৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৩৯ (৩)
রুপান্জলি
বিজয় সরনীতে এসে রিকশা থামতেই একে একে নেমে পরলো চারজন। রিকশাওয়ালার ভারা মিটিয়ে টুকটাক কথাও বললো। রিকশাওয়ালা চলে যেতেই রাত্রি অর্পনার হাত ধরে সারি সারি দাড়িয়ে থাকা বাসগুলোর দিকে তাকিয়ে ঠোঁট উল্টে প্রশ্ন করলো — অর্পন!! আমরা কি বাসে করে যাবো? চল রিকশা নয়তো সিএনজি নেই।
,,, অর্পনা নাকোচ করে বললো — না না, চল আজ বাসে যাবো। আমি কখনো বাসে উঠিনি,, পাপ্পাকে বললে পাপ্পা বলেছে আমার নাকি কষ্ট হবে। অথচ পাপ্পা জানেইনা তার মেয়ে নিজের হৃদয়ে কতোখানি কষ্ট লুকিয়ে রাখে। আজ পরখ করবো কোনটার কষ্ট বেসি? আমার হৃদয়ের নাকি বাসের? আমার পাপ্পা বাসকে এতো ভয় পায় কেনো? যেনো বাসের মাঝে কোনো অসৎ কিছু লুকিয়ে আছে,, যা থেকে পাপ্পা আমায় সর্বদা দূরে রাখতে চায়।
,,,, অর্পনার কথাটা মানলো রাত্রি,, পরপর আহ্লাদি কন্ঠে বললো — আমি বমি করলে কিন্তু সব দোষ তর? তখন অরুন আর পল্লব আমায় পচাতে আসলে তুই আমার হয়ে অনেক ঝগড়া করে দিবি।
,,, অর্পনা হাত উচিয়ে রাত্রির কাধ জড়িয়ে বললো — আচ্ছা আমার কিউটি,, ওদেরকে মেরে একদম টপকে দিবো। আমার ফাইটিং স্কিল সম্পর্কে ধারনা আছেনা তর? একদম ধাপ্পাক ধাপ্পাক,, তারপর ইন্না-লিল্লাহ!!
,,, রাত্রি দ্রুত দুদিকে মাথা নাড়িয়ে বললো — আল্লাহ!! কি বলে এই মেয়ে। টপকে দিস না প্লিজ, শুধু আমার হয়ে ঝগড়া করলেই হবে।
,,, রাত্রির মুখের অবস্থা দেখে হেসে ফেললো অর্পনা। অরুন গুনে গুনে চারটে টিকেট কেটে হাটতে হাটতে অর্পনাদের কাছে এসে পৌছালো। দুটো সিট পরেছে মাঝখানে আর দুটো শেষের দিকে,, শত খুজেও চারটে সিট একসাথে পেলোনা । এতে আপত্তি নেই অর্পনার,, কষ্ট উপভোগ করতে এসেছে যখন তখন ভালোমতোই করুক। লো বাজেটের কষ্ট উপভোগ করে লাভ নেই,, করতে হলে হাই বাজেটের কষ্ট করতে হবে। তিনজন গিয়ে বাসে উঠে পরলো,, সিট নিয়ে কথা উঠতেই রাত্রি জানালো সে অর্পনার সাথে বসবে,, অর্পনা শত জোর করেও ওকে অরুনের কাছে পাঠাতে পারেনি। কি আর করার? অর্পনা আর পল্লব যথেষ্ট চেষ্টা করেছে দুজনকে কাছাকাছি আনার কিন্তু কেউ নিজ থেকে দূরে সরে গেলে তাকে কাছে আনতে চাওয়াটা অত্যন্ত বোকামি। অগত্যা সামনের দুটো সিটে রাত্রি আর অর্পনা বসে পরলো আর পিছনেরটায় অরুন,, রাত্রি যেহেতু বমি করে তাই ওকে জানালার পাশের সিটটাই দিলো অর্পনা। কিছুক্ষণের মাঝেই দুহাত ভরে খাবার নিয়ে বাসে প্রবেশ করলো পল্লব ।
তাদের ঐতিহাসিক খাবার , স্পিড, চিপ্স, চকলেট। রাতের জন্য তেতুল আচার, আমের আচার, বরইয়ের আচার, একটা বমির টেবলেট, আরও টুকটাক খাবার এনেছে। এগুলো খেতে খেতে তারা বাস জার্নি করবে। বন্ধুত্বের মাঝে পল্লবের এই বিষয়টা বড্ড নজর কাড়া,, সে সর্বদা বন্ধুদের খাওয়া দাওয়া নিয়ে পসেসিভ থাকে। এমনিতে এমন ভান করে যেনো কে খেলো ,, কে মরে গেলো তাতে পল্লবের কিছু এসে যায়না। এরপর যে যার সিট দখল করে নিতেই বসুন্ধরার উদ্দেশ্য বাস ছুটলো। অর্পনা একটা স্পিডের ক্যাপ খুলে রাত্রির হাতে ধরিয়ে দিয়ে নিজেও একটা খুলে খেতে শুরু করলো। রাত্রি কয়েক ঢোক খেয়ে ক্যাপ লাগাতেই মোবাইলে টুং করে মেসেজ এলো,, রাত্রি সাটার নামিয়ে মেসেজটা পরলো, তাতে লিখা :– আজকের ব্যাবহারটা কখনো ভুলবোনারে। আমাকে তর এতোই ঘৃণা লাগে যে পাশে বসা নিয়েও হাজারটা আপত্তি। পাশে বসলে কি হতো? তকে ছুয়ে দিতাম? আদর করতাম? আমাকে তর এতোটাই হেংলা মনে হয় রাত? হয়তো তকে খুব ভালোবাসি তাই বলে বাসে বসে এরকম করবো? আমায় এতোটা নিচ না ভাবলেও হতো। তুই কি চাস রাত?
আমি দূরে চলে যাই? অনেক দূরে? দেখিস এতোটা দূরে চলে যাবো,, আর কখনো খুজে পাবিনা আমায়। দ্বীপ ভাইয়া পারুপুকে এতো ভালোবেসেও কাছে রাখতে পারেনি,, তুই তো আমায় অবহেলাই দিচ্ছিস। দেখিস যেনো একটা সময় গিয়ে আফসোস না করতে হয়৷ আজকের পর আর জ্বালাবোনা তকে,, তুই তর মতো থাক,, আর কখনো হেংলার মতো তর কাছে গেলে পায়ের জুতা খুলে মারিস,, ভালো থাক সোনা!! তর ভাগ্যে তর মতোই সুন্দর কেউ আসুক,, আমার থেকেও বেশি ভালোবাসুক।
,,, মেসেজটা পরে ডুকরে উঠলো রাত্রি,, কান্নার শব্দ নেই কিন্তু চোখ জুড়ে অশ্রুকনার ভীর। অর্পনা অন্যদিকে তাকিয়ে স্পিড খাচ্ছিলো,, হঠাৎ মনে হলো রাত্রি কাদছে,, ফিরে তাকালো অর্পনা,, রাত্রিকে কাদতে দেখে একহাতে টেনে মাথাটা কাধের উপর রেখে চুলে হাত ভুলাতে ভুলাতে বললো — কি হয়েছে রাত? শরীর অনেক খারাপ করছে? নেমে যাবো? চল তাহলে নেমে যাই।
,,, রাত্রি মাথা নাড়িয়ে না করলো। তখনি ফোনের স্ক্রিনে নজর আটকালো অর্পনার,, সে তরিহরি করে ফোনটা নিয়ে মেসেজটা চেক করতেই যা বুঝার বুঝে গেলো। অর্পনা এক হাতে রাতের মুখটা তুলে চোখের পানি মুছে দিতে দিতে বললো — কি হয়েছে সোনা? ভালোবাসিস যখন, তখন এতোটা দূরে সরে যেতে চাচ্ছিস কেনো? ছেলেটাকেও কষ্ট দিচ্ছিস,, নিজেও কষ্ট পাচ্ছিস। অরুনের থেকে শুনলাম তুই নাকি ওকে গায়ের রং নিয়ে খোটা দিয়েছিস কিন্তু আমাদের রাত তো এমন নয়। সে অরুনকে খুব ভালোবাসে,, তাহলে আজ সেই ভালোবাসার কি হলো? কেনো এতোটা দূরত্ব দুজনার মাঝে?
,,,, রাত্রি আছতে করে নাক টেনে বললো — আমি বলতে পারবোনারে,, এটা বলার মতো কোনো কথা নয়,, খুব সেনসিটিভ। আর পারসোনাল কিছু,,
,,, কথার মাঝেই অর্পনা মলিন হেসে বললো — আমার শর্ত আমাকেই শুনাচ্ছিস? শুনা শুনা!! জানিস এই বিষয়টাতে আমি উইক,, এটা বললে আর কোনো প্রশ্ন করতে পারবোনা তাই এটাই বললি। ঠিক আছে বলিসনা। আমি কিছু মনে করিনি,, আমি তো জাস্ট তর ফ্রেন্ড,, কখোনোই বোনের জায়গাটা নিতে পারবোনা।
,,,, কথাটা বলে অর্পনা স্পিডের ক্যাপটা লাগিয়ে সাইডে রেখে দিলো,, খেতে ইচ্ছা করছে না। অর্পনাকে মুখ ফিরিয়ে নিতে দেখে রাত্রি আরও ভেঙে পরলো,, অর্পনার উড়নার একপাশ খামচে ধরে বললো — আমায় ভুল বুঝিসনা প্লিজ,, আমি বলতে পারবোনা।
,,, অর্পনা অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে কাঠ কাঠ গলায় বললো– ইট্স ওকে,, আমি জানতে চাচ্ছিনা।
,,, রাত্রি নাক টেনে অসহায় কন্ঠে বললো– তুই খুব কঠোর অর্পনা,, এক লহমায় ছুড়ে ফেলে দিতে জানিস। একটাবারো অপর পাশের মানুষটার কথা ভাবিসনা। এদিকে তাকা, তাকানা। আচ্ছা, বলছি। কিন্তু তার আগে তুই আমায় ছুয়ে কথা দে,, এই কথা কাউকে বলবিনা। কাউকেই না,, নট অ্যা সিঙ্গেল পারশন।
,,, অর্পনা বুঝতে পারছে খুব বড়ো একটা অঘটন ঘটেছে রাত্রির জীবনে,, কিন্তু কি সেই অঘটন? জানাটা আবশ্যক,, এই মুহুর্তে রাগ অভিমানের সময় না। হয়তো রাত যেটা নিয়ে ভয় পাচ্ছে এটা তাদের কাছে কোনো ম্যাটার ই না। অর্পনা রাতের হাত ছুয়ে বললো — আমি তর গোপনীয়তা রক্ষা করবো সোনা, তুই নির্দ্বিধায় বল।
,,, রাত্রি দুহাতে চোখ মুছলো, মোছার সাথে সাথে আবারও চোখে পানি জমলো,, সে বার কয়েক নাক টেনে খুব আছতে করে বললো — আমার বাবা নেই অর্পন!!
,,, অর্পনা সাথে সাথে বললো — তাতে কি? আমারও তো পাপ্পা ছাড়া কেউ নেই,, এতে কি দ্বীপ মির্জা আমায় ছেড়ে দিয়েছে?
,,, রাত্রি দুদিকে মাথা নাড়িয়ে বললো — তর আর আমার বিষয়টা এক নারে,, আমার বাবা নেই না,, আসলে আমার বাবার কোনো পরিচয় নেই। আমি মনে হয় জা*রজ সন্তান অর্পনা!! আ*গাছা আমি।
,,,, বলতে গিয়ে বার বার কথা জড়িয়ে আসছিলো,, তিরতির করে কাপছে রাতের পদ্মকোমল উষ্ঠ জোড়া। রাত্রির এহেন কথায় চমকে গেলো অর্পনা,, দুহাতের ভাজে মুখটা আগলে নিয়ে বললো — কি বলছিস এসব? তুই তো বলেছিলি তর পাপ্পা এব্রোড থাকে,,
,,, রাত্রি মাথা ঝাকিয়ে ফিসফিস করে বললো– বলেছিলাম তো,, মিথ্যা বলেছি যেনো তরা আমাকে সবার মতো ঘৃনা না করিস। জানিস, স্কুল কলেজে আমার কোনো ফ্রেন্ড ছিলোনা,, তারা আমায় ঘৃনার চোখে দেখতো,, অনেক বাজে বাজে কথা শুনাতো কিন্তু আমার কিছুই করার ছিলোনা। বলতো আমার মাম্মা নাকি প্র*স্টেটিউট ছিলো,, লোকের সাথে অ*কাজ কু*কাজ করে আমায় জন্ম দিয়েছে। আমি কিছু বলতে পারতামনারে। কি ই বা বলতাম বল? আমার তো বাবার পরিচয় নেই,, জা*রজ আমি।
,,, অর্পনার চোখ জোড়া ছল ছল করে উঠলো সে রাতের চোখ জোড়া মুছে দিয়ে বললো — কি যাতা বলছিস? আন্টি কখনোই এমন নয়। আন্টির মতো সৎ মানুষ খুব কম পাওয়া যায়। এসব বলিস নারে ,, আন্টি শুনলে কষ্ট পাবে।
,,, রাত্রি অর্পনার হাত জোড়া শক্ত করে ধরে বললো — সেজন্যই তো বলতে পারিনা,, যে আমায় ছোট থেকে বড়ো করলো,, যখন কিছু বুঝতামনা, খিদে পেলে বলতে পারতামনা, শরীর খারাপ হলে বলতে পারতামনা। তখন থেকে অক্লান্ত পরিশ্রম করে আমায় আজ বুঝদার বানালো,, ঠিক ভুল বুঝার মতো বয়স পর্যন্ত আগলে রাখলো,, তাকে এসব বলা যায়? এসব নিয়ে প্রশ্ন করা যায় অর্পন? মাম্মা কষ্ট পাবেনা? মনে হবেনা? যার জন্য পুরোটা জীবন স্ট্রাগল করলো সেই সুযোগ বুঝে আঘাত করলো। আমি পারবোনারে,, কখনোই পারিনি। এইযে স্কুল, কলেজে, রাস্তাঘাটে, বাড়ির আসেপাশের প্রতিবেশিরা আমায় নানান ভাবে নানান বাজে কথা বলেছে,, কখনোই মাম্মাকে জানতে দেইনি। আমার মাম্মা সকালে ঘুম থেকে উঠে রেডি হয়ে,,আমাকে রেডি করিয়ে,,আমায় নিজ হাতে খাইয়ে দিয়ে তারপর কাজে যায়। কাজ থেকে ফিরতে ফিরতে সন্ধা হয়,, এসে আবার আমাকে নিজ হাতে খাইয়ে দেয়,, পড়তে বসায়,, বুকে নিয়ে ঘুম পারায়। আমার এই বেস্ত মাম্মাটাকে কি করে ওসব বাজে কথাগুলো বলি? আমি সব কষ্ট সহ্য করে নিবো কিন্তু মাম্মার কষ্ট সহ্য করতে পারবোনারে,, আমি আমার মাম্মাকে কখনো আঘাড করতে পারবোনা।
,,,অর্পনার বিষয়টা ঠিক মনে হচ্ছেনা,, তার মন অন্য কিছু বলছে তাই নিজের মনোভাব প্রকাশ করে বললো — আমার মনে হয় তুই সবার কথাকে সত্যি মনে করে আন্টিকে ভুল বুঝছিস। আন্টি হয়তো তর পাপ্পাকে ডিভোর্স দিয়েছে,, তর পাপ্পা হয়তো আন্টির সাথে এমন কোনো অন্যায় করেছে যার জন্য আন্টি তকে তর পাপ্পার পরিচয় দিতে চায়না।
,,, নারে!! আমার মাম্মার কখনো বিয়েই হয়নি,, সে সর্বদাই মিস. সুহাসিনী ছিলো। আমার বার্থ সার্টিফিকেট,, স্কুল, কলেজ, ভার্সিটি সার্টিফিকেট,, এমনকি আমার ডেলিভারি বন্ডেও আমার মাম্মা আন-মেরিড। আমার মাম্মাটা বোধয় ঠকে গিয়েছিলো রে,, কোনো এক কাপুরুষকে ভালোবেসে চরম ভাবে ঠকে গিয়েছিলো। আর আমি সেই কাপুরুষের অ-ঔরজাত সন্তান। নিজেকে ঘৃণা লাগে,, এইযে সুন্দর শরীরটা!! তীব্র ঘৃনায় জ্বালিয়ে দিতে ইচ্ছা করে। কেনো? কোনো কাপুরুষের সি*মেনে আমার জন্ম হলো? কিন্তু, কিন্তু অর্পন!! আমি আমার মাম্মাকে নিয়ে কখোনোই লজ্জিত নই,, আমার মাম্মা সুপার ওমেন। সে চাইলেই আমাকে ন*র্দমায় ফেলে দিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করতে পারতো। করেনি,, আমার মাম্মা আমায় আগলে রেখেছে,, আমিও সারাজীবন আমার মাম্মাকে আগলে রাখবো। আমার মাম্মা যেমন আমার জন্য কাউকে নিজের জীবনে জড়ায়নি,, আমিও জড়াবোনা। যদি জড়াতেও চাই,, আমার মতো জা*রজকে কে মেনে নিবে অর্পন? অরুন হয়তো মানলেও মানতে পারে কিন্তু ওর বাবা মা? অরুন ধনী পরিবারের সন্তান,, বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। তাদের সন্তানের জন্য নিশ্চয়ই আমার মতো একটা নিকৃষ্ট বস্তুকে বেছে নিবেনা তারা। এখন বলতে পারিস উনারা না মানলে তরা আলাদা থাকবি। এটা কি আদেও সম্ভব বল? অরুনের আর কোনো ভাই বোন নেই, আমিও যদি ওকে কেড়ে নেই,, ওর বাবা মায়ের কি হবে? নিজের জীবন পূর্ণ করতে গিয়ে অন্যের জীবন অপূর্ণতার দিকে ঠেলে দিতে পারবোনা। অরুন খুব ভালো একটা ছেলে,, সে ভালোটা ডিসার্ভ করে। আমি তো আবর্জনা,, আমাকে নর্দমায় ই মানায়।
,,, রাত্রির কথার বিপরীতে কি বলবে ভেবে পেলোনা অর্পনা। সুহাসিনী আন্টিকে সে যতটা কাছ থেকে দেখেছে ততোটা কাছ থেকে অরুনের বাবা মাকে দেখা হয়নি। প্রয়োজনের খাতিরে দু একবার দেখা হয়েছিলো ঠিকি কিন্তু তেমন করে মিশা হয়নি। সেদিক থেকে অরুনের বাবা মাকে নিয়ে খুব একটা ভরসা করতে পারছেনা অর্পনা। রাত্রি আর অরুনের সম্পর্ক নিয়ে কথা উঠলে সুহাসিনী আন্টির চরিত্র নিয়ে কাটাছেড়া হবে। কিন্তু দুজন ভালোবাসার মানুষকে দূরে সরে যেতে দেখাটাও অন্যায়। ভাবতে হবে,, বিষয়টা নিয়ে একবার পাপ্পার সাথে আলোচনা করতে হবে। অরুন আর রাত্রির মধ্যকার নিখাদ ভালোবাসা টুকু খুব সহজে পাওয়া যায় না। এই নিখাদ ভালোবাসাটা বাচিয়ে রাখা অর্পনার কর্তব্য। পল্লবের আনা খাবার গুলো আর খাওয়া হলোনা। রাত্রি অর্পনার কাধে মাথা রেখে খুব কাদলো,, থামানোর চেষ্টা করেনি অর্পনা। সামান্য শান্তনা বানিতে কারোর দুঃখ গুচে যায়না। আর কান্না করলে ভিতরকার অস্থিরতা টুকু শান্ত হয়,, তাই কাদুক,, কেদে একটু হালকা হোক। অর্পনা নিজেও চোখ বুঝে সিটে হেলান দিলো।
নাহ!! বাসে তেমন কষ্ট হচ্ছেনা,, পাপ্পা যে কেনো তাকে কখনো বাসে উঠতে দেয়নি,, সেটা পাপ্পা আর আল্লাহ ই ভালো জানেন। বাসটি বনানি এসে পৌছাতেই অর্ধেক বাস ফাকা হয়ে গেলো,, আবার নতুন নতুন যাত্রি এসে বাসের ভিতর জায়গা করে নিলো। অনেকটা সময় পেরুনোর পর অর্পনা চোখ মেলে তাকালো। এদিক ওদিক চোখ বুলাতেই হঠাৎ সাইডের সিটে বসে থাকা মধ্যবয়সি একটা লোকের দিকে নজর আটকালো। লোকটার সামনের সিটে বসে আছে অতিবো সাদামাটা ধরনের একটা মেয়ে। ওরা পিছনে থাকায় মেয়েটার চেহারা কেমন সেটা বুঝতে পারলোনা অর্পনা। সে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো সেদিকে। লোকটা বার বার মেয়েটার গায়ে হাত দিচ্ছে,, কখনো পিঠে কখনো বাহুতে আবার কখনো ঘাড়ে। মেয়েটা বার বার নিজেকে সেইফ করতে চাচ্ছে অথচ পারছেনা। মেয়েটা বিরক্ত হয়ে যতবার পিছনে তাকিয়েছে লোকটা ততবার সরি বলছে,, যেনো সে কাজগুলো ইচ্ছাকৃত করছেনা,, ভুল বসত হয়ে যাচ্ছে। অর্পনার মাথায় রাগ উঠে গেলো,, চোখ দুটোতে অগ্নির লাভা ছুটছে। আর কিছু ভাবতে পারলোনা অর্পনা,, উঠে দাড়িয়ে মধ্য বয়স্ক লোকটার হাত এক হাতে চেপে ধরে,, অন্য হাতে লোকটার পিঠের মধ্য ভাগে কনুইয়ের চাপ প্রয়োগ করলো। ব্যাথায় চিৎকার করে উঠলো লোকটা। বাসের যাত্রিরা সব হকচকিয়ে গেলো, হ্যা*রাস হওয়া মেয়েটা ভয়ে উঠে দাড়ালো,, হেল্পার এসে কিছু বলতে নিলে অর্পনা ফোঁসফোঁস করতে করতে বললো — দূরে যাহ!! নয়তো এটার সাথে সাথে তকেও মারবো। ( লোকটার দিকে তাকিয়ে) মেয়ে দেখলেই কু*রকুরানি উঠে যায়? কু*ত্তার বাচ্চা!! মেয়েটাকে হ্যা*রাস করছিলি কেনো? এই ড্রাইভার বাস থামা,, বাস থামাতে বললামনা? থামা বাস।
,,,,অর্পনার চেচামেচিতে ড্রাইভার বাস থামিয়ে দিলো। লোকটা এতোক্ষণ পিঠের ব্যাথায় কাতর থাকলেও এই মুহুর্তে অর্পনাকে ফিরতি আঘাত করতে চাইলে অরুন আর পল্লব এগিয়ে এসে লোকটাকে ধরে নিলো। অর্পনার কাছে মারার কারন জানতে চাইলে অর্পনা সবটা খুলে বলতেই অরুন লোকটার কলার ধরে নাক বরাবর ইচ্ছামতো ঘুষি বসিয়ে হির হির করে টেনে বাস থেকে বের করে দিলো। অর্পনা এখোনো রাগে ফুসছে আর সেই সাদামাটা মেয়েটার দিকে অগ্নি চোখে তাকিয়ে আছে। এটা কেমন মেয়ে? এতোটা নরবরে হলে জীবন কাটাতে পারবে? ফালতু!! এসব নরবরে মেয়েদের নরবরে স্বভাবের জন্যই হয়তো রাত্রির মতো কিছু নিশ্পাপ বাচ্চার জন্ম হয় আর সারাটা জীবন তাদেরকে লোকের বাজে কথা গুলো হজম করতে হয়। আজ বাসে হ্যারাস হচ্ছে কিন্তু কিছুই বলছেনা কাল একটা কাপুরুষকে ভালোবেসে ইজ্জত হাড়াবে, তখনো কিছু বলবেনা। এজন্যই হয়তো পাপ্পা ওকে বাসে উঠতে নিষেধ করেছে,, বাসে উঠলেই সমাজের কুৎসিত রুপ গুলো বেড়িয়ে আসবে। অর্পনার ভাবনার মাঝেই লোকটা আবার বাসের দরজা দিয়ে উপরে উঠে অর্পনার দিকে তাকিয়ে কয়েকটা বি*শ্রি গালিগালাজ করে বললো — তরে আমি দেইখা লমু,, আমারে চিনোস না। আমি চেয়ারম্যান সারাফত আকবরের খাস লোক,, কা*ইট্টা ছি*ড়া ডাস্টবি,,,
,,,, কথা শেষ করার আগেই লোকটার বুক বরাবর লাত্থি মারলো পল্লব,, লোকটা খেই হাড়িয়ে পিচ ঢালা রাস্তায় ধাম করে পরে গেলো। বাসের যাত্রিরা সব সোরগোল করতে লাগলো,, কেউ কেউ তেড়ে যাচ্ছে লোকটার দিকে আবার কেউ কেউ গা*লিগালাজ করছে। ফোঁস ফোঁস করতে থাকা অর্পনা বাস থেকে নেমে পরলো,, পিচ ঢালা রাস্তায় চিৎ হয়ে পরে থাকা লোকটার বুকে হাটু দিয়ে চেপে ধরে বললো — কি করবি? আমাকে দেখবি? এতোই সহজ? আমি সস্তা নারী নাকি অবোলা? তদের মতো হাজারটা কাপুরুষের কু*রকুরানি মেটানোর জন্য আমার পা ই যথেষ্ট। একদম জায়গা মতো মেরে আজীবনের জন্য হি*জরাদের কাতারে ফেলে দিবো। ব্লা*ডি বিচ!
,,, বলেই হাটু দিয়ে বুকে আরেকটু চাপ প্রয়োগ করলো। লোকটা বোধয় নেশা জাতীয় কিছু খোয়েছিলো যার ফলে সাস্থবান হওয়া সত্তেও অর্পনাকে রিপিট কিছু করতে পারছেনা। তবে সমানে মা তুলে বকে যাচ্ছে,, বিষয়টা লাগছে অর্পনার। ঐ মহিলা তার দায়িত্ব পালন করুক আর না করুক জন্ম তো দিয়েছে,, এতোটা অবহেলার পরেও সে নিজে ঐ মহিলাকে কোনোদিন অসম্মান করেনি আজ রাস্তার একটা বখাটে নে*শাখোরকে অপমান করার সাহস দিবে কি করে? অর্পনা তীব্র রাগে লোকটার চাপা বরাবর কয়েকটা ঘুষি মারলো,, মুখ ছুটে রক্ত গড়ালো লোকটার। পল্লব আর অরুন বুকে হাত বেধে দাড়িয়ে অর্পনাকে মারার জন্য উৎসাহ দিচ্ছে,, মাঝে মাঝে তারাও মারছে। মারতে মারতে এক পর্যায়ে লোকটার অবস্থা অনেকটাই খারাপ হয়ে গেলো। রাস্তায় তখন চরম সোরগোল,, জায়গায় জায়গায় গাড়ি দাড়িয়ে আছে,, রাস্তার আশেপাশে দাড়ানো লোকজন এসে ভির জমিয়েছে। কেউ কেউ বলছে লোকটাকে ছেড়ে দিতে আবার কারন জানতে পেরে বলছে আরও মারতে। অর্পনা ততোক্ষণ মারলো যতোক্ষণ লোকটার জবান চললো। মাকে ভালো না বাসুক কিছুটা সম্মান করে। যা বলার ওকে বলবে কিন্তু,, মা বাপ তুলে কোনো কথা হবেনা। কথা হলেও অর্পনা সেটা বরদাস্ত করবেনা। অর্পনা সরে এসে কয়েকজন লোককে ডেকে আহত লোকটাকে হসপিটালে নিয়ে যেতে বললো। অরুনের কাছে ক্যাস ৮ হাজার ছিলো,, পল্লবের কাছে ৫ হাজার,, রাত্রির কাছে ২ হাজার আর অর্পনার কাছে ১৩ হাজার,, এগুলো আসার পথে তার স্বামী দিয়ে বলেছিলো পথে ঘাটে কাজ লাগবে,,, স্বামীর কথাটা যে এভাবে ফলে যাবে ধাররনা ছিলোনা। অর্পনা সবার থেকে টাকা নিয়ে মোট ২৮ হাজার টাকা তুলে দিলো লোক গুলোর হাতে,, এই টাকায় নিশ্চয়ই চিকিৎসা আর ঔষধ খরচা হয়ে যাবে। মেরেছে যখন সে,, সুস্থ হওয়ার জন্য টাকা দেওয়াটাও তারি কর্তব্য।
,,,, পুরো ভার্সিটি তন্য তন্য করে খোজার পরেও অর্পনার খোজ পেলোনা গার্ড গুলো। অফিসে খবর নিতেই জানলো পরিসংখ্যান বিভাগের ক্লাস শেষ হয়েছে ২ টা ২০ এর দিকে,, আর এখন বাজে ৫ টা ২৮। কিছুক্ষণ আগেই আছরের আজান পরেছে। আর ঘন্টাখানিক পর মাগরিবের আজান পরবে। এই মুহুর্তে ম্যামকে খুজে না পেলে স্যার হয়তো তাদের জান ই নিয়ে নিবে। অনেকটা সময় দোনামোনা করে চিফ গার্ডটি দ্বীপের ফোনে কল করলো —
,,,, দুটো ক্লায়েন্ট মিট করে,, সারাদিনের পরিশ্রম শেষে এখন আবার নতুন প্রজেক্ট নিয়ে প্লান সাজাচ্ছে দ্বীপ । ওর সামনে বসে আছে বিহান আর আহাদ। দ্বীপ যেহেতু অফিসে বসছে মাত্র কয়েকদিন তাই এখোনো তার পি.এ সিলেক্ট করা হয়নি। যার ফলে আহাদের উপর ভিষন চাপ যাচ্ছে। তিনজন মিলে ইন ফিউচার কিভাবে বিজনেসে ইম্প্রুভ করা যায় সে নিয়ে পর্যালোচনায় মেতে ছিলো এমন সময় গার্ডের কল আসায় বিরক্ত হলো দ্বীপ। পরোক্ষনেই বউয়ের কথা মনে হতেই তরিহরি করে ফোন কানে তুলে নিলো। সহসা ওপাশ থেকে শুনা গেলো গার্ডটির আতঙ্কিত স্বর — স্যার!! ম্যাম ভার্সিটি থেকে পালিয়েছে,, পুরো ভার্সিটি তন্য তন্য করে খুজেও ম্যামের দেখা পাইনি। অনেক খোজার পর লাইব্রারিতে উনার নোট খাতাটা পেয়েছি সাথে উনার ফ্রেন্ডদের কিছু বই খাতা। এর বাহিরে কিছুই পেলাম না।
,,, গার্ড এর কথায় ভ্রু কুচকে এলো দ্বীপের,, সামনে রাখা লেপটপের সাটারটা অফ করে উঠে দাড়ালো,, সেকেন্ডের গতিতে ঠান্ডা মাথাটা গরম হয়ে গেলো,, সে খেকিয়ে উঠে বললো — হোয়াট? আর ইউ কিডিং উইথ মি? আমার বউ মিসিং মানে কি? আপনাদের কি ঘাস কাটার জন্য ভার্সিটি পাঠিয়েছি? বউয়ের উপর নজর রাখলেন না কেনো?
,,, দ্বীপের ধমকে কেপে উঠলো গার্ডটি,, আমতা আমতা করে বললো — স্যার!! ম্যাম কখন, কিভাবে পালিয়েছে আমরা বুঝতে পারিনি। আমরা তো জানতামনা ম্যাম পালিয়ে যাবে,, আপনি তো আগে থেকে বলেননি।
,,গার্ডের কথাগুলো যেনো বাচ্চা ভুলানোর মত ছিলো, দ্বীব রাগের তোপে দাতে দাত চেপে বললো — আমার বউ গেইট পেরিয়ে পালিয়ে গেলো আর আপনারা কিছুই জানেন না? আই রিয়্যাল্লি স্পিচ ল্যাস!! আপনাদের থেকে স্রিফান বেশি দায়িত্বশীল। এরপর থেকে আপনাদের না পুষে হাজার খানিক কুকুর পুষবো, কাজে দিবে। আমার বউয়ের ফ্রেন্ডদের কি খবর? ওদের পেয়েছেন?
,,,, না স্যার!! ভার্সিটিতে কেউ নেই,, ম্যামের দুজন ছেলে বন্ধু যারা আছে তাদের বাইক এখনো পার্কিং লটে রয়েছে। তাদেরকে এদিকে আসতে দেখিনি।
,,, গার্ডের বলা প্রতিটি কথার কদমে কদমে দ্বীপের রাগ বাড়ছে,, দ্বীপ এক হাতে চুল খামচে ধরে বললো — কু*ত্তার বাচ্চা!! পরিবারের জন্য মায়া থাকলে নেক্স্ট টাইম আমার সামনে পরিস না, জান নিয়ে নিবো।
,,,, কথাটা বলে কল কেটে হাতের ফোনটা মেঝেতে ছুড়ে মারলো। দ্বীপকে রাগতে দেখে আহাদ রুম থেকে বেড়িয়ে গেলো,, বিহান এগিয়ে গিয়ে প্রশ্ন করলো — কি হয়েছে ভাই? অর্পনা কোথায়? পালিয়েছে মানে কি?
,,, দ্বীপ ঝানালার সামনে দাড়িয়ে ছিলো এতোক্ষণ,, বিহানের কথাটা কর্নকূহর হতেই কাচের জানালায় লাত্থি বসিয়ে বললো — বেইমানের বাচ্চায় পালিয়েছে। বে*য়াদবের বাচ্চারে নিষেধ করছিলাম বেইমানি করিসনা। কোলে নিয়ে আদর করে বলেছিলাম। কিন্তু ঘারত্যারার বাচ্চায় আমার কথা শুনলোনা,, দাম ই দিলোনা কথার। হাতের কাছে পাই একবার,, প্রথমে পেট থেকে কলিজাটা বের করে উজন করবো তারপর সেটা কেটে পিস পিস করে স্রিফানকে খাওয়াবো।
,,, বিহান হুট করেই একটা ভুল করে বসলো, সে চিন্তিত কন্ঠে বললো — ভাই!! কলিজা ছাড়া তো মানুষ বাচেনা তাহলে তো অর্পনাও মরে যা,,
,,, কথা শেষ করতে পারলোনা বিহান তার আগেই ওর গলা চেপে ধরলো দ্বীপ। ঠেলতে ঠেলতে একদম দেয়ালে নিয়ে চেপে ধরে হিংস্র বাঘের ন্যায় ফোস ফোস করতে করতে বললো — কু*ত্তার বাচ্চা!! তর সাহস হয় কি করে এটা বলার? জানের ভয় নাই? ভাই বলে ছাড়া পেয়ে যাবি? আমার অর্পনা মরবে মানে কি? একটা কলিজা কাটার আগে হাজারটা কলিজা রেডি করে রাখবো। দ্বীপ মির্জাকে ছাগল মনে হয় তর? একবার একজন ছেড়ে গিয়েছে বলে এখন আরেকজন ছেড়ে যাবে? আমাকে খেলনা মনে হয়? যার ইচ্ছা খেলে চলে যাবে? একজন পাঁচ মাসের জন্য আসবে আরেকজন আট মাস? এবার আর ছাড় দিবেনা দ্বীপ মির্জা,, প্রয়োজনে অর্পনার কঙ্কাল নিয়ে সংসার করবো,, সংসার আমি করবোই।
,,, বিহানের চোখ মুখ লাল হয়ে গিয়েছে তবুও নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করছেনা ছেলেটা,, সে নিজের ক্ষতি করে ভাইয়ের রাগ কমানোর চেষ্টা করছে। এতো কষ্ট হচ্ছে,, দম নিতে পারছেনা তবুও একটু টু শব্দ করলোনা। বিহানের অবস্থা দেখে দ্বীপের হুস ফিরলো,, সে সহসা বিহানের গলা ছেড়ে জড়িয়ে ধরলো। পিঠে চাপর মারতে মারতে বললো — সরি!! সরি ভাই!! ঠিক আছিস? ওফ্ফ!! জানিস রাগলে আমার মাথা ঠিক থাকেনা, সরে গেলিনা কেনো?
,,, বিহান বড়ো বড়ো দম নিয়ে নিজেকে ঠিক করে ধীরো কন্ঠে বললো — রিল্যাক্স!! ঠিক আছি আমি,, শান্ত হো। চল অর্পনাকে খুজি,, কোথায় আর যাবে? নিশ্চয়ই আঙ্কেলের কাছে গিয়েছে,, চল।
৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৩৯ (২)
,,, দ্বীপ বিহানকে ছেড়ে এক গ্লাস পানি এগিয়ে দিয়ে বললো — এটাকে বিশ্বাস নেই,, বে*য়াদবের বাচ্চার কলিজা ভরা সাহস আর মাথা ভর্তি কুবুদ্ধি। সেবার দেশ ছেড়ে পালাতে চেয়েছিলো,, ভেবেছে দেশ ছাড়লে দ্বীপ মির্জা তাকে খুজে বের করতে পারবেনা। অথচ ওকে পাতালের শেষ প্রান্ত থেকেও খুজে আনার ক্ষমতা দ্বীপ মির্জা তার বাম পকেটে নিয়ে ঘুরে
