Home ৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি ৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৫৩ (৬)

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৫৩ (৬)

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৫৩ (৬)
রুপান্জলি

অত্যন্ত নান্দনিক ও আকর্ষণীয় ভাবে তৈরি করা কাইসার প্যালেসের তুলনা হয়না,, বাড়িটা কিছুটা বৈদেশিক নিয়মেই তৈরি করা। এমনকি বাড়ির প্রতিটি কোনা থেকে কোনা পর্যন্ত ও বৈদেশিক আসবাবপত্রে রাঙানো,, প্রতিটি দর্শনে তাদের বিদেশি বলেই আক্ষা দেওয়া যায়। এমন নয় যে শুধু আদ্রিয়ানের বাবাই আমেরিকান মেয়ে বিয়ে করেছে। মূলত তাদের পূর্বপুরুষ ছিলেন বিদেশি,, আই মিন আদ্রিয়ানের পর দাদার বাবা ছিলেন একজন ইংরেজ যার ফলে সেই বিদেশি সভ্যতাটা তাদের রক্তে মিশে রয়েছে। আদ্রিয়ান বাড়ি ফিরেনা আজ প্রায় তিন বছর,, বাবা মায়ের সাথে কথা বলেনা,, সিদ্বার্থ ব্যাতিত কারোর সাথে যোগাযোগ ও করেনা। এমনিতে কাইসার বাড়িতে ভালোবসার মতো নাটকটা এলাও না থাকলেও বর্তমানপ আদ্রিয়ানকে তাদের প্রয়োজন।

কারন আদ্রিয়ানের মা এনালোভার ভাইয়ের মেয়ে আদ্রিয়ানকে ভালোবাসে। সেখানেও ভালোবাসাটা প্রাধান্য পেতো না কিন্তু এনালোভার ভাইয়েরা বিশাল আকারের বড়োলোক আর কাইসাররা কখনো বড়োলোকদের হাত ছাড়া করে না। এনালোভার ভাইয়ের মেয়ে জেদ ধরেছে আদ্রিয়ান ব্যাতিত অন্য কাউকে বিয়ে করবে না। এই বিষয়টা আজকের নয়,, বছর ছয়েক আগে থেকেই আদিকে ভালোবাসে সেই রমনি। এটা নিয়ে আদ্রিয়ান তার মামাতো বোনের সাথেও অসম্ভব রকমের বাজে আচরন করেছে,, বাজে ভাষায় বকা থেকে শুরু করে একদিন ক্লাবে নিয়ে গিয়ে তার থেকেও সুন্দর ছেলের কাছে রেখে এসেছিলো পর্যন্ত। তার পরেও মেয়েটা আদিকে পাওয়ার জন্য উন্মাদ,, তিন বেলা কান্নাকাটি করে। আদ্রিয়ান হয়তো মারাত্মক ধরনের অহংকারি কিন্তু তার ব্যাক্তিত্ব স্ট্রং। তাকে হরহামেশাই কাবু করা যায়না,, তাকে জোর করে কারোর উপর এট্রাক্ট করানো যায়না। আদ্রিয়ান মুলত বাগানে ফোটা সেই গোলাপটা যেখানে মৌমাছির তুমুল ভীর পরা সত্তেও গোলাপের কিছু এসে যায়না। আদ্রিয়ান সুন্দর, মারাত্মক রকমের সুন্দর,, তার মতো পুরুষকে উপেক্ষা করতে দম থাকা প্রয়োজন। যেটা সবার থাকে না,, যার ফলে আমেরিকা কিংবা বাংলাদেশি মেয়েদের কম বেহায়ামি সহ্য করতে হয়নি তাকে। অর্পনাও তার কাছে তাদের মধ্যেই একজন ছিলো,, আদ্রিয়ান প্রথম দিকে অর্পনাকেও সেই বেহায়া মেয়েদের কাতারেই রেখেছিলো,, তাই এতোটা বাজে ব্যাবহার করেছে কিন্তু পৃথাকে ভালোবেসে যখন জানতে পারলো ওটা অর্পনা। তারপর থেকে আর পরিবারের সাথে যোগাযোগ বন্ধ। কয়েকবার অবশ্য কথা হয়েছিলো কিন্তু কেউ অর্পনাকে মানতে চায়না বলে আদি অর্পনার সাথে নিজের মতো করে একটা জীবন সাজিয়ে নিয়েছিলো,, যেই জীবনটা আজ এলোমেলো হয়ে গিয়েছে।

,,,, এনালোভা সিদ্বার্থকে আদ্রিয়ানের কাছে পাঠিয়েছে যেনো যেভাবেই হোক ওকে নিয়ে আমেরিকায় বেক করে তারপর তিনি দাড়িয়ে থেকে উনার ভাতিজীর সাথে আদ্রিয়ানের বিয়ে দিবেন৷ সিদ্বার্থ ও সেই আশাতেই বাংলাদেশে এসেছিলো কিন্তু আসার পর প্রথম প্রথম এনালোভার সাথে যোগাযোগ করলেও লাস্ট ১০ দিন যাবত আদ্রিয়ান কিংবা সিদ্ধার্থ কারোর কোনো ইনফরমেশন পাওয়া যাচ্ছে না। ঐদিকে উনার ভাতিজী আদির অপেক্ষায় কেদে কেটে মরে যাচ্ছে প্রায়। উপায় না পেয়ে স্বামীকে রেখেই বাংলাদেশে পদার্পন করেন এনালোভা ভেইন। আপাতত তিন দিন যাবত তিনি নিজের শ্বশুর বাড়িতে থেকেই ছেলেদের খোজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এতো লোক হায়ার করার পরেও কেউ কোনোরুপ সৎ উত্তর দিতে পারছেনা। এনালোভা ভেইন কফির কাপে চুমুক দিয়ে সামনে বসে থাকা মানব মানবীদের দিকে তাকালো। সোফায় উনার মুখোমুখি শ্বাশুড়ি বসে রয়েছে,, শ্বশুর মারা গিয়েছে দের বছর হবে। ছোট ননদ মানে আদ্রিয়ানে ছোট ফুপি সাহেরা কাইসার পার্লার থেকে মেয়েদের ডেকে এনে ফ্যাসিয়াল, প্যাডিকিওর, ম্যানিকিওর করায় ব্যাস্ত।

সে এ বাড়ির মেয়ে হলেও চাচাতো ভাইকে বিয়ে করার ফলে বর্তমানে কাইসার বাড়ির মেঝো বউ। আদ্রিয়ানের বড়ো ফুপি মানে অর্পনার মা বাংলাদেশে নেই,, সে স্বামীর সাথে ওমরা করতে গিয়েছে,, ঈদের পর ফিরবে তাই আপাতত তার ছেলে মেয়েরা কাইসার বাড়িতেই রয়েছে। সুস্মিতা কাইসার যতটা সাধারণ, উনার পরবর্তী সংসারের ছেলে মেয়েগুলো সম্পূর্ণ তার উল্টো,, প্রচন্ড রকমের অভদ্র তৈরি হয়েছে তারা। সকালে ১১ টায় ঘুম থেকে উঠে এখন খেতে বসেছে আর তাদের খাবার বেড়ে দিচ্ছে আদ্রিয়ানের ছোট চাচি। আদ্রিয়ানের চাচারা কেউ বাড়িতে নেই,, সবাই অফিসে চলে গিয়েছেন ৮ টার পরপরি। এনালোভা ভেইন হাতের কফিটা টি টেবিলে রেখে, জায়ের উদ্দেশ্যে বললেন যেনো তার ঘরে ওট্স রেডি করে পাঠিয়ে দেয়। ডায়েটের সময় ১২ টা নাগাদ খাবার খান তিনি। হুকুম করে উদ্বত নিয়ে রুমের দিকে পা বাড়ালেন বিদেশিনী,, তার প্রতিটি কদমে কদমে অহংকারের আভাস। পরনে স্লিবলেস ব্লাউজ আর মসলিন শাড়ী। ডান হাতে সোভা পাচ্ছে হিরে খচিত ব্রেসলেট আর ডান হাতে চিকন বেল্টের রিস্ট ওয়াচ। চুল কার্ল করে সামনে পিছনে ছড়িয়ে রাখা,, ছিমছাম কন্ঠদেশে হিরা খচিত সিম্পল নেকলেস,, কানে হিরে খচিত মুক্তর টপ। বিদেশিনী হওয়ায় তার চুল বাদামি বর্নের, ৪৮ বছর বয়সেও রমনির রুপ যে কাউকে মুগ্ধ করতে সক্ষম। রমনির এই রুপের তরেই হয়তো আদ্রিয়ান কাইসার এবং সিদ্বার্থ কাইসারের এমন রুপের উতপত্তি। এই মারাত্মক রুপের কদর আদ্রিয়ান না করলেও সিদ্বার্থ নিজের রুপকে ভিষন ভালোবাসে এবং সেই ভালোবাসা থেকেই মডেলিং কে নিজের ক্যারিয়ার হিসেবে গ্রহণ করেছে। সে বর্তমান নিউ-আর্কে ফেমাস কমার্শিয়াল এন্ড এডিটুরিয়াল মডেল হিসেবে পরিচিত।

,,, সিরির মধ্যভাগে পৌছাতেই একটা আন নোন নম্বর থেকে এনালোভার ফোনে কল এলো,, তিনি ভাবলেন সিদ্বার্থ হয়তো নতুন কোনো নম্বরে উনাকে কল করেছেন। রয়ে সয়ে কল ধরলেন বিদেশিনী,, মেইলি চিকন স্বরে বললেন —
,,, হেলো!! এনালোভা ভেইন স্পেকিং,,
,,, ওপাশ থেকে অত্যন্ত রুক্ষ, ভারি একটা হাসির শব্দ শুনা গেলো। হাসিটা বড্ড মাদকিয়,, এতোটাই মাদকিয় যে ৪৮ বছরের মধ্যবয়সী রমনী ও সেই হাসিতে থমকে গেলো,, এতোটা সুন্দর হাসি উনি বোধয় প্রথম শুনলেন। হাসির শব্দেই বুঝে নিলেন ওপাশের লোকটা নিশ্চয়ই হেন্ডসাম এবং সুপুরুষ হবে। এনালোভা ভেইন এবার কৌতুহল বসত প্রশ্ন করলেন — হু আর ইউ?
,,, ফোনের ওপাশে থাকা ব্যাক্তিটি হাসি বন্ধ করে ভারি স্বরে বললেন– সম্পর্কে আমি আপনার মেয়ের দেবর,,
,,, ব্যাক্তিটির কথায় অবাক হলেন বিদেশিনী– ডঠার? আমার ঠো খোনো ডঠার নেই,, জাস্ট দুঠো চেলে আচেহ!!
,,, ওপাশে থাকা ব্যাক্তিটি আবারও খানিক হাসলো বোধয় — হুম!! সু কনফিউজিং রিলেশন আমাদের,, আপনি আমার মা-ঐ মা হোন সেটা আমি জানি এবং আপনাকে ভালো করেই চিনি অথচ এতো কাছের আত্মীয় হয়েও আপনি আমায় চিনে না। ইট্স নট ফেয়ার মা-ঐ মা। হোয়াট এভার!! আমি আপনার ভাগনীর দেবর বলছি,, এবার চিনেছেন?
,,, ভাগনীর দেবর? এনালোভা ভেইন কিছুটা ভাবনায় পরলো,, গভীর ভাবনার পর বুঝলেন বোনের মেয়ের ব্রাদার ইনলোকে ভাগনীর দেবর বলে। সেই হিসেব করতে গেলে উনার তো অনেক গুলো ভাগনি রয়েছে,, তিনি কনফিউজড হয়ে জানতে চাইলেন — খার ব্রাদার ইনলো ঠুমি? ঠোমায় থো সিনথে পারচি না।
,,,ওপাশ থেকে এবার ভারি ফ্যাসফ্যাসে হাসির শব্দ ভেসে এলো,, কেপে উঠলেন এনালোভা ভেইন,, এই হাসিটাতে মাদকতা নেই,, উনার কাছে বড্ড ভয়ানক ঠেকলো। ওপাশের ব্যাক্তি উত্তর করলো — খুব শীগ্রই দেখা হচ্ছে,, আপাতত পুরো পরিবার নিয়ে বাড়ি থেকে বের হোন,, তিন মিনিটের মাঝে বোম ব্লাস্ট হবে। সম্পর্কে মা-ঐ মা হোন বলে সাবধান করলাম,, বাকিটা এস ইউর উইস।

,,, মুহুর্তেই কল কেটে গেলো,, এনালোভা ভেইন কিছু বুঝতে পারলেন না। কল কেটে যেতেই তিনি ভ্রু কুচকে ফোনের দিকে তাকালো পরপর বিষয়টা ঠাওর করতে পেরে হতচকিত হয়ে নিচে সবার দিকে তাকালো। এনালোভা কোনোদিনি সংসারের পরোয়া করেননি, আজীবন স্বামী সন্তান নিয়ে বিদেশে কাটিয়ে দিয়েছেন,, সেখানেও উনার আর উনার স্বামির মাঝে তেমন সক্ষতা ছিলো না। উনার জগত আলাদা আর উনার স্বামি ইখতেয়ার কাইসারের জগত আলাদা। ছেলেদের ও তেমন প্রাধান্য দেয়নি তিনি। নিজে তীব্র অহংকারি,, ছেলেদের ও তার মতোই বানানোর চেষ্টায় মেতে ছিলেন,, আদ্রিয়ানটা উনার মতো তৈরি হলেও সিদ্বার্থ হয়েছে নিরুত্তাপ,, সে নিজে যেটা ঠিক মনে করে সেটাই করে,, উনাকে ততোটা প্রাধান্য দেয়না। যার ফলে সিডকে উনার তেমন একটা পছন্দ ও না, দু বছর ধরে আদিও একই পথের পথিক হয়েছে,, ঐ অসভ্য মেয়েটাকে ভালোবেসে চরম অসভ্য হয়েছে,, উনাকে অমান্য করে বাড়ি ছেড়েছে। অর্পনার কথা মাথায় আসতেই চোখ বড় বড়ো করে নিলেন বিদেশিনী। হিসেব মাফিক ঐ অসভ্য মেয়েটাও তো উনার ভাগনি হয়,, অর্পনার তো বিয়ে হয়েছে,, শুনেছিলো একটা পাগলকে বিয়ে করেছে নাকি। তাহলে কি ছেলেটা অর্পনার দেবর? ভাবতেই উনার মাথা ঘুরে উঠলো,, দাম্ভিকতা নিয়ে উপরে উঠতে থাকা এনালোভা ভেইন উন্মাদের মতো সিরি বেয়ে নিচে নামতে নামতে চেচালো –“এভরিওয়ান, ইভ্যাকুয়েট! দেয়ার’স আ বম ইন দ্য হাউজ। গেট আউট ইফ ইউ ওয়ান্ট টু সারভাইভ!”
(অনুবাদঃ সবাই বের হও,, বাড়িতে বোম রয়েছে,, বাচতে চাইলে বের হও।)
,,, এনালোভার কথায় বসার ঘরে থাকা প্রতিটি ব্যাক্তি উঠে দাড়ালো,, কোনো বাদ বিচার না করেই সবাই বাহিরের দিকে ছুটে গেলো,, বাড়ির বাচ্চা থেকে শুরু করে কাজের মহিলারাও ছুটলো বাচার আশায়। আদ্রিয়ানের বৃদ্ধ দাদি খুব একটা হাটা চলা করতে পারেনা। মরার কথা শুনে হাটাচলা করতে না পারা বৃদ্ধটিও বাচার উদ্দেশ্যে ছুটে গেলেন বাহিরের উদ্দেশ্য।

,,,, কাইসার প্যালেসের সামনে সারি সারি হয়ে চারটি গাড়ি এসে থামলো। তার পিছনে তিনটে বুলডোজার আর তিনটে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি,, গাড়ি ভর্তি ফায়ার সার্ভিসের কর্মি। হঠাৎ এতো মানুষের আগমনে গেইটে পাহারা দেওয়া দারোয়ান থমকালো,, ভ্রু কুচকে সামনের গাড়ির দিকে এগিয়ে এসে প্রশ্ন করলো — কে আপনারা? এইখানে কি চাই? কিছু হয়েছে?

,,, ভিতরে থাকা কালো পোশাক ধারী মানব গুলো দারোয়ানের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন মনে করলো না। তারা গাড়ি থেকে নেমে কাইসার বাড়ির গেইটের সামনে ঘাসের উপর সাদা বিটের গুরো দিয়ে গোল সারক্যাল একে গেইটের সামনে সারি বদ্ধ ভাবে দাড়ালো। দাড়োয়ান হতভম্বের ন্যায় তাকিয়ে রইলো,, পরোক্ষনেই ভাবলো বড়ো স্যার কিংবা ছোট স্যার আসবেন হয়তো,, তাই হেলিকপ্টার ল্যান্ড করার জন্য স্যারকেল বানিয়েছেন। কিন্তু উনারা তো গার্ড রাখেন না,, গার্ড রাখার প্রয়োজন ও পরেনা। উনারা সারাজীবন বিদেশে থাকেন,, বছরে- ছয়মাসে একবার আসে,, তাদের তো তেমন শত্রু ও নেই। তাই গার্ড রাখতে হয়না। দাড়োয়ান শঙ্কা নিয়ে এগিয়ে গিয়ে একজন গার্ডের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করলো — বড়ো স্যার আসবে নাকি ছোট স্যার আসবে?
,,, গার্ডটি রোবটের ন্যায় উত্তর করলো — আসলেই দেখতে পাবেন আপাতত বাচতে চাইলে এখানেই দাড়িয়ে থাকুন নয়তো বাড়ি ফিরে যান।

,,, গার্ডটির কথার আগা গোড়া কিছুই বুঝলো না দাড়োয়ান,, সে বোকা বোকা চোখে তাকিয়ে রইলো। বাচতে হলে এখানে থাকতে হবে কেনো? আর বাড়িতেই বা যেতে বললো কেনো? কিছু সময়ের ব্যাবদানে কাইস্যার প্যালেস থেকে বেড়িয়ে এলো সবাই। প্রতিটি মানুষ বুকে হাত দিয়ে প্রানপনে বিশ্বাস গ্রহন-ত্যাগ করছে। এনালোভা ভেইন ঘন ঘন নিশ্বাস নিতে নিতে উনার পুরো পরিবারকে এক ঝলকে দেখে নিলেন। কখনো সংসারের প্রতি টান না হওয়া মধ্যবয়সি এনালোভা,, আবিষ্কার করলেন এই মুহুর্তে এসেও উনার কারোর প্রতি সামান্য টান অনুভুত হচ্ছে না। উনার সন্তানরা ঠিক থাকলেই চলবে,, আর ওদেরকে যতটা সতর্ক করেছে সেটা মানবতার খাতিরে নয়তো শ্বশুরালয়ের একজন ব্যাক্তিকেও পছন্দ করেন না তিনি। যতটা সম্পর্ক রেখেছে সেটাও সম্পদের আশায়,, যদিও উনারা আমেরিকায় সেটেল্ড,, নির্দিষ্ট কোম্পানি রয়েছে কিন্তু টাকার লোভ কে ছাড়তে পারে? টাকা যেদিক থেকে আসবে সেদিকটা সামলে রাখা জরুরি। এই বাড়িটাও শ্বাশুড়ির নামে,, তিনি শুধু এই বৃদ্ধার মরার আশায় ছিলেন,, মরলে যতোটা ভাগ পেতো সবটা সেল করে টাকা নিয়ে নিজেদের বিজন্যাস বারানো যেতো কিন্তু এখন এই মুহুর্তে এসে শুনছেন বাড়িতে নাকি বোম রাখা,, নিশ্চয়ই ফেটে বাড়িটা ভেঙে গুড়িয়ে যাবে। ইসসস!! মস্ত বড়ো লস হয়ে গেলো।
,,,, ঘরির কাটা ঠিক তিন মিনিট পার হতেই উচ্চ শব্দে পুরো কাইস্যার পেলেস ধসে পরলো সাথে সাথে ধাও ধাও করে আগুন জ্বলে উঠলো। চিৎকার করে উঠলো সবাই,, আদ্রিয়ানের দাদি চিৎকার করে মাটিতে বসে হাওমাও করে কাদতে লাগলেন। বাচ্চারা সব আতঙ্কে আদ্রিয়ানের ছোট চাচির পিছনে লুকালো। সদ্য মুখে ফেইস মাক্স লাগানো সাহেরা কাইসার আতঙ্কে দুহাতে মুখ ঢেকে নিচে বসে পরলো। উনার মেয়ের ঘরের নাতিরা ছুটে এসে জড়িয়ে ধরতেই তিনি মুখ থেকে হাত সরাতে নিলে ফেইস মাক্স হাতের সাথে লেগে চ্যাট চ্যাটে করে উঠলো,, বিরক্ত হলেন রমনি। নাক কুচকে এই চ্যাটচ্যাটে হাতেই নাতিদের জড়িয়ে নিলেন। পার্লারের মেয়েরা আতঙ্কে যেদিকে পথ পেলো ছুটে গেলো,, দাড়োয়ান ও গেলো পিছু পিছু। । বোমাটা তেমন বিপদ জনক নয়,, এটা সরকার দ্বারা অনিমদিত,, বিশাল আকারের বিল্ডিং ভাঙতে কাজে লাগে,, ঘটনাস্থল হতে ২০-২১ ফুট দূরত্ব থাকলেই নিরাপত্তা পাওয়া যায়। সবার আতঙ্কের মাঝেই ঘরঘর শব্দ তুলে ধসে যাওয়া কাইসার প্যালেসের সামনে গোল সারক্যালে হেলিকপ্টার ল্যান্ড করা হলো। এরুপ শব্দে কাইসার বাড়ির প্রতিটি সদস্য আতঙ্ক ভুলে কৌতুহল নিয়ে তাকিয়ে রইলো। ইতিমধ্যে আশেপাশে লোক এসে জড়ো হয়েছে,, কিছু কিছু মানুষ ফোন হাতে ধসে যাওয়া বিল্ডিং এর ভিডিও করছে। একেকজন একেক কথা বলছে। তবে সেসবে মন নেই কাইসার বাড়ির কারোর,, তারা কিছুই বুঝতে পারছে না। কি থেকে কি হয়ে গেলো? কে তাদের বাড়িতে বোমা রাখলো? কেনোই বা তাদের বাড়ির এই হাল করা হলো? কিছুই জানেন না।
,,, হেলিকপ্টারের ডোর খুলে নেমে এলো বিহান,, পরনে কালো শার্ট, কালো পেন্ট, চোখে রোদ চসমা, বাম কানে ইয়ার পড, বাম হাতে ওয়াচ, ডান হাতে সিলভারের চেইন আকারের ব্রেসলেট। কিছুটা দূরে কৌতুহল নিয়ে দাড়িয়ে ছিলেন এনালোভা ভেইন, বিহান দুই আঙ্গুল উপরে তুলে কপালে ঠেকিয়ে সালাম করার মতো ইশারা করে এগিয়ে আসতেই এনালোভা ভেইন ভ্রু কুচকে নিলেন। মনে মনে কিছু হিসেব কষলেন,, সমাধান যা দাড়ালো সেই অনুযায়ী এই ছেলেটাই ওনাকে কল করেছে। তেড়ে এলেন বিদেশিনী,, বিহানের সামনে এসে তর্জনী আঙুল তুলে বললেন — হেই! হাউ ডিড ইউ ইভেন ডেয়ার টু ডু দিস? আই’ম কলিং দ্য পুলিশ ইমিডিয়েটলি
(অনুবাদঃ এই ছেলে!! তোমার সাহস কি করে হয় এরকমটা করার? আমি এখনি পুলিশ ডাকবো।)

,,,, বিহান বড়ো বড়ো চুলগুলো বেকব্রাশ করে জ্বীব দিয়ে গাল ঠেলে হাসলো,, এনালোভা ভেইন আবারও থমকালেন। হুম ছেলেটা অসম্ভব সুদর্শন সাথে ছেলেটার হাসিও তবে উনার ছেলেদের মতো নয়। উনার ছেলে দুটোর থেকে চোখ সরানো দায়। ইতিমধ্যে বাড়ির গেইটে পরপর দুটো গাড়ি এসো থামলো,, একটাতে আদ্রিয়ানের বড়ো চাচা ইমরাজুল কাইসার এবং অন্যটাতে ছোট চাচা ইসফাক কাইসার। দুই ভাই ছুটে এলেন বিহান আর এনালোভা ভেইনের কাছে। বাড়িতে বোমা রাখার খবর আরও বিশ মিনিট আগে পেয়েছেন তারা তাই হন্তদন্ত হয়ে বাড়ির পথে ফিরে এসেছেন। আসার সময় ইসফাক কাইসার ও ইমরাজুল কাইসার নিজের সহধর্মিণীদেরকে হাজারটা কল করেছেন কিন্তু কেউ ধরার প্রয়োজন মনে করেনি। বাড়ির ল্যান্ড লাইন বন্ধ দেখাচ্ছিলো,, এমনকি যাকেই কল করেছিলেন সেই কলটাকে স্রেফ ইগনর করে দিয়েছিলেন। ইমরাজুল কাইসার আর ইসফাক কাইসার আসতেই এনালোভা ভেইনের করা প্রশ্নের উত্তর দিলো বিহান —

,,, আপনার দেবরদের জিজ্ঞেস করুন আমি এটা কেনো করেছি। গত সাত দিন যাবত উনাদেরকে বাড়ি ছাড়ার কথা বলছি উনারা ছাড়ছেন না,, আমারও তো ধৈর্যের একটা বিষয় আছে নাকি? বাড়ি বেঙে খুব শীগ্রই নতুন করে কাজ শুরু করতে হবে,, নিজের বাড়িতে অন্যের বসবাস মেনে নেওয়া অসম্ভব।
,,, বিহানের কথার আগা মাথা কিছু বুঝলেন না এনালোভা ভেইন,, তিনি দেবরদের দিকে তাকিয়ে শক্ত কন্ঠে জিজ্ঞেস করলেন –ইসফাক, ইমরুজ! হোয়াট ইজ দিস বয় টকিং অ্যাবাউট? ডাজ হি মিন টু ডিমলিশ দ্য হাউস অ্যান্ড রিবিল্ড ইট? হ্যাভ ইউ সোল্ড দ্য হাউস?
(অনুবাদঃ ইসফাক, ইমরুজ!! ছেলেটা এসব কি বলছে? বাড়ি ভেঙে নতুন কাজ করবে মানে? তোমরা কি বাড়ি বিক্রি করে দিয়েছো?)

,,, ইমরুজ কাইসার এবং ইসফাক কাইসার মাথা নিচু করে নিলেন,, তাদের বলার মতো কোনো ভাষা নেই৷ গত দেরমাস আগে হুট করেই একদিন মেইন অফিস গুলোতে ইনকাম টেক্সের লোক আসে। ইনভেস্টিকেশন শেষে ফলাফল স্বরুপ উনাদের হিসেবে বেশ গড়মিল পান। কাইসারদের যেহেতু কেক, ব্রেড, জুস, আইসক্রিম অর্থাৎ বেকারি এন্ড কনফেকসনারির সাথে ওয়াটার ওয়াস এন্ড সেল্স এর বিজন্যাস তাই গোডাউনেও চেক করার জন্য লোক পৌছে গিয়েছিলো। সেখানে ইনভেস্টিকেসন করার পর কিভাবে যেনো বস্তা বস্তা কর্ড়া ডোজের ড্রা*গ্স পাওয়া যায়। অথচ উনারা ড্রা*গস সম্পর্কে অবগত নয়,, এরুপ জঘন্য কাজ তারা করেওনি কোনোদিন। বিষয়টা ইনকাম টেক্সটের লোকদের বুঝাতে চাইলে তারা বুঝলেন না। তারা হুমকি স্বরুপ পুরো বিজন্যাস বন্ধ করে দেওয়ার কথা বললো। এরুপ কথা শুনে অনেক অনুরোধ করেছেন দুই ভাই,, পায়ে পরতেও বাদ রাখেনি। তখন তারা জানিয়েছিলো ইমরাজুল কাইসার এবং ইসফাক কাইসারের সাথে পরেরদিন তাদের স্যার এসে কথা বলবে। পরেরদিন তাদের অফিসে বিহান মির্জার আগমন ঘটে,, তার হাতে গোডাউনে ড্রা*গ্স পাওয়ার সম্পূর্ন প্রমান ছিলো। বিহান মির্জা এই প্রমানের বিপরীতে কাইসার প্যালেস চেয়ে বসে। যেহেতু এই বাড়িটা ছাড়াও ঢাকা তাদের আরও একটা বাড়ি আর ৪টা ফ্লাট রয়েছে তাই মেনে নিয়েছিলেন। গোপনে মায়ের রুমে গিয়ে টিপশই ও নিয়েছিলেন। বাড়ি ছাড়ার জন্য এক মাস সময় দিয়েছিলো বিহান কিন্তু উনারা বাড়ির কাউকে বিষয়টা জানাতে পারেননি। সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর বিহান আবারও বাড়ি ছাড়ার কথা বলায় আরও পনেরো দিনের সময় দিয়েছিলেন কিন্তু ৯ দিন না পেরুতেই বিহান এই কাজ করলো। তারা জানেনা বিহান কেনো এমন করছে,, তাদের সাথে কি শত্রুতা এই ছেলের। সবটা শুনার পর এনালোভা ভেইনের মাথা কাজ করা বন্ধ,, উনি খুব ভালো করে বুঝতে পারছেন সবটা এই ছেলের নিখুঁত প্লান। যা করেছে ঐ অসভ্য অর্পনার জন্য করেছে। এটুকুতে খুব একটা রাগতো না এনালোভা ভেইন কিন্তু অর্পনার মতো থার্ড ক্লাস মেয়ের জন্য কেউ এতোকিছু করবে এটা মেনে নিতে পারছে না। এনালোভা ভেইন রাগে বিহানের কলার ধরতে নিলে বিহান দূরে সরে গিয়ে কলার ঝেড়ে বললো — আমার বউ ব্যাতিত কেউ এখানে টাচ করুক আমি পছন্দ করিনা।

,,, থমথমে খেয়ে গেলেন এনালোভা ভেইন। ছেলের বয়সী একটা ছেলে উনাকে এরুপ কথা বলবেন ভাবতে পারেননি। মুহুর্তে থমথমে ভাব কাটিয়ে চেচিয়ে উঠলেন — ঐ অর্পনার মতো মেয়ের জন্য এসব করেছো? বাট হোয়াই? তার পাগল হাসবেন্ড কোথায়? নাকি স্বামী পাগল বলে তোমায় হাত করার চেষ্টা করেছে? বাজে মেয়ে একটা,, টাকার লোভে সব কর,,
,,, আর সহ্য করতে পারলো না বিহান, পিছনের পকেট থেকে লাইসেন্স প্রাপ্ত গান বের করে এনালোভার মুখে ঠেকিয়ে খেকিয়ে উঠলো– আমার বোনকে নিয়ে আরেকটা বাজে কথা বললে মুখ একদম থেতলে দিবো।
,,, আকষ্মিক কান্ডে কেপে উঠলেন এনালোভা ভেইন,, চোখ বড়ো বড়ো করে মুখে ঠেকানো গানটার দিকে তাকালো। বিহানের চোখে মুখে রাগ উপচে পরছে, রং বদলেছে,, বাড়াবাড়ি করলে স্যুট করে দিবে কনফার্ম। ইমরাজুল কাইসার আর ইসফাক কাইসার ভয়ে পিছিয়ে গেলেন,, কাইসার বাড়ির সকলেই আতঙ্কে থরথর করে কেপে উঠলো। ভীর করতে থাকা মানুষদের গর্ডরা চলে যাওয়ার জন্য ইশারা করতেই সবাই যে যার মতো দূরে সরে গেলো,, কেউ কেউ সাহস করে দাড়াতে চাইলেও গার্ডদের হাতে গান দেখে আবারও পালালো। এনালোভা ভেইন কাপা কাপা কন্ঠে বললেন — এ, এটা সরাও,, আমি কিছু বলছিনা,, আর বলবো না।
বিহান মানলো না ফের হিসহিসিয়ে বললো বললো —
,,, মনে থাকে যেনো,, অর্পনাকে নিয়ে কথা না,, ভালো, খারাপ একটাও না। ওকে?
,,,এনালোভা ভেইন মাথা ঝাকালো। বিহান গানটা সরিয়ে ঠোঁট নাড়িয়ে কাউকে আসতে বললো,, সাৎে সাথে হেলিকপ্টারের পিছনের ডোর খুলে বেড়িয়ে এলো দ্বীপ,, বিহানকে দেখে সবাই ওপাশের ব্যাক্তিটি কে হতে পারে ঠাওর করতে পারলেও এনালোভার চোখে তীব্র কৌতুহল। এখন আবার কি ড্রামা দেখাবে এই ছেলে? কাকে আসতে বললো? দ্বীপ হেলিকপ্টার থেকে নেমে অর্পনাকে কোলে তুলে নিলো,,অর্পনার শরীরে এখনো বধু সাজ,,সে এক দৃষ্টিতে তার স্বামীকে দেখতে ব্যাস্ত,, যে কিনা তাকে অপমান করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ায় সেই বাড়ি ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে। এতোটা ভালোবাসার কি খুব প্রয়োজন ছিলো? সে তো এতোকিছু আশা করেনি। সবকিছু কেমন তার আশাতীত হয়ে যাচ্ছেনা? এভাবে বিয়ে করা, বিয়ের দেনমোহর হিসেবে নিজের ভাগের ৫০% সম্পত্তি রাখা,, তারপর কোনো কথা না বলে কোলে তুলে হেলিকপ্টারে উঠিয়ে এখানে এনে এতো বড়ো সারপ্রাইজ দেওয়া। অর্পনার মনটা খুশিতে টইটুম্বুর হয়ে এলো। বধু সাজে অর্পনার দিকে তাকিয়ে আছে সবাই,, অর্পনাকে দেখে অবাক না হলেও দ্বীপ মির্জাকে দেখে অবাক হয়েছে এনালোভা ভেইন সাথে কাইসার বাড়ির সকলে। দ্বীপ মির্জার সাথে বিয়ে হয়েছে অর্পনার? দ্বীপ মির্জার সাথে? হাও ইস দেট পসিবল? অর্পনার মতো একটা উগ্র, অভদ্র, অর্ধ-ধ*র্ষিতা মেয়েকে রাজনীতি বীদ জোহান মির্জা বিয়ে করেছে? নাহ!! তারা তো শুনেছিলো অর্পনা একটা পাগলকে বিয়ে করেছে। তবে কি দ্বীপ মির্জাই সেই পাগল? ইসস!! মেয়েটা সত্যি ই লোভি, টাকার লোভে একটা পাগলকেও বিয়ে করে নিলো। একটা মেয়ে কতোটা জঘন্য হলে এরুপ কাজ করতে পারে?

,,, দ্বীপ অর্পনাকে কোলে নিয়েই সবার সামনে এসে দাড়ালো,, পরপর অর্পনাকে ইমরাজুল কাইসারের গাড়ির ঢিকির উপর বসিয়ে দিলো,, অর্পনা তীব্র অসন্তুষ্টি নিয়ে শুধালো — ছিহ হাসবেন্ড!! আপনার বউয়ের ভার এতোই বেশি হয়ে গিয়েছে যে অন্যের গাড়িতে বসালেন? পছন্দ হলোনা বিষয়টা।
,,, দ্বীপ এক হাতে কানের লতি ছুয়ে বললো — সরি!! বাট তুমি চাইলে এটা তোমার করে দেই?
,,, অর্পনা গাল বাকিয়ে বললো — নো নিড!! আমার শ্বশুরের এক্সপেন্সিভ কারের কাছে এসব কিছুই না।
,,,, অর্পনার ভাব দেখে তেতে উঠলেন এনালোভা ভেইন সাথে সাহেরা কাইসার কিন্তু গুলি খাওয়ার ভয়ে কিছু বলতে পারছে না। অর্পনা দ্বীপের শার্টের ফাকে উন্মুক্ত বুকে আঁকিবুঁকি করতে করতে বললো —
,,, এখানে কতক্ষণ আগুন জ্বলবে?
,,, যতক্ষণ তুমি চাইবে!!
,,, বাড়িটাকে তো ভেঙে গুড়িয়ে দিলেন,, এরপর এখানে কি করবেন?
,,, তোমার ২৩ বছরের জন্মদিন স্বরূপ ২৩ টা পাবলিক টয়লেট বানাবো,,
,,, দ্বীপের কথায় তাজ্জব বনে গেলো অর্পন
— সিরিয়াসলি?
,,, দ্বীপ অর্পনার দিকে গম্ভীর দৃষ্টি ফেলে সুধালো — আমাকে তোমার জোকার মনে হয় যে তোমার সাথে জোক্স করবো?

,,, অর্পনা মাথা নাড়িয়ে না বুঝালো, মানে মনে হয়না। সে নির্লজ্জের মতো সবার সামনেই ঠোঁট দাবিয়ে দ্বীপের কন্ঠনালীতে চুমু খেলো,, দ্বীপ দাতে দাত চেপে নিজেকে ঠিক রেখে সুধালো — হেপি হওনি?
,,, অর্পন মুখ তুলে সায় জানালো মানে হেপি হয়েছে। পরক্ষণেই আবদারের স্বরে বললো — শুনুন না হাসবেন্ড!!
,,, দ্বীপ গম্ভীর কন্ঠে জবাব দিলো — বলো ভেলোরা।
,,, অর্পনা সামনের দিকে আঙুল তাক করে বললো — আমি চাই এনালোভা ভেইন আর সায়েরা কাইসার আমার পায়ে ধরে ক্ষমা চাক,, আপনি কি আমার চাওয়া পুরন করবেন?
,,, অর্পনার কথায় ছ্যাত করে উঠলেন সায়েরা কাইসার — এইযে ন*ষ্টার বাচ্চা ন*ষ্টা!! এখানে এসে ন*ষ্টামি শুরু করেছিস কেনো? কে তর পায়ে দরে মাফ চাবে? সেদিন যা করেছি বেশ করেছি,, আমাদের ছেলের সাথে নষ**
,,,, হেই স্টপ!!
,,, বিহানের ধমকে কেপে উঠলো সায়েরা কাইসার। বিহান উনার দিকেই গান তাক করে রেখেছে,, সায়েরা কাইসার কাট হয়ে দাড়িয়ে থরথর করে কাপতে লাগলেন। বিহান রিভলবার নাড়িয়ে গার্ডদের ফের ইশারা করলো। গার্ডরা এসে সবাইকে আটক করে নিয়ে তাদের দিকে রিভলবার তাক করলো। দ্বীপ এখনো অর্পনাতেই বিজি, মন ভরে অর্পনাকে দেখছে। আমেরিকার মতো একটা অনিয়ন্ত্রিত দেশে জন্মগ্রহণ করার পরেও অর্পনা আর দ্বীপের আদিক্ষেতাটা বিরক্ত লাগলো এনালোভা ভেইনের। কতোটা নির্লজ্জ হলে মামা মামিদের সামনে এসব করা যায়? বিহান উনার বিরক্তি ভরা মুখের দিকে তাকিয়ে বললো — চলুন,, যান, অর্পনার পা ধরে ক্ষমা চান।
,,,, তেতে উঠলেন এনালোভা ভেইন — আমি এখোনি পুলিশ ডাকবো,, গেইম পেয়েছো এটা? যখন যা বলবে শুনতে বাধ্য হবো?

,,, তড়িত গতিতে বিহানের রিভলবার এনালোভা ভেইনের দিকে ঘুরে গেলো,, সাথে সাথে কোনো বাক্য ব্যয় না করেই ট্রিগার অন করে প্রেস করে দিলো। ভয়ে চিৎকার করে বসে পরলো বাচ্চারা। আতঙ্কে একেকজনার অবস্থা নাজেহাল। কোনোমতে দূরে সরে গিয়ে নিজেকে বাচিয়েছেন এনালোভা ভেইন। হাত পা এখনো থরথর করে কাপছে। এখানে উনার কেউ নেই, না স্বামী আর না সন্তানেরা। তিনি আজ একমুহূর্তের জন্য অনুভব করলেন জীবনে স্বামী সন্তানেরো প্রয়োজন আছে। বিহান ঠোঁটে বাকা হাসি ফুটিয়ে বললো —
,,, কিছুক্ষনের মাঝে এমনিও পুলিশ আসবে তাও আমার ইশারায় নাচার জন্য। আপনি বোধয় জানে না,, বাংলাদেশে আইন টাকায় চলে। যান এবার ক্ষমা চান,, একদম পায়ে ধরে ক্ষমা চাইবেন। যান মা-ঐ মা।
,,, এনালোভা ভেইন রাগে ফুসতে ফুসতে এগিয়ে গেলেন,, সাথে কাপা কাপা পায়ে সায়েরা কাইসার ও গেলেন। অর্পনার সামনে যেতেই সরে গেলো দ্বীপ,, ইশারায় পায়ের কাছে ইশারা করলো অর্পনা। এনালোভা ভেইন মুখে তিক্ততা ঢেলে বললেন —
,,, তোমায় আমি দেখে নিবো।
,,, অর্পনা নাক কুচকে বললো — এভাবে দেখবেন নাকি পারশোনাল্লি রুমে? আপনার মেয়েদের প্রতি ইন্টারেস্ট থাকতে পারে তবে আমার নেই। আমার জন্য আমার হাসবেন্ড ই পারফেক্ট।

,,,, এনালোভা ভেইন ঠোঁট নাড়িয়ে বললেন — অসভ্য মেয়ে!!
,,, সাথে সাথে ফায়ারের শব্দ হলো,, গুলির শব্দ শুনে সাথে সাথে অর্পনার পা চেপে ধরলো সায়েরা কাইসার,, চোখে পানি টইটম্বুর হয়ে আছে,, ফেইস মাক্স লাগানো মুখটা ভিজে চুপচুপা। অর্পনা আবারও এনালোভা ভেইনকে ইশারায় পা দেখালো। নিরুপায় হয়ে পা চেপে ধরলো দুজন,, সায়েরা কাইসার কাদতে কাদতে বললেন —
,,, ক্ষমা করে দে অর্পন,, আমি না তর আন্টি হই? আন্টি আর মা কি আলাদা? তর মা হলে এটা করতে পারতি? তর হাসবেন্ডকে বলনা মা আমাদের ছেড়ে দিতে।
,,, অর্পনা পাত্তা দিলো না, এনালোভা ভেইনকে ক্ষমা চাইতে বললে তিনি দাতে দাত চেপে বললেন — সরি!! সরি ফর মাই বিহেভিয়ার। কাইন্ডলি ক্ষমা করে দাও।
,,, অর্পনা দম্ভ দেখিয়ে পা ছাড়িয়ে নিলো। এনালোভা ভেইন অগ্নি চোখে তাকিয়ে,, অর্পনা ইশারায় ওর সামনে থেকে সরে যেতে বললো,, রাগে ফুসতে ফুসতে দূরে সরে গেলেন এনালোভা ভেইন সাথে সায়েরা কাইসার ও গেলেন। দ্বীপ অর্পনার গালে হাত রেখে সুধালো — আর ইউ হেপি মাই ব্লাড ভেলোরা?
,,, অর্পনা মাথা ঝাকিয়ে শায় জানালো,, তৎক্ষনাৎ ভেষে এলো এনালোভার কটাক্ষ স্বর– একটা অ*র্ধ-ধর্ষিতার জন এতোকিছু? ও তো অপবিত্র,, একাদিক পুরুষের ইউজ করা প্রোডাক্ট,,,

,,, সাথে সাথে গুনে গুনে তিনটে ফায়ার করা হলো,, মুহুর্তেই মাটিতে আছড়ে পরলেন এনালোভা ভেইন। সবাই বিচলিত হয়ে চিৎকার করে আকরে ধরলেন এনালোভা ভেইনকে। গুলিগুলো এমন জায়গায় লেগেছে, বাচানো যাবে কিনা সন্দেহ তবে এটুকু শিউর কখনো কথা বলতে পারবে না। একটা গুলি এসে মুখ এফোড় উফোর করে দিয়েছে। দুটো গুলি দ্বীপ করেছে আর মুখে করেছে বিহান। এতোবার ওয়ার্ন করার পরেও তার বোনকে নিয়ে বাজে কথা বলে,, একদম পা দিয়ে পিষে মুখ গুরিযে ফেলবে বিহান। দ্বীপ গভীর শ্বাস টেনে সরল স্বীকারোক্তি দিলো–

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৫৩ (৫)

,,আমার বউ,, আমার রানি,, আমার অর্ধাঙ্গিনী। আমার তৈরি করা রাজ্যে আমার তৈরি করা নিয়ম চলে ঠিকি কিন্তু আমাকে চালানোর নিয়ম শুধু আমার রানির হাতেই বন্দি। আমার নারী আমার সম্মান, আমার মাথার মুকুট,, আমার কলিজার একাংশ। আমার নারী অ*র্ধধর্ষিতা কেনো? সম্পূর্ণ ধ*র্ষিতা হলেও আমার কাছে সে সবচেয়ে পবিত্র সত্তা। দ্বীপ মির্জার জান অর্পনা,, দ্বীপ মির্জা বেচেই আছে অর্পনার জন্য। আজকের পর আমার অর্পনাকে নিয়ে যে একটা বাজে কথা বলবে তাকে এর থেকেও ভয়ানক শাস্তি দেওয়া হবে। একদম মাঝখান থেকে ছিড়ে রোদে শুকিয়ে ব্লেন্ডার করে, এ*সিডে চুবিয়ে বংশ নির্বংশ করে দিবো। কসম আল্লাহ এর!!

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৫৪

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here