Home অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা পর্ব ১০

অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা পর্ব ১০

অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা পর্ব ১০
শ্রাবণী ইয়াসমিন

বন্ধ দরজার ভিতর থেকে ভেসে আসছে মেয়েদের চিৎকার, গোঙানি, ছিঁড়ে যাওয়া কান্না। একেকটা কণ্ঠ যেন মৃত্যুর মুখ থেকে উঠে আসছে আবার হারিয়ে যাচ্ছে কোনো অন্ধকার গহ্বরে।
এই ঘরটা একরকম ল্যাব তবে ওষুধ বা বিজ্ঞান নয়, এখানে পরীক্ষিত হয় ভাঙা আত্মা, থেঁতলানো শরীর, বিক্রি হয়ে যাওয়ার আগের শেষ অবস্থা।
ভেতরে প্রায় বিশ জন কিশোরী মেয়ে কারো গায়ে কোনো কাপড় নেই, কেউ টেনেটুনে নিজের শরীর ঢাকার জন্য শুধু ওড়নার টুকরোটা আঁকড়ে আছে, কেউ এক কোণে গুটিশুটি হয়ে নিজেকে চেপে ধরেছে যেন শরীরটাই লুকাতে পারলে বাঁচতে পারবে।
একটা পাতলা বিছানায় এখন একজন কিশোরী মেয়ে। বয়স বড়জোর ষোলো কি সতেরো । তার মুখে রক্ত, ঠোঁট ফুলে আছে, গালপাশে নখের আঁচড়। সে চিৎকার করছে না আর শুধু নিঃশ্বাস নিচ্ছে ভেঙে পড়া গলায়।
তার হাত দুটো উপরের রডে বাঁধা একজন লোক সেটা ধরে রেখেছে, আরেকজন নিচে দাঁড়িয়ে আছে খালি গায়ে, কিন্তু চোখে হায়েনার ক্ষুধা।

— আরেকটু দাঁড়া, এবার নিচেরটা খোল। সে হাসে, একটা বিকৃত, পশু হাসি।
অপর লোকটি মেয়েটার নিচের অংশ উন্মুক্ত করতেই সামনে ঝুকে থাকা লোকটি আর নিজের লালসা সামলাতে পারলো না। সে মেয়েটির ওপর ঝাপিয়ে পড়ল একটি ক্ষুধার্ত হায়নার মত।
মেয়েটির বুকের স্পর্শকাতর স্থানটিতে লোকটা এমন ভাবে খুবলে খাচ্ছিল যেন নিজের দাঁত দিয়ে সেই অংশ টেনে ছিড়ে ফেলতে চাচ্ছে। মেয়েটি কষ্টে ছটফট করতে থাকে দুর্বল শরীর নিয়ে তবুও কোনো চিৎকার করতে পারেনা। কারণ তার মাথার ওপর বসে থাকা লোকটা তার মুখ চেপে ধরেছে। শুধু গোঙানির শব্দ ছাড়া আর কোনো শব্দই বের হচ্ছে না।
তার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে আরও দুই পুরুষ তারা দেখে, শেখে, আর চোখ দিয়ে গিলে খায় মেয়েটার প্রতিটি অসহায়তা।
এমন সময় দরজার পাশে রাখা হাইব্যাক চেয়ারে বসে থাকা পুরুষটা সিগারেট ধরায়।
ভিক্টর ক্রুজ।

কালো ট্রাউজার, খোলা বুক, গলায় একটা সিলভার ক্রস লটকে আছে। চোখে ঠান্ডা বিষ, আর ঠোঁটে ধোঁয়ার ছায়া।
সে এক হাত দিয়ে কাচের গ্লাসে হুইস্কি ঘোরায়, আর অন্য হাতে সিগারেট চেপে ধরে, চুপচাপ দেখে। যেন এই দৃশ্য তার কাছে সিনেমা যেটার প্রতিটি স্ক্রিপ্ট তার লেখা।
হঠাৎ মেয়েটার দেহ ঝাঁকুনি দিয়ে নিস্তেজ হয়ে যায়।
তার মাথাটা পাশে গড়িয়ে পড়ে, চোখ আধখোলা, ঠোঁট কাঁপছে না আর।
ভিক্টর আরেকবার সিগারেটের শেষটুকু টান দেয়। তার চোখ কুঁচকে ওঠে। একটানা তাকিয়ে থাকে মেয়েটার শরীরের দিকে।
তারপর গলার রগ কেটে যাওয়া কণ্ঠে বলে—

— ইফ শি’জ ডেড, আই সুয়্যার আই’ল ফা*কিং বার্ন ইউ অ্যালাইভ।
— প্রতিটা জীবিত পাঠানোর কথা ! একটাও মেয়ে মরলে বুঝে নিস, তোদের হাড় পর্যন্ত কেউ খুঁজে পাবে না।
ঘরটা হিম হয়ে যায়। পুরুষগুলো মেয়েটার নিঃশ্বাস আছে কি না দেখতে ঝুঁকে পড়ে।
— জ্ঞান হারিয়েছে কিন্তু বেঁচে আছে, বস। বেঁচে আছে।
ভিক্টর উঠে দাঁড়ায়, গ্লাসটা ধীরে চুমুক দিয়ে ফেলে।
— ওকে মেড রুমে পাঠাও। আরও দুদিন লাগবে। এক চুল যেন দাগ না পড়ে।
হঠাৎ আচমকাই একটা মেয়ে উঠে হুইস্কির কাচের বোতল টা উঠিয়ে ভিক্টর এর দিকে ছুটে যায়। তবে ভিক্টর সাথে সাথে সরে গিয়ে মেয়েটার হাত চেপে ধরে সে মেয়েটার গালে একটা চড় বসিয়ে দেয়। মেয়েটা দুর্বলতার জন্য এক থাপ্পড়েই ফ্লোরে পড়ে যায়।
ভিক্টর মেয়েটার দিকে ঝুকে চুলের মুঠি শক্ত করে খিচে ধরে বাকা হেসে বলে,
— তুই আমাকে চিনিস নি মনে হয় তাইনা? একটা ছোট ভুল করে ফেললি। ভেবেছিলাম তোদের পাঠানোর আগে তোদের আর কিছু করবো না। তবে তা আর হলো না বোধ হয়।
এই বলেই ভিক্টর উঠে দাঁড়িয়ে সেইখানে উপস্থিত এক লোক এর দিকে একটা সিগারেট বাড়িয়ে দিয়ে বলে,

— সিল করে দিস এইটাকে। আবার খেয়াল রাখিস বেচে থাকে যেন।
ভিক্টর রুম থেকে বেরোতেই তার পোষা জানোয়ার গুলো যেন আরও হিংস্র হয়ে উঠলো। তারা মেয়েটির হাত দুটো শক্ত করে সেই বিছানার সাথে বেধে নিলো। এরপর পা দুটো কিছুটা ওপরের দিকে তুলে দুই পা দুই দিকে রডের সাথে বেধে দেয়।
সম্পূর্ণ উলঙ্গ অবস্থায় মেয়েটি বাধা অবস্থায় এক বিভৎস দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। হঠাৎই এক লোক এগিয়ে এসে ভিক্টর এর দেওয়া সিগারেট জ্বালিয়ে নিজের ঠোঁটের ভাজে নিয়ে একটা টান দিয়ে মেয়েটার মুখের সামনে গিয়ে ধোয়া ছাড়ে। এরপর লোকটা ফিসফিস করে বল,
— একটু আগেই দুবার করে মা/ল বের করেছি। এখন আর ইন্টারেস্ট পাচ্ছি না। এখন বরং তোর মা/ল টা বের করে দেই। তোর তো মনে হয় মা/ল পড়ে যাচ্ছিলো তাই আমাদের স্যার এর কাছে গিয়েছিলি।
এই বলে লোকটা বাজে ভাবে হাসতে থাকে।
এরপর লোকটা মেয়েটার পায়ের কাছে গিয়ে বসে পড়ে। আর কেউ কিছু বুঝে উঠার আগেই মেয়েটার
ভ্যা*জা*ই*নার একটু ওপরের নরম অংশে সিগারেট টা চেপে ধরে। মেয়েটার চিৎকার বাহিরে যাওয়ার আগেই অপর লোক তার মুখ চেপে ধরে। মেয়েটা পানি ছাড়া মাছের মত ছটফট করতে করতে নিস্তেজ হয়ে পড়ে।

আনায়ার পায়ের নিচে ধাতব মেঝেটা ঠান্ডা। তার শরীরজুড়ে এখনো জ্বরের হালকা ছাপ, তবুও কৌতূহল তাকে ঠেলে নিয়ে এসেছে এই ঘরে। সে ধীরে ধীরে পা ফেলে রুমটা ঘুরে ঘুরে দেখছে।
বুকের উপরে আলগা হয়ে ঝুলে থাকা জেভিয়ারের শার্টটা হাঁটু পর্যন্ত নেমে এসেছে। তার ছোট্ট শরীরটাকে কিছুটা ঢেকে রাখলেও, পেছন থেকে জ্যোৎস্নার মতো কম্পিউটার স্ক্রিনের আলোয়, তার খালি ফর্সা পা দুটোর অবয়ব ছুঁয়ে যায় আলোছায়ার রেখায়।
আনায়ার উচ্চতা ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি আর জেভিয়ার ৬ ফুট ১।
জেভিয়ার এর পাশে দাঁড়ালে, ও যেন একটা ছোট্ট চড়ুই পাখি, আর সে এক রহস্যে মোড়া গাঢ় ছায়া।
ঘরটা যেন অন্য এক পৃথিবী। পুরো দেয়ালজুড়ে স্ক্রিন, সার্ভার, কোডিং টার্মিনাল, এনক্রিপ্টেড নেটওয়ার্ক মনিটর। একটা প্রান্তে স্টিলের র‍্যাক তাতে শুধু হ্যাকিং বিষয়ক বই। যত ধরনের হ্যাকিং এক্সপ্লয়ট, ডার্কনেট অপারেশন, সাইবার জঙ্গলের গাইড সব আছে। আর প্রতিটা বইতে চিহ্ন পড়ার দাগ, নোট, কোড ফাঁসের ইঙ্গিত।
আনায়ার চোখ বারবার থামে, আবার ছুটে চলে এক যন্ত্র থেকে আরেক বইয়ের দিকে।

হঠাৎ সে থেমে যায়। দরজার ফ্রেমে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে জেভিয়ার। শুধু একটা কালো ট্রাউজার পরা। খালি গা। তার বুক থেকে শুরু হয়ে প্রশস্ত পিঠ, ছড়িয়ে পড়েছে দুই কাঁধের ভারে। মাঝারি উচ্চতার স্লিম ফিগার, তবে এমনভাবে গঠিত যেন প্রতি ইঞ্চিতে শক্তি আর ভারসাম্যের এক নিখুঁত মিশেল।
চিকন কোমর, পরিষ্কার সিক্স-প্যাক, মসৃণ ত্বক আর সেই গভীর চোখজোড়া, যেগুলোর দৃষ্টি যেনো ছুঁয়ে যায়, এমনকি তার অবচেতনেও।
জেভিয়ার তাকিয়ে আছে। এক দৃষ্টিতে। তার ঠোঁটে নেই কোনো হাসি, কিন্তু চাহনিতে আছে নিখাঁদ আগ্রহ।
সে যেনো এই মেয়েটার প্রতিটি মুভমেন্ট নোট করে নিচ্ছে, যতটা সে কোনো সফটওয়্যারের লুপ ধরতে চায়।
আনায়ার দৃষ্টি আচমকাই তার চোখে পড়ে। সে থেমে যায়। একটু লজ্জা পেয়ে চোখ নামিয়ে নেয়। তার চোখ আবার উঠে আসে।

এবার আর চেহারায় থেমে থাকে না দৃষ্টি। চোখ নামিয়ে আনে ধীরে জেভিয়ারের গলা, বুক, পেট কোমর হাঁটু পর্যন্ত। প্রতিটি লাইন, প্রতিটি পেশির খেলা যেনো একরকম অস্বস্তিকরভাবে আকর্ষণীয়। সে আগে কখনও খেয়াল করেনি এই ছেলেটার শরীর এতটা নিখুঁত, এতটা শার্প।
আনায়ার বুক ধীরে ধীরে ওঠানামা করে। সে বুঝতে পারছে না সে ভয় পাচ্ছে, নাকি এই অনুভূতিটা কিছুটা অন্যরকম?
জেভিয়ার হঠাৎ আনায়ার দিকে এগিয়ে গিয়ে ঠোঁটের এক পাশে এক টুকরো বাঁকা হাসি টেনে বলে,
— লাভ বার্ড, তুমি না আমার সামনে অলওয়েজ এইভাবেই থাকবে। আমার শার্টই পড়বে নিচে বা শার্ট এর ভেতর কিছু না পড়লেও হবে। তোমাকে এইভাবেই সুইট লাগছে।
আনায়া কিছুটা আড়ষ্টতায় চোখ নামিয়ে ফেললো আর জেভিয়ার এর শার্ট নিচের দিকে টানতে লাগলো যেন টানলে শার্টটা লম্বা হয়ে তার পা ঢেকে যাবে।
আনায়ার এহেন কান্ডে জেভিয়ার হেসে দিয়ে আনায়াকে পাজা কোলে তুলে নিলো। এরপর নাকের সাথে নাক ঘষতে ঘষতে বললো,

— এখন আমরা ওপরে যাই? ক্ষুধার্ত আমি।
আনায়া হাবলা চোখে তাকিয়ে বললো-
— মাত্রই না খেয়ে নিচে এলে আবার খাবে?
জেভিয়ার ঠোঁট কামড়ে হেসে ফেলে বড় বড় পা ফেলে রুম থেকে বেরোতে থাকে আর বলে,
— নাও আই ওয়ান্ট টু ইট ইউ, আন্ডার্সট্যান্ড বেইবী?
আনায়ার শিরদাঁড়া দিয়ে যেন একটা শীতল স্রোত গড়িয়ে যায়। তার শরীরে একটা অন্যরকম শিহরণ হতে থাকে। তার শরীরের লোমকূপ দাঁড়িয়ে যায়।
জেভিয়ার আনায়াকে নিয়ে তাদের বেডের ওপর বসিয়ে দিয়ে আনায়ার সামনে হাটুগেড়ে বসে আনায়ার দিকে এক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে যেন তার চোখগুলো কত বছর ধরে তৃষ্ণার্ত।
জেভিয়ারের আঙুল আনায়ার গাল ছুয়ে ঠোঁটের কোণে এসে থামে। সে আনায়ার ঠোঁট স্লাইড করতে থাকে এরপর একদমই ধীর কণ্ঠে বলে,

— তুমিময় নেশা আমার সব থেকে বড় নেশা। যে নেশা আমায় প্রতি মহূর্তে ডুবিয়ে মারছে।তুমি সারাজীবন আমার হয়ে থাকবে। কেউ তোমার দিকে চোখ তুলে তাকালেও আমি সেইটা টলারেট করবো না জান।
জেভিয়ার আনায়ার ঠোঁটে নিজের ঠোঁট মেশায়। তার উষ্ণ জিহ্বা আনায়ার ঠোঁট ভিজিয়ে দিচ্ছে। আনায়া চোখ বুজে নেয়। সে জেভিয়ার এর কাধে হাত রাখে। জেভিয়ার আনায়ার কোমড় ধরে কাছে টেনে নিয়ে আসে। এরপর শার্ট এর ভেতর দিয়ে হাত গলিয়ে তার বুকের উচ্চতমস্থানে নিয়ে যায়। সেইখানে হালকা চাপ প্রয়োগ করতেই আনায়া চোখ খিচে বন্ধ করে করে নেয়।
জেভিয়ার আনায়ার শার্ট এর বোতাম খুলতে থাকে। তার সামনে দৃশ্যমান হয় আনায়ার ফর্সা উন্মুক্ত দেহ। যা তাকে চুম্বকের মত টানছে। জেভিয়ার আনায়ার দিকে এগোতে এগোতে বলে,

— উফফ জান, তুই আমাকে মেরেই ফেলবি তোর এই ফিগার দেখিয়ে।
সে আনায়ার বুকের ওপর ঝাপিয়ে পরে যেন বহু প্রতিক্ষার পর সে তার কাঙ্খিত জিনিস টি পেয়েছে।
আনায়া মুখ দিয়ে গোঙানির মত শব্দ করতে থাকে। আনায়ার দেহের প্রতিটি অংশে জেভিয়ার এর চুম্বনের গভীরতা প্রকাশ পাচ্ছে।
জেভিয়ার আনায়ার নাভীমূলে নিজের উষ্ণ জিহ্বা ছোয়ায়। আনায়া বিছানার চাদর খামচে ধরে।জেভিয়ার ধীরে ধীরে নাভীর নিচে যেতে থাকে। সে নিচে সবচেয়ে স্পর্শকাতর স্থানটিতে নেমে যায়। জেভিয়ার গরম নিশ্বাস আনায়াকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দিচ্ছে।
আনায়া জেভিয়ার এর চুল খামচে ধরে। জেভিয়ার আনায়ার কোমড় শক্ত করে চেপে ধরে সে আনায়ার সব শক্তি সে আজ শুষে নিতে চায়। জেভিয়ার আনায়ার হাতের আঙুল নিজের মুখে পুড়ে নেয়। আনায়া কষ্টের পাশাপাশি আজ যেন সুখের সাগরেও ডুব দিয়েছে।
হঠাৎ জেভিয়ার আনায়ার কানের কাছে এসে বলে,

— শ্যুড আই গো জাস্ট আ লিটল বিট হার্ডার, লাভ বার্ড?
আনায়া নিজের অবচেতন মনেই বলে উঠে,
— ইয়েস, প্লিজ জেভিয়ার।
জেভিয়ার বাকা হেসে আনায়ার কোমড়ে হালকা চাপ দিয়ে আরও কাছে এনে বলে,
— ওওহ ফা*ক ইউ বেইবি।
আনায়া কিছুক্ষণ পর ফিসফিস করে বলে,
— লাভ ইউ জেভিয়ার….. ভালোবাসি।

মামাবাড়ির উঠানে পা রাখতেই একটা অদ্ভুত নিস্তব্ধতা আনায়ার শরীর ঘিরে ধরে। বাড়িটার চারপাশে মানুষের ভিড় প্রত্যেকেই একটার পর একটা ফিসফিস করে কথা বলছে, কেউ চোখে জল মুছে নিচ্ছে, কেউ আবার কিছু না বলেই চুপচাপ দাঁড়িয়ে। তবে একটা জিনিস সবার চোখে মুখে আতঙ্ক।
বাড়ির মাঝের ছোট্ট একটা ঘরের দরজার সামনে ভিড় করে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় বিশ-পঁচিশ জন মানুষ। বেশিরভাগই নাকে রুমাল চেপে রেখেছে। ঘর থেকে বেরোচ্ছে কাঁচা রক্তের গন্ধ, যেন কেউ একেবারে তাজা কোনো দুঃস্বপ্ন ছড়িয়ে দিয়েছে বাতাসে।
আনায়া কাঁপা কাঁপা হাতে সেই ভিড় ঠেলে সামনে এগোয়। তার পায়ের নিচের জমিন যেন আলগা হয়ে যাচ্ছে। বুকের ভেতরে এক দলা কিছু জমে আছে তা কান্না, না ভয়, না শক সে নিজেও জানে না। শুধু ধীরে ধীরে সামনে এগোতেই হঠাৎ তার পা থেমে যায়।

অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা পর্ব ৯

ঘরের ভেতরের দৃশ্য তার চোখে এসে আঘাত করে।
দোলনা চেয়ারে বসে আছে তার নানুআপা। কিন্তু সেটি কোনো আরামদায়ক বসা নয় চেয়ারের হ্যান্ডেলে তার হাত দুটো শক্ত করে চেপে ধরা, যেন মৃত্যুর শেষ মুহূর্তেও তিনি কিছু আঁকড়ে ধরেছিলেন। তার গলা চিরে ফেলা লাল র*ক্ত যা তার পোশাক সহ চেয়ারও ভিজিয়ে দিয়েছে। আর চোখদুটো অস্বাভাবিকভাবে খোলা ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে ওপরের সিলিং ফ্যান এর দিকে।……….

অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা পর্ব ১১