Home ৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি ৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৪৯

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৪৯

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৪৯
রুপান্জলি

সবসময় কথা শুনানো, বিরক্তি প্রকাশ করা মেয়েটা যদি হুট করেই শান্ত হয়ে যায়,, মুখ বুঝে সব মেনে নেয়,, কোনো প্রতিবাদ না করে , তখন বিষয়টা কেমন লাগে? অত্যন্ত অস্বস্তি দায়ক না? দ্বীপের খুব অস্বস্তি হচ্ছে,, অর্পনা সেই সকাল থেকে নির্জীব পদার্থের ন্যায় সব কাজ করে যাচ্ছে,, দ্বীপ ঘুম থেকে উঠার পর দাত ব্রাস করে দেওয়া, মুখ ধুয়ানো থেকে শুরু করে খাবার খাওয়ানো সবটাই চুপচাপ করে দিয়েছে। একটা কথাও বলেনি, এক টুকরো বিরক্তি ও প্রকাশ করেনি। আগে যখন দ্বীপ অসুস্থ ছিলো, তখন কাজ করতে করতে রাগারাগি করতো “” এটা করেছেন কেনো? ওটা করেছেন কেনো? ভালো হবেন না? সবসময় জ্বালান,, জ্বালানো বাধে আর কিছু পারেন না আপনি?”” এরকম কয়েক শতো অভিযোগ জানাতো কিন্তু আজ সম্পূর্ণ ব্যাতিক্রম। কথাই বলছেনা,,দ্বীপের বিষয়টা পছন্দ হচ্ছেনা। হুট করে এরকম চুপসে যাওয়ার কারন কি? অর্পনা কি ওর গুলি লাগার কারনে নিজেকে পরিবর্তন করতে চাচ্ছে? জোর করে সব মেনে নিতে চাচ্ছে নাকি অন্য কোনো কারন? দ্বীপের ভাবনার মাঝেই অর্পনা তোয়ালে ভিজিয়ে এনে দ্বীপের সামনে বসলো উদ্দেশ্য গা টা মুছিয়ে দেওয়া। বুকের ডান পাশ বেন্ডেজ করে রাখা বিদায় ডক্টর গোসল করতে নিষেধ করেছেন,, তাই এই বিকল্প ব্যাবস্থা নিয়েছে অর্পনা। তবে দ্বীপের গায়ে থাকা সেন্ডো গেঞ্জিটা খোলা নিয়েই তার যত আপত্তি,, কেমন সংকোচ কাজ করে। এই বিষয়গুলোতে অর্পনা একটু বেশি ই নাজুক। তাই হাত এগুতে নিয়েও এগুতে পারছে না। দ্বীপ গভীর মনোযোগ দিয়ে অর্পনাকে দেখছে,, ওর মনে চলা দোটানা টুকু ও আচ করতে পারলো। তাই শক্ত কন্ঠে বললো — বসে থাকার জন্য তোয়ালে এনে থাকলে দূরে গিয়ে বসো,, ভালো লাগছেনা।

,,, অর্পনার চোখ মুখ আরও অন্ধকার হয়ে এলো, পুরোটা মুখ জুড়ে ঘন মেঘের ন্যায় অভিমান। যেনো দ্বীপের এই টুকু ধমকেই বড্ড কষ্ট পেয়েছে রমনি। শান্ত, নিরব ভঙ্গিতে গেঞ্জিটা খুলে দিলো, কোনো বাক্য ব্যায় না করেই শরীর মুছে দিতে লাগলো। প্রথম দিকে দ্বীপ বিষয়টা বুঝতে না পারলেও যখন দেখলো অর্পনা ঠোঁট ফুলিয়ে রেখেছে তখন বিষয়টা আচ করে নিলো। দ্বীপ এই প্রথম অর্পনাকে অভিমান করতে দেখছে,, এর আগে কখনো অভিমান করেনি মেয়েটা। অভিমানী রুপে নারীদের অদ্ভুত রকমের মোহনীয় লাগলেও অর্পনার বেলায় বড্ড ব্যাতিক্রম,, ওকে এতোটাই মোহনীয় লাগছে,, যতটা মোহনীয় লাগা অন্যায়। দ্বীপ একটু ঝুকে এসে অর্পনার কোমরে হাত রাখলো সাথে সাথে অর্পনার শরীরটা দুলে উঠলো,, হাতে থাকা তোয়ালেটা ফসকে গিয়ে দ্বীপের কোলের উপর পরলো৷ ঠোঁট চেপে মৃধু হাসলো দ্বীপ,, কোমরে রাখা হাতটা আরেকটু গভীর তর করে বললো — কি হয়েছে তোমার? এতো শান্ত কেনো?

,,,, অর্পনা তারাহুরো করে তোয়ালে নিয়ে নিজের কাজে ব্যাস্ত হয়ে পরলো, দ্বীপের দিকে তাকানোর ও ফুসরত পাচ্ছে না যেনো। দ্বীপ অর্পনার জবাব না পেয়ে কোমরে রাখা হাতের চাপ বৃদ্ধি করলো, ফের কেপে উঠলো অর্পনা। দ্বীপের হুট হাট করা স্পর্শে বক্ষ পিন্জর ধুকপুক করে,, মনটা নরম হয়ে গলে যেতে ইচ্ছা করে,, মন চায় ভিতরে জমা সব কষ্ট, আক্ষেপ গুলো উগড়ে দিতে। গতোকাল দ্বীপের মা ওকে যেসব কথা বার্তা বলে অপমান করেছে সবটা জানিয়ে দিতে কিন্তু অর্পনা আর ঝামেলা চায়না। সংসার কিংবা মা ছেলের মাঝে ঝামেলা তৈরি করতে ইচ্ছা করছেনা। অর্পনা সেভাবে থেকেই মলিন কন্ঠে বললো– কিছু হয়নি।

,,, কিছু তো একটা হয়েছেই, নয়তো তুমি তো এতোটাও বাধ্য মেয়ে নও। কি হয়েছে বলো।
,,, বাধ্য মেয়ে নও,, এই কথাটাতেও অভিমান হলো রমনীর। সবাই ওকে বেয়াদব, অবাধ্য বলেই গন্য করে। ঠিকি আছে,, সে তো অবাধ্য, বেয়াদব ই। অর্পনা মুখটা আরও মলিন করে বললো– কি হবে? তেমন কিছুই নয়। শুধু একটা কথা মানতে শিখলাম,, আমার মতো মেয়ের অতো দাম দেখানো মানায়না। অপবিত্র তো,, এইযে ঠাই দিচ্ছেন এটাইতো অনেক। আমার কি আছে? কিছুই তো নেই,, সারাদিন খুজেও অহংকার করার মতো কিছু খুজে পাইনি। বিয়ে যেহেতু করেছি,, আপনিও দায়িত্ব নিচ্ছেন তাই অতো নাটক করে কি লাভ? আপনারা যেমন চান তেমনি হবে, আপনি চাইলে আজ থেকে স্বামীর অধীকার,,
,,, কথা শেষ করার ফুসরত পেলো না অর্পনা, তার আগেই ওর কোমরে টান পরলো, সহসা প্রতিবারের ন্যায় দ্বীপের বুকে হুমরি খেয়ে পরলো মেয়েটা,, স্থান হলো দ্বীপ শক্ত পোক্ত উরুর উপরে। । অপ্রস্তুত ভাবে পরায় আঘাত পাওয়া স্থানে কিছুটা ব্যাথা পেলো দ্বীপ। তবে ব্যাথাটাকে পাত্তা দিলোনা,, অর্পনার বলা অপবিত্র শব্দটা কর্নকূহরে বারংবার বাজতে লাগলো,, সাথে তির তির করে বাড়লো রাগের মাত্রা। শান্ত অথচ শাসনের কন্ঠ সুধালো — তাকা আমার দিকে।
,,, অর্পনা তাকালো না, দ্বীপের বুকে মুখ গুজে পরে রইলো,দ্বীপ ফের শক্ত কন্ঠে বললো — তাকাতে বললাম না? তর সাহস হয় কি করে নিজেকে অপবিত্র বলার? তাকা ভেলোরা, বেয়া*দবের বাচ্চা তাকাতে বললাম না?(দাতে দাত চেপে)

,,, অর্পনার হেলদোল দেখা গেলো না, মাথায় উঠা রাগটা আরও কয়েক কদম বাড়লো, দ্বীপ রাগ সামলাতে না পেরে অর্পনার মাথাটা চেপে ধরে উপরে তুললো, সহসা দুজন দুজনের মুখোমুখি হলো। অর্পনা চোখ বুঝে রেখেছে যেনে দ্বীপের চোখে তাকালেই তার শক্ত সন্জেম ভেঙে যাবে। পাপ্পার পরে এই লোকটাকেই তো আপন মানে সে,, যদি আবেগের বশে সব উলট পালট করে দেয়? অর্পনাকে চোখ বুঝে রাখতে দেখে ধমকে উঠলো দ্বীপ —
,,, তর জবানটা বন্ধ করে দেই? দিবো? তুই নিজেকে অপবিত্র বললি কেনো? শান্ত আছি ভালো লাগছেনা?
,,, ধমক শুনে চোখ উচিয়ে তাকালো অর্পনা,, সাথে সাথে চোখের কোনায় পানিরা ভির জমালো। দ্বীপের বুকটা কেমন করে উঠলো,, মেয়েটা খুব একটা সজ্ঞানে এরকম জল জল দৃষ্টিতে তাকায়না, অভিমান করেনা। আজ কালের মধ্যে এমন কি হলো যার জন্য ভেলোরার মনে এতো অভিমান? চোখে কান্নার ভির? দ্বীপ নিজের রাগকে সংবরন করতে চাইলো কিন্তু পারছেনা। অর্পনা ভাঙা কন্ঠে আওড়ালো –

,,, আমি তো অপবিত্রই, কি আছে আমার? অহংকার করার মতো কিছুই তো নেই।
,,, দ্বীপ অস্থির হলো,, তার মিশ্র অনুভূতি হচ্ছে। একবার রেগে যাচ্ছে তো আবার অর্পনার কাতরতায় বুকে যন্ত্রণা হচ্ছে। দ্বীপ রাগ টাগ দূরে সরিয়ে অর্পনার কপালে চুমু খেয়ে বললো — আমি আছি,, তর হাসবেন্ড আছে,, আমি থাকার পরেও তর কি লাগে ভেলোরা? তকে কেউ বলেনি? “” নারী শরীরের শ্রেষ্ট অলঙ্কার হচ্ছে স্বামী। যেই নারীর উপর তার স্বামী সন্তুষ্ট থাকে তার কোনো পাপ থাকেনা? সে সর্বদাই পবিত্র এবং সর্বোত্তম? “”
,,, অর্পনার চোখ থেকে দু ফোটা পানি গড়ালো,, মনে পরে গেলো দ্বীপের মায়ের বলা একটি কথা”” কেমন হবে তুমি? তোমার মা ই তো ন*ষ্টা, একজনে তার পোষায় না। তোমার একজনেতে হবে কি করে? আমার ছেলে মরলে আরও কয়েকটা জুটাতে পারবে। বেহলাজ মেয়ে ছেলে”” দ্বীপ তখনো উত্তরের আশায় অর্পনার দিকে তাকিয়ে। অর্পনা দুদিকে মাথা নাড়িয়ে বললো — কেউ বলেনি,, কেউ শিখায়নি আমায়।
,,, দ্বীপের চোখ মুখ ব্যাথায় ছেয়ে গেলো, বুকের বাম পাশে অস্থির লাগে,, এই মেয়েটার কাতর মুখ তাকে ১০০ টা ছুড়ির আঘাতের চেয়েও বেশি যন্ত্রণা দেয়। সে যদি পারতো তাহলে এক লহমায় অর্পনার অতীতের সবটা পরিবর্তন করে দিতো নয়তো ওর সৃতি থেকে সবকিছু ডিলেট করে দিতো। দ্বীপ অর্পনার চোখ থেকে গড়িয়ে পর পানিটুকু ঠোঁট দাবিয়ে শুষে নিলো। পুরো মুখশ্রীতে ছোট ছোট চুমু দিয়ে বললো —

,,,, আমি শিখাবো,, সব বলে দিবো আজ থেকে।
,,, অর্পনা ঢোক গিয়ে কান্না দমাতে চাইলো কিন্তু পারলো না,, দ্বীপের আদরে বহুদিনের জমা আবেগটুকু ঠেলে ঠুলে বেড়িয়ে এলো। নিজেকে সামলাতে না পেরে দ্বীপের উন্মুক্ত বুকে মুখ লুকিয়ে ডুকরে উঠলো। দ্বীপ অনুভব করলো তার শ্বশুরের মতো সেও অর্পনার একটা আস্থার জায়গা হয়ে উঠেছে। যেখানে অর্পনা নিজেকে ভেঙে চুরে প্রকাশ করতে শিখছে। দ্বীপের আফসোস হলো,, এই মুহুর্তে যদি তার অপর হাতটা বেন্ডেজে মোড়ানো না থাকতো তাহলে শ্বশুরকে একটা ছবি তুলে পাঠাতো। বুঝিয়ে দিতো, হাসবেন্ড ইজ হাসবেন্ড। যতোই অহংকার করুক না কেনো অর্পনাকে তার থেকে বেশি যত্ন কেউ করতে পারবেনা। যেদিন অর্পনা একেবারে স্বাভাবিক হয়ে যাবে,, কোনোকিছুতে ভয় পাবে না,, দূর্বল হবে না, সকল ট্রমা কাটিয়ে নরম সরম একটা রমনীতে পরিনত হবে।সেদিন ডিটেকটিভ শ্বশুরকে মন মতো একটা জবাব দিয়ে দিবে সে। আপাতত থাক। দ্বীপ অর্পনার পিঠে হাত বুলিয়ে শান্ত করতে চাইলো কিন্তু মেয়েটার শান্ত হওয়ার নাম নেই, আদর পেয়ে যেনো আরও বাড়াবারি করছে। অগত্যা কিছুটা বেখেয়ালি হলো দ্বীপ,, অবলীলায় অর্পনার টিশার্ট বেধ করে কোমরে হাত রাখলো সাথে সাথে কেপে উঠলো অর্পনা, কান্নাকাটি সব বন্ধ। দ্বীপ হাতের চাপ বৃদ্ধি করে মাদকিয় কন্ঠে সুধালো —

,,, তোমার আর আমার সম্পর্ক হালাল, পবিত্র। তুমি চাইলে আমার পবিত্র স্পর্শে তোমার মনে থাকা সকল শঙ্কা দূর করে দিতে পারি, দিবো?
,,,অর্পনা অবাক দৃষ্টিতে তাকালো,, এই লোকটা এমন কেনো? সে একটু কান্না কাটি করছে, কোথায় শান্তনা দিবে তা না উল্টো,, ধূর। অর্পনা জোর খাটিয়ে দ্বীপের কোল থেকে সরে যেতে চাইলো, দ্বীপ ছাড় দিলো। ছাড় পেয়ে অর্পনা দ্বীপের কোল থেকে নেমে পরতেই আবারও কোমরে টান লাগলো,, ফের দ্বীপের বুকে হুমরি খেয়ে পরলো মেয়েটা। দ্বীপের এই হুট হাট করা স্পর্শে অর্পনার বক্ষ পিন্জর ধুকপুক করে। এই লোকটার কাছে এলেই অর্পনার ভিতরটা অসার হয়ে আসে,, এই জন্যই তো দূরে গিয়ে শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো। কাছাকাছি থাকলে কখনোই এর থেকে দূরে থাকা সম্ভব না। সারাক্ষণ আজরাইলের মতো টানাটানি করে বেড়ায়। স্বাভাবিক ভাবে ডাকাডাকি করা তো শিখেইনি। অর্পনার মাঝে মধ্যে নিজের কোমরটা নিজের মনে হয়না,, এসব এই লোকের। যখন তখন পেচিয়ে ধরবেন,, গাড়িতে ছুড়ে মারবেন,, দেওয়ালে ধাক্কা মারবেন। সব তো উনার বাপের কেনা সম্পত্তি। অর্পনা রাগে নাক ফুলিয়ে দ্বীপের দিকে তাকালো,, মুখ দেখে বুঝার উপায় নেই একটু আগে মেয়েটা বাচ্চাদের মতো কেদেছে। দ্বীপ মুচকি হেসে অর্পনার রাগে ফুলে উঠা নাকে চুমু খেলো,, অর্পনা মুখ সরিয়ে অন্যদিকে তাকাতেই গালে চুমু খেলো। অর্পনা দাতে দাত পিষে বললো — আপনাকে না নিষেধ করেছি,, এসব নেশাখোরের ঠোঁট নিয়ে আমাকে স্পর্শ করবেন না।

,,, দ্বীপ অর্পনার কোমর থেকে হাত সরিয়ে ঘাড়ের ফাকে গলিয়ে মাথাটা শক্ত করে ধরে বললো — ঠোঁট স্পর্শ করতে নিষেধ করেছো, তোমাকে নয়। এখন একটু নিষেধ অমান্য করি? ১০ মিনিট পর থেকে নিষেধ মেনে চলবো।
,,, বলতে বলতে এগিয়ে এলো দ্বীপ,, দুজনার উত্তপ্ত নিশ্বাস একে অপরের মুখবিবরে উপচে পরছে,, উষ্ঠ যুগল ছুই ছুই। অর্পনা নিষেধ ঝারি করবে তার আগেই ভেষে এলো বিহানের অনিহা সূচক স্বর,,
,,, ছি ছি, দিন দুপুরে এসব কি?
,,, বিহানের কন্ঠ শুনে অর্পনা তাড়াহুরো করে সরে এলো,, ব্যাস্ত ভঙ্গিতে তোয়ালেতে হাত দিতেই দেখলো ওদের আলাপ চারিতায় ভেজা তোয়ালে শুকিয়ে গিয়েছে সাথে বিছানার অনেকটা জায়গা ভিজে গিয়েছে। বিহান তখনো দরজায় দাড়িয়ে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে। দ্বীপ পাশ থেকে ফোন নিয়ে তাতে মনোযোগ স্থাপন করলো। বিহানকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে অর্পনা ভ্রু কুচকে বললো — এভাবে মটকা মেরে দাঁড়িয়ে আছেন কেনো? হয় ভিতরে আসুন নয়তো ভাগুন।

— বিহান এগিয়ে এসে দাত কটমট করে বললো — অর্পনা তুমি তো ভিষণ হিংসুটে!!
— এখানে হিংসার কি পেলেন?
,,, হিংসাই তো, এটা চরম হিংসা। যেই দেখলে আমার আর আমার মেধা রানীর ভালোবাসার ফসল আসতে চলেছে অমনি আমার ভাইয়ের সাথে বীজ বপন করার কাজে লেগে পরেছো? ছিহ!! হিংসুটে মেয়ে।
,,, অর্পনা নাক মুখ কুচকে বিতৃষ্ণা নিয়ে বললো– আপনি কি জানেন? আপনার মুখ আর রাস্তার নিচ দিয়ে বয়ে চলা ডাস্টবিনের মধ্যে খুব একটা তফাৎ নেই?
,,, বিহান গর্ভের সহিত হাসলো,, শিরদাড়া টান টান করে বললো– আই নো!! এবং এটা নিয়ে আমি খুবি গর্ভবতী।
,,, অর্পনা বাকা হেসে বললো– আপনারা তবে জামাই বউ দুজনেই প্রেগন্যান্ট?
,,, বিহান মাথা ঝাকিয়ে শায় জানিয়ে বললল– হুম!! আমার বউ আমাদের বাচ্চা নিয়ে গর্ভবতী আর আমি আমার গর্ভ নিয়ে গর্ভবতী।
,,,অর্পনা আরও একবার মানতে বাধ্য হলো,, মির্জারা সত্যি নিকৃষ্ট,, আর তাদের মুখ ডাস্টবিনের ময়লার মতোই অপবিত্র। পরশীটা তো আরও বেশি,, ঐ মেয়ের সামনে বসে থাকলে যেকোনো মানুষ পাগল হয়ে পাগলা গারদে যেতে বাধ্য হবে। বিহানকে এখনো গর্ভের হাসি হাসতে দেখে অর্পনা তপ্ত শ্বাস ফেলে বললো — আমার মনে হচ্ছে,, আপনার মাথায় সমস্যা আছে।

,,, আমারও তাই মনে হয়।
,,, তাহলে চিকিৎসা করাচ্ছেন না কেনো?
,,,, সামনেই করাবো।
,,, অর্পনা বিহানকে রাগানোর জন্য কথাটা বলেছে কিন্তু নাহ!! বিহান এখনো বেশ চিল মুডেই জবাব দিলো। ওর জবাব শুনে চোখ ছোট ছোট করে তাকালো অর্পনা, বিহান থতমত খেয়ে বেশ সিরিয়াস কন্ঠে বললো — এই তো ঈদের পরেই যাবো ভাবছি। আসলে ঈদের আগে সব ডক্টররা ছুটিতে থাকে তো, তাই আরকি। ঈদটা মিটে যাক,, তোমায় সাথে করে নিয়ে যাবোনে,, ঠিক আছে?

,,, অর্পনা হার মানলো, এদের সাথে কথায় শুধু কথাই বাড়বে, কাজের কাজ হবেনা। তোয়ালে হাতে ওয়াসরুমে ছুটলো, আরও একবার দ্বীপের শরীর মুছে দিয়ে ময়লা জামা কাপড় ঝুড়িতে ফেলতে হবে। সাত দিনে লোকটা রাজকার্য করে এসেছেন না? পুরো এক বস্তা কাপর ইউজ করেছেন,, কখনো এই পান্জাবী কখনো ঐ পান্জাবী,, একদিনে আট দশবার মেবি ড্রেস ই চেন্জ করেছেন নয়তো এই কদিনে এতো ময়লা জামা কাপড় জমা হয়? অর্পনা যেতেই বিহান সিরিয়াস হলো,, দ্বীপ ই ওকে মেসেজ করে রুমে ডেকেছে,, শুধু অর্পনাকে স্বাভাবিক করার আশায়। আরশাদ জামান আর দ্বীপ ব্যাতিত অর্পনার মন ভালো করার প্রথম ঔষধ তার ফ্রেন্ড সারক্যল, দ্বিতীয় বিহান। বিহান আর অর্পনা কোনোভাবে যদি মহাকাশে পৌছে যায়,,কিংবা অতল সাগরে তলিয়েও যায়,, তখনো তারা তর্ক করবে। দ্বীপ ওদেরকে খুজে বের করার জন্য মরিয়া হয়ে যাবে আর ওরা তর্ক করবে। অর্পনা যতক্ষণ না বিরক্ত হয়ে হাড় মানবে ততোক্ষণ বিহান কথা চালিয়েই যাবে,, কোনো থামাথামি নেই। এভাবেই চলছে তাদের রীতি নীতি। দ্বীপ ভাবনা রেখে বিহানের দিকে তাকিয়ে শান্ত স্বরে বললো– এনি ইনফরমেশন?
বিহান মুখে গম্ভীর ভাব ফুটিয়ে তুলে ফোন ঘেটে প্রজেক্টের ড্যাটা বের করলো। দ্বীপের ফোনে ট্রান্সফার করে বললো — বসুন্ধরা আর বরিশালের প্রজেক্ট টা হাত ছাড়া হয়নি,, তারা আরও একবার মিট করে নতুন ভাবে ডিল সাইন করতে চায়। এদিকটা নিয়ে টেনশন করার প্রয়োজন নেই, আজ সন্ধায় আর ৯ তারিখে সকালে মিটিং ফিক্সড করেছি। গাজীপুরের প্রজেক্ট হেন্ডওভার ওয়ে গিয়েছে,, তর বউ নিষেধ করার সাথে সাথেই ওরা অন্য কোম্পানির সাথে চুক্তি করে নিয়েছে।

,,দ্বীপের মুখে কোনো ভাবান্তর দেখা গেল না। দ্বীপদের ব্যবসাটা টার্নকি কনস্ট্রাকশনের। তারা ক্লায়েন্টের চাহিদা অনুযায়ী বিল্ডিং তৈরি করে,,তবে শুধু নির্মাণই নয়,, বিল্ডিংয়ের ডিজাইন, অনুমোদন, নির্মাণকাজ, ইন্টেরিয়র, ফিনিশিং, সবকিছুই তারা নিজেরাই সম্পন্ন করে।প্রজেক্ট ডিল করার সময় তারা তাদের কাজের মান, দক্ষতা এবং আগের বিল্ডিংগুলোর ডিজাইন ক্লায়েন্টকে দেখায়। সেগুলো যদি গ্রাহকের পছন্দ হয়, তবেই ডিল ফাইনাল করা হয়। দ্বীপরা সাধারণত দুই বছর পরপর ৮–১০টি প্রজেক্ট ফাইনাল করে। আর প্রতিটি প্রজেক্টেই কমপক্ষে ১০–১২টি বিল্ডিংয়ের কাজ থাকে। এর চেয়ে ছোট প্রজেক্ট তাদের কোম্পানিতে গ্রহণ করা হয় না। দ্বীপদের কোম্পানির সাথে চাইলেই দেখা করা যায় না। আগে আবেদন করতে হয়। যাদের আবেদন তারা অনুমোদন করবে, কেবল তারাই তাদের সাথে মিট করার সুযোগ পায়। আর এখন পর্যন্ত যারা তাদের সাথে মিট করেছে, প্রায় সবাই ডিল ফাইনাল করতে বাধ্য হয়েছে,, একপ্রকার বাধ্যই বলা যায়। কারণ, তাদের কাজের মান নিয়ে আজ পর্যন্ত কেউ কোনো ত্রুটি খুঁজে বের করতে পারেনি।

কোনো খারাপ মন্তব্য নেই, কাজে ভুল নেই, হিসাব নিখুঁত। মাত্র দুই বছরের মধ্যেই তারা বাড়ির মালিকের হাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত ভবন সসম্মানে তুলে দিতে পারে। এটা নিয়েও তাদের বেশ সুনাম রয়েছে। এছাড়াও তাদের তেল, ডিটারজেন্ট ও সাবানের ফ্যাক্টরি রয়েছে, যদিও সেগুলো তাদের মূল ব্যবসার জন্য কেবল অপশনাল অংশ। দ্বীপ সকল ড্যাটা চেক করে বললো — কক্সবাজারের এপ্লিকেশন টা এপ্রুভ করে মিটিং ফিক্সড কর,,
,,, বিহান তপ্ত শ্বাস ফেললো,, দ্বীপের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ফেলে বললো — তুই এই অবস্থায় কক্সবাজারে গিয়ে মিট করবি? মাথা খারাপ হয়েছে তর? আগে সুস্থ হো।
,,, তখনি ওয়াসরুম থেকে বের হলো অর্পনা,, দ্বীপ সেদিকে তাকিয়ে আবার বিহানের দিকে নজর তাক করে কিছুটা কাতর স্বরে বললো — সমস্যা নেই, আমার বউ যেহেতু তদের ক্ষতি করেছে সেহেতু এই অসুস্থ শরীর নিয়েই সেটা ফুলফিল করে দিবো,, চিন্তা করিস না।
,,, দ্বীপের মুখে এহেন কথা শুনে ভ্রু গুটালো বিহান, তৎক্ষনাৎ ফোনে একটা মেসেজ আসলো, দ্বীপের মেসেজ। বিহান সেটা পরে রাগী রাগী কন্ঠে বললো — তর বউ তো শুধু নষ্ট করতেই জানে,, গতো প্রজেক্টের ফাইল গুলো ও নষ্ট করে দিলো। মার্চের মাঝামাঝি সময়ে সেটা সাবমিট করতে হবে,, রেডি করা ফাইল গুলো নষ্ট করার খুব প্রয়োজন ছিলো?

,,, ওদের কথোপকথনের নাঝে ভ্রু কুচকে এগিয়ে এলো অর্পনা, বিহানের সামনাসামনি দাড়িয়ে বললো — কি হয়েছে? আমার নামে কি বলছেন আপনি? যা বলার আমার দিকে তাকিয়ে বলুন, আগে পিছে কথা বলা আমার পছন্দ না।
,,,, বিহান অর্পনার দিকে তাকিয়ে কাটকাট গলায় বললো — ঠিকি তো বলেছি,, তুমি শুধু নষ্টই করতে জানো,, কখনো কোনোকিছু গড়েছো? খালি জেদ দোখানো,, শুনো মেয়ে। নষ্ট তো একটা নাদান বাচ্চাও করতে পারে কিন্তু গড়ে তোলা যার তার পক্ষে সম্ভব না।
,,, আপনি কি আমায় যা তা বলে অপমান করছেন?
,,, করছি!!
,,, আপনি বলতে চাচ্ছেন আমার দ্বারা কিছু গড়ে তোলা পসিবল না?
,,, বিহান দুদিকে মাথা নাড়িয়ে বললো — একদমি না,, তুমি জানো একটা প্রোজেক্ট পেতে কতোটা স্টাডি করতে হয়? নিখুঁত প্রেজেন্টেশন রেডি করতে হয়,, কয়েকজন ক্লায়েন্টের সামনে নিখুত ভাবে সেই প্রেজেন্টেশন প্রেজেন্ট করতে হয়। নানান প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়, প্রচুর কনফিডেন্সের প্রয়োজন। এসব তোমার দ্বারা সম্ভব?
,,, অর্পনার রাগ হলো,, নিজের মাঝে আত্মবিশ্বাস ফুটিয়ে বললো — আপনি আমার কনফিডেন্স লেভেল সম্পর্কে কতটুকু ধারনা রাখেন? আমি পরিসংখ্যান বিভাগের স্টুডেন্ট ব্রো,, গ্রুপ, প্রজেক্ট, সেমিনারে যথেষ্ট প্রেজেন্টেশন দিয়েছি। সামনে থিসিসের ও প্রেজেন্টেশন দিতে হবে,, এগুলো কমন, হয়েই থাকে।( খোচা দিতে) এমনকি আপনাদের ১৪ গুষ্টিকেও না সেদিন সংবর্ধনা জানালাম? ভুলে গেলেন?

,,, বিহান রাগে ফেটে পরার ভান করে বললো– এতো পটর পটর না করে কক্স বাজারের মিটিং টা তুমি হেন্ডেল করো।
,,, অর্পনা ভ্রু গুটওয়ে বললো– চ্যালেন্জ করলেন?
,,,, বিহান মুখ বাকিয়ে বললো– আমি যার তার সাথে চ্যালেন্জ নেই না। তাও নিলাম,, বলো কিভাবে ডিল করতে চাও।
,,, অর্পনা কিছুক্ষন ভেবে বললো — আমি জিতলে ১০ দিনের জন্য আপনার বউ আমার আর আপনি জিতলে সারাজীবনের জন্য আমার জামাই নিয়ে নিবেন, এটা আমার প্রয়োজন নেই।
,,,, অর্পনার কথায় রাগি দৃষ্টিতে তাকালো দ্বীপ, অর্পনা মুখ ফিরিয়ে নিলো। বিহান অর্পনার মুখের দিকে তাকিয়ে নাক সিটকে বললো — ছিহ!! শেষ মেস তুমি মেয়েদের প্রতি!!
,,, বিহানপর কথার মানে বুঝতেই তিরবিরিয়ে উঠলো অর্পনা, হাতে থাকা ভেজা তোয়ালে টা বিহানের মুখে ছুড়ে মেরে চিৎকার করে বললো+– বিহানের বাচ্চা!!

,,, শুনিপুন হস্তে পায়ে আলতা পরলো পরশী, মেঝো ভাবি সবসময় বলে তার পায়ে আলতা নাকি খুব মানায়। দেখলে শুধু দেখতেই মন চায়। এই আলতা পরা পা দেখেও কি থমকে যাবেন না উনি? যাবে নিশ্চয়ই? হুম, যাবেই। পরশী আলতার শিশিটা রেখে হেলতে দুলতে ড্রেসিং টেবিলের কাছে গেলো,, চাবি দিয়ে ড্রয়ার খুলে সেখানে খুব যত্নে রাখা স্বর্নের পায়েল গুলো থেকে একটা বের করো নিলো। তার এমনিতে পায়েল পরা খুব পছন্দ কিন্তু পায়ে দিলেই হাড়িয়ে যায়, তারপর মায়ের ভয়ে পুরো বাড়ি তল্যাসি দিয়ে খুজে বের করতে হয়। খুজে না পেলে কেদে কেটে নাকের পানি চোখের পানি একাকার ও করতে হয়। তাই ইচ্ছা না থাকা সত্তেও পায়েল গুলোকে ড্রয়ার বন্ধ করে রাখতে হয়। পরশী পায়েলটা নিয়ে বিছানায় বসলো। ফর্সা আলতা রঙা পায়ে স্বর্নের পায়েল ছোয়াতেই মনটা ময়ুরের পেখম তোলার ন্যায় দুলে উঠলো। আলতা আর স্বর্নের পায়েলের জন্য তার পা টা সুন্দর লাগছে নাকি তার পায়ে এরা জায়গা পেয়েছে বলে এদের সুন্দর লাগছে? ঠায়োর করতে পারলো না মেয়েটা। পাশে রাখা ফোনটা নিয়ে ফটাফট পায়ের ছবি তুলে নিলো। তারপর সবগুলো ছবি থেকে খুজে খুজে যেই ছবিটা সবচেয়ে সুন্দর এসেছে সেই ছবিটা পল্লবের ম্যাসেন্জারে সেন্ড করে দিলো। গতো কয়েকদিনে কাজে অকাজে অনেক মেসেজ পাঠিয়েছে পরশী তবে পল্লব সেসবে কোনো রেসপন্স করেনি। যতোটুকু কাজ ছিলো সেসব করে তাকে জানানোর প্রয়োজন মনে করেনি। উনি সোজা ভাবিকেই কল করে কাজ শেষ হওয়ার কথা জানিয়েছে। সে নিয়ে বড্ড হতাশ পরশী। ছবি পাঠানোর পরপর একটা মেসেজ পাঠালো —

,,, আমার আলতা রাঙা পায়ের সৌন্দর্যে আপনার চোখ ঝলসে যাক,, প্রেমে পরে যান আমার। আমার মতো নিশ্পাপ মেয়ের প্রেমে পরায় অনেক ফায়দা আছে,, জানেন? আমি প্রচুর কথা বলতে পারি,, আপনাকে সারাদিন কথা শুনিয়ে শুনিয়ে পেট ভরিয়ে ফেলবো। তারপর আপনাকে আর খাবার খেতে হবেনা। এতে করে আপনার অনেক টাকাও বেচে যাবে। ভালো বুদ্ধি না? দেখলেন,, ফ্রীতে একটা বুদ্ধিমতি বউ ও পেয়ে যাবেন। এরকম ডবল ধামাকার অফার কিন্তু সিম কোম্পানি ও দেয়না। তবে আমি দেই,, এরকম আরও ভালো ভালো অফার পেতে হলে,, ছবিটি দেখে একটা সুন্দর কমেন্ট পাঠান ” পরশীয়া মির্জা “” ডড কমে।
,,,, মেসেজটি সেন্ড করে বিছানায় হাত পা ছড়িয়ে শুয়ে পরলো পরশী। এতো এতো বেনিফিট আর অফার দেওয়ার পরেও যদি ঐ লোক তাকে রিপ্লাই না দেয় তাহলে পরশী আরও অফার বাড়িয়ে দিবে। একদিন না একদিন ঠিকি রিপ্লাই দিবে, দিবেনা?

,,,, ছাদের কার্নিশ ঘেসে দাড়িয়ে আছে পল্লব, হাতে সিগারেট, দৃষ্টি আকাশে উদ্বয়মান চাঁদে। এই চাঁদ টা তার ভিষণ প্রিয়,, প্রতিদিন দেখে সে। এতো যে দেখে তাও মন ভরে না,, চাঁদের সাথে টুক টাক কথাও বলে, হাজারটা প্রশ্ন ও ছুড়ে দেয় তবে ওপাশ থেকে উত্তর আসে না। হুট করেই পাশে এসে দাড়ালো কেউ,, পল্লব তাড়াহুড়ো করে সিগারেট লুকিয়ে পাশে তাকাতেই বড়ো বোক অনাহিতাকে দেখে আবারও ঠোঁটে সিগারেট গুজলো। অনাহিতা পল্লবের দিকে ফোন এগিয়ে দিয়ে বললো — জায়িন, তুই প্রেম করছিস?
,,, পল্লব ভ্রু কুচকে অনাহিতার দিকে তাকিয়ে ফ্যাসফ্যাসে গলায় বললো — সব জেনেও নাটক করলে ধাক্কা মেরে ছাঁদ থেকে ফেলে দিবো।
,,, অনাহিতা মুখ বাকিয়ে মোবাইলের স্ক্রিনে ইশারা করে বললো — তাহলে এই আলতা রঙা পায়ের মালিক টা কে?
,,,পল্লব ফোনের দিকে তাকালো,, পরশীয়া মির্জা আইডির নাম দেখে বললো — এটা তো অর্পনার ননদ, মেবি আমাকে পছন্দ করে। তাই,,
,,, অনাহিতা পল্লবের কাছে এগিয়ে গেলো, কনুই দিয়ে পল্লবের বাহুতে গুতো মেরে বললো — তাই তোমাকে আলতা পায়ের ছবি পাঠিয়েছে? ঠিক তো? বাচ্চা মনে করো আমাকে? বুঝি বুঝি, সব বুঝি। এখন তো লুকাবাই।
,,, পল্লব বিরক্তিকর চাহনেতে তাকিয়ে বললো — যা তো আপু,, মন দিয়ে চাঁদ দেখতে দে,,সকাল হলেই তো হাড়িয়ে যাবে।

,,,অনাহিতা এবার সিরিয়াস হলো, পল্লবের ফোনটা রেলিঙের উপর রেখে ওর মুখের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলো — কি পাগলামি করছিস জায়িন? ও তর না।
,,, আমি তো বলিনি আমার হতে।
,,, কেনো বলিস নি? বললে এতোটা কষ্ট পেতে হতো না।
,,, পল্লব সিগারেটে টান দিয়ে ধুয়া ছেড়ে বললো — মাঝে মাঝে বিষ ও তৃপ্তি দায়ক হয়।
,,, অনাহিতা বিরক্ত হলো, বললো– এভাবে বাচা যায়? সারাজীবন এমন ভাবেই কাটাবি? কষ্ট হবে না?
,,, পল্লব অনাহিতার দিকে তাকিয়ে নরম কন্ঠে বললো — আমরা তখনি কষ্ট পাই, যখন আমরা কোনোকিছু চাওয়ার পরেও পাই না, কিংবা পাওয়ার পরে হাড়িয়ে ফেলি। কিন্তু আমি তো তাকে চাইনি,, সে আমার নয় তাই তাকে হাড়ানোর কোনো প্রশ্নই উঠেনা। সুতরাং আমার কোনো কষ্ট নেই। আমি শুধু আকাশ হয়ে তাকে পাহারা দিতে চাই,, তার যখন ইচ্ছা হবে দিন পেরিয়ে, মেঘ কাটিয়ে চাঁদের মতো একটু খানি উকি দিবে,, তারপর মন মাফিক সময় কাটিয়ে নিজের গন্তব্যে ফিরে যাবে। চাঁদকে বন্দি করার মতো খাচা আমার কাছে নেই অনাপু,, তাই সে মুক্ত।
,,, অনাহিতার রাগ হলো,, পল্লবের পিঠে ধুপ ধাপ কিল ঘুষি মেরে নিচের দিকে যেতে যেতে বললো — মর তুই, হাদারাম।

,,, বোনের কিল ঘুসি খেয়ে তেড়ে গিয়ে অনাহিতার পায়ে লাত্থি মারলো পল্লব। অনাহিতা লাত্থি খেয়ে ম্যা ম্যা করতে নিচে নেমে গেলো, নির্ঘাৎ নালিশ করবে? তারপর বায়না ধরবে কোলে উঠার জন্য,, অজুহাত স্বরুপ বলবে,, “” দাড়িয়ে লাত্থি দিলে কোলে নিতে হয় নয়তো জ্বর আসে”” অগত্যা নিরুপায় হয়ে এই দামড়ি মহিলাকে কোলে নিতে হবে। কে বলবে এটা পল্লবের থেকেও দুই বছরের বড়ো? এক বাচ্চার মা? দুলাভাই যে এটাকে কিভাবে সামলায়, আল্লাহ মালুম। পল্লব মুচকি হেসে চাঁদের দিকে তাকালো, সিগারেটে লম্বা টান বসিয়ে শিষ বাজালো —

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৪৮ (২)

,,, তুমি অন্য গ্রহের চাঁদ,,
আমার একলা থাকার ছাদ,,
তোমার ফেরার সম্ভাবনা,,
অমাবশ্যার জোছনা।
আমার গোপন সবি রয়,
তোমার আপন মনে হয়
আমি ভোরের ঝড়া পাতা,,
আমার মরার কিসের ভয়?

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৫০

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here