Home অগ্নিশিখার অন্তরালে অগ্নিশিখার অন্তরালে পর্ব ১৯

অগ্নিশিখার অন্তরালে পর্ব ১৯

সিঁড়ির ঠিক এক কোণায় নিথর হয়ে, অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে আছে শুদ্ধ। মারের চোটে ওর চেহারা চেনা যাচ্ছে না। আর ওর ঠিক পাশেই মেঝেতে বসে শুদ্ধর মা পাগলের মতো হাউমাউ করে কাঁদছেন।
উনার সেই আর্তনাদে পুরো ড্রয়িংরুমের বাতাস যেন ভারী হয়ে উঠছে। মাত্র কয়েক মিনিটের একটা প্রলয়ঙ্কারী ঝড়ে পুরো বাড়ির পরিবেশটা এখন একদম অন্য রকম, থমথমে পরিবেশ।
সোফার এক পাশে দাঁড়িয়ে শুদ্ধর বাবা কাঁপানো হাতে ফোন বের করে নম্বর টিপে পুলিশকে কল করছেন, উনার গলা ভয়ে কাঁপছে।
অথচ কিছুক্ষণ আগেই ড্রয়িংরুমের পরিস্থিতি একদম শান্ত ছিল। কিন্তু শুদ্ধর মুখ থেকে ওই কথা শোনার পর ইয়াশের মাথা একদম গরম হয়ে যায়।
নিজের বিয়ে করা বউকে অন্য একটা ছেলে সবার সামনে দাবি করছে এই কথা শোনার পর ইয়াশ নিজের হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। সে ক্ষিপ্ত বাঘের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে শুদ্ধর ওপর এবং কোনো কিছু না ভেবেই এলোপাতাড়ি মারতে থাকে শুদ্ধকে।
ইয়াশের এই আচমকা রূপ দেখে বাড়ির সকলে ছুটে আসে মাঝখানে, কিন্তু ইয়াশকে কেউ এক চুলও আটকাতে পারছে না।
কিয়ারা চিৎকার করে ইয়াশের হাত ধরে নিজের দিকে টানার আপ্রাণ চেষ্টা করে, কিন্তু সেও ইয়াশকে থামাতে পারছে না। আবির মির্জা সোফা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে ইয়াশকে বারবার বারণ করতে থাকেন, “ছাড়ো ইয়াশ, মরে যাবে ছেলেটা!”
ওদিকে ইয়াশের বাবা আদিল মিার্জাও মাঝখানে গিয়ে ছেলেকে টেনে সরানোর চেষ্টা করে পুরোপুরি ব্যর্থ হন। শেষে ঘরের ভেতর অবস্থা পুরোপুরি বেগতিক দেখে বাইরে থেকে বাড়ির কয়েকজন হৃষ্টপুষ্ট গার্ড ভেতরে ছুটে আসে এবং তারা সবাই মিলে ইয়াশকে শক্ত করে জাপটে ধরে কোনোমতে থামায়।
গার্ডরা ধরে রাখা অবস্থাতেই ইয়াস যখন রাগে ফুঁসছিলো আর ছটফট করছিলো , ঠিক তখনই কিয়ারা আর কোন উপায় না পেয়ে ইয়াশের পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলো। কিয়ারার এই আচমকা স্পর্শ আর শরীরের উষ্ণতা পেতেই ইয়াশ যেন মুহূর্তের মধ্যে জাদু মন্ত্রের মতো অনেকটা থেমে যায় । হুট করেই যেনো তার রাগ উড়ে গেলো , মারকুটে হাত দুটো শিথিল হয়ে গেলো । মস্তিষ্কের ভেতর কিছু একটা জানান দিতেই ইয়াশ ও জড়িয়ে ধরে কিয়ারাকে ।
ছেলের এই ভয়ঙ্কর রূপ দেখে আদিল মির্জা বুঝতে পারেন ইয়াশ এখানে থাকলে আরও বড় রক্তারক্তি হবে। তাই তিনি কিয়ারাকে চোখের ইশারায় বলেন ইয়াশকে নিয়ে এখনই উপরে চলে যেতে। কিয়ারাও আর এক মুহূর্ত দেরি না করে ইয়াশকে টেনে ধরে সিঁড়ি দিয়ে উপরে নিয়ে যেতে থাকে। তবে উপরে যাওয়ার সময়ও ইয়াশের ভেতরের রাগটা একটুও কমে না। ও বারবার ঝটকা দিয়ে সিঁড়ি থেকে নিচের দিকে তেড়ে আসে শুদ্ধকে আবার মারার জন্য, কিন্তু কিয়ারা নিজের পুরো শক্তি দিয়ে ওকে শক্ত করে আটকে ধরে রাখে এবং ঘরের দিকে নিয়ে যায়।
এইদিকে নিচের ড্রয়িংরুমে তখন এক বুকভাঙা নীরবতা নেমে এসেছে। আবির মির্জা সোফায় মাথা নিচু করে বসে আছেন, অপমানে আর নিজের মেয়ের এমন কাণ্ডে উনার মুখটা একদম কালো হয়ে গেছে। তিনি আদিল মির্জার দিকে তাকিয়ে অত্যন্ত অপরাধীর মতো, অসহায় গলায় বলেন,
“ভাই… আমি সত্যিই কিছু বুঝতে পারছি না, চোখের পলকে কী থেকে কী হয়ে গেল এসব!”
শুদ্ধর বাবার রেগে গেলল আবির মির্জার কথা শুনে। উনার মনে হলো সবাই নাটক করছ। ইচ্ছে করে এমন নাটক করছে এরা। উনি আবির মির্জার দিকে রক্তচক্ষু নিয়ে তাকিয়ে বললেন, “থামুন আপনি! মুখ বন্ধ করুন! এসবই আপনাদের আগে থেকে সাজানো চালাকি। আমরা কি ঘাসে মুখ দিয়ে চলি যে কিছু বুঝতে পারছি না? আমার ছেলের সাথে আপনাদের মেয়ের বিয়ে দেবেন না, এটা মুখে পরিষ্কার করে বলে দিলেই হতো। তা না করে কেন এত বড় নাটক সাজালেন? নিজের গুন্ডা ভাতিজাকে দিয়ে আমার ছেলেকে এভাবে মার খাইয়ে নিলেন! আমি আপনাদের কাউকে ছাড়বো না, দেখে নেব!”
উনার পাশেই মেঝেতে বসে শুদ্ধর মা আঁচল দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে বললেন, “আল্লাহ এর বিচার করবেন, আল্লাহ কখনো আপনাদের ভালো করবেন না। এভাবে বাড়ি ডেকে এনে আমার ছেলেটাকে অকারণে পশুর মতো মারধর করল! আমার ছেলেটা এমনিতেই কত বড় একটা বাইক এক্সিডেন্ট থেকে কাল মাত্র হাসপাতাল থেকে ফিরেছে, শরীরটা ভালো না, আর উনারা তার ওপর এই অত্যাচার করলেন!”
আবির মির্জা কোনো কথার জবাব দিতে পারলেন না। তিনি মাথা নিচু করে অপরাধীর মতো দাঁড়িয়ে রইলেন। লজ্জায়, অপমানে উনার বুকের ভেতরটা ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছিল, আর একই সাথে ইয়াশের ওপর তীব্র ক্ষোভ ও ঘৃণা বাড়ছিল। এমন একটা উগ্র, বেয়াদব ছেলেকে নিজের আদরের মেয়ে বিয়ে করেছে ভাবতেই উনার নিজের ওপর ঘেন্না হচ্ছে। ছেলেটা বিদেশে গিয়ে এমন একটা অমানুষ আর রক্তপিপাসু পশুতে পরিণত হয়ে আসবে, এটা উনার জানা ছিল না।
আবির মির্জার অতীতটা মোটেও সাদা ছিল না। জীবনে তিনি অনেক খারাপ কাজ করেছেন, ক্ষমতা আর টাকার লোভে নিজের হাতে মানুষকে খেলনার মতো খুন করেছেন। কিন্তু যেদিন উনার ঘর আলো করে এই কন্যাসন্তানটা এসেছিল, সেদিন কিয়ারার ওই নিষ্পাপ মুখের দিকে তাকিয়ে তিনি নিজের অন্ধকার অতীতকে চিরতরে কবর দিয়েছিলেন। নিজের যত অবৈধ উপায়ে উপার্জিত সম্পদ ছিল, সব এক নিমেষে বিসর্জন দিয়ে দিয়েছিলেন। শুধু মেয়ের কপালে যেন কোনো পাপের ছায়া না পড়ে, সেই জন্য নিজের সততা আর কঠোর পরিশ্রমে সবকিছু নতুন করে গড়ে তুলেছিলেন। আর আজ? সেই মেয়েটাই কি না বিয়ে করল এমন একটা অমানুষকে, যার কোনো মান-সম্মান নেই, যে একটা সদ্য হাসপাতাল থেকে ফেরা অসুস্থ ছেলেকে এভাবে পশুর মতো পিটিয়ে জ্ঞানহীন করে দিতে পারে! যে ছেলে অন্যের ওপর এমন হিংস্র হতে পারে, সে তো সুযোগ পেলে কাল তার মেয়েটার ওপরও হাত তুলবে! ইয়াশ উনার নিজের আপন বড় ভাইয়ের ছেলে, এটা মেনে নিতেই আজ উনার সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে।
ছেলের এমন কাণ্ডে আদিল মির্জা এতক্ষণ লজ্জায় ও ক্ষোভে নীরব ছিলেন, কিন্তু পরিস্থিতি এত দূর গড়ানোর পর তিনি আর চুপ থাকতে পারলেন না। তিনি ছোট ভাই আবির মির্জার পাশে গিয়ে দাঁড়ালেন এবং অত্যন্ত ভাঙা ও অনুশোচনায় ভরা গলায় বললেন,
“আমি কখনো ভাবিনি রে আবির, নিজের ছেলেকে আমি একটা ভালো মানুষের মতো মানুষ করতে পারব না। এটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা, বাবা হিসেবে আমার পরাজয়।”
এইদিকে উপরের ঘরে….
ওপরের ঘরে পা রাখতেই ড্রয়িংরুমের সেই তীব্র চিৎকার আর হট্টগোল কিছুটা আবছা হয়ে এলো। কিন্তু ইয়াশের ভেতরের উত্তেজনা তখনও বিন্দুুমাত্র কমেনি। সে আবারো দরজা ঠেলে নিচে যাওয়ার জন্য প্রচণ্ড ছটফট করতে লাগলো, তার চোখ-মুখ দিয়ে যেন আগুন ঝরছিল। কিয়ারা আর এক সেকেন্ডও দ্বিধা না করে ঝটপট খিল তুলে ঘরের দরজাটা লক করে দিল।
তারপর ইয়াশের একদম মুখোমুখি গিয়ে দাঁড়িয়ে চোখে চোখ রেখে তীব্র ধমকের সুরে বলে উঠল, “আর কত মারবেন ওকে? লোকটা তো ওখানেই মরে যাবে! অলরেডি আধমরা হয়ে গেছে ও। আপনি এমন পশুর মতো আচরণ কেন করছেন? কী এমন ক্ষতি করেছে ও আপনার?”
কিয়ারার মুখে শুদ্ধর পক্ষ নিয়ে কথা বলাটা ইয়াশের জলন্ত রাগে যেন পেট্রোল ঢেলে দিল। সে কিয়ারার দুই কাঁধ শক্ত করে চেপে ধরে আরও হিংস্র গলায় গর্জে উঠল, ” ও কেনো তোকে বিয়ে করতে চাইলো? তুই আমার বউ তোকে কেনো বিয়ে করতে চাইবে ও? অ্যানসার মি স্টুপিড!”
কিয়ারা স্তব্ধ হয়ে গেল। এই ধারালো প্রশ্নের কোনো উত্তর তার জানা ছিল না, তাই সে নিশ্চুপ হয়ে রইল। কিয়ারাকে চুপ থাকতে দেখে ইয়াশের রাগ যেন দ্বিগুণ হয়ে গেল। সে ঝটকা দিয়ে কিয়ারাকে সরিয়ে দিয়ে ঘরের দেয়ালে একটা ঘুসি মেরে বলল, “ওকে ওইটুকু মেরে আমার মনের শান্তি হয়নি। আমি নিচে গিয়ে ওটাকে টেনে হিঁচড়ে ছাদ থেকে নিচে ফেলে দেবো!”
ইয়াশের এই চরম উন্মাদনা দেখে কিয়ারার ভেতরের জমে থাকা সবটুকু কষ্ট আর ক্ষোভ একবারে উগরে এলো। সে ক্লান্ত আর ভাঙা গলায় বলল, “তাহলে সাথে আমাকেও ছাদ থেকে ফেলে দিয়েন! কারণ যত নষ্টের মূল তো আমিই। আপনার বউ হতে গিয়ে আমার মেয়ে হওয়া আর হলো না। আজ পাপার সামনে আমি অপরাধী হয়ে গেলাম!”
পাপার ভালো মেয়ে হওয়া হলো না কিয়ারার এই কান্নাভেজা কণ্ঠ আর অসহায় আত্মসমর্পণ ইয়াশের বুকে গিয়ে তীরের মতো বিঁধল। তার চোখ দুটো রাগে ও এক অজানা আশঙ্কায় একদম লাল হয়ে উঠল। সে বড় বড় চোখ করে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল কিয়ারার বিষণ্ণ মুখটার দিকে। কিয়ারার হঠাৎ করেই ইয়াশের এই স্তব্ধ রূপ দেখে কেমন যেন মায়া হলো। সে নিজের অজান্তেই হাত বাড়িয়ে ইয়াশের শক্ত হয়ে থাকা গালে আলতো করে ছুঁয়ে দিল।
কিয়ারার হাতের সেই নরম ছোঁয়া পাওয়া মাত্রই ইয়াশের ভেতরের সমস্ত হিংস্রতা যেন এক পলকে কর্পূরের মতো উড়ে গেল। সে কোনো কিছু না ভেবেই এক ঝটকায় কিয়ারাকে নিজের বুকের ভেতর শক্ত করে জড়িয়ে ধরল, যেন কিয়ারাকে ছেড়ে দিলে সে এখনই হারিয়ে যাবে। অত্যন্ত হিংস্র একটা মানুষ মুহূর্তের মধ্যে একদম ছোট বাচ্চাদের মতো অবুঝ আর আবেগপ্রবণ হয়ে উঠল।
সে কিয়ারার চুলের মাঝে মুখ লুকিয়ে আদুরে, ভাঙা গলায় আবদার করে বলল,
“আমার সাথে সংসার করবি মুরগির বাচ্চা? আমাকে একটু ভালোবাসবি তুই?”
হুট করে ইয়াশের এই অভাবনীয় পরিবর্তনে কিয়ারা কোনো উত্তর খুঁজে পেলো না। সে কাঠের মতো সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
ইয়াশ কিয়াকে আরও নিবিড়ভাবে জড়িয়ে ধরে তার গলার নরম ভাঁজে নিজের মুখ গুঁজে দিল। ফিসফিস করে বলতে লাগল, “আমি তোকে ছোট থেকে ভালোবাসি কিয়ারা। তুই তো আমারই বউ, তাই না বল? তাহলে ও কেন সবার সামনে তোকে আবার বিয়ের কথা বলবে? আমার বউকে ও অন্য ঘরে নিয়ে যাওয়ার সাহস দেখায় কী করে!”
ইয়াশের এই কথাগুলো কিয়ারার কানে একদম ছোট বাচ্চাদের জেদ আর অভিমানের মতো শোনাল। একটা মানুষ একটু আগেই নিচে একটা ছেলেকে প্রায় মেরেই ফেলছিল, আর এখন সে একটা বাচ্চার মতো ভালোবাসার ভিক্ষা চাইছে! ইয়াশের গলার উষ্ণ নিঃশ্বাস কিয়ারার ঘাড়ের ওপর পড়তেই তার পুরো গা শিউরে উঠল। ইয়াশ কিয়ারাকে বুক থেকে সামান্য সরিয়ে তার চোখের দিকে তাকিয়ে আকুতি জড়ানো গলায় আবার বলল,
“তোর বাবার কথা শুনে আমাকে ছেড়ে চলে যাস না প্লিজ! তুই আমার খুব শখের জানিস? আমার সাথে একটু সংসার কর প্লিজ? আমাদের একটা ছোট্ট, সুন্দর সংসার হবে। তুই যা বলবি আমি তাই শুনব, আমি আমার সব পাপ কাজ, মারামারি আজ থেকে ছেড়ে দেবো!”
কিয়ারা আর কিছু না বলে ইয়াশের হাত ধরে তাকে নিজের বিছানার দিকে নিয়ে গেল। ইয়াশকে এভাবে কাছ থেকে দেখার পর ওর কেন জানি মনে হতে লাগল, এই লোকটার হয়তো কোনো মানসিক সমস্যা আছে। যে হুট করে চরম রেগে গিয়ে সবকিছু ধ্বংস করে দিতে পারে, আবার রাগ কমলে একদম অবুঝ বাচ্চার মতো গুটিয়ে যায়। কিয়ারা বিছানায় বসে ইয়াশের দিকে তাকিয়ে নরম গলায় বলল, “আসুন, অনেক ধকল গেছে আপনার ওপর দিয়ে। আমার কোলে মাথা রাখুন, আমি আপনাকে ঘুম পাড়িয়ে দিচ্ছি।”
ইয়াশ যেন এই কথাটার জন্যই অপেক্ষা করছিল। সে একটুও দ্বিধা না করে বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে কিয়ারার কোল জুড়ে নিজের মাথাটা রাখল। কিয়ারার শাড়ির আঁচলটা একহাতে শক্ত করে মুঠো করে ধরে সে মুখ তুলে কিয়ারার পেটের ওপর আলতো করে একটা চুমু আঁকল। তারপর তার চোখের দিকে তাকিয়ে গভীর আকুতি নিয়ে ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করল, “তোর পেটে আমার অস্তিত্ব বড় হতে দিবি বাটারফ্লাই?”
নিচে….
এরমধ্যেই বাড়ির বাইরে সাইরেনের শব্দ শোনা গেল। একে একে ড্রয়িংরুমে এসে পৌঁছাল অ্যাম্বুলেন্স এবং পুলিশের একটা বড় দল। শুদ্ধর বাবা আর এক মুহূর্ত দেরি না করে পুলিশের বড় কর্মকর্তার কাছে গিয়ে ঘটে যাওয়া সব ঘটনা খুলে বললেন এবং ইয়াশের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানালেন।
কিন্তু যেই মুহূর্তে পুলিশ কর্মকর্তা জানতে পারলেন যে অভিযুক্ত ব্যক্তিটি আর কেউ নন, স্বয়ং বিত্তশালী এবং প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ইয়াশ মির্জা, অমনি উনাদের চেহারার রঙ বদলে গেল। ইয়াশ মির্জার ক্ষমতার জোর আর আইনের ওপর উনার প্রভাব কতটা, তা পুলিশের খুব ভালো করেই জানা ছিল। তাই আইনি ঝামেলা বাড়ানোর সাহস না দেখিয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা অত্যন্ত কৌশলে পিছু হটার রাস্তা খুঁজলেন। যাওয়ার আগে শুদ্ধর বাবাকে সান্ত্বনা দেওয়ার সুরে নিচু গলায় বললেন, “আমরা বিষয়টি দেখছি, পরে আপনার সাথে থানায় এই ব্যাপারে বিস্তারিত দেখা করে কথা বলব।”
এই বলেই পুলিশ দলবল নিয়ে দ্রুত বাড়ি থেকে চলে গেল। ওদিকে শুদ্ধকে স্ট্রেচারে করে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার তোড়জোড় শুরু হলো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here