৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৪৪ (৩)
রুপান্জলি
,, অর্পনা জ্ঞান হাড়িয়ে দ্বীপের বাহুতে ঢলে পরার পর দ্বীপ নির্লিপ্ত ভাবে দাড়িয়ে থাকলেও যখন দেখলো অর্পনা তার বাহু থেকে ক্ষসে পরছে তখনি ওকে পাজাকোলা করে নিলো দ্বীপ,, রুমের ভিতর থাকা লোকগুলোর দিকে শান্ত নজরে আরও একবার তাকিয়ে গার্ডদের উদ্দেশ্যে বললো — সব রেডি করো, ভেলোরা যখন শুরু করবে ও যেনো বাধা প্রাপ্ত না হয়।
,,, দ্বীপের এই ছাড়া ছাড়া কথায় কি বুঝলো জানা নেই তবে ততক্ষনাৎ কাজে লেগে পরলো তিনজন গার্ড। এখানে খুব বেশি একটা গার্ড থাকে না। থাকার প্রয়োজন পরেনা,, ইদানীং দ্বীপকেও খুব একটা এখানে আসতে হয়না। যখন খুবি পারশোনাল ভাবে আদরের সহিত কাউকে দুনিয়া থেকে বিতারিত করতে হয় তখন কষ্ট করে এখানে তাকে পদধুলি দিতে হয়। দ্বীপ অর্পনাকে নিয়ে কয়েকটা রুম পেরিয়ে রেস্ট করার জন্য যেই রুমটা বানানো হয়েছে সেই রুমের চৌকিতে নিয়ে শুয়ালো। দ্বীপ যদি জানতো কখনো এমন সময় আসবে যখন তার হরিনীকে এখানে এনে রাখতে হবে তাহলে চৌকির বদলে পালঙ্ক বানিয়ে রাখতো। বেডসিট হতো মখমলের আর কুসন হতো শিমুল তুলোর। কিন্তু তাতো হওয়ার নয়,, নির্বাচনের আগে এরকম রিস্ক নেওয়াটা বড্ড বোকামি হয়ে যাবে। অর্পনাকে শুইয়ে গায়ের টিশার্ট আর ট্রাওজারটা ঠিক করে দিলো। পরপর দুজন গার্ডকে পাহারায় রেখে আদেশ জাহির করলো — যতোক্ষণ আমার কাজ শেষ না হবে ততোক্ষণ ভেলোরা অজ্ঞান থাকবে,, এর আগে জ্ঞান ফিরে গেলে স্প্রে করে দিবে। এন্ড,, ও যেভাবে খুশি শুয়ে থাকুক, ঘুমাক বাট তোমাদের নজর নিচে থাকবে,, স্রেফ মেঝেতে। ওকে?
,, গার্ড গুলো অর্পনার সিয়রে দাড়িয়ে মাথা নাড়ালো মানে মাথায় থাকবে। এমনিতেও তাদের জানের ভয় একটু বেশি,, বাড়িতে পরিবার, বউ বাচ্চা আছে। মন্ত্রীর বাড়িতে গার্ডের কাজ করাটা এতোটাও সহজ নয়,,সবসময় জীবন হাতে নিয়ে ঘুরতে হয়। শুধু মাত্র পরিবারের খুশি আর বেশি টাকা বেতনের লোভে নিজেদেরকে এই পাপের সামিল করা। সুতরাং, কেউ জেনে শুনে নিজের জানের মায়া ত্যাগ করে মালিকের বউয়ের দিকে নজর দেওয়ার মতো পাপ কখোনোই করবেনা। দ্বীপ অর্পনার ঠোঁটের কোনে শক্ত চুমু খেয়ে বড়ো করে দম নিলো যেনো এই সামান্য নারীর স্বল্প স্পর্শে অসামান্য কাজ করার ক্ষমতা পেয়ে গিয়েছে সে। পরপর শার্টের বোতাম খুলতে খুলতে বড়ো বড়ো কদম ফেলে রুম থেকে বেড়িয়ে গেলো। টর্চার সেলে পৌছাতেই দেখলো গার্ডরা সব রেডি করে রেখেছে। দ্বীপ পরনের ছাই রঙা শার্ট টা মেঝেতে ছুড়ে মারতেই সেটা ক্যাচ নিয়ে নিলো একজন গার্ড,, সাথে সাথে দৃশ্যমান হলো দ্বীপের প্রসস্থ বুক, কাধ, বাহু, ছয় ভাগে বিভক্ত হওয়া পেট। পেন্টে আটকে থাকা বেল্ট টাও খুলে ছুড়ে মারলো অবহেলায়,, অথচ সেই বেল্ট যত্ন সহকারে আগলে নিলো আরও একজন গার্ড। টর্চার শেষে গোসল করে দ্বীপ এগুলোই পরবে তাই চুল পরিমান ময়লা লাগা যাবেনা। লম্বায় “৪৮” `ইঞ্চি সাইজের একটি মোটা শিকল তুলো নিলো দ্বীপ,, দ্বীপকে শিকল হাতে এগিয়ে আসতে দেখে থরথর করে কাপতে লাগলো পাঁচ জন,, ঠোট ফুরে বলতে চাইলো কিন্তু তার আগেই অতর্কিত হামলায় চিৎকার করে উঠলো।
শিকলের প্রতিটি আঘাত আত্মা নড়িয়ে দিচ্ছে,, কাটা চামড়া গুলো আরও কেটে দগদগা হয়ে উঠছে। শুকিয়ে আসা র*ক্ত গুলো আবারও চামড়া ফেটে বেড়িয়ে এলো। দিক দিশা হাড়িয়ে শরীরের সর্ব শক্তি দিয়ে পিটাচ্ছে দ্বীপ। অর্পনাকে এখানে আনার আগে টানা ৪ ঘন্টা থে*রাপির মাঝে রাখা হয়েছে এদের। আর এই নির্মম কাজগুলো করানো হয়েছে নাম করা কষাইদের দিয়ে,, যারা গরু মহিষের সাথে সাথে মানুষের নাড়ী ভুড়ি বের করে আনতেও সক্ষম। এখনো তারা এই পোড়াবাড়িতেই আছে,, গতো এগারোদিন যাবত তারা এখানেই থাকছে। এদের পাশাপাশি ভালো মানের ডক্টরদের ও আনিয়ে রেখেছে দ্বীপ। দিনের অর্ধেকটা সময় টর্চার করা হয় আর বাকি অর্ধেক সময় চিকিৎসা। মারার পর সুস্থ করা হয়,, সুস্থ করার পর আবার মারা হয়। তিনবেলা খাবার ও দেওয়া হয় তবে খাবারে থাকে অতিরিক্ত ঝাল,, যা ভিতরে থাকা **কলিজা** পর্যন্ত নাড়িয়ে দিতে সক্ষম। পানীয় হিসেবে দেওয়া হয় অতিরিক্ত গন্ধ যুক্ত ড্রেনের ময়লা পানি। এভাবেই বাচিয়ে রাখা হয়েছে এদের,, দ্বীপ খুব একটা এখানে আসেনি কারন পুরোটা রাত তাকে অর্পনার সাথে থাকতে হয়।
দিনের যেই সময়টায় সে এখানে আসে সেই সময়টা যেনো জাহান্নামের সাধ বুঝিয়ে দেয় এদের। গরম লোহা দিয়ে সেক দেওয়া থেকে শুরু করে কাটা স্থানে লবন, মরিচ, লেবুর রস, চেইনের আঘাত, বেল্টের বারি, বুকের উপর বুটের চাপ সবটা সহ্য করতে হয়। দ্বীপ মেরে ক্লান্ত হয়ে গেলে বিহানের আবির্ভাব ঘটে,, একদম ঠান্ডা মাথায় মারে বিহান। সম্পূর্ণ কয়েল জ্বালিয়ে পিঠে, কোমরে, হাটুতে চেপে ধরে। কখনো কখনো চিকন, শুক্ষ নাইফ দিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আচড় কাটে,, শরীরের উপর বারুদ রেখে আগুন জ্বালিয়ে দেয়, এমনো সময় গিয়েছে মার সহ্য করতে না পেরে প্রান ভিক্ষা চাওয়ার পরিবর্তে লোকগুলো মরার জন্য কাতরিয়েছে। দুই ভাইয়ের পায়ে ধরে মরন ভিক্ষা চেয়েছে,, মরে গিয়ে বাচতে চেয়েছে বহুবার। কিন্তু রেহাই পায়নি,, এক চুল পরিমান ও ছাড় দেওয়া হয়নি তাদের। তবে আজ বোধয় সেই আহাজারির উপসম ঘটতে যাচ্ছে। আজকেই সর্বশেষ এবং সর্বোত্তম টর্চার করা হবে। দ্বীপ মারতে মারতে ক্লান্ত হয়ে চেইনটা নিচে ফেলে দিলো।
সহসা ফুলে উঠা হাতের রগগুলো ক্ষান্ত হলো,, মারতে মারতে ঘেমে নেয়ে একাকার সে। একজন গার্ড এগিয়ে এসে নরম তোয়ালে এগিয়ে দিতেই দ্বীপ সেটাও ছুড়ে মারলো। আজ বিশ্রাম নিবেনা সে। সহসা অর্পনার উড়না টানা ছেলেটার পাশাপাশি গিয়ে বসে পরলো। দ্বীপের ঠোঁট ফ্যাসফ্যাসে হাসি,, সেই হাসিতে জাহান্নাম দেখতে পেলো ছেলেটা। বয়স কতো হবে?২৩-২৫, পুরো জীবন পরে আছে,, অথচ একটা ভুলের কারনে নির্মম যন্ত্রণা ভোগ করতে হচ্ছে। দ্বীপ মির্জার সেই ধূসর চোখ, যা দেখে শতো নারী কুপকাত হয়েছে,, এমনকি ছেলেরাও প্রশংসা করতে বাধ্য সেই চোখে নিকৃষ্টতা ও পৈশাচিক আনন্দ ছারা কিছুই দেখতে পেলোনা ছেলেটা। ভয়ে ভয়ে অত্যন্ত কাতর স্বরে বললো — ম,,মা,ফ কই,ইরা দেন,, আমি আর কখনো কোনোদিন কোনো মাইয়ার দিকে তাকাবোনা। আপনার বউয়ের পা ধ,,
,,, কথার বদলে তীব্র ঘুষিতে মুখ ফুরে র*ক্ত বের হলো,, চোখ মুখ খিচে মা,,মা বলে গুঙিয়ে উঠলো ছেলেটা। দ্বীপ তার খরখরা হাতের দুই আঙুল দিয়ে ছেলেটার চোয়াল চেপে ধরে হিসহিসিয়ে বললো — আমার বউয়ের পা ছোয়ার জন্যেও তো যোগ্যতার প্রয়োজন যেটা আমি ব্যাতিত অন্য কারোর নেই। যেই পায়ে প্রতি রাতে আমি চুমু খাই সেই পায়ে তর মতো রাস্তার ছেলে হাত রাখবে,, ছেহ!! ভাবলি কি করে?( গলা উচিয়ে) বিহান!! বিহান!! কু*ত্তার বাচ্চা মরছিস? সেকেন্ডের মধ্যে সাড়াশি নিয়ে হাজির হো নয়তো সত্যি সত্যি ই মেধার জন্য সাদা থানের ব্যাবস্থা করবো আজ।
,,, একপ্রকার তারাহুরো করে রুমে ডুকলো বিহান, খুজে খুজে সাড়াশি বের করে দ্বীপের দিকে এগিয়ে দিলো। দ্বীপ সেটা হাতে নিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখলো,, আজ ময়দান’টা’ও তার আর বিচার ও হবে তার নিয়মে। সহসা ছেলেটার হাত টেনে নিলো। ডান হাত নিতে গিয়ে সঙ্কায় ছেড়ে দিলো,, পরপর ছেলেটার দিকে তাকিয়ে জানতে চাইলো। — কোন হাতে উড়না টেনেছিস? প্রথম কোন হাতটা বাড়িয়েছিলি?
,,, ছেলেটা বলতে চাইলো না, মাথা ঝাঁকিয়ে না করলো। সহসা সরা সির মাথা দিয়ে ছেলেটির হাতে সর্বশক্তি দিয়ে বারি মারলো দ্বীপ । ছেলেটা ওমাগো বলে চিৎকারে করে উঠলো,, ফের বারি মারতে নিলে ছেলেটা কাপতে কাপতে বললো — বাম হাতে।
,,, দ্বীপ এই আশংকাটাই করেছিলো,, এসে থেকে দেখে যাচ্ছে ছেলেটা সব কাজ লেফ্ট হেন্ডে করে তাই ডান হাত ধরতে গিয়েও ছেড়ে দিয়েছিলো। এবার বাম হাত তুলে নিলো। বিহানের দিকে তাকিয়ে ইশারা করতেই বিহান এগিয়ে এসে ছেলেটার হাতের উপর পা দিয়ে চেপে ধরলো। দ্বীপ সুনিপুণ হস্তে ছেলেটির বৃদ্ধাঙ্গুলের নখ সাঁড়াশি দিয়ে চেপে ধরলো ,, সাথে সাথে চিৎকার করে উঠলো ছেলেটা,, মুচড়াতে লাগলো, ব্যথা সহ্য করতে না মেরে ঠোঁট কামরে ধরলো। অতিরিক্ত চাপে ঠোটের অনেকাংশ কেটে রক্ত গড়ালো। ছেলেটির গননবিদারক চিৎকারে কেপে উঠলো বাকি চারজন,, সবার চোখ ফেটে পানি গড়াচ্ছে,, মাফ চাইছে, দোহাই চাইছে কিন্তু দ্বীপ কিংবা বিহান কেউ ফিরেও তাকালো না। দ্বীপ ঠান্ডা মাথায় একটা একটা করে নখ টেনে টেনে তুলে নিলো। পরপর হাতুরি দিয়ে একটার পর একটা বারি দিয়ে হতটা ঝাজড়া করে দিলো,, থেতলে গিয়ে জায়গাটা রক্তাক্ত হয়ে গেলো। ধীরে ধীরে হাত, পায়ের নখ তুলে ছেলেটাকে ছেড়ে দিলো। ছাড়া পেয়ে গলা কাটা মুরগীর ন্যায় ছটফট করতে লাগলো ছেলেটা। চিৎকার করে বললো — এবার, এবার ছেড়ে দেন। আমি আর কখনো কারোর দিকে হাত বাড়াবো না। হয় ছাড়ুন নয়তো মেরে ফেলুন। আর কষ্ট দিবেন না,, মাফ করে দেন।
,,,জোহান-বিহান পাত্তা দিলো না। গত এগারোদিন যাবত এসোবি শুনে যাচ্ছে। শুনতে শুনতে একপ্রকার মুখস্থ হয়ে গিয়েছে তাদের। পরবর্তীতে গেলো বাসে গালাগালি করা লোকটার দিকে,, দ্বীপকে এগুতে দেখে লোকটা পিছানোর চেষ্টা করলো কিন্তু কোমরে ব্যাথা থাকার কারনে পারলো না। দ্বীপ লোকটার বুকে হাটু রেখে চেপে ধরে আয়েশ করে বসে পরলো। জুলাইনে থাকা চুলগুলো টেনে ধরে বললো — ইউ!! আমার ওয়াইফকে কা*ইট্টা ছি*ড়া ডা*স্টবিনে ফালায় দিবি বলছিলিনা? এখন তকে কি করা যায়? কা*টবো নাকি মাঝখান থেকে ছি**বো? ইটস ওকে,,তুই দুটোই ইনজয় কর।
,,, উড়না টানা ছেলেটি ক্ষমা চাওয়ার পর যেই মারটা খেয়েছে সেই মার খাওয়ার ভয়ে ক্ষমা চাইলো না লোকটা। শুধু কেঁদেই গেলো,, শরীরের ব্যাথায় বার বার গুঙিয়ে উঠছে। দ্বীপ গার্ড পাঠিয়ে ক*সাইদের ডেকে পাঠালো। খবর পাওয়ার সাথে সাথে ছুটে এলো দুজন। লোকগুলো বেশ মোটা তাজা,, পালোয়ানের মতো শক্তি ধরে দুজন। দ্বীপ লোকটার দিকে ইশারা করে বললো – এটাকে মাঝখান থেকে ছি*ড়ে ফেল।
,,, মালিকের হুকুম পাওয়া মাত্র এগিয়ে গেলো দুজন,, লোকটা দুদিকে মাথা নাড়াতে নাড়াতে না করলো,, অনুনয় করলো তবুও ছাড়া পেলোনা। দুজন এগিয়ে এসে পা টেনে ধরে হিচরে ফাকা জায়গায় নিয়ে গেলো। দ্বীপ পকেট থেকে ইয়্যারপড বের করে কানে গুজলো, এসব বিরক্তিকর সাউন্ড শুনতে ভালো লাগে না,, তার কানে বাঝছে অর্পনার গাওয়া ( “শখি ভাবনা কাহারে বলে,, শখি যাতনা কাহারে বলে,, তোমরা যে বলো দিবোসো রজনী,, ভালোবাসা ভালোবাসা,, সখি ভালোবাসা কারে কয়) অপরদিকে দুজন কসাই লোকটার দুপা দুদিক থেকে টেনে ধরলো। ম*রন বিদারক চিৎকারে মেতে উঠলো লোকটা। তীব্র চিৎকারে আকাশ বাতাস কেপে উঠলো তবুও দ্বীপের মন গললো না। বিহানের ওসব ইয়্যার পডের প্রয়োজন পরেনা। সে এসব শুনতে শুনতে অভ্যস্ত। ১৪ বছর থেকে আজ ৩১ বছর পোরিয়ে মাস খানিক পর ৩২ এ পা দিবে। এতো গুলো বছরে এসব করতে করতে আর শুনতে শুনতে আজকাল এসব ডাল ভাত মনে হয়। বিহান রিলেক্সে কাঠের চেয়ার টা টেনে বসলো। মনোযোগ দিয়ে দেখতে লাগলো সবকিছু। দুই রানের মধ্যভাগ হতে ক্ষরোস্রোতার ন্যায় র*ক্ত বের হওয়ার আগ পর্যন্ত ছাড়া পেলোনা লোকটা। র*ক্ত বের হতেই বিহান ইশারা করলো ছেড়ে দেওয়ার জন্য ,,
ওর ইশারা পেতেই ছেড়ে দেওয়া হলো। সাথে সাথে নেতিয়ে পরলো দেহটা। দ্বীপ রয়েসয়ে অর্পনার গাওয়া পাঁচটা গান শুনে কান থেকে ইয়্যারপড নামালো। তারপর এগিয়ে গেলো ম*লেস্ট করা তিনজনের দিকে। আবারও বিশ্রাম হীন ভাবে কাটা যুক্ত শিকল দিয়ে তিনজনকে বেদরম পিটালো দ্বীপ । সাড়াশি দিয়ে হাতের নখ একটা একটা টেনে তুলে হাতুরি দিয়ে সেই নখগুলোকেও গুরো গুরো করে ফেললো। যেনো অর্পনাকে আঘাত করা একেকটি বস্তুর অস্তিত্ব চিরদিনের জন্য নিশ্চিন্হ করার প্রচেষ্টা। নখ গুলো গুরো করার পর কেচি দিয়ে হাতের আঙুলের চামড়া কে*টে নিলো তারপর সেই চামড়া ধরে টান মারলো,, উদ্দেশ্য হাতের চামড়া ছিলে ফেলা। চামড়া ধরে টান দিতেই চিৎকার করে উঠলো লোকটা। এই চিৎকারে বড্ড শান্তি পাচ্ছে দ্বীপ। সেদিনো নিশ্চয়ই এই হাতগুলোর ধ্বংসনে ভেলোরা চিৎকার করে কেদেছিলো? কেউ এক বিন্দু ছাড় দেয়নি ওকে,, সেও দিবেনা। একে একে ছয়টা হাতের চামড়া উঠানোর পর হাতুড়ি দিয়ে হাতের রগ, হাড় থেতলে দিতে দিতে বললো — এই হাতে ছুয়েছিলি না ? আ*চর কেটেছিলি? ওপ্স!! হৃদয়ে লাগছে,,ব্লা*ডি বিচ!! দ্বীপ মির্জার কলিজায় হাত দেওয়ার শাস্তি কতোটা ভয়ংকর কল্পনা ও করতে পারবি না। জাস্ট সি,,
,,, লোকগুলোর মনে হলো দ্বীপ কোনো উন্মাদ পাগল, নয়তো কোনো সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ কাউকে এভাবে মারতে পারেনা তাও এতোটা ঠান্ডা মাথায়। আচ্ছা!! সেদিন যদি তারা অর্পনাকে কোনোভাবে রে*প করে ফেলতো তাহলে কি হতো? আজ তাদের কি অবস্থা করতো এই উন্মাদ পাগলটা? জানা নেই। হাতুড়ি চালাতে চালাতে চোখ বুঝে নিলো দ্বীপ ,, চোখে ভাসলো হরিনীর কাতর চোখ,, জ্বরের ঘোরে করা আত্ম চিৎকার, ঘাড়ের পিছনে গাড়ো নখের লম্বা দাগ,, গলার বাম পাশে শক্ত দাতের তিনটে চিন্হ আর কলার বোনের নিচে খুবলে যাওয়া একটা ছোট্ট গর্ত। এই গর্তটা কেনো হয়েছিলো? নিশ্চয়ই এখানকার মা*শ খু*বলে নিয়েছিলো কেউ? দ্বীপের চোখ জোড়া জ্বালা করে উঠলো, সাথে সাথে চোখে থাকা শিরা গুলো লাল বর্ন ধারন করলো। ধূসর চোখে এই লাল বর্ন বড্ড ভয়ানক ঠেকলো যা সহজেই শিকারের বুক কাপাতে সক্ষম। দ্বীপ হাতে সাড়াশি তুলে নিয়ে সবচেয়ে মোটা লোকটার বুকের উপর উঠে হাটু দিয়ে চেপে ধরলো। সাথে সাথে দুজন গার্ড এসে চেপে ধরলো লোকটার হাত। দ্বীপ আয়েশ করে বসে সাড়াশি দিয়ে একটা একটা দাত টেনে টেনে তুলে ফেললো। দাত তুলতে গিয়ে ঘৃনায় মুখ ফিরিয়ে নিলো দ্বীপ ,, পান, মদ, সিগারেট খাওয়ার ফলে দাত কালচে লাল বর্ন ধারন করেছে। দেখতেও কেমন বমি বমি ফিল হচ্ছে। এই দাত গুলো ছুয়েছিলো অর্পনাকে?
আঘাত করেছিলো? ভাবতেই রাগ আরও করেক দাপ বেড়ে গেলো। লোকটার মুখের ভিতর সাড়াশি ঢুকিয়ে মুখে ঘুষি মারলো কয়েকটা। মুখের ভিতর ধাতব বস্তু থাকায় চোয়াল ফেটে রক্ত গড়ালো। দ্বীপের হাত ও কাটলো কিছুটা। ইতিমধ্যেই তার শরীরের বিভিন্ন জায়গা রক্তে রন্জিত হয়ে গিয়েছে। দাত উপড়ে ফেলার পর সেই দাত গুলো কেউ গুড়ো গুড়ো করার প্রচেষ্টা চালালো। কয়েকটা গুড়ো করে হিংস্র দৃষ্টিতে লোকটার ঠোঁটের দিকে তাকালো,, এই ঠোটটাও ছুয়েছে কোমলের? ইসস!! বুকে জ্বলছে খুব ,, মানা যাচ্ছেনা। দ্বীপ দাতে দাত চেপে বিহানের কাছে কেচি চাইলো। বিহান কেচি এগিয়ে দিতেই ঠোটে ভয়াঙ্কর হাসি ঝুলিয়ে ধারালো কেচি দিয়ে লোকটার দুটো ঠোঁট কে*টে নিলো,, সাথে সাথে গড়িয়ে পরলো তাজা র*ক্ত,, লোকটা ব্যাথায় কারতরাতে কাতরাতে কিছু একটা বলতে চাইলো কিন্তু ঠোঁট আর দাত না থাকায় পারলো না। দ্বীপের মাথায় আবারও কিছু একটা চললো,, তার কেনো যেনো শান্তি লাগছে না,, এতো কিছু করেও শান্তি পাচ্ছে না সে। সহসাই লোকটার জ্বীব টে*নে ধরলো। শরীরের সর্ব শক্তি দিয়ে টেনে ধরলো সেটা। লোকটা গনবিদারক চিৎকার করে হাত পা ছুড়তে লাগলো কিন্তু দ্বীপের থেকে ছাড়া পেলো না। টেনে হিচরে জ্বীহবার শেষাংশ টেনে আনার চেষ্টা চালালেও পেরে উঠলো না সহসা কেচি দিয়ে কে*টে নিলো সেটা। সব শেষে নিচে নেমে এলো। মেইন পয়েন্টে আঘাত করতে নিয়েও থেমে গেলো,, ঠোঁট নাড়িয়ে বললো — এটুকু নাহয় আমার বউয়ের জন্যই থাকুক,, একেবারে নিঃশ্বেষ করে দিলে এন্টারটেইন পাবেনা।
,,,কো*পাতে কো*পাতে পাঁচ জনের পাজরের হাড় গুড়ো গুড়ো করে দিলো অর্পনা। ফোপাতে ফোপাতে গালে, মুখে, পেটে, গো*পনাঙ্গে বিশ্রাম হীন লাত্থি বসালো,, কখনো পায়ের গোড়ালি দিয়ে চেপে ধরলো সেখানটায়। অর্পনা মারতে মারতে খেয়াল ই করেনি তার শিকারের শরীর হতে বহু আগেই প্রান বেড়িয়ে গিয়েছে। মারতে মারতে অর্পনা যখন হাপিয়ে গেলো তখন হাতে থাকা এক্সটা দূরে ছুড়ে মারলো। পরপর বসে পরলো মেঝেতে। দ্বীপ এগিয়ে গিয়ে নাইফের সাহায্যে সেই ঝাজড়া হওয়া বুক গুলোর মাঝ বারবর পেট পর্যন্ত কেটে সেখান থেকে ক*লিজাটা বের করে আনলো। এদিক ওদিক ঘুরিয়ে দেখে নাক ছিটকালো। কলিজাটা স্বাভাবিকপর চেয়ে একটু বেশি ই ছোট,, এটুকু ক*লিজা নিয়ে দ্বীপের ফুল ছোয়ার সাহস দেখায়? ওপ্পস,, রং ছিলো,, পুরোটাই জাস্ট রং ছিলো। দ্বীপ একে একে পাঁচটা ক*লিজা হাতে নেওয়ার পর সেগুলোকে পলিথিনে পুরলো। স্রিফান কলিজা ভূনা খেতে খুব ভালোবাসে আর সেটা যদি হয় মানুষের ,, তাহলে তো কথাই নেই। পলিথিনে মোড়ানো ক*লিজাটা সাইডে রেখে অর্পনার কাছে এগিয়ে গেলো দ্বীপ। অর্পনা থর থর করে কাপছে,, পাঁচ জনের তাজা রক্তে ভিজে টইটুম্বুর অর্পনা। গায়ে পরা সাদা টিশার্ট টা লাল বর্ন ধারন করেছে। পুরো মুখ, হাত, ট্রাউজার এমনকি চুলেও রক্ত মিশে গিয়েছে। রক্তে ভেজা অর্পনাকে কোলে তুলে নিলো দ্বীপ,, অর্পনা নিরব দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো। দ্বীপ বিহানকে কিছু একটা ইশারা করে অর্পনাকে কোলে নিয়ে সামনের দিকে হাটা দিলো। ওরা চলে যেতেই পায়ে পায়ে এগিয়ে গেলো বিহান,, পাঁচ টা ক্ষত বিক্ষত হওয়া লাসের দিকে তাকিয়ে চ বর্গিয় শব্দ করে বললো — যখন ছুয়েছিলি তখন এরা কেউ কাউকে চিনতো না। একজন পাগল ছিলো আরেকজন বাচ্চা। আফসোস হচ্ছে,, ওদের মিলন না হলে বোধহয় তদের এতোটা ভয়ঙ্কর মৃত্যু পেতে হতো না।
,,, বলতে বলতে কিছুটা ঝুকে একটা জি*হ্বা হাতে নিলো, ঘুড়িয়ে ঘুড়িয়ে দেখলো। বিহানের বড্ড আফসোস হলো,, আরেকটু শক্ত করে টান দিলে নিজে থেকেই পুরোটা চলে আসতো। অকারনেই কাচি দিয়ে কাটলো,, জোহানটাও না কোনো কাজের হলো না। নিয়ম মাফিক গার্ডরা পাচটি গুড়ি নিয়ে এলো সাথে আরও দুজন কশাইকে ডেকে আনলো। পাচ জন পাচটি চাপাতি নিয়ে মেঝেতে বসে পরলো। বিহান সন্তর্পণে ২৩-২৪ বছর বয়সী ছেলেটার লাসটা টেনে নিলো। আর কশাই চারজন টেনে নিলো বাকি চারটি লাস। বিহান ধীরে ধীরে ছেলেটার হাত পা সব আলাদা করলো। তারপর একটা হাত গুড়িতে রেখে চাপাতি দিয়ে হাড় মাংস গুলো পিছ পিছ করে কাটতে লাগলো যেনো এগুলো কোনো মানুষের নয় বরং খাসি কিংবা গরুর গোস্ত। বিহানকে ভিষন ব্যাস্ত দেখালো,, এগুলো কাটার পর আবার এসিডে ডুবাতে হবে। এসিডে ডুবানোর পর এই হাড় মাংস যখন গলে তরলে পরিনত হবে,,তখন এসব সাগরের পানিতে ভাসিয়ে দেওয়া হবে। জোয়ার ভাটার টানে এই তরল মিশে একাকার হয়ে যাবে। সাথে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে পাচটি তরতাজা প্রান।
দ্বীপ অর্পনাকে নিয়ে অনেকগুলো ঘর, শিরি, দরজা পেরিয়ে সরু একটা পথ দিয়ে বাহিরে বের হলো। বেরিয়ে আসতেই এক পশলা বাতাস এসে দুজনার গা ছুইয়ে দিলো,, যেনো এক ক্লান্ত যুগলকে শীতলতায় শীতল করার প্রচেষ্টা। দুই দিকে বিশাল জঙ্গল হলেও এর মধ্যবর্তি জায়গায় ছোট খাটো একটা সমুদ্র তট রয়েছে, কিছু পথ এগুলেই বিশাল সমূদ্রের হাতছানি। তটের শুরুতে ছোট বড়ো অনেকগুলো পাথর রয়েছে যা সমুদ্রের পানিতে ডুবানো,, যতটা ভাসমান সেখানে ক্ষনে ক্ষনে ঢেউ এসে আছড়ে পরছে। জায়গাটা নিষিদ্ধ হওয়ায় সমুদ্রের ঢেউ আর পাখিদের কলরবের শব্দে অন্য রকম সূর তুলছে। যেনো কানের কাছে এসে কেউ ফিসফিস করে বলছে,,
বাতাসে গুন গুন,, এসেছে ফাগুন
বুঝিনি তোমার,,
শুধু ছোয়ায় এতো যে আগুন,,
,,, অর্পনাকে নিয়ে পানিতে নামলো দ্বীপ,, নোনা পানিতে ভিজে গেলো দুজনার ক্লান্ত পা জোড়া। অর্পনা তখনো নিরুত্তাপ,, দ্বীপের গলা জড়িয়ে ফেলফেল করে তাকিয়ে আছে, যেনো দেহে প্রান নেই, নির্জীব একটি পদার্থ। ধীরে ধীরে পানির গভীরে পৌছালো দ্বীপ,, হাটু পর্যন্ত পানিতে পৌছে অর্পনাকে একটু উঁচু পাথরের উপর বসিয়ে দিয়ে নিজে ওর সামনের নিচু পাথরটাতে বসে পরলো। সাথে সাথে একটা বিশাল ঢেউ এসে ভিজিয়ে দিলো দুজনকে। ঢেউ এসে অর্পনার কোমল শরীরটা ছুয়ে দিতেই ঠোঁট বাকিয়ে শুক্ষ হাসলো দ্বীপ,, ঢেউয়ের সাথে সাথে পায়ে কি যেনো এসে বাধলো,, দ্বীপ হাত ডুবিয়ে সেটা তুলে নিতেই শামুকটা রোদ্রের আলোয় চক চক করে উঠলো। শামুকটা সত্যি ই সুন্দর তবে কোমলের রুপের কাছে কিছুই না। ওহুম,, শুধু কোমল না। রক্তে রঞ্জিত হয়ে কোমল এখন রক্ত কোমলে পরিনত হয়েছে। দ্বীপ বিরবির করে আওড়ালো “” মাই অউন ব্লাড ভেলোরা “”
,,, দ্বীপ আঙুলকে চিরুনি বানিয়ে অর্পনার এলোমেলো চুলগুলো আচড়ে দিলো,, যা অগোছালো ভাবে পাথরের উপর ছড়িয়ে আছে। ঢেউয়ের সাথে সাথে ভেসে যাচ্ছে এদিকে ওদিক। দ্বীপ সন্তর্পণে চুলগুলো থেকে অর্ধেক চুল সামনে এনে দিলো, পরপর শামুকের ধাড়ালো অংশ দিয়ে বাম হাতের কব্জি বরাবর একটা টান দিলো,, সাথে সাথে চামড়া ফেটে রক্ত বেড়িয়ে এলো। দ্বীপ হাত গোল করে রক্তটুকু পামির মতো করে রাখলো,, কাটা গভীর হুয়ায় ধীরে ধীরে রক্তের মাত্রা বারন্ত অবস্থা চলমান। অর্পনা তখনো নীরব ভঙ্গিতে দ্বীপের দিকে তাকিয়ে,, দ্বীপ হাতে থাকা শামুকটা অর্পনার লম্বা চুলের ফাকে গুজে দিলো,, শামুকটা চুল আটতে না চাইলে কিছু চুল এলোমেলো করে ঝট পাকিয়ে তারপর আটকে দিলো। রক্ত কোমলকে সমুদ্র কন্যা লাগছে,, খুব সুন্দর। দ্বীপ তাকিয়ে থাকতে থাকতেই হাত থেকে কিছুটা রক্ত আঙুলে ডগায় নিয়ে পাথর ঘষে ঘসে আকি বুকি করতে লাগলো। সময় পেরিয়েছে অনেকটা,, দ্বীপ একবার অর্পনাকে দেখছে আরেকবার পাথরে তাকাচ্ছে,, তার হাত তখনো আঁকিবুকিতে ব্যাস্ত। আঁকিবুকির মাঝে এক ঝাক রঙিন প্রজাপতি উড়ে এলো তাদের নিকট,, অর্পনার চারপাশে ঘুড়ছে তারা। কয়েকটা প্রজাপতি এসে অর্পনার দীর্ঘ চুলে আসন নিলো,, এই পর্যায়ে দ্বীপ অনুভব করলো তার রক্ত কোমলকে প্রজাপতিদের রানী মনে হচ্ছে। ভেলোরার এতো রুপ সহ্য হচ্ছেনা দ্বীপের,, বুকের ভিতর কাপন ধরে, দম নিতে কষ্ট হয়, শ্বাস ভারি হয়ে আসে। আসন নেওয়া প্রজাপতিদের ও আঁকিবুঁকিতে সামিল করলো দ্বীপ সাথে উড়ন্ত প্রজাপতিদের ও নিলো। যদিও রক্ত কোমলের পাশাপাশি থাকার দরুন তাদের গায়ের রং ও রক্ত দ্বারা আবৃত হয়েছে। তবে খুব মানিয়েছে,, আঁকিবুকি শেষে কাটা হাতটা পানিতে ভিজিয়ে দিলো দ্বীপ,, নোনা পানি হওয়ায় হাতটা জ্বালা করলো তবে হৃদয়ের শীতলতার কাছে এই জ্বলনটা কিছুই অনুভূত হলো না। দ্বীপ অর্পনাকে টেনে কোলের উপর বসিয়ে দিলো। পরপর পাথরে আকিবুকি করা জায়গাটা দেখিয়ে বললো —
,,, পছন্দ হয়নি?
,,, অর্পনা তাকালো,, সেখানে সুনিপুণ হস্তে তার ছবি আঁকা। অর্পনা অবাক হলো না,, দ্বীপ যে ভালো ছবি আঁকতে পারে এটা সে প্রথমদিনি বুঝতে পেরেছিলো। জয়পুরহাট ও এইরকমি একটা ছবি আঁকা ছিলো শুধু অবস্থান আর ঠোঁটের আকৃতির কিছু তফাৎ। সামান্য রক্ত দিয়ে এতো নিখুঁত ছবি আকার পর দ্বীপকে নিসন্দেহে একজন ভালো আর্টিস্ট( চিত্রশিল্পী ) বলা যায়। অথচ ছয় বছর আট মাস ছাব্বিশ দিন আগেও দ্বীপ আর্ট এর অ্যা ও জানতো না। সে এটা শিখেছে পাগল থাকা অবস্থায়,, সে যখন পারুকে হ্যালুসোলেশন করতো তখন ওকে দেখে দেখে একটু একটু করে এঁকেছিলো। শতোবার ভুল হয়েছে, পরিপাটি হয়নি তারপরেও চেষ্টা করেছে সে। সারাক্ষণ বির বির করতো আর আঁকিবুকি করতো,, এটাই তো ছিলো দ্বীপের দীর্ঘ ছয় বছরের সাধনা। যেই সাধনার জোরে ভেলোরাকে পেয়েছে সে,, নয়তো দ্বীপের কপাল তো এতোটাও ভালো হওয়ার কথা নয়। যার জীবনে মায়া করা মানুষ গুলো অল্প সময় থেকে মায়া বাড়িয়ে পালিয়ে যায় তার জীবনে এমন এক মায়াবতীর আগমন এমনি এমনি ঘটার কথা নয়। দ্বীপ আগ্রহ ভরে তাকিয়ে রইলো অর্পনার একটু খানি প্রশংসার আশায় অথচ মেয়েটা তাকে হতাশ করে দিয়ে কাধে মাথা হেলিয়ে বললো — খিদে পেয়েছে,, আমি ঘুমাবো।
,,, খিদে পেয়েছে কথাটা কর্নকূহর হতেই দ্বীপের মস্তিষ্ক সজাগ হয়ে উঠলো। অর্পনা লাস্ট খাবার খেয়েছে গতকাল সারে আটটার দিকে আর এখন দুপুর পেরিয়ে বিকাল হতে চললো। এতোটা সময় ওকে না খায়িয়ে রেখেছে সে,, ভাবতেই নিজের উপর রাগ হলো,, এক হাতে চুল খামচে ধরলো পরপর তারাহুরো করে অর্পনাকে পাজাকোলা করে পানির গভীরে হাটা দিলো। বুক সমান পানিতে দাড়িয়ে অর্পনাকে শক্ত করে গলা জড়িয়ে ধরার আদেশ জানালো। অর্পনাও বাধ্য মেয়ের মতো শক্ত করে দ্বীপের গলা জড়িয়ে ধরলো। দ্বীপ এক পায়ে দাড়িয়ে অন্য পা কিছুটা উচু করে অর্পনাকে উড়ুর মধ্যে বসিয়ে দিলো। পরপর অর্পনার হাত, মুখ, চুল, টিশার্টে লেগে থাকা রক্ত গুলো পানি দিয়ে পরিষ্কার করতে করতে বললো — সরি সোনা!! আমরা ফ্রেশ হয়েই খাবার খাবো। কেমন?
৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৪৪ (২)
,,,, অর্পনা কিছু বললো না,, ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে রইলো যেনো তার ধ্যান জ্ঞান এই দুনিয়াতে নেই। কি যে হলো তার সাথে , সে নিজেও বুঝতে পারছেনা। কেমন যেনো নির্জীব নির্জীব লাগছে, প্রানটাই যেনো হাড়িয়ে গিয়েছে অচিরে। কি হলো তার? কেনো এমন হচ্ছে? সে কি বেচে নেই? এতোটা অনুভূতি হীন কেনো হয়ে গেলো অর্পনা?
