Home অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা পর্ব ২৭

অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা পর্ব ২৭

অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা পর্ব ২৭
শ্রাবণী ইয়াসমিন

জেভিয়ারের শক্ত বাহুতে আটকা আনায়া। সে বুঝতেই পারছে না কোথায় নিয়ে যাচ্ছে তাকে। ভারী পদক্ষেপে হেঁটে জেভিয়ার নিচতলার এক অচেনা দরজার সামনে এসে দাঁড়ালো।
এক ঝটকায় দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই প্রথমে শুধু ঘন অন্ধকার। আনায়া আতঙ্কে গা ছমছম করে উঠলো। ঠিক তখনই জ্বলে উঠলো পুরো রুমের আলো।
আলোর ঝলক এক মুহূর্তে তার চোখে এসে ধাক্কা মারলো। চোখ কুঁচকে তাকাতেই যা দেখলো, তা তাকে হতভম্ব করে দিল।

রুমটা যেন কল্পরাজ্যের মতো সাজানো চারপাশে ভারী সিল্কি পর্দা টানানো, তাতে অফ হোয়াইটের এক অদ্ভুত শান্ত ছটা। মেঝে জুড়ে নরম, লম্বা ফাইবারের অফ-হোয়াইট কার্পেট। সামনে সাজানো কিছু বড়সড় সোফা, যেগুলোও হুবহু সেই একই রঙের অফ হোয়াইট।
রুমের এক পাশে পুরো দেয়াল জুড়ে কাচের স্লাইডিং দরজা, যার ওপাশে খোলা বারান্দা। কিন্তু সেই দরজা এখন বন্ধ, ভেতরের আলোয় কাচে শুধু ঝলমলে প্রতিফলন ধরা পড়ছে।
সবকিছুর মধ্যমণি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে একটা কালো গ্র্যান্ড পিয়ানো। চকচকে কালো রঙে মোড়া, বিশাল, রাজকীয়। রুমের বাকি আসবাব যেখানে সাদায় ডুবে গেছে, সেখানে এই কালো পিয়ানোটা যেন অন্ধকার আর আলোর নিখুঁত দ্বন্দ্ব।
সিলিং থেকে ঝুলছে ক্রিস্টালের ছোট ছোট লাইট, যেগুলোর প্রতিফলন গিয়ে পড়ছে পিয়ানোর চকচকে গায়ে। পুরো রুমে একধরনের শীতল, অথচ অভিজাত পরিবেশ ছড়িয়ে আছে।
জেভিয়ার ধীরে ধীরে আনায়াকে নামিয়ে রাখলো সেই অফ-হোয়াইট কার্পেটের ওপর। আনায়া নিঃশ্বাস ফেলে চারপাশে তাকালো।
জেভিয়ার একপলক তাকিয়ে শান্ত স্বরে বলল,

“এই রুমটা আমার মায়ের ছিলো। এখন আমার।”
আনায়া অবাক হয়ে তাকাল, তারপর জিজ্ঞেস করল,“তোমার মা… কোথায় এখন?”
জেভিয়ারের চোখ হঠাৎ দূরে আকাশের পানে চলে গেল, কণ্ঠটা ভারী হয়ে উঠল,
“দূর আকাশের তারা হয়ে গিয়েছে। যাকে আমি চাইলেও কোনোদিন ছুঁয়ে দেখতে পারি না।”
আনায়া চোখ নামিয়ে নরম স্বরে বলল,
“সরি, আমি জানতাম না জেভিয়ার।”
জেভিয়ার আলতো করে হাত বাড়িয়ে তার গালে স্লাইড করে দিলো আঙুল,
“সরি বলার কিছু হয়নি, লাভবার্ড।”
আনায়া এক মুহূর্ত চুপ করে থেকে আবার মুখ তুলল,
“আচ্ছা আমার একটা প্রশ্ন আছে।”
ভ্রু নাচিয়ে জেভিয়ার প্রশ্নাত্মক দৃষ্টিতে তাকাতেই আনায়া দ্বিধাভরা স্বরে বলল,
“তুমি আমাকে অনেক আগে থেকেই চিনতে। কিন্তু আমাকে চিনলে কিভাবে?”
জেভিয়ার এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে ধীরে ধীরে হাঁটতে হাঁটতে বারান্দায় গিয়ে রেলিংয়ে হাত রাখল। বাইরে রাতের নীরবতা, কাঁচের ওপারে রূপালী আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে পূর্ণিমার চাঁদ। আনায়া কিছুটা দ্বিধা নিয়ে তার পিছু পিছু গিয়ে পাশে দাঁড়াল।
জেভিয়ার হালকা গলায় বলল,

“ওই যে আকাশের চাঁদটা দেখছো, আজকের মতো সেদিনও ছিল পূর্ণিমার রাত। এক মেয়ে জানালার ধারে দাঁড়িয়ে ছিলো, তার চোখে টলমল করছিল পানি। চাঁদের আলো তার মুখে এসে পড়েছিলো… আর সেই আলোয় তার মায়াবী মুখটা যেন আরও ঝলমল করছিল।”
সে থেমে গেল এক মুহূর্ত, দৃষ্টি নিবদ্ধ রইল চাঁদের দিকে। তারপর ধীরে, কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠে বলল,
“সেদিন প্রথম দেখেই মনে হয়েছিলো এই মেয়ের কোনো ক্ষতি হতে দেওয়া যাবে না। এই মেয়ে আমার একান্তই ব্যক্তিগত চাঁদ। যে কোনো কিছুর বিনিময়েই হোক, আমি তাকে আমার আকাশে চাই।”
আনায়া কিছুটা ভাবুক স্বরে বলল, “তুমি তো রাশিয়ার বাসিন্দা। তবে বাংলাদেশ কেন গিয়েছিলে?”
জেভিয়ার আনায়ার দিকে চোখ রেখে এক হালকা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। চোখ নামিয়ে, ধীরে ধীরে বলল,
“বিজনেসে আমার পৃথিবী অনেক জায়গায় ছড়িয়ে আছে। রাশিয়া ছাড়া ও অনেক দেশে যেতে হয়। সেই সুবাদে ওই সময় আমাকে বাংলাদেশেও আসতে হয়েছিল।”
আনায়া কাঁপা কণ্ঠে জানালো, “প্রথম দেখাতেই কি ভালোবাসা হয়?”
জেভিয়ার চোখ সরাসরি আনায়ার চোখে বেঁধে রেখে বলল, “আমি এখনো জানি না ভালোবাসা ঠিক সেটা কি, আমি এখনো ঠিক বলতে পারি না। শুধু এতটুকু জানি, সেই রাতেই তোমাকে দেখে আমার হাত পা আসাড় হয়ে যাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল শুধু তোমার দিকে তাকিয়ে থাকতে চাই অন্য কোথাও চোখ ফেরাতেই ইচ্ছে হচ্ছিলো না । আমি বারবার চলে যেতাম তোমাকে দেখতে। অজুড়ে তোমাকে দেখতাম।”

তার কণ্ঠে আছড়ে পড়ছিল এক ধরণের অশান্ত আবেগ, “প্রতিদিনই কাদতে দেখতাম তোমাকে সেই গভীর রাতে। নিজেকে খুব অসহায় মনে হতো। মনে হতো সব কিছু ফেলে দিয়ে আমি তোমার কাছে গিয়ে তোমাকে জড়িয়ে ধরে জিজ্ঞেস করি, “তুমি কাঁদছো কেন? তোমার এই চোখের পানি কিসের জন্য? তুমি কাদবে শুধু আমাকে হারানোর বেদনায় আর আবার আমাকে কাছে পেয়ে আনন্দের অশ্রু হয়ে। অন্য কিছুর জন্য তোমার অশ্রু ঝড়বে না।”
আনায়ার চোখ টলমল করে উঠলো। হঠাৎ করেই তার মনে ভেসে উঠতে লাগলো সেইসব মুমূর্ষু দিনগুলোর ছবি নিঃশব্দ কান্না, একাকিত্ব আর বুক ফুঁড়ে আসা অসহায়তা।
এক মুহূর্ত দেরি না করে আনায়া জেভিয়ারের দিকে ছুটে গিয়ে তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। নিজের মুখটা তার বুকের ভেতর গুঁজে দিয়ে কণ্ঠ কাঁপিয়ে বলল,
“তুমি পুরো দুনিয়ার মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ স্বামী।”
জেভিয়ার কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে রইল। তারপর ধীরে ধীরে আনায়ার কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিল। মৃদু, ভারী কণ্ঠে বলল,
“যদি কোনোদিন জানতে পারো আমি আসলে তোমার ভাবনার মতো মানুষ নই, তাহলে কি সর্বনিকৃষ্ট স্বামীর উপাধি পাবো?”
আনায়া মাথা নাড়ল, আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল,

“হতে পারে তুমি আরো নিকৃষ্ট, কিন্তু সেটা অন্যায়কারীদের চোখে। আমার কাছে তো কখনোই না।”
জেভিয়ার হঠাৎ আনায়ার ছোট্ট মুখটা দুহাতের আজলায় তুলে নিল। এক নিঃশ্বাসে তার ঠোঁটে গভীর শব্দ করে চুমু খেলো। তারপর নিচু কণ্ঠে বলল,
“ভেতরে চলো।”
আনায়া বাধ্য মেয়ের মতো তার হাত ধরে ভেতরে চলে গেল।
ভেতরে ঢুকে জেভিয়ার পিয়ানোর দিকে তাকিয়ে ধীরে ধীরে পিয়ানোর ওপর হাত রাখল। আঙুলের আলতো স্পর্শে কালো চকচকে শরীরটা যেন নিঃশব্দে সাড়া দিল। চোখে অচেনা নরম আবেগ ভেসে উঠল।
“আমার মা খুব ভালো পিয়ানো বাজাতো, জানো?”কণ্ঠটা মৃদু কেঁপে উঠল।
“তার বাজানো শুনলে যে কেউ ঘোরের মাঝে হারিয়ে যেত।”
এই বলে জেভিয়ার নিজের শরীর থেকে কোর্টটা খুলে রাখল। এরপর ধীরে পিয়ানোর সামনে রাখা টুলে গিয়ে ধীরে বসে পড়ল।
জেভিয়ার আঙুলগুলো নরমভাবে পিয়ানোর কি-বোর্ডে নেমে গেল। অচেনা এক সুর ঘুরে উঠল রুমে ধীর, ঝিমে, যেন কোনো পুরনো কোনো স্মৃতিকে জাগিয়ে দিচ্ছে।
আনায়া অবাক হয়ে এগিয়ে এসে বলল, “তুমি… এতই ভালো পিয়ানো বাজাও! অথচ আমাকে তো কখনো বলো নি তুমি পিয়ানো বাজাতে জানো।”

জেভিয়ার আঙুল থামিয়ে আনায়ার দিকে ঘুরে তাকাল। কণ্ঠে নরম স্বরে বলল, “মা শিখিয়েছিল ছোটবেলায়। তারপর সুযোগ পেলেই এইখানে এসে বসতাম। এটাই আমার একমাত্র সঙ্গী সুখে দুঃখে।”
আনায়ার কৌতূহল জাগল সে এক আঙুল ঠাণ্ডা কীবোর্ডে ছুঁল ছোঁয়ায় হালকা সুরের শব্দ ছিটকে উঠলো। মুখে অজান্তে হাসি ফুটল, চোখে আগ্রহ ভেসে উঠলো।
জেভিয়ার এক টানে আনায়াকে নিজের উরুর ওপর টেনে বসালো। তার শক্ত হাত আনায়ার কৌতূহলধরা হাতটা ধরা দিলো এবং নির্দিষ্টভাবে ধরে কীবোর্ডের ওপর চালাতে দিল সে সুর উঠল, প্রথম দু’টোনে আনায়ার গলা ভর করে উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠলো।
আনায়ার মুখে আনন্দের উজ্জ্বলতা ঝিলিক দিল। সে হেসে উঠলো, তারপর একটু লজ্জা মেশানো কণ্ঠে বলল, “এটা আমার এত ভালো লাগছে…”
জেভিয়ার মাজে মৃদু হাসি তুলে আনায়ার কানের কাছে ফিসফিস করল,
“এইখানে যা দেখছো সব কিছু তোমার। কোনো কিছুও নিয়ে অস্বস্তি করবে না। যা মনে চাইবে ছুঁবে, যা মনে চাইবে ভাঙবে, যা মেনে চাইবে ছুড়ে ফেলে দেবে।”

আনায়া হঠাৎ মাথা ঘুরিয়ে জেভিয়ার এর দিকে তাকালো, তার চোখ জেভিয়ার চোখে লেগে রইলো। এই চোখগুলো ভিষণ আলাদা চোখের গভীরে ঘন কুয়াশা ছাড়া কিছুই দেখা যায় না।
জেভিয়ার আনায়ার কানের লতিতে একটা চুমু দিয়ে ধীরে ধীরে আনায়ার গাউনের পেছনের জিপ খুলে দিল। পোশাক নামতেই তার চোখে স্পষ্ট হয়ে উঠল আনায়ার পিঠের ক্ষতচিহ্ন সেই ক্ষতের রেখায় খোদাই করা একটি অক্ষর “J”।
এক তীক্ষ্ণ হাসি ছড়িয়ে পড়ল জেভিয়ার এর ঠোঁটে।
তার আঙুল বেয়ে নামল সেই কেটে লেখা অক্ষরের ওপর। আঙুলের স্পর্শে যেন আনায়ার শরীর কেঁপে উঠল। পরক্ষণেই জেভিয়ার নিজের ঠোঁট হালকা করে চেপে ধরল সেই দাগের ওপর।
তার পোশাক কিছুটা নামিয়ে এনে কাঁধে ঠোঁট রাখল। গরম শ্বাসের সঙ্গে চুম্বনের উত্তাপ মিশে গেল আনায়ার শরীরে।
আনায়া কেঁপে উঠল।
জেভিয়ার মুচকি হেসে ফিসফিস করে বলল,
“লেট’স বিগিন, মাই লাভবার্ড…”
আনায়াকে নিজের কোলে বসিয়েই সাদা-কালো কী-বোর্ডে আঙুল চালাতে শুরু করল।
ধীরে ধীরে ভেসে এলো এক সুমধুর সু গভীর, মায়াবী সুর।
আনায়া অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল তার দিকে।
পিয়ানোর সুরের সঙ্গে সঙ্গে জেভিয়ার গলা মিলাল…
“Pehle bhi main… tumse mila hu…
Pehli dafa hii…. milke lagaaa…
Tune chuwaa……zakhmoon ko mere
Marham Marham….dil pe lagaaa….
Pagal pagal hain dhode
Badal badal hain doono
Khulke barse bheege aa zara….

আনায়া অবাক চোখে জেভিয়ারের দিকে তাকিয়ে রইল, যেন কোনো অচেনা ঘোরে ডুবে গেছে। কিছুক্ষণ সেই দৃষ্টিই লক্ষ্য করে জেভিয়ার ভ্রু কুঁচকে বলল,
“কি হয়েছে? পছন্দ হয়নি নাকি?”
আনায়া ড্যাবড্যাব করে তাকিয়েই রইল। আনায়া হাত বাড়িয়ে জেভিয়ার এর গাল, মুখ স্পর্শ করে দেখল। জেভিয়ার হালকা বিরক্তি মিশ্রিত কণ্ঠে বলল,
“তুমি কি সত্যি জেভিয়ার?”
ভ্রু আরও কুঁচকে জেভিয়ার বলল,
“এত ওভার অ্যাক্টিং করছো কেন?”
আনায়া ধীর কণ্ঠে বলল,
“আমার সত্যি বিশ্বাস হচ্ছে না… তুমি এত সুন্দর গান গাইতে পারো, আবার পিয়ানোও বাজাতে পারো। মনে হলো যেন আমি কোনো কাল্পনিক জেভিয়ারকে দেখছি।”
জেভিয়ার চোখ সরু করে তাকাল, ঠোঁটে হালকা তীক্ষ্ণ হাসি ফুটল। সে নিচু গলায় বলল,
“ওকে…লেট মি প্রুভ ইট টু ইউ দ্যাট ইট’স মি!”
জেভিয়ার আনায়াকে পিয়ানোর লিডের ওপর বসিয়ে দিল। ঘাড়ের দু পাশ থেকেই পোশাক নামিয়ে জেভিয়ার আনায়ার ঘাড়ে চুম্বন করতে থাকে পাগলের মত। এরপর সোজা হয়ে আনায়ার গায়ের পোশাক আরও নিচে নামাতেই কালো রঙের স্ট্র‍্যাপবিহীন ই/নার ভেসে উঠলো। ইনারের ওপর দিয়েই আনায়ার ব/ক্ষভাজে জেভিয়ার ঠোঁট ছোয়ালো। আনায়া সামান্য কিছুটা পিছিয়ে গেলো। জেভিয়ার তার গাউন সম্পূর্ণ খুলে ফেললো।
আনায়ার পায়ের ডায়মন্ড স্টিলেটোস এর জুতো জোড়া পিয়ানোর কি-বোর্ড এর ওপর পড়ছে। তার খোলা চুল জভিয়ার কে আরও মুগ্ধ করছে। জেভিয়ার টুলে বসে আনায়ার পায়ের জুতো জোড়া খুলে পায়ে একটি শব্দ করে চুমু খেলো। আনায়ার ছোট্ট শরীর খানা কেপে উঠছে।
জেভিয়ার আনায়ার দিকে চোখ তুলে তাকালো, “এত কিছু করার পরও তোমার কাপাকাপি গেলো না?”
আনায়া তার মাথা দুপাশে ঘনঘন নাড়িয়ে বলল “না”। জেভিয়ার চোখ সরু করে বলে, “লেটস সি আর কোথায় কিভাবে কি করলে তোমার কাপাকাপি হয়।”

আনায়ার ইনারে হাত দিতেই আনায়া চোখ বড় বড় করে কাপাকাপা গলায় বলল, “এ…এইখানে পিয়ানোর ওপর কিভাবে কি? এর চেয়ে ভালো রুমে চলো!” জেভিয়ার আনায়ার ঠোঁটে নিজের আঙুল হালকা ভাবে চেপে ধরে বলল, “হুশশশ…সেইটা আমি বুঝবো কিভাবে কি হবে। এখন রুমে যেতে গিয়ে টাইম ওয়েস্ট করতে চাই না।”
জেভিয়ার আনায়ার ঘাড়ে চু/ম্বন করতে করতে পেছন থেকে ই/নার টা খুলে ফেললো। আনায়া নিজেকে কিছুটা কুকড়ে নিতে চাইলেও পারলো না জেভিয়ার তার কোমড় চেপে ধরে কাছে নিয়ে এলো। আনায়ার দু হাত জড়ো করে পেছনে নিয়ে জেভিয়ার এক হাতে ধরে আনায়ার গলায়, ঘাড়ে একে একে কা/মড় বসাতে থাকে।
জেভিয়ার আনায়ার কাধ থেকে ঘাড়ে লে/হন করতেই আনায়া ছোটফট করতে থাকে হাত ছাড়ানোর জন্য। জেভিয়ার তীক্ষ্ণ হেসে আনায়ার কানের লতিতে হালকা কামড় দিয়ে বলে, “এত ছটফট করে না সোনা। এইটা তো শুধু প্রাথমিক পর্যায়ে আছি সবে।”

এক পর্যায়ে হাত ছাড়া পেতেই আনায়া জেভিয়ার কে একটা ধাক্কা দিয়ে বলল, “জেভিয়ার বাহিরে থেকে সব দেখা যাবে, রুমে চলো। জেভিয়ার নিজের শার্ট খুলতে খুলতে ভাবলেশহীন কন্ঠে সুধালো, “নো ওয়ান ইজ হেয়ার বেইবি। আর যদি থেকেও থাকে তাহলে সে না হয় আমাদের ভালোবাসা দেখে একটু ফিল নিয়ে যাবে ব্যাপার না।”
বলা মাত্রই জেভিয়ার আনায়ার পা ধরে কাছে টেনে এনে তার মাঝে ডুবে যেতে থাকে। আনায়া ব্যা/থায় ভ্রু কুচকে গোঙানির শব্দ করতেই জেভিয়ার চোখ বন্ধ নেয়। আনায়া ঘনঘন নিশ্বাস ফেলতে থাকে।
আচমকাই আনায়া বলে ওঠে, “প্লিজ স্টপ জেভিয়ার। আমার পে/ইন হচ্ছে।” জেভিয়ার কিছুটা বিরক্ত হয়েই বলে, “ফা*ক। এতদিন হয়ে গেলো তাও বলছো পে/ইন হচ্ছে!”
আনায়া অসহায় কন্ঠে বলল’ ” আমার কি দোষ তুমি এত রা/ফ কেনো হও। একটু জেন্টাল হলে কি সমস্যা।”
জেভিয়ার চোয়াল শক্ত ড্রয়ার থেকে একটা টেপ বের করে আনায়ার মুখে লাগিয়ে দেয় এবং তার হাত বেল্ট দিয়ে বেধে দেয়। এরপর হিসহিস করে বলে, “আই লাভ টু ডু রাফ সে*ক্স।”
আনায়ার চোখ ঝাপসা হিয়ে আসছে। আজ নিজেও বুঝতে পারছে না এত ব্যা/থা কেন হচ্ছে তার। তবুও কিছু করার নেই তার। তার ভালোবাসা যে তাকে এইভাবেই ভালোসতে পছন্দ করে।”

অ্যাশলি নিজের ব্যাগপত্র গুছিয়ে রাখছে। কাল সে তার বোনের কাছে চলে যাবে। বোন তাকে নিতে আসছে। কিন্তু আজ, এই মুহূর্তে, কিছু একটা যেন তার ভিতর চেপে ধরে দম আটকে দিচ্ছে। সব ছেড়ে চলে যাওয়ার আনন্দের সঙ্গে এক অদ্ভুত শূন্যতা মেশা অনুভূতি। মনে হচ্ছে, খুব কাছের কিছু রেখে সে রেখে যাচ্ছে এবং সেটার খোঁজ আর মিলবে না।
বেডের উপর বসে অ্যাশলি চোখ বন্ধ করে গভীর নিঃশ্বাস নিল। বুকে চাপ, চোখ জ্বলছে কিন্তু কেন? সে জানে না। নিজের ভেতর খুঁজছে কোনো কারণ, কিন্তু কিছুই হাতে আসছে না।
হঠাৎ, বাহির থেকে আসা ধীরে ধীরে ভেসে আসা গুনগুন গানের সুর অ্যাশলির কান পিছু ধরল। মনটা হঠাৎ আরও অস্থির হয়ে গেল। সে ছোট ছোট পা ফেলে বেডের পাশের দরজার দিকে এগিয়ে গেল।
দরজা খুলতেই বাইরে হালকা আলো ছড়িয়ে পড়ল। গানের উৎস যেন কাছাকাছি, কিন্তু ঠিক দেখা যাচ্ছে না। অ্যাশলি কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল।

অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা পর্ব ২৬

সে আশেপাশে চোখ বুলাল। হঠাৎ দেখল, অ্যালেক্সের রুমের দরজা খোলা। তার চোখ স্থির হয়ে গেল রুমের ভেতরে অ্যালেক্স চেয়ারে বসে ঠোঁটের সঙ্গে হালকা গুনগুন করছে।
অ্যাশলি এগিয়ে যেতেই অ্যালেক্স তার দিকে ফিরল। অ্যাশলি কে দেখা মাত্রই খুবই মিষ্টি এক হাসি উপহার দিলো। অ্যালেক্স উঠে দাড়ালো তবে স্থীর হয়ে থাকতে পারলো না বিছানায় ধপ করে পড়ে গেলো। তার পা কাপছে অতিরিক্ত ড্রিংক্স করায় তার চোখ লাল হয়ে এসেছে। দাড়ানোর শক্তি টুকু সে পাচ্ছে না। সে শুধু ফিসফিস করে বলল,
” কেন এতটা যন্ত্রণা দিয়ে চলে যাচ্ছিস অ্যাশ? আমি কি এতই খারাপ? একটুও কি ভালোবাসা আমাকে দেওয়া যায় না অ্যাশ?”……..

অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা পর্ব ২৮