Home অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা পর্ব ২৫

অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা পর্ব ২৫

অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা পর্ব ২৫
শ্রাবণী ইয়াসমিন

ডাইনিং টেবিলের ওপর বসে পা দোলাচ্ছে আনায়া। তার হাতের গ্লাসের ভেতর কমলার জুস। ঠান্ডা ফোঁটা কাচ বেয়ে নামছে ধীরে ধীরে।
কিচেন থেকে ভেসে আসছে বাটারের গন্ধ। জেভিয়ার ছুরিটা নিয়ে নিখুঁতভাবে পাউরুটির ওপর বাটার ছড়িয়ে দিচ্ছে।
আনায়া থমকে তাকিয়ে আছে। তার চোখে বিস্ময় এই মানুষটা এতটা নিখুঁত কেন? জেভিয়ার হঠাৎ চোখ তুলে তাকাল। ভ্রু দু’বার নাচালো। আনায়া নিশ্চুপ ভাবে হাসল।
আনায়া ধীরে ধীরে উঠে গিয়ে জেভিয়ারের দিকে এগোল। জেভিয়ার ছুরিটা রেখে তাকে টেনে নিল বুকে। শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।
আনায়ার ঠোঁট থেকে বেরোল এক ছোট্ট হাসি। সে জেভিয়ারের গলা জড়িয়ে ধরল। তারপর খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে গালে একটা চুমু দিয়ে ফিসফিস করে বলল,

“তুমি দেখতে এতটা ড্যাশিং কেন?”
জেভিয়ার মুচকি হাসল। সে নিচু স্বরে বলল—
“ড্যাশিং না হট বলতে শেখো।”
জেভিয়ার হাতে একটা স্ট্রবেরি নিয়ে সেইটা মধুর মাঝে ডুবিয়ে আনায়ার সামনে ধরল।
আনায়া সেইটা মুখে নিয়ে ধীরে ধীরে চিবোতে লাগল। মধুর আঠালো জুস ঠোঁটে লেগে গেল।
জেভিয়ার আরেকবার চোখ সরু করে তাকালো। সে আঙুলি ঢালিয়ে আনায়ার নরম ঠোঁটের ওপর রাখল, হালকা ছুঁয়ে বলল,
“লাভবার্ড?”
আনায়ার সোজা করে তাকাল ধজ্র কন্ঠে উত্তর দিল,
“হু।”
জেভিয়ার একটা ঢোক গিলে তৃষ্ণার্ত চোখে তাকিয়ে বলল,

“তোমার শেষ হয়েছে না?”
আনায়া কিছুক্ষণ থেমে ভাবল। এরপর কিছুটা ভেবে বলল,
“কী শেষ হয়েছে?” এরপর কিছু মনে পড়তেই আনায়া বলল, “ওহ বুঝেছি! হ্যা আজই শেষ। কিন্তু কেন?”
জেভিয়ার অসহায় চেহারা নিয়ে বলল,
“আর সহ্য হচ্ছে না তো আমার! চলো না, বেডরুমে যাই। আই কান্ট ক্নট্রোল মাইসেল্ফ এনিমোর।”
আনায়া ফোঁস করে নিশ্বাস ছেড়ে বলল,
“এইসব ছাড়া কি আর কিছু ভাবতে পারো না তুমি? কয়টাদিন শান্তিতে আছি, তাও তোমার জন্য হচ্ছে না।”
এই কথা বলে সে মধুর বোতল থেকে এক চামচ মধু তুলে নিজের মুখে পুরে নিল। জেভিয়ার নিষ্পলক তাকিয়ে রইল।
তার তাকানো দেখে আনায়া মধুটা গিলে বলল,

“তুমি পছন্দ করো মধু? খাবে?”
জেভিয়ার আনায়ার কোমর শক্ত করে চেপে ধরে তাকে কাছে টেনে আনল।
তারপর বোতলে আঙুল ডুবিয়ে একটু মধু তুলে আনায়ার ঠোঁটে লাগিয়ে দিয়ে বলল,
“আই লাভ হানি বাট….দ্যা মোস্ট সুইটেস্ট হানি কামস ফ্রম মাই লাভবার্ড।”
এই বলেই জেভিয়ার আনায়ার ঠোঁট নিজের ওষ্ঠে পুরে নিল। মধুর স্বাদ আস্তে আস্তে দুজনার মাঝে মিলিয়ে গেল।
বেশ কিছুক্ষণ পর আনায়ার ঠোঁট ছেড়ে দিয়ে জেভিয়ার বলল,
“এখন হানির সুইটনেসটা পারফেক্ট ছিল।”
আনায়া হালকা ধাক্কা দিয়ে তাকে কিছুটা দূরে সরিয়ে দিল।
জেভিয়ার আঙুল দিয়ে নিজের ঠোঁট মুছে চোখ তুলে আনায়ার দিকে তাকাল। এরপর আনায়ার দিকে কিছু টা এগিয়ে ঝুকে এসে বলল,
“প্রিপেয়ার ইওরসেল্ফ লাভবার্ড, টু ক্যারি অল ৮৭ কিলোস অফ মি। আন্টিল ইউ ফাইনালি ব্রেকডাউন।”

হাসপাতালের করিডোরে কপালে হাত জড়ো করে বসে আছে এরিক্স। হঠাৎ সামনের মেঝেতে ভারী খটখট শব্দ তুলে এক জোড়া জুতো এসে থামল।
এরিক্স মাথা তুলে তাকাল।
কালো লং কোর্ট, কালো মুখোশে ঢাকা এক লোক তার সামনে দাঁড়িয়ে।
এরিক্সের কুঁচকানো ভ্রু মুহূর্তেই শিথিল হয়ে গেল।
সে জিজ্ঞাসাসূচক কণ্ঠে বলল,
“ভিক্টর?”
ভিক্টর কোনো উত্তর না দিয়ে ধপ করে এরিক্সের পাশের চেয়ারে বসল। তারপর ঠান্ডা কণ্ঠে বলল,
“আর কতদিন বাড়ি থেকে পালিয়ে বেরোবি? তোর কি মনে হয় জেভিয়ার জানে না তুই কোথায়?”
এরিক্স এক শুকনো ঢোক গিলে মুখ শক্ত করল।
সে বলল,

“আমি কি ওর ভয়ে লুকিয়ে আছি বলে মনে হচ্ছে তোর?”
ভিক্টর ফিচেল হেসে বলল,
“মনে হওয়ার কি আছে? তুই তো ওর ভয়েই লুকিয়ে লুকিয়ে বেরোচ্ছিস। বাড়িতে যাওয়ার সাহস আছে নাকি! তোর বাপ বাড়িতে নেই তাই তুই আরও সাহস পাচ্ছিস না যাওয়ার।”
এরিক্স চোয়াল শক্ত করে বলল,
“এইসব ফালতু কথা বলতে এসেছিস?”
ভিক্টর এরিক্সের কাঁধ চেপে বলল,
“আরে নাহ, আমি তো এসেছি ইলোরার অবস্থা জানতে। শুনলাম কিভাবে নাকি এসিডে পড়ে গিয়েছিলো। কণ্ঠনালী পর্যন্ত ঝলসে গিয়েছে, কথাও বলতে পারছে না।”
এরিক্স মাথা নেড়ে আস্তে করে বলল,
“হুম। ওর ড্যাড অনেক ভেঙে পড়েছে। একমাত্র মেয়ে ছিলো, কি না। তবে ওই কি করে পড়ল সেইটাই বুঝতে পারছিনা। ওইও বলতে পারছে না।”
ভিক্টর তাচ্ছিল্যের হেসে বলল,
“তোকে তো আমি বুদ্ধিমান ভাবতাম এখন দেখি মিনিমাম সেন্সটুকুও নেই তোর।”
ভিক্টর বিরক্ত হয়ে বলল,

“ক্লিয়ার করে বল।”
তারপর ভিক্টর ধীর, কণ্ঠে যোগ করল,
“ইলোরার বডি যে এসিডে ঝলসে গিয়েছে সেইগুলো কি, যেইখানে সেইখানে পাওয়া যায় বলে তোর মনে হয়?”
এরিক্স কিছুটা ভাবুক স্বরে বলল,
“মানে? তাহলে কিভাবে, কি?”
ভিক্টর স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলল,
“হিসেব খুবই সহজ। এইসব কাজের জিনিসগুলো জেভিয়ার এর কাছে রয়েছে। এইসব তোর চেয়ে ভালো আর কে জানে!”
এরিক্সের চোখ এইবার বড় বড় হয়ে গেল।
ভিক্টর ধীরে, ঠান্ডা কণ্ঠে বলল,
“নেক্সট টার্গেট তুই হবি, যদি আমি ভুল না করি।”
কিছুক্ষণ পর ভিক্টর কপালে হাত বুলিয়ে বলল,
“ছেড়ে দে ওদেরকে। কেন ওদের পিছু লাগছিস? তোর ভাই প্রথম কোনো মেয়েকে নিয়ে এতটা পসেসিভ হয়েছে। অযথা কেন ওদের মাঝে ঢাল হচ্ছিস?”
এরিক্স চোয়াল শক্ত করে হেসে বলল,

“কোনো ঢাল হচ্ছি না। এইটাই বিজনেস। আর তুই এত সাধু সাজছিস কেন? তুই-ই তো গিয়েছিলি এই মেয়েকে তুলে আনতে। এখন নিজেই এই কথা বলছিস!”
ভিক্টর ঠোঁটের কোণে অল্প হাসি ফুটিয়ে উত্তর দিল,
“তখন জেভিয়ার-এর মনে ওকে নিয়ে কিছুই ছিলো না। থাকলেও আমি জানতাম না, তাই।”
এরিক্স সিটে এলিয়ে মাথা নেড়ে বলল,
“তবে যাই বল, মেয়েটা আগুন মা*ল ফিগার দেখলেই অস্থির হওয়ার মতো। কোনোদিকে ফেরানোর মত না এই মেয়েকে। আগে দেখলে আগে আমিই এই মেয়েকে তুলে এনে দেহের প্রশান্তি মেটাতাম।”
কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার ধীরে বলল,
“আর এজন্যই ডেভিড হয়ত এত চায় এই মেয়েকে। রূপ দেখিয়ে যে কোনো পুরুষকে কাহিল করার ক্ষমতা রাখে। এমনি এমনি কি আর জেভিয়ার ড্রেভেন এই মেয়ের নেশায় মত্ত হয়েছে নাকি!”
ভিক্টর একটি দীর্ঘ নিশ্বাস ছেড়ে বলল,
“বীন বাজিয়ে নিজেই সাপকে ডাকছিস, ছোবল খাওয়ার জন্য। কি যে হবে তোর!”
কিছুক্ষণ থেমে আবার বলল,
“তবে যাই হোক, আজ আমি আসছি। কাল দেখা হচ্ছে পার্টিতে। এই বছরের সব থেকে বড় পার্টি—এইটা মিস করিস না।”
এই বলে ভিক্টর ধীরে উঠে চলে গেল। এরিক্স চোখ বন্ধ করে, নিঃশব্দে মুচকি হাসল। যেন কোনো গভীর কল্পনার জগতে নিজেকে ডুবিয়ে রেখেছে।

অ্যালেক্স কম্পিউটার ডেস্কের সামনে বসে আছে। চোখ স্ক্রিনের দিকে থাকলেও মন ঘুরছে অন্য কোথাও। রাত ২ টা। আজ ৩ দিন হতে চলল অথচ সেই দিনের পর থেকে অ্যাশলি ভুল করেও তার সামনে আসেনি।
অ্যালেক্স নিজেও এগোবার কোনো চেষ্টা করেনি। তবে নিজের প্রতি অপরাধবোধ কাজ করছে সেদিন যা করেছিল, তা ঠিক হয়নি।
তবুও, মেয়েটি যখনই তার সামনে আসে, অ্যালেক্সের ভিতরে যেন অগ্নিস্পর্শ ছড়িয়ে পড়ে। তার রূপ জ্বলজ্বল করে চোখে মনে হয়, এই রূপ শুধু তার দেখার জন্যই সৃষ্টি হয়েছে। তার প্রতি প্রতিটি দৃষ্টির অধিকার অ্যালেক্সেরই এই রূপের উপর শুধুমাত্র তার স্পর্শের অধিকার থাকা উচিত।
অ্যালেক্স উঠে দাঁড়ালো। আজ একবার অ্যাশলিকে দেখে আসতেই হবে মন আর মানছে না। ধীরে ধীরে সে কদম ফেলল অ্যাশলির রুমের সামনে। দরজা লক করা, ভেতর থেকে।
কিন্তু অ্যালেক্সের কাছে ডুপ্লিকেট চাবি আছে। হাত কাঁপছিল, অথচ নিজেও জানে না কেন। উত্তর নেই, কারণ এ অনুভূতির কোনো ব্যাখ্যা নেই।
সে খুবই ধীরে রুমে প্রবেশ করল। বিছানার দিকে তাকাতেই স্পষ্ট হয়ে উঠল এক অবয়ব। অ্যালেক্স এগোতে চাইল, কিন্তু থেমে গেল কিছু একটা, একটি অদ্ভুত জড়তা তাকে আটকে রাখছে। ভিতরে অজানা উত্তেজনা, আর কিছুটা ভয়, যা তাকে আবার পিছিয়ে যেতে বাধ্য করল।
শেষ পর্যন্ত, অ্যালেক্স ঠিক যেভাবে এসেছিল, সেইভাবেই রুম থেকে বেরিয়ে গেল।

পরেরদিন সন্ধ্যায়…..
আজ সেই দিন আজ “আইকন ক্লাব” এ বছরের সবচেয়ে বিশাল পার্টির আয়োজন। প্রতি বছর একবার এই পার্টি হয়, কিন্তু এ বছরের আয়োজন আগের সব পার্টিকে ছাপিয়ে গেছে।
ক্লাবের ভিতর ঢুকলেই চোখ ধাঁধানো আলো, ঝলমলে ক্রিস্টাল চ্যান্ডেলিয়ার আর গ্লাসের প্রতিফলন একে অপরকে ছাপিয়ে দিয়ে ভিড়ের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
ভেন্যুর প্রতিটি কর্নারে চলে গেমের মতো সাজানো আলোর খেলা। সঙ্গীত বাজছে এমন তালে যে প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি হাসি আর কথোপকথন যেন আরও উদ্দীপনা যোগ করছে।
ভেতরে ঢুকলেই বোঝা যাচ্ছে এই পার্টিতে উপস্থিত সকলেই শুধু অনুষ্ঠান উপভোগ করছে না, বরং তাদের প্রভাব, ক্ষমতা আর সামাজিক মর্যাদাও একে অপরের সামনে প্রমাণ করার চেষ্টা করছে।
এখানে উপস্থিত সুনামধন্য রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে বড় বড় ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি প্রত্যেকের চোখে যেন ধন, ক্ষমতা আর প্রভাবের আলো ঝলমল করছে। এমন আয়োজন, এমন জাকজমক, এমন বিলাসিতা মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্তের চোখে কল্পনাতেও আসে না।
সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠান শুরু হবে। প্রতিটি মুহূর্তে ভিড় আরও জমে, আলো আর সঙ্গীতের তালে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। যারা ভেতরে প্রবেশ করছে, তারা যেন একেবারে আলাদা জগতের অংশ। প্রতিটি চেহারা, প্রতিটি পোশাক আর প্রতিটি দৃষ্টিতে বোঝা যাচ্ছে এখানকার মানুষরা শুধুই বিনোদন নয়, ক্ষমতা আর প্রভাবের খেলা খেলছে।

বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে শুয়ে নেটফ্লিক্সের কার্টুন দেখছে আনায়া। চারপাশের কোনো কিছুই তার মনোযোগ কেড়ে নিতে পারছে না। জেভিয়ার কখন বাড়িতে এসেছে, কখন ফ্রেশ হয়ে ফিরে এসেছে কিছুই তার নজরে আসছে না।
জেভিয়ার চোয়াল শক্ত হয়ে এলো এবার। তার লাভবার্ডের মনোজগতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কি, সে নাকি টিভি? অবশ্যই টিভি না। এই আর কেউ বা কিছু তার কাছে এর চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারবে না, এমনকি তআর লাভবার্ড নিজেও না।
জেভিয়ার ধীরে এগিয়ে এসে এক শক্ত টান দিয়ে টিভির পেছনের তার ছিড়ে ফেলে দিলো। সঙ্গে সঙ্গে শর্ট সার্কিট হয়ে টিভি বন্ধ হয়ে গেল।
আনায়া চমকে উঠলো। হঠাৎ ভীতির অনুভূতি শরীরে ছড়িয়ে গেল। বহুদিন পর আবার সেই ভয়ংকর রূপের জেভিয়ার তার সামনে দাঁড়াল যে রূপে আনায়া এত ভয় পেত। আনায়ার মনে এক ঝলক স্মৃতি জাগল জেভিয়ার যখন তাকে শাস্তি দিয়েছিল। তখন পিঠে কেটে ‘J’ লিখেছিলো।

আনায়ার ভয়ে পুরো শরীরটা একটু আড়ষ্ট হয়ে গেল। জেভিয়ার বিছানার পাশে একটা ব্যাগ রেখে তার দিকে তাকিয়ে বলল, “২০ মিনিট দিচ্ছি। রেডি হয়ে নিচে নামবে।”
আনায়া হকচকিয়ে জিজ্ঞেস করল, “ক…কেন? মানে আমরা কোথাও যাচ্ছি?”
জেভিয়ার এর কণ্ঠে কড়া স্বর, “এত কিছু তোমার না জানলেও চলবে, লাভবার্ড। যা বলেছি, তাই করো। দ্রুত নিচে নামো, আমি অপেক্ষা করছি।”
জেভিয়ার চলে যাওয়ার আগে আনায়া আবার বলল, “কোথায় যাচ্ছি, বলো না। তাহলে সেই ভাবেই রেডি হবো।”
জেভিয়ার ধীরে বলল, “পার্টিতে যাচ্ছি। এত সাজগোজের দরকার নেই। পারলে আমি নিজেই তোমাকে আমার শার্ট আর একটা প্লাজু পরিয়ে নিয়ে যেতাম।
তবে আজ মানুষ অনেক থাকবে। সবাই আজ দেখবে মিসেস জেভিয়ার ড্রেভেনকে তাই। এখন দ্রুত নিচে নামো।”
এই বলে জেভিয়ার চলে গেল।
আনায়া নিঃশব্দে ব্যাগের দিকে তাকিয়ে রইল। ভয়ের সঙ্গে মিশে অদ্ভুত উত্তেজনা তার শরীর জড়িয়ে ধরল।

জেভিয়ার এক হাতে ফোনে কিছু চেক করছে, অন্য হাতে গাড়ির চাবি ঘোরাচ্ছে। হঠাৎ সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় জুতোর হালকা ঠকঠক শব্দ কানে পড়তেই তার চোখ ধীরে উঠলো। মুহূর্তেই যেন স্ট্যাচু হয়ে দাঁড়ালো অবাক, বিস্মিত চোখে।
আনায়া ধীর ধীরে জেভিয়ার এর সামনে এসে দাঁড়াল। তার চেহারায় যে বিষন্নতার ছাপ স্পষ্ট, তা জেভিয়ার এর মনকে এক ঝলকে ধরে ফেলল। জেভিয়ার কয়েক পা পিছিয়ে দাঁড়িয়ে আনায়ার পুরো শরীরের মাথা থেকে পা একবার নয়, বারবার চোখে ধরে দেখল।
আনায়ার গাঢ় নীল রঙের ফুল স্লিভ গাউন তার ফিগারকে পরিপূর্ণ করে তুলেছে। কার্ল করা খয়েরী চুল কাধের ওপর লম্বা ঝরে আছে, ঠোঁটে নিউড লিপস্টিকের সঙ্গে লিপগ্লসের ঝলক মনে হচ্ছিল, তার ঠোঁট এক রসালো ফলের মতো।
জেভিয়ার বুকের পাশে হাত রেখে চোখ বন্ধ করল, যেন আনায়ার সৌন্দর্য তার রক্তের সঙ্গে মিশে গেছে। আনায়া তা দেখে উতলা হয়ে হাত তুলে তার কাঁধে রাখল। “কি হয়েছে, জেভিয়ার? শরীর খারাপ লাগছে কি? কোনো সমস্যা হচ্ছে?”

অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা পর্ব ২৪

জেভিয়ার ঠোঁটের দিকে তাকিয়ে গভীর কণ্ঠে বলল, “লাভবার্ড, বুকের তীব্র ব্যাথা হচ্ছে। মনে হয়, এখন বেডে গিয়ে রেস্ট নেওয়া উচিত তোমার সাথে।”
আনায়া ভ্রু কুচকে জিজ্ঞেস করল, “আমার সাথে মানে?”
জেভিয়ার চোখ ভাঁজ করে, ঘন কণ্ঠে বলল, “হ্যাঁ… শুধু আমার সাথে।”

অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা পর্ব ২৬