অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা পর্ব ১৮
শ্রাবণী ইয়াসমিন
জানালার বাইরের আলোও ঘরটিতে ঢুকতে ভয় পাচ্ছে যেন। ভেতরে কেবল বাল্বের এক মৃদু আলো।
কোণের ফ্লোরে বসে আছে একটি মেয়ে। হাত-পা বাঁধা, চুলগুলো এলোমেলো হলেও তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ঢেকে রাখতে পারেনি।
কোমর পর্যন্ত নেমে আসা বাদামি চুল কাঁধে ছড়িয়ে আছে, ঠোঁট দুটো টসটসে, কিন্তু এখন কাঁপছে। অবিরাম কান্নায় গাল লাল হয়ে গেছে, নাক টেনে টেনে শ্বাস নিচ্ছে প্রতি নিঃশ্বাসে দম আটকে যাচ্ছে যেন।
হঠাৎ বাইরের করিডোর থেকে ভেসে এলো জুতোর ঠকঠক শব্দ। ভারী, ধীর, কিন্তু স্থির পদক্ষেপ। প্রতিটা ধাপ যেন মেয়েটার বুকের ধুকপুক শব্দের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে। তার চোখ ভয় আর আতঙ্কে বড় হয়ে উঠল। কপালের ঘাম ঠান্ডা হয়ে গড়িয়ে পড়ছে।
দরজাটা ধীরে ধীরে খুলে গেল। ফাঁক দিয়ে ভেতরে ঢুকল এক লম্বা ছায়া। আলো না থাকলেও বোঝা যাচ্ছে সে যে-ই হোক, তার উপস্থিতি শ্বাসরোধ করার মতো।
ভেতরে ঢুকল এক পুরুষ কালো লেদারের জ্যাকেট পরা মুখের ওপর কড়া ছায়া লেগে আছে তবুও চেনা চেনা লাগল তাকে দেখে মেয়েটার ভেতরে।পুরুষটিকে দেখে মেয়েটির নিভে যাওয়া প্রদ্বীপের আলো যেন আবার জ্বলে উঠলো।
পুরুষটি এগিয়ে এসে তার পাশে রাখা চেয়ারে বসল। মেয়েটা আশার ক্ষীণ আলো পেয়ে ধীরে বলল, “ভ..ভাইয়া তুমি?”
” ভাইয়া আমাকে বাঁচাও ভাইয়া ওরা আমাকে অনেক মেরেছে খুব কষ্ট হচ্ছে আমাকে আমার আপুর কাছে নিয়ে চলো ভাইয়া প্লিজ।”
পুরুষটি প্রথমে থম মেরে তাকিয়ে রইল চেহারায় এক অদ্ভুত অসহায় ভাব যেন দ্বিধায় আছে কয়েক সেকেন্ড কেটে গেল শুধু নিঃশ্বাসের শব্দ শোনা যাচ্ছে হঠাৎ তার ঠোঁটে কেমন এক শীতল হাসি ফুটে উঠল চোখের দৃষ্টি পাল্টে গেল। ঘরের নিস্তব্ধতায় যা মুহূর্তেই মেয়েটার বুকের ভেতরের সব ভরসা মুছে দিল। সে মাথা সামান্য কাত করে হেসে বলল,
“এইভাবে বলছো কেন সোনা? আমি তো তোমাকে মুক্ত করতেই এসেছি দেখো আমি এখুনি তোমার সব খুলে দিচ্ছি।”
কথা শেষ হবার আগেই তার হাত এগিয়ে এল মেয়েটার গায়ের পোশাকের দিকে আঙুলের স্পর্শ পড়তেই মেয়েটা ভয়ে ঝাঁকি খেয়ে সরে গেল চোখে আতঙ্কের ছাপ আরও গভীর হল পুরুষটা সামান্য বিরক্ত গলায় বলল,
“কি হলো? তুমিই তো বললে সব খুলে তোমাকে মুক্তি দিতে!”
“ভাইয়া আমার হাত খুলে দাও, আমাকে আপুর কাছে নিয়ে যাও। আমার আপুর আমি ছাড়া আর কেউ নেই তুমি তো জানো ভাইয়া তাহলে তুমি এমন কেন করছো!”
পুরুষটা নিচু স্বরে হাসল যেন তার ভয় শুনে আরও আনন্দ পাচ্ছে কাছে এসে কানে ঝুঁকে ফিসফিস করে বলল
“হুশ শব্দ করো না, পাশের ঘরেই অন্য মেয়েরা আছে ওরা শুনে ফেলবে তো। তোমার সাথে আমার পার্সোনালি ফাইম স্পেন্ড করার খুব ইচ্ছা ছিল তাই তো তোমায় আলাদা করে আনলাম।”
মেয়েটা থমকে গেল ভয় আর বিভ্রান্তি মিশে কণ্ঠ আরও কেঁপে উঠল,
“ম…মানে?”
আমি এরিক্স ড্রেভেন, আমার যা একবার মনে ধরে সেইটাকে আমি একবারের জন্য হলেও নিজের করে নেই। মেয়েটা হতভম্ব হয়ে তার দিকে তাকাল চোখে পানি জমে উঠল ঠোঁট শুকিয়ে গেছে কণ্ঠ প্রায় ফিসফিস,
“ভ…ভাইয়া কি বলছো তুমি? আমার ভয় লাগছে তোমাকে ভাইয়া, তুমি এসব বলছো কেন?”
এরিক্স চোখ তুলে তার দিকে তাকাল সেই দৃষ্টি যেন ঠান্ডা ধারালো ছুরির মতো মেরুদণ্ডে কাঁপুনি ধরিয়ে দিল মেয়েটার বুকের ভেতর কেবল ধুকপুক শব্দ বাজতে লাগল আর ঘরের ভেতরের বাতাস আরও ভারি হয়ে গেল যেন এই চার দেয়ালের বাইরে কোনো দুনিয়াই নেই
এরিক্সের চোখে একটা অদ্ভুত ঠান্ডা হাসি ফুটে উঠল। সে ধীরে ধীরে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে বলল,
“শোনো ডার্লিং, প্রথমে তো তোমার বোনটাকে মনে ধরেছিল। ওকে ইমপ্রেস করতে আমার অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছিল। ওকে ব্ল্যাকমেইল করেছি নানা ভাবে, তারপর ফিজিক্যালি রিলেশনে নিয়ে যেতে পেরেছিলাম। এই সব কিছুর জন্য আমার অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। ”
মেয়েটা আতঙ্ক আর দুঃখ মিশ্রিত চোখে তার কথা শুনছিল। এরিক্স একটু থামল, তারপর আবার শুরু করল,
“একদিন দেখলাম তোমার বোন তোমাকে নিয়ে একটা মলে গিয়েছিলো। সেই দিন থেকেই তোমার প্রতি আমার নজর পড়ে। আরও আগেই তোমাকে তুলে আনতাম কিন্তু সুযোগ হয়নি, সময় হয়নি। তাই অনেক প্ল্যান করে তোমাকে এখানে আনলাম।”
মেয়েটার গা কাঁপতে লাগল, চোখে পানি জমে গড়িয়ে পড়ল। এরিক্স তার গালে মৃদু হাত বুলিয়ে পানি মুছে দিল।
“আহা, কেন কাঁদছ তুমি? আমি তো এখনও তোমাকে কোনো ব্যথা দিইনি। যখন দেবো, তখন কাঁদার জন্য পানি জমিয়ে রেখো, কাজে লাগবে। আমি আমার সে*ক্স টাইমে মেয়েদের কাঁদাতে খুব পছন্দ করি। তাদের কান্নার চিৎকার আমাকে এক অন্য রকম তৃপ্তি দেয়।”
মেয়েটার চোখ ভয়ে বড় বড় হয়ে গেলো। সে নিজের হাত টানতে চেষ্টা করল, কিন্তু পিছু হটানো বা পালানোর কোন রাস্তা ছিল না। এরিক্সের মুখে তখন এক ভয়ংকর খেলা শুরু হয়েছিলো, যার মাঝে কোনো দয়া বা করুণা ছিল না।
মেয়েটার চোখ কেঁপে উঠলো। কষ্ট আর রাগ মিশ্রিত কণ্ঠে সে বলল,
“তুমি ভাইয়া, তুমি কি এত খারাপ? তুমি আমার বোনের জীবন এভাবে নষ্ট করেছো? মেয়েদের সাথে তুমি এভাবে এসব করো, তারপরও বাইরে বেরোও কি করে? ভাইয়া, তুমি কি সত্যিই মানুষ?”
তার চোখ থেকে ঝরছিলে ক্ষোভ আর বেদনার স্রোত।
“তুমি কি ভাবো কেউ তোমাকে জবাব দিবে না? এই জগতের বিচার তো আছে একদিন তোমাকে তোমার কৃতকর্মের দাম দিতে হবে।”
সে আর কিছু বললো না। কিন্তু তার সেই চোখের কথা স্পষ্ট ছিল, এ মানুষটির জন্য তার ঘৃণা আর অবিশ্বাসের শেষ নেই।
এরিক্স হেসে বলল,
“আহ হা আমাকে ভুল ভাবছো ডার্লিং, আমি অমন ছেলেই না বুঝলে। আমি কিন্তু সব মেয়েদের সাথে ইন্টিমেট হই না। যাদের সাথে হই, ওরা খুব লাকি হয়, ঠিক তোমার মতো বুঝলে? তুমি ওই লাকি দের মধ্যে একজন।”
তার চোখে একটা ভিন্ন কৌতুক লুকিয়ে ছিল।
“তবে জানো, আমার বড় ভাই এইসব জোরজবরদস্তি একদম পছন্দ করে না। সামনে এত সুন্দরী কচি কচি মেয়েরা বসে থাকে ওদের দেখে কি লোভ সামলানো যায় বলো তো! সেই জন্য ওর কাছে সাবধান থাকতে হয় আমাকে।”
এরিক্স ধীরে ধীরে মেয়েটার হাতের বাধন খুলতে লাগল। বলল,
” দেখো, আমার কথা মেনে নাও তোমাকে আমি স্বর্গ থেকে ঘুরিয়ে আনবো। যে স্বর্গে তুমি বার বার যেতে চাইবে। আর যদি না না মানো, তো আর কি! ছেড়ে তো দিতে পারবো না তাই জোর করেই করতে হবে যা করার। এর চেয়ে ভালো না তুমি মেনে যাও।তুমিও ফিল নিলে আমিও নিলাম হিসাব বরাবর।”
মেয়েটা ভীত চেহারায় তাকিয়ে আছে, এরিক্স হাতের বাধন খুলে এখন পায়ের বাধন টা খোলার জন্য ঝুকে আছে। হঠাৎ মেয়েটা পাশ থেকে একটা লোহার লাঠি তুলে এরিক্স এর মাথায় জোরে আঘাত করলো।
এরিক্স মাথা আঁচড়ে সরে গেলো, অবাক হয়ে মেঝেতে হাত রেখেই বলল,
” আহ্, ইউ ফা*কিং কাম ডাম্প-স্টার!
মেয়েটা কাপাকাপা কন্ঠে বলল,
” ভ…ভাইয়া আমাকে ছেড়ে দাও। আমাকে ছেড়ে দাও!আমাকে ছেড়ে দাও!
এরিক্স মাথায় আঘাত পেয়ে ফ্লোরে লুটিয়ে পড়ল। মেয়েটা দ্রুত পিছু হটতে লাগল। ভয়ে ভয়ে ধীরে ধীরে দরজার দিকে এগোতে থাকল। দরজা পুরোপুরি খোলার আগেই চুপচাপ চারপাশ দেখল, কোনো পাহারা নেই।
কারণ এই অংশটা এরিক্স এর ব্যক্তিগত ফ্লোর, এখানে সাধারণ পাহারা থাকে না।
মেয়েটা ফ্লোরে পড়ে থাকা এরিক্স এর দিকে একবার তাকালো এরপর নিজের স্কার্ফ দিকে মুখ পেচিয়ে ধীরে ধীরে বাইরের দিকে বেরোতে লাগলো।
কিছুদুর এগোতেই দোতলার বডিগার্ডের সামনে পড়তে গিয়েও পিছিয়ে যায় সে। তার বুকের ভেতর ধুকপুক শব্দ বাজনার মত বেজে চলেছে। তবে বেশিক্ষণ রক্ষা হলো না। মেইন গেইটের সামনে এগিয়ে।যেতেই দোতলার একজনের চোখে পড়ে যায়। সে মেয়েটি দেখার সাথে সাথে চেচিয়ে ওঠে,
“একজন মেয়ে পালাচ্ছে, সবাই তাকে ধরো!”
মেয়েটা শুনে মাত্রই মনে হলো সময় শেষ হতে চলেছে। সে দ্রুত দৌড় দিল। হাটুরিতে কাঁপন, বুক ধড়ফড় করছে, পায়ের নিচে মাটি যেন আগুন হয়ে জ্বলে উঠছে। পেছন থেকে শক্ত হাতে কেউ তাকে ধরে ফেলার জন্য এগিয়ে আসছে।
সে গন্তব্যহীন রাস্তায় দৌড়াতে থাকে। তবে সেই পুরুষালী গতির সাথে কিছুতেই পারছে না। তার মনে হতে থাকে সে হয়ত ধরা পড়ে যাবে।
হঠাৎ সামনে পার্কিং লটের মাঝখানে চোখ পড়ল এক সাদা রঙের গাড়ির উপর। বিনা চিন্তায় ছুটে গিয়ে পেছনের দরজা খুলে ঝাপ দিয়ে ব্যাকসিটে ঢুকে পড়ল।
দরজা ঝাঁকুনিতে বন্ধ করে বমি খেতে খেতে বুক ধড়ফড় করতে লাগল।
গাড়ির বাইরে পিছু পিছু বডিগার্ড দৌড়াচ্ছে, কিন্তু মেয়েটার মনে একটা ছোট্ট আশা জাগল হয়তো এভাবে সে বাঁচতে পারবে।
দুপুরের সূর্য আনায়ার সাইডের ফাঁকা বাগানে হালকা সোনালী রোদ ছড়াচ্ছে। বাতাস শীতল হলেও গাছেদের পাতায় বেজে উঠছিল একটা নিস্তব্ধ সুর। আনায়া আজ পুরো দিনই তার রুম থেকে বের হয়নি।
তার ব্যক্তিগত সার্ভেন্ট তার প্রয়োজনীয় সবকিছু তার রুমে এনে দিয়েছে, তার চাহিদা মত।
রুমের জানালা দিয়ে বাইরে দুনিয়ার আলোকে ঢুকে পড়লেও তার চোখের অন্ধকার আর মন যেন অন্য কোনো জায়গায় আটকে আছে। সে বারবার চোখ বন্ধ করে সেই কালকের দৃশ্য দেখতে থাকে, যা তার মনের কোনো কোণে অন্ধকারের মতো জমে রয়েছে। তার হৃদয় জানে, সেই রাতের ঘটনাগুলো এখনও পুরোপুরি তার সামনে স্পষ্ট হয়নি, রহস্যের জালে আটকা পড়ে আছে সে।
আজ সে একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যখন বাড়ির সবাই বাইরে থাকবে, তখন সে গ্যারাজের পেছনে জায়গাটায় যাবে। সেই স্থানটায় হয়তো তার রহস্যের একটা জবাব লুকিয়ে আছে, যা খুঁজে বের করতেই হবে তাকে।
তবে এখন না, কারণ সে জানে এই সময় একা যাওয়া বিপদজনক হতে পারে। তাই ধীরে ধীরে সে নিজের ভেতরের ভয় আর জিজ্ঞাসাকে সামলে রাখছে, অপেক্ষা করছে সঠিক সময়ের জন্য।
আনায়া হাটতে হাটতে রুম থেকে বের হলো। বাড়িতে কেউ নেই। সে ধীরে ধীরে বাড়ির পুরনো সার্ভেন্টদের কাছে গেল। আনায়াকে দেখে একজন মহিলা সার্ভেন্ট মুচকি হেসে এগিয়ে এলো,
” ম্যাম কিছু লাগবে আপনার?”
আনায়া স্মীথ হেসে জবাব দিলো,
“নাহ আসলে এমনি একা ভালো লাগছিলো না তাই এলাম আপনাদের সাথে একটু কথা বলতে। আর আমাকে ম্যাম ডাকতে হবে না আনায়া ডাকলে খুশি হবো।”
আনায়া সার্ভেন্টের কাছে আবার একটু হেসে বলল,
“আচ্ছা, আপনি কি মাঝে মাঝে বাড়ির সব সব জায়গাগুলো চেনেন?”
সার্ভেন্ট খানিকটা লাজুকভাবে বলল, “ম্যাম, আমি তো যতটা সম্ভব কাজ সামলে ফেলতে চেষ্টা করি, বেশি ঘোরাঘুরি করি না।”
আনায়া কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করল, “তবে বাড়ির পেছনের গ্যারেজের জায়গাটা কেমন? শুনেছি ওখানে কেউ খুব একটা যায় না?”
সার্ভেন্ট হঠাৎ করেই একটু থমথমে হয়ে গেলো, মুখে একটা অস্বস্তির ছাপ পড়ল। সে চোখ নামিয়ে ধীরেসুস্থে বলল, “ওটা… ওটা একটু আলাদা জায়গা, ম্যাম। সবাই ওখানে যাওয়া……..
এই সময়ই দরজা খুলে ইলোরা ঢুকে পড়ল। গায়ে ছিলো ছোট আর স্টাইলিশ একটা পোশাক, চোখে ঠান্ডা কিন্তু শক্তিশালী দৃষ্টি।
ইলোরা বাড়িতে ঢুকেই ঠোঁটে সয়তানি হাসি ফুটিয়ে আনায়াকে দেখিয়ে বলল,
“হ্যালো আনায়া, কেমন আছো?”
আনায়া একটু গম্ভীর মুখ করে ধীরে বলল,
“ভালো।”
ইলোরা ঢুকে পড়তেই প্রথমেই সার্ভেন্টের দিকে চোখ আটকাল।
“এমিলি,” মৃদু কণ্ঠে ডেকেও সে বলল, ” আংকেল কোথায় এখন?”
সার্ভেন্ট কিছুটা দ্বিধায় মুখ থমথমে করে উঠল। তারপর ধীরে ধীরে জানালো,
“স্যার, আজ দুপুরে বাসায় আসেননি। একদম রাতে ফিরবেন বলে গেছেন।”
ইলোরা নীরবে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল, তারপর ধীরে ধীরে চোখ সরিয়ে আনায়ার দিকে চেয়ে বলল,
” তো দিনকাল কেমন যাচ্ছে তোমার?”
আনায়া দাত চেপে হালকা হেসে বলে,
” দেখো বেশ ভালোই আছি। জেভিয়ার আমাকে অনেক ভালোবাসে কি-না!”
” হুম তা দেখতেই পারছি তুমি যে বেশ ভালো আছো। তবে যানো আমিও কিছুদিনের মাঝেই জেভিয়ার যে শহরে রয়েছে সেইখানে যাবো বিজনেস পারপাজে।”
” মানে?”
“মানে টা খুবই সহজ। আমার ড্যাডির সাথেই তো বিজনেস ডিল হচ্ছে। আর ড্যাডি আমাকে পাঠাচ্ছে।”
আনায়া নিজের মুখভঙ্গি স্বাভাবিক রেখেই কৌতুকস্বরে বলে,
” মাছি হয়ে ফুলের মধু আহরণ করার বৃথা চেষ্টা করছ। ফুলের মধু তো মৌমাছিই আহরণ করবে। মাছিদের অবস্থান তো নর্দমায়।”
ইলোরা কটমট দৃষ্টিতে আনায়ার দিকে তাকিয়ে বলে,
” আই নো এভ্রিথিং এবাউট জেভিয়ার। জেভিয়ার কি খেতে ভালোবাসে? ওর পছন্দের রঙ কি? ওই কি করতে ভালোবাসে? আমি ওর ব্যক্তিগত সব বিষয়েই জানি।
আনায়া ফিক করে হেসে দিয়ে বলে,
“ওহ রিয়েলি? সব জানো ওর ব্যক্তিগত বিষয়ে? তাহলে বলো ওর সাইজ কত?”
ইলোরা থতমত খেয়ে চোখ গোলগোল করে তাকিয়ে বলে,
” কিসের সাইজের কথা বলছো তুমি?”
” যেটার সাইজের কথা তুমি ভাবছো সেইটার কথাই বলছি আমি।”
” জাস্ট শাট আপ। ফালতু কথা বলবে না। আমি কোনো কিছুর কথাই ভাবছিনা। তোমাকে তো আমি পড়ে দেখে নিবো।”
এই বলেই রাগে গজগজ করতে করতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় ইলোরা।
জেভিয়ার ল্যাপটপ এর দিকে নিষ্পলক চেয়ে আছে। স্ক্রিনে ভাসছে একটি মেয়ের সিসিটিভি ফুটেজ যে বর্তমানে গায়ে একটি লম্বা শার্ট পড়ে আছে হাটু উন্মুক্ত। ফর্সা পা দুটো চকচক করছে। কালো খয়েরী রঙা চুলগুলো পিঠময় ছড়িয়ে আছে।
জেভিয়ার এর ঠোঁটের কোণে হালকা বাকা হাসি। আজ দুপুরের ঘটা সমস্ত কাহিনিই তার কানে এসেছে। আসার আগে সে তাদের রুমে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগিয়ে এসেছিলো তার লাভ বার্ড কে দেখে রাখার জন্য।
অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা পর্ব ১৭
কাল থেকে সময় হয়নি তার লাভ বার্ড কে দেখার তাই আজ সন্ধ্যা থেকেই ল্যাপটপ অন করে সে তার লাভ বার্ড এর কার্যকলাপ দেখছে। তার অনুপস্থিতিতে মেয়েটা তার শার্ট বের করে পড়েছে। সে থাকলে তার সামনে কখনই নিজে বের করে পড়ত না। ভাগ্যিস ক্যামেরাটা লাগিয়ে এসেছিলো নয়ত এই দৃশ্য সে মিস করে ফেলতো।
আচমকাই জেভিয়ার তার কাধে কারও নরম হাতের স্পর্শ পায়। তবে সে ল্যাপটপ বন্ধ করে না। সে কাধ ঝাড়া মেরে মেয়েটার হাত কাধ থেকে সরিয়ে দিয়ে চোখ ল্যাপটপ স্ক্রিনে আবদ্ধ রেখেই কড়া গলায় বলে,
” ডোন্ট টাচ, দিস ইজ মাই লাভবার্ড’স পার্সোনাল প্রোপার্টি।”
