারে সেটা
সে আরও শক্ত করে আদ্রিয়ানের গলা জড়িয়ে ধরে।চোখ বন্ধ করে কান্না মাখা গলায় বলে,
___আমি ঠিক আছি, ছোট দাদাভাই।
এরপর আবিরও আসে ইশায়ার কাছে।ইশায়া মৃদু হেসে তাকে জড়িয়ে ধরে।আবিরের এই মুহূর্তে কোনো কথার প্রয়োজন ছিল না।শুধু মানুষটাকে ফিরে পাওয়ার অনুভূতিটাই যথেষ্ট ছিল।
ধীরে ধীরে ঘরের পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হহ।
যদিও কারও মন এখনও পুরোপুরি স্থির হয়নি।
তবুও কান্নার তীব্রতা কমেছে।মানুষজন বসতে শুরু করেছে।অনেকেই এখনও অবিশ্বাসভরা চোখে ইশায়ার দিকে তাকিয়ে আছে।আদনান রহমান সোফায় বসে আছেন।আর তার একদম পাশে বসে আছে ইশায়া।
না…বসে নয়।
সবসময়ের মতোই বাবার বুকের সাথে ঘাপটি মেরে লেগে আছে।এক মুহূর্তের জন্যও দূরে যেতে রাজি নয়।আদনান রহমানের হাত বারবার মেয়ের মাথার ওপর চলে যাচ্ছে।কখনও চুলে হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন।কখনও কপালে।কখনও গালে।তিনি এখনো বিশ্বাস করতে পারছেন না।তার মেয়ে বেচে আছে।তার মেয়ে সত্যিই ফিরে এসেছে।
সায়মা রহমান রান্নাঘর থেকে আসেন।হাতে একটি ট্রে ইশায়ার জন্য খাবার সাজানো।তার চোখেমুখে এক আনন্দ ছড়িয়ে আছে, যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।মেয়েকে হারানোর পর তিনি যতদিন বেঁচে ছিলেন, প্রতিটা দিন ছিল অসম্পূর্ণ।
আজ সেই শূন্য জায়গাটা আবার পূর্ণ হয়ে গেছে।
তিনি এসে ইশায়ার সামনে বসে বললেন,
___এই নে মা, কিছু খা।
তার কণ্ঠে আদর।মমতা।আর এক অদ্ভুত তৃপ্তি।
ইশায়া তাকিয়ে রইল মায়ের দিকে।কতদিন পর বাবা-মায়ের ভালোবাসা পাচ্ছে সে।
চারপাশের পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়েছে দেখে রেহেনা বেগম গলা খাঁকারি দিলেন।তারপর একটু ইতস্তত করে বলেন,
___আচ্ছা… বিয়েটা পরিয়ে নিলে হয় না?
কথাটা বলার সঙ্গে সঙ্গে ঘরের আবহাওয়া আবার বদলে যায়।রাহি, যে এতক্ষণ এক কোণে চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল, এখন সোজা হয়ে দাঁড়ায়।তার বুকের ভেতরটা ধক ধক করছে।সে অসহায় চোখে তাকায় আদ্রিয়ানের দিকে।
ঘরে উপস্থিত সবাইও তাকায় তার দিকে।কারণ এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানুষ একজন-ই।
আদ্রিয়ান রহমান।কিন্তু আদ্রিয়ান অন্য কিছু ভাবছে।তার দৃষ্টি এখনও স্থির হয়ে আছে ইশায়ার ওপর।অনেকক্ষণ ধরে জমে থাকা প্রশ্নগুলো আর আটকে রাখতে পারল না সে।
সে সোজাসাপটা জিজ্ঞেস করল,
___কি হয়েছিল, ইশায়া?
ঘরের সবাই চুপ।আদ্রিয়ানের কণ্ঠ এবার আরও গভীর হয়ে উঠে।
___কোথায় ছিলি তুই এতদিন?তুই এখানে থাকলে।আদ্রিয়ান থামে গলা শুকিয়ে আসে তার
সেই ভয়ংকর দিনের স্মৃতি আবার ফিরে আসে।
তার চোখের পাতা কেঁপে উঠে নিজেকে সামলে তারপর আবার বলতে শুরু করে,
___তুই এখানে থাকলে ওইদিন..ওই লাশটা কার ছিল?প্রশ্নটা উচ্চারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো ঘরে আবার নেমে আসে ভারী নীরবতা।
সবার চোখ ইশায়ার দিকে।কারণ এতদিনের রহস্য,এতদিনের প্রশ্নের উত্তর হয়তো এখনই পাওয়া যাবে।
আবির আত্মীয়-স্বজনদের দিকে তাকিয়ে শান্ত কণ্ঠে বলল,
___আপনারা এখন আসতে পারেন।আমাদের একটু একা থাকতে দিন, প্লিজ। কেউ যেতে চায়নি, তাদের আগ্রহ ছিল সবকিছু জানার।
তবুও রহমান সাহেবের অনুরোধে এবং পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে একে একে সবাই চলে যেতে শুরু করে। অনিচ্ছা সত্ত্বেও বিদায় নিলেন সব আত্মীয়-স্বজনেরা।কিছুক্ষণ পর বিশাল ড্রয়িংরুমটিতে শুধু উপস্থিত রইল রহমান পরিবারের সদস্যরা এবং রাহির পরিবার।
সবাইয়ের দৃষ্টি তখন একমাত্র ইশায়ার দিকে।
ইশায়া গভীর শ্বাস নেয়,তারপর শুরু করল সবকিছু বলা।শুরু থেকে।যেদিন তাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়, সেদিন থেকে শুরু করে।ঘরের প্রত্যেকটি মানুষ নিঃশব্দে শুনছে।কেউ একটি শব্দও উচ্চারণ করেনা।ইশায়ার কণ্ঠ বারবার কেঁপে কেপে উঠছে, তবুও সে থামেনা।
___ ওরা চেয়েছিল যাতে কেউ আমাদের খোঁজ না করে। তাই ওদেরই একজন লোককে মে*রে ফেলে… তারপর তাকে পু*ড়িয়ে দেয়। যাতে সবাই বিশ্বাস করে আমি আর সাফা আপু দুজনেই মা*রা গেছি।কথাটা শেষ হতেই পুরো ঘরটা স্তব্ধ হয়ে যায়।
আদ্রিয়ান আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারেনা।ধপ করে বসে পড়ে নিচে।মুহূর্তেই আগের সেই দিনটার কথা মনে পরে যায়।তার ভালোবাসার মানুষ কতটা নির্মম যন্ত্রণা সহ্য করেছে। পুরোনো ক্ষত আবার নতুন করে জখম করছে তাকে।যে ক্ষত কখনো পুরোপুরি শুকায়নি অবদি।যে নামটা আজও তার হৃদয়ের গভীরে যন্ত্রণা হয়ে বেঁচে আছে সাফা।
তার চোখ দুটো লাল হয়ে উঠে।এক ফোঁটা… দুই ফোঁটা… চোখের পানি গড়িয়ে পড়ে।
আদ্রিয়ান দ্রুত মুখ ফিরিয়ে চোখ মুছতে চায়।
কিন্তু ইশায়ার চোখ এড়ায় না সেটা।সে এগিয়ে যায় আদ্রিয়ানের দিকে।তারপর আদ্রিয়ানের সামনে এসে দাঁড়িয়ে মৃদু হাসার চেষ্টা করে বলে,
___মন খারাপ করো না, ছোট দাদাভাই।
আদ্রিয়ান মাথা তুলে।
ইশায়ার চোখেও তখন অশ্রুর ঝিলিক।
___সাফা আপু কিরকম ছিল, তুমি তো জানো।
দেখো, আমি ভিতু। তাই এখনো আমি বেঁচে আছি।মৃদু হেসে নিজের চোখের পানি মুছে নিল সে।
___কিন্তু সাফা আপু তো প্রতিবাদী ছিল। অন্যায়ের সামনে মাথা নত করা ওর স্বভাবে ছিল না।
___ও তোমাকে ভালোবাসত, ছোট দাদাভাই। এই জীবনে তোমার জায়গা অন্য কাউকে দেবে না বলেই সে মৃ*ত্যুকে স্বাচ্ছন্দ্যে বেছে নিয়েছে।
ইশায়ার কণ্ঠ ভেঙে আসে।
__তোমাকে ভালোবেসেই চলে গেছে আমাদের সবার কাছ থেকে।আদ্রিয়ানের চোখ বেয়ে নীরবে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে।
ইশায়া আবার বলে,
___ ও চাইলে পারত নিজেকে নিকের হাতে তুলে দিতে…কিন্তু দেয়নি। কারণ তোমার প্রতি ওর ভালোবাসা সীমাহীন ছিল। শেষ মুহূর্ত পর্যন্তও ছিল। আর সেই ভালোবাসা নিয়েই সে চলে গেছে।
কথাগুলো শুনে আদ্রিয়ান আর নিজেকে সামলাতে পারব না।সে ইশায়াকে নিজের বুকের মধ্যে টেনে নেয়।তারপর শিশুর মতো হু হু করে কেঁদে ওঠে।বহুদিনের জমে থাকা যন্ত্রণা, শোক আর ভালোবাসা একসাথে বিস্ফোরিত হয়ে বেরিয়ে আসে কান্নার সঙ্গে।
ইশায়া আরো বলে,
কেদো না ছোট দাদাভাই দেখো একদিন তোমরা ঠিকই এক হবে। তোমাদের সম্পর্কটা কি ছিল সেটা তো তুমিও জানো। সাফা আপু আমাকে শেষবার একটাই কথা বলেছিল।
আদ্রিয়ান উৎসুক হয়ে জিজ্ঞেস করে কি,
ইশায়া চোখের পানি মুছে বলে,
__আপু বলেছিলো ইশায়া তুই যদি কখনো এখান থেকে পালাতে পারিস তোর ভাইয়ের সাথে দেখা হয় তাহলে তাকে বলবি, সাফা তার আদ্রকে খুব ভালোবাসে।আর এই ভালোবাসা এই জীবনে ও ফুরাবেনা।আমাদের প্রেম জন্ম জন্মান্তরের।
আদ্রিয়ানের বুকের ভেতরটা খামছে ধরে কেউ।
সে বিড়বির করে বলে,তোর আদ্র তোকে খুব ভালোবাসে সাফু।সারাজীবন শুধু তোকেই ভালোবেসে যাবে।
রাহি নীরবে চোখ মুছে আদ্রিয়ানের এই অবস্থা দেখে।রহমান পরিবারের প্রত্যেকের চোখে পানি।
___ কিছু ভালোবাসা মৃ*ত্যুতেও শেষ হয় না।
কিছু মানুষ চলে গেলেও থেকে যায়।আর কিছু নাম সময়ের হাজারো ঝড় পেরিয়েও হৃদয়ের গভীরে অমর হয়ে বেঁচে থাকে।
____আদ্রিয়ান অনেক কষ্টে নিজেকে সামলে নেয়।চোখের কোণে জমে থাকা অশ্রুগুলো হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে মুছে উঠে দাঁড়ায় সে।
সবার চোখ তার দিকে।কিন্তু আদ্রিয়ানের দৃষ্টি থামে রাহির ওপর।ধীর পায়ে সে রাহির সামনে গিয়ে দাঁড়ায়।তারপর যা করে তা দেখে উপস্থিত সবাই স্তব্ধ হয়ে যায়।সে দু’হাত জোড় করে,রাহি বিস্ময়ে তাকিয়ে রয় তার দিকে।আদ্রিয়ানের গলা ভারী, চোখ দুটো আবারও ভিজে উঠেছে।
কাঁপা কণ্ঠে সে বলে,
__আমাকে ক্ষমা করে দিস, রাহি।কথাটা শুনতেই রাহির বুকটা ধক করে উঠে।কিন্তু আদ্রিয়ান থামেনা।আজ এতদিনের জমে থাকা সত্য, জমে থাকা অনুভূতি আর অপরাধবোধ একসাথে বেরিয়ে আসে তার ভেতর থেকে।
___আমি… এই বিয়ে করতে পারব না রাহি।
নিজের জীবনটা নষ্ট করিস না। আমার তোর প্রতি কোন অনুভূতি নেই, আমি কোনদিনও তোকে ভালবাসতে পারব না। সাফার জায়গা আমি এই জীবনে কখনো কাউকে দিতে পারবো না।
আমার সাথে নিজেকে জড়ালে তোকে সারা জীবন ধুকে ধুকে বাঁচতে হবে।
সায়মা রহমান আদ্রিয়ানকে বাধা দিতে গেলেও আদনান রহমান তার হাত টেনে ধরেন।
কেউ আর কিছু বলার সাহস পায় না।
আদ্রিয়ান মাথা নিচু করে বলে,
__ যে শুধু মাত্র আমি ছাড়া জীবনে আর কাউকে জায়গা দেবে না বলে সে নিজেকে শেষ করে ফেলেছে…এখন আমি নিজের সাথে অন্য কাউকে জড়িয়ে তাকে অপমান করতে পারবো না।
আদ্রিয়ানের গলা ধরে আসে,কিছুক্ষণ থেমে আবার বলে,
___সে যা করেছে,শুধু মাত্র আমার জন্য করেছে। আর আমি তাকে ভুলে গিয়ে সুখে-শান্তিতে সংসার করব।
আদ্রিয়ান মাথা নাড়ে,
___এতটা অকৃতজ্ঞ আমি হতে পারব না রে, রাহি।পারব না।
আদ্রিয়ান রাহির দু’হাত নিজের হাতের মুঠে নিয়ে বলে,
__তুই ক্ষমা করে দিস আমাকে।
রাহি ঠোঁট নাড়ে,সে বলতে চায় অনেক কিছু।
কিন্তু কোনো শব্দই আর মুখ দিয়ে বের হয় না।
গলাটা শক্ত হয়ে আটকে গেল।চোখের পানি ঝাপসা করে দেয় চারপাশ।সে শুধু নির্বাক হয়ে তাকিয়ে রইল আদ্রিয়ানের দিকে।
আদ্রিয়ান সেখানে আর দাঁড়ায় না। ড্রয়িংরুম পেরিয়ে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে যায়।পেছন থেকে কেউ ডাকেনা।কারণ আদ্রিয়ান যে আজ কারোর কথা শুনবে না সেটা তারা খুব ভালো করেই বুঝে গেছে।
বাইরে বেরিয়ে এসে গভীর শ্বাস নেয় সে।বাতাস বুক ভরে টেনে নিল ফুসফুসে।কিন্তু তবুও বুকের ভেতরের ভার একটুও কমে না।সে জানে এখন যদি বাড়িতে থাকে, সবাই তাকে বোঝাতে আসবে।বাবা-মা আসবে।রাহিও হয়তো আসবে।
সবাই বলবে জীবন থেমে থাকে না।সবাই বলবে অতীত ভুলে নতুন করে শুরু করতে।কিন্তু না।
এবার আর সে কারও কথা শুনবে না।একবার সে নিজের হৃদয়কে অস্বীকার করতে গিয়েছিল।একবার নিজের ভালোবাসাকে মাটিচাপা দিতে চেয়েছিল।কিন্তু আজ ইশায়ার মুখে সব সত্য জানার পর সে আর পারবে না।
কিছুতেই পারবে না।বাবা-মায়ের জন্য এখন ইশু আছে।তারা ভালো থাকবে।রাহিও চাইলে এই বাড়িতেই থাকুক।তার কোনো সমস্যা নেই।
এই পরিবারের সদস্য হিসেবেই থাকুক।সম্মান, ভালোবাসা সবকিছুই পাবে।কিন্তু নিজেকে সে আর কারো সঙ্গে জড়াবে না।কারো হাত ধরে নতুন স্বপ্ন দেখবে না।কারও চোখে নিজের ভবিষ্যৎ খুঁজবে না।কারণ তার হৃদয়ের একটি অংশ বহু আগেই সাফার কাছে রেখে এসেছে সে।
আর সেই অংশ কোনোদিন ফিরেও আসেনি।
হয়তো কোনোদিন আসবেও না।সাফার সঙ্গে সে কিছুতেই বেইমানি করবে না।কিছুতেই না।পৃথিবীর সবাই তাকে ভুল বুঝুক।সবাই তাকে একগুঁয়ে বলুক।তবুও সে নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে না।কিছু ভালোবাসা মানুষকে বেঁচে থাকতে শেখায়।আর কিছু ভালোবাসা
মানুষকে সারাজীবন একা থেকেও বিশ্বস্ত থাকতে শেখায়।
বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার পর আদ্রিয়ান হাটতে থাকে গাড়ি নেয়নি আজ। পা দুটো নিজে থেকেই পথ চিনে নেয়।কোথায় যাচ্ছে, কেন যাচ্ছে সেটা ভাবারও প্রয়োজন হয় না তার।হৃদয় তাকে টেনে নিয়ে যায় পরিচিত সেই জায়গায়।যে জায়গায় চিরনিদ্রায় শুয়ে আছে তার ভালোবাসা।
চারপাশে নিস্তব্ধতা।প্রতিটি পদক্ষেপের সাথে বুকের ভেতরের অপরাধবোধ আরও ভারী হয়ে উঠছে।অবশেষে সে এসে দাঁড়ায় সে তার গন্তব্যের সামনে।
কিছুক্ষণ নিঃশব্দে তাকিয়ে রয় আদ্রিয়ান। বছর পেরিয়ে আরেকটা বছর ও চলে যাচ্ছে এর পরেও তার কথার কোনো শেষ নেই।
আদ্রিয়ান ধীরে ধীরে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে ।
মাথাটা নিচু করে ফিসফিস করে বলে,
___আমাকে ক্ষমা করে দিও, পাখি।
আমি চেষ্টা করেছিলাম সত্যি চেষ্টা করেছিলাম।সবাইকে খুশি রাখতে চেয়েছিলাম।
বাবা-মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে ভেবেছিলাম নতুন করে জীবন শুরু করব।
চোখের পানি টুপটুপ করে পড়তে থাকে মাটিতে।
___কিন্তু আমি পারিনি, সাফা যতবার এগোতে গেছি, ততবার মনে হয়েছে আমি তোমার সঙ্গে অন্যায় করছি। তোমার ভালোবাসার সঙ্গে অন্যায় করছি।আদ্রিয়ান মাটির ওপর হাত রেখে চোখ বন্ধ করে।তার মনে পড়ে সেই হাসি,সেই ঝগড়া,সেই অভিমান।সেই স্বপ্নগুলো, যেগুলো কখনো পূরণ করার সুযোগই পেল না।
___আমি জানতাম না,জানতাম না তুমি শেষ মুহূর্ত পর্যন্তও আমাকে আঁকড়ে ধরে রেখেছিলে।
জানতাম না মৃ*ত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও তুমি আমার জায়গায় অন্য কাউকে আসতে দাওনি।
তার বুক থেকে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে। আর আমি.. আমি তোমাকে হারিয়ে অন্য কারোও হাত ধরতে যাচ্ছিলাম।
___ আমাকে ক্ষমা করে দিও।মৃ*ত্যু তোমাকে দূরে নিয়ে গেছে।কিন্তু আমাদের ভালোবাসাকে নয়।
আদ্রিয়ান মৃদু হেসে চোখের পানি মুছে নেয়।
সেই হাসির ভেতর হাজারটা ভাঙা স্বপ্নের শব্দ।
___জানো, সাফা সবাই বলে সময় নাকি সবকিছু বদলে দেয়। কিন্তু একটা জিনিস সময়ও বদলাতে পারেনি।
___তোমার জন্য আমার অপেক্ষা। মাটির দিকে তাকিয়ে সে খুব আস্তে বলে,
___এই জীবনে তোমাকে আর পাওয়া হবে না।
তবুও তোমার জায়গায় অন্য কাউকে বসাতে পারব না।
তুমি ছিলে আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অধ্যায়। তোমার হাসিতে ছিলো আমার সমস্ত প্রশান্তি, তোমার কণ্ঠে বেঁচে থাকার ইচ্ছে, আর তোমার চোখ ছিলো আমার অগণিত স্বপ্নের ঠিকানা। তোমাকে ঘিরে গড়ে ওঠা প্রতিটি মুহূর্ত আজও আমার হৃদয়ের গভীরে এক মধুর সুর হয়ে বেজে চলে। আজও আমি তোমাকে অনুভব করতে পারি।কিন্তু আজ তোমার অনুপস্থিতি আমার সমগ্র পৃথিবীকে নিস্তব্ধ করে দিয়েছে। চারপাশে সবকিছু আগের মতোই আছে, শুধু তুমি নেই। আর তোমাকে ছাড়া এই পৃথিবীটাও আর আগের মতো লাগে না।আমি জানি তুমি আর কখনো ফিরে আসবে না। তবুও হৃদয়ের এক কোণে আজও তোমার জন্য অপেক্ষা জমে থাকে কারণ তুমি না থাকলেও তোমার স্মৃতি গুলো আমাকে আজ ও ঘিরে আছে।তুমি নেই, অথচ প্রতিটি নিঃশ্বাসে, প্রতিটি নীরব রাতে, প্রতিটি অপূর্ণ স্বপ্নে আমি আজও তোমাকেই খুঁজি…
আমি আজীবন তোমাকে ভালোবাসবো পাখি।
এই আদ্রিয়ান সাফার হয়েই থাকবে আজীবন।তোমার আদ্র তোমারই থাকবে।
____সিনালোয়ার বিশাল প্রাসাদের লিভিং এরিয়ায় বসে আছে ক্যাটালিনা। তার হাতে ক্রিস্টালের গ্লাস, গ্লাসের ভেতর সোনালি রঙের পানীয় দুলছে ম। ঠিক তার পাশেই বসে ছিল জেইন। দু’জনের মাঝেই চলছিল ভবিষ্যৎ নিয়ে হিসাব-নিকাশ, ক্ষমতা আর সাম্রাজ্যের অঙ্ক কষা।
অন্যদিকে উপরের তলার নিজের কক্ষে একা বসে আছে বেলা।ঘরজুড়ে নিস্তব্ধতা।শুয়ে থাকতে থাকতে হঠাৎ সে নিজের ফোনটা হাতে তুলে নেয়। গ্যালারির ভেতর থেকে একটি ছবি বের করে।
নিকের ছবি।স্ক্রিনে ভেসে থাকা মুখটার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষন।এই মানুষটাকে সে আর কখনো দেখতে পারবেনা। এটা যখন মনে হয় বুকে কেমন একটা ব্যাথা করে ওঠে। আজও বিষয়টা তার কাছে অবিশ্বাস্য লাগে।সেই উগ্র, বদমেজাজী, হিংস্র মানুষটা আর নেই।
প্রথমদিকে নিকের প্রতি তার আকর্ষণ ছিল প্রবল।
অদ্ভুত এক টান কাজ করত তার প্রতি।কিন্তু তাকে পাওয়ার পর সেই মোহ অনেকটাই কেটে গিয়েছিল। বরং নিকের ক্রমাগত উপস্থিতি, তার আধিপত্য বিস্তার করা স্বভাব, তার রুক্ষ আচরণ সবকিছু মিলিয়ে বেলার বিরক্ত লাগত।
কিন্তু সে নিজে থেকে ধরা দেওয়ার পর নিক আর ছাড়েনি তাকে।একসময় বিরক্ত লাগলেও আজকে তার শূন্যতা তাকে গ্রাস করছে।মানুষ বোধহয় কোনো কিছুর মূল্য সবচেয়ে বেশি বোঝে সেটাকে হারানোর পর।আজ নিক নেই।আর সেই অনুপস্থিতিটাই তার গলায় কাঁটার মতো বিঁধে।
তার মন বারবার নিকের সান্নিধ্য খুঁজে বেড়ায়।
একবার।শেষবার নিকের নিথর শরীরটা দেখার পর থেকেই তার ভেতরে কিছু একটা বদলে গেছে।নিজেকে অদ্ভুত অসহায় লাগে।চাইলেও সে এসব চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে পারে না।একটা শূন্যতা।একটা অব্যক্ত কষ্ট।একটা না-পাওয়ার যন্ত্রণা।সবসময় তাকে ঘিরে রাখে। মনে হয় বুকের ভেতর কোথাও বিশাল এক ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়েছে, যেটা আর কখনো পূরণ হবে না।আফসোস নিয়ে বলে বেলা,আমাকে একবার বলেও গেলেনা তুমি।ভীরের কথা হয়।
বেলা গলা উচিয়ে বলে,
__ভেতরে আসো।
একজন গার্ড ভেতরে ঢুকে মাথা নত করে দাঁড়ায়।
___ম্যাম, আপনাকে নিচে ডাকছেন।
বেলা বিরক্ত হয়ে চোখ বন্ধ করে।এখন পারব না। গিয়ে বলে দাও।
গার্ডটা ইতস্তত করতে থাকে।
___ম্যাম… ক্যাটালিনা ম্যাম বলেছেন জরুরি কথা আছে।
বেলা কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থাকে।
তারপর গভীর নিঃশ্বাস ফেলে ফোনটা পাশে রেখে উঠে দাঁড়ায়।
নিচে তখন জেইন আর ক্যাটালিনার আলোচনা তুঙ্গে।ক্যাটালিনা গ্লাসে চুমুক দিয়ে হেলান দিয়ে বসে বলে,
___এখন সবকিছু আমার।তার ঠোঁটে বিজয়ীর হাসি।পথের কাঁটা আমি সরিয়ে দিয়েছি। এখন আর কেউ নেই কোনো কিছু দাবি করার।
কথাগুলো বলার সময় তার চোখে স্পষ্ট সন্তুষ্টি ঝলমল করছে।জেইনকে অবশ্য তেমন উৎসাহী দেখাচ্ছে না।তার মুখ ভার।কারন তার ইচ্ছে অন্য ছিলো।ওই মেয়েকে নিজের করার, না করতে পারলেও একবার অন্তত… কিন্তু কিছুই করতে পারলোনা।এত কাছে পেয়েও সে নিজের ইচ্ছা পূরণ করতে পারেনি এই আক্ষেপ তাকে ভেতর থেকে কুরে কুরে খাচ্ছে তাকে।
ক্যাটালিনা আবার বলে,
___এখন তোর আর বেলার বিয়েটা দিয়ে দিলেই শান্তি আমি। আমি চাই না এই সাম্রাজ্য অন্য কেউ ভোগ করুক।
ক্যাটালিনা চারপাশে তাকায় বহু বছরের স্বপ্ন তার এগুলো।
__আমার সারা জীবনের ইচ্ছা এখন পূরণ হচ্ছে। আমি চাই না এখানে অন্য কেউ এসে ভাগ বসাক।
জেইন কোনো উত্তর করে না।গ্লাসে চুমু দেয় রাজ্যও পাওয়া যাচ্ছে সাথে রাজকুমারীও এতে তার কোন আপত্তি নেই। লাভ তো শেষ পর্যন্ত তারই।
ঠিক তখনই সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসে বেলা।
তার মুখে বিরক্তি স্পষ্ট।নিচে নেমেই সে বলে,
___ কী হয়েছে মম? ডেকেছো কেন আমাকে?
ক্যাটালিনা মেয়ের দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকেন।তারপর বলেন,
___তোমার কী হয়েছে সেটা আগে বলো। এখন তো তোমাকে দেখাই যায় না। রুম থেকেও বের হও না। ক্লাবেও যাও না। বন্ধুদের সঙ্গেও না। কেন, কী সমস্যা?
বেলা কোনো ভাবান্তর না এনে শান্ত গলায় বলে,
__এমনি। ভালো লাগছে না আমার।একটু থেমে আবার বলে,
___আর কিছু বলবে?
ক্যাটালিনা বুঝে, ঘুরিয়ে কথা বলে লাভ নেই।
তাই সে সরাসরি মূল প্রসঙ্গে কথা বলে,
___ আমি চাইছি তোমার আর জেইনের বিয়েটা এখন দিয়ে দিতে। কী বলো তুমি?
কথাটা শুনেই বেলার চোখের দৃষ্টি বদলে যায়।
সে কয়েক মুহূর্ত চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল।তারপর অনুভূতিহীন কণ্ঠে বলে
___মম, আমাকে এখন এসব নিয়ে কিছু বলো না। আমার ভালো লাগছে না।
তার কণ্ঠ আরও কঠিন হয়ে উঠে,
___আর যদি আমাকে কোনো কিছু নিয়ে জোর করা হয়, তাহলে আমি এখান থেকে চলে যাব।
কথাগুলো বলে আর এক মুহূর্তও দাঁড়ায় না বেলা।ঘুরে দাঁড়িয়ে দ্রুত পায়ে সিঁড়ির দিকে এগিয়ে যায়।তার পদধ্বনি ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায় উপরের।ক্যাটালিনা স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন মেয়ের চলে যাওয়ার দিকে।তার চোখে বিরক্তি, আর অস্বস্তির মিশ্র ছাপ।নিস্তব্ধতা ভাঙে জেইন।
সে হালকা হেসে বলে,
___ওহ ক্যাট, ছাড়ো তো। কয়েকদিন পরে এমনিতেই সব ঠিক হয়ে যাবে। তুমি এগুলো নিয়ে এত ভাবছ কেন?
সে গ্লাসটা নামিয়ে টেবিলে রাখে।
___ওকে আমি দেখে নেব,ডোন্ট ওয়ারি।
ক্যাটালিনা কোনো উত্তর দেয় না।
___মাতেও আর লুকার আসর বসেছে।বিশাল কক্ষের মাঝখানে বসে আছে দু’জন। টেবিলের ওপর ছড়িয়ে আছে বিভিন্ন রিপোর্ট, লোকেশন ম্যাপ আর তথ্যের ফাইল। কিন্তু এত কিছুর পরও একটা প্রশ্নের উত্তর তারা খুঁজে পাচ্ছে না।লুকা বিরক্তিতে চোয়াল শক্ত করে বলে,
___ওই মেয়েটা কোথায় গেল।তার কণ্ঠে স্পষ্ট অধৈর্যতা।
___পুরো মেক্সিকো তন্নতন্ন করে খুঁজলাম। কোথাও নেই। সিনালোয়াতেও নেই। তাহলে গেল কোথায়?মাতেও গ্লাসে চুমুক দিয়ে উদাস গলায় বলে,
__ভীরের বউকে নিয়ে মজ করা আর হলো না।
হয়তো আগুনেই পুড়ে মারা গেছে ওই মেয়ে।
লুকা সঙ্গে সঙ্গে মাথা নেড়ে আপত্তি জানায়।
___না। আগুন লাগার আগেই পুরো প্যালেস তল্লাশি করা হয়েছিল। ওকে পাওয়া যায়নি।
মাতেও এবার বিরক্ত হয়ে গ্লাসটা টেবিলে নামিয়ে রাখে।
___ওহ, লুকা।
সে দীর্ঘশ্বাস ফেলে, ওটা ভীরের প্যালেস ছিল। এখানে কত গোপন পথ, কত সুরঙ্গ, কত লুকানোর জায়গা আছে সেটা তোমার কল্পনারও বাইরে।
___হয়তো কোথাও লুকিয়ে ছিল। ভেবেছিল আমরা চলে গেলে বেরিয়ে আসবে। কিন্তু আগুন লাগিয়ে দেওয়ার পর হয়তো…তার চোখ সরু হয়ে আসে।কারণ যদি ও বেঁচে থাকত, আমরা ওকে খুঁজে বের করতামই। কোথাও লুকাতে পারতোনা,
কথাগুলো বলার সময় তার কণ্ঠে ছিল অদম্য আত্মবিশ্বাস।
___আর মেক্সিকোর বাইরে যায়নি, এখানের প্রতিটা জায়গায় আমাদের লোক আছে। এখান থেকে অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার মতো কোনো পথই নেই।তাই বলছি ওর আশা ছেড়ে দাও রাজভীরের পাখি তার সাথেই চলে গেছে।
এমন সময় দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে মাতেওর ছোট ছেলে।লিওনার্দো মাতেও।
ভেতরে ঢুকেই সে সরাসরি বাবার দিকে এগিয়ে যায়ম
___ডেড… তুমি কেন ব্রো কে ওখানে নিয়ে গিয়েছিলে।
___ তুমি যদি ওকে না নিয়ে যেতে, তাহলে আজ ও আমাদের সঙ্গে থাকত।ছেলের চোখে জমে থাকা রাগ আর কষ্ট স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।
___ মমের অবস্থা খুব খারাপ। ডাক্তার বলেছে যে কোনো সময় যে কোনো কিছু হয়ে যেতে পারে।
কথাগুলো শুনে মাতেওর হাতের গ্লাসটা আরও শক্ত হয়ে উঠে।তার চোখের ভেতর মুহূর্তে অন্ধকার নেমে আসে।ভীরকে হ*ত্যা করেও তার ভেতরের আগুন নিভেনি।বরং প্রতিশোধের সেই ক্ষুধা আরও ভয়ংকর হয়েছে।নিজের সন্তানকে হারানোর ক্ষত প্রতিদিন নতুন করে তাকে ছিন্নভিন্ন করে।
তারপরও ছেলের সামনে নিজেকে সংযত রাখে সে।উঠে এসে লিও এর কাঁধে হাত রাখে।
পিঠে স্নেহের স্পর্শ বুলিয়ে শান্ত গলায় বলে,
__কিছু হবে না, মাই সন।তোমার মম শক্ত মনের মানুষ।ডোন্ট ওয়ারি।সব ঠিক হয়ে যাবে।
কিন্তু লিও মানতে পারে না।তার বুকের ভেতরে জমে থাকা শোক ক্রমশ রাগে পরিণত হচ্ছে।
সে চোখ নামিয়ে ফেলে।ভাইয়ের মুখটা বারবার তার মনে ভেসে ওঠে।
____ইশায়া নিজের রুমের দিকে এগিয়ে যায়।
কেউ ছাড়তেই চাইছে না তাকে।ক্লান্ত লাগছে তার খুব।বিশ্রাম নেওয়ার কথা বলে এসেছে।
নিজের রুমের দরজাটা খুলতেই চোখের পাতা কেঁপে উঠে ইশায়ার।
সবকিছু সবকিছু ঠিক আগের মতোই আছে।
একটুও বদলায়নি।বুকশেলফের বইগুলো যেখানে ছিল, সেখানেই আছে।।টেবিলের সাজসজ্জা, দেয়ালের ফ্রেম সব।তার চোখ গিয়ে আটকায় বিছানার মাঝখানে।সেখানে থাকা প্রিয় পুতুলটায়।
ইশায়া গিয়ে পুতুলটাকে কোলে নেয়।ইশায়া চোখ বন্ধ করে লম্বা একটা শ্বাস নেয়।এই ঘরের গন্ধ,
এই পরিচিত অনুভূতি সবকিছু যেন তাকে পুরোনো দিনের কাছে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
ইশায়া চারপাশে তাকায়।এক এক করে বইগুলো ছুঁয়ে দেখে।সব আগের মতোই আছে।
শুধু সে ছিল না।সময় কেটে মাস বছর কেটে গেছে।কিন্তু তার আর ফেরা হয়নি এই ঘরে।তার বুকের ভেতর দীর্ঘশ্বাস জমে উঠে।জীবনটা কেমন এলোমেলো হয়ে গেল।সবকিছু কেমন বদলে গেছে।যদি সেদিন সেই ঘটনা না ঘটত তাহলে আজ সবকিছুই স্বাভাবিক থাকত।এতগুলো জীবন নষ্ট হতো না।এতগুলো স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যেত না।এতগুলো মানুষকে প্রতিদিন শূন্যতা নিয়ে বাঁচতে হতো না। রাহির কথা মনে পড়ে ইশায়ার।মেয়েটার কান্নাভেজা মুখটা বারবার চোখের সামনে ভেসে উঠে।ছোট দাদাভাই বেরিয়ে যাওয়ার পর পর-ই খালামণি যেভাবে রাহির হাত টেনে তাকে এই বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়েছিলেন
সেই দৃশ্যটা এখনো স্পষ্ট মনে আছে তার।
রাহির অসহায় কান্না।তার ভাঙা চোখদুটো।
তার নিঃশব্দ কষ্ট।সবকিছু ইশায়ার ভীষণ খারাপ লাগছে।মেয়েটার কী দোষ ছিল?কাউকে ভালোবাসা কি অপরাধ।ইশায়ার চোখ দুটো ভিজে উঠে। বুকের ভেতরে জমে থাকা ক্ষোভ মাথা তুলে দাঁড়ায়।
দাঁতে দাঁত চেপে সে ফিসফিস করে বলে,
___এই সব কিছুর জন্য আপনি দায়ী, রাজভীর আলভারেয।তার কণ্ঠে জমে আছে ক্ষোভ।
___আপনার জন্য আজ কতগুলো জীবন নষ্ট হয়ে গেছে।কেউই সুখী নেই।সবার জীবন নষ্ট করে দিয়েছেন আপনি।নিজের মেয়েকেও ছাড়েননি।
চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে থাকে ইশায়ার।
___আপনার জন্য সবকিছু হয়েছে।সবকিছু ধ্বংস করে আপনি চলে গেছেন।
ইশায়া হাতের পিঠ দিয়ে চোখের পানি মুছে নেয়।
কিন্ত চোখের পানি মুছলেও হৃদয়ের ক্ষত কিভাবে মুছবে সে।
ইশায়া ফ্লোরে বসে পড়ে।
পিঠটা বিছানার সঙ্গে ঠেকিয়ে হাঁটু জড়িয়ে ধরে।
তারপর করে বিড়বিড় করে বলে,
___শেষবার চোখ মোছার পর…আপনাকে আমি ভীষণভাবে ঘৃণা করি।
কথাটা বলার সঙ্গে সঙ্গেই তার বুকের ভেতর কিছু একটা মোচড় দিয়ে উঠে।কারণ সে জানে এটাই সত্য নয়।এটা সেই সত্য নয়, যা সে এতদিন ধরে লুকিয়ে রেখেছে।
এটা সেই সত্য নয়, যা আজ পর্যন্ত কাউকে বলতে পারেনি।কেউ জানে না।কেউ কোনোদিন বুঝতেও পারেনি।তার ভেতরের সমস্ত বাঁধ ভেঙে যায়।
চেপে রাখা অনুভূতিগুলো আর আটকে রাখতে পারেনা।সে মাথা নিচু করে কাঁপা গলায় ফিসফিস করে বলেক্স
___আপনাকে আমি ভীষণভাবে ঘৃণা করি…
কয়েক সেকেন্ড নীরব থেকে নিজেই নিজের কথার জবাব দেয়,
___আসলেই কি তাই?
তার চোখ থেকে টুপটুপ করে অশ্রু পড়তে থাকে মেঝেতে।
___আমি সারা জীবন কান্না করতে চাই, তাও তোমাকে ঘৃনা করতে চাই না।
আমি চাই চোখের জল হয়ে হলেও, তুমি সারা জীবন আমার মনে থেকো।
___আমি তোমাকে অসম্ভব ভালোবাসি।
কথাটা বলেই সে মুখ চেপে ধরে কেঁদে উঠে।
কাঁদতে কাঁদতেই সে বলে,
___আমাকে ক্ষমা করে দিও, সাফাপু ছোট দাদাভাই…ইশায়ার চোখদুটো লাল হয়ে উঠেছে।
শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে তার তবুও সে থামে না। বিড়বিড় করতে থাকে।আমাকে ক্ষমা করে দিও তোমরা, সে খারাপ হলেও…
আমি তাকে ঘৃণা করতে পারিনি।
দীর্ঘক্ষণ কান্নার পর একসময় নিজেকে সামলে নেয় ইশায়া।চোখের পানি মুছে উঠে দাঁড়ায়। আলমারি খুলে নিজের পুরোনো জামাগুলোর মধ্যে থেকে একটি বের করে। তারপর নিঃশব্দে ওয়াশরুমে ঢুকে যায়।অনেকক্ষণ ধরে শাওয়ারের নেয়, শরীরের সঙ্গে সঙ্গে নিজের ভেতরে জমে থাকা সমস্ত ক্লান্তি, কষ্ট আর দুঃস্বপ্নগুলোও ধুয়ে ফেলছে সে।গোসল শেষে বেরিয়ে এসে আয়নার সামনে দাঁড়ায়।নিজের প্রতিচ্ছবির দিকে তাকিয়ে রয় কিছুক্ষণ।চোখ দুটো ক্লান্ত, মুখটা ফ্যাকাশে। তবুও সে নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করে।নতুন করে বাঁচতে হবে।নিজেকে শক্ত করতে হবে।যা চলে গেছে, তাকে।আঁকড়ে ধরে থাকলে চলবে না।অপাত্রে দান করেছো তুমি,
সব ভুলে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
___ঠিক তখনই রুমের দরজা খুলে ভেতরে ঢুকেন সায়মা রহমান।শব্দে ইশায়া পিছন ফিরে তাকায়।
___তুমি এখণ এখানে, মা? ঘুমাও নি।
সায়মা রহমান মৃদু হেসে বলেন,
___না, আজকে আমি তোর সাথে ঘুমাবো।
ইশায়া কিছু বলল না।শুধু ঠোঁটের কোণে মলিন একটা হাসি ফুটে উঠে।মেয়ের ভেজা চুলের দিকে তাকিয়ে সায়মা রহমান কপাল কুঁচকে বলেন,
__এত রাতে গোসল করলি কেন? চুলও মুছিসনি। ঠান্ডা লেগে যাবে তো।বলেই পাশে রাখা টাওয়ালটা হাতে তুলে নেন।তারপর আগের মতো যত্ন করে মেয়ের চুলের পানি মুছতে লাগলেন।
মায়ের সেই স্পর্শে ইশায়ার বুকটা কেমন করে উঠে।কতগুলো দিন পর আবার এই অনুভূতি।
চুল মুছতে মুছতে হঠাৎ সায়মা রহমান খেয়াল করেন, ইশায়ার পরা পুরোনো জামাটা শরীরে বেশ টাইট হয়ে গেছে।
তিনি নরম গলায় বলেন,
___কালকে তোকে নিয়ে শপিংয়ে যাবো। নতুন জামা কিনে আনবো।
ইশায়া কোনো উত্তর দেয় না।চুপচাপ বসে রয়।
সায়মা রহমানেএ মনে হাজারো প্রশ্ন জমে আছে, তবুও তিনি কিছু জিজ্ঞেস করেন নি।
ঠিক তখনই হাতে বড় একটা বাটি নিয়ে রুমে ঢুকেন আদনান রহমান।তাকে দেখেই ইশায়া অবাক হয়ে বলে,
___হাতে এটা কি, বাবা?
আদনান রহমান হেসে মেয়ের পাশে গিয়ে বসেন।
তারপর বাটিটা এগিয়ে দিয়ে বলেন,
__তোর জন্য রামেন করেছি, মা। তোর খুব পছন্দ না এটা?
কথাটা শুনেই ইশায়ার গলার কাছে দলা পাকিয়ে উঠে কিছু একটা।তবুও নিজেকে সামলে নিয়ে বলে,
___ তুমি কেন করলে, বাবা? তুমি না অসুস্থ।
আদনান রহমান মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে মৃদু হেসে বলেন,
সে আমার বন্দিনী পর্ব ১০১
___তোকে দেখে আমার সব অসুখ ভালো হয়ে গেছে রে, মা।বাবার কথায় ইশায়া আর কিছু বলতে পারে না।নিঃশব্দে বাবার হাত থেকে বাটিটা নিয়ে খেতে শুরু করে।আর বিছানার দুই পাশে বসে সায়মা রহমান আর আদনান রহমান মন ভরে তাকিয়ে দেখেন তাদের মেয়ের দিকে।
তাদের হারিয়ে যাওয়া সুখের পৃথিবীটা অবশেষে আবার তাদের কাছে ফিরে এসেছে।
সমাপ্ত
