Home হৃৎস্পন্দন হৃৎস্পন্দন পর্ব ৬

হৃৎস্পন্দন পর্ব ৬

হৃৎস্পন্দন পর্ব ৬
সাঞ্জেনা শাজ

ফ্রিজ থেকে খাবার বের করে ওভেনে গরম করে শুভ্রতার সামনে এসে বসলো মেহরাদ। শুভ্রতা মুখ গুজো করে রেখেছে, সে খাবেনা। ভালো লাগছেনা। কিন্তু মেহরাদ নাছরবান্দা৷ খাবেনা মানে?খেতেই হবে!
“আমার ভালো লাগছেনা মেহরাদ ভাই, আয়ায়ায়া…” ঘেনঘেন করে বলে উঠলো শুভ্রতা।
মেহরাদ ভাবলেশহীন। সোফার মধ্যে শুভ্রতার মুখোমুখি বসতে বসতে বললো,,
“খেয়ে নে তারপর ভালো লাগবে।না খেলে ভালো না লাগারিই কথা। ”
“আমি খাবারিই খেতে চাচ্ছিনা। এই রাত্র করে কে খায় বলেন?”
“আগে খেয়ে নিতি! তাহলেই তো এখন আর খেতে হতো না। দেখি হা কর..” বড়বড় আঙ্গুলে খাবার ভাত নিয়ে শুভ্রতার মুখের সামনে ধরলো মেহরাদ।
শুভ্রতা ফুস ফুস করে উঠলো। তার কথার কোন গুরুত্ব দিচ্ছেনা। ইশশ!কেমন লাগে! মুখ ফিরিয়ে নিল। মেহরাদ গাল চেপে মুখ ফিরালো তার দিকে। না চাইতেও জোরপূর্বক হা করতে হলো শুভ্রতার। মুখে ভাত পুরে চিবুচ্ছে সে। খুব্দ চোখে তাকিয়ে আছে মেহরাদের দিকে। ঘাউড়া লোকটা সব সময় নিজে চা তা-ই করাই মানুষেকে দিয়ে। ঘাউড়ার ঘাউড়া!

দু ভ্রু উচালো মেহরাদ। উচিয়ে জিগ্যেস করলো,,
“কি চিবুতে ভালো লাগছেনা। এখন বললে আমি চিবিয়েও দিতে পারি। আমরা আমরাই তো কি বলিস!”
তড়িঘড়ি করে মুখের ভাত গিলে। __ ‘ইউউউ, ছিঃ! কি বলেন এসব, হে!’ বলে উঠলো শুভ্রতা।
মেহরাদ তীক্ষ্ণ চোখে চেয়ে আবারও ভাত পুরে দিল শুভ্রতার মুখে। এরকম করে টুকিটাকি আরেকটু খাওয়ানোর পর বেকে বসলো শুভ্রতা, সে আর খাবেনা। খাবেনা মানে খাবেনা!
মেহরাদ অবশিষ্ট খাবারের প্লেট নিয়ে কিচেন রুমের দিকে গেল। অবশিষ্ট খাবার থেকে নিজের মুখে পুরে নিলো এক মুঠো খাবার। সিন্ক থেকে হাত দুয়ে মুখের খাবার চিবুতে চিবুতে শুভ্রতার সামনে আসলো, যে আপাতত সোফাতেই বসে আছে গা এলিয়ে ।
মেহরাদকে তার দিকে আসতে দেখে জহোরি চোখে মেহরাদের দিকে তাকালো শুভ্রতা।নড়ে চড়ে বসলো একটু সোজা হয়ে। মেহরাদের মুখে খাবার বুঝতে পাড়ল।
মেহরাদ পূর্ব কোন সংকেত ছাড়াই আচমকা, শুভ্রতা আর তার মাঝের দূরত্বটুকু মিটিয়ে শুভ্রতার ঘার সহ পিছনের মাথার চুল চেপে ধরে ঠোঁট জোড়া দখল করে নিয়ে নিজের কাছে যা ছিল শুভ্রতার মুখে চালান করে দিল। শুভ্রতাকে ততক্ষণ আটকে রাখলো যতক্ষন ঢুক গিলার শব্দ পেল।
ব্যাস! তারপরেই ছেড়ে দিল শুভ্রতাকে। তারপর টানটান ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে গেল শুভ্রতার সামনে। ব্যাঙ্গ করে বললো,,

–“ইউউউ,ছিঃ! ”
শুভ্রতা তো পারছেনা চেচিয়ে পুরো বাড়ি মাথায় তুলে নিতে। বারবার ঠোঁট মুচছে, গলার উপর থেকে ডলছে বোকা মেয়েটা। রাগে ফুসফুস করে উঠছে বারবার। ইচ্ছে তো করছে মেহরাদ ভাইয়ের মাথার চুল গুলো তুলে নিতে।
এদিকে রাত বারোটায় অনাকাঙ্ক্ষিত এ দৃশ্য দেখে শান্তার খামি খাওয়ার জোগার। বেচারির সিড়ি থেকে পড়তে পড়তে নিজেকে বাচিয়েছে। সে কি ঘুমের ঘোরে ভুল দেখলো? মেহরাদ ভাই এটা? মানে মেহরাদ ভাই এরকমটা করেছে? তাও তাদের শুভ্রতা!
লজ্জায় হতভম্ব শান্তা। বড় ভাইয়ের প্রাইভেট মোমেন্টেসে সাক্ষি হয়ে তার লজ্জায় ডুবে যেতে ইচ্ছে করছে। আর এটা সত্যিই কি দেখলো সে! শুভ্রতা আর মেহরাদ ভাই!। মেহরাদ ভাইয়ের দিকে শুভ্রতার চাহনি দেখলে বোঝা যেতো কিছুটা, যে ও ভাইকে পছন্দ করে হয়তো। কিশোরী বয়স, হতেই পারে! কিন্তু, ভাই?ভাইও ভালোবাসে শুভ্রতাকে? তাহলে শুভ্রতার বিয়ে!

সব গুলিয়ে যাচ্ছে শান্তার। পানির জন্য নিচে যাচ্ছিলো। -দূর! পানি গোল্লায় যাক! নিজেকে কেমন ভারসাম্যহীন লাগছে তার। মাথা দিয়ে ধোয়া বের হচ্ছে। এরপর বাড়িতে কি ঝড় আসবে তা চিন্তা করলেই আরও পাগল পাগল লাগছে। তার ছোট্ট মস্তিষ্ক রেলগাড়ীর মতো ছুটছে এই চিন্তা সেই চিন্তায়। রুমে চলে আসলো সে। মাথায় পানি দেওয়া দরকার আগে।
এদিক শুভ্রতা সাপের মতো ফুসফুস করে মেহরাদের দিকে এগিয়ে গিয়ে আঙুল তাক করলো। কিন্তু কিছুই বলতে পাড়লো না। চেচাবে যে তারও উপায় নেই।

“আপনি…আপনি….”
“হু..”
“আপনি….আপনি….”
“হু, কি বল..”
“ইয়াক, ছিঃ! অসভ্য লোক একটা! আপনি একদম ভালো না। ”
“আচ্ছা! আর কিছু? ”
রাগে দুঃখে ফ্লোরে এক পা দিয়ে বারি দিল শুভ্রতা। দাত কটমট করছে তার। লোকটা কি করলো এটা হ্যাঁ? পাড়লো এটা করতে!
মেহরাদ হেসে ফেললো শুভ্রতার এমন অবস্থা দেখে। এগিয়ে এসে শুভ্রতাকে আবারও পাজুকোলে তুলে নিল কোন ওয়ার্নিং ছাড়াই। হকচকিয়ে, মেহরাদের গলা জড়িয়ে ধরলো শুভ্রতা। সিড়ি বেয়ে উপরে উঠতে উঠতে বললো,,
“আবার বল। ইউউউ,ছিঃ। ”
“একশো বার বলবো। ”
“আমিও একশো বার খাওয়াতে পাড়বো। কোন সমস্যা নেই আমার জান পাখি। ”

রুমে এসে শুভ্রতাকে শুয়িয়ে দিল মেহরাদ। রুমের লাইট অফ করে দিয়ে দরজার দিকে এগলো। শুভ্রতা ভাবলো চলে যাবে বুঝি। কিন্তু তাকে ভুল প্রমাণিত করে দরজা লক করে আসলো মেহরাদ। আশ্চর্যে চোখ বড় বড় করে তড়াক করে উঠে বসলো সে। এক লাফে খাট থেকে নেমে তুতলিয়ে বললো,
“কি…কি করছেন?দরজা লক করলেন কেন? আপনি যাচ্ছেন না কেন? ”
“যাবোনা। আমার ইচ্ছে। ” বলতে বলতে এগুলো শুভ্র‍্যার দিকে মেহরাদ।
“দেখুন….” মেহরাদ কে এগিয়ে আসতে দেখে পিছিয়ে যেয়ে যেতে বললো শুভ্রতা।
“দেখা…আমি দেখতেই চাচ্ছি। ”
“একদম হেয়ালি করবেন না। ”

“করছি নাতো। তুই দেখাতে চাইলি, আমি দেখতে চাইলাম। এখানে হেয়ালি কোথায় পেলি? ”
“মেহরাদ ভাই!কেউ আন্দাজ করতে পাড়লে কি হবে ভেবে দেখেছেন? আপনি দিন দিন বাচ্চা হয়ে যাচ্ছেন! ”
“বাচ্চার বাপ হওয়ার ক্ষমতা রাখি। আর তুই কিসব বলচছিস যা-তা। ”
দেয়ালের সাথে পিঠ লেগে গিয়েছে শুভ্রতার। আর জায়গা নেই। কোথায় পিছুবে! শুভ্রতার নিকটস্থ হয়ে দাড়ালো মেহরাদ। দু’হাত শুভ্রতার দু পাশে রেখে ঝুকলো শুভ্রতার দিকে। মুখ গুল করে ফু দিলো শুভ্রতার চোখ মুখে।
নিশ্বাস ভারী হলো শুভ্রতার। অন্ধকারে এই অনুভূতি কেমন রোমাঞ্চকর। দেয়ালের সাথে সিটে গিয়ে মাথাটা ঘুরিয়ে নিল।একপাশের গাল গিয়ে ঠেকলো ঠান্ডা দেওয়ালে। আরেকপাশ মেহরাদের সামনে উন্মুক্ত হলো সুন্দর ভাবে।
আরেকটু ঝুকে গিয়ে গালে আলতো চুমু খেয়ে, কানের কাছে মুখ নিয়ে গেল মেহরাদ। হাস্কি স্বরে মাদকতা মিশিয়ে ফিসফিস করে বললো,,

“তোর নিশ্বাসের শব্দেও আমি আহ্বান শুনতে পাই জান। উমমম,কি করে চলে যাই বলতো! ”
গুনে গুনে নিশ্বাস ফেলছে যেনো শুভ্রতা। মেহরাদের তপ্ত নিশ্বাস শরীরের তুড়নে তুড়নে কুন্ডলী পাকিয়ে উঠা অনুভূতিকে বেসামাল করে দিচ্ছে তার। দু’হাতে খামচে ধরলো ঘুমানোর জন্য পরিহিত টি-শার্ট টা।
শুভ্রতার কানের লতিকায় নৈশব্দে আরেকটা চুমু একে দিল মেহরাদ। শ্বাস ভরে ঘ্রান নিল শুভ্রতার নেক থেকে।
মিষ্টি একটা স্মেল ভিতরের আগ্নেয়গিরিকে আরও যেনো প্রলুব্দ করলো। দেয়াল থেকে হাত নামিয়ে এক হাত জায়গা করে নিল শুভ্রতার লতানো কোমড়ের বাকে। আরেক হাত ঘারে।
পা’য়ের আঙুল গুলো খিচে রাখলো ফ্লোরে শুভ্রতা। দাত দিয়ে ঠোঁট কামড়ে ধরলো। এবার যেনো নিশ্বাস নেওয়াই বন্ধ করে দিয়েছে মেয়েটা। মুঠো চেপে রাখা এক হাত কোমড়ের কাছ থেকে মেহরাদের হাতের উপর রেখে নামিয়ে দিতে চাইলো। মেহরাদ একটু নামালোও, কিন্তু নতুন উদ্যমে টি-শার্টের ফাক গলিয়ে উন্মুক্ত কোমড়ে চেপে ধরলো শক্ত খড়খড়ে হাতটা।

কেপে উঠলো শুভ্রতা। ঘন ঘন শ্বাস ফেলা বেড়ে গেল মেয়েটার। ঠোঁট দুটো এগিয়ে নিল মেহরাদ শুভ্রতার কম্পমান ঠোঁটের কাছে। একেবারে ঠোঁট ছুই ছুই, গভীর স্বরে আস্তে করে শুধালো,,
“আমি ছুলে তোর খারাপ লাগে? ” সমুদ্রের অতল গভীরতার চেয়েও গভীর শুনালো এ স্বর।
শুভ্রতার কম্পমান ওষ্ঠ ফুরে ধ্বনিত হলো ছোট্ট করে,– উহু।
ব্যাস! আরেক হাতেও শুভ্রতার কোমড়ের আরেক পাশ চেপে ধরে নিজের সাথে মিশিয়ে উচিয়ে ধরলো নিজের সমান সমান শুভ্রতার ছোট দেহখানা। দু জোড়া ওষ্ঠের মিলন ঘটল তৎক্ষনাৎ। কিছু সময়ের ব্যাবধানেই শুভ্রতার পিঠ ঠেকলো বিছানায়। শুভ্রতাকে জড়িয়ে নিয়েই বালিশে স্থান পেল মেহরাদের মাথা খানা। আর তার বাহুতে শুভ্রতার। ওষ্ঠ ছেড়ে কপালে আলতো করে চুমু খেয়ে বললো,,
“ঘুমো। সকলে উঠার আগেই চলে যাবো। ঘুম থেকে উঠে নিজের বাহুতে তোর শুভ্র মুখটা দেখতে পাওয়া আমার এ জনমের এম অদম্য সখ শুভ্রা। কবে পূরণ হবে এটা, হু!কবে? ”
শুভ্রতা কিছু বললো না। নিজের এলোমেলো নারী সত্বাকে গুছিয়ে নিতে ব্যাস্ত সে। একটা সময় মেহরাদের মাথায় হাত বোলানোর মধ্যেই ঘুমিয়ে গেল মেয়েটা মেহরাদের বাহুতে। মেহরাদ তাকিয়ে রইলো ঘুমন্ত শুশ্রী, শুভ্র মুখটার দিকে। শুভ্রা, তার শুভ্রা! তার ভালোবাসা!

সকালের নাস্তার টেবিলে চামিচের টুং টাং শব্দ বাজছে। সকলেই ডাইনিং এ উপস্থিত। শুভ্রতা মেহরাদ পাশাপাশিই বসা। আজ আর শুভ্রতা মেহরাদ ভাইয়ের দিকে আড় চোখে তাকাচ্ছেনা। রাতের কথা মনে পরলেই তার হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসে। সে আর মেহরাদ ভাই এক সাথে ঘুমিয়েছে? কখন ঘুমিয়ে পড়ল খেয়ালও নেই মেয়েটার।
ঘুম থেকে সকালে যখন উঠলো তখন বিছানায় নিজেকে একাই পেয়েছে সে। আশেপাশে মেহরাদ ভাইয়ের বডি স্মেল ছাড়া আর কিছুই পায়নি। তার সাড়া গা’য়েও যেনো তা লেপ্টে ছিল। তাই-ই তো একেবারে শাওয়ার সেড়ে বেড়িয়েছে আজ, পাছে কেউ যদি কিছু আন্দাজ করে ফেলে!

শান্তা বসা শুভ্রতা আর মেহরাদের সামনা-সামনি টেবিলের ওপাশের চেয়ারে। সে খাচ্ছে কম দেখছে বেশি;শুভ্রতা আর মেহরাদকে। তার তাকানোর মাঝেই মেহরাদ শুভ্রতার দিকে একটা খাবারের ডিশ এগিয়ে দিল নিজে খেতে খেতেই। শান্তার কি যে ভালো লাগলো! এদেরকে রাজ জুটক লাগছে তার কাছে। ইশশ!
“তালুকদার বাড়ির টাকা পয়সার কি অভাব পড়েছে? নাকি গাড়ির টান পড়েছে বাড়িতে? রাস্তায় একা একা চলাফেরা করার মানে কি, শান্তা ? ” নিস্তব্ধতা ভেঙে চামিচের টুং টাং শব্দের সাথে বলে উঠলো মেহরাদ। দৃষ্টি এখনো খাবের দিকেই নিবদ্ধ।
হকচকিয়ে গেল শান্তা। এদিকে সকলে ভ্রু কুচকে, প্রশ্নাত্মক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মেহরাদের কি। কি বলছে ছেলেটা?

দৃষ্টি উচিয়ে শান্তার দিকে তাকালো মেহরাদ। আবারও একি শান্ত, ঠান্ডা ভঙ্গিতে শুধালো,,
“হু?আন্সার মি? এগুলো নিয়ে কি কেউ ক’বরে যাবো? ”
ডানে বামে মাথা নাড়াল শান্তা। চেহারায় ভয়ের ছাপ স্পষ্ট।
“তাহলে???”
“আমি…আমি..এমনিই গিয়েছিলাম ভাইয়া ইচ্ছে করে। প্রতিদিনিই তো গাড়ি করে যাই। তাই ই আরকি। এরকম হবে বুঝতে পাড়িনি। ”
“কি হয়েছেটা কি শুনি, কিছুই তো ক্লিয়ার করে বলছো না দু’জন। ” আলতাফ তালুকদার বলে উঠলেন অধৈর্য ভঙ্গিতে ওদের মাঝখানে।
“কিছুনা বাবা। আজকের পর থেকে কেউ যেনো আর গাড়ি ছাড়া বের না হয় বাড়ি থেকে। শুধু এটুকু নিশ্চিয়তা চাই আমি। ব্যাস। ”
সুরাইয়া বেগম এগিয়ে গেলেন মেয়ের দিকে, তারপর সন্দিহান কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো,
“কিছু কি হয়েছে শান্তা? বলিসনি কেন আমাদের?”
“বাদ দাও কাকিমনি। শুধু খেয়াক রেখো গাড়ি ছাড়া যেনো বের না হয়। ” বলেই ডাইনিং ছেড়ে উঠে চলে গেল মেহরাদ।
মা’য়ের মন না জেনে শান্তি আছে?তিনি মেয়ের কাছ থেকে একে একে সব শুনলেন। রায়হান কে নিয়ে কতক্ষন প্রাশংসা করলেন। রিমা বেগম আনন্দে আটখানা। এরপর আস্তে আস্তে সকলেই উঠে চলে গেল যে যার যার কাজের উদ্দেশ্যে।

মেহরাদ বের হতে হতে তার সাথে শান্তা, সোহানা আর শুভ্রতাও বের হলো। মেহরাদ আর শান্তা কিছুটা এগিয়ে। সোহানা শুভ্রতা পিছনে। কথা বলতে বলতে আসছে। শান্তা উসখুস করছে কেমন যেনো। গাড়ির কাছে এগিয়ে যেতে যেতে শান্তার দিকে শান্ত চোখে তাকালো মেহরাদ। তিনটে গাড়ি পর পর দাঁড়িয়ে। এর মধ্যে একটা মেহরাদের টয়োটা, অন্যটা অন্যটা শুভ্রতা,সোহানা আর শান্তাকে কলেজে নিয়ে আসা যাওয়া করার জন্য।
গাড়ির কাছে পৌছাতেই মেহরাদ দাড়ালো শান্তার সামনে। ঘড়িতে সময় দেখে শান্তার দিকে তাকিয়ে বললো,
“বাড়িতে এসে কথা হবে। যা জিজ্ঞেস করার লিস্ট করে রাখবি। শুভ্রাকে এ বিষয়ে টু শব্দও জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন নেই। নো মিনস নো। ওকেই?”

হৃৎস্পন্দন পর্ব ৫

শান্তা কি বোঝল জানেনা, শুধু উপর নিচ মাথা নাড়িয়ে গেল দ্রুত গতিতে।
“গুড ” বলেই চোখে সানগ্লাস পড়ে গাড়ির দরজা খুলে ভিতরে ঢুকে গেল। যাওয়ার আগে এক পলক দেখে গেল পিছনে বক বক করতে থাকা শুভ্রতাকে। তারপর গাড়ি স্টার্ট দিয়ে চলে গেল অফিসের উদ্দেশ্যে শাঁই শাঁই করে।

হৃৎস্পন্দন পর্ব ৭