Home অপেক্ষা সিজন ২ অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ১

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ১

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ১
Maha Aarat

কাঁদায় থইথই উঠোন।মুষলধারে বৃষ্টি মাড়িয়ে হইচইয়ের আওয়াজই যেনো তীব্র শোনাচ্ছে।সামিয়ানার টপটপ জল বেয়ে পড়ছে কোণা দিয়ে।বাতাসে ভারী বিলাপের আওয়াজ,সাথে কামিনী ফুলের তীব্র গন্ধ!পিচ ঘেষে গাড়ির ব্রেক কষতেই গাড়িরচাকা কাঁদা মাড়িয়ে ছোপছোপ শব্দ করে উঠে।সামিয়ানা সংলগ্ন কোণার ঘরটার সামনে পুরুষের ভীড়।বর্ণভেদে তারা কতজন।অথচ সবার মাথায়ই একি পোষাক।বুকচিরে দীর্ঘ একটা শ্বাস বেরিয়ে আসে।প্রিয়জন হারানোর ব্যথা যদি এত তীব্র হয়,তবে প্রিয়জনের প্রিয়জনদের কেমন অনুভব হবে!তাঁর প্রাণের বন্ধু কই।বাবার খাঁটিয়া ধরে চুপচাপ হয়ে এক কোণায় বসে নেই তো!
উপয়ান্তর না পেয়ে বৃষ্টি মেখে ঘরটার দিকে এগোনোর উদ্দেশ্যে গাড়ি থেকে নামতেই মুষ্টি একটু অংশতে বৃষ্টির ফোঁটা না লাগার অনুভব করলেন।চোখ তুলতে দেখলেন, কেউ একজন ছাতা ধরেছে মাথায়।তাঁর দৃষ্টি ঘুরে যায় দূরের বারান্দায়।এইতো মাহের দাঁড়িয়ে।
ছাতা ছেড়ে বারান্দায় পা দিতেই মাহেরের অশ্রুমাখা টলমলে চোখ আরহামের ভেতরে সঞ্চিত স্বান্তনার বাণীকে দূরে ঠেলে দিলো।বুক চিরে উনারও চোখ ফাঁটার উপক্রম।সেই অথৈ অশ্রুকে পেছনে ঠেলে মাহেরকে শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরলেন।মুহুর্তেই আরহামের কাঁধ ঠান্ডা অশ্রুর ফোঁটায় শিউরে উঠলো….

সন্ধ্যার সময়।গ্রামের এলাকাগুলো সন্ধ্যেতেই যেনো একেবারে নীরব হয়ে যায়।দূরের কোল ভেসে আসছে কোনো এক টুকরো ঝাপসা আলো।জোনাক পোকা উড়ে বেড়াচ্ছে ডানা মেলে।চাঁদের নিঁখুত আলোতে প্রশস্ত উঠোন ঝলমল।সামনের আলগ ঘরের টিনে চাঁদের তীর্যক আলো জ্বলছে।বারান্দার একপাশে কাঠের টুলে বসে আছেন আরহাম।যোহরের নামাজের পরেই মাহেরের বাবার শেষ আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে।আরহামের স্মৃতিতে ভাসছে প্রিয় শিক্ষকের সাথে কাটানো মূহুর্তগুলো।মাহেরের থেকে কোনো অংশে কম ভালোবাসেন নি আরহামকে।আরহামের দ্বীনের পথে হাতেখড়ির সূচনাই করেছিলেন তিনি।আরহামের সুন্দর শৈশবের বেশী অংশ মাহের,আর এই বাড়ির আঙ্গিনাকেই ঘিরে।আরহামরা থাকতেন পাশের বাড়িতে। সেই দামি অট্টালিকা এখন পড়ে আছে অবহেলায়,পরিত্যক্ত অবস্থায়।বিকেল হলেই মাহেরের সাথে কুরআন শিখতেন শিক্ষকের কাছে।সন্ধ্যেতে আবার তালিম।দ্বীন শিখার তৃষ্ণার সাথে খুনসুটিতে ভরা ছিলো সেই দিনগুলো।অথচ যুগ পেরোতেই সেই শৈশব এখন দূর্লভ স্মৃতি!

আরহামের গাঢ় ধ্যান ভাঙ্গে ডুকরে উঠা কোনো আওয়াজ শুনে।কান খাঁড়া করে সেই আওয়াজের উৎস খুঁজতে লাগলেই দৃষ্টি স্থির হয় পাশের ঘরের জানালায়।প্রচন্ড বাতাসে দূলে দূলে উঠছে সাদা পর্দা।ভেসে আসছে মৃদু আলো সেই সাথে কোনো নারীকন্ঠের নীরব কান্নার আওয়াজ।ক্ষণে ক্ষণে কান্নার আওয়াজ ভারী হতেই আরহাম উঠে গেলেন।মাহেরের ছোট বোন।বাবার মৃত্যুতে একেবারেই ভেঙে পড়েছেন হয়তো।দূর্ভাগ্যবশত উনার সেই একাকীত্বকেই সঙ্গ দেওয়ার কেউ নেই এমুহূর্তে।তাদের একজন দূরসম্পর্কের খালা ছাড়া বাসায় কোনো এক্সট্রা মহিলা নেই।এমনকি মাহেরের আপন চাচা সামাদ মুনতাকিমের ঘরেও ঝুলে আছে বড় তালা।আপন ভাইয়ের মৃত্যুতেও শহর থেকে ফিরেনি তাঁরা।আরহাম যতটুকু শুনেছেন, মাহেরের পরিবারের সাথে তাদের কোনো বিবাদ।যা গত এগারো বছরেও মীমাংসা হয়নি।
আনমনে উঠানে পা দিতেই কাঁদা ছিটকে উঠে জুতায়।আরহামের কপাল কুঁচকে আসে।পিছু ফিরে আবারও ফিরে এলেন বারান্দায়।ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে দেখলেন উঠোনের কোথাও পা ফেলার জো নেই।কাঁদায় ভরপুর সাথে বাড়িভর্তি মানুষের হাঁটাচলা উঠোনকে ক্ষেতের জমি বানিয়ে ফেলেছে।
হাতের ফোনটা আচমকা কেঁপে উঠে।ফোনে ভাইব্রেশন হচ্ছে।ফোন ধরে সালাম বিনিময় শেষে ওপাশের প্রশ্নের উত্তর দিলেন, ‘জানিনা কখন বেরোব।মাহের খুব মেন্টাল স্ট্রেসে আছে।এখন ঘুমে।ও জাগলে বিদায় নিয়ে রওয়ানা দিবো।’
ওপাশ থেকে আবারও ভেসে আসলো কিছুকথা।আরহাম দ্বিমত প্রকাশ করে বলেন, ‘সেটা কীভাবে হয়?যত রাত হোক,আমি ফিরবো ইন শা আল্লাহ।’

মুখোমুখি বসে আছেন আরহাম,মাহের।আরহাম তীক্ষ্ণ চোখে মাহেরের মুখাবয়ব পরখ করছেন।সবসময়ের থেকে পার্থক্য শুধু একটা জিনিসে।সামান্য চোখ লাল।কিন্তু মুখের আদল বরাবরের মতোই গম্ভীর।তাকে দেখে বুঝা যাচ্ছে না সে সবচেয়ে দামি ছাঁয়া হারানোর বেদনায় বিমূর্ষ,দূ:খিত।বাইরে থেকে মনের খবর তো জানা যায় না।ভেতরে হয়তো তুমুল ঝড়ের তান্ডব বইছে।সেটা কে জানছে?
মাহের নিচুদৃষ্টি তুলে তাকান।ঈষৎ লাল চোখজোড়া ঘড়িতে চোখ বুলিয়ে নেয় একবার।মাহের উঠে মুখ বাড়িয়ে ডাকলেন, ‘হাফসা!!
‘কাকা কি ঘরে?যদি থাকেন একটু আসতে বলিও।’
একটু পর কাকা আহমাদ রুমে ডুকতেই আরহাম দাঁড়িয়ে গেলেন।মাহের নম্রকন্ঠে জিজ্ঞেস করলেন, ‘খাওয়ার ব্যবস্থা হয়নি?বারোটা বাজতে চললো।’

‘এখনি রেডি করছি।’
কাকা চলে যেতেই আরহাম একবাক্যে দ্বিমত করে বললেন, ‘আমাকে খাওয়ার অনুরোধ করো না।তুমি ঠিক হও।তুমার পরিবারের মানুষকে সামলাও।আমার যদি কিছু করার না থাকে,তাহলে ফিরতে চাই আমি।’
‘এত রাতে তুমাকে যেতে দিতে পারি না।আজকে থেকে যাও।’
‘প্লিজ…
‘আমি জানি তুমি গায়রে মাহরামের ভয় করছো।এদিকে দিয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে পারো।’
‘না মানে….’
‘আচ্ছা সমস্যা থাকলে যাও।যাওয়ার আগে বাবার কবর টা একসাথে আরেকটাবার জিয়ারত করতে চাই।’

সকালের শীতল পরিবেশ।ঘরের চৌকাঠ পেরিয়ে চোখ যেতেই মস্তো বড় মাঠ।দক্ষিণ দিকে যতদূর যায় চোখ সারি সারি ক্ষেতের জমি।ভোরের নির্মল পরিবেশ।সাথে গ্রামীণ আবহাওয়া।মন ভালো করার মতো দারুণ মুহুর্ত কিন্তু আরহাম শূন্য দৃষ্টিতে বাইরে তাকিয়ে আছেন।ভারাক্রান্ত মনের সীমাহীন ভাবনার কিনারা পাওয়া দায়!
মাহেরের কন্ঠ শুনে ঘর ছেড়ে বেরোলেন।মাহেরের মলিন মুখ আরহামকে ভেতর থেকে দূর্বল করে দিয়েছিলো।বন্ধুর এমন দূ:সময়ে একা ছেড়ে যেতে পারলেন না।তাই রাতে থাকতে হয়েছে।মাহের এতিমখানায় শিশুদের খাবারের আয়োজন নিয়ে আহমাদের সাথে কথা বলছে।কিন্তু প্রতিটা বাক্য শেষেই যেনো একেকটা গরম দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসছে বুকচিরে।কাল সারারাত ছাদের ফ্লোরে শুয়ে ছিলেন ভোরের দিকে শরীর কাঁপিয়ে জ্বরের প্রস্তুতি।মাহেরের একটা দূর্বল দিক আছে, একটু ঠান্ডা বাতাস অথবা ঠান্ডা লাগার যেকোনো উৎস পেলেই জ্বর আসা।আরহাম রুমে আসতেই রিদান ট্রে তে করে নাস্তা পরিবেশন করে গেলো।মাহেরের মানা সত্ত্বেও জোর করে তাকে খেতে বাধ্য করলেন আরহাম।খাবার শেষে পানি এগিয়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কোন মেডিসিন নিবে?’

‘লাগবে না।সেরে যাবে।’
‘তুমি অসুস্থ হয়ে যাচ্ছো।’
কোনোরুপ বাক্য ব্যয় না করে মেডিসিন নিয়ে মাহের বেডে মাথা এলিয়ে দিলেন চোখ বুজে।আরহাম ভণিতা ছাড়াই আচমকা বললেন, ‘তোমার বোনের ঘরে যাওয়া উচিত একবার।’
মাহের তড়িৎ ভ্রু কুঁচকে আরহামের দিকে তাকালেন।আরহামের মুখের আদল ব্যতিক্রম।মাহের একমুহূর্ত দেরি করলেন না।আসলেই তো,বাবার আমানতের খেয়াল রাখা হচ্ছে না।কলিজার বোনটা যে তিলে তিলে আপনজন হারানোর দূ:খ পোষছে সেটা তো মাথায়ই ছিলো না মাহেরের।
ফ্ল্যাশব্যাক~
রাতের দিকে ঘুম আসছিলো না আরহামের।স্বভাবত আসার কথাও নয়।রুম থেকে বেরিয়ে বারান্দায় বসেছিলেন।চারিদিক নিস্তব্ধ, নির্ঘূর।কিন্তু চাপা কান্নার আওয়াজ টা তীক্ষ্ণ।মাএ মিনিট দূয়েক থেকেছিলেন সেখানে।আরহামের মনে হয়েছে, চাপা কন্ঠের কান্নাগুলো একদলা কষ্ট নিয়ে নিয়ে বের হচ্ছে।আর যার কর্ণ পর্যন্ত পৌচচ্ছে তাকেই এক তুবলা কষ্ট বিলিয়ে যাচ্ছে।
দ্রুতই মাহেরের ঘরে গেলেন।মাহের তখন ঘরে নেই।তখন ছাদে যেতেই দেখলেন তাকে।মাহেরের দূর্বলতায় অন্য প্রসঙ্গে কথা বলার ইচ্ছা থাকলো না আর।

ঝুমঝুম বৃষ্টিতে শহর ভেজা।পিচের পানি মাড়িয়ে দ্রুত গতিতে গাড়ি চলছে।গন্তব্য হসপিটাল।মুষলধারে বৃষ্টির সাথে বিজলীর বেগও বাড়লো হঠাৎ।ঘড়িতে সময় দেখে দ্রুত লিফটের বাটন চাপলেন আরহাম।লিফট নিয়ে গেলো চার নাম্বার ফ্লোরে।ফ্লোরে ঢুকেই বামের রুমটায় নক করতেই মাহের এগিয়ে আসেন।মুসাফাহা শেষে আরহামকে বসতে বলে হাতের কাজ টা সেরে নিচ্ছেন।বেল চেপে দূই কাপ গরম কফি অর্ডার দিলেন।
মাহের মুসতাকিম হায়ান।একজন সুপরিচিত কার্ডিয়াক সার্জন।উচ্চতর পদে যুক্ত একজন দক্ষ ডাক্তার।বিকেল চারটায় তাদের মিট করার কথা হসপিটালের পাশের ক্যাফে।কিন্তু বৃষ্টির জন্যই আর বেরোনো হলো না।
মাহের হাতের কাজ সারতে সারতে দূ কাপ কফি পৌঁছে গেলো টেবিলে।আরহামের দিকে কফি এগিয়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘বৃষ্টির মধ্যে কষ্ট দিলাম।’
‘সমস্যা নেই।তোমার কি খবর?’
‘চলছে।আবার সমস্যা ও হচ্ছে।’
‘কেন?’
‘মি. সামাদ ফিরেছেন গতকাল বিকেলে বাড়িতে ফিরেছেন।এসেই তুলকালাম কান্ড।আমাদের শহরের জমিটা নিয়ে।যেখানে একটা অল্ড হোমের প্ল্যান করেছিলাম আমি।’

‘তিনি কেন চাচ্ছেন?’
‘ওখানে রেস্টুরেন্ট বানাবে।’
‘জমির ডকুমেন্টস কার কাছে?’
‘আমাদের কাছেই।কিন্তু খুঁজে পাই নি।বাবাই জানতেন সব।’
বাবা শব্দ উচ্চারণ করেই মাহেরের চশমার আড়ালে গম্ভীর মুখটায় ঘন আঁধার নামে।বাবার মৃত্যুর আজ পুরো এক সপ্তাহ।অতীতের স্মৃতিতে ডুবছিলো মন।অমনি আচমকা বিজলীতে ঈষৎ কেঁপে উঠলেন।’এক্সকিউজ মি’ বলে তড়িৎ ফোন লাগালেন কোনো নাম্বারে।
‘খালা আপনি কোথায়?’
‘আমি তো মেজো ভাইসাবের ঘরে।’
‘বৃষ্টি হচ্ছে?’
‘হো।’
‘মানে কি?আমার বোনকে একা ঘরে রেখে এসছেন?জানেন ও মেঘের ডাক ভয় পায়।’
‘কি করতাম এহন?’
মাহের উত্তর না দিয়েই কেটে দিলেন ফোন।উনার চোখেমুখে হালকা বিরক্তি সাথে সংশয়।আরহামের দিকে ফিরে কুঞ্চিত ভ্রু জোড়া সোজা করে বললেন, ‘কেন জানি ভয় হচ্ছে। ‘
‘কেন?’

‘মি. সামাদের এক পাগল টাইপ ছেলে আছে, রিযাল।সকালে যখন ছাদে উঠছিলাম দেখলাম হাফসার ঘরের দিকে উঁকিঝুকি মারছে।হাফসা একা ঘরে।আমার তো ফিরতে ফিরতে রাত হবে।’
‘আজকে তাড়াতাড়ি ফিরে যাও।’
‘হু।এখানের আশেপাশে একটা বাসা দেখো তো।আর আগামী শুক্রবার অবশ্যই আসবে।একটা আয়োজন আছে।’
‘কিসের?’
‘হাফসার বিয়ে নিয়ে ভাবছি।আজকে ফিরতে হবে।বাকি কথা ফোনে সেরে নিবো।চলো বেরোই।’
আরহামের ঠোঁট পর্যন্ত এলোমেলো প্রশ্নগুলো এসে আটকে গেলো…
মাহের ব্যস্তভঙ্গিতে এপ্রোন টা খুলে নিলে টাইয়ের নব ঢিলে করতে করতে বেরোলেন।আরহামকে দূই মিনিট অপেক্ষা করতে বলে শার্টের স্লিভ গোটাতে গোটাতে মোড়ের একটা কেবিনে নক করলেন।সাথে সাথে দরজা খুলে গেলো।মাহের পেশেন্টের অবস্থা পর্যবেক্ষন করে গার্ডিয়ানের উদ্দেশ্যে বললেন, ‘রাতে কিছু খেতে দিবেন না।’
মেয়েলি চিকন কন্ঠের সুর ভাসে তখন, ‘আপনি একবারও আসলেন না আজকে?আপনার এসিস্ট্যান্ট তো ডাক্তার নয়।উনি দেখে কি বুঝবে?’

‘অমিকে আমি-ই পাঠাই।’
‘তবুও একবারও আসা উচিত ছিলো না?’
‘পেশেন্ট তো আমার আন্ডারেই।আপনাকে এতো ওভারথিংক করতে হবে না।’
‘আমি করছি কারণ আপনি…
‘স্টপ এশা।ইউ আর যাস্ট মাই পেশেন্ট নাউ।’
‘এর বাইরেও তো আমাদের একটা পরিচয় আছে।’
‘হসপিটালের ভেতরে সেটা ভুলে যান।’

মাহের বেরিয়ে এলেন দ্রুত।পেছন থেকে কি কথা আসলো সেদিকে কান দিলেন না।ফিরে এসে এসিস্ট্যান্ট অমি কে বললেন, ‘দূইশো এক নং রুমের পেশেন্ট এর অপারেশন কালকে।সবকিছু ঠিকটাক রাখবে।টেক কেয়ার দেম।আর কালকে রাতের পেশেন্ট রাখবে না।’
অমির সম্মতির অপেক্ষা না করেই বেরিয়ে গেলেন মাহের।

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ২