হাওয়াই মিঠাই পর্ব ৪৪
তামান্না ইসলাম শিমলা
“কোথায় যাচ্ছেন? বাড়ি যাব না আমরা?”
তনয়া প্রশ্ন শুনে তার দিকে দৃষ্টিপাত করল তেহরাব, তনয়ার হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বলল,
“তোদের বাড়ি, কিছুদিন ওখানেই থাক। সামনের সপ্তাহেই তো আবার তানহার বিয়ে।”
তনয়া বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল তেহরাবের দিকে, লোকটা রাগ করেছে বোধহয়!
করার তো কথা, সে যে বলেনি কিছুই। বললে যে ঝামেলা বাড়বে, আর সে চায় না তার জন্য কোনো ঝামেলা হোক। নিশ্চুপ হয়ে যায় দুজনেই, নীরবতা এসে ভির করে দুজনের মাঝে। হাসপাতাল থেকে সরাসরি তনয়ার বাবার বাড়ি এসে অটো থামে, চুপচাপ দুজনেই বাড়ির ভেতরে চলে আসে।
তনয়া আর তেহরাবকে এমন সময় নিজেদের বাড়িতে দেখে কিছুটা আশ্চর্য হয় তানিয়া, তবে তৎক্ষণাৎ ভাবনা ফেলে ছুটে আসেন দুজনের নিকট।
“কেমন আছো বাবা? তুই কেমন আছিস তনয়া?”
তনয়া জোরপূর্বক হাসে,মাথা নেড়ে বোঝায় সে ভালো আছে। তেহরাবও স্বাভাবিক ভাবেই জবাব দেয়,
“জি ভালো, আপনি?”
তানিয়াও মাথা নাড়ে, তেহরাবের হাত থেকে ফলের ব্যাগগুলো নিয়ে ঘরে আসে। পিছন পিছন আসে তেহরাব তনয়া, তানহাও নিজের রুম থেকে দৌড়ে বসার রুমে আসে। তনয়াকে দেখে দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরে,
“আপু কেমন আছিস?”
তনয়া এবারও জোরপূর্বক হাসে, ক্ষীণ স্বরে জবাব দেয়,
“হুম ভালো, তুই?”
তাহনা হাসি হাসি মুখ করে বলে,
“হুম খুব ভালো, আজ বিয়ের শপিং করতে যাব। ফুপি ত্রিশ হাজার টাকা দিয়েছে, আর আব্বু বিশ। তুইও যাবি কিন্তু৷ তোর জন্য আর ভাইয়ার জন্যও দশ হাজার টাকা দিয়েছে, বলেছে কিছু কিনতে।”
তানহার উচ্ছাস দেখে মৃদু হাসে তনয়া, মেয়েটা এখনো ছোট। আড়ালে দীর্ঘশ্বাস ফেলে তানিয়ার দিকে তাকিয়ে বলল,
“মা একটু পানি দাও।”
তানিয়া দ্রুত টেবিলের কাছে যায়, যেতে যেতে তানহাকে উদ্দেশ্য করে বলে,
“তোর ভাইয়াকে ফল কেটে দে দ্রুত, আমি রান্না চড়াই গিয়ে। “
তানহা যেতে নিলে তেহরাব দাঁড়িয়ে যায়, গম্ভীর স্বরেই বলে,
“ এসবের দরকার নেই, আমার একটু কাজ আছে। তনয়া বিয়ে পর্যন্ত থাকুক, আমি আজ আসছি।”
“, এ কেমন কথা? এখনি আসলে আবার এখনি চলে যাবে? দুপুরের খাবারটা খেয়ে যাও, তোমার আব্বাকে কল করে বলি।”
তানিয়ার অস্থির কন্ঠ, জামাইকে খালি মুখে যেতে দিতে সে নারাজ। তবে তেহরাব থাকবে না, মাথা নিচু করে বসে থাকা তনয়ার দিকে এক পলক তাকিয়ে বলে,
“আজ না, দুদিন পর এসে দেখা করে যাব।”
কথাটা বলে মানিব্যাগ থেকে হাজার তিনেক টাকা বের করে তনয়ার হাতে দেয়, গম্ভীর চিত্তেই বলে,
“আর কিছু লাগলে বলিস, আসছি!”
আর থামে না তেহরাব, সালাম দিয়ে বেরিয়ে যায় বাড়ি থেকে। তানহা ততক্ষণে উধাও, তবে তানিয়ার কাছে বিষয়টা কেমন একটা লাগল। সে তনয়ার কাছে আসলো,
“তেহরাবের কি হয়েছে? এভাবে চলে গেল কেন? আর হঠাৎ না বলে এমন সময় আসলি যে , কিছু হয়েছে তনয়া?”
তনয়া মায়ের দিকে তাকায়, জোরপূর্বক হেসে বলে,
“তেমন কিছু না, এমনি ভালো লাগছিল না। তাই চলে আসলাম, আচ্ছা ঘরে যাই। মাথা কেমন করছে!”
“আচ্ছা হাত মুখ ধুয়ে যা, আর সকালে খেয়েছিস?”
তানিয়ার প্রশ্নের জবাব না দিয়েই আনমোনে তনয়া নিজের রুমে চলে আসে, বিছানায় বসতেই হঠাৎ মনে পরে সে তো ফোন আনেনি। আনবে কি করে ফোনতো বাড়িতে, এখনকি হবে? টাকা গুলো ব্যাগে রেখে বিছানায় শুয়ে পরল তনয়া, কিছুই ভালো লাগছে না।
বিছানায় বুঝি ঘুমের ওষুধ মেশানো? শোয়ার সাথে সাথে চোখ লেগে আসছে তনয়ার, যাক একটু ঘুমাক। ঘুমের প্রয়োজন তার।
ধরণীতে সন্ধ্যা নেমেছে, মেঘে সেজেছে আকাশ। চারদিকে মৃদু বাতাস, গাছের পাতায় পাতায় হালকা কাঁপন, পাখিরা ফিরছে নীড়ে, আলো-আঁধারের খেলায় আচ্ছন্ন হয়ে উঠছে আকাশ।
সারাদিন পর এমন সময় মেঘের ডাকে ঘুম ছুটেছে তনয়ার, মাঝে অবশ্য তার মা বোন এসে কয়রকবার ডেকে গিয়েছে তবে তনয়া উঠেনি। তাই তারাও আর বিরক্ত করেনি,এতদিন পর এসেছে একটু বিশ্রাম নেক এই ভেবে।
ঘুমু ঘুমু চোখেই বিছানায় উঠে বসল, বিছানার সাথে লাগানো জানালা দিয়ে বাতাস আসছে। বিছানা থেকে নামল তনয়া বৃষ্টি আসার আগেই হাত মুখে পানি দিয়ে ফিরে আসে আবারো। আসার পথে তানিয়া খেতে ডাকলে খাবে না বলে চলে আসে, এসে দেখে তানহা তানিয়ার ফোন নিয়ে শিহাবের সাথে কথা বলছে। তনয়া দাঁড়িয়ে রইল, শুনল কথা গুলো। তানহা একাধারে বকবক করছে তবে শিহাব নিশ্চুপ, মাঝে মাঝে হুম হ্যাঁ করছে।
কিছু একটা ভেবে তানহার পেছনে এসে দাঁড়ায় তনয়া,
“আমাকে একটু দে, কথা বলব!”
তানহা চমকায়, পেছনে তাকিয়ে তনয়াকে দেখে মুচকি হেসে ফোনটা এগিয়ে দেয়। তনয়া হাতে নেয়, তানহার দিকে তাকিয়ে বলে,
“আমার জন্য খাবার নিয়ে আয়, খিদে পেয়েছে।”
কথামতো তনয়া ছুটে, ফোনটা কানে নেয় তনয়া।
“কেমন আছেন?”
তনয়ার কন্ঠ শুনে কিছুসময় থমকে থাকে শিহাব, গলা ধরে আসছে তার। শিহাব শ্বাস নিল, স্বাভাবিক হয়ে বলল,
“ভালো, তুমি?”
তনয়াও স্বাভাবিক,
“ জি ভালো, একটা কথা বলার ছিল।”
শিহাব কিছুটা অবাক হয়, কি বলার আছে তনয়ার?
“হ্যাঁ বল কি বলবে।”
তনয়া হটকারিতা না করে সরাসরি বলল,
“ তানহা বাচ্চা মেয়ে, বুঝে কম। সে এটুকুও বুঝছে না আপনি তাকে ভালোবেসে বিয়ে করছেন না, ওর মাঝে ঈর্ষা বোধও কাজ করছে না। তবে একদিন তানহা বড় হবে, বুঝতে শিখবে, তখন? আপনি তানহাকে বিয়ে করছেন, সারাজীবনের বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন। আমরাও ভরসা করে আপনার হাতে ওকে তুলে দিচ্ছি, কোনোদিন যেন দায়িত্ব কর্তব্যে হেরফের না হয়। কথাগুলো কেন বললাম নিশ্চয় আপনিও জানেন?”
শিহাব দীর্ঘশ্বাস ফেলল,কিছুটা হেসে জবাব দিল,
“ শিহাব ভালোবাসা না পাওয়ার যন্ত্রণা বোঝে, অপর পাশের মানুষটা ভালো না বাসলে কেমন অনুভূতি হয় তাও জানে। তাহলে তোমার বোনকে কি করে সেই যন্ত্রণা দিব বল? কথা দিচ্ছি, মনে থাকা বিষয় গুলো শিহাব বেঁচে থাকতে কখনো প্রকাশ পাবে না।”
তনয়া চোখ জোড়া বন্ধ করে নেয়, ছোট্ট করে শ্বাস নিয়ে বলে,
“ভুলে যান আমাকে, ভুল ভেবে ভুলে যান।”
শিহাব বোধহয় হাসল,
“বুঝলে মেয়ে, মিথ্যা বলতে পারি না আমি। ভুলতে আমিও চাই, কখনো ভুলতে পারলে জানাব। অন্যথা মিথ্যা আশ্বাস আমি দিতে পারছি না, তবে এটুকু ভরসা রাখতে পারো শিহাব কখনো নিজের অনুভূতিকে দূর্বলতা বানাবে না।”
ইতিমধ্যে তানহাকে আসতে দেখে থেমে যায় তনয়া, শুধু ছোট করে জবাব দেয়,
“ধন্যবাদ!”
শিহাব আর কিছু বলে না, কল কেটে দেয় নিজে থেকে।
“এই নাও তোমার খাবার।”
তনয়া খাবারের দিকে তাকিয়ে নাক ছিটকায়, তার যে খেতে ইচ্ছে করছে না। তখন তো তানহাকে ভাগানোর জন্য খাবার আনতে পাঠিয়েছিল। তনয়া তানহাকে খাবারটা টেবিলে রাখতে বলে,
“খাবারটা রেখে যা, তুইও খেয়ে আয়। “
“ফোনটা দাও দিয়ে আসি।”
“আমি কথা বলব তোর ভাইয়ার সাথে, তুই যা এখন।”
তানহা আর কিছু না বলে চলে যায়, বাইরে প্রবল বেগে বৃষ্টি নেমেছে। বিছানায় উঠে জানালাটা খুলে দিল, বৃষ্টির ছিটা এসে গা ভিজিয়ে দিচ্ছে তনয়ার।র কললিস্ট চেক করে তেহরাবের নাম্বারে কল করল তনয়া, কয়েকবার রিং হওয়ার পরপরই তেহরাব কল রিসিভ করল। তবে দুজনেই চুপ, কেমন অস্বস্তিকর বিষয়।
বেশ কিছু সময় কাটল, নীরবতা আর কতক্ষণ?
“কিছু বলবি?”
তেহরাবের শীতল এ গম্ভীর কন্ঠ, তনয়া গান শিরশির করছে। লোকটার কখন কি হয় সে বুঝে উঠতে পারে না, বড্ড বেগ পোহাতে হয় তাকে। এই যেমন কি বলবে সেটাই এখন বুঝতে পারছে না, কোনো কথায় আসছে না।
“কিছু বলার না থাকলে রাখছি!”
“নাহহ!”
তৎক্ষনাৎ চেচিয়ে উঠল তনয়া, অতঃপর নিজেই ভরকে গেল। নিজেকে যথাসম্ভব স্বাভাবিক রেখে বলল,
“ আপনি কি আমার উপর রাগ করেছেন?’
কিছুটা ভেঙে ভেঙেই বলল কথাটা, তেহরাবের গম্ভীর কন্ঠস্বর ভেসে আসল তৎক্ষনাৎ।
“এমন মনে হওয়ার কারন?”
তনয়া চুপসে যায়, কিছুই ভালো লাগছে না তার। কিছু সময় আবার নীরবতা গ্রাস করল, তারপর জবাব দিল,
“এমন ভাবে কেন কথা বলছেন? একটু ভালো করে কথা বলুন।”
“কীভাবে বলছি? খারাপ ভাবে?”
তেহরাবের শান্ত জবাব, এবার তো তনয়ার কান্না চলে আসছে। কেন এত অশান্তি?
“উহু, কিন্তু… আমি.. আমি জানি না। একটু স্বাভাবিক ভাবে কথা বলুন প্লিজ।’
“আমি স্বাভাবিকই আছি, তবে তুই হতে পারছিস না। যাইহোক যার যার বিষয়, জোর করব না।”
এবার তনয়া ফুপিয়ে কেঁদে উঠল,
“আপনি এমন কেন করছেন, ভালো লাগছে না আমার।”
“তাইতো বাবার বাড়ি দিয়ে আসলাস, কিছুদিন থাক ভালো লাগবে। সবার সাথে গল্প কর, আনন্দ কর, মনও ভালো থাকবে।”
তেহরাবের এহেন কথা শুনে তনয়ার আরো বেশি কান্না পাচ্ছে,
“কিচ্ছু লাগবে না আমার, আপনি একটু ভালোমতো কথা বলুন না। আমার আর কাউকে লাগবে না, নিয়ে যান আমাকে, আমি থাকব না এখানে।”
তেহরাব হাসল, হেসেই বলল,
“কেন? সমস্যা কি? আমি স্বাভাবিকই আছি, তুইও স্বাভাবিক থাক৷ তানহার বিয়ে নিয়ে আনন্দ কর।”
তনয়া ফোপাঁতে ফোপাঁতে বলল,
“তেহরাব! আমার আপনাকেই লাগবে তেহরাব, আর কাউকে না। কিচ্ছু না, কিচ্ছু না, আপনিও যদি এভাবে আমার কষ্ট দেন তবে কোথায় যাব আমি? তনয়ার কে আছে? কেউ নেই? সবাই তনয়াকে…..
আর কিছু বলতে দেয় না তেহরাব, ধমকে উঠে তনয়াকে।
“এই চুপ, কাঁদছিস কেন? একটা লাগাব গালে, এত কান্নার কি আছে? কথায় কথায় কাঁদতে হয়?”
“হ্যাঁ হয়, লাগবে না কিচ্ছু। আপনাকেও না, কেউ নেয় আমার, কেউ না। সবাই বাজে, কেউ ভালোবাসে না আমাকে। আপনিও না।”
তেহরাবের মেজাজ খারাপ হলো,
“একটা মারব, চুপ। কান্না থামা, আসছি আমি।”
বলেই কল কেটে দেয় তেহরাব, তনয়াও হেঁচকি তুলে কাঁদতে থাকে। এদিকে বৃষ্টি যেন নিজের ক্ষমতা দেখাতে ব্যস্ত, একাধারে ঝড়েই চলেছে।
জানালার ধারেই অনেকটা সময় কাটলো, কান্নাও থেমে গেছে ইতিমধ্যে। হঠাৎ দরজা লাগানোর খট আওয়াজে ধ্যান ভাঙে তনয়ার, নিজের দিকে তাকিয়ে দেখে সে নিজেই ভিজে গেছে। পেছনে ঘুরতেই ভুত দেখার মতো চমকে উঠে তনয়া, ভেজা শরীরে কোমরে হাত রেখে দাঁড়িয়ে আছে তেহরাব। যেন পুকুর থেকে ডুব দিয়ে উঠে এসেছে, তেহরাব নিজের শার্টের দিকে তাকিয়েই একাধারে শার্টের বোতাম খুলছে। আর তনয়া কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে তাকিয়ে আছে, এটা কি সত্যি তেহরাব?
“তাকিয়ে আছিস কেন? আর তোর এই অবস্থা কেন? রাত বিরাতে জ্বর বাঁধানোর জন্য বৃষ্টিতে ভিজেছিস?”
এবার যেন আরো বেশি অবাক হলো তনয়া,এটা তার কল্পনা নয়। এটা সত্যি তেহরাব, সে এই ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে ছুটে এসেছে?
তনয়া কিছু না বলে দৌড়ে এসে তেহরাবকে জড়িয়ে ধরে, তেহরাব চোখ বন্ধ করে বড় শ্বাস নেয়। সে নিজেও যে অভিমান করে থাকতে পারছিল না, তার এলোকেশীর থেকে সে দূরে থাকতে পারে না যে!
তনয়া হু হু করে কাঁদছে, তেহরাব তনয়ার চুলের ভাজে আঙুল ডুবাল। মুখটা চেপে ধরল নিজের বুকের সাথে, তনয়ার কান্নার গতিও কমে আসল। মুখে তুলে তাকাল তেহরাবের মুখের দিকে,
“ নিয়ে যান আমাকে, আমি থাকব না আপনাকে ছাড়া। কখনোই না, নিয়ে যান।”
তেহরাব হাসে, তনয়ার ভেজা শরীরটার দিকে এক পলক তাকিয়ে নেশাভরা কন্ঠে বলে উঠে,
“চুপ, তোকে চাই আমার, এখুনি।”
তনয়া ভরকে যায়, দ্রুত দুপা পিছিয়ে যায়। ঠোঁট উল্টে বলে,
“আবার… নাহ.. আপনি…
বাকিটা বলার আগেই তেহরাব তনয়ার অধর জোড়া আঁকড়ে ধরে, তনয়া তাল সামলাতে না পেরে তেহরাবের বাহু চেপে ধরে। এমন সময় শব্দ করে বিদ্যুৎ চমকায়, সাথে সাথে লাইটও চলে যায়। শোঁশোঁ করে ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির ছিটেফোঁটা প্রবেশ করতে থাকে ঘরে।
সাথে মেঘের দানবীয় শব্দ, হৃৎস্পন্দন ভারী হয়ে উঠেছে দুজনার, তেহরাব যেন নিজেকে সামলাতেই পারছে না। কপালে পরে থাকে ভিজে চুল গুলো পিছনে ঠেলে বসে পরে চেয়ারে, তনয়াকে আবারো নিজের কাছে টেনে নেয়। কানের পাতায় চুমু খেয়ে বলে,
“হোক কিছু অন্য রকম?”
তনয়া তেহরাবের পিঠ খামচে ধরল, সে কিছু বলার অবস্থায় নেয়৷ শুধু প্রশ্ন করল,
“ ম..মানে?”
তেহরাব নিজের মুখটা তনয়ার মুখের কাছে নিয়ে আসে, তনয়ার হাত দুটো ছাড়িয়ে নিজের বেল্ট দিয়ে বেঁধে ফেলল। তনয়া আঁতকে উঠল, কি হচ্ছে এসব?
“আ আপনি কি ক করছেন এসব?”
তেহরাব বাঁকা হাসল, বিদ্যুৎ চমকানোর আলোতে স্পষ্ট দেখতে পেল তা তনয়া।
“হুশ, কথা না।”
‘নাহ ছাড়ুন, ভয় করছে আমার!”
তেহরাব অস্থির কন্ঠে বলল,
“কিছু করার নেই আমার, কাঁদিস না জান!”
তেহরাব আঁকড়ে ধরল তনয়ার অধর, অতঃপর আরো একটি রাত সাক্ষী হলো তাদের এলোমেলো ভালোবাসার, উত্তাল জোয়ারের।
হাওয়াই মিঠাই পর্ব ৪৩
বাইরে ঝড়-বৃষ্টির তাণ্ডবে অস্থির প্রকৃতি, আর ঘরের কোণে তেহরাব ও তনয়ার ভেতর চলছে আরেক প্রলয়। চোখে চোখ, নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাস উভয়ের, দুইটি আগুনের ঝলকায় জ্বলে উঠেছে আরেকটা যুদ্ধক্ষেত্র।
হয়তো প্রকৃতির এই তান্ডবের থেকেও বেশি কিছু, হয়তো চলছে এক মহাতান্ডব একে অপরের মাঝে!
