Home ৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি ৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৫৩ (৪)

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৫৩ (৪)

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৫৩ (৪)
রুপান্জলি

,,, তাহরিফ খান আর মাহিন মির্জার রাজনৈতিক পথচলাটা একসাথেই শুরু হয়েছিলো। যেই বছর মাহিন মির্জা বড়ো ভাইয়ের পরিবর্তে প্রথমবারের মতো এমপি পদে দাড়ান সেই বছরেই নিরপেক্ষ ভাবে প্রথমবারের মতো তাহরিফ খান এমপি পদে দাড়িয়েছিলেন। তাহরিফ এখানকার স্থানীয় নয়,, বাড়ি নারায়ণগঞ্জ চাসারা। তবে রমনায় বহুবছর যাবত বসবাস করার দরুন নিরপেক্ষ ভাবে দাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলো। প্রথম বছর নির্বাচনে তার কোনো হস্তক্ষেপ পাওয়া যায়নি,, তখন সমিরন মন্ডল আর মাহিন মির্জার মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছিলো। দ্বীপ -বিহান তখন কিশোর বয়সি হলেও বিহানকে একপ্রকার জোর জবরদস্তি করেই মিছিল, মিটিং এ নিয়ে যেতো দ্বীপ। ক্লাবেও যেতো দুদিন পরপর,, তখন মাঝেমধ্যেই তাহরিফ খানকে ক্লাবে দেখতে পেতো তারা। মাহিন মির্জাকে খুব সামজে চলতো তাহরিফ, মানতো, যা বলতো তাই করতো,, মাহিন মির্জাও মানুষ হিসেবে তখন সৎ ছিলেন তাই এমপি, মন্ত্রীর সাথে দেখা করতে গেলে তাহরিফ খানকে সাথে নিয়ে যেতো।তাহরিফ খান একপ্রকার রাজনীতিতে পরিচিত হয়েছে মাহিদ মির্জার জন্য। তাই দ্বীপ কখনোই তাহরিফকে তেমন আমলে নেয়নি,, যারা পা চেটে চলে তাদের কুকুর বলে।

পশু বেশে থাকা কুকুর দ্বীপের ভিষন প্রিয় কারন এদের লালা ব্যাতিত অন্য কোথাও হারাম থাকে না কিন্তু মানুষ বেশে থাকা কুকুর গুলোর শরীরের প্রতিটি শিরায় শিরায় থাকে বেইমানি আর পাপাচার। তবে,, একদিন ভুলক্রমেই দ্বীপের একজন লোক তাহরিফকে সমিরন মন্ডলের বাড়িতে ঢুকতে দেখে,, সাথে সাথে দ্বীপকে জানাতেই দ্বীপ টুকটাক নজরে রাখতে বলে। তারপর যেদিন জানতে পারলো তাহরিফ তাদের সাথে থেকে তাদের ইনফরমেশন নিয়ে সমিরন মন্ডলের কাছে প্রকাশ করছে সেদিনি ক্লাব থেকে মেরে বের করে দেয় দ্বীপ। তখন থেকেই তাদের প্রকাশ্যে শত্রুতা। তবে এতো বছরে তাহরিফ কখনোই তাদের বিরুদ্ধে সামনাসামনি কোনো শত্রুতা করেনি। যা করেছে আড়াল থেকে তাও অন্যের মাধ্যমে। আগে তো সমিরন মন্ডল আর মাহিন মির্জার জন্য রাজনীতিতে তেমন একটা সাইড পেতো না। এই বছর সমিরন মারা যাওয়া যার ফলে তাহরিফ সরাসরি মাহিন মির্জার প্রতিদন্দি হওয়ার সুযোগ পেয়েছে,,

নির্বাচন ও চলেছিলো জোরদার ভাবে,, আশায় ছিলো জিতবে কিন্তু যেখানে জোহান-বিহান রয়েছে,, সেখানে মাহিন মির্জার জয় নিশ্চিত। নির্বাচনের সময় মাহিন মির্জা আর তাহরিফ খানের সাথে সাথে আরও যেই কয়েকজন দাঁড়িয়েছিলো তাহরিফ চেয়েছিলো তাদের ভোট কিনে নিয়ে জিতে যেতে কিন্তু দ্বীপ আর বিহান কৌশলে অনেক আগেই টাকা খায়িয়ে তাদের বসিয়ে দিয়েছিলো। সেই নিয়ে নির্বাচনের আগের দিন দ্বীপের লোক আর তাহরিফের লোকেদের মাঝে বেশ ঝামেলা হয়েছিলো। দ্বীপ আশঙ্কা করেছিলো নির্বাচনের দিন তাহরিফ লোক দিয়ে তাকে কিংবা বিহানকে অ্যাটাক করাতে পারে,, মার্ডার করার ও আশঙ্কা ছিলো। তাই দ্বীপ নিজে থেকেই লোক ঠিক করে রেখেছিলো যেনো ভোটাভোটি শুরু হওয়ার কিছু সময় পরে সে যখন কেন্দ্রে যাবে তখন কাধে, বাহুতে, বুকের অনেকটা উপরে গুলি করে। এই স্থান গুলোতে গুলি লাগলে মরার আশঙ্কা খুব কম থাকে। এতে করে আগে থেকেই মিডিয়া তোলপাড় হয়ে যাবে।

ভোট কেন্দ্রে পুলিশের সংখ্যা বাড়বে,, ভোট চুরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবেনা সেই সাথে তারা দুই ভাই বড়ো কোনো ষড়যন্ত্রের হাত থেকে বেচে যাবে। এক্ষেত্রে দ্বীপের আরও একটা লাভ হয়েছিলো। ঐ সময়টাতে অর্পনা তো তাকে দূরে রাখতে চেয়েছিলো,, গুলি খাওয়ার সুযোগ নিয়ে একদম অর্পনার বুকে মুখ গুজার সুযোগ পেয়েছিলো সে,, অর্পনা নিজ থেকে ওর কাছে এসেছিলে। এজন্যই লোকমুখে শুনা যায়,, দ্বীপ মির্জার মতো কূটনৈতিক চাল কেউ চালতে পারেনা। তাকে এক কথায় ভালো মানের রাজনীতি বীদ বলা চলে।
[ আদ্রিয়ানের সিম ট্র্যাক করার পর তার কল লিস্টে তাহরিফ খানের নম্বর পাওয়া যায়,, সন্দেহ করার জন্য এটুকুই যথেষ্ট ছিলো তারপরেও বিহান সেসব কল রেকর্ড চেক করে এবং কনফার্ম হয় সবকিছুর পিছনে তাহরিফ খান ই জড়িত। তাদের কনভারসেশনে এটুকু বুঝা গিয়েছিলো যে আদ্রিয়ানকে তাহরিফ খান হেল্প করেছে কিন্তু বর্তমানে আদ্রিয়ান অর্পনাকে নিয়ে কোথায় আছে তার সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অগত্যা তাহরিফ খানের ফোনের বর্তমান লোকেশন বের করা হয়, তার লোকেশন অনুযায়ি তখন সে নিষিদ্ধ পল্লিতে ছিলো। দ্বীপ প্রথম বারের মতো নিরুপায় হয়ে দীর্ঘ দের ঘন্টা জার্নি করে দৌলদিয়ার। নিষিদ্ধ পল্লিতে পা রাখে। ওখানে গিয়ে জানতে পারে অর্পনা এখনো চট্টগ্রামেই,, খাগড়াছড়ি পাহাড়ে অবস্থান করছে ]
( আমি ভেবেছিলাম তোমরা বুঝবে, হয়তো অনেকে বুঝেছো আবার অনেকে বুঝোনি তাই এটুকুর ব্যাখ্যা দিয়ে দিলাম)

খাগড়াছড়ি চট্টগ্রামের অন্যতম সুন্দর এবং রক্ষনশীল একটি প্লেইস। এখানে যেমন পর্যটকদের দর্শন করার মতো মনোরম স্থান রয়েছে তেমনি রয়েছে কিছু নিষিদ্ধ স্থান যেখানে অনুমতি ব্যাতিত প্রবেশ করা নিষেধ। এরুপ স্থানে এতোটাই ঘন এবং বিশাল গাছ পালা রয়েছে যে দিনের বেলায় পুরো জঙ্গলটা অন্ধকারে মুরিয়ে থাকে। সেই ঘন জঙ্গলের মাথায় সরি বেধে ১১ টা হেলিকপ্টার ঘুরছে। হেলিকপ্টারের পাখার ঘরঘর শব্দে কেপে উঠছে পুরো বন সাথে দুতলার বাংলোতে অবস্থান করা সকল গার্ড। ধীরে ধীরে ১১ টি হেলিকপ্টার নিচে নেমে এলো। পাখার তীব্র বাতাসে চারদিকের গাছপালা দুলে উঠে ধুলোবালিতে ছেয়ে যাচ্ছে, শুকনো পাতাগুলো উড়ে যাচ্ছে এদিক ওদিক। প্রথম হেলিকপ্টারের দরজা খোলা, সেটা মাটি না ছুতেই লাফিয়ে নিচে নামলো দ্বীপ, তার পরনে বুলেট প্রুভ জ্যাকেট,, মুখে কালো কাপর বাধা, মাথায় ব্লাক হ্যাড, হাতে ট্রিপল বার্রেল গান যার তিনটি নল হতেই বুলেট প্রবাহিত হয়। হেলিকপ্টার মাটি ছুতেই বিহান ও এসে দ্বীপের পাশাপাশি দাড়ালো। একে একে গার্ডরা নেমে এসে যার যার পজিশন নিয়ে নিলো,, একদম লাস্ট হেলিকপ্টার হতে নেমে এলো অরুন আর পল্লব ,,

তাদেরকে শতো বলেও বাড়ি পাঠানো যায়নি,, জেদ করছিলো বিদায় বিহান দায়িত্ব নিয়ে ওদের নিয়ে এসেছে। দ্বীপ-বিহান জহুরি নজরে পুরো বাঙলোটা পরখ করে নিলো। দুতলার বাঙলোটি পরিত্যাক্ত,, জায়গাটা ঘন জঙ্গলের ভিতরে হওয়ায় আমানিশার ঘনত্বে ছেয়ে আছে,, অন্ধকারের গভীরতায় কোনোকিছুই ঠাওর করার যো নেই। চারদিকে শীতল বাতাশ বইছে যা কানের পাশ দিয়ে শো শো শব্দ করে প্রবাহিত হচ্ছে,, দূর থেকে অনেকগুলো খেক শেয়ালের উচ্চ ধ্বনি ধেয়ে আসছে হয়তো হেলিকপ্টারের শব্দে তারা ভয় পেয়েছে কিংবা দ্বীপদেরকে শত্রুপক্ষ ভেবে হুমকি বার্তা প্রধান করছে। দ্বীপ গার্ডদের দিকে ইশারা করতেই তাদের হাতে বেধে রাখা কুকুরগুলোকে উন্মুক্ত করে দিলো। এগুলো স্রিফানের গ্যাং,, দ্বীপ বহু আগে থেকেই কুকুর পালন করে,, এদেরকে তার খুব ভালো লাগে। এমনকি কুকুর পালন এবং ট্রেনিংয়ের জন্য ও তার নির্দিষ্ট ফার্ম রয়েছে,, এদেরকে সেখানে হিংস্র, শিকারী এবং বিশ্বস্ত করে তোলা হয়। এরা মানুষের ঘ্রান শুকে তাকে শতো মাইল দূর থেকে খুজে বের করা থেকে শুরু করে, মৃত লাসের মাংস খেয়ে তাকে নিশ্চিন্হ করা পর্যন্ত সবকিছুতেই পারদর্শী। এদের মধ্যে সবচেয়ে বিশ্বস্ত হচ্ছে স্রিফান,, সাত বছর আগে স্রিফানের বাবা আসিয়ান ছিলো দ্বীপের সবচেয়ে বিশ্বস্ত,, এখন যেমন স্রিফান সর্বসময় দ্বীপকে সান্নিধ্যে দেয়, এই কাজটা আগে আসিয়ান করতো। দ্বীপ পাগল হওয়ার চার বছরের মাথায় স্রিফানের জন্ম হয়,, তারপর এক বছরের মাথায় স্রিফানের বাবা মারা যায়। দ্বীপ সুস্থ হওয়ার পর আর আসিয়ানকে পায়নি তবে আসিয়ানের বাচ্চা স্রিফানকে পেয়েছিলো। সেও তার বাবার মতো বিশ্বস্ত হয়েছে,, স্রিফান অর্পনাকে পারমানেন্ট মাম্মা নামে চিনে।দ্বীপ ওকে অর্পনার গায়ের ঘ্রানে এমন ভাবে অভ্যস্ত করেছে যে অর্পনাকে খুজতে তার নতুন করে অর্পনার ব্যাবহৃত জিনিস পত্রের ঘ্রাণ শুকতে হয় না। অর্পনা যেমন দ্বীপের মন মস্তিষ্কের অনেকাংশই দখল করে রেখেছে তেমনি স্রিফানের বেলায় ও তাই। স্রিফান দ্বীপের পরে সবচেয়ে বেশি তার পারমানেন্ট মাম্মাকে চিনে,, অথচ অর্পনা তাকে একদিন ও কোলে নেয়নি, আদর করেনি, যতোটুকু দেখেছে শুধু ভয় পেয়েছে,, ভয় পেয়ে দূরে সরে থেকেছে।

,,, কুকুরগুলোকে ছেড়ে দেওয়া হলে সবগুলো কুকুর এসে দ্বীপের পাশাপাশি দাড়ালো,, স্রিফান দৌড়ে এসে দ্বীপের পায়ের কাছে বসে পরলো,, তার গায়েও বুলেট প্রুভ জ্যাকেট। দ্বীপ ঝুকে হাত বাড়াতেই লাফিয়ে কোলে উঠে পরলো স্রিফান, তৎক্ষনাৎ দ্বীপের দিকে একটা বুলেট ধেয়ে এলো, উু উু শব্দ তুলে চেচিয়ে উঠলো স্রিফান,, সাথে সাথে স্থান হতে সরে গেলো দ্বীপ। যেদিক থেকে গুলি এসেছে সেদিক বরাবর অনবরত স্যুট করতে করতে এগিয়ে গেলো বিহান। অন্ধকারে ঢিল ছুড়ার ন্যায় স্যুট করলেও ক্ষনে ক্ষনে কয়েকজনের আহাজারির শব্দ শুনা যাচ্ছে। ওপাশ থেকেও সমান তালে গুলি করা হচ্ছে,, গার্ডরা থেমে থাকলো না, তারাও অন্ধকারে বুলেট প্রবাহিত করতে থাকলো। এই গুলাগুলির মাঝেই ছুটে ভিতরে চলে গেলো স্রিফান। সারি বেধে দাড়িয়ে থাকা কুকুর গুলোর গলায় থাকা সিগন্যাল বাটনে সিগন্যালের টিউন বাজতেই তারাও ভিতরে ছুটে গেলো।

বাংলোটি ভিষন বড়ো এবং প্যাচালো,, এক রুম থেকে অন্য রুমে যাওয়ার সুযোগ নেই, মাঝে অনেক গলি পরে। কখনো গলিটা গোলকের ন্যায় ঘুরে এসে সেই একই জায়গায় সমাপ্ত হয়। দ্বীপ আশংকা করে নিলো বাংলোটা যে বানিয়েছে সে নির্ঘাত কোনো পাপাচারের জন্যই এটা বানিয়েছে। তবে এটা তাহরিফের হাতে কিভাবে পৌছালো তা বুঝে আসছে না তার্ বিহান আর আদ্রিয়ানের বরাদ্দকৃত গার্ডদের মাঝে তুমুল হাড়ে লড়াই চলছে। কুকুরগুলো ছুটে গিয়ে যেখানে অচেনা মানুষের গন্ধ পাচ্ছে সেখানেই তাকে আক্রমন করে মাংস খু*বলে নিচ্ছে। আদ্রিয়ানের বরাদ্দকৃত গার্ডরা কুকুর গুলোকে উদ্দেশ্য করে গুলি ছু্রেও কোনো ভালো ফলাফল পেলো না কারন তাদের গায়ে বুলেট প্রুভ জ্যাকেট জড়ানো। সেই সাথে মানুষ আর কুকুরের মাঝে বেশ ফারাক রয়েছে,, কুকুর রাতের অন্ধকারেও দেখতে পায় কিন্তু মানুষ তাতে অপারগ। এ ক্ষেত্রে কুকুরের কামরে বহু গার্ডদের প্রান যাচ্ছে। দ্বীপের বরাদ্বকৃত গার্ডরাও ইতিমধ্যে পুরো বাঙলোতে ছড়িয়ে পরেছে। গেইট থেকে বাংলোর দরজা পর্যন্ত একেক জায়গায় একটার পর একটা লাশ আছড়ে পরছে,, সেই লাস গুলোকেও ছেড়ে দিচ্ছেনা দ্বীপের ট্রেনিং প্রাপ্ত কুকুর গুলো। দ্বীপ স্রিফানের গলায় ট্র্যাকার সেট করে দিয়েছে। স্রিফান এখন পুরো বাঙলো তন্ন তন্ন করে হলেও তার মাম্মাকে খুজে বের করবে। দ্বীপের কানে ইয়্যার পড, ওপাশে কলে থাকা ব্যাক্তি স্রিফানের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে দ্বীপকে ইনফর্ম করছে।

দ্বীপ আদ্রিয়ানের গার্ডদের প্রহার করতে করতে ইনফরমেশন অনুযায়ী এগিয়ে যাচ্ছে। বাঙলোর একদম ভিতরে ঢুকতেই সামনে চারটে দরজা দেখতে পেলো যা তাকে চারটে দিক নির্দেশ করছে। কলের ওপাশে থাকা ব্যাক্তি দ্বীপকে মাঝের দরজায় ঢুকার নির্দেশ দিতেই দ্বীপ মাঝের দরজায় ঢুকে পরলো। তৎক্ষনাৎ তার দিকে পরপর চারটে বুলেট ধেয়ে এলো। দ্বীপের একটা দারুন ক্ষমতা রয়েছে,, সে বুলেটের শব্দ শুনে তার অবস্থান নির্বাচন করতে পারে। সবগুলোর অবস্থান বুঝে কাটাতে পারলেও একটি বুলেট তার চোখের কার্নিশ ঘেসে চলে গেলো। আর একটুর জন্য দ্বীপের চোখটা বেচে গিয়েছে। সে ঠোঁট চেপে গাড়ো নিশ্বাস ফেলে আরও এগিয়ে গেলো,, যতো পথ এগুচ্ছে গার্ডের সংখ্যা বাড়ছে, দ্বীপ নিশ্চিত হলো অর্পনাকে এই পথে গেলেই পাবে, নয়তো এই পথে এতো গার্ড রাখতো না আদ্রিয়ান। এরমধ্যে সিদ্বার্থের আবির্ভাব ঘটলো, তার হাতেও ট্রিপল বার্রেল গান। একটু আগের সেই নিস্তব্ধ বাঙলো এখন মৃত্যুপুরিতে পরিনত হয়েছে। চারদিকে হাহাকার, চিৎকার আর অসহায়ত্ব। দ্বীপ যেই পথে যাচ্ছে, সেই পথে যাকে পাচ্ছে গুলির বর্ষনে ঝাঝড়া করে দিচ্ছে। দ্বীপের কয়েকজন লোক মারা গিয়েছে,, সিদ্বার্থের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়েছে বিহান। তার পায়ে গুলি লেগেছে তাও সে দমে যায়নি, এসব টুকটাক গুলি একটা সময় নিয়ম মাফিক রুটিন ছিলো তার জন্য । অপরদিকে বিহানের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়েছে সিদ্বার্থ, বাহুতে গুলি লেগেছে। সিদ্বার্থ এই ঝামেলার জন্য প্রস্তুত ছিলো না কারন তাহরিফ ইনশিউর করেছিলো দ্বীপ কিছু জানতে পারবে না। ভাগ্যিস সে তাহরিফের কথা শুনে হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি। টানা ৪০ মিনিটের যুদ্ধে হাড় মানলো সিদ্বার্থ ,, তার ৮৯% লোক মারা গিয়েছে। আর কোনো উপায় নেই, তাকে পালাতে হবে,, যে করেই হোক আদ্রিয়ানকে বাচিয়ে আমেরিকায় ফিরতে হবে নয়তো দ্বীপ মির্জার ভরসা নেই। যে পশুর মতো মানুষ হত্যা করতে পারে সে নিশ্চয়ই আদ্রিয়ানকে ছেড়ে দিবেনা?

,,, গুলাগুলির শব্দে বার বার কেপে উঠছে ইরাদ,,সিদ্বার্থ এখানে নেই, বেরিয়েছে অনেক্ষন,, বাহির থেকে একটা ছেলে এসে ডেকে নিয়ে গিয়েছে। এরপর থেকেই গুলাগুলির শব্দ হচ্ছে,, হয়তো দ্বীপ মির্জা এসেছে। আসারি কথা, পুরো পৃথিবী তোলপাড় করে হলেও দ্বীপ মির্জা তার বউকে খুজে নিবে। অর্পনার ভাগ্যটা খুব ভালো,, দ্বীপের মতো হাসবেন্ড পাওয়া সৌভাগ্য বলা চলে। সবচেয়ে বড়ো কথা, দ্বীপ অর্পনার অতিত সম্পর্কে সব জানে আর জেনেও এতোটা ভালোবাসে। যে পুরুষ তার স্ত্রী অর্ধ-ধ*র্ষিতা জানার পরেও এতোটা সম্মান দিতে পারে তার ব্যাক্তিত্ব, কর্মস্থল কিংবা নীতি নৈতিকতা যেমনি হোক না কেনো তাকে অবলীলায় মহা পুরুষ বলা চলে। আর এমনি একজনকে পেয়েছে অর্পনা। অথচ তার ভাগ্য দেখো,, কি জুটলো কপালে? দুটো বেইমানের কবলে পরে তার নিশ্পাপ মনটা ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেলো। নিজের অবস্থার কথা ভাবতে গিয়ে আদির জন্য বুক পুড়ে উঠলো ইরার। যদিও লোকটা তাকে সামান্য মানুষ বলেও গন্য করেনা তবুও ইরা তাকে ভালোবাসে। নাহ!! ভালোবাসে না,, উনাকে ভালোবাসা যায়না। ভালোবাসা যায়না ভেবেও ফুপিয়ে উঠলো ইরা,, আদিকে ভালোবাসি ভাবতেও তার ভিতরে সংকোচ হচ্ছে আবার ভালোবাসিনা বলতে গিয়েও বুকের ভিতরটা মুচরে উঠছল।

এসব কি হয়ে গেলো তার জীবনে? সিদ্বার্থ কেনো এটা করলো? সে তো জানতো ইরা তার ভাইকে কতোটা ভালোবাসে তারপরেও এতোটা অভিনয়, এতোটা ছলনা, কেনো করলো? এই একমাসে তাদের মধ্যে কি কথা হয়নি? সব হয়েছে,, একসাথে সংসার করার কথা হয়েছে,, হাতে হাত রেখে ঘুরা, বুকে মাথা রেখে ঘুমানো, একসাথে রান্না করা, একসাথে বাচ্চা মানুষ করা, কয়টা বাচ্চা নিবে, বাচ্চার নাম কি রাখবে, সব কথা হয়েছে। ইরা সেসব ভেবেই চোখ খিচে বন্ধ করে নিলো,, তার মরে যেতে মন চাচ্ছে,, এই যন্ত্রণা সে কিভাবে বয়ে বেড়াবে? আদিকে কোনোরকমে সহ্য করা গেলেও সিদ্বার্থকে সে ভাবতেই পারছে না। ওকে ইরা ছোট ভাইয়ের মতো দেখতো, স্রেফ ছোট ভাই। আর সেই ছেলের সাথে এরুপ প্রেমময় বাক্যালাপ, কতোটা যন্ত্রনার? ইসস!! এর থেকে ভালো ইরার মৃত্যু হোক। ইরার ভাবনার মাঝেই হুরমুরিয়ে ঘরে ঢুকলো সিদ্বার্থ, তার বাহুতে গুলি লেগেছে,, পায়েও ব্যাথা পেয়েছে বোধহয়। খুরিয়ে খুরিয়ে হাটছে। এই প্রথম সিদ্বার্থের মুখ অবলোকন করলো ইরাদ। মোমের আলোয় অতিরিক্ত ফর্সা, ওহুম!! হালকা গোলাপি মুখটা জলজল করছে,, নাকটা চিকন, লম্বা,, চোখ দুটো সুন্দর,, মুগ্ধ হওয়ার মতো। ঠোঁট কিছুটা কেটেছে বোধয়, রক্ত ঝরছে। সিদ্বার্থ প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত সুন্দর হওয়ার পরেও ইরা মুগ্ধ হলো না। সে সিদ্বার্থের দিকে তাকিয়ে তিক্ত স্বরে প্রশ্ন করলো — মরেননি এখনো? বেচে আছেন?

,,,সিদ্বার্থ খোরাতে খোরাতে ইরাদের সামনে এসে দাড়ালো,, বাহু থেকে অজর ধারায় রক্ত ঝরছে,, সে চেয়ারের দুই প্রান্তে দুহাত রেখে ইরাদের দিকে ঝুকে প্রশ্ন করলো– মরে গেলে খুশি হতে?
,,, ইরাদ চোখ নামিয়ে নিলো,, এরা ঠক হলেও সে অমানুষ নয়। কারোর মৃত্যু কামনা করতে পারেনা, তবে মায়া ও হচ্ছে না। যেমন কর্ম তেমন ফল তো হবেই। অর্পনা বিবাহিত তাও আবার দ্বীপ মির্জার বউ,, বুঝে শুনে কাজ করা উচিৎ ছিলো। ইরাকে মাথা নিচু করে রাখতে দেখে সিদ্বার্থ করুন কন্ঠে সুধালো —
,,, ইরাদ!! তাকাও আমার দিকে,, আমার জন্য একটু ও মায়া হচ্ছে না তোমার? কোনো ফিলিংস নেই? আমরা টানা একটা মাস কথা বলেছি,, এইতো কয়েকদিন আগেও তুমি বলেছিলে আমার সাথে কথা না হলে নাকি তোমার কান্না পায়,, বুকের ভিতর কেমন যেনো করে,, ওসব কি মিথ্যা ছিলো? সবটাই কি ভাইয়ার জন্য? মেসেজের ওপাশে থাকা মানুষটার প্রতি বিন্দুমাত্র ফিলিংস জন্মায়নি? তোমার কাছে আমার কোনো দাম নেই ইরাদ?

,,, ইরাদ মাথা তুলতে পারলো না,, এসব প্রশ্নের উত্তর নেই তার কাছে। সিদ্বার্থ ঠোঁট বাকিয়ে সুক্ষ হাসলো,, তাতে করে রক্তাক্ত ঠোঁট জোড়া বড্ড সুন্দর দেখালো। হঠাৎ করেই যেনো গুলি লাগা বাহুর ক্ষতস্থানটা ভিতর থেকে কামরে ধরলো,, সিদ্ধার্থ ব্যাথায় ককিয়ে উঠে হাত চেপে ধরে হাপাতে লাগলো। মানুষ হিসেবে ইরার কিছুটা মায়া হলো, সে খোলা ডান হাতে সিদ্বার্থের শার্টের হাতা টেনে সামনের চেয়ারে বসিয়ে দিলো। গলায় পেচিয়ে রাখা জরজেট উড়নাটা সিদ্বার্থের বাহু টেনে গুলি লাগা স্থানে পেচিয়ে দিতে দিতে বললো — এখানে এসেছেন কেনো? মরতে চান? যান, পালান। আপনার ভা,,, (থেমে গেলো ইরাদ, বলতে পারছেনা) দেখুন, দ্বীপ ভাইয়া আপনাকে ধরতে পারলে মেরে ফেলবে, প্লিজ পালান।

,,, সিদ্বার্থ পুলকিত নেত্রে ইরাদের দিকে তাকিয়ে রইলো। সে খুব করে চেয়েছিলো জোর করে হলেও ইরাদকে বিয়ে করতে কিন্তু পৃথিবীতে এমন এমন কিছু মানুষ থাকে যাদের দিয়ে কখনোই জোর করে কিছু করানো যায়না। ইরাদ ও তাদের মধ্যেই একজন। সিদ্বার্থ বাম হাতে ইরাদের গাল ছুলো, চোখ দুটোতে তীব্র ক্লান্তি, চোখ মুখ দেখেই বুঝা যাচ্ছে লোকটা ব্যাথায় কাতর। ইরা তবুও শক্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো, সিদ্বার্থ আবদারের স্বরে বললো– আমার সাথে চলো ইরাদ!! আমি তোমায় খুব ভালোবাসি। হয়তো আমি মিথ্যা পরিচয়ে তোমার কাছে এসেছি কিন্তু আমার ভালোবাসায় কোনো পাপ নেই। আমায় একটা সুযোগ দাও প্লিজ!!

,,, ইরা শক্ত কন্ঠে প্রতিত্তর করলো — আপনাকে আমি কখনো ঐ নজরে দেখিনি, দেখা সম্ভব ও না। আপনাকে বরাবর ছোট ভাইয়ের নজরে দেখে এসেছি, অথচ আপনি। বলতে ইচ্ছা হচ্ছে না। আপনি প্লিজ চলে যান, আমার ভালো চাইলে কখনো আমার সামনে আসবেন না। আমি চাইনা আপনার প্রতি আনার ঘৃণার পরিমাপ বৃদ্ধি পাক।
,,, ব্যাথিত হতো সিদ্বার্থ,, তাদের ভাইদের ভাগ্য এতো খারাপ কেনো? জানা নেই। তারা বরাবরি শুরুতে মারাত্মক একটা ভুল করে যার ফলে প্রেয়সীর চোখে ঘৃনার পাত্র হয়ে যায়। এই পর্যায়ে আরও কাতর হলো সিদ্বার্থ — ইরাদ!! আমি যদি আজ চলে যাই, আমাদের আর যোগাযোগ হবে না? আমার সাথে কথা বলবে না তুমি? আমি কিভাবে থাকবো? বলো!! তুমি থাকতে পারবে? কষ্ট হবেনা তোমার? আমরা না বলেছিলাম সারাজীবন একসাথে বাচবো,, আমার সাথে বাচবে না ইরাদ?

,,, ইরার ভাবাবেগ হলো না, — আমি কিছু জানিনা, কিছু বুঝিনা, আমি শুধু জানি আপনারা আমায় ঠকিয়েছেন।আমার অনুভূতি নিয়ে মস্ত বড়ো একটা গেইম খেলেছেন,, আমি মরার পরেও আপনাদের ক্ষমা করতে পারবো না। আমার ইশ্বর হোক কিংবা আপনার আল্লাহ,, যেদিন পাপের হিসেব হবে আমি জানতে চাইবো আমার অপরাধ কি ছিলো? কেনো আপনার আল্লাহ এর বান্দারা আমার অনুভূতিকে তাদের দাবার গুটির মতো ব্যাবহার করলো?
,,,,সিদ্বার্থ শক্ত একটা ঢোক গিললো, তার হাতে সময় নেই। বাহিরের অবস্থা বেগতিক। পিছনের রাস্তা দিয়ে বেড়িয়ে যে করেই হোক আদি আর অর্পনাকে নিয়ে দেশ ছাড়তে হবে। কোনোক্রমে এয়ারপোর্টে পৌছাতে পারলেই চলবে। এই মুহুর্তে নিজের জন্য ভাবার সময় নেই,, আগে ভাইয়ার জীবনটা গুছাতে হবে। নয়তো তার বড়ো ভাই বাচবে না। তবে সে খুব শীগ্রই ফিরবে আর ইরাদকে যেভাবেই হোক মানাবে। ভেবেই ইরার চুলের ভাজে হাত চালালো। গুলি লাগা হাতটা দিয়ে ইরাদের ডান হাত আটকে রেখে ইরাদের উষ্ঠ যুগল দখল করে নিলো। ইরা ছোটার তীব্র চেষ্টা চালালো কিন্তু মেয়েটা পারলো না। একটা শক্ত চুম্বনের পর ইরাদের কপালে কপাল ঠেকালো সিদ্বার্থ,, কোমল স্বরে বললো—

,,,, ছোট ভাইরা কখনো এসব করে? নাহ, নিশ্চই? আজকের পর আর কখনো আমায় ছোট ভাই ভাবতে পারবে না। আমি তোমার অপেক্ষায় থাকবো ইরাদ,,কখনো যদি মেসেজের ওপাশের ব্যাক্তিটাকে মিস করো তাহলে একটাবার খোজ নিও। আমি আছি, সবসময়, তোমার পাশে, কাছে, খুব কাছে। আমায় মনে পরলে একবার চোখ বুঝে, মন থেকে ডেকো, আমি হাজির হবো। স্ব-শরীরে উপস্থিত হতে না পারলেও তোমার কল্পনা, অনুভুতি, চোখের তারায় কোথাও না কোথাও ফুটে উঠবোই। আসছি মাই লাভ!! তোমার আর আমার দূরত্ব দীর্ঘ না হোক, আমাদের খুব দ্রুতই মিলন হোক। ভালো থেকো।

,,, বলেই কপালে দীর্ঘ চুম্বন করলো সিদ্বার্থ, পরপরি হন্তদন্ত হয়ে বেড়িয়ে গেলো। এরপর অনেকটা সময় পেরুলো ইরার মুখে কথা নেই, কোনো মিশ্র অনুভূতির যাতাকলে পিষে মন মস্তিষ্ক কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। আরও অনেকটা সময় পেরুনোর পর চারটে পায়ের ধুপধাপ শব্দ শুনা গেলো, কিছু সময়ে রুম ময় আলোকিত হলো ফোনের ফ্লাস লাইটে। ইরা আলোর উৎস ধরে তাকাতেই পল্লব আর অরুনকে দেখতে পেলো। পল্লব, অরুন ছুটে এসে ইরার হাতের বাধন খুলে দিতেই অরুনের পেটে মুখ গুজে ফুপিয়ে উঠলো ইরাদ। যেনো কতো বছর পর আপন কাউকে পেলো, যাদের কাছে মন খুলে কান্না করা যায়,, মনে জমে থাকা অব্যাক্ত দুঃখ গুলো কাদতে কাদতে উগলে দেওয়া য়ায়।

,,, বাহিরে এতো তান্ডব চলছে তা নিয়ে কোনো মাথা ব্যাথা নেই আদ্রিয়ানের, সে অর্পনার মুখোমুখি বসে এক দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়ে। অর্পনারো কোনো ভাবাবেগ নেই,, তার মাঝেমধ্যে নিজেকে সত্যি ই পাথর মনে হয়। কিছু কিছু মানুষের কষ্ট, আহাজারি তার মনকে ছুতে পারে ঠিকি কিন্তু গলাতে পারে না। অর্পনা শিরদাঁড়া সোজা রেখে প্রহর গুনছে দ্বীপ কখন তার কাছে আসবে,, কখন তাদের একটু দেখা হবে,, লোকটাকে ছুতে ইচ্ছা করছে খুব। আদ্রিয়ান একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে আফসোসের স্বরে বললো — ইসস!! অনন্তবিধী ভেঙে সিমান্তহীন প্রহর ধরে তোমায় দেখতে পারতাম,, সময়টা এখানেই থমকে যেতো,, দ্বীপ মির্জা আমাদের কাছে না পৌছাতো,, তুমি এভাবেই বসে থাকতে আর আমি তোমায় দেখে যেতাম। দেখতে দেখতে যুগের পর যুগ কেটে যেতো তবুও সময় না ফুরাতো।
,,, আদ্রিয়ানের বিপরীতে দীর্ঘশ্বাস ফেললো অর্পনা, বললো — একবার ফাসির আসামিকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো, তোমার শেষ ইচ্ছা কি? সে বলেছিলো আমি আমার আট বছর আগে মৃত বাবাকে সচক্ষে দেখতে চাই। আপনার ইচ্ছাটা কিছুটা তেমন, বড্ড অমায়িক।

,,, এমন অবস্থায় ও সশব্দে হেসে ফেললো আদ্রিয়ান,, অর্পনা নির্বিকার। আদ্রিয়ান হাসতে হাসতে হুট করেই থেমে গেলো, অর্পনার দিকে মায়া ভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে সুধালো– আমি মরে গেলে তুমি কাদবে জানেম? ধরো দ্বীপ মির্জা এসে আমায় মেরে ফেললো, কাদবে?
,,, অর্পনার নির্বিকার মুখশ্রী কিছুটা অন্ধকার হলো,, বুকের একাংশে মৃধু কাপন ধরেছে বোধহয়, এরকম নিয়তি চায়না অর্পনা। সে চায় আদি বেচে থাকুক কারন কিছু কিছু সময় মানুষ মরে গিয়ে বেচে যায়, জিতে যায়, অর্পনা সেটা চায়না। সে চায় আদি বাচুক,বেচে থেকে উপলব্ধি করুক, অর্পনা ছাড়া তার দুনিয়াটা কতোটা অসহায়,, এতে তৃপ্তি পাবে অর্পনা। অর্পনার মলিন মুখশ্রীর দিকে তাকিয়ে ফের হাসলো আদ্রিয়ান,, বললো– এইযে দুইটা বছর তোমার সাথে ছিলাম, একই ফ্লাটে, একই ছাদের নিচে,, কতোই তো একসাথে ঘুরেছি, খেয়েছি, শপিং করেছি, সময় কাটিয়েছি। মানলাম সেসব আমায় পোড়াবে বলে করেছো,, আমি পুড়ছি, মরছি, তুমি একটু ও পোড়নি? আমায় ধ্বংস করে নিজে ঠিক আছো তো?

,,,, অর্পনা স্মিত হাসলো– জীবনে এতো পুড়েছি,, এখন আর পোড়ার ঘ্রান নাকে ঠেকে না। তাই দুঃখিত!! উত্তর নেই আমার কাছে।
,,, তুমি বরই নিষ্ঠুর আমার প্রিয়া।
,,, অন্যের স্ত্রীকে প্রিয়র খাতায় রাখা নির্লজ্জতা।
,,, অন্যের ভালোবাসাকে বিয়ে করাটা কাপুরুষতা,, তোমার স্বামী কি কাপুরুষ?
,,, বিয়ে তো সে করেনি,, আমি করেছি।
,,, আদ্রিয়ান এর প্রেক্ষিতে কিছু বলতে পারলো না, প্রতিবার নিজেকে সামলাতে চায় কিন্তু পারেনা, কেদে দিলো সে। বাহিরে এতোকিছু হচ্ছে, আদ্রিয়ানের কিছু একটা করা উচিৎ কিন্তু করছে না। এই মুহুর্তে সে অর্পনাকে দেখছে, আর যদি দেখতে না পায়? সেই আশঙ্কায়। অর্পনা আদ্রিয়ানের দিকে বিরক্তিকর দৃষ্টিতে তাকালো — বসে আছেন কেনো? দ্বীপ আপনাকে পেলে খারাপ কিছু হয়ে যাবে,, পালিয়ে যান।

,,, কার জন্য পালাবো? কার থেকে পালিয়ে কার কাছে যাবো? আমার নিশ্বাস তো তুমি, আমার পৃথিবী তোমার মাঝেই এসে থমকে যায়,, আমার অস্তিত্বের প্রতিটি শিরায় শিরায় তুমি মিশে,, আমি তোমায় ছেড়ে কোথায় যাবো বলো? হয় তোমার সঙ্গ হোক নয়তো তোমার সামনে আমার মৃত্যু হোক।
,,, এতো মরা মরা করেন কেনো? মরে যাওয়া এতোই সহজ? যদি মরে যাওয়া সহজ হতো তাহলে সে রাতে আমি শতাধিক বার আকাশে তাকিয়ে নিজের মৃত্যু কামনা করেছি,, মরলামনা যে? কই আমার তো মুক্তি মিললো না?
,,, আদ্রিয়ান ভাবুক হলো, অনেক ভেবে আওড়ালো– মুক্তি? হ্যা!! মৃত্যু মাঝে মধ্যে মুক্তিতে পরিনত হয়, আজ আমি মরতে পারলে মুক্তি পাবো নিশ্চয়ই? আচ্ছা!! আজ তবে মুক্তি ই সই,, তোমায় দেখতে দেখতে আজ আমার মৃত্যু হোক।
,,, পাগলের প্রলাপ বকবেন না, আমি চাইনা আপনি মরুন।
,,, তাহলে সঙ্গে চলো, তোমায় একটা ভালোবাসাময় পৃথিবী দিবো,, এতো ভালোবাসবো যে তুমি সেই ভালোবাসা শুধু অনুভব করতে পারবে প্রকাশ করার ভাষা খুজে পাবে না। একটা অভিযোগ করতে পারবে না, তার সুযোগ ই রাখবো না আমি।
,,, আদ্রিয়ানের এহেন কথায় অর্পনা খিপ্ত দৃষ্টিতে তাকালো — আমার স্বামী আমায় মেনে না নিলেও আমি আপনাকে চুজ করতাম না, সেখানে আমার স্বামী আমাকে তার নিজের চেয়েও বেশি ভালোবাসে। সুতরাং সঙ্গে যাওয়ার প্রশ্নই উঠে না।

,,, আদ্রিয়ান উঠে দাড়ালো,, যা দেরি হবার হয়েছে, জীবনকে একটা সুযোগ দেওয়া উচিৎ, অর্পনাকে ছাড়া সে বাচবে না। আদ্রিয়ান তাড়াহুড়ো করে অর্পনার হাতে পায়ের বাধন খুলতে লাগলো। অর্পনা বিচলিত হলো না, কাট হয়ে বসে রইলো। বাধন খোলা হলে আদ্রিয়ান অর্পনার হাত শক্ত করে ধরে বললো– ভেবোনা,, আমি তোমায় বিয়ে করবো না, তোমায় ছুবো না,, আমরা এক বাড়িতেও থাকবো না। শুধু পাশাপাশি থাকবো,, আগের মতো, ঠিক আছে? চলো।
,,, অর্পনা মুখ ফিরিয়ে নিয়ে হাত ছাড়াতে চাইলো, তার অপেক্ষার প্রহর কাটছে না কেনো? দ্বীপ এখনো আসছে না কেনো? অর্পনার ভাবনার ইতি ঘটার পূর্বেই দরজার ফাক দিয়ে স্রিফান উঁকি দিলো, দৌড়ে এসে অর্পনার কাছে পৌঁছাতেই অর্পনা ভয়ে মুচরে গেলো। আদ্রিয়ান জানে অর্পনা কুকুরে বেশ ভয় পায়। তাই সে অর্পনাকে আগলে নিতে চাইলে অর্পনা দূরে সরে গিয়ে ফের কাচুমাচু হয়ে দাড়ালো। স্রিফান বুঝেনা অর্পনা যে তাকে ভয় পায় ,, সে শুধু তার মাম্মাকে খুজে পেয়ে তাকে প্রোটেক্ট করার চেষ্টা চালাচ্ছে। যেমনটা দ্বীপ ওকে প্রথম থেকে কঠোর ভাবে ট্রেনিং দিয়েছিলো। স্রিফানকে এগিয়ে আসতে দেখে আদ্রিয়ান স্রিফানের দিকে রিভলবার তাক করতেই অর্পনা চিৎকার করে উঠলো — ডন্ট স্যুট!! ও আমার বাচ্চা,,

,,, আদ্রিয়ান হতচকিত হয়ে অর্পনার দিকে তাকালো, অর্পনা এখনো চোখ মুখ খিচে ভয় কুকরে রয়েছে। ওর হাব ভাব দেখে মনে হচ্ছে না এই কুকুরটা অর্পনার কিছু হয়। আদ্রিয়ান মনে মনে কিছু একটা আন্দাজ করে নিলো,,এটা কি দ্বীপের কুকুর?যাকে অর্পনা নিজের বাচ্চা বলে পরিচয় দিচ্ছে? ইসস!! আদ্রিয়ানের ভাগ্য কতোটা খারাপ। এই মুহুর্তে কেনো, সে যদি মরেও যায় তবেও হয়তো অর্পনা তাকে কারোর সামনে নিজের বলে পরিচয় দিবে না। অর্পনার কাছে সে এখন ঐ কুকুরটার থেকেও নিকৃষ্ট। ভাবতে গিয়ে আদ্রিয়ানের চোখে পানিরা ভীর করেছে, সে আর ভাবতে চাইলো না অর্পনাকে টেনে নিয়ে বারান্দার কাছে পৌছালো,, এটা বাংলোর পিছনের অংশ। এখান থেকে লাফ দিয়ে নিচে নেমে, অজানার পথে ছুটবে তারা। অর্পনা আদির মনোভাব বুঝতে পেরে জোর করে হাত ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলো কিন্তু আদির শক্তির সাৎে পেরে উঠলো না। অর্পনাকে হাত মুচরাতে দেখে স্রিফান ফুসে উঠলো, লাফ দিয়ে আদ্রিয়ানের হাতে আচর বসালো, কিছুটা আচর অর্পনার হাতেও লেগেছে। অর্পনা ভয়ে, ব্যাথায় চিৎকার করে উঠলো তাও আদিকে আকরে ধরলো না। সে তার বন্ধু মহলকে খুব মিস করছে, অরুন আর পল্লব থাকলে এতোক্ষণে তাদের পিছনে গিয়ে লুকাতো। স্রিফানের ভয়ে কান্না করে দিলো অর্পনা,, ওকে বড্ড হিংস্র লাগছে,, চোখ দুটো অসম্ভব লাল, মৃধু আলোতে আরও বেশি ভয়ানক লাগছে। অর্পনাকে কাদতে দেখে আরও বিচলিত হলো আদ্রিয়ান, ওকে আগলে নিতে চাইলে আবারও সরে গেলো অর্পনা, একদম দেয়ালের সাথে মিশে রইলো। দরজার পাশে স্রিফান আর রেলিং এর পাশে আদি। স্রিফানকে সে ভয় পায় আর আদির কাছে গেলে আদি ওকে নিয়ে নিচে লাফ দিবে। এই ঘন জঙ্গলে একবার হাড়িয়ে গেলে দ্বীপ ওকে আর খুজে পাবেনা। এখন বাহিরে আর গুলির শব্দ হচ্ছে না, পরিবেশ শান্ত শুধু কুকুরের ঘেউ ঘেউ আর লোকেদের পদাচরন টের পাওয়া যাচ্ছে। অর্পনা ঢোক গিলে আল্লাহকে ডেকে বললো যেনো দ্বীপ চলে আসে কিন্তু দ্বীপের দেখা নেই। হেলিকপ্টারের ঘরঘর শব্দে বারান্দার দিকে তাকালো অর্পনা আর আদি,, হেলিকপ্টারটির ডোর উপেন করা আর সেখানে বসে আছে সিদ্বার্থ। সে আদ্রিয়ানের উদ্দেশ্যে চিৎকার করে বললো — ভাইয়া!! অর্পনাকে নিয়ে চলে আসো, ফাস্ট।

,,,, আদ্রিয়ান যেনো আলোর হুদিশ পেলো, চোখে এক আকাশ পরিমান খুশির ঝিলিক। স্রিফানকে পরোয়া করলো না, এগিয়ে গিয়ে অর্পনার হাত ধরতেই আবারও আক্রমণ করলো স্রিফান। এই পর্যায়ে আদির হাত থেকে মাংশ উঠে এলো কিছুটা,,,সাথে অর্পনার আবারও আঘাত পেলো। কুকুরে ভয় পাওয়া অর্পনার ভয় দ্বীগুন হলো৷ আদ্রিয়ান আবার ওকে ছুতে গেলে স্রিফান আবার হামলা করলো, এই পর্যায়ে বাহুর শার্ট ছিড়ে মাংস খুবলে এনেছে। বার বার আঘাত পেয়ে শান্ত থাকলেও এই পর্যায়ে ব্যাথায় ককিয়ে উঠলো আদি। স্রিফান যেনো মজা পেলো। সে আবারও আঘাত করলো আদিকে। আদি প্রতিহত করতে গান তাক করলে সেটাতেও থাবা বসালো স্রিফান,, এই পর্যায়েও আদির ডান হাতের কব্জির মাংস আচড়ে তুলে নিলো, আদ্রিয়ানের হাতে থাকা রিভলবারটা ছিটকে গিয়ে অর্পনার পায়ের তলায় পরলো। স্রিফান ফের আঘাত করতে গেলো আদিকে, এই পর্যায়ে আর দমে থাকলো না আদি সে স্রিফানকে পাল্টা আঘাত করলো।

স্রিফান আরও ফুসে উঠলো, আদ্রিয়ানের উপর ঝাপিয়ে পরলো, আদ্রিয়ান ও সময় বুঝে নিজেকে বাচানোর প্রয়াস চালিয়ে স্রিফানকে আঘাত করছে। কুকুর আর মানুষের লড়াই দেখে অর্পনার জ্ঞান হাড়ানোর জোগার, তার মান্সপটে কিছু কুকুরের মুখ ভাসছে, যেই কুকুরগুলো সেই বৃষ্টির রাতে ওর ওপর এভাবে হামলা করেছিলো, আঘাতে আঘাতে জর্জরিত করেছিলো পুরো শরীর। অর্পনা হাইপার হয়ে গেলো, ওর শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে, মাথাটা যন্ত্রণা করছে, সে দুহাতে চুল খামচে ধরে বসে পরলো। তখনি শক্ত কদমে বারান্দায় ঢুকলো সেই চিরোচারিত শক্তপোক্ত মানব। তার ঠোঁটে পৈশাচিক হাসি,, সে একবার হিংস্র স্রিফান আর দূর্বল আদ্রিয়ানের দিকে তাকালো। স্রিফান তার যোগ্য সন্তানের মতো কাজ করেছে আজ,, দ্বীপ ওকে নিয়ে গর্বিত।দ্বীপের শরীরের ঘ্রান শুনে মুখ তুলে তাকালো অর্পনা, সে ছুটে যেতে চাইলো কিন্তু লোকটার সামনে স্রিফান। লোকটা তার দিকে তাকাচ্ছেও না,, এইটুকু ৪/৭ হাতের বারান্দায় অর্পনা দ্বীপের কাছে যাওয়ার রাস্তা পাচ্ছে না। স্রিফান আবারও আদ্রিয়ানকে আক্রমণ করতে নিলে বুলেটের বিকট শব্দ হলো, স্রিফানকে গুলি করেছে সিদ্বার্থ। তবে কুকুরটা বুলেট প্রুভ জ্যাকেট পরে থাকায় কোনো ক্ষতি হলোনা। সিদ্বার্থ ফের চেচিয়ে উঠলো — ভাইয়া দ্রুত করো,, অর্পনাকে নিয়ে চলে আসো।
,,, আদ্রিয়ান শরীরের ব্যাথার পরোয়া করলো না অর্পনার দিকে এগিয়ে যেতেই ওর দিকে রিভলবার তাক করলো দ্বীপ,, আদ্রিয়ান থমকে দাড়ালো। সিদ্বার্থ নো, নো, বলে চেচিয়ে উঠলো। দ্বীপ ঠোঁটে ভয়ানক হাসি ফুটিয়ে ফ্যাসফ্যাসে গলায় বললো — ইউর চ্যাপটার ইজ ক্লোজ আদ্রিয়ান কাইসার,! আমার স্ত্রীকে ছোয়ার সাহস করা কলিজাটা এই মুহুর্তে ঝাজড়া করে দিবো আমি।।

,,, অর্পনার ভিতরটা কেপে উঠলো, না আদি মরবে না। সে বেচে থাকতে আদির নিথর দেহ দেখতে পারবে না। কেনো পারবে না তার উত্তর সে কাউকে দিতে বাধ্য নয় কিন্তু আদি মরবে না। সিদ্বার্থ চিৎকার করে বার বার দ্বীপকে মানা করছে। দ্বীপ সেসবে পাত্তা না দিয়ে ট্রিগারে হাত রাখলো, চাপ দিতে নিতেই আরও একটা ট্রিগার অন হওয়ার শব্দ হলো। শব্দ শুনে দ্বীপ ভ্রু কুচকে সেদিকে তাকালো, আদ্রিয়ান ও হতবাগ নেত্রে তাকিয়ে। অর্পনা পায়ের তলায় পরে থাকা আদ্রিয়ানের রিভলবারের ট্রিগার অন করে নিজের মাথায় ঠেকালো, দ্বীপের উদ্দেশ্যে বললো — ডন্ট স্যুট, লেট হিম গো!! আদার ওয়েজ আই উইল স্যুট মাইসেল্ফ!!
,,, অর্পনার কান্ডে অবাক বনে গেলো আদি, অর্পনা!! তার জানেম তাকে প্রটেক্ট করতে চাচ্ছে? ঐতো অর্পনার চোখে কিছুটা ভয়, কিছুটা মায়া দেখতে পাচ্ছে আদি, চোখ ভেজা। আদির জন্য এখনো মায়া কাজ করে অর্পনার? আদ্রিয়ান পুলকিত হলো। সে সকল ব্যাথা ভুলে দ্বীপের দিকে হাসি হাসি মুখ করে তাকিয়ে চিৎকার করে বললো — স্যুট মি,, প্লিজ গুলি করে দে। আমার জীবনের সকল পূর্নতা আজ পেয়ে গিয়েছি আমি। আমার জানেমের চোখে আমি নিজের জন্য মায়া দেখেছি,, ভাবতে পারছিস সিড? আজ চার বছর পর প্রথম আমি আমার নিষ্ঠুর প্রিয়ার চোখে আমার জন্য টান দেখেছি। এই মায়া দেখতে দেখতে আমার মৃত্যু হোক। হেই দ্বীপ মির্জা!! স্যুট মি। প্লিজ, তকে উৎসাহ দিচ্ছি, স্যুট করে দে।

,,,অর্পনা সাথে সাথে চিৎকার করে উঠলো — পাগলের প্রলাপ বকবেন না। এখনি আপনি সিড ভাইয়ার কাছে যাবেন। কুইক!! নয়তো আমি নিজেকে স্যুট করে দিবো। কসম!!
,,, বলে আবারও ট্রিগার চাপতে নিলো। আদ্রিয়ান বিচলিত হয়ে পরলো অথচ দ্বীপ নির্বিকার, মুখ দেখে বুঝার উপায় নেই ওর মনে কি চলছে, সে শুধু শক্ত দৃষ্টিতে অর্পনার দিকে তাকিয়ে। অর্পনা দ্বীপের দিকে তাকিয়ে কাতর স্বরে বললো — ডন্ট স্যুট প্লিজ!! উনাকে ছেড়ে দিন। প্রোফেসর প্লিজ যান নয়তো আমি নিজেকে স্যুট করবো। আপনারা ভালো করেই জানেন অর্পনা যা বলে তাই করে।( দ্বীপের দিকে তাকিয়ে) আমি মরে গেলে বাচতে পারবেন? ছেড়ে দিন না উনাকে,, আর কখনো কিছু চাইবো না।
,,, এই পর্যায়ে দ্বীপের শক্ত চোখ মুখের রং বদলালো,, সে নিভে আসা কন্ঠে সুধালো —
,,, ভেলোরা!! আমি কিন্তু আঘাত পাচ্ছি,, বড্ড আঘাত পাচ্ছি।
,,, দ্বীপের কন্ঠে তীব্র অভিমান,, অর্পনা কেদে দিলো। সে জানে, সে লোকটাকে কষ্ট দিচ্ছে কিন্তু আদিকে সে মরতে দেখতে পারবেনা। অর্পনা নাক টেনে অসহায়ের ন্যায় সুধালো– আমি নিরুপায় দ্বীপ!! উনাকে মরতে দেখা আমার পক্ষে সম্ভব না। দয়া করে যেতে দিন নয়তো সত্যি ই আমি নিজেকে নিজে স্যাুট করে দিবো।( আদির দিকে তাকিয়ে) প্রোফেসর!! আপনি যাবেন নাকি স্যুট করবো? ওয়েল!! আ’ম গুইং।
,,, বলেই ফের ট্রিগারে চাপ দিতে নিলো অর্পনা, আদি আত্মসমার্পন করলো। সে ভয়ার্ত ঢোক গিলে বললো — এরকমটা করোনা জানেম,, আমি যাচ্ছি, যাচ্ছি আমি। আমাদের আবার দেখা হবে,, আমি আবার আসবো। একটা কথা মনে রাখবে জানেম,, আদি-অর্পনা পাশাপাশি থাকা দুটো রেল লাইনের মতো,, অর্পনা চাক বা না চাক আদি বরাবর তার পাশেই থাকবে। আমাদের দূরত্ব মিটুক আর না মিটুক আমাদের বিচ্ছেদ না হোক। আই অলসু সেইড দ্যাট এগেইন,, আমার মতো তোমায় কেউ ভালোবাসতে পারবে না, নো ওয়ান। এটা তুমি জীবনের অন্তিম মুহুর্তে গিয়েও স্বীকার করতে বাধ্য হবে। মিলিয়ে নিও!!

,,, আদ্রিয়ান অর্পনার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে পিছাতে লাগলো, বারান্দার রেলিং ঘেসে দাড়াতেই সিদ্বার্থ হাত বাড়ালো, আদ্রিয়ান রেলিঙের উপর উঠে সিদ্বার্থের হাত আকরে ধরে লাফিয়ে হেলিকপ্টারে উঠলো,, সাথে সাথে হেলিকপ্টারের ডোর লক হয়ে গেলো। আদ্রিয়ান তখনো অর্পনার দিকে তাকিয়ে আর অর্পনা ভীত নজরে দ্বীপের দিকে তাকিয়ে। হেলিকপ্টারটি বাতাসের গতিতে মিলিয়ে যেতেই অর্পনা হাত থেকে রিভলবারটি ফেলে দিলো, দ্বীপ ও হাতে থাকা গান ফেলে দিয়ে একপ্রকার ঝড়ের গতিতে এগিয়ে এসে অর্পনার গলা চেপে ধরে দেওয়ালের সাথে মিশিয়ে নিলো। গলা চেপে ধরায় দম আটকে আসছে অর্পনার তবুও সে নির্বিকার ভাবে দ্বীপের দিকে তাকিয়ে,, চোখে একরাশ মায়া। এই মায়ায় আজ গলবে না দ্বীপ, সে রাগ দমাতে না পেরে অর্পনার মাথা বরাবর ঘুষি মারলো, অর্পনা ভয়ে চোখ খিচে বন্ধ করে নিতেই বুঝলো তার মাথায় আঘাতটা লাগেনি তবে তার কানের পাশের দেয়ালটায় অনবরত আঘাতের শব্দ হচ্ছে,, রাগে দ্বীপের শরীর থরথর করে কাপছে। অর্পনা চোখ মেলে তাকাতে পারছেনা,, তার দম আটকে আসছে। অর্পনা কেশে উঠতেই দ্বীপ অর্পনার গলা ছেড়ে ফের দেওয়ালে আঘাত করলো। পরপর আঘাত করায় দ্বীপের হাত গড়িয়ে কিছুটা রক্ত অর্পনার ঘারে পরতেই অর্পনা বিচলিত হয়ে সেই হাত ছুতে চাইলো,, সাথে সাথে রক্তাক্ত হাত দিয়ে অর্পনার গাল চেপে ধরলো দ্বীপ। হিসহিসিয়ে বললো — বেয়াদবের বাচ্চা!! আমাকে তর ছাগল মনে হয়? তুই যা করবি তাই মেনে নিবো? তকে নিজে আঘাত করতে পারবো না, আঘাত পেতে দেখতেও পারবো না কিন্তু চক্ষু আড়ালে রেখে আঘাত করাতে তো পারবো। আমার সাথে নাটক? বেইমানি? আমার বউ হয়ে তুই তর নাগরের জন্য মরতে যাবি? চল!! আজ দেখবো তুই কতো মরতে পারিস। তকে হিংস্র জানোয়ারের হাতে ছেড়ে দিবো আমি,, মৃত্যুর সখ আজীবনের জন্য মিটিয়ে দিবো তর।

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৫৩ (৩)

,,, বলেই অর্পনার হাত চেপে ধরে টানতে টানতে নিয়ে যেতে লাগলো,, অর্পনা অনুভব করলো তাকে উৎকৃষ্টের ন্যায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে,, দ্বীপের সাথে তাল মিলাতে গিয়ে পায়ে হোচট খেয়েছে কয়েকবার। দ্বীপের মায়া হয়নি,, ফিরেও তাকায়নি,, লোকটার সব মায়া কি ফুরিয়ে গেলো? যেখানে ও সামান্য আঘাত পেলে লোকটা বিচলিত হয়ে যায়, সেই লোকটা কি সত্যি ই তাকে জানোয়ারের হাতে ছেড়ে দিবে?

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৫৩ (৫)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here