সে খলনায়ক পর্ব ৩৮
ফারহানা সানিয়াত
আবরার ম্যানশনের গেইট দিয়ে হতাশা মুখ নিয়ে প্রবেশ করল প্রানপ্রিয়া। হাতে তার মিস্টার রহমানের দেওয়া হিসাবের কাগজপত্র যেগুলো এখন তার ওই পাগল লোককে দিতে হবে । প্রানপ্রিয়া হা করে শ্বাস ফেলে তার ভাবনার মাঝে বাস্তবতায় যেন কিছুই করার নেই।
বিশাল বড় বাড়ির চারপাশে নিস্তব্ধতা। হালকা মৃদু বাতাসে তার হাঁটার সাথে সাথে পড়নের গোল সাদা জামা নিচ দিয়ে দুলছে। সে বাড়ির সরু পথ দিয়ে হেঁটে গার্ডেনের দিকটায় চলে আসতে নাকে চন্দ্রমল্লিকা ফুলের সুবাস, প্রাণপ্রিয়া মনমুগ্ধ হয়ে গার্ডেনের বাম পাশের দিকে তাকায় চারপাশে বিশাল বড় বড় গাছের নিচে মাঝারি সাইজের গাছগুলোতে রংবেরঙের ফুল ফুটে আছে দেখতে অনেকটা সূর্যমূখী ফুলের মতো। প্রানপ্রিয়া দাঁড়িয়ে যায়। বিকেলের এখানকার পরিবেশ তার হতাশা ভাবটা কেমন মুহূর্তে কাটিয়ে দেয়। সে চোখ বুজে মৃদু হাসি টেনে বড় নিশ্বাস নিবে তখনি আকম্মিক পিছন থেকে পরিচিত মেয়েলী কন্ঠ।
__ প্রিয়া!
সে পিছে ঘুরে তাকায়।
__ অনেকদিন পর দেখা! মুখে স্বচ্ছ হাসি নিয়ে সারা বলে ওঠে।
প্রানপ্রিয়া দৃষ্টি নত করে সব সময়ের মতো হাত দুটো সামনে আঁকড়ে ধরে,
__ জী,
__ কেমন আছো?সারা জিজ্ঞেস করে
সে প্রানপ্রিয়ার মাথা থেকে পা অব্দি স্ক্যান করে।
সাদা গোল পড়া তার চুল গুলো বেনি করে কিছুটা ছাড়া ছাড়া অগোছালো কাঁধে ছাই রঙের ব্যাগ হাতে কিছু কাগজপত্র।
__ ভা,,ভলো, ?
সারা তার মুখে দৃষ্টি রাখে,
__ হুম
প্রানপ্রিয়া ঠোঁটে হাসি প্রসারিত করে।
__ তো আজ হঠাৎ এই বাসায় কোনো কাজে ?
প্রানপ্রিয়া দৃষ্টি তুলে,
__ জি,
সারা মুখে কিছুটা বিরক্তির ভাব ফুটে ওঠে,
__ ওহ তো কোন কাজে এসেছ?
সারা জিজ্ঞেস করে নিজেই প্রানপ্রিয়ার হাত থেকে কাগজগুলো নিয়ে দেখা শুরু করে।
প্রানপ্রিয়ার মুখ থমথমে হয়ে যায়,
সারা কাগজ গুলোর দিকে তাকিয়ে বলে উঠে,
__ আশ্রমের মাসিক হিসাব!
তার মনে পড়ে কাল দামিয়ানের টেবিলের উপর ও সে আশ্রমের হিসাবের কাগজপত্র দেখে ছিল।
__ কিন্তু দামিয়ান তো বাসায় নেই,
সারা প্রানপ্রিয়ার দিকে তাকিয়ে কাগজগুলো তার দিকে ধরে।
প্রানপ্রিয়া দৃষ্টি নত করে, কাগজগুলো হাতে নেয় তবে তার থমথমে মুখে উজ্জ্বলতা ছড়িয়ে পড়েছে কারন পাগল লোক বাসায় নেই।
সারা তার দিক থেকে চোখ সরিয়ে গার্ডেনের দিকে চোখ রাখে।
__ তুমি গেস্ট হাউসে রেখে যেও দামিয়ান পড়ে চেক করে নিবে।
প্রানপ্রিয়া খুশি মনে বা দিকে মাথা কাত করে।
সারা বুকে হাত গুঁজে, তাহলে এখন তুমি আমাকে একটা কাজ করে দাও চন্দ্রমল্লিকা বাগানে সব থেকে সুন্দর ফুল গুলো তুলে নিয়ে আসো আমি ঘরে সাজাবো।
বলে সারা প্রানপ্রিয়ার দিকে তাকায়।
প্রানপ্রিয়া খুশি হয়ে চঞ্চল মনে কাঁধের ব্যাগ ঘাসের উপর রেখে তার ওপর হিসাবের কাগজগুলো রাখে অতঃপর,,,,
__ অবশ্যই আপু।
এদিকে মেইন গেইট দিয়ে কালো রঙের মার্সিডিজ গাড়ি ঢুকে সোজা গেস্ট হাউজের কাছে গিয়ে থামতেই দামিয়ান গাড়ির দরজার খুলে বের হয়। তার পরনের সাদা রঙের শার্ট আর ফরমাল প্যান্ট এক হাতে কোট ঝুলানো অন্য হাতে ফোন যেটা কানে ধরে গম্ভীর কন্ঠে কারো সাথে কথা বলতে বলতে গেস্ট হাউসের ভেতরে প্রবেশ করে।
__ আমি যত দিন না আসবো তাকে চোখে চোখে রাখবে কোনো ভাবেই যাতে সে বাংলাদেশ না আসতে পারে।
ওপাশ থেকে কে কি বলল শোনা না গেলেও,
দামিয়ানের ঠোঁটে বাঁকা হাসি ফুটে ওঠে, সে বসার ঘর পার হয়ে বেডরুমে পা রাখতেই ফোন কান থেকে সরিয়ে হাতের কোট পাশের একটা টেবিলে রাখে।
__ আফসোস ডাক্তারের ছেলের জন্য তাকে সেখানে তার ইচ্ছা অনুযায়ী থাকতে হবে।
দামিয়ান হাসে, হাতের ফোনটাও টেবিলের উপর রাখে তবে ধীরে ধীরে মুখে থেকে হাসি গায়েব হতে থাকে অঙ্গভঙ্গিতে কিছুটা রুক্ষ ভাব চলে আসে।
তার ফোনের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি,
__ কিন্তু ওই আশ্রিতার সাহস কি করে হয় তার মেসেজের জবাব না দেওয়া!
দামিয়ান হাত ঘড়ি খুলে বিছানায় ছুড়ে মারে।
__ তার কি উচিত ওই মেয়েকে শুধুই কাঁদানো?
বাগানের মাঝ থেকে প্রানপ্রিয়া অনেকগুলো হলুদ রঙের চন্দ্রমল্লিকা ফুল নিয়ে সারার কাছে এসে দাঁড়ায়।
__ হলুদ ফুল তোমার ঘর অনুযায়ী মানাবে।
সারা ঠোঁট মৃদু হাসি নিয়ে তার হাত থেকে ফুলগুলো নেয় তবে সব না।
__ তোমার পছন্দ আমার ভালো লাগে।
প্রানপ্রিয়া তার হাতের দিকে তাকায়,
__আজ আমি চলে যাব তাই যাওয়ার আগে দামিয়ানকে কিছু ফুল দিতে চাই। এটা আমার তার প্রতি ভালোবাসা তুমি তো গেস্ট হাউসে যাচ্ছ তার ঘরে ড্রেসিং টেবিলের উপর রেখে দিও। সারার নরম স্বরে লজ্জা মাখা কন্ঠ ।
প্রানপ্রিয়ার হাত হঠাৎ কেঁপে উঠে মনের ভেতর একটা ভারী অনুভূতি হয়। সেই জঙ্গলে তার ভালোবাসার বাগদত্তা তার প্রথম চুম্বন কেড়ে নিয়েছে তাকে স্পর্শ করেছে। মাথা নত করে ঠোঁট কামড়ে ধরে স্মৃতিগুলো তাকে করুন বোধ করতে ব্যর্থ হচ্ছে না লোকটির শান্ত কন্ঠ ,তার মৃদু হাসি এবং তার দৃঢ়, উত্সাহী হাতের স্পর্শ তার মন জুড়ে উড়ে গেল।
__ কি হলো তোমার?
সারার কন্ঠে প্রাণপ্রিয়া নিজেকে সামলে মাথা তুলে তাকায়,,
__ কিকছু না।
সারা চোখ ঘুরিয়ে মাথা নাড়ায় এরপর চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই তার ঠোঁটে কোণে অদ্ভুত হাসি ফুটে ওঠে।
__ সে জানে মেয়েটির মনে কিছু নেই। তবুও তার মস্তিষ্কে রাখা উচিত দামিয়ানের প্রতি তার ভালোবাসা সত্যি হোক আর মিথ্যা সে শুধু তার।
প্রানপ্রিয়া এক হাত দিয়ে বুকের সাথে কাগজপত্র গুলো চেপে অন্যহাতে ফুল ধরে গেস্ট হাউসে প্রবেশ করে। আপাতত তার মুখে কোনো ভয়, অস্বস্তি ,কিছুই নেই। খোশ মেজাজে সে হেলে দুলে সোজা দামিয়ানের বেড রুমে ঢুকে পড়ে। সে হাঁটতে হাঁটতে চারপাশে চোখ বুলায়। গোছানো পরিপাটি রাজকীয় ঘর, একটা সুন্দর মিষ্টি সুবাস তার নাকের বাঁধছে। প্রানপ্রিয়া ড্রেসিং টেবিলের কাছে এগিয়ে যায়। হাতের কাগজপত্র আর আর ফুলগুলো যত্ন সহকারে রাখে। রাখা শেষ হলে যেভাবে এসেছিল ঠিক সেভাবে আবার চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতে নিবে তখনি কিছু একটা তার চোখে পড়তেই দাঁড়িয়ে যায়।
__ তার চুলের কাঠি!! যেটা ড্রেসিং টেবিলের ওপরে রাখা।
তার দৃষ্টি সরু হয় আশেপাশে এক নজর দেখে ছো মেরে কাঠি হাতে নিয়ে দাঁত চেপে বিড়বিড় করে বলা শুরু করে,,
__ পাগল কোথাকার অন্যের জিনিস নিজের ,,,,
বাকি কথা বলা আর শেষ করতে পারেনা। আকম্মিক ওয়াশরুমের দরজা খুলতেই চমকে সে পিছে ঘুরে তাকায়, ইতিমধ্যে তার হাত থেকে চুলের কাঠি নিচে পড়ে ও গেছে।
দামিয়ান তার মাথার কাছ থেকে টাওয়ারটা সরিয়ে দৃষ্টি তীক্ষ্ণ করে নিচে পড়া কাঠি টার দিকে এক নজর দেখে এরপর প্রানপ্রিয়ার দিকে সে হেসে ওঠে তবে মনে মনে।
প্রানপ্রিয়া শরীরে কম্পন। সে এক পা এক পা করে পিছে যেতে যেতে এক ছুটে দৌড় যেন সে ভূত দেখেছে দামিয়ানকে উপহাস করে।
এটা বেশ মজার ছিল এবং আরো মজার ছিল সে তার থেকে পালিয়ে যাওয়ার সাহস করছে,দামিয়ান বাঁকা হাসে হাতের টাওয়াল টা ছুড়ে ফেলে সে তাকে তাড়া করা শুরু করে।
প্রানপ্রিয়া গেস্ট হাউস থেকে বের হয়ে জঙ্গলের পুলের লম্বা রাস্তায় দৌড়ে যাচ্ছে, সে পিছে ঘুরে তাকায়।
দামিয়ানের অগ্রগতি দীর্ঘতর হয়েছে, এবং দ্রুতের সাথে তাদের মধ্যে ব্যবধান সংকুচিত হচ্ছে। প্রানপ্রিয়া ভয় পেয়ে দৌড়ানোর মাঝে হোঁচট খেয়ে পড়ে যেতে নেয় তবে অবশেষে ধরা পড়ে দামিয়ানের কাছে, প্রানপ্রিয়া তার বিরুদ্ধে লড়াই করা শুরু করে।
__ ছাড়ুন আমাকে ছাড়ুন!!!!
কিন্তু দামিয়ান তাকে পুলের রেলিংয়ের দিকে হেলিয়ে তার এক হাত দিয়ে তার হাত পিছনে দিকে মুচড়ে ধরে আর অন্য হাত দিয়ে আক্রমনাত্মকভাবে তার চুল আকড়ে ধরে জোরে জোরে রুক্ষ নিশ্বাস ফেলতে থাকে।
প্রানপ্রিয়া ব্যথায় আহ শব্দ করে চোখ বুজে নেয়।
দামিয়ান হাসে,
__ কোথায় পালাচ্ছো প্রাণপ্রিয়া? তার হাত আরো শক্ত হয়।
প্রানপ্রিয়া হুঁ হুঁ করে কেঁদে ওঠে তার ব্যাথায় নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম।
__ আমি প্রশ্ন করলে তুমি উত্তর দিতে বাধ্য, তার ফিসফিস কন্ঠ,
প্রানপ্রিয়া ঠোঁট কামড়ে চোখ খুলে তাকায় দামিয়ান তার দিকে ঝুঁকে তার ভেজা চুলের পানি তার গাল স্পর্শ করে।
__ প্রানপ্রিয়া! সে রুক্ষ কন্ঠে ধমকে উঠে।
প্রানপ্রিয়া কেঁপে দূরে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু দামিয়ান তাকে এতটা শক্ত করে ধরেছে যে উল্টো তার বুকে দামিয়ানের শরীরের সাথে স্পর্শ করছে।
প্রানপ্রিয়ার ভয়ে ব্যাথায় লজ্জায় চোখের জল অনবরত পড়া শুরু করা।
__ , কেকনো আপনি আমার সাথে এমন করছেন? সে শরীর ঝাকিয়ে কম্পিত কণ্ঠে বলে ওঠে।
দামিয়ান তার নিরর্থক প্রচেষ্টায় মুগ্ধ হয়ে তার বুকের সাথে তার বুক আরো চেপে ধরে। প্রানপ্রিয়ার অসহায়ত্বে সে সন্তুষ্ট তাদের অঙ্গে জড়িয়ে থাকা দেহের অবস্থা দেখে।
__ তুমি চুরি করছিলে আবারো, তার উপহাস কন্ঠ।
__ না,
__ তাহলে পালাচ্ছ কেনো?
প্রানপ্রিয়া তার নির্দয় চোখ দুটোর দিকে তাকিয়ে,
__ সেটা আমার যেটা আপনি নিজের কাছে রেখেছেন তাহলে চুরি কে করেছে?
__ ভেবেচিন্তে কথা বলো আমার সাথে প্রাণপ্রিয়া,
__ কেনো? প্রাণপ্রিয়ার চোখ, মুখ, শরীরে ভয়ে কাঁপতে থাকলেও তার কন্ঠে এখনো সাহস ভয়ে যাচ্ছে।
__ সেটা আমার,
__ কিন্তু এখন আমার। কারন আমার কাছে আমি তোমাকে জানিয়েছি তুমি আমার কাছ থেকে হাত পেতে চাইবে। কিন্তু এটা না করে তুমি চুরি করছো,
তার ঠোঁট হাসি ছড়িয়ে পড়ে তাকে কাঁদানো আর অপমান সে অনেকদিন পর তৃপ্তি বোধ করছে।
প্রাণপ্রিয়া চিৎকার করে বলে, কেন আমি আপনার থেকে চাইবো? কেনো আপনি আমার জিনিসগুলো নিজের কাছে রেখে দিয়ে আবার আমাকে দিয়ে আপনার কাছে থেকে ভিক্ষা করান, কেনো?
অশ্রুসিক্ত নয়নে প্রাণপ্রিয়া বলে ওঠে, চুলের মুঠি ধরে রাখা দামিয়ানের হাত আরো শক্ত হয়, সে ক্রর হাসে এরপর প্রাণপ্রিয়ার কানের কাছে গিয়ে ফিসফিস করে বলে,,
__ একদিন তোমার জীবনটাও আমি নিয়ে নিব, এরপর তুমি আমার কাছে নিজের জীবন ও ভিক্ষা চাইবে,
প্রানপ্রিয়ার স্তব্ধ দৃষ্টি, তার চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়েছে ।দামিয়ান তার চোখের দিকে তাকিয়ে পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়া সূর্যের লাল আভা প্রানপ্রিয়ার চোখে মুখে পড়ে অশ্রুগুলো মুক্তার মত জ্বলজ্বলে করছে। তার ঠোঁট দুটো কাঁপছে, কপালের চুলগুলো বাতাসে এলোমেলো হয়ে গেছে।
দামিয়ান কিছুটা নরম হয় তার মুচড়ে ধরা হাত ছেড়ে ধীরে ধীরে তার নরম গাল স্পর্শ করে এবং চোখ চোখ রেখে ঠোঁটের দিকে এগোতে এগোতে মৃদু ধীর কন্ঠে ফিসফিস করে বলে,
__ তোমার সুন্দর চেহারাতে সাহস মানায় না লিটল বার্ড।
প্রানপ্রিয়ার ভেতর মুহূর্তে কেঁপে উঠে, দামিয়ান তার চুল ছেড়ে ঘাড়ে হাত রেখে ঠোঁট ঠোঁট হালকা ভাবে স্পর্শ করতেই তৎক্ষণাৎ প্রাণপ্রিয়া এক ধাক্কায় তাকে সরিয়ে নিজেও ছিটকে দূরে সরে যায়।
__ বাজে পাগল লোক! তার ক্রোধ মিশ্রিত উচ্চকণ্ঠ।
দামিয়ান দু কদম পিছনে চলে যায়। সে চোখ বন্ধ করে দাঁত চেপে হাত মুষ্টিবদ্ধ করে রুক্ষ নিশ্বাস ফেলে।
প্রানপ্রিয়া তাচ্ছিল্য হেসে বলে, দুদিন ভদ্রলোকের মতো ব্যবহার করলে কেউ ভদ্রলোক হয়ে যায় না। বাজে অশ্লীল লোক! কেনো বারবার আমাকে স্পর্শ করেন আমি ঘৃণা করি বলেছি না। প্রানপ্রিয়া রাগে ঠোঁট ঘষা শুরু করে ঘন ঘন নিশ্বাস নিতে থাকে।
দায়িয়ান চোখ খুলে তার দিকে তাকায়, সে জানে কিভাবে সময়মত নিজেকে সংযত রাখতে হয় তাই ঠোঁটে হাসি টেনে শীতল কন্ঠ বলে,
__ আশা করি তোমার পরবর্তী দিনগুলো খুব ভালো যাবে।
দামিয়ানের ঠোঁটে হাসি প্রসারিত হয়। আর কোন কথা না বাড়িয়ে গেস্ট হাউসে ফিরে যাওয়ার জন্য ঘুরে দাঁড়ায়।
__ But I like your body smile.
আবারো তার ধীর কন্ঠ। এরপর সে চলে যায়।
প্রানপ্রিয়া ঠোঁটে হাত রাখা অবস্থায় কপাল গুটিয়ে তার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে। লোকটা কথায় যেন তার ভেতরে শিহরণ খেলে গেল। এক অদ্ভুত অনুভূতি তার অপমান আর স্পর্শ ঢেকে দিচ্ছে আর আশ্চর্যভাবে হৃদস্পন্দন বেড়ে যাচ্ছে। প্রানপ্রিয়া বুকে হাত দিয়ে দামিয়ানকে দেখে লম্বা চড়া সুদর্শন সুঠাম দেহের পুরুষটির ব্যবহার রুক্ষ কিন্তু তার বলা কথা তাকে আজকাল কেনো এভাবে প্রভাবিত করেছে। অবশ্যই তার উচিত এই অনুভূতি কেউ ও ঘৃণা করা।
সে খলনায়ক পর্ব ৩৭
অন্যদিকে আহানাফ গেস্ট হাউজের খোলা জায়গায় যেখান থেকে ঝিল আর পুল স্পষ্ট ভাবে দেখা যায় সেখানে সে মূর্তির ন্যায় দাঁড়িয়ে আছে। সে আপাতত চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না। পুলে দাঁড়ানো দুজন মানব মানবীর মধ্যে হওয়া ঘটনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দৃশ্য যেখানে তার ভাই আশ্রিতা মেয়েটিকে আপত্তিকর স্পর্শের সাথে চুম্বন করতে চাইছিল। আহানাফের মস্তিষ্ক এবার এক এক করে সব স্পষ্ট হতে থাকে সাদা রঙের ড্রেস গিফট, ঘাড়ে কামড়ের দাগ আর ডক্টর ইসরাফিল খানের ছেলেকে হঠাৎ রাশিয়া পাঠিয়ে দেওয়ার কারন কি।
