Home অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা পর্ব ১৪

অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা পর্ব ১৪

অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা পর্ব ১৪
শ্রাবণী ইয়াসমিন

আনায়ার গলার ভেতরটা যেন মরুভূমি হয়ে গেছে। গলা শুকিয়ে আসছে, নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে, তবু চোখ ফেরাতে পারছে না। জেভিয়ারের আগের সেই ভয়ংকর আচরণগুলো সব যেন হঠাৎ করেই তার মস্তিষ্ক থেকে মুছে গেছে। শুধু শরীরের ভিতর থেকে একধরনের উন্মত্ত শিহরণ উঠছে, ধীরে ধীরে।
ঠিক তখনই জেভিয়ার নিজের গায়ের শার্টটা একটানে খুলে ফ্লোরে ছুঁড়ে ফেলে। এক মুহূর্তে আনায়ার সামনে উন্মুক্ত হয় তার বলিষ্ঠ, শিরা ওঠা বুকে সেই শিকারির মতো হিংস্র কাঠামো। গভীর ছায়ার মতো তার পেশিগুলোতে আলো পড়ছে আর আনায়া চোখ মেলেই তাকিয়ে থাকে।

জেভিয়ার ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে আসে ঠোঁটে সেই অদ্ভুত, নেশাগ্রস্ত হাসি।
আনায়া টেবিলের ওপরই ধীরে ধীরে পেছাতে থাকে। তবে আচমকাই জেভিয়ার আনায়ার দু পা ধরে টেনে তার একদম বুকের কাছে নিয়ে আসে। আনায়া জেভিয়ার কে কেন যেন দূরে সরিয়েও দিতে পারছেনা।
তবে তার নিজের ভেতর এক ধরনের অস্বস্তি কাজ করছে। তার চোখে পানি টলমল করতে লাগলো, চোখের পাতা বন্ধ করলেই যেন টপ করে চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়বে।
জেভিয়ার দু হাতের আঁজলায় আনায়ার মুখ ধরে উচু করে। আনায়া চোখ বুজে ফেলে আর সাথে সাথে আনায়ার চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে। জেভিয়ার এর চেহারা কিছুটা গম্ভীর হয়। সে হাটু গেড়ে আনায়ার সামনে বসে পড়ে আনায়ার দুহাত নিজের হাতের মুঠোয় পুরে নিয়ে বলে,
– আর কষ্ট দেবো না। তুমি শুধু আমার বাধ্য মেয়ে হয়ে থাকো।
আচমকাই আনায়া জেভিয়ার কে জড়িয়ে ধরে ফুপিয়ে ওঠে,

– আমি সত্যি তোমাকে ভালোবাসি জেভিয়ার। আমি সেই পুরোনো জেভিয়ার কে চাই। তোমার কর্মকান্ড গুলো আমার মনে ভয় ধরিয়ে দিচ্ছে। তোমার উগ্র আচরণ, ডমিনেটিং স্বভাব, এর সবকিছুর চাপ আমি নিতে পারছিনা।
জেভিয়ার আনায়ার চোখের পানি নিজের আঙুল দিয়ে মুছে ফেলে বলে,
– ফাইন। তুমি ভয় পাবে এমন কাজ করবো না কখনো।
আনায়া জেভিয়ার কে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে,
– আমি জানি তুমিও আমাকে ভালোবাসো তাইনা? আমি তোমাকে বিশ্বাস করি জেভিয়ার। আমি জানি ইলোরা মেয়েটি সব মিথ্যে বলেছে তাইনা?
জেভিয়ার কিছুই বলে না হয়ত বলতে চায় না। সে আনায়ার ছোট্ট দেহটাকে নিজের সাথে মিশিয়ে নিয়ে তার গলায় মুখ গুজে দেয়। আনায়া কিছুটা কেপে ওঠে। সে আনায়ার গলা অসংখ্য ছোট ছোট চুমু দিয়ে ভরে ফেলে। জেভিয়ার সোজা হয়ে বিনাবাক্যে আনায়ার ওষ্ঠজোড়া নিজের ওষ্ঠে পুড়ে নেয়।

একে তো জেভিয়ার এর চুম্বন এর গতির সাথে সে পেরে উঠছে না। দ্বিতীয়ত তার হাতের অবাধ্য বিচরণ। আনায়ার বুকের স্পর্শকাতর স্থানে জেভিয়ার এর শক্তপোক্ত হাতের বিচরণ সহ্য করতে গিয়ে আনায়া হিমশিম খাচ্ছে। মনে হচ্ছে কোনো ক্ষুধার্ত বাঘ বহুদিন পর তার শিকার হাতে পেয়েছে।
জেভিয়ার প্রায় তিন মিনিট পর আনায়ার ঠোঁট ছেড়ে দেয়। আনায়ার ঠোটের কোণে হালকা রক্ত জমে গিয়েছে জেভিয়ার এর কামড়ে। জেভিয়ার আনায়ার কানের লতিতে নিজের ঠোঁট ছুইয়ে নেশালো কন্ঠে ফিসফিস করে বলে,
– আই লাভ ইউ, আই লাভ ইউর টি’টস, ইউর ক্যাট। আই ওয়ান্ট টু ইট এভ্রি পার্ট অফ ইউর বডি।
ইনায়া বোকা বনে জিগ্যেস করে,

– ক্যাট মানে?
নিজের ঠোঁট কামড়ে ধরে হেসে চোখের ইশারায় আনায়াকে দেখিয়ে দেয়। আনায়া সাথে সাথে চোখ বড় বড় করে ফেলে বলে,
– নো জেভিয়ার। তুমি পাগল?
– ইয়েস লাভ বার্ড, আ’ম ম্যাড ফর ইউ। আ’ম ম্যাড ফর ইটিং ইউ। বিকজ এভ্রি পার্ট অফ ইউর বডি ইজ সো সুইট এন্ড জুসি।
আনায়া একটা শুকনো ঢোক গিলে জেভিয়ার এর চোখে চোখ রাখে।
জেভিয়ার ধীরে ধীরে আনায়ার দিকে ঝুকে পড়ে তার ঠোঁট জোড়া আবার দখল করে নেয় আর এক হাতে নিজের প্যান্টের বেল্ট খুলতে থাকে। আচমকাই সে আনায়াকে কে তুলে নেয়। আনায়ার দেহ সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকায় সে জেভিয়ার এর কোলে নিজেকে গুটিয়ে নেয়।
জেভিয়ার আনায়াকে নিয়ে তাদের বেডরুমে চলে যায়। আনায়াকে বেডে শুইয়ে দিয়ে জেভিয়ার ফ্রিজ খুলে একটি আইসকিউব এর বক্স বের করে আনে।
আনায়া হালকা সোজা হয়ে বসতে যায়। তখনই জেভিয়ার গিয়ে নিজের বেল্ট খুলে আনায়ার দুহাত বেধে দেয় আনায়া অবাক হয়ে কিছু বলতে যাবে তার আগেই জেভিয়ার একটা কাপড় দিয়ে আনায়ার মুখও বেধে দেয়। এরপর আনায়াকে আবার ধাক্কা দিয়ে শুইয়ে দিয়ে ফিসফিস করে বলে,

– আই ওয়ান্ট টু ট্রাই সামথিং ডিফরেন্ট টুডে।
জেভিয়ার আনায়ার দিকে ঝুকে তার বুকের মাঝ বরাবর একটি আইসকিউব রেখে দেয়। বুকের উষ্ণতায় বরফের টুকরো গলতে থাকে। জেভিয়ার সেইদিকে এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে শিকারী দৃষ্টিতে। আনায়া উমম উমম করে কিছু বলতে চাইছে কিন্তু জেভিয়ার সেইদিকে পাত্তা দিচ্ছে না।
বরফ অনেকটা গলে যেতেই জেভিয়ার জিভ দিয়ে বুকের গলে যাওয়া পানিটুকু শুষে নিতে চায়। আনায়া চোখ বুজে নিজেকে খিচিয়ে নেয়। সে ভালোই আন্দাজ করতে পারছে আজ জেভিয়ার সত্যি তাকে ধীরে ধীরে মেরে ফেলেই দম নিবে।
জেভিয়ার আরও কিছু বরফের টুকরো হাতে নিয়ে আনায়ার নাভির ওপর দুটো, নাভির নিচে স্পর্শকাতর স্থানের ওপর দুটো রেখে দেয়। আনায়া মাথা নাড়াচ্ছে বারবার। জেভিয়ার বিরক্ত হয়ে আনায়ার মুখের বাধন খুলে দিয়ে বলে,

– সমস্যা কি? এইভাবে লাফাচ্ছো কেন? আমার কাজে ব্যাঘাত ঘটছে তো।
আনায়া ভ্রু কুচকে বলে,
– আমার ঠান্ডা লাগছে তো!
জেভিয়ার কিছুক্ষণ সরু চোখে আনায়ার দিকে তাকিয়ে থেকে বলে,
– কোথায় ঠান্ডা লাগছে?
আনায়া থতমত খেয়ে বলে,
– কোথায় আবার? যেইসব জায়গায় বরফ রেখেছো সেইসব জায়গায়।
– তাই তো জিগ্যেস করছি কোন সব জায়গায়? নাম বলো।
আনায়া নিজের দৃষ্টি নামিয়ে নিয়ে মিনমিন করে বলে-
– ভিজে যাচ্ছি আমি জেভিয়ার সরাও না।
জেভিয়ার সাথে সাথে আনায়ার নাভির ওপরের এবং নাভির নিচের স্পর্শকাতর জায়গা থেকে বরফ নিজের মুখে পুড়ে নেয়। আনায়া নিজের পেটে জেভিয়ার এর উষ্ণ ঠোঁটের ছোয়া পেয়ে চোখ বুজে নেয়। জেভিয়ার উঠে বসে আনায়ার সম্পূর্ণ উন্মুক্ত শরীরের নেশালো দৃষ্টিতে চোখ বুলায়। এরপর বলে ওঠে,

– তুমি নিতান্তই একটা বাচ্চা মেয়ে। আমি আমার ফুল প্রেসার দিলে লোড নিতে পারবে তো?
আনায়া লজ্জায় মুখ ঘুরিয়ে নেয়। কিছুই বলতে পারে না।
জেভিয়ার আনায়ার গলায় মুখ ডুবিয়ে একটা শক্তপোক্ত কামড় বসায়। আনায়া হালকা চিৎকার করে ওঠে।
জেভিয়ার আনায়ার মুখ এক হাত দিয়ে চেপে ধরে তার কামড়ের গতি বাড়াতে থাকে। সে আনায়ার পুরো শরীরে ক্ষত করতে থাকে। সম্পূর্ণ শরীরে আনায়ার লালচে দাগ হয়ে গিয়েছে। জেভিয়ার আনায়ার পায়ের কাছে গিয়ে বসে আনায়ার দিকে তাকিয়ে বলে,
– ইউ আর লুকিং সো গরজিয়াস বেইবি।
জেভিয়ার আনায়ার পায়ের তালু থেকে চুম্বন করতে করতে ওপরে উঠতে থাকে। আনায়ার হাত বাধা থাকায় সে জেভিয়ার কে ফেরাতে পারছে না।
জেভিয়ার আনায়ার নাভির নিচের স্পর্ষকাতর জায়গা টিতে একটি চুম্বন করে উঠে দাঁড়ায়। আনায়া কেপে ওঠে। জেভিয়ার হাতে একটি লিকুইড চকলেট এর বোতল নিয়ে আনায়ার নাভি থেকে শুরু করে স্পর্ষকাতর স্থান অবধি ঢেলে দেয়। এরপর আবার আনায়া মুখ গিয়ে কাপড় দিয়ে বেধে দিয়ে বলে,

– আপাতত তোমার চিৎকার শুনতে চাচ্ছি না তাই মুখটা বেধে নিলাম যাতে ডিস্টার্ব না করতে পারো। যখন আমি চিৎকার করতে বলবো তখনই চিৎকার করবে, আন্ডার্স্ট্যান্ড?
আনায়া অসহায় চোখে তাকিয়ে রইল কিছুই বলতে পারলো না।
জেভিয়ার আনায়ার গায়ে ঢেলে দেওয়া চকোলেট জিভ দিয়ে খেতে থাকে। নিচের দিকে নামতেই আনায়া কেপে কেপে ওঠে। তার মুখ বাধা অবস্থায়ও গোঙানির শব্দ বোঝা যাচ্ছে। জেভিয়ার আনায়ার বডি থেকে সম্পূর্ণ চকোলেট খেয়ে আনায়ার দু পা তার কাধের ওপর উঠিয়ে চোখ সরু করে আনায়ার দিকে তাকিয়ে বলে,

– আজ তোমাকে আমার পুরোটা নিতে হবে। এক ইঞ্চিও বাকি থাকবে না। আর এই পুরোটাই তোমাকে সহ্য করতে হবে।
আনায়া একটা শুকনো ঢোক গিলে নেয়। তার চোখে অসহায়ত্বের ছাপ স্পষ্ট। তার মুখ হাত বাধা থাকায় সে কিছু বলতেও পারছে না করতেও পারছে না। শুধু জেভিয়ার এর দেওয়া মিষ্টি ব্যাথা গুলো সে চোখ বুঝে সহ্য করে যাচ্ছে। কষ্ট হলেও তার কিছুই করার নেই।

রাত বেশ গভীর, জেভিয়ারের পাশে আনায়া ছোট করে গুটিয়ে বুকে লেগে ঘুমিয়ে আছে। পুরো দিন ধরে জেভিয়ার তার ওপর অমানুষিক চাপ, টর্চার করেছে। যদিও আগে কখনো এত প্রেশার দেয়নি, আজ যেন নিজের ওপর কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলেছিলো। বিকেল হয়ে গেছে যখন সে আনায়াকে অবশেষে ছেড়ে দেয়। আনায়ার শরীর এখন খুবই দুর্বল।
হঠাৎ করেই জেভিয়ারের ফোনে টুং করে একটা মেসেজের শব্দ আসে
তার কান এক মুহূর্তের জন্যে সতর্ক হয়ে গেলো। এত রাতে কে তাকে মেসেজ দিতে পারে তার হয়ত বোধগম্য হলো। জেভিয়ার ধীরে ধীরে ফোনটা খুললো। স্ক্রীনে জ্বলজ্বল করে ভেসে উঠলো একটা নাম — Eryx Drevan।
জেভিয়ার গম্ভীর চেহারায় মেসেজ টা দেখলো।
সে মেসেজটা বারবার দেখছে, মনে মনে কিছু একটা বুঝতে চাইছে।
যে জেভিয়ার কাউকে ভয় পায় না, কাউকেই নিজেকে দমন করতে দেয় না। কিন্তু সেইখানে এই মেয়েটা, যেন তার ভেতরের সব শক্তিকে দুর্বল করে দিয়েছে।
অনেকক্ষণ তাকে দেখে থেকে তার চোখে একটা অদ্ভুত ভীতি ঘনীভূত হলো। সে জানে, এই ভীতি তার দুর্বলতা, যা সে কখনো মেনে নিতে চায় না।

আনায়ার দিকে তাকিয়ে সে ভাবতে লাগলো এই মেয়েটা তার ওপর কীভাবেই বা এমন প্রভাব ফেলল? তার নিজের আবেগ যেন আজ এক অজানা পথ ধরে ঘুরছে।
জেভিয়ার ধীরে ধীরে উঠে বসলো। অন্ধকার ঘরের দিকে মনোযোগ দিয়ে হেটে গেলো, যেখানে তার গোপন কক্ষটি রয়েছে সেইদিকে এগিয়ে গেলো।
দরজাটা শক্ত করে বন্ধ করে, আবার একবার লক করে দিলো যেন ভিতরে কেউ ঢুকতে না পারে।
তারপর আস্তে আস্তে ল্যাপটপটা খুললো, অন করলো।
কিছুক্ষণের মধ্যেই স্ক্রীনে একটি ভিডিও কল জয়েন হলো।
পর্দার ওপাশ থেকে হঠাৎ কৌতুক আর ঠাট্টার মিশ্রিত এক কণ্ঠ ভেসে এলো,
– হেয় ব্রো, কী অবস্থা তোমার? মেয়েটাকে নিয়েই কি সেইখানেই সব শেষ করার প্ল্যান করছ? আমাদের ভাগের কথা ভাবছো না একা করবেই নাকি?
বাকিটা শোনার আগেই জেভিয়ার গলা গর্জে উঠলো।
দাঁত গেঁথে, ঠোঁটের কোণে গাঢ় দাগ পড়লো। চোখে ক্রোধ আর ভয় দুইয়ের মিশেলে একটা অদ্ভুত উন্মাদনা ফুটে উঠলো।
ঠোঁট চাপড়িয়ে কণ্ঠে ধীরে ধীরে দাতে দাত পিশে বললো,

– ইউ ডি*ক*ওয়াড জাস্ট ফা*ক আপ ইউর মাউথ। মুখ বন্ধ কর না হলে আমি ফিরেই তোর ঠোঁট কেটে আমার কুকুরকে খাওয়াবো।
পর্দার ওপাশে ছেলেটা থেমে গেল।
কণ্ঠের সেই আগের চটুলতা মুহূর্তেই মিলিয়ে গেল এক নিঃশব্দ ভয়ে।
সে বুঝে গিয়েছে ভুল জায়গায় কথা ঢুকিয়েছে। কিন্তু একটা জিনিস তার বোধগম্য হয়নি জেভিয়ার এতটা ক্ষিপ্ত হলো কেন?
একটা মেয়ে নিয়েই তো ঠাট্টা করেছিল, নাকি ব্যাপারটা তার চেয়েও বেশি গভীর?
এ্যারিক্স একটু গলা খাঁকারি দিয়ে প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে বলল,
– শোন, বাবা বলছে তোর এইবার রাশিয়ায় ফিরে আসা দরকার। তুই নেই প্রায় সাত-আট মাস হয়ে গেলো। আর এই অনুপস্থিতিতে এখানে অনেক কিছু কন্ট্রোলের বাইরে চলে যাচ্ছে।
একটু থেমে আবারও বলল,
– বাবার শরীরটাও ভালো যাচ্ছে না, ফ্রুত ফিরে আয়।

পর্দার এপাশে জেভিয়ার স্থির হয়ে রইলো। সে কোনো কথা বলল না। তাকিয়ে রইলো গম্ভীর ভাবে স্ক্রিনের দিকে ।
কিছুক্ষণ পর কল ডিসকানেক্ট করে সে উঠে দাড়ালো।
তার ছায়া লম্বা হয়ে ঘরের দেওয়ালে পড়লো অন্ধকারে যেন আরও গাঢ়, আরও ভারী লাগছিলো।
সে ধীরে ধীরে ফিরে এলো রুমে। ভেতরে ঢুকেই থমকে দাঁড়ালো।
আনায়া এখনো ঘুমিয়ে আছে শান্ত, কোমল মুখে অসহায় একটা প্রশান্তি ফুটে আছে। জেভিয়ার কিছুক্ষণ স্থির হয়ে তাকিয়ে রইলো ওর দিকে।
চোখের দৃষ্টিতে যেন হাজারটা প্রশ্ন, উত্তরহীন একটা লড়াই।
এই মেয়েটাই কি তাকে দুর্বল বানাচ্ছে?
নাকি এই মেয়েটার জন্যই সে আবার মানুষ হতে চাইছে?
তারপর সে গভীর একটা নিশ্বাস ফেললো—
একটা দীর্ঘ, ভারী, অব্যক্ত শ্বাস। যেন বুকের ভেতর জমে থাকা সব টেনশন ছুঁড়ে ফেলে দিতে চাইলো।
সে পকেট থেকে ফোনটা বের করলো।
স্ক্রিনে চোখ রাখার আগেই ঠোঁটটা শক্ত করে চেপে ধরলো।
কাওকে একটা কল করে কণ্ঠে কোনো রকম আবেগ ছাড়াই ঠান্ডা স্বরে বললো—

অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা পর্ব ১৩

– তিনটা টিকিট কাটো। যত দ্রুত সম্ভব। ফিরতে হবে আমার।
অ্যালেক্স যেন কিছু বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু জেভিয়ার আগেই কল কেটে দিলো।
এরপর আনায়ার দিকে এগিয়ে গিয়ে তার চুল গুলো কানের পিঠে গুজে দিয়ে ধীর কন্ঠে বলল,
– কাওকে দেবো না তোমায় আমি লাভ বার্ড, কেউ তোমায় আমার থেকে ছিনিয়ে নিতে পারবে না। সারাজীবন তুমি জেভিয়ার এর খাচায় বন্দি হয়ে থাকবে।আর একদিন তুমি নিজে ভালোবেসে বেই বন্দিত্ব গ্রহণ করবে।

অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা পর্ব ১৫