হাওয়াই মিঠাই পর্ব ৪৫
তামান্না ইসলাম শিমলা
যখন খোলা চুলে হয়ত মনের ভুলে
তাকাত সে অবহেলে দু’চোখ মেলে
হাজার কবিতা বেকার সবই তা
হাজার কবিতা বেকার সবই তা
তার কথা কেউ বলেনা—
সে প্রথম প্রেম আমার নীলাঞ্জনা
সে প্রথম প্রেম আমার নীলাঞ্জনা……
“ইশ থামুন এবার, বাইরে যাব।”
সকাল হয়েছে অনেকক্ষণ, তবে তেহরাব তনয়াকে ছাড়ছে না। তনয়াকে জড়িয়ে নিয়ে গান গাইছে সে,
“কি হল? ছাড়ুন।”
তেহরাব তনয়ার চোখের দিকে তাকায়, তনয়া অভিমানে চোখ সড়িয়ে নেয়।
“সরি হ্যাঁ?”
তেহরাবের কথায় চোখ মুখ কুঁচকে নেয় তনয়া, তেহরাবের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে বিছানা থেকে নেমে দাঁড়ায়। ওড়না ঠিক করে দরজার দিকে পা বাড়ায়, যেতে যেতে বলে,
“লাগবে না আপনার সরি।”
তনয়া বেরিয়ে যায়, তেহরাব দীর্ঘশ্বাস ফেলল। চোখ জোড়া বন্ধ করে বলল,
“ আর না ভাই, খেমা!”
কেটে গেছে সপ্তাহ খানেক, এতগুলো দিন তনয়া বাবার বাড়িতেই কাটিয়েছে। তেহরাব মাঝে একবার এসেছিল, আর আজ আসলো। আজ তানহার গায়ে হলুদ, রাফা আর তানহার জন্য একটা স্টেজই বানানো হয়েছে। রাফাদের বাড়ির ছাদেই সব কিছুর আয়োজন, যেহেতু দুজনেরই বিয়ে, সবাই এসে দুজনকে হলুদ মাখাচ্ছে, শিহাবদের বাড়ি থেকেও লোক এসেছে। এবাড়ির অনুষ্ঠান শেষ হলে সবাই শিহাব ও প্রত্যয়কে হলুদ দিতে যাবে। আর এই নিয়েই তেহরাব তনয়ার মাঝে ঝামেলা চলছে, তেহরাব কিছুতেই তনয়াকে যেতে দিবে না, আর নে সে নিজে যাবে।
ওদিকে তনয়া অভিমান করে নিজের ঘরেই বসে আছে, বিয়েতে আনন্দ করবে না সে? জীবনে প্রথম আজ লেহেঙ্গা পরেছে, পার্লার থেকে সেজেছে। কত আশা করে ছিল কনেযাত্রী যাবে, তার তো সবচেয়ে বেশি অধিকার।
“যাব না, কোথায় যাব না। আমি কোথাও যেতে চাইলেই তার সমস্যা।”
নিজে নিজে কথা গুলো বলল তনয়া, এমন সময় ঘরে আসলো তাসলিমা। সে তনয়াকে খুঁজতেই এসেছে,
“কিরে তনু, এখানে কি করছিস? তানহাকে হলুদ মাখাবি না?”
তনয়া নিজের অভিমান লুকিয়ে স্বাভাবিক হয়ে বলে,
“শরীর ভালো লাগছে না, তোমরা যাও আমি একটু পরে আসছি। আর ইরা আপুরা এসেছে?”
তাসলিমা দীর্ঘশ্বাস ফেলল,
“ এই রাত করে আর আসলো না, কাল চলে আসবে। তুই চলে আসিস, আমি দেখি তোর শশুড় কোথায় গেল।”
তনয়া জোরপূর্বক হাসলো, সব মানুষজন ভীর করেছে রাফাদের বাড়িতে যেহেতু সেখানেই সব আয়োজন। তাসলিমা চলে যেতেই তনয়া নাক টেনে আবারো বিছানায় বসে পরল, ফোনটা হাতে নিয়ে দেখল নয়টা বেজে গেছে। এতক্ষনে বোধহয় কনে যাত্রীরা চলেও গিয়েছে, বড্ড কান্না পাচ্ছে তনয়া। লোকটা এমন কেন?
“কোনো কিছু নিয়ে আশা করায় উচিত হয়নি, কোথাও আর যাব না।”
হঠাৎ নজর পরে দরজার দিকে, দরজার সাথে হেলান দিয়ে বুকে হাত গুঁজে দাঁড়িয়ে আছে তেহরাব। আজ নীল রঙের পাঞ্জাবী পরেছে সে, চুল গুলো ছোট করে ফেলেছে। এতে অবশ্য আরো বেশি সুন্দর লাগছে, আর তনয়ার পরনে মিষ্টি রঙের হালকা গুজরাটি লেহেঙ্গা।
তেহরাবকে দেখে মুখ ঘুরিয়ে নিল তনয়া, সত্যি বলতে তার খারাপ লাগছে। এই খারাপ লাগাটা কি তেহরাব দেখতে পাচ্ছে না?
তনয়া বুঝতে পারল তেহরাব তার দিকেই এগিয়ে আসছে, তাই কিছু না বলে সে নিজেই চলে যেতে উদ্যত হল। তাই বলে কি তেহরাব তার তনয়াকে যেতে দিবে?
তনয়ার হাত ধরে টেনে নিজের কাছে নিয়ে আসলো, কোমর জড়িয়ে মিশিয়ে নিল নিজের সাথে।
“ বাচ্চাদের মতো অভিমান কেন করছিস? তুই জানিস তো তোকে আমি একা ছাড়তে পারি না, ভয় হয় আমার।”
তনয়া জবাব দেয় না উল্টো ছাড়া পাওয়ার জন্য ছটফট করতে শুরু করে। তেহরাব এবার কিছুটা গম্ভীর থমথমে গলায় বলে উঠল,
“তনয়া। ছটফট করবি না বলে দিলাম, তুই কেন বুঝছিস না তোকে একা ছাড়তে পারব না আমি।”
তনয়া অভিমানে চোখ ফিরিয়ে নিল,
“আপনাকে কি যেতে মানা করেছিল কেউ? আপনার জন্য আমিও যেতে পারলাম না, সব আনন্দ নষ্ট করে দিলেন।”
“কেউ না করেনি, তবে আমার সময় ছিল না। মাত্র আসলাম আমি, আর তোকে আমি কিছুতেই একা যেতে দিতাম না।”
“আমি……….
পুরো বাক্য শেষ হওয়ার আগেই তনয়ার নজরে পড়ল তেহরাবের কপালে কাটা দাগটার দিকে, কেমন রক্ত জমাট বেঁধে আছে। ভেতরটা অস্থির হয়ে উঠল তনয়া, নিজের কোমল হাতের আঙুল নিয়ে রাখল সেভ কাটা স্থানে। অস্থির চিত্তে প্রশ্ন করল,
“কি হয়েছে এখানে?”
তেহরাব ভ্রু কুঁচকাল, তনয়াকে ছেড়ে নিজের কপালে হাত রাখল। কিছু একটা ভেবে বলল,
“কি জানি কি হয়েছে, যাই হোক চল ছাদে।৷ অনুষ্ঠান তো শেষ হয়ে যাবে।”
তেহরাব কথা ঘোরানোর চেষ্টা করছে তা ভালো মতোই বুঝতে পারছে তনয়া, কারন শুধু কপালেই না তেহরাবের হাতেও বেশ অনেক খানি আঘাত। ফর্সা শরীরে সব স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, তেহরাব তনয়ার হাত ধরতে আসে। তনয়া তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তেহরাবের দিকে তাকিয়ে বলে,
“কার সাথে মারামারি করেছেন? আপনি কিন্তু কথা দিয়েছিলেন আর ঝামেলায় জড়াবেন না।”
তনয়ার গম্ভীর কন্ঠ, তেহরাব ‘চ’ শব্দ উচ্চারণ করে বলল,
“আরে বাল তেমন কিছুই না, চল তো।”
তনয়া এক পা ও নড়ল না, ঠাঁই দাঁড়িয়ে রইল। শক্ত গলায় বলল,
“মিথ্যা কেন বলছেন? হঠাৎ কোথাও উধাও হয়ে যাওয়ার কারনই বা কি? বলুন কাকে মেরেছেন।”
তেহরাব গম্ভীর দৃষ্টি নিক্ষেপ করল তনয়ার দিকে, বিরক্ত নিয়ে বলল,
“বললাম তো কিছু না, এখন এসব রেখে ছাদে চল।”
তেহরাব জোর করে তনয়াকে নিয়ে রাফাদের বাড়ির ছাদে চলে আসে, তবে তনয়া এখনো তেহরাবের দিকেই তাকিয়ে আছে। তনয়াকে দেখে তানহা স্টেজ থেকেই ডাকতে লাগল,
“আপু ওই আপু, আমাকে হলুদ দিবি না? রাফা আপুকেও দে আয়।”
তনয়ার কানে বোধহয় সে কথা গেল না, সে গম্ভীর মুখে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা তেহরাবের দিকে তাকাল। যে কিনা এই তার কাজিন ও আত্মীয়দের সাথে কথা বলছে। তানহার ডাক শুনে তেহরাব চোখ ফিরিয়ে তনয়ার দিকে তাকায়, যে কিনা সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে তার দিকেই তাকিয়ে আছে। তেহরাব আড়ালে দীর্ঘশ্বাস ফেলল, পাশ কাটিয়ে তনয়ার কাছে এসে দুষ্টু হেসে বলল,
“আমি জানি তোর দশটা না পাচঁটা না একমাত্র স্বামী দেখতে খুবই সুন্দর, তাই বলে তুই আমার বউয়ের স্বামীর দিকে কু নজর দিবি?”
তনয়ার হতভম্ব হয়ে তাকায় তেহরাবের মুখের দিকে, ঠোঁট জোড়া ফাঁক হয়ে গিয়েছে তার।
“এই সড়ুনতো, মজা করবেন না একদম।”
তেহরাব ভাবলেশ ভাবে বলল,
“আজব আমি কেন মজা করতে যাব? আমি পরনারীর সাথে মজা করি না, আমি আমার বউয়ের প্রতিই আসক্ত।”
তনয়া মুখ ভেঙিয়ে নাক টানে,তেহরাবের বাহুতে ধাক্কা দিয়ে বলে।
“যান, কথা বলবেন না একদম।”
তেহরাব যেন অবাক হল, অবাক হওয়ার ভান ধরেই বলল,
“ ছিহ ছিহ কি অশ্লীল মেয়ে, অন্যের স্বামীকে জান বলছে। এই মেয়ে তুমি জানো আমার বউ কতটা ডেঞ্জারাস? তোমার মুখটা ঝামাপাথর দিয়ে ঘষে দিবে।”
এবার যেন ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে তনয়ার, দাঁতে দাঁত খিঁচিয়ে বলে উঠল,
“ উফ অসভ্য লোক একটা, আপনার সাথে কথা বলায় উচিত না। যত্তসব।”
তনয়া আরো কিছু বিড়বিড় করতে করতে তানহার কাছে চলে যায়, তেহরাব ঠোঁট টিপে হাসে।
এতসময় মন খারাপ থাকলেও এখন একদম ফুরফুরে মেজাজে আছে তনয়া, সকলের সাথে আনন্দ করতে ব্যস্ত সে।
রাত এখন সাড়ে এগারোটার কাছাকাছি, ছাঁদে বসে আছে সবাই। আড্ডা হচ্ছে, এমন সময় তাসলিমা এসে দাঁড়াল তনয়ার পেছনে। কিছুক্ষণ আগে ফোন আসায় নিচে গিয়েছিল সে,
“তনু এদিকে আয় তো মা।”
শাশুড়ির ডাকে উঠে আসে তনয়া, সাইডে গিয়ে দাঁড়ায়।
“হ্যাঁ বলো মা।”
তাসলিমাকে চিন্তিত দেখাল,
“তোর বাবা কল করেছিল, সে হাসপাতালে গিয়েছে।”
তনয়া চমকে উঠল, অস্থির হয়ে উঠল মুহুর্তেই।
“কি হয়েছে বাবার? হাসপাতালে কেন?”
“আরেক শান্ত হ, উনার কিছু হয়নি। আরে রিমুর মামা এসেছিল গত সপ্তাহে বিদেশ থেকে, তোর সাথে হয়তো দেখা হয়নি। সাব্বির ভাইকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, কে বা কারা নাকি খুব বাজে ভাবে মেরেছে। আমার এখনি বাড়ি যেতে হবে রে, তেহরাবকেও পাচ্ছি না।”
তনয়া থ মেরে দাঁড়িয়ে আছে, তার মাথা ঘুরছে। তারমানে সে যা ভাবছে তাই নাকি? কিন্তু…….
“তনয়া আমি চলে যাচ্ছি, তোর বাবা অটো পাঠিয়ে দিয়েছে বলল। তুই থাক, আর তেহরাব আসলে ওকেও বলিস।”
তাসলিমা আর তনয়ার জবাবের অপেক্ষা করল না, সিঁড়ি বেয়ে চলে গেল। কিছু একটা ভেবে তনয়াও নিচে আসলো, তাসলিমা অটোতে উঠার আগেই প্রশ্ন করল,
“রিমুর মামাকে কখন মেরেছে? কোথায় মেরেছে?”
তাসলিমা অটোতে উঠে বসল,
“জেঠাইল বাজারে নাকি, এখন ওখানকার হাসপাতালেই নিয়ে গেছে।”
তনয়া আর কিছু বলল না, তাসলিমা চলে গেল। তবে হিসাব যেন সব গুলিয়ে যাচ্ছে তনয়ার কাছে, হঠাৎ অনুভব করল তার হাত পা কাঁপছে। ভেতরে অস্থিরতা ভর করেছে, কাউকে কিছু না বলে দ্রুত নিজেদের বাড়িতে চলে আসলো তনয়া। বাড়ি ঘর ফাঁকা, মনে হচ্ছে কেউ তাকে আড়াল থেকে দেখছে। এই এনজাইটির কারনে সে যে একা থাকতে পারে না, প্রত্যেকটা মুহুর্তে মনে হয় তার আশে পাশে কেউ আছে, তাকে দেখছে, তাকে নিয়ে বাজে কথা বলছে।
রাত বাজে প্রায় একটা, সবাই বাড়িতে এসে যার যার মতো শুয়ে পরেছে, কালকে আবার সকালে উঠতে হবে। মোটামুটি বড় করেই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, লোকজনও অনেক।
বিয়ের উপলক্ষেই হাজার ষাটেক টাকা খরচ করে আরো দুটো ঘর বানিয়েছে শফিক, এমনিতেও তাদের প্রয়েজনই পরে। সব জিনিসই কম বেশি ছিল বিধায় বেশি টাকাও খরচ হয়নি।
সবাই এই মুহুর্তে গভীর ঘুমে মগ্ন, শুধু তনয়া ব্যতিত। ফ্রেশ হয়ে বিছানার উপর বসে আছে সে, আর একটু পর পর তেহরাবকে কল করেই যাচ্ছে। তবে আল্লাহর বান্দা ভুলেও একটি কলও রিসিভ করছে না, তনয়ার ভয় করছে। হল কি লোকটার? দুশ্চিন্তায় মাথার ভেতর যন্ত্রণাটা বৃদ্ধি পাচ্ছে তার, এই লোকটা তাকে আর কত দুশ্চিন্তায় ফেলবে?
বাইরে থেকে বাইকের শব্দ পেয়ে টনক নড়ে তনয়ার, লাফ দিয়ে বিছানা থেকে নেমে বেরিয়ে আসে বাইরে। যা ভাবে তাই, তেহরাবই এসেছে। বাইক সাইড করে নেমে আসে তেহরাব, তনয়া বারান্দায় রাগী ও চিন্তামিশ্রিত মুখ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
“কতবার কল করেছি আপনাকে? কল ধরেননি কেন? এভাবে টেনশনে ফেলার কোনো মানে আছে?”
তনয়ার কোনো কথায় যেন তেহরাবের কানে গেল না, তেহরাব পাশ কাটিয়ে চলে গেল ঘরের ভেতর। তনয়াও পিছু পিছু আসলো, আবারো কিছু বলতে নিবে এমন সময় তনয়ার নজরে পরল তেহরাবের গম্ভীর, শক্ত ও রাগী চেহারা। চোখ দুটো লাল হয়ে আছে, কপালের রগ গুলো ফুলে আছে সাথে কাটা জায়গাটাও।
তনয়া বুঝতে পারল লোকটা রেগে আছে, একটু বেশিই রেগে আছে। কিন্তু কারনটা কি? আপাতত নিজের কথা গুলো সাইডে রেখে দরজা বন্ধ করে দিল তনয়া, তেহরাব বিছানা বসল। পাঞ্জাবীর উপরের তিনটা বোতাম খুলে হাতে ভর দিয়ে উপরের দিকে মুখ করে বসল, চোখ জোড়া বন্ধ। তনয়া পর্যবেক্ষণ করছে তেহরাবকে, কি হয়েছে বোঝার চেষ্টা করছে সে। তনয়ার কানে ভেসে আসলো তেহরাবের শক্ত ভারী কন্ঠ,
“ফ্যানের পাওয়ারটা বাড়িয়ে দে, আর পানি দে একটু।”
তনয়া কথা না বাড়িয়ে ফ্যানের পাওয়ার বাড়িয়ে দিল, টেবিলে রাখা জগ থেকে পানি ভরে তেহরাবের দিকে এগিয়ে দিল। কিছু সময় আগেই কল চেপে পানি এনেছে সে, তেহরাব সোজা হয়ে বসল। তনয়ার হাত থেকে গ্লাসটা নিয়ে এক ঢোকে পুরো গ্লাস খালি করল, ঠোঁট গোল করে শ্বাস ছাড়ল বড় করে। তনয়া গ্লাসটা পুরনায় টেবিলে রেখে ধীর গলায় বলল,
“ আ..আপনার কি হয়েছে? কই ছিলেন এত সময়?”
তেহরাব তনয়ার দিকে তাকাল, বাম হাত দিয়ে নিজের চুল গুলো খামচে ধরে বলল,
“কোথাও না, লুঙ্গিটা বের করে দে।”
হাওয়াই মিঠাই পর্ব ৪৪
তনয়া কথা মতো আলমারি থেকে লুঙ্গি বের করে দিল, তেহরাব কিছু না বলে চুপচাপ পোশাক বদলে নিল। আপাতত তার শরীরে শুধু লুঙ্গিই আছে, তেহরাব গিয়ে বিছানায় উপর হয়ে শুয়ে পরল। তনয়া বেশ অবাক হল, এমন আচরণ তো কখনো করে না। তনয়া কিছু বলতেই যাবে তার আগেই তেহরাব বলে উঠল,
“লাইট বন্ধ করে শুয়ে পর, আযানের সময় ডেকে দিস। এখন আপাতত বিরক্ত করিস না।!”
তনয়া কিছু সময় দাঁড়িয়ে রইল, কিছু একটা ভেবে লাইট বন্ধ করে তার পাশে গিয়ে শুয়ে পরল। যা জিজ্ঞেস করার কাল সকালেই করা যাবে, এখন বরং ঘুমাক।
