হ্রদয়ামিলন দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ১২
সাবা খান
‘সাংহাই পুডং ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট’
কাঁচের তৈরি বিশাল টার্মিনাল বিল্ডিংটা দূর থেকেই চকচক করছে। ভিতরে ঢুকলেই মনে হয় যেন একটা শহরের মধ্যে আরেকটা শহর। চারদিকে মানুষের ভিড়। কেউ ট্রলি ঠেলছে, কেউ বিদায় দিচ্ছে, কেউ আবার ব্যস্তভাবে বোর্ডিং গেটের দিকে ছুটছে। মাঝে মাঝে স্পিকারে ঘোষণা ভেসে আসছে। এই ব্যস্ততার মাঝেই কালো গাড়ির কনভয় এসে থামে এয়ারপোর্টের সামনে। গার্ডরা আগে নেমে চারপাশ দেখে নেয়। তারপর একে একে নামে সবাই। আরজে গাড়ি থেকে নামতেই আরভি দৌড়ে তার দিকে আসে। আরজে হেসে তাকে কোলে তুলে নিয়ে সানার দিকে দরজা খুলে দেয়। সানা তড়িঘড়ি করে বের হয়ে আরভিকে একটু আদর করে নিজের সুটকেসের দিকে এগিয়ে যায়। আরজে একটা দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে জ্যাক ও কাইলিনের দিকে তাকিয়ে আদেশ ছুঁড়ে,
-“কিপ অ্যান আই অন হার, ভেরি কেয়ারফুলি”
-“ওকে বস”
দুজনেই চলে যায় সানার পিছনে। আরজে আরভি কে নিয়ে ভিতরের দিকে চলে যায়,
-“লেটস গো, মাই বয়”
আরভি উচ্ছ্বাসে বলে,
-“ড্যাড, আমরা এখন প্লেনে উঠবো?”
আরজে তার চুল এলোমেলো করে দিয়ে বলে,
-“আর একটু পরেই”
এরপর সে নিজের শুটিং টিমের দিকে আরভিকে কোলে নিয়েই একটু দূরে চলে যায় তাদের সাথে কথা বলতে। এদিকে সানা ভালো করে তদারকি করার পর একদম নড়েনি। সে দাঁড়িয়ে আছে তার ব্যাগগুলোর সামনে। ব্যাগগুলো এমনভাবে সাজানো যেন ছোটখাটো একটা পাহাড়। সে হাত গুটিয়ে দাঁড়িয়ে সবগুলোর দিকে নজর রাখছে। মনে হচ্ছে কেউ যদি একটা ব্যাগও নাড়ায় তাহলে যুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে। তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে এসপি আর ঈশানী। এসপি ইতিমধ্যে হাঁপিয়ে গেছে সানিতার ব্যাগ টেনে টেনে। সে ট্রলির দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে,
-“মেয়েদের এত ব্যাগ লাগে কেন, উপরওয়ালাই জানে”
সানিতার প্রেগনেন্সির সময় ঘনিয়ে এসেছে দেখে তার সাথে তার খালাতো বোন সিয়া দুদিন আগেই এসেছে চায়নাতে সানিতার খেয়াল রাখার জন্য। সানিতা তার সাথে ওয়াশরুমে গেছে। এদিকে ঈশানী নিজের সাজপোশাক নিয়ে ব্যস্ত। ঠিক তখনই দুজন চাইনিজ এয়ারপোর্ট পুলিশ এগিয়ে আসে।তারা সানার সামনে দাঁড়িয়ে ভদ্রভাবে বলে,
-“ছিং দা কাই শিংলি, উওমেন সুয়াও জিয়ানছা”
(অনুগ্রহ করে লাগেজ খুলুন, আমরা চেক করবো)
সানা দুই সেকেন্ড তাদের দিকে তাকিয়ে থাকে। সে এদের কথার মানে অনেক টাই বুঝতে পেরেছে কিন্তু সমস্যা হচ্ছে সে তো আর চাইনিজ বলতে পারে না। তারপর বুক ফুলিয়ে আত্মবিশ্বাসী মুখে বলে,
-“শিং শাং হুং হাং, বাট ব্যাগ নো ওপেং”
এসপি মাত্র মুখে কোল্ড কফিটা তুলেছে সাথে সাথেই সেটা ছিটকে বাহিরে পড়ে যায়। তার ডিরেক্ট কাশি উঠে গেছে সানার চাইনিজ শুনে। আর ঈশানী মুখ চেপে হাসি আটকায়। এই ছয় বছরে তারা এমন চাইনিজ তার মুখে অনেক শুনেছে। পুলিশের সানার কথা বোধগম্য হলো না তাই আবার বলে,
-“ছিং পেইহে জিয়ানছা”
(দয়া করে চেকিংয়ে সহযোগিতা করুন)
সানা এবার আরও সিরিয়াস হয়ে যায়। সে তর্জনী উঁচিয়ে বলে,
-“নো নো… এই ব্যাগ ভেরি স্পেশাল,
মি ক্যারি… ইউ কান্ট টাচ, ইনফেক্ট নোবডি কান্ট টাচ, না হয় ফাহহহহ করে দিব”
পুলিশ দুজন একে অন্যের দিকে তাকায়। কিন্তু রমণী থামে না সে আবারও পুলিশকে বলে,
-“ব্যাগ ইম্পর্ট্যান্ট, ভেরি ভেরি ইম্পর্ট্যান্ট
মোর দ্যান মাই অনলি হাসবেন্ড,
ডু ইউ আন্ডারস্ট্যান্ড”
এসপির নাকে মুখে উঠে গেছে, সে নিজেকে সামলে ফিসফিস করে বলে,
-“পুলিশরা নিশ্চয় এখন ভাবছে এই কটকটি কোন এলিয়েন”
ঈশানী সানার হাত ধরে তাকে একটু কাছে টেনে বলে,
-“থাম ডাইনি, থাম। বাংলা তো কোন মতে আসে তোর, ইংলিশের মান ইজ্জতের রফাদফা করে দিয়েছিস, চাইনিজ কে তো একদম উগান্ডায় পাঠিয়ে দিয়েছিস। আমি বুঝতে পারছি না, তুই ছয় বছরেও কীভাবে চাইনিজ শিখতে পারলি না?”
বিপরীতে রমণী তার উপর বিরক্ত হয়ে বলে,
-“আমার কি দোষ, ওই চাইনিজ ভাষা এত কঠিন। বহু কষ্টে এক দিনে এক অক্ষর মনে রেখেছি, পরের দিনেরটা পড়তে গিয়ে দেখি এটাও ভুলে গেছি”
-“তুই এত খারাপ স্টুডেন্ট, পরীক্ষায় পাশ করেছিস কিভাবে?”
পাশ থেকে এসপি বলে,
-“আর কিভাবে? আমার খাতা পুরো কপি পেস্ট মেরে দিয়েছে। আমি তো মাঝে মাঝে একে লিখেও দিয়েছি”
-“রিয়েলি, তুই এতটা খারাপ ছিলি?”
-“আরে সবাই ভালো স্টুডেন্ট হলে দেশ তাড়াতাড়ি উন্নতি হয়ে যাবে। সব যদি ফাস্ট বেঞ্চার হয় তাহলে লাস্ট বেঞ্চে কে বসবে বল?”
সানার এমন যুক্তি শুনে ঈশানীর চোয়াল ঝুলে পড়ার উপক্রম। সে কিছু বলার আগেই এসপি তড়িঘড়ি করে বলে,
-“মিসেস নাগিন পিছনে দেখুন, ওই জাওরা আসছে”
ঈশানী পিছিনে তাকাতেই নজরে আসে, আরজে আরভিকে কোলে নিয়ে আসছে। এসপি ফের বলে,
-“শা*লা, এখন এসে বলবে এরা নিজের ভাষা চাইনিজ ভুল বলছে, এর বউ ঠিক বলছে। তার থেকে ভালো পালান মিসেস নাগিন, পালান”
এসপি আর ঈশানী আর এক সেকেন্ড এখানে নেই। মুহূর্তে দুজন গায়েব হয়ে গেল।
সানার সামনের পুলিশ দুজন এবার সত্যি বিরক্ত হয়ে পড়েছে। ঠিক তখনই সামনে আসে জ্যাক আর কাইলিন। জ্যাক পুলিশের দিকে বলে,
-“থা বুউই শুয়ো ঝোংওয়েন”
( উনি চাইনিজ বলতে পারেন না)
পুলিশরা তখন সব বুঝতে পারেে তাই হলকা হেসে চাইনিজে বলে,
-“সমস্যা নেই, এটা শুধু নিয়মিত চেকিং”
তারা কিছুক্ষণ চেকিং চলে যায়। সব শেষ হতেই সানা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে কাইলিন কে ব্যাগের দায়িত্ব রেখে যায়, সাথে তাকে ভালো করে সতর্ক করে, যদি একটা ব্যাগও গায়েব হয় তাহলে কাইলিনের কপালে লাইফেও বউ জুটবে না। কাইলিন মাঝে মাঝে বুঝতে পারে না, সবাই কেন তার বউ আর বিয়ের পিছনে পড়ে আছে। সে ব্যাগ গুলোকে ট্রলিতে তুলে প্লেনে লোড করার জন্য পাঠিয়ে দেয়।
এয়ারপোর্টের ভিড় তখন আরও বেড়েছে। চারদিকে ট্রলি, ঘোষণা, মানুষের ভিড় সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত ব্যস্ততা। সানা নিজের সব ব্যাগ কাইলিনের হাতে তুলে দিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে এসপি আর ঈশানীর দিকে। এসপি তখনো বিরক্ত মুখে দাঁড়িয়ে আছে সানিতার জন্য। সানা এসেই বলে,
-“বুঝতে পারছি না, সব সময় এরা সবাই আমার ব্যাগের পিছনে কেন পড়ে থাকে”
এসপি নিজের ফোনে এতক্ষণ ব্যস্ত ছিল। সে ফোন থেকে দৃষ্টি সরিয়ে রমণীর দিকে তাকিয়ে বলে,
-“নিজের সাথে একগাদা ব্যাগ নিয়ে হাঁটলে এমনই হবে”
এসপি বলতে দেরি, সানা তার বাহুতে দুম করে একটা লাগাতে দেরি হয়নি।
ঈশানীর এদিকে খেয়াল নেই, সে সামনে তাকিয়ে কিছু একটা দেখে তাড়াতাড়ি করে সানার দিকে তাকিয়ে বলে,
-“ডাইনি দেখ দেখ, আরজের মুভির হিরোইন কিভাবে চিপকে যাচ্ছে ওর সাথে, মনে হচ্ছে একটু পর কোলে উঠে যাবে”
সানা তার কথা শুনে চমকে সামনে তাকায়। নজরে আসে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে আছে আরজে তার মুভি ডিরেক্টর আকাশ বিল্লাহ ও তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে তার মুভির এক অভিনেত্রী, নীলাসা। মেয়েটা খুব সাজগোজ করে এসেছে। সে বারবার হেসে হেসে কিছু বলছে আরজেকে। তার হাসিটা একটু বেশিই মিষ্টি। কখনো চুল কানের পেছনে সরাচ্ছে, কখনো মাথা নিচু করে লজ্জাবতীর মতো হাসছে। মনে হচ্ছে যেন সে খুব চেষ্টা করছে আরজেকে ইমপ্রেস করার। কিন্তু আরজের দিকে তাকালে বোঝা যায়, সে একদমই আগ্রহী না। তার চোখ বেশিরভাগ সময় ফোনের স্ক্রিনে, সামনে থাকা আকাশ বিল্লাহ তাকে কিছু একটা বলছে, যার কারণে সে মাঝে মাঝে শুধু মাথা নাড়ছে।
আরজে আসলে এখানে দাঁড়িয়ে আছে আরভির জন্য। আরভি একটু আগে বায়না ধরেছিল এয়ারপোর্টের ওই পাশটা দেখতে যাবে। তাই জ্যাক তাকে নিয়ে গেছে। আরজে আকাশ বিল্লাহ সাথে দাঁড়িয়ে ছিল। সেই সুযোগে নীলাসা ও এগিয়ে এসেছে। আর বারবার কথা বলার চেষ্টা করছে। দূরে দাঁড়িয়ে থাকা সানা সব দেখছে। প্রথমে সে শুধু তাকিয়ে ছিল। তারপর ধীরে ধীরে তার ভেতরে একটা অদ্ভুত অনুভূতি জন্মায়। তার বুকের ভেতরটা হালকা কেমন যেন চেপে আসে।
মেয়েটার সেই অতিরিক্ত হাসি, চুল নাড়ানো, লজ্জার অভিনয় সবকিছুই সানার চোখে কেমন যেন লাগছে। তারপরও সে দ্বিধাদ্বন্দ্বিত গলায় বলে,
-“হ…হ..হতে পারে অটোগ্রাফ নিতে এসেছে”
এটা সে মুখে বললেও মনে মনে ঠিক ইচ্ছা করছে এই মেয়ের কানের নিচে বাজাতে। সে নিজের অজান্তেই দাঁত চেপে মনে মনে বলে,
-“এই মেয়েটা এত হাসছে কেন?
রানভীর কি জোকার নাকি?”
পাশ থেকে ঈশানী ফের বলে,
-“না না, এটা নীলাসা। আমি ওকে খুব ভালো করে চিনি। আমি থাকতে ও আরজের পেছনে পড়ে থাকত। ও আরজে কে পছন্দ করে”
সানা তড়াক করে তার দিকে তাকিয়ে দাঁত খিঁচিয়ে বলে,
-“আর তুই? তুই কি করতি? তুইও তো পড়ে থাকতি”
-“আরে ওটা পাস্ট, পাস্ট ছিল। ওই সময় আমার…..”
-“ওই সময় তোর বুদ্ধি হাঁটুর নিচে ছিল, বল বল..”
পাশ থেকে এসপি দুই রমণীকে থামিয়ে বলে,
-“আরে এখন এসব ছাড়। ওকে দেখ কটকটি, চারদিক থেকে সবাই শুধু তোর জাওরার উপর নজর লাগাচ্ছে”
-“সেটাই তো দেখছি, আমার মনে হচ্ছে সারা পৃথিবীতে একটাই জাওরা আছে”
এটা শুনে এসপি নিজের কলার উঠিয়ে গর্বের সাথে বলে,
-“বুঝতে পারছি না আমার মত একটা হ্যান্ডসাম এখানে থাকতে ওরা ওখানে ওই জাওরার পিছনে কেন পড়ে আছে”
এসপি বাক্যখানা উগরে দিতে দেরি, কিন্তু দুই রমণীর তার দিকে কড়া দৃষ্টি নিক্ষেপ করতে দেরি হয়নি। ঈশানী সাথে সাথেই ওয়াশরুমের দিকে যেতে নিয়েছে সানিতাকে বলতে। সাথে সাথে এসপি তাকে আটকে দেয়,
-“আরে আরে কি করছেন মিসেস আই মিন মিস নাগিন, আপনি নিজে বিয়ে কারেন নি তাহলে অন্যের সংসারে কেন আ*গুন লাগাচ্ছেন। আর এই কটকটি, যাহ, গিয়ে ওই আশার উপর এক বালতি জল ফেলে আয়।
না না, এই নে কোল্ড কফি। এটা ফেলে আয়”
এই বলে এসপি নিজের হাতের কোল্ড কফিটা তার দিকে এগিয়ে দেয়। কিন্তু ঈশানী তাকে বাধা দিয়ে বলে,
-“আরে কোল্ড কফিতে কাজ হবে না। ডাইনি, এই নে, হট কফি। গিয়ে এর মুখে মেরে আয়”
সানা আরজে ও নীলাসার উপর অগ্নিদৃষ্টি নিক্ষেপ করে নিজের দন্ত চেপে বলে,
-“কোল্ড হট দুটোই এদিকে দে। শালী এখনো চিনে না আমি কটকটি।
কালনাগিনী মালি ছালি
সব করে দিয়েছি খালি খালি।
এখন এই নীলাসাকে করে দেবো ধোঁয়াশা।
হবে শুধু তামাশা।
খেলবো আমি পাশা”
তার মুখে কবিতা শুনে এসপি ঈশানী দু দিক থেকে হাততালি দিয়ে তাকে বাহবা দিয়ে বলে,
-“বাহ বাহ! কি কবিতা বললি, ফার্স্ট ক্লাস, সেকেন্ড ক্লাস, থার্ড ক্লাস না হলেও লাস্ট ক্লাস অবশ্যই হয়েছে, যে কেউ শুনলে বমি করতে বাধ্য, না করলে তার রুচিতে সমস্যা”
এদের মুখে এমন উল্টোপাল্টা প্রশংসা শুনে সানা নিজের পায়ের হাই হিল দিয়ে দুটোর পায়ের উপরে দুটো দিয়ে সামনে চলে যায় গালি দিয়ে,
-“তেরি তো….”
এদিকে দুজনে ব্যথায় নিজেদের মুখ কুঁচকে নিল,
-“আহহহ….”
রমণী দুই হাতে দুই কফির কাপ নিয়ে এগিয়ে যায় ঠোঁটের কোণে দুষ্টু হাসি ঝুলিয়ে। সে কাছে গিয়ে প্রথমে তাদের কথা শোনার চেষ্টা করে, কানে আসে ডিরেক্টর আকাশ বিল্লাহ আরজেকে নিজের নেক্সট মুভির ব্যাপারে বলছে। কিন্তু নীলাসা সে এগুলোর থেকে দূরে। সে কানের পিছনে চুল গুঁজে লজ্জাবতী পাতার ন্যায় মিইয়ে আরজেকে প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে,
-“আরজে, আমাকে কেমন লাগছে?”
এদিকে সানা নাক-মুখ কুঁচকে জোরে প্রত্যুত্তর করে,
-“ঠিক চায়না মালের অনুরূপ।
উপরে ফিটফাট, ভিতরে সদরঘাট”
মুহূর্তে নীলাসার মুখটা বেলুনের মতো ফুস হয়ে গেল। সে নিজের নাক সিটকে কটমট দৃষ্টি নিক্ষেপ করে সানার উপর। সানা তাকে একটু ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে আরজের পাশে দাঁড়ায়। নীলাসা এমন আকষ্মিক ধাক্কায় কয়েক কদম পিছিয়ে যায়। সানা নীলাসার দিকে তাকিয়ে একটা মেকি হাসি দিয়ে বলে,
-“কুল ধোঁয়াশা….”
বিপরীতে থাকা মানবীর বিরক্তিতে কপাল কুঁচকে যায়,
-“ধোঁয়াশা!! ইটস নীলাসা”
-“ওই নীলাসা, ওই ধোঁয়াশা, তামাশা,
সব একই ভাষা, হবে শুধু নিরাশা।
হোয়াটএভার…হাট ইহাছে”
ততক্ষণে ডিরেক্টর আকাশ বিল্লাহর নজরে আসে সানাকে। সে এতক্ষণ আরজেকে নিজের নতুন মুভির হিরো হওয়ার জন্য রাজি করাচ্ছিল। সানাকে দেখে মনে মনে ভাবে, হয়তো তার ওয়াইফকে খুশি করালে আরজে তার মুভির জন্য হাঁ বলে দিবে। তাই সে মুখে হাসি ফুটিয়ে তার দিকে হ্যান্ডশেকের জন্য হাত বাড়িয়ে বলে,
-“হ্যালো ম্যাম, নাইস টু মিট ইউ”
সানা নীলাসার থেকে দৃষ্টি সরিয়ে সামনে তাকায় যে তার দিকে হাত বাড়িয়ে আছে। ডিরেক্টরের এমন ব্যবহারে সবাই স্বাভাবিক থাকলেও একজন থাকতে পারছে না সেটা আর কেউ না, আরজে। সে চোয়াল শক্ত করে রক্তচক্ষুতে তাকিয়ে আছে ডিরেক্টরের হাতের দিকে। ধীরে ধীরে নিজের এক হাত বাড়িয়ে শক্ত করে সানার কোমর পেঁচিয়ে ধরে একদম নিজের কাছে নিয়ে আসে। সানা এক পলক তার দিকে তাকিয়ে পর মুহূর্তে নিজের দুই হাতে থাকা কফির একটা কাপ উনার বাড়িয়ে রাখা হাতে দিয়ে বলে,
-“নাইস টু মিট ইউ”
বিপরীতে ডিরেক্টর নিজের হাত গুটিয়ে আরজের দিকে তাকাতেই থতমত খেয়ে গেলেন। তার ঠোঁটের হাসি মুহূর্তে মিলিয়ে গেল। তিনি একটা ফাঁকা ঢোক গিলে কয়েক কদম পিছিয়ে যান, কেননা আরজে কেমন খেয়ে ফেলা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে।
এসবের কিছুই নীলাসার বোধগম্য হলো না। সে সানাকে আরজের সামনে কালার করার জন্য ঠোঁটে বাঁকা হাসি ফুটিয়ে নিজেই সানার দিকে এগিয়ে এসে তার অন্য হাতে ধরা কফির কাপের সাথে ধাক্কা খায়, যার কারণে তার ড্রেসে অনেকটা কফি পড়ে যায়। সেভাবেই বলে,
-“হাউ কুড ইউ ডু দিস টু মি? তুমি এমনটা ইচ্ছা করে করেছ তাই না”
সানা তার দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকায়। সে তো এই মেয়ের সাথে এখন পর্যন্ত কিছুই করেনি। তার মানে….মুহূর্তে তার বুঝে এসে গেল। মনে মনে বলে, আহারে অ্যাক্টিংয়ের কী বেহাল অবস্থা। সানা কোনরূপ প্রত্যুত্তর না করে নীলাসাকে অবাক করে দিয়ে হাতে থাকা সম্পূর্ণ কোল্ড কফিটা তার মুখে ছুঁড়ে ফেলে। যার জন্য নীলাসা একদমই প্রস্তুত ছিল না। সে মুহূর্তে চোখ বড় বড় করে তার দিকে তাকায়। সাথে সাথে সানা চোখে-মুখে প্রগাঢ় চিন্তার ভাব নিয়ে এসে অবাক হওয়ার মতো করে বলে,
-“উপস ধোঁয়াশা, আই মিন নিরাশা, ধুর তামাশা, হোয়াট এভার আই এম সো সরি”
এদিকে নীলাসার ধৈর্যের পারদ সম্পূর্ণ টুকু ভেঙে গিয়েছে। সে নিজের টিস্যু দিয়ে মুখ মুছে চিৎকার করে বলে—
-“ইউ ব্লাডি…….”
নীলাসার জিহবা খসে বাকি বাক্যটুকু বের হওয়ার আগেই হঠাৎ চারপাশ কাঁপিয়ে গর্জে উঠে আরজে। তার চোখ মুহূর্তেই ঠান্ডা থেকে আ*গুনে পরিণত হয়েছে,
-“ডোন্ট ইউ ডেয়ার”
চারপাশের শব্দ যেন থেমে যায় তার চিৎকারে।আশেপাশের কয়েকজন মানুষও ঘুরে তাকায়। আরজে দন্ত চেপে হিসহিসিয়ে আওড়ায়,
-“শি ইজ মাই ওয়াইফ”
সানা নিজেও থমকে যায়। তার বুকের ভেতরটা কেমন যেন কেঁপে ওঠে। সে আরজের দিকে তাকিয়ে থাকে অবাক হয়ে যায়। রমণী এমন কিছু মোটেও আশা করেনি তার থেকে। চারদিকে মানুষ এখনও তাকিয়ে আছে। কিন্তু আরজে তাতে একটুও পরোয়া করল না।
সে আকাশ বিল্লাহ হাত থেকে সানার দেওয়া কফিটা এক ঝটকায় নিয়ে সোজা নীলাসার পায়ের দিকে ছুড়ে ফেলে দিল। কফিটা ছিটকে পড়ে মেঝেতে। তারপর কোনো কথা না বলে, সে হঠাৎ সানাকে কোলে তুলে নেয়। সানা চমকে ওঠে,
-“এই, কী করছেন”
বিপরীতে থাকা মানব যেন কিছুই শুনতে পায়নি। সে সোজা হাঁটতে থাকে তার প্রাইভেট জেটের দিকে। পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা এসপি ফিসফিস করে বলে,
-“বাপরে…ভেবেছি কি, হয়েছে কি, আর আমি এখানে দাঁড়িয়ে আছি কেন, সানি….আমার মা, না না আমার একমাত্র বউ কই তুই তাড়াতাড়ি আয়”
এই বলে সে চলে যায় সানিতার জন্য।
কালো রঙের বিশাল প্রাইভেট জেটটা তখন আকাশে উড়ে চলেছে। বাইরে জানালার ওপারে শুধু সাদা মেঘের সমুদ্র। মাঝে মাঝে সূর্যের আলো মেঘের ফাঁক দিয়ে ঢুকে জেটের কেবিনে আলো ফেলছে। ভেতরের জেটের মূল লাক্সারি কেবিনে পাশাপাশি বসে আছে আরজে ও সানা। সানা জানালার পাশে বসে বাইরে তাকিয়ে সেগুলোই দেখছে। তার চোখ মেঘগুলো দেখলেও মন ডুবে আছে অন্য চিন্তায়। তার মাথার ভেতর একটার পর একটা ভাবনা ঘুরছে। ভ্যালির কথা, ওই জায়গাটা ছেড়ে আসার পরও তার মনে হচ্ছে যেন সবকিছু ঠিকঠাক শেষ হয়নি। তারপর ভাবছে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার কথা। সে নিজেই নিজের মনকে প্রশ্ন করে,
আমি কি ঠিক করছি?
আবার কি ভুল করতে যাচ্ছি?
তার বুকের ভেতরটা কেমন যেন চাপা হয়ে আসে। ওখানে ফিরে গেলে আবার কি কোনো বিপদ হবে না তো?
আরভি কি নিরাপদ থাকবে?
তার চোখ অজান্তেই চিন্তায় ফাঁকা হয়ে আসে।আবারও ভাবে, আমার ছেলের জীবনে আবার কোনো ঝড় নামবে না তো?
এরমধ্যে আরেকটা চিন্তা মাথায় আসে, সোফিয়া। মনে হচ্ছে ভবিষ্যতের অদৃশ্য ছায়াগুলো তাকে তাড়া করছে। সানা নিঃশব্দে একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে। ঠিক তখনই
হঠাৎ একটা ঠান্ডা পুরুষালী শক্ত হাত তার কোমর জড়িয়ে ধরে। সে একটু চমকে ওঠে। মুখ ঘুরিয়ে তাকাতেই দেখে আরজে। সে পাশে বসে আছে আগের মতোই স্থির হয়ে। এক হাতে একটা ট্যাবলেট, সেখানে কিছু একটা দেখছে সম্ভবত কাজের রিপোর্ট বা মেসেজ। কিন্তু অন্য হাতটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে সানার কোমর জড়িয়ে তাকে নিজের কাছে টেনে নিয়েছে। রমণী এক ঝটকায় তার হাত সড়িয়ে দিয়ে আবারও জানালার দিকে চেপে যায়। আরজে মুখে ‘চ’ বর্গীয় শব্দ উচ্চারণ করে একটানে তাকে আবার নিজের কাছে নিয়ে আসে এবার শক্ত করে চেপে ধরে। সানা বহু চেষ্টা করে ছুটতে না পেরে সেভাবেই বসে থাকে জানালার দিকে তাকিয়ে। যত সময় গড়াতে থাকে তত সানা ধীরে ধীরে একটু সরে এসে তার কাঁধে মাথা রাখে। তারপর আবার জানালার দিকে তাকায়। কিন্তু এবার তার ভেতরের অস্থিরতা একটু হলেও শান্ত লাগছে। ধীরে তার চোখ বন্ধ হয়ে আসছে ঘুমে। আরজে তাকে আগলে ধরে নিজের বুকের সাথে। ধীরে ধীরে তার ঠোঁটের কোণে একটা প্রশান্তির হাসি ফুটে ওঠে।
জেটের সামনের দিকে ফরওয়ার্ড লাউঞ্জ কেবিনে বসে আছে আরভি, জ্যাক আর কাইলিন। জ্যাক একটা সোফায় হেলান দিয়ে বসে আছে, তার হাতে মোবাইল। বহুদিন পর আজ সে মোবাইলে বেশ ব্যস্ত। কখনো স্ক্রিনে তাকিয়ে ভ্রু কুঁচকায়। কখনো আবার ঠোঁটের কোণে একটু একটু হাসি ফুটে ওঠে।যেন কোনো মেসেজ পড়ে সে নিজেও অবাক হচ্ছে। সে মাঝে মাঝে নিজের মনে হালকা হাসছে। কাইলিন সেটা দেখে চোখ সরু করে তাকায়। মনে মনে ভাবে, একে আবার ভূতে ধরেছে নাকি। নাহলে লাইফেও তো তার ঠোঁটে হাসি দেখে না। কাইলিন দুবার দেখতে গিয়েছে কিন্তু জ্যাক তার মুখের উপর সাফ সাফ বলে দিয়েছে, এইসব দেখতে হলে আগে বিয়ে করতে হবে।
কাইলিন বুঝতে পারছে না, সবাই কেন তার বিয়ের পিছনে পড়ে আছে। এদিকে আরভিও পুরো একটা সিট জুড়ে পায়ের উপর পা তুলে কানে হেডফোন লাগিয়ে মোবাইলে গেম খেলছে। পাশের আরেক টা কেবিনে এসপি ও সানিতা আছে, তার পরের টায় ঈশানী, সিয়া আর রওনাক। আর মাত্র কয়েক ঘন্টা পরই তারা বাংলাদেশে ল্যান্ড করবে।
দুপুরের ব্যস্ততাময় সময়ে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি গেটের সামনে সারি সারি মিডিয়া ভ্যান, ক্যামেরা, রিপোর্টার। মাইক্রোফোন হাতে সাংবাদিকরা অপেক্ষা করছে একজন মানুষের জন্য, নাহ আরজের জন্য না। তারা অপেক্ষায় আছে অন্য কারো জন্য। আজ প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে এসেছেন মিসেস দিলরুবা খানম, জাইফেরার সিইও। যেই কোম্পানির ব্যবসা শুধু সাধারণ কর্পোরেট ব্যবসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ইন্টেলিজেন্স নেটওয়ার্ক, প্রাইভেট সিকিউরিটি, আন্তর্জাতিক ফাইন্যান্স, গোপন তদন্ত, অনেক অদৃশ্য ক্ষেত্রেও তাদের প্রভাব আছে। আজ বাংলাদেশে তাদের প্রথম অফিশিয়াল ব্রাঞ্চ খুলতে এসেছেন তিনি।
ভিআইপি কনভয় থেকে মিসেস দিলরুবা খানম বেড়িয়ে আসতেই ফ্ল্যাশের ঝলকানি শুরু হয়ে যায়। পরনে কালো স্যুটে, চোখে কালো সানগ্লাস, মুখে সামান্য মেকআপের চাপ। মুখের ভাব ভঙ্গি দেখে বুঝার উপায় নেই তিনি পঞ্চাশোর্ধ প্রৌঢ়া মহিলা। দৃঢ় ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন দিলরুবা খানম। সাংবাদিকরা চারদিক থেকে একে একে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিতে থাকে,
-“ম্যাম, বাংলাদেশে জাইফেরার নতুন ব্রাঞ্চ খোলার উদ্দেশ্য কি?”
-“আপনার কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে যে আপনারা আন্তর্জাতিক আন্ডারওয়ার্ল্ড বিজনেসে জড়িত, আপনি কি বলবেন?”
-“আপনি কি শুধু ব্যবসার জন্য এদেশে এসেছেন?”
দিলরুবা খানম মাইক্রোফোনের সামনে শান্ত গলায় প্রতুত্ত্যর করেন,
-“বাংলাদেশ সম্ভাবনার দেশ, আমরা এখানে অবশ্যই ব্যবসা করতে এসেছি। আমরা এখানে বিনিয়োগ করতে চাই, নতুন কাজের সুযোগ তৈরি করতে চাই”
একজন সাংবাদিক আবার জিজ্ঞেস করেন,
-“কিন্তু ম্যাম, অনেকেই বলছে জাইফেরা শুধু কর্পোরেট ব্যবসা করে না, অস্ত্র, কালো টাকা, গোপন ফাইন্যান্সিং এসবের সাথেও জড়িত”
দিলরুবা খানম হালকা হেসে বলেন,
-“দেখুন… বড় ব্যবসা মানেই বড় দায়িত্ব। আর পৃথিবীর বড় বড় ব্যবসা কখনোই সাদা-কালো হয় না। কখনো কখনো ধূসর এলাকায়ও কাজ করতে হয়”
হঠাৎ আরেকজন সাংবাদিক প্রশ্ন করে বসে,
-“ম্যাম, বর্তমানে বিডি তে ‘জেবি’ সবার উপরে আছে। সেই হিসেবে সোফিয়া জাওয়ানের ব্যাপারে আপনার মতামত কি?”
এই প্রশ্নে তার চোখ একটু সরু হয়ে আসে। তিনি ধীরে বলেন,
-“সোফিয়া জাওয়ান, খুবই চতুর ও, একজন বুদ্ধিমান মহিলা।কিন্তু সমস্যা হলো, অনেক সময় শিকারী আর শিকার, দুজনেই ভাবে তারা শিকারী। দেখা যাক, এই খেলায় আসল শিকারী কে”
এদিকে জাওয়ান ম্যানশনের ভিতরে বসে আছে সোফিয়া জাওয়ান সামনে বড় স্ক্রিনে লাইভ নিউজ চলছে। সেখানে দেখানো হচ্ছে দিলরুবা খানমের এই প্রেস কনফারেন্স।সোফিয়ার চোখ স্ক্রিনে স্থির দৃষ্টি এক মুহূর্তের জন্যও হেরফের হচ্ছে না। দিলরুবা খানমে প্রতিটা কথায় তার চোখ ঝলসে ওঠছে। হাতের মুঠো ধীরে ধীরে শক্ত হয়ে আসে, এত জোরে যে নখের চাপ তার তালুতে বসে যায়। সে নিজেকে সংবরণ করার চেষ্টা করছে। তার মস্তিষ্কে ধীরে ধীরে রাগের আ*গুন জ্বলে ওঠে।
ভিডিওতে আবার দিলরুবা কথা বলছে। কয়েক সেকেন্ড পর সোফিয়া ঠান্ডা গলায় শুধায়,
-“হু ইজ শি?”
তার পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা জিহাদ সামনে এগিয়ে আসে। নিচু স্বরে বলে,
-“লেডি… উনি জাইফেরার সিইও। তাদের কোম্পানি প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে ব্রাঞ্চ খুলছে”
সোফিয়া চোখ সরু করে তাকায়। কণ্ঠস্বর থেকে বের হয়,
-“জাইফেরা…, ফুল ডিটেইলস”
-“ওরা শুধু সাধারণ কর্পোরেশন না, আন্তর্জাতিক অস্ত্র ব্যবসা, ব্ল্যাক ফাইন্যান্সিং, সাইবার ইন্টেলিজেন্স অপারেশন, এমনকি অনেক গোপন আন্ডারওয়ার্ল্ড ডিলও ওদের মাধ্যমে হয়। অনেক বড় বড় মাফিয়া নেটওয়ার্কের সাথে তাদের কানেকশন আছে”
সোফিয়া কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে। তারপর ধীরে ধীরে তার ঠোঁটের কোণে একটা ঠান্ডা হাসি ফুটে ওঠে, ধীরে বলে,
-“এই মাঠে শুধুমাত্র একজন খেলোয়াড় থাকবে”
সে জিহাদের দিকে তাকিয়ে ঠান্ডা স্বরে আওড়ায়,
-“আর সে হলো, ‘সোফিয়া জাওয়ান’ ওকে সরিয়ে দাও, শুরুতেই”
জিহাদ মাথা নাড়তে গিয়েও থেমে যায়। সে ধীরে বলে,
-“লেডি… আর…..”
সোফিয়া ভ্রু কুচকে তার দিকে তাকায়, জিহাদ একটা ফাঁকা ঢুক গিলে আওড়ায়,
-“আজ আরভিকে নিয়ে বাংলাদেশে ফিরছেন আরজে স্যার”
জিহাদের বলা এই বাক্যটুকু শ্রবণ হতেই এক মুহূর্তের জন্য সোফিয়ার চোখে অদ্ভুত এক ঝিলিক খেলে যায়। যেন সে হঠাৎ একটা বড় কিছুর সন্ধান খুঁজে পেয়েছে। তার মুখে যেই এতক্ষণ রাগ ছিল, তা ধীরে ধীরে গলে যায়।তার ঠোঁটে ফুটে ওঠে একটা বাঁকা হাসি।
সোফিয়া ধীরে ধীরে হেলান দিয়ে বসে তারপর হঠাৎ শব্দ করে হেসে ওঠে। তার কণ্ঠনালি থেকে ফিসফিস করে বের হয়,
হ্রদয়ামিলন দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ১১
-“একটা আরজে আমাকে ভেঙে ফেলেছে, এখন আরেকটা আরজে বানাবো, আরেকটা রনো”
তার ঠোঁটের বাঁকা হাসি আরও গভীর হয়ে ওঠে সাথে রুমের বাতাস হঠাৎ ভারী হয়ে ওঠে। সোফিয়া জাওয়ান ফের আওড়ায়,
-“এই আরজের লাইফে কোন সানা আসবে না, আসার আগেই আমি তার অস্তিত্ব বিলীন করে দিব”
