হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ৩৭
সিনথিয়া ইসলাম সীমা
সকাল সকাল ইয়াসমিন বেগমের মেজাজ তুঙ্গে উঠে আছে। যার পেছনে রয়েছে তার একমাত্র পুত্র কৃশান মির্জা। আজকে বাড়ির বড় ছেলে আলভি মির্জার বিয়ে। মাত্র দুমাসের ছুটি নিয়ে বাড়িতে এসেছে সে। যার দরুন সবকিছু খানেক তাড়াহুড়া তেই হচ্ছে। অবশ্য বিয়েতে কোনো আনুষ্ঠানিকতা না থাকায় এবং পূর্ব থেকেই সবকিছু ঠিক করে রাখায় এতে দু’পরিবারের কারই কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তবে এখানেও কৃশানের ঘাড়ত্যাড়ামির জন্য শান্তি নেই! বাপ চাচা দের অনুপস্থিতিতে আলভির সাথে যাওয়ার জন্য বাড়িতে পুরুষ বলতে সেই আছে। কিন্তু তার এক কথা- সে কোনোভাবেই বিয়েতে যাবে না! ইয়াসমিন বেগম,নাজমিন বেগম দুই জা মিলেও তাকে রাজি করতে সক্ষম হয়নি! ছেলেকে কথা শোনাতে শোনাতে রান্নাঘরে ফিরে আসলেন ইয়াসমিন বেগম। তা দেখে কৃশানের ফুপি আমেনা বেগম বললেন,
“ তোমার আবার কি হলো, ওকে রাজি করাতে গিয়ে নিজেই এমন রগচটা হয়ে ফিরেছ কেন? রাজি হয়নি? ”
“ ওই ছেলে কারো কথা শুনলে তো! ”
“ রাজি হবে কি করে শুনি? আগে থেকেই দেখেছি একটা কথা বললে দ্বিতীয়টার বেলা তুমি নিজেই বোম হয়ে যাও, ভালোমতো না বুঝালে ছেলে মেয়ে কথা শুনবে কি করে বলো! ”
ননসের কথায় তেতে উঠলেন ভদ্রমহিলা। বললেন,
“ আপনি না জেনে কথা বলবেন না আপা! বাড়িতে তো আরেকটাও ছেলে আছে কই তাকে তো একটা কথা দ্বিতীয় বার বলতে হয়না! আর এই ছেলে……. ”
কথা সম্পূর্ণ করতে পারলেন না তিনি। পথিমধ্যেই আমেনা বেগম রাগী গলায় বললেন,
“ সবাই এক হয়না ইয়াসমিন! যে যেমন তাকে সেভাবেই ট্রিট করতে শেখো! তোমার এই স্বভাবের জন্যই ছেলেটা বিগড়ে গেছে! ”
পৃষ্ঠে ইয়াসমিন বেগম কিছু বলতে চাইলে তাকে থামিয়ে দিলেন নাজমিন বেগম। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বললেন,
“ আপ, কৃশানকে তো আমিও বলেছি কিন্তু ও শুনেনি। এবার আপনি একটু বলে দেখুন না? আপনার কথা শুনতে পারে। ”
“ আমাদের সাথে তো কথাই বলেনা! রাজি হবে দূরের কথা। ”
দীর্ঘশ্বাস সহিত জবাব দিলেন আমেনা বেগম। প্রত্যেকের কাছে আলভিকে বেশি পছন্দ হলেও তিনি ছোটবেলা থেকেই কৃশানকে বেশি ভালোবাসেন। আলভি ছিল নম্র ভদ্র আর কৃশান ছিল চঞ্চল। তার এই চঞ্চল স্বভাবটাই আমেনা বেগমের বেশি প্রিয় ছিল। তবে হুট করেই সব পাল্টে গেল! অজান্তেই সেই চঞ্চল ছেলেটা হয়ে উঠল বাড়ির সবচেয়ে এক ঘেয়ে, বেপরোয়া ও ছন্নছাড়া স্বভাবের! আমেনা বেগম ফের মুখ খুললেন,
“ কৃশানের বউ কোথায়? ”
“ কৃশানের পাশের রুমেই ইকরাদের সাথে আলভির বউয়ের জিনিসপত্র দেখছে। ”
নাজমিন বেগমের কথায় আর সেখানে দাঁড়ালেন না তিনি। হাঁটা ধরলেন সেদিকে।
আলভির বউয়ের জন্য কিনে আনা জিনিসপত্র নিয়ে গোল হয়ে বসে আছে বাড়ির যুবতীরা। শাড়ি ব্যতীত বিদেশ থেকেই বউয়ের জন্য সবকিছু নিয়ে এসেছে আলভি। সাথে বাড়ির সবার জন্যই কিছু না কিছু এনেছে। নাজমিন বেগমের কথায় হুমায়রার জন্য একটা মোবাইল এনেছে। তবে সেটা গ্রহণ করেনি হুমায়রা। ইয়াসমিন বেগম দিতে আসায় বলেছে- তার মোবাইলের প্রয়োজন নেই। প্রথমে বিষয়টা না বুঝলেও পরক্ষণেই যখন বুঝতে পেরেছেন যে, তার ছেলের নিষেধাজ্ঞায় কিছু নিচ্ছে না হুমায়রা। তখন আর কিছু বলেননি তিনি। বরং স্বাভাবিক ভাবেই নিয়েছেন ব্যাপারটা। যেন আগে থেকেই এরকম কিছু প্রত্যাশা করেছিলেন। তিনি তার হাতের মোবাইলটা হুমায়রাকে দিয়ে দিয়েছেন। বেশিদিন না হওয়ায় একেবারেই নতুন রয়েছ ফোনটা। জলিল মির্জা বাড়ি ফেরার সময়ই এনেছিলেন। হুমায়রা এটা নিতেও রাজি হয়নি তবে এবেলায় ভদ্রমহিলার সাথে পেরে উঠেনি। অগত্যা ফোনটা রাখতেই হয়েছে তাকে। কৃশানও এই ক্ষেত্রে কিছু বলেনি। তার বাবার টাকায় কেনা জিনিস সে নিজেও ব্যবহার করে, সুতরাং তার বউয়ের ক্ষেত্রেও তা গ্রহণযোগ্য!
সবাই যখন বিছানা ভর্তি জিনিসপত্র নিয়ে ব্যস্ত তখনি সেখানে উপস্থিত হলেন আমেনা বেগম। মুচকি হেসে সকলের উদ্দেশ্যে বললেন,
“ কি করছো তোমরা সবাই? কতটুকু এগোলে? ”
“ এইতো ফুপি, সবকিছু পছন্দ করাই প্রায় শেষ। ”
ইকরার উত্তর শুনে তার পাশে চুপটি করে বসে থাকা হুমায়রার দিক তাকালেন তিনি। বললেন,
“ হুমায়রা একটু ফুপির সাথে বাইরে এসো। ”
কোনোরূপ বাক্য বিনিময় ছাড়াই ভদ্রমহিলার পায়ের সাথে পা মিলিয়ে, তার পেছন পেছন হাঁটা ধরল হুমায়রা। দরজার বাইরে এসে থামলেন আমেনা বেগম। কিছুটা ক্ষীণ স্বরে বলতে শুরু করলেন,
“ মা, কৃশান টাকে একটু বুঝিয়ে সুঝিয়ে রাজি করাও না আলভির সাথে যেতে। ও তো কারো কথা শুনতে চায়না জানোই! আলভির ক্ষেত্রে তো আরো আগেই না। এখন তুমি যদি একটু বুঝাতে পার। বাড়িতে এখন শুধু ও ই আছে আর ও যদি না যায় তাহলে কেমন দৃষ্টিকটু দেখায় না! ”
পূর্ণ মনোযোগে কথাগুলো শুনল হুমায়রা। পৃষ্ঠে মিহি স্বরে বলল,
“ আচ্ছা আমি বলে দেখছি ফুপি। ”
মিঠুকে কোলে নিয়ে মোবাইল স্ক্রোল করছে কৃশান। খানেক আগেই বন্ধুদের সাথে আড্ডার পর্ব শেষ করে বাসায় ফিরেছে সে। মন মেজাজ ভালোই ফুরফুরে ছিল এতক্ষণ তবে ইয়াসমিন বেগমের জন্য তা এখন আর আগের অবস্থায় নেই। এর মাঝেই ধীরপায়ে কক্ষে প্রবেশ করল হুমায়রা। কাঙ্ক্ষিত রমণীর উপস্থিতি টের পেতেই কৃশান বলে উঠল,
“ আজকাল সোনার বাংলার কারেন্টের মতো জ্বালানির সংকট পড়েছে নাকি তোর? যখন আসি তখনি দেখি তোর সংকটে নিষ্ক্রিয় হয়ে আছে আমার কক্ষ! সারাক্ষন কোথায় থাকিস তুই..? ”
মানুষটার ওমন পেঁচানো কথা আমলে নিল না হুমায়রা। এগিয়ে এসে বসল মুখোমুখি। বলল,
“ আপনার কি এই মুহূর্তে মেজাজ খারাপ? কথা বলা যাবে? ”
দৃষ্টি তুলে মেয়েটার প্রশ্নাত্তক মুখপানে চাইল কৃশান। সময় নিয়ে ভারিক্কি গলায় উত্তর দিল,
“ আমার মেজাজের উপর নির্ভর করে তোকে কথা বলতে হবে না। তোর স্থান হৃদয়ে,মেজাজ সেখানে কার্যহীন…! ”
এক পশলা ভালোলাগার অনুভুতি খেলা করে গেল হুমায়রার মনে। ঠোঁট জোড়া প্রসারিত হলো আপনা আপনিই। ওভাবেই প্রশ্ন ছুঁড়ল,
“ বিয়েতে কেন যেতে চাইছেন না জানতে পারি? ”
“ ঐ লাফাঙ্গার বিয়েতে আমি গিয়ে কি করব? যাবে, বিয়ে করবে, বউ নিয়ে চলে আসবে- এখানে আমার যাওয়া লাগবে কেন? ”
“ আপনিও যাবেন, বিয়ে পড়ানো দেখবেন তারপর সবার সাথে চলে আসবেন- এখানে এমন কি হবে! ”
ভ্রূ জোড়া কুঁচকে গেল কৃশানের। তা দেখে হুমায়রা সাফাই গেয়ে বলল,
“ বাড়িতে তো এখন পুরুষ বলতে আপনিই আছেন। আপনি যদি না যান তাহলে ও বাড়ির লোকেরা প্রশ্ন করবে না? ”
“ করুক তাতে আমার কি! আমি এতো জেন্টলম্যান দের সাথে যেতে পারব না! এলার্জি আছে আমার! ”
ঠোঁট উল্টে দীর্ঘশ্বাস ফেলল হুমায়রা। কিছুক্ষন ব্যার্থ চোখে চেয়ে আবেদন মাখা কণ্ঠে বলল,
“ আপনি নাহয় ইকরার স্বামীর সাথে থাকবেন, একটু খানি সময়ই তো! আপনি গেলে সবাই অনেক খুশি হবে। ”
মুখে খানেক মলিন ভাব মেয়েটার। এবেলায় একটু খানি গলল বোধ হয় মানুষটা। বলল,
“ আচ্ছা, যাব। তবে বেশি লেইট হলে আমি চলে আসব। ”
“ আচ্ছা। ”
মিঠুকে কোলে নিতে নিতে হাসিমুখে প্রতিউত্তর করল হুমায়রা। এর মাঝেই ওয়াশরুমে ঢুকে গেল কৃশান।
“ আপনি কিন্তু আজকাল আমার সাথে ঘোর অন্যায় করছেন ইকরাবিবি! ”
কক্ষে প্রবেশ করা মাত্রই স্বামীর এহেন কথায় ভ্রূ কুঞ্চিত হলো ইকরার। এগিয়ে এসে উদ্বিগ্ন কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল,
“ কি করলাম? ”
“ স্বামীকে রুমে ফেলে রেখে সারাক্ষন বাপের বাড়ির সব কোণে টইটই করে বেড়াচ্ছেন- এর মতো অন্যায় দ্বিতীয়টি আর হয় কি? ”
উমরের থেকে এরকম অভিযোগ মোটেও আশা করেনি ইকরা। কিয়ৎক্ষণ অবাক চোখে স্বামীর পানে তাকিয়ে হেসে ফেলল মেয়েটা। বলল,
“ হায় আল্লাহ, আমার ইমাম সাহেবের সাথে এতো বড় অন্যায় টা মোটেও মানা যাচ্ছে না! এর জন্য ইকরাবিবির কঠিন শাস্তি হওয়া উচিত! ”
“ হুম তা তো বটেই! আপনিই বলুন তাঁকে কি শাস্তি দেওয়া যায়? তবে সাবধান, আমার ইকরাবিবি কিন্তু বড্ডো নাজুক! তাঁকে কঠিন দেওয়ার সাহস করবেন না! ”
এবার খানেক শব্দ করেই হেসে ফেলল ইকরা। পরপর বসে পড়ল স্বামীর পাশ ঘেঁষে। এক হাত জড়িয়ে ধরে কাঁধে মাথা রাখল। ওভাবেই বলল,
“ আপনি এতো ভালো কেন ইমাম সাহেব? ”
স্ত্রীর এমন সোজাসাপ্টা প্রশ্নে মুচকি হাসল উমর। কণ্ঠে রসিকতা মিশিয়ে আফসোসের স্বরে জবাব দিল,
“এতো ভালো হয়ে লাভ হলো কি? আমার ইকরাবিবি তো তার ইমাম সাহেবকে এর জন্য একটা চুমুও খেল না। ”
কথাগুলো কর্ণকুহরে পৌঁছাতেই লজ্জায় কপোলদ্বয় লালিত হলো ইকরার। ক্ষীণ স্বরে বলল,
“ আপনি দিনদিন বড্ডো নির্লজ্জ হয়ে যাচ্ছেন ইমাম সাহেব! ”
“ আপনার যে লজ্জাই আমাকে নির্লজ্জ করে তুলছে! এখন কথা না বাড়িয়ে লক্ষ্মী বউয়ের মতো একটা চুমু দিন তো! ”
কুণ্ঠিত বদনে কাঁধ থেকে মাথা তুলে স্বামীর পানে তাকাল ইকরা। পরক্ষণেই বাতাসের বেগে এসে ঠোঁট ছুঁয়াল উমরের গালে। পরপর পালাতে নিলেই তাকে থামিয়ে দিল উমর। পালানোর সব রাস্তা বন্ধ করে নিজের সাথে মিশিয়ে নিল মেয়েটাকে। অতঃপর ভালোবাসার আলিঙ্গনে আবদ্ধ হলো দুটি দেহ। মিষ্টি পরশের আবর্তনে পূর্ণতার পাতায় সূচিত হলো একটি নতুন অধ্যায়।
বারন্দায় বসে কুটি কুটি করে খাবার খাচ্ছে মিঠু। সেদিকে এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে হুমায়রা। তখনি রুমের ভিতর কৃশানের ডাক ভেসে আসলো,
“ এই হুজুরনী, এদিক আয়। ”
ধ্যান ভঙ্গ হলো রমণীর। তৎক্ষনাৎ বারান্দা থেকে বেরিয়ে এলো। ওমনই স্তব্ধ হয়ে গেল মেয়েটা! কালো শার্ট প্যান্ট পড়ে সেই পুরাতন স্টাইলেই রেডি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে কৃশান। পরনের সবকিছু নতুন হলেও স্টাইল আগেরটাই রয়ে গেছে। কোনোরূপ পরিবর্তন নেই তাতে। যেন বিয়ে বাড়িতে নয় বরং বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে যাচ্ছে সে।
“ শার্টের বোতাম লাগাবেন না? ”
খানেক অবাক মিশ্রিত কণ্ঠে প্রশ্ন ছুঁড়ল হুমায়রা। মেয়েটার এমন প্রতিক্রিয়ায় নিজের দিক তাকাল কৃশান। খোলা বোতাম গুলোর দিক কিছুক্ষন চেয়ে রইল। পরপর বড্ডো অনিহা নিয়ে বলল,
“ না, প্যারা লাগে এসব! ”
“ আমি লাগিয়ে দেই? ”
পূর্ণদৃষ্টি নিক্ষেপ করে মেয়েটাকে খানেক পর্যবেক্ষণ করল কৃশান। সময় নিয়ে উত্তর করল,
“ হুম। তবে উপরের দুটো খুলা রাখবি নয়তো গরম লাগবে। ”
সম্মতি পেয়ে দেরী করল না হুমায়রা। ত্রস্ত পায়ে এগিয়ে এলো মানুষটার নিকট। দাঁড়াল মুখোমুখি, সন্নিকটে। পেলব হাত দ্বয়ের সাহায্যে মিনিটের মধ্যেই সবগুলো বোতাম লাগিয়ে ফেলল। পুরোটা সময় তার কর্মরত সত্তা টাকে খুব নিখুঁত ভাবে নিরীক্ষণ করল কৃশান।
“ এটা খুলে ফেলি? ”
অকস্মাৎ কৃশানের গলায় ঝুলানো চেইন টাকে ধরে বলে উঠল হুমায়রা। কথাটা বলতে গিয়ে খানেক ভয় কাজ করেছে মেয়েটার ভিতরে। তবে নিজেকে দমিয়ে রাখেনি।
অপ্রত্যাশিত কথা খানা শুনতেই ভ্রূ জোড়া কুঁচকে গেল কৃশানের। কণ্ঠ শৃঙ্গে তুলে জানতে চাইল,
“ কেন…! ”
“ কেমন যেন বেমানান লাগছে, ভালো লাগছে না! ”
সংকীর্ণ চোখে চেয়ে জবাব দিল হুমায়রা। নীরব হয়ে উঠল চারিপাশ। কোনো প্রকার সাড়া শব্দ হলো না উভয় পক্ষ হতে। এরূপ নিস্তব্ধতায় যখন হুমায়রার হৃদয়ের আশারা নিঃশেষ হতে নিবে তখনি ঘরময় ধ্বনিত হলো কৃশানের ভরাট স্বর,
“ খুল….! ”
চকিত দৃষ্টিতে চাইল মেয়েটা। মুহূর্তেই শুকনো মুখে হালকা খুশির ঝলক দেখা গেল। এবার পূর্ণ অধিকার নিয়ে চেইন টাতে হাত দিল। চেইনটা বেশ বড় হওয়ায় সহজেই মাথার উপর দিয়ে খুলা যায়। তাই আর কষ্ট না করে সহজ পন্থা টাই বেছে নিল হুমায়রা। পথিমধ্যেই পড়ল বিপাকে। অসাবধানতায় কৃশানের চুলের সাথে চেইনের হুক আটকে গেছে বোধ হয়। যার দরুন চেইনটা আসছে না। মেয়েটা বিভ্রান্ত হলো। ফ্লোরে আঙুলের ভর দিয়ে কৃশানের কাঁধ সমান দেহখানা, একটু উঁচু করে চেষ্টা করতে নিবে তখনি কর্নগোচর হলো মানুষটার কণ্ঠ,
“ ওয়েট…! ”
এক হাত উঁচু করে হুমায়রাকে থামিয়ে দিল সে। পরক্ষণেই মেয়েটাকে হতবিহ্বল করে দিয়ে মাথা নত করে তার কাঁধ বরাবর নেমে এলো কৃশান। অত্যধিক বিস্ময়ে চোখ জোড়া বড় বড় হয়ে গেল হুমায়রার। হকচকিত বদনে অনড় হয়ে রইল সে।
“ নে এবার খুল…! ”
কণ্ঠ শুনে স্বাভাবিকতায় ফিরে এলো রমণী। তড়িঘড়ি করে চেইনটা চুল থেকে ছাড়িয়ে নিল। সোজা হয়ে দাঁড়াল কৃশান। অদ্ভূত স্বরে বলল,
“ নিশ্চয়ই মাদ্রাসা থেকে মানুষ বশ করার দোয়া শিখে এসেছিস তুই! নয়তো যে আমি কখনো মেয়েদের দিকে ঘাড় ফিরিয়েও তাকাইনি, সে কৃশান মির্জাই এখন তোর সামনে স্বাচ্ছন্দ্যে মাথা নত করছি…..! ”
পৃষ্ঠে বলার মতো কিছু খুঁজে পেল না হুমায়রা। অগত্যা চুপ রইল সে। ততক্ষণে মিররের সামনে নিজেকে আরেকবার পরিপাটি করে নিল কৃশান। ইন করা শার্টের হাতা দুটো গুটানো,এক হাতে বিদেশি ব্র্যান্ডের কালো ঘড়ি ও অপর হাতে ব্রেসলেট। ব্যাস এটুকুতেই চলবে। সবকিছু ঠিকঠাক দেখে টেবিলে রাখা কালো চশমাটা এবার চোখে লাগিয়ে নিল। বলল,
“ উম, লোক ড্যাশিং! তাই না হুজুরনী…? ”
শেষের কথাটা বলেই হুমায়রার দিক ফিরল সে। কিছুটা থতমত খেল মেয়েটা। উত্তর দিতে গিয়ে পড়ল দ্বিধাদ্বন্দ্বে। তা দেখে কৃশান নিজ থেকেই বলল,
“ তোকে বলতে হবে না আমি জানি আমাকে হ্যান্ডসাম লাগছে..! ”
মানুষটার কান্ড দেখে হেসে ফেলল হুমায়রা। পরক্ষণেই এগিয়ে এসে ফুঁ দিল স্বামীর শরীরে। কপালে ভাঁজ পড়ল কৃশানের। ভ্রূ কুঁচকে প্রশ্ন ছুঁড়ল,
“ এটা কি করলি? ”
“ বদ নজর থেকে বাঁচার দোয়া পড়ে দিলাম। বিয়ে বাড়িতে কত মেয়ে মানুষ থাকবে! কার নজর কিরূপ আল্লাহ মালুম..! ”
এতক্ষণে এসে মুখ খুলল হুমায়রা। এর আগে দোয়া পড়ার কারণেই কিছু বলতে পারেনি। সত্যিই মারাত্মক সুদর্শন লাগছে তার বখাটে পুরুষটাকে! যেকোনো মেয়ের নজরে আসবে নিশ্চিত। তাই মোটেও ঝুঁকি নিবে না সে। মানুষের নজর ভয়ানক!
হুমায়রার কাণ্ডে কৃশানের হালকা কালচে ঠোঁটে সূক্ষ্ম হাসি দেখা মিলল। হিজাবের মধ্যে স্থান পাওয়া স্ত্রীর গোল গাল মুখখানা কিছুক্ষন পরখ করল সে। পরপর খানেক ঝুঁকে মুখোমুখি হলো মেয়েটার। কণ্ঠ খাদে নামিয়ে হুমায়রার সকল চিন্তা দূর করতে বলে উঠল,
হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ৩৬
“ শুন হুজুরনী- যে সকল নারীদের সবাই দেখে তাদের দিকে কৃশান মির্জা কখনোই চোখ তুলে তাকায় না। আর যাকে আমি দেখি তার দিকে অন্য কেউ চোখ তুলে তাকাতে পারেনা! সুতরাং আমি যেখানেই যাই শুধু এটুকু জেনে রাখবি,
এই সুবিন্যস্ত ধরণীর বহিরভাগে অগণিত রমণীদের ভিড়ে,
কৃশান মির্জার দৃষ্টি সর্বদা আটকাবে হিজাবের আড়ালে থাকা ঘরের এই রমণীর ধারে….! ”

Next episode aktu taratari diyen. Ato late kore dile to interest kome jbe.. but ajker episode ta sundor cilo..