হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ৩৮
সিনথিয়া ইসলাম সীমা
বর পক্ষের আগমনে মুহূর্তেই হইচই পড়ে গেল রহমান বাড়িতে। মুরুব্বিরা সব বেরিয়ে আসলেন তাদেরকে এগিয়ে নিতে। মানুষজনের তেমন বালাই নেই, আলভির ফুপা- ফুপি, মামা- মামি আর কৃশান ও উমর এসেছে তার সাথে। জিনিয়ার বাবা জাবের রহমান এসে সকলের সাথে কুশল বিনিময় করলেন। পরপর সবাইকে নিয়ে চললেন বাড়ির ভিতরে।
এইদিকে যতটা সরবতায় মেতে আছে বাড়ির সকলে ঠিক ততটাই নির্জীব হয়ে রুমে বসে আছে জিনিয়া। মেয়েটাকে ঘিরে রাখা কাজিন মহল ও বান্ধবীরাও ছুটে গেছে বর আসার কথা শুনে। অথচ তার মধ্যে কোনো অনুভুতি নেই। যাকে ছোটবেলা থেকেই দেখে এসেছে তাকে দেখার আর কি আছে! বিয়ে নিয়ে কত স্বপ্ন ছিল তার। নিজের বিয়েতে সবাইকে নিয়ে আনন্দ উল্লাস করবে, লুকিয়ে লুকিয়ে জামাই দেখবে আরো কত কি! কিন্তু তার সব আশাতে পানি ঢেলে দিল তার পরিবার। কোনোরূপ আয়োজন ছাড়াই বিয়ে হয়ে যাচ্ছে তার। তাও এমন একটা মানুষের সাথে যাকে সে দু- চোখে সহ্য করতে পারেনা।
“ এই জিনিয়া, তোর জামাই দেখি সেই হ্যান্ডসাম! আর তুই বলিস মদন! ”
বান্ধবীর কথায় ভাবনায় ছেদ পড়ল জিনিয়ার। বিরক্ত হলো সে। কিছু বলতে নিবে এর মাঝে আবারও শুনতে পেল বান্ধবীর উচ্ছাসিত স্বর,
“ দোস্ত, দুলাভাই তো এক্কেরে লাখে একটা! মোটেও হারবি না তুই। বরং তোর সাথে সাথে আমিও জিতে যাব। ”
“ মানে..? ”
“ মানে তোর একটা দেবর আছে, হেব্বি সুন্দর। আমিতো ভাই ফিদা! তুই তাড়াতাড়ি বিয়েটা করে আমার সেটিং করিয়ে দে বান্ধবী…..! তাহলে আমিও জিতে যাব। ”
হতাশার নিশ্বাস ছাড়ল জিনিয়া। বলতে নিল,
“ ফিদা হয়ে লাভ নেই। তার বি….. ”
কথার মাঝেই লাগেজ হাতে কক্ষে প্রবেশ করলেন জিনিয়ার আম্মু জেসমিন রহমান। তাঁকে দেখতেই থেমে গেল দুই বান্ধবীর কথোপকথন। ভদ্রমহিলা সামনে এসে শাড়ি বের করে দিলেন। মেয়ের হাতে ধরিয়ে বললেন,
“ তৈরি হয়ে নাও, একটু পরই বিয়ের কাজ শুরু হবে। ”
জিনিয়া কোনো উত্তর দিল না। চুপচাপ হাত থেকে শাড়িটা নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে গেল। দুদিন ধরে মায়ের সাথে কথা বলেনা সে। পণ করে নিয়েছে আর কখনোই কথা বলবে না।
সূর্যের তেজ কমে গিয়ে ধরণীতে নেমে এসেছে এক অদ্ভূত শান্তি। মৃদু বাতাসের ছুঁয়ায় ক্ষণে ক্ষণে দোল খাচ্ছে নবীন পত্তর। আবার কিছু কিছু ঝরে পড়ছে মাটিতে।
ভিতরে থাকতে থাকতে অতিষ্ট হয়ে বাইরে বেরিয়ে এলো কৃশান। একটা গাছের নিচে এসে দাঁড়াল। সেই কখন থেকে বিরক্তি নিয়ে বিয়ে পড়ানো শেষ হওয়ার আশায় বসে ছিল সে। অথচ বিয়ে পড়ানো শেষ হওয়ার পরেও বাড়ি ফেরার নাম নেই। এবেলায় আর সহ্য করতে না পেরে বেরিয়ে এসেছে ছেলেটা।
সহসা পিছন থেকে শুনতে পেল মেয়েদের হাসাহাসির শব্দ। জিনিয়ার কিছু কাজিন আর ফ্রেন্ড সার্কেল রা কৃশানের থেকে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন কথাবার্তা বলছে আর সামান্যতেই শব্দ করে হেসে উঠছে। আসার পর থেকেই তার পিছন পিছন ঘুরঘুর করছে মেয়েগুলো। মাঝে মাঝে এসে বেয়াই বলেও সম্বোধন করেছে, ইনিয়েবিনিয়ে ভাব জমানোর চেষ্টা তো ছিলই। তবে পুরোটা সময়ই লাপাত্তা ছিল কৃশান। যেন আশেপাশে কে কি বলছে, কে কি করছে এসবে কোনো ধ্যান জ্ঞান নেই তার। একবার ফিরেও তাকায়নি কারো পানে, দৃষ্টি সর্বদা ফোনেই নিবদ্ধ ছিল। মেয়েগুলোর এমন নির্লজ্জ আচরণে রীতিমতো বিরক্তির মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে ছেলেটার। মন চাচ্ছে- গিয়ে একটা রাম ধমক দিয়ে আসতে সবকটাকে। ধমক খেলে এমনিতেই শুধরে যাবে। পরক্ষণেই মনে হলো, এসব মেয়েদের সাথে কথা বলে নিজের জবান নষ্ট করার মানে হয়না। এর চেয়ে ভালো বরং অন্য উপায়ে মেয়েগুলোকে একটু হেনস্তা করা যাক।
ভাবনানুযায়ী পকেট থেকে ফোন বের করল কৃশান। আঙুল চেপে কল লাগাল মায়ের নাম্বারে যেটা আজ থেকে হুমায়রার কাছেই থাকবে। তিনবার রিং হওয়ার মাথাতে ওপাশ থেকে কল রিসিভ হলো। সাথে ভেসে আসলো রিনরিনে কণ্ঠের সালাম,
“ আসসালামু আলাইকুম………( বাকিটুকু মনে মনে) ”
চেনা পরিচিত কণ্ঠ খানা কর্ণকুহরে পৌঁছাতেই ঠোঁটে হাসি ফুটল কৃশানের। খানেক শব্দ করেই জবাব দিল,
“ ওয়া আলাইকুমুস সালাম……..( বাকিটুকু মনে মনে) ”
কৃশানের কণ্ঠ বোধ হয় পৌঁছাল মেয়গুলোর নিকট। কথা বার্তা বন্ধ করে নির্জীব হয়ে রইল তারা। পূর্ণ মনোনিবেশ করল যুবকের কথার মধ্যে।
“ হঠাৎ কল করলেন যে? ওদিক দিয়ে কতটুকু এগোলো সবকিছু? ”
কৃশানের জবাবের পৃষ্ঠে প্রশ্ন ছুঁড়ল হুমায়রা। উত্তরে কৃশানের নিঃশ্বাসের শব্দ ব্যতীত কোনোরূপ সাড়া শব্দ পাওয়া গেল না। ভ্রূ কুঁচকে স্ক্রিনের দিক নজর বুলালো মেয়েটা।কিয়ৎক্ষণ অপেক্ষা করে ডেকে উঠল,
“ শুনছেন…..? ”
কাঙ্ক্ষিত সম্বোধনে সাড়া পাওয়া গেল মানুষটার। সে মোহাবিষ্টের ন্যায় উত্তর করল,
“ ইয়াহ, আ’ম লিসেনিং ইউ্য ডিপলি বা-ই-কো..! ”
কৃশানের বলা কথাগুলো স্পষ্ট শুনতে পেল পেছনের রমণীরা। তন্মধ্যে একজন অপরজনের উদ্দেশ্যে তাড়া দিয়ে বলল,
“ এই বাইকো অর্থ কি? তাড়াতাড়ি গুগোলে সার্চ কর। ”
অপর মেয়েটি তড়িঘড়ি করে গুগোল সার্চ করল। প্রদত্ত উত্তর নজরে আসতেই বিস্ফোরিত কণ্ঠে বলল,
“ বাইকো মানে বউ……..! ”
সবগুলো অবিশ্বাস্য দৃষ্টি এসে পড়ল মোবাইলের স্ক্রিনের উপর। হতভম্ব হয়ে একবার স্ক্রিনে তো আরেকবার সামনের সুদর্শন পুরুষটির পানে তাকাল। সমস্বরে আওড়াল,
“ জামাইয়ের ছোট ভাই বিবাহিত…..! ”
জিনিয়ার বান্ধবী বিরোধিতা করে বলল,
“ এটা কি করে পসিবল ভাই? বড় ভাইয়ের আগে ছোট ভাই বিয়ে করবে নাকি! নিশ্চই গার্লফ্রেন্ডকে……….”
কথা সম্পূর্ণ করতে সক্ষম হলো না রমণী। পথিমধ্যেই তার ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করে শোনা গেল যুবকটির ভরাট স্বর,
“ হ্যালো, মহারানী! কোথায় আপনি? শুনতে পাচ্ছেন আমায়? ওয়ারড্রপ এর ভিতরে আপনার জন্য একটা জিনিস রাখা আছে দেখুন। আর এইদিকে বিয়ে পড়ানো শেষ একটু পরই বাড়িতে ব্যাক করছি। ”
কৃশানের দৃষ্টি মাটিতে। ফোন কানে চেপে মেয়েগুলোর সামনে দিয়ে অনায়াসে চলে যাচ্ছে সে। তার যাওয়ার পানে হতবিহ্বল চোখে চেয়ে রইল রমণীরা। বুঝতে আর বাকি নেই যে- পুরুষটি বিবাহিত।
এইদিকে বিস্ময়ে বিমোহিত হুমায়রার মুখ দিয়ে বুলি ফুটছে না। এতক্ষণ গুগোলে বাইকো শব্দের অর্থ জেনে নির্বাক হয়ে ছিল সে এর মাঝেই কর্ণপাত হলো কৃশানের আপনি সম্বোধনে বলা বাক্যগুলো। মেয়েটা থমকল, হকচকাল, হতবিহ্বল চাহনিতে বারকয়েক মোবাইলের স্ক্রিন পরখ করল। কল দাতার জায়গায় কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তির নাম ভাসতে দেখে নিজেকে ধাতস্ত করার চেষ্টা চালাল। খানেক থেমে জানতে চাইল,
“ কি রেখেছেন.? ”
“ তুই নিজেই দেখ! আচ্ছা এখন রাখি আমি রাতে বাসায় ফিরব। ”
এখানেই শেষ। এরপর খট করে কলটা কেটে গেল। শুধু রয়ে গেল কিছুটা বিস্ময়ের রেশ! যাতে ডুবে রইল হুমায়রা।
বউ নিয়ে বাসায় ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো। পাঁচ মিনিটের রাস্তা হওয়া সত্ত্বেও বউকে গাড়িতে করেই আনা হলো। গাড়ি এসে বাড়ির সামনে থামতেই ভিতর থেকে গিন্নি রা বেরিয়ে এলেন। নাজমিন বেগমের মুখে হাসির জুয়ার! নিজের পছন্দ করা মেয়েকে পুত্রবধূ হিসেবে গ্রহণ করতে দরজায় দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। আলভি গাড়ি থেকে নেমে জিনিয়ার উদ্দেশ্যে হাত বাড়াল তবে সেটা উপেক্ষা করল রমণী। নিজে নিজেই গাড়ি থেকে নেমে হাঁটা ধরল। আশেপাশে কোনোকিছু পরোয়া করল না। দৃষ্টিকটু ব্যাপারটা সবার থেকে লুকাতে দ্রুত পায়ে জিনিয়ার পাশাপাশি হেঁটে চলল আলভি। দুজন এসে বাড়ির মূল ফটকে দাঁড়াতেই সব নিয়ন মেনে হাসিমুখে তাদেরকে ভিতরে প্রবেশ করালেন নাজমিন বেগম। জিনিয়াকে বসানো হলো ড্রয়িং রুমের সোফায়। আর আলভি চলে গেল নিজের রুমে।
বরাবরের মতোই রাত করে বাড়িতে ফিরল কৃশান। তবে আগের মতো অতটা রাত করে নয়। তখন বিয়ে বাড়ি থেকে ফেরার মাঝ পথেই গাড়ি থেকে নেমে নিজের আড্ডাস্থানে চলে গিয়েছিল সে। আড্ডা শেষ করে মাত্রই বাড়িতে ফিরল। ড্রয়িং রুমে তখনো বড়দের সমাগম। সবাই বিভিন্ন আলাপ আলোচনায় ব্যস্ত। ওদিকে দৃষ্টিপাত করল না কৃশান। সরাসরি নিজ কক্ষে এসে থামল সে।
হুমায়রা তখন বিছানায় বসে হাদিসের বই পড়ছিল। বইটা ইকরা আসার পর দিয়েছিল তাকে। ব্যস্ততায় এখনো শেষ করা হয়নি। সুযোগ পেলেই বইটা নিয়ে বসে।বইয়ের মাঝে সবটুকু মনোনিবেশ মেয়েটার। সহসা দরজা খুলার শব্দে মনযোগ টুটল। দৃষ্টি তুলে তাকাল দরজার পানে। দেখতে পেল কাঙ্ক্ষিত পুরুষের অবয়ব। ওমনিই বিকেলের কথা মনে পড়ে মুখটা কালো হলো। কৃশানের কথায় তখন ওয়ারড্রপ খুলে দেখতে গিয়ে উপহার স্বরূপ একটা টকটকে পাঁকা টমেটো পেয়েছিল সে। এক প্রকার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছিল মেয়েটার। ভেবেছিল কি না কি রেখে গেছে মানুষটা তার জন্য। আর পেল কি? টমেটো…! মেয়েটা ওমন মুখেই প্রশ্ন ছুঁড়ল,
“ আপনি কি আমার জন্য টমেটো রেখে গিয়েছিলেন? ”
“ হুম, কেন পছন্দ হয়নি? একেবারে তাজা দেশি টমেটো। সকালে আড্ডা দিতে গিয়ে ক্ষেতের থেকে পেরেছিলাম। সেখান থেকে তোর জন্য সবচেয়ে সুন্দর টা এনেছি! ”
হুমায়রা নিরুত্তর, নির্বাক! উত্তরে কিছুক্ষন অবাক চোখে চেয়ে রইল মানুষটার পানে। কিয়ৎক্ষণ চুপ থেকে ফের প্রশ্ন ছুঁড়ল,
“ তখন কলে আমাকে ‘ আপনি ‘ করে কি- আপনিই বলেছিলেন? ”
“ কোথায় আপনি? কিসের আপনি? ”
ভাব দেখে ভ্রূ উঁচু হলো মেয়েটার। বলল,
“ আপনি কথা ঘুরাচ্ছেন! ”
“ শুন, ঐ লাফাঙ্গার মতো ওর শ্বশুর বাড়িটাও আমার জন্য অস্বাস্থ্যকর! সেখানকার আবহাওয়ার প্রভাবে ভুলভাল বলে ফেলেছিলাম হয়তো! ”
হুমায়রা বুঝল সামনের পুরষের থেকে কখনও কথা আদায় করতে পারবে না সে। অগত্যা হার মেনে নিয়ে নীরব রইল। মনে মনে বলল,
“ ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে বউ বলে ডাকবে, কত কথা বলবে। অথচ মুখে কিচ্ছুটি স্বীকার করবে না! বখাটে পুরুষ! ”
“ এই হুজুরনী, মনে মনে বকছিস কেন? ”
অকস্মাৎ কণ্ঠে কিছুটা থতমত খেয়ে গেল হুমায়রা। নিজেকে ধাতস্ত করে জবাব দিল,
“ বকিনি, বলেছি- মুখে কিছু স্বীকার করে না! বখাটে পুরুষ! ”
হেসে ফেলল কৃশান। কেন জানি এই মেয়েটার মুখে বখাটে শব্দটা শুনতে বেশ আদুরে লাগে তার। রাগ হয়না মোটেও। সে সূক্ষ্ম হেসে বলল,
“ সময়মতো সকল স্বীকারোক্তি তোর নিকটেই প্রদান করা হবে! ”
একটা সময় জিনিয়াকেও রুমে পাঠানো হলো। ইকরা এসে তাকে রুমে দিয়ে গেল। আলভি তখন ওয়াশরুমে ফ্রেশ হচ্ছে। পানির শব্দ আসছে ভিতর থেকে। লোকটাকে সামনে না দেখে শান্তি পেল জিনিয়া। নির্দ্ধিধায় ফুলে ফুলে সাজানো বিছানায় উঠে বসল সে। পরপর এক সাইডে রাখা কোলবালিশটা মাঝখানে রেখে এক পাশ জুড়ে শুয়ে পড়ল।
মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই মাথা মুছতে মুছতে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে এলো আলভি। প্রথমেই চোখ গেল বিছানায় শয়নরত অবস্থায় থাকা নববধূর পানে। পলকের মাঝেই দৃষ্টি সরিয়ে নিয়ে নিজের কাজে মন দিল সে। অতঃপর কিছুক্ষন পর সেও কোনোরূপ কথাবার্তা হীন শুয়ে পড়ল অপর পাশে।
নব দিনের সূচনালগ্ন। নিত্যদিনের নিয়ম মাফিকেই সকালের ইবাদতের পর্ব চুকিয়ে রান্নাঘরে প্রবেশ করল হুমায়রা। সেখানে পূর্ব থেকেই উপস্থিত ছিলেন ইয়াসমিন বেগম। নাজমিন বেগমে বোধ হয় কোনো কাজে অন্যদিক গেছেন। রান্নাঘরে ঢুকে শাশুড়ির উদ্দেশ্যে সালাম চুকল হুমায়রা। মুচকি হেসে সালামের উত্তর নিলেন ইয়াসমিন বেগম। পরপর হুমায়রার হাতে রুটি বেলার দায়িত্ব দিয়ে বললেন,
“ নাও তুমি বানাও, আম্মু তেলে দেই। ”
কোনো প্রকার দ্বিরুক্তি হীন কাজে লেগে পড়ল হুমায়রা। শ্বাশুড়ি বউ মিলে যখন রুটি তৈরির কাজ প্রায় ঘনিয়ে ফেলেছে তখনি রান্নাঘরে আগমন ঘটল নাজমিন বেগমের। নিজের ছেলের বউকে নিয়ে এসেছেন তিনি। তাকে দেখে ইয়াসমিন বেগম হাসিমুখে বললেন,
হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ৩৭
“ আরে, আমাদের নতুন গিন্নি যে! এসো এসো আম্মু এখানে এসো। ”
ভদ্রতার খাতিরে সৌজন্যমূলক হাসল জিনিয়া। অনিচ্ছা সত্ত্বেও ধীরপায়ে এগিয়ে এলো। তখনি নাজমিন বেগম হুমায়রাকে দেখিয়ে বললেন,
“ এইযে, ও হলো হুমায়রা। তোমার ছোট জা। মাশাআল্লাহ সবকিছুতে পারদর্শী। তুমি যা যা পারবে না ওর থেকেই শিখে নিতে পারবে। ”
এতক্ষণে কাজ ছেড়ে মাথা তুলে চাইল হুমায়রা। মুখে মিষ্টি হাসি বজায় রেখে বড় জাকে সালাম দিল। মনে মনে সালামের জবাব নিল জিনিয়া। মুখে কোনোরূপ প্রতিক্রিয়া দেখাল না। মনে হলো যেন নাজমিন বেগমের প্রশংসায় হুমায়রার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছে সে।
