সে খলনায়ক পর্ব ২৫
ফারহানা সানিয়াত
বেলা দুপুর গড়িয়ে বিকেল,, আবরার ম্যানসনের গেস্ট হাউসের সামনে কালো রঙের গাড়ি এসে থামতেই দামিয়ান গাড়ির পিছনের দরজা খুলে বের হয়। সকাল থেকে সে হটেল renaissance ক্যাথরিনের সাথে ছিল সেখান থেকে ফিরলো মাত্র।
সে পা বাড়িয়ে গেস্ট হাউসের সদর দরজায় দিকে হাঁটা ধরে।
গেস্ট হাউসের বসার ঘরে সোফায় বসা সারা মনোযোগ তার হাতের ফোনে। তার থেকে কিছুদূরে আহানাফ দামিয়ানের খাঁচায় রাখা পাখিকে খাঁচা সহ ঘর থেকে এনে খাবার আর পানি দিচ্ছে কারন তার দেখা সবচেয়ে অসহায় ছোট্ট পাখি যার মৃত্যু যে কোন সময় দামিয়ান নামে একজন পাখি শিকারির কাছে হতে পারে ।
আহানাফ পাখিটির দিকে তাকিয়ে হা করে শ্বাস ফেলে বেচারা অসহায় ছোট্ট পাখি,
দামিয়ান ভেতরে ঢুকে সামনে সারা আর আহানাফকে দেখে কোনোরকম কথা ছাড়া সোফায় গিয়ে বসে,,
সারা চোখ তুলে তাকায় পাশ থেকে আহানাফ ও ঘুরে,, ব্রো তুমি!
দামিয়ান সোফায় ঘা এলিয়ে মাথা নাড়ায় হুম তার মুখে গম্ভীর্যতার ছাপ স্পষ্ট,সারা হাত থেকে ফোন পাশে রেখে হাসি মুখে টেবিলের উপর পানির গ্লাস দামিয়ানের দিকে ধরে, দামিয়ান গ্লাস হাতে নেয়।
আহানাফ পাখির খাঁচার দিক থেকে সরে সোফায় বসে,,
__ দামিয়ান এনগেজমেন্টের জন্য আমি ড্রেস সিলেক্ট করেছি। কিন্তু বুঝতে পারছি না কোন কালারটা পড়লে আমাকে ভালো লাগবে আমি চাই তুমি আমাকে একটা চুজ করে দাও ।
সারা আহ্লাদি কণ্ঠে দামিয়ানের দিকে তাকিয়ে বলে উঠে।
দামিয়ান পানি খেয়ে গ্লাস হাতে ধরা অবস্থায় বলে,,
__ এটা তুমি ভালো বুঝবে, তোমার নিজেরটা নিজে চুজ করা উচিত।
__ কিন্তু দামিয়ান আমি … বাকি কথা সারা বলার আগে আহানাফ বলে উঠে,
ব্রো গোলাপি রঙে আকর্ষণবোধ করে,
সারা দ্রুত দামিয়ান থেকে চোখ ঘুরিয়ে আহানাফের দিকে তাকায়,, আহানাফের ঠোটে হাসি।
__ তুমি কিভাবে জানো আহানাফ? সারা চোখে মুখে অবিশ্বাসের ছাপ গোলাপি রঙ !!!
আহানাফ সোফায় আয়েস করে সোয়,,এটা না জানার মত কি আছে দেখ না ব্রো ছোট্ট গোলাপি রঙের বাজিগার পাখিকে আকর্ষণের জন্য নিজের কাছে রেখে দিয়েছে, তবে এটা ঠিক পাখিটাকে ব্রো মেরে ফেলবে কিন্তু তোমার ড্রেস চুজ করার জন্য কাজের,
সারা আহানাফের কথা শুনে দৃষ্টি খাঁচার পাখির দিকে ফেলে, ছোট্ট পাখিটি সোনালী খাঁচার ভিতর ছটফট করছে বের হওয়ার জন্য।
দামিয়ান হাতের গ্লাস টেবিলে রেখে সে ও পাখিটি কে এক নজর দেখে এরপর ঘাড় ঘুরিয়ে ঝিল আর জঙ্গলের দিকে তাকায়,,
সেই আশ্রিতা সে নিঃশব্দে ঠোঁট আওড়ায় , যার আকর্ষণে পাখিটি তার কাছে, গম্ভীর মুখে ঠোঁটের কোণে কিঞ্চিত বাঁকা হাসি।
সারা বসা থেকে উঠে ধীর পায়ে পাখিটির দিকে এগিয়ে দুহাত পিছে বেঁধে দাড়ায়। পাখিটি তাকে দেখে কর্কশ কন্ঠে কিচিরমিচির করছে তার কপালে হালকা ভাঁজ পড়ে ,,
__ যাকে মেরে ফেলা হবে তার রংয়ের ড্রেস পড়বে সে!!
আশ্রমের গেটের সামনে দাড়িয়ে আছে প্রাণপ্রিয়া। ইভানের যাওয়ার সময় হয়েছে তাকে বিদায় জানাবে তাই।
ইভান গেটের বাইরে চোখে মুখে হতাশা ছাপ নিয়ে দাঁড়ানো, সে কোনভাবে ই প্রাণপ্রিয়া কে বুঝিয়ে সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেনি সেই কখন থেকে নানান কথা বলে বুঝিয়ে তবুও আরেকবার শেষ চেষ্টা হিসেবে।
__ কি করলে তুই তোর সিদ্ধান্ত বদলাবি প্রিয়া,, ইভানের কন্ঠ কেঁপে উঠে।
প্রাণপ্রিয়া হাসে,, এটা আমাদের বন্ধুত্বের সম্পর্কের জন্য ভালো আমি সিদ্ধান্ত বদলাবো কেনো,
ইভান রেগে উঠে প্রতিবার এই একই কথা তার,, তুই কি বুঝতে পারছিস না আমি তোকে হারাতে চাই না আর কোন সম্পর্ক দূরত্ব বজায় রাখলে টেকে,,
প্রাণপ্রিয়া দৃষ্টি নত ,, অবশ্যই টিকবে আমরা সবসময় বন্ধু থাকবো যতই কথা আর দেখা না হোক ।
মিনমিন কন্ঠ তার
__ তুই এমনটা বলতে পারিস না প্রিয়া? হঠাৎ করে এমনটা কিভাবে পারছিস।
__ দেরি হচ্ছে তোর,
ইভান বড় নিশ্বাস নিয়ে ঠোঁট কামড়ে অন্য দিকে তাকায়,,
__ আমাদের যদি আবারো দেখা হয় আমরা ঠিক স্বাভাবিকভাবে কথা বলব যেমনটা আমরা বলি,
__ আমারা কখনোই আলাদা হবো না আর দূরে ও থাকবো না বুঝতে পেরেছিস ,ইভান দাঁত চেপে উচ্চকণ্ঠে বলে ওঠে তার চোখ লাল হয়ে গেছে,
প্রাণপ্রিয়া নিস্তেজ ভাবে হাসে সে গেট থেকে দূরে সরে দাঁড়ায়,,
__ তুই একদমই বোকা হয়ে গেছিস ইভান তাই এটা বলছিস তোর বুঝতে হবে আমরা বড় হয়েছি তাই দূরে এমনিতেও থাকা উচিত,,
ইভান হাত মুষ্টি বন্ধ করে নেয় তার হৃদয়ে ভীষণভাবে যন্ত্রণা করছে, বুঝতে পারছে আর চেষ্টা করে লাভ নেই তাই অন্য তাকিয়ে যন্ত্রণা সহ্য করার জন্য ঢোক গিলে,,
প্রাণপ্রিয়া নত দৃষ্টি তুলে ঠোঁট টেনে অতি কষ্ট কিছুটা শব্দ করে হেসে বলে,,
এই যা তো আমি গেলাম তুইও সাবধানে যা ।
বলে প্রাণপ্রিয়া ঘুরে দ্রুত আশ্রমের দিকে হাটে ধরে, আর একবারের জন্য ও পিছে তাকায় না।
দামিয়ান কে বিশ্রাম নেওয়ার কথা বলে আহনাফ আর সারা চলে যেতেই দামিয়ান বাহিরে পরিবেশ আর আবহাওয়া দেখে ঝিলের পুলের দিকটায় চলে আসে। আজ সকাল থেকে মেঘলা আকাশ হওয়ার কারণে বাহিরে মৃদু শীতল বাতাস বইছে,,
দামিয়ান ধীর গতিতে জঙ্গলে যাওয়ার জন্য হাটা ধরে,সে এক হাত পকেট গুজে অন্য হাত দিয়ে কপালে পড়ে থাকা চুলগুলো উপরের দিকে ঠেলে দেয় তার মুখে গম্ভীর ভাব এখনো স্পষ্ট ছিল। সে হাঁটতে হাঁটতে পুলের শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়ে যায় ,,
__ সেই আশ্রিতা, আস্তে করে আওড়ায় দামিয়ান,
একটা বিরক্তিকর মেয়ে যে আজকাল তার মস্তিষ্কে জুড়ে,, আর এমনটা হাওয়ার কারন? নিজেকে নিজে প্রশ্ন করে দামিয়ান এবং সাথে সাথে এর উত্তর মনে চলে আসে যেটা ছিল এমন কিছু যা থেকে সে সবসময় দূরে থাকতে চেয়েছিল,,
দামিয়ান ঘাড় ঘুরিয়ে পানির দিকে তাকায় ,,স্বচ্ছ পানিতে বাতাসে হালকা ঢেউ হচ্ছে,, কিন্তু দূরে সে থাকতে চেয়েও সেই সামান্য আশ্রিতা থেকে বিনোদন ছাড়াও অনুভূতিতে জর্জরিত হাওয়া উত্তেজনাপূর্ণ কিছু আশা করছে যা সে দমন করতে পারছে না।
দামিয়ান আবার হাঁটা ধরে তার চোখে ওই মেয়ের সাথে দেখা হওয়ার প্রতিটা দৃশ্য এবং শেষ সেই রাতের পার্টিতে তার চোখের জলের সৌন্দর্য দৃশ্য ভেসে ওঠে এটা শুধু এখন না এটা কেটে যাওয়া দু দিনের মধ্যে প্রতিটা সময় ভেসে উঠেছিল এটা অবশ্যই তাকে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং তাকে অধিকার করার লম্পট চিন্তাভাবনা মনে গভীরভাবে পরিচালনা করছে।
বিরক্ত হয় দামিয়ান গভীর নিশ্বাস ফেলে শার্টের সামনের দুটো বোতাম খুলে, তার ধীর পায়ের হাটার অঙ্গভঙ্গি রুক্ষ হয়।
এটা কিভাবে চায় সে! সে তাকে বিনোদন হিসেবে দেখতে চেয়েছিল তার নিজের জায়গায় থেকে তাকে বিনোদন দিবে একজন সামান্য আশ্রমের আশ্রিতা।
কিন্তু স্বাভাবিক দিনগুলির মত আজকাল দিনগুলি স্বাভাবিক ছিল না সে জানে কারন ওই মেয়েকে নিয়ে ভাবতে ভাবতে যে অনুভূতি থেকে দূরে থাকতে চেয়েছিল সেই কামুক লালসা ভরা অনুভূতিতে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে তার মস্তিষ্ক জুড়ে থাকা মেয়েটার ওপর,,
আশ্রমের দিকে হাটা ধরলেও প্রাণপ্রিয়া চলে আসে জঙ্গলের দিকে কারন তার মন ভালো করার জন্য প্রকৃতি ছিল যথেষ্ট ।সে বাস্তবকে মেনে নিয়েছে কারণ সে নিজেও তার বন্ধুকে হারাতে চাইনি, চাইনি তাদের কত শত সুন্দর মুহূর্ত কখনো তিক্ত হয়ে যাক বাস্তবতায় নিচে, এটা কষ্টকর হলেও সঠিক সিদ্ধান্ত, অবশ্যই ইভান ও বুঝবে এটা সময়ের সাথে ।
প্রাণপ্রিয়া হা করে শ্বাস ফেলে যাইহোক সে এখন এসব ভাবনা থেকে বের হতে চায় তাই ঠোঁটের কোণে স্বচ্ছ হাসি নিয়ে জঙ্গলের গভীরে যেতে থাকে, আশ্রমে রহমান আঙ্কেল আছে এর জন্য এখানে সময় কাটাতে সমস্যা হবে না তার,
প্রাণপ্রিয়া চঞ্চল ভঙ্গিতে দ্রুত পায়ে হাঁটতে হাঁটতে একটা বিশাল বড় আম গাছের নিচে গিয়ে দাঁড়ায়,,
বর্ষাকাল গাছে আম নেই তবুও সে দক্ষতার সাথে গাছে উঠা শুরু করে আর উঠতে উঠতে অনেকটা উপরে উঠে তার মনে পড়ে আন্টি কেনো তাকে জংলি বলে এটা হাস্যকর।
এদিকে দামিয়ান ও হাঁটতে হাঁটতে ঠিক আম গাছটা নিচে এসে দাঁড়ায় জঙ্গলের গভীরে প্রকৃতি আরো সুন্দর এই দিকটায় সে আগে কখনো আসেনি তার অবশ্যই বন্দুকটা নিয়ে আসা উচিত ছিল।
প্রাণপ্রিয়া গাছের একটা ডালে বসে তবে! মানুষ যা আশা না করে তা আরো জীবনে বেশি করে হয়, কে জানতো প্রাণপ্রিয়ার বসা ডাল মজবুত না হওয়ার কারণে মট করে এক শব্দ হবে, প্রাণপ্রিয়া চমকে চিৎকার দিয়ে গাছের আরেক ডাল জড়িয়ে ধরে,
নিচে থাকা দামিয়ানের কানে চিৎকারের শব্দ আসতেই
সে কপালে ভাঁজ ফেলে গাছের উপরে তাকায়,
__ প্রাণপ্রিয়া!! আস্তে করে বলে ওঠে,,
প্রাণপ্রিয়ার বসা গাছের ডাল আরো একবার মট শব্দ করে উঠতেই ,,আআআআ!! তার পড়ে যাওয়ার ভীত চিৎকার।
দামিয়ান প্রাণপ্রিয়ার এমন অবস্থাতে ও শান্ত। সে পকেটে হাত গুজে তার দিকে শুধু তাকিয়ে থাকে।
বেচারা প্রাণপ্রিয়া নিচে পড়ার ভয়ে কলিজাটা তার শুকিয়ে কাঠ নিশ্চয়ই এখান থেকে পড়লে তার হাত পা ভাঙবে। সে নিচে আশেপাশে তাকানো শুরু করে সাহায্যের জন্য,, তৎক্ষণাৎ চোখে পড়ে নেভি ব্লু কালার শার্ট পড়া পাগল দামিয়ান যে তার দিকে তাকিয়ে আছে,,
__ এই পাগল লোক !
দামিয়ান ঠোঁটে বাঁকা হাসি ফুটে ওঠে প্রাণপ্রিয়াকে তার দিকে তাকাতে দেখে,,
__ সাহায্য লাগবে নাকি? সে জিজ্ঞেস করে,
প্রাণপ্রিয়া ঠোঁট কামড়ে ধরে সেই কেনো ,
__ তুমি চাইলে আমি সাহায্য করতে পারি,
__ একদমই না!! উচ্চকণ্ঠ প্রাণপ্রিয়ার, এমন লোকের সাহায্য থেকে হাত পা ভাঙুক ই ভালো,,
দামিয়ানের চোখ সরু হয় তার সাহায্যকে প্রত্যাখ্যান করার জন্য,, ঠিক আছে তাহলে আমি তোমার গাছ থেকে পড়ে যাওয়ার বিনোদন নেই কি বলো,
প্রাণপ্রিয়া চোখ বন্ধ করে নেয় পাগল নিষ্ঠুর সে বিড়বিড় করে ওঠে আর তখনই গাছের ডাল মুহূর্তের মধ্যে ভেঙ্গে প্রাণপ্রিয়া পড়ে তার উচ্চস্বরের চিৎকার,,
দামিয়ান দ্রুত কদম বাড়ায় তাকে ধরার জন্য এরপর! এরপর! মাটিতে আছড়ে পড়া শব্দ,
প্রাণপ্রিয়ার মাথা ঝিম ধরে ওঠে হয়তো জ্ঞান হারাবে,
সে কাঁপছে কিন্তু অবিশ্বাস্য ব্যাপার সে একটু ও ব্যথা পাইনি উল্টো আরাম আর উষ্ণ অনুভব করছে ,,
__ তোমার উচিত ছিল আমার সাহায্য নেওয়া, পরিচিত ভারী কন্ঠ,
প্রাণপ্রিয়া তড়িৎ গতিতে চোখ খুলে মাথা তুলে তাকায়,,দামিয়ান যে তাকে জড়িয়ে ধরেছে যাকে সে নিজেও জড়িয়ে ধরে আছে,,সর্বাঙ্গ কেঁপে ওঠে তার দ্রুত নিজেকে সামলে সরে যেতে নিলে দামিয়ানের জন্য পারেনা কারণ সে তাকে শক্ত করে ধরেছিল। প্রাণপ্রিয়া ঢোক গিলে সে দামিয়ানের হার্টবিট শুনতে পাচ্ছে কেমন অদ্ভুত অনুভূতি তার গাল লাল হয়ে গরম হয়ে যাচ্ছে কি হচ্ছে তার সাথে,
__ আমি এতটাও হার্টলেস না মিস প্রাণপ্রিয়া,,
__ আপনি ছাড়ুন আমাকে, প্রাণপ্রিয় সরে যাওয়ার আবার চেষ্টা।
দামিয়ান শব্দ করে হাসে তার দৃষ্টি প্রাণপ্রিয়া দিকে সে তার নরম শরীরের ঝাকুনি উষ্ণতা আর মিষ্টির গান আরো গভীরভাবে নেওয়ার জন্য তাকে ঘুরিয়ে নিজের শরীরের উপর উঠিয়ে নেয়।
এতে প্রাণপ্রিয়া ভরকে যায় সে চিৎকার দিতে নিলে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির জন্য গলা দিয়ে আওয়াজ বের হয় না সে বুঝতে পারে দামিয়ানের শরীরের সাথে তার শরীরের স্পর্শ খুবই বাজে ভাবে হচ্ছে যা নিতে পারা কঠিন তাই ছটফট করা শুরু করে।
__ hey stop, ফিসফিস কন্ঠ দামিয়ানের,
__ ছছাড়ুন আমাকে, অস্পষ্ট কন্ঠ প্রাণপ্রিয়ার।
দামিয়ান ঠোঁটে কোনে হাসি নিয়ে প্রাণপ্রিয়ার কোমরের থেকে হাত আস্তে আস্তে পিঠ পর্যন্ত এনে তার সাথে আর ও চেপে ধরে, এতে প্রাণপ্রিয় ভয়ে মরিয়া হয়ে ওঠে ছাড়া পাওয়ার জন্য,,
__ আমার সাহায্য প্রত্যাখ্যান করার পরও আমি তোমাকে বাঁচিয়েছি আর তুমি ছটফট করছ আমার থেকে পালানোর জন্য,
__ আআপনি আমাকে ছাড়ুন, প্রাণপ্রিয়া তার সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করে কিন্তু একজন পুরুষের কাছে তার শক্তি কিছুই না তাই আচমকা দামিয়ানের কাঁধে কামড় দিয়ে বসে।
এতে যন্ত্রণায় দামিয়ানের হাতে আলগা হয়ে যেতে ই প্রাণ প্রিয়া দ্রুত তার উপর থেকে উঠে ছিটকে দূরে সরে যায় তবে মুহূর্তে ই দামিয়ান তার পা ধরে আটকে এবং সে সোয়া উঠে প্রাণপ্রিয়াকে ঠেলে তার ভারি শরীরের ভর প্রাণপ্রিয়ার ওপর দেয়।
প্রাণপ্রিয়া হতবাক ভয় তার শরীরের কাঁপন খুব খারাপ ভাবে শুরু হয়ে যায়, দামিয়ান দাঁত চেপে তীক্ষ্ণ চোখে তার দিকে তাকিয়ে বলে,,
__ কি করলে তুমি ?
প্রাণপ্রিয়া জবাব না দিয়ে চিৎকার দিয়ে ওঠে ছাড়ুন!!!দামিয়ানের চোখ আরও তীক্ষ্ণ হয়,
__ তোমাকে এ নিয়ে আমি দুবার বাঁচিয়েছি আর তুমি,, সে ঝুঁকে,
প্রাণপ্রিয়া ছটফট শরীর সে তার থেকে মুক্তি চায় ছাড়ুননন!!
__ তোমার মনে হয় না তুমি আমার সাথে বেয়াদবি করেছ,
__ বেশ করেছি , প্রাণপ্রিয়া ঘাড় ঘুরিয়ে নেয়,দামিয়ান তার দিকে আরো ঝুঁকে প্রাণপ্রিয়ার শরীরের গোলাপের মিষ্টির গান তার নাকে বাজে।
__ তাই নাকি, সে ফিসফিস করে,
__ হহ্যাঁ অবশ্যই কারণ আপনি নিজেও একজন বেয়াদপ না হলে আপনি আমার সাথে এমন কিভাবে করে করতে পারছেন,, শেষের কথাটা প্রাণপ্রিয় চিৎকার দিয়ে বলে ছাড় পাওয়ার জন্য শরীর ঝাকুনি দেয় কিন্তু তার অবস্থান এক হয়ে জায়গায়।
দামিয়ান বাঁকা হাসে,, তাহলে তো এটা কিছুই না আমি এর থেকেও বেশি বেয়াদবি করতে পারি দেখবে বলেই দামিয়ান প্রাণপ্রিয়া হাত ছেড়ে দেয়।
প্রাণপ্রিয়া তার দিকে ঘুরে তাকায় সে ভাবে ছাড়া পেয়েছে সে পালাতে পারবে কিন্তু আকস্মিক দামিয়ান এমন একটা কাজ করে বসে যে প্রাণপ্রিয়ার চিৎকারের শব্দ আগে থেকে দ্বিগুণ হয়ে যায়।
দামিয়ান শব্দ করে হেসে উঠে তার দৃষ্টি প্রাণপ্রিয়ার বুকের দিকে সে তার শার্ট টান মেরে সামনে
অনেকগুলো বোতাম ছিড়ে ফেলেছে এতে তার ভেতরের অন্তর্বাস দেখা যাচ্ছে,
প্রাণপ্রিয়ার চিৎকারের শব্দ থামেনি সে চোখ বন্ধ করে দুহাত দিয়ে নিজেকে ঢাকায় চেষ্টা করে কিন্তু দামিয়ান হাত আবার চেপে ধরে,,
সে খলনায়ক পর্ব ২৪
__ আমি এর থেকেও বেয়াদব হতে পারি আরো দেখবে,,
দামিয়ানের দৃষ্টিতে লালসা যা তার মনের ভেতর ছিল এই মেয়ের জন্য,,আমি তোমাকে দেখাবো অবশ্যই দেখাবো বলেই সে প্রাণপ্রিয়ার গলায় মুখ ডুবিয়ে দেয়,
