হাওয়াই মিঠাই পর্ব ২১
তামান্না ইসলাম শিমলা
আজকের রাতটাও তেহরাবের নির্ঘুম কেটেছে, তবে কারনটা আজ ছিল ভিন্ন।
অতিরিক্ত খুশি, উত্তেজনায় তার ঘুম হয় নি। সে যে তার এলোকেশীকে পেতে যাচ্ছে অবশেষে, সকাল সকাল রেডি হয়ে বসে আছে।
ছেলের এহেম কান্ডে তাসলিমা আড় চোখর তাকিয়ে বিড়বিড় করছে কতকি, ইরা তো বলেই ফেলে,
“তোর যে এত বিয়ে করার তারা আগে জানতাম না, রেডি হয়ে বসে আছিস। দেখিস তোকে আব্বু নিবেই না!”
অবশ্য ইরার কথায় পাত্তা দেয়নি তেহরাব, তাকে নেওয়া না নেওয়ার কি আছে? সে কি একা যেতে পারবে না?
বেলা এগারোটা বাজে এখন,ইউসুফও পাঞ্জাবী পরে নিচে আসলেন। ইরা ও তাসলিমাও রেডি,
“চলো তবে!”
ইউসুফের কথায় উঠে দাঁড়াল ইরা ও তেহরাব, তাসলিমা পার্সে মোবাইল ভরছে। তেহরাবকে রেডি হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ইউসুফ মনে মনে হাসে, তেহরাবকে জ্বালানোর জন্য বলে,
“তুই কোথায় যাচ্ছিস আবার? আজ আর বের হোস না!”
তেহরাব ভ্যাবলাকান্তের ন্যায় মুখ চুন করে বলে,
“কোথায় যাব মানে? তোমাদের সাথে যাব!”
ইউসুফ কন্ঠে গম্ভীর ভাব এনে বলে,
“কিহ? তোমার যেতে হবে না, থাকো তুমি!”
তেহরাব আড় চোখে একবার ইউসুফের দিকে তাকিয়ে সানগ্লাস পরে ভাব নিয়ে বলে,
“তোমাদের সাথে যাব না, একাই যাব। গুড বাই!”
বাপ ছেলের ডং দেখে গা জ্বলছে তাসলিমার, খসখসে গলায় বলে,
“নাটক কম কর তো, চলো তারাতারি!”
তেহরাব ইউসুফকে ভেঙিয়ে নিজে আগে আগে বেরিয়ে যায়, ইউসুফ হাসে। সদর দরজার কাছে আসতেই তাসলিমা থমে, তাকে থামতে দেখে ইউসুফ ভ্রু কুঁচকায়।
“থামলে কেন?”
তাসলিমা পেছন ঘুরে ইউসুফের হাতে নিজের পার্সটা ধরিয়ে দিয়ে বলে,
“এক মিনিট আসছি,”
বলেই সিঁড়ি বেয়ে উপরে চলে যায়, ইরা তেহরাবকে ধাক্কা দিয়ে ফিসফিস করে বলে,
“সেদিনের ওই মেয়েই যে আমার ভাইয়ের মন চুরি করেছে আগে জানলে তো একটু যত্ন আত্মি করে নিয়ে যেতাম, যায়হোক ভাবী কিন্তু সুন্দর আছে!”
তেহরাব টোকা মারে ইরার কপালে, দাঁত বের করে হেঁসে বলে,
“দেখতে হবে না পছন্দটা কার! সবার পছন্দ তো আর তোর মতো না!”
ইরা কপাল কুঁচকায়, তার পছন্দের মতো না বলতে? তার ভাই কি মিন করল? ইরা কিছু বলতে যাবে তার আগেই তাসলিমা ফিরে এসেছে, পার্সটা ইউসুফের হাত থেকে নিয়ে বলে,
“আংটির কথা মনেই ছিল না, চলো এবার!”
সবাই বের হয় বাড়ি থেকে, তনয়াদের বাড়ি তাদের বাড়ির থেকে বেশি দূরে না হওয়াও অটোতেই যাচ্ছে তারা। তাসলিমাকে হাসি খুশি দেখে তেহরাব বলে,
“এত খুশি কেন তুমি? বিয়ে তোমার ছেলের, তোমার না!”
তাসলিমা চোখ রাঙাল,
“এত কথা বলিস কেন তুই? বাচাল একটা।”
হাতে ব্যান্ডেজ থাকায় আজ তেহরাব তার প্রানপ্রিয় বাইকটা চালাতে পারল না, মনে মনে বলল,
“আমার সকল অপকর্মের সাক্ষী তুই, আফসোস আমার ভালো কাজের সাক্ষী হতে পারলি না। চিন্তা করিস না, আমার জানকে তো আমি তোর উপর চাপিয়েই নিয়ে আসব।”
বেগুনি রঙের জামদানী শাড়ি পরেছে তনয়া, শাড়িটা অবশ্য বিয়ের জন্য কিনে এনেছিল তানিয়া।
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে ভালো মতো পর্যবেক্ষণ করছে সে, আজ যে তার প্রচুর লজ্জা লাগছে। কাল পর্যন্ত ভাবে নি সে যে তেহরাবের জন্য সাজবে, মনে হচ্ছে সবটা তার কল্পনা।
হঠাৎ মনে হলো কিছু একটা কম কম লাগছে তার, কিন্তু কি? কিজানি ভেবে নিজের খোঁপা করা লম্বা চুল গুলো ছেড়ে দিল, এই চুলযে তেহরাবের খুব বেশি পছন্দ। আবারও লজ্জায় লাল হয়ে গেল তনয়ার গাল, বেশি কিছু না ভেবে চোখে কাজল আর ঠোঁটে লিপস্টিক লাগিয়ে নিল।
“ ভাল্লাগে না ব**ল, এত কাজ করতে কার ভাল্লাগে।”
হাঁপাতে হাঁপাতে বিরক্তি নিয়ে রুমে আসল তানহা, এর থেকে তো পড়াশোনায় ভালো। আজ তাকে স্কুলে যেতে দেয় নি, প্রথমে খুশি হলেও যখন কাজ করানো শুরু করল তখন আর ভালো লাগল না তার।
তনয়া ফিটফাট হয়ে মাথায় ঘোমটা দিয়ে তানহার সামনে এসে দাঁড়াল,
“কেমন লাগছে আমাকে?”
“কুত্তার মতো!”
“কি বললি!”
তানহা জ্বিব কাটে, কি বলতে কি বলে ফেলল সে। কান ধরে অস্থির কন্ঠে বলে,
“সরি সরি, অনেক সুন্দর লাগছে!”
তনয়া হেঁসে উঠে, তাকে যেমনই লাগুক না কেন তেহরাবের কাছে সে সবসময় সুন্দর। নিজের ভাবনায় নিজেরই রাগ হলো, কথায় কথায় তেহরাব তেহরাব করছে কেন সে? তাকেও কি তেহরাব ভাইয়ের ভুতে ধরেছে!
“তানহা, তানহা, কিরে কই গেলি এদিক আয়। খাবার গুলো ঘরে নে!”
মায়ের ডাক শুনে চোখ মুখ কুঁচকে তনয়ার দিকে তাকায়, তনয়া ঠোঁট গোল করে চু চু শব্দ করে। তানহা বলে,
“আমিও বিয়ে করব বাল, আম্মুকে বলে আমাকেও বিয়েটা দিয়ে দে!”
“একটা মারব, যা আম্মু ডাকছে।”
ধমক খেয়ে চোখ উল্টে চলে গেল তানহা, তনয়া বসে পরল বিছানায়। ফোনটা খুজতে লাগল, বাসায় আসার পর আর ফোন হাতে নেয় নি সে। ভুলেই গিয়েছিল! এদিক ওদিক খুঁজে বিছানার এক কোণে পেল ফোনটা, চার্জ নেয়। দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফোনটা চার্জে দিল।
তানহা বাইরে আসতেই তার চোখ চড়কগাছ, গেটের দিকে তাকাতেই সে নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না। কারন গেট দিয়ে প্রবেশ করছে তার ওয়ান এন্ড ওনলি ক্রাশ তেহরাব, ওয়ান এন্ড ওনলি? নিজেকে নিজে প্রশ্ন করল তানহা, সে তো প্রতিনিয়ত সুন্দর ছেলে দেখলেই ক্রাশ খেয়ে বসে থাকে। তবে তেহরাব হলো আলাদা, ক্রাশদের সবার উপরে আছে সে, এ মুহূর্তে তাকে এখানে দেখে বেশ অবাক হলো তনয়া।
অবাকতা আরো বাড়ল যখন দেখল তার সাথে তার বোন ও মা বাবাও এসেছে, চোয়াল ঝুলে পরেছে তার। সবার শেষে প্রবেশ করে শফিক, তার বাবা তো তনয়ার হবু শশুড় বাড়ির লোকদের আনতে গিয়েছিল, তার মানে…..
আর ভাবতে পারল না তানহা, চোখের সামনে সব কিছু গোল গোল ঘুরছে। যাকে ছাইয়া বানানোর প্রয়াসে ছিল সে কিনা হয়ে যাবে ভাইয়া। তার উপর জ্যানোত্যানো ভাই না সোজা দুলাব্রো, কোনো মতে কান্না চাপিয়ে মনে মনে বলল,
“শ্লা মফিজ, শেষ মেশ জামাই হইয়াই বাড়ি আসলি, তয় আমার না হইয়া আমার বইনের? যা শ্লা ম্রা খা!”
ভেংচি কেটে গটগট করে চলে গেল রান্না ঘরে, এই দিনটাই দেখার বাকি ছিল!
শফিক আর ইউসুফ কথা বলতে বলতে বাড়ির ভেতরে আসে, তানিয়াও বের হয় রান্না ঘর থেকে। রান্না বান্না তার শেষ, সবাইকে নিয়ে বসার ঘরে বসায়, তেহরাব তার সানগ্লাসের আড়াল থেকে খুজে বেরাচ্ছে তনয়াকে।
তানিয়া সবাইকে শরবত, চানাচুর, বিস্কুট, ফল মুল দেয়। সবাই বসে সোফায়,
“ভনিতা না করে সরাসরি কাজের কথায় আসি বরং, আমরা চাইছি শুক্রবারেই তেহরাব তনয়ার বিয়েটা দিয়ে দিতে। ইরা আর তেহরাবের বিয়েটা একসাথেই মিটে যাক!”
ইউসুফের কথায় শফিক কিছুটা বিচলিত হয়ে বলে,
“কালকের পরের দিনই তো শুক্রবার, এ কদিন কত কি হলো। আর কটা দিন পেছালে ভালো হয়!”
শফিকের কথা শেষ হতে না হতেই তানিয়া ফট করে বলে উঠে,
“বলছিলাম কি এখন আর হাড়তাড় না করে একদম পরিক্ষার পর অনুষ্ঠান করে বিয়েটা হবেনি!”
শফিক নিজেকে শান্ত করে, সে বারবার বলেছে তানিয়াকে চুপ থাকতে। মহিলা মানুষ কি আর কথা শোনার মানুষ!
তানিয়ার কথা কর্ণপাত হতেই তেহরাব উঠে দাঁড়ায়, সানগ্লাসটা খুলে চোখ মুখ বিরক্তিতে কুঁচকে বলে,
“রাখেন আপনার পরিক্ষা, একটুর জন্য আমার জান নিয়ে টানাটানি শুরু করেছিলেন। বিয়ে দিলে শুক্রবারেই দিবেন নাহলে আমার বউ আমি আজকেই নিয়ে যাব!”
তেহরাবের কথা শুনে কপালে হাত দেয় তাসলিমা, গত রাতে ইউসুফ ভালো মতো তাকে সবটাই বলেছে। সবটাই তার জানা, নিজের ছেলের এমন কাজকর্মে সে কি করবে বুঝে উঠতে পারে না। ইউসুফ কন্ঠে গম্ভীরতা এনে তেহরাবের দিকে তাকিয়ে বলে,
“তেহরাব তুমি চুপ করে বসো , আমরা কথা বলছি তো। তুমি কেন মধ্যেখানে কথা বলছো।”
ইরা তেহরাবের হাত ধরে টেনে আগের জায়গায় বসায়, তেহরাবের এই মুহূর্তে তনয়ার মাকে বিরক্তিকর লাগছে। গতকাল তার বাবা তাকে সবটা বলেছে, আর তেহরাবেরও জানা আছে তনয়াকে শিহাব্বার সাথে বিয়ে করতে উনিই জোর করেছে।
ইরা ফিসফিসয়ে তেহরাবের কানে কানে বলে,
“এর জন্যই তোকে আনতে চায়নি, তুই জামাই মানুষ চুপচাপ থাকবি!”
তেহরাব ইরার দিকে তাকায়,
“আল্লাহ্ মুখ দিয়েছে চুপ থাকতে?”
ইরা আড়ালে তেহরাবের হাতে চিমটি কেটে চুপ থাকতে বলে।
“আমরা দেরি করতে চাইছি না, আমাদের বাড়ির বউকে আমরা যতদ্রুত ঘরে তুলতে চাই। আর আমার মেয়েটাও চলে যাবে, তনয়া আমার মেয়ে হয়ে একই দিনে নাহয় আসল। দেরি করে লাভ কি বলুন?”
তাসলিমার হাসি মুখে বলা কথা গুলো মুগ্ধ করল শফিককে, তার মেয়ে সত্যি সুখে থাকবে।
“ওর তো পরিক্ষা, এখন বিয়ে হলে পরিক্ষাটা খারাপ হবে!”
“ওহো, শিহাব্বার সাথে বিয়ে দিলে বুঝি পরিক্ষা ভালো হতো? ওই বা*লের থেকে আমি স্টুডেন্ট ভালো, দরকার পরলে রাতদিন থাপড়িয়ে আপনার মেয়ে এ প্লাস পাইয়ে ছাড়ব। লেইম মার্কা এক্সকিউজ দিবেন না শাশুড়ী আম্মা!”
তেহরাবের কড়া কথায় কিছুটা লজ্জা পেল তানিয়া,শফিক এবার চোখ গরম করে তাকালেন তানিয়ার দিকে। নিজেকে শান্ত রেখে বললেন,
“আসলে তনয়ার শরীরটা খারাপ বলে তানিয়া চিন্তিত, ও অন্য ভাবে কিছু বলেনি। সে যায়হোক, আপনাদের কথায় নাহয় রইল, কালকে হলুদ পরশু বিয়ে!”
শফিকের কথা শেষ হতে না হতেই তেহরাব বলে উঠে,
“এবার তনয়াকে আনুন, ওকে দেখব না?”
“তেহরাব!”
তাসলিমা না পেরে এবার ধমকেই উঠলেন,এ কোন পাগল ছেলে জন্ম দিয়েছেন উনি। লাজ লজ্জার মাথা খেয়ে হবু বউকে দেখতে চাচ্ছে, তাসলিমা চোখ গরম করে ইউসুফের দিকে তাকায়। দাঁতে দাঁত চেপে ধীর গলায় বলে,
“তোমার ছেলেকে চুপ থাকতে বলো, নাহলে কিন্তু এক্ষুনি বের করে দিব। শশুড় বাড়ির লোকের সামনে মার খেতে না চাইলে থামতে বলো ওকে, তার ছিঁড়া একটা!”
তেহরাব বুঝল তার মা একটু বেশিই রেগে গিয়েছে, বেশি কথা বললে সত্যি সত্যি বের করে দিবে। তখন না পারবে তনয়াকে দেখতে না পারবে কথা বলতে!
ইউসুফ তানিয়ার দিকে তাকিয়ে স্মিত হেসে বলে,
“বিয়াইন মেয়েকে নিয়ে আসুন তাহলে!”
“আন্টি তুমি থাকো, আমি যাচ্ছি। কোন রুমে?”
ইরার কথায় তানিয়া সৌজন্য মূলক হাসে, সেও উঠে দাঁড়ায়,
“এসো আমার সাথে।”
ইরা তানিয়ার পিছু পিছু তনয়ার ঘরে আসে, ঘরে এসে তানিয়া অবাক হয়। তানহা উপুর হয়ে শুয়ে কাঁদছে আর তনয়া জিজ্ঞেস করছে কি হয়েছে তার, দরজা খোলার শব্দে তনয়া পেছনে তাকায়।
তানিয়াকে দেখে বলে,
“তানহার কি যেন হয়েছে, হুট করে রুমে এসে কান্না জুড়েছে!”
এবার তনয়ার নজরে পরল পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা ইরার দিকে, মনে পরে গেল সেদিনের কথা। ইরা মুচকি হেসে এগিয়ে আসল তনয়ার দিকে, তনয়ার গালে হাত রেখে বলে,
“আরে বাহ, খুব মিষ্টি লাগছে তো তোমাকে ভাবি! সেদিনের জন্য এত্তগুলো সরি!”
তনয়া মুখ নামিয়ে নেয়, তার লজ্জা করছে। তানিয়া তানহার কাছে এসে ওকে বসায়, জিজ্ঞেস করতে থাকে কি হয়েছে। তানহা শুধু নাক টানছে,
“মা তুমি তনয়াকে নিয়ে যাও আমি আসছি!”
তানিয়ার কথায় ইরা মুচকি হেসে তনয়াকে নিয়ে বাইরে আসে, বারান্দায় দাঁড়িয়ে ফিসফিস করে বলে,
“কি দেখে আমার বান্দরের মতো ভাইকে তোমার পছন্দ হলো বলোতো? কথায় আছে না বাদরের গলায় মুক্তর মালা, চলো এখন!”
তনয়া মিটমিট করে হেসে বসার ঘরে প্রবেশ করে, নিজের ঘোমটা মটা আরেকটু টেনে তাদের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়, সালাম দেয় সবাইকে।
মাথা নিচু করেই বসে সবার সামনে, নিজের ছেলের বউকে তার খুব পছন্দ হয়েছে। মেয়েটা সত্যি সুন্দর, অধরে হাসি ফুটে উঠল তার।
“মাশা-আল্লাহ, নজর না লাগুক!”
তাসলিমার কথায় তনয়া আরো বেশি লজ্জা পায়, সেতো মাথা তুলে তাকাতেই পারছে না।
এদিকে বুকে হাত দিয়ে মূর্তির মতো বসে আছে তেহরাব, আজ প্রথম তনয়াকে সে শাড়ি পরা অবস্থায় দেখল। কি মারাত্মক লাগছে তার এলোকেশীকে, কি স্নিগ্ধ!
মনে মনে আওড়াল,
“এ রূপের বর্ণনা করা যায় না এলোকেশী,
নিখুঁত তোর সবই।
চাঁদের আলো ম্লান হয়ে যায়,
তোর রূপের ছোঁয়ায় স্নিগ্ধ রবি।”
আনমনে হেসে উঠে তেহরাব, সে হাসি নজরে পরে ইরার। তনয়ার কাছ থেকে সড়ে এসে দাঁড়ায় তেহরাবর পাশে,
তেহরাবের কানে ফিসফিস করে বলে,
“এহুম এহুম, নজর লেগে যাবে তো!”
“সে তো অনেক বছর আগেই লেগে গিয়েছে, এখন শুধু আমার নামে সিলমোহর লাগানো বাকি!”
ইরা বুঝল তার ভাই এখন এই জগতের বাইরে অন্য এক জগতে বাস করছে, থাকুক তবে।
তাসলিমা তনয়ার পাশে গিয়ে বসল, তনয়ার চিবুকে হাত রেখে নিজের দিকে ঘুরালো।
“আমাকে চিনে রাখো মেয়ে, আমি কিন্তু তোমার আরেকটা মা। বুঝলে?”
তনয়া এক পলক তাকায় তাসলিমার দিকে, অতঃপর মুচকি হেসে মাথা নাড়ে! তাসলিমা নিজের হাতের বালা খুলে তনয়ার হাতে পরিয়ে দেয়, তনয়া অবাক হয় বটে।
“এগুলো আমার তরফ থেকে তোমার জন্য উপহার, এটা কিন্তু তোমার শশুড়ের টাকায় কেনা নয় বুঝলে৷ আমার নিজের টাকায় কেনা, বছর ছয়েক আগে চাকরি ছেড়েছি আমি। এর আগে কিন্তু আমিও শিক্ষকতা করতাম, আর হ্যাঁ তোমাকেও পড়াশোনা করে কাজ করতে হবে বুঝলে!”
তনয়া অনেক বেশি খুশি হলো, সে সবসময় চায়ত সে বিযের পর চাকরি করবে, অতঃপর এটাও পূরন হচ্ছে। শফিকও অনেক খুশি, তার মেয়েকে সে সঠিক জায়গায় তুলে দিচ্ছে!
হঠাৎ তনয়ার নজর পরল তেহরাবের দিকে, চোখাচোখি হলো দুজনের। তেহরাবের নজর তো সড়ছেই না, এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সে তনয়ার দিকে। তনয়া চোখ সড়িয়ে নিল, এক মুহুর্তেই তার হৃদস্পন্দন বেড়ে গিয়েছে! এ চোখে চোখ রাখা তার ধারা সম্ভব নয়!
“তেহরাব, আংটিটা পরিয়ে দে!”
তেহরাব তনয়ার দিকেই দৃষ্টি রেখে বলল,
“হুম!”
ইউসুফ আংটিটা তেহরাবের হাতে দেয়, তাসলিমা উঠে নিজের জায়গায় আসে। তেহরাব গিয়ে বসে তনয়ার পাশে, তখনও তার দৃষ্টি তনয়ার দিকে।
তেহরাবের শরীর থেকে এক তীব্র মিষ্টি পারফিউমের ঘ্রাণ নাকে আসে তনয়ার, যা তাকে আরো অস্থির করে তুলছে। তেহরাব তনয়ার হাত ধরতেই কেঁপে উঠে তনয়া, তা অনুভব করে তেহরাব নিজেও। আংটিটা পরাতে পরাতে সবার আড়ালে ফিসফিস করে বলে,
“শাড়িটা আগে পরলে এতদিনে তুই আমার দুই বাচ্চার মা থাকতি, কারন তোকে এই রূপে আগে দেখলে তো তোকে তুলে নিয়ে বিয়ে করে ফেলতাম!”
হাওয়াই মিঠাই পর্ব ২০
তনয়া চোখ বন্ধ করে নেয়, লোকটা সবার সামনে বসেও তাকে লজ্জা দিচ্ছে। না জানি এক পেলে কি করবে, অসভ্যলোক।
“অসভ্যতামো করার লাইসেন্সটা একবার পাই জান, তারপর তুই বুঝবি তেহরাব ঠিক কতটা অসভ্য, আর সেটা কি কি কত প্রকার!“
