Home সে খলনায়ক সে খলনায়ক পর্ব ২২

সে খলনায়ক পর্ব ২২

সে খলনায়ক পর্ব ২২
ফারহানা সানিয়াত

গার্ডেনে হাঁটার মাঝে যখন প্রাণপ্রিয়ার মনে এসেছিল
সারা তাকে বলেছিল পার্টিতে এসে প্রথম তার সাথে দেখা করতে । তৎক্ষণাৎ প্রাণপ্রিয়া ইভানকে বলে সারার সাথে দেখা করার উদ্দেশ্যে হাটা ধরেছিল। সে জানতো না সারাকে কোথায় পাওয়া যাবে তাই আশেপাশে দেখতে দেখতে হাঁটছিল কিন্তু গেস্ট হাউজের দিকটায় এসে যে এমন কিছু চোখে পড়বে
কে জানতো।
প্রাণপ্রিয়া তার লাল হয়ে যাওয়া গরম মুখানা দু হাত দিয়ে চেপে ধরে,,

__ ছি! ছি! ছি!সে এইসব কি দেখছে শেষমেষ তার চোখেই এদের ব্যক্তিগত মুহূর্ত পড়তে হলো!!
দামিয়ান প্রাণপ্রিয়াকে দেখে তার ঠোঁটের স্পর্শ আরো গাঢ় হয় সাথে অবাদ্য হাত সারার পেট থেকে কোমর অব্দি বিচরণ করা শুরু করে। এতে সারা দ্রুত চোখ খুলে দামিয়ান থেকে সরে যেতে নিলে দামিয়ান শক্ত হাতে চেপে পাশের টেবিলের উপর তাকে বসিয়ে দেয়।
প্রাণপ্রিয়া দূর থেকে এসব দেখে এবার তার মাথা ঘুরিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা, দামিয়ান সারাকে বসিয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে কাঁচের দেয়ালের দিকে তাকায়।
তবে প্রানপ্রিয়া চোখ মুখ খিচে পিছে ঘুরে এরমধ্যে দৌড়,,,সে নিশ্চিত যদি আর এক মুহূর্ত এখানে থাকে যা দেখা উচিত নয় তা দেখে ফেলবে ,,

দামিয়ান তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে প্রানপ্রিয়ার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে তার মনের ভেতর এক পৈচাশিক উত্তেজনার কামুক আকাঙ্ক্ষা যেটা সে সারা কে স্পর্শ করলেও অনুভব করতে চাইছে ওই আশ্রিতকে। বিরক্তিতে তার চোয়াল শক্ত হয় যায় কিভাবে সে একটা সামান্য আশ্রিতা কে বাসনা করছে যে বাসনা ছিল কিছুদিনের !!
সারা ঘনঘন নিশ্বাস নিয়ে দামিয়ানের দিকে তাকায় তার হাত পা কেপে ভেতরটা চিপ খেয়ে গেছে এরপর কি হবে বুঝতে পারছে না,,
প্রানপ্রিয়া দৌড়ে গার্ডেনের আগের জায়গায় এসে থেমে বুকে হাত দিয়ে বড় বড় নিশ্বাস নিতে থাকে, তার মুখ এখনো লাল,, সে ভাবতে পারছে না ‌মানুষ এত কমনসেন্স ছাড়া কিভাবে হতে পারে বাড়িতে এত মেহমান থাকতে এমন জায়গায় এসব করে যেখান যে কেউ দেখে ফেলতে পারে ছি!,,

রাত বাড়ার সাথে সাথে পুরো আবরার ম্যানশনে পার্টির ঝলমল বেড়ে উঠেছে। চারদিকে গেস্ট দিয়ে ভরপুর যেখানে চোখ যায় সেখানেই গেস্ট। ঢাকার অনেক বড় বড় ব্যবসায়ী কিছু সেলিব্রেটিদের ও দেখা যাচ্ছে আসলে বড়লোকদের পার্টি বলে কথা।
প্রাণপ্রিয়া আপাতত বসার ঘরে এক কোনায় দাঁড়িয়ে সে আশেপাশে দেখছে, শেষ ইভানের সাথে গার্ডেনে কথা হওয়ার পর তার আর কোনো খোঁজ নেই ফোন ও ধরছেনা কি আশ্চর্য মাঝে মাঝে এই ছেলের ওপর কি যে পরিমাণ,,, মনে মনে বাকিটা ভাবার আগে হাতে নীল জাতীয় পানীয় নিয়ে ইভান প্রাণপ্রিয়া সামনে এসে দাঁড়ায়।
__ ওহে আমার প্রানোপ্রিয়া সারার সাথে কি কথা হয়েছে?

প্রাণপ্রিয়া ইভানকে এতক্ষণ পর দেখে দাঁতে দাঁত চেপে কিড়মিড় করে উল্টো নিজে বলে ওঠে,, কোথায় মরতে গিয়েছিলি তুই,
ইভান বোকার মত হেহে করে হেসে উঠে ,, আর বলিস না গেস্টদের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম আম্মু ধরে বেঁধে নিয়ে গিয়েছিল।
দোতালার উপর গেস্টের সাথে দাঁড়িয়ে কথা বলছিল দামিয়ান। গেস্ট হাউস থেকে আসার পর সবার সাথে কথা বলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে সে। তবে হঠাৎ কথা বলার মাঝে চোখ ঘুরিয়ে নিচে তাকাতেই চোখে পড়ে প্রানপ্রিয়া সাথে ওই ডক্টরের ছেলে ইভান ,,
ইভান প্রাণপ্রিয়ার সাথে কথা বলতে বলতে তার কাঁধে হাত রাখে। দুজনের মাঝে বেশ খুনসুটি চলছে আশেপাশে তাদের কোনো কিছুই খেয়াল নেই,,

__ প্রিয়া নাকি, আকস্মিক সামনে থেকে সারা বলে ওঠে ,
এতে প্রাণপ্রিয়া আর ইভান দুজন ই চমকে সামনে তাকায়। সারা প্রানপ্রিয়ার পা থেকে মাথা অব্দি দেখে
__ সসারা আপু আআপনি, অপ্রস্তুত হাসি প্রাণপ্রিয়ার।
সারা এক ভ্র উঁচু করে হু আমি। সারার সাথে দুজন মেয়ে ও দাঁড়ানো,
ইভান‌ পাশ থেকে প্রাণপ্রিয়া কে বলে আমি একটু আসছি তুই এখানেই থাকিস, প্রানপ্রিয়া অসহায় মুখ করে তবে মাথা নাড়ায়।
সারার দৃষ্টি এখনো প্রানপ্রিয়ার দিকে সে ভাবতে পারছে না একজন আশ্রমের মেয়ে এত দামি জামা পেল কিভাবে!!
সারার পাশে দাঁড়ানো দুজন মেয়ে বলে ওঠে,, এই মেয়ে কি তোমার ফ্রেন্ড নাকি সারা,
প্রানপ্রিয়া দৃষ্টি নত করে, সারা হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ায় হুম আমার ফ্রেন্ড।
অন্যদিকে উপর থেকে দামিয়ান সবকিছু ই দেখছিল
তবে তার দৃষ্টি সোজা ছিল প্রাণপ্রিয়ার দিকে কারন তার দেওয়া ড্রেস পড়ে এই মেয়ে তার দৃষ্টি কেড়ে নিয়ে ছিল। তাহলে তার প্রতি কামুক বাসনা আসা টা কি স্বাভাবিক নয়! দামিয়ান দোতলায় রেলিংয়ে দু হাত ভর দিয়ে দাঁড়ায় অবশ্যই স্বাভাবিক কিন্তু সে এই মেয়ের থেকে এসব চায় না এটা তার কাছে বিরক্ত কর যাইহোক সে পা বাড়ায় নিচে যাওয়ার জন্য এসব চিন্তা ভাবনা আপাতত মস্তিষ্ক থেকে সরাতে চায়।
সারা তার পাশের দুটি মেয়ের সাথে প্রানপ্রিয়াকে পরিচয় করিয়ে দেয়। মেয়ে দুটি ছিল সারার কাজিন
প্রাণপ্রিয়া তাদের সাথে অনেকটা অপ্রস্তুত হয়ে কথা বলছিল বুঝতে পারছিল না তার কি কথা বলা উচিত কেমন জবাব দেওয়া উচিত অনেক টা হিমশিম খাচ্ছিল সে,,
দামিয়ান প্রানপ্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে স্বাভাবিকভাবে সারার পাশে দাঁড়ায়, সারা ঠোঁট প্রসারিত করে দামিয়ানের বাহু জরিয়ে ধরে বলে আমার কাজিনদের সাথে তোমার পরিচয় করাতে চাই দামিয়ান,,
দামিয়ান সারার দিকে তাকিয়ে ঠোঁটে মৃদু হাসি নিয়ে পাশে দুজন মেয়ের সাথে পরিচিত হয়।
এইদিকে প্রাণপ্রিয়া এতক্ষণ অপ্রস্তুত হিমশিম খেলেও এবার তার মুখ ফ্যাকাশে।
দামিয়ান দুজন মেয়ের সাথে কথা বলে শেষ করে সামনে প্রানপ্রিয়ার দিকে তাকায়। সারা এটা লক্ষ্য করে,,

__ আর এটা প্রাণপ্রিয়া।
সারা দামিয়ানের হাত শক্ত করে আঁকড়ে ধরে,প্রানপ্রিয়ার দৃষ্টি নত,,
___ তুমি তাকে চেনো তবুও পরিচয় করিয়ে দিলাম, বলেই সারা কিছুটা শব্দ করে হাসে কারণ তাকে দেখে আজ চিনতে পারা মুশকিল, আমার ফ্রেন্ড হয়েও আমি তাকে চিনতে পারিনি ভেবেছিলাম আঙ্কেলের কোনো পার্টনারের মেয়ে হবে।
সারা বিদ্রুপের ছদ্মবেশে যা বলল প্রাণপ্রিয়ার বুঝতে একটুও বাকি ছিল না, সে সাথে সাথে লজ্জায় দুহাতে শাড়ির আঁচল শক্ত করে ধরে। এটা অপমান করা ছিল তাকে,
__ এক্সকিউজ মি আমি কি আমার পার্টনারকে নিয়ে যেতে পারি? পাশ থেকে উষ্ণ কন্ঠ ইভানের,সারা মুখে হাসি বজায় রেখে ইভানের দিকে তাকায়।
ইভান তাদের সামনে বিনা দ্বিধায় প্রাণপ্রিয়ার হাত ধরে। এতে প্রাণপ্রিয়া একটু অবাক হয়, কিন্তু তার স্পর্শ প্রত্যাখ্যান করে না ।

__ আমি কি জানতে পারি প্রিয়া তোমার কি রকম পার্টনার। সারা ইভানের উদ্দেশ্যে জিজ্ঞেস করে ওঠে,
দামিয়ানের দৃষ্টি এখনো প্রানপ্রিয়ার দিকে স্থির,
ইভান মুখে চমৎকার হাসি ,, she is my lifeline আমার জীবনের সবকিছুর পার্টনার সে,
সারা ঠোট কামড়ে পাশে আড়চোখে দামিয়ান কে এক নজর দেখে,, ওহহ শুভকামনা তোমাদের জন্য
তুমি তোমার পার্টনারকে নিয়ে যেতে পারো।
ইভান হেসে মাথা নাড়ায় থ্যাঙ্ক ইউ, অতঃপর সে প্রাণপ্রিয়া কে নিয়ে চলে যায়।
দামিয়ানের স্থির দৃষ্টি এবার নড়েচড়ে উঠেছে তার কানে বাজছে ইভানের বলা কথা। সারা মনে মনে ভীষণ হাসছে প্রাণপ্রিয়াকে ইনভাইট করার উদ্দেশ্য সফল না হলেও আপাতত এটা খারাপ ছিল না। তবে ইভান কি এত দামি ড্রেস প্রাণপ্রিয়াকে কিনে দিয়েছে!!
ইভান প্রাণপ্রিয়ার হাত ধরে বসার ঘরের এক কোনায় নিয়ে আসে দাঁড়ায়। এই পাশটায় এতো মানুষ নেই আছে হালকা আলো সফট মিউজিক আর বসার টেবিল চেয়ার।
__ এখানে বস আমি খাওয়ার জন্য কিছু নিয়ে আসি, বলেই হাত ছেড়ে ইভান দ্রুত পায়ে হেঁটে চলে যায়।
প্রানপ্রিয়া ইভানের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে এরপর আশেপাশে তাকায় এই জাঁকজমকে পূর্ণ পরিবেশ তাদের মত মানুষের জন্য না এতটুক প্রাণপ্রিয়া বুঝতে পারছে।

গোল আকৃতির টেবিলে বসে আছে আবরার ম্যানসনের সদস্যরা , সাথে আছে ক্যাথরিন আর কিছু গেস্ট, গেস্টদের মধ্যে একজন ইভানের মম তিনি হুমায়ুন আবরারের এর সাথে বিনয়ের কন্ঠে কথা বলছেন,,
__ আমি ভেবেছিলাম ডক্টর ইসরাফিল আসবেন কিন্তু তিনি ব্যস্ত, হুমায়ুন বলেন।
ইভানের মম সৌজন্যমূলক হাসে,
__ আসলে ডক্টরদের ব্যস্ততা কি বলবো তবে তিনি বলেছেন আপনার সাথে কিছুদিনের মধ্যেই অবশ্যই দেখা করবেন।
হুমায়ুন মাথা নাড়ান, তাহলে ভালো আমি খুশি হব, আচ্ছা ইভান কোথায়? সে অবশ্যই অনেক বড় হয়ে গেছে তাকে তো দেখাই যায় না এখন সে কিসে পড়ে,
ইভানের মম মানে কল্পনা তিনি হাসেন, ভার্সিটি বিবিএ লাস্ট সেমিস্টার কিছুদিন পর কমপ্লিট হয়ে যাবে।

সে খলনায়ক পর্ব ২১

__ মাশাল্লাহ, খুব দ্রুত বড় হয়ে গেছে ছেলে- মেয়েরা, তারপর , তারপর তার কি করার ইচ্ছা আছে ?
হুমায়ুনের প্রশ্নে কল্পনা দীর্ঘশ্বাস ফেলেন,
__ তার কিছু করার ই ইচ্ছা নেই তাই আমরা ঠিক করেছি তাকে এমবি এর জন্য বাহিরে পাঠাবো।

সে খলনায়ক পর্ব ২৩