অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ২৭
Maha Aarat
আরহামের প্রতিষ্ঠানে অ্যারাবিক লাইনের উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শ্রেণী রয়েছে।সাথে বছর শেষে থাকছে মিশরে গিয়ে স্কলারশীপে পড়ার সুযোগ।এতিম বাচ্চাদের জন্য রয়েছে আলাদা সুবিধা।প্রতিষ্ঠান থেকে ২০ মিনিটের রাস্তার পর তাদের জন্য থাকছে ভবন।যেখানে তাদের পুরো দায়িত্বটুকুই প্রতিষ্ঠানের।শেষ বর্ষের স্টুডেন্ট রা বছর শেষের ইসলামিক কম্পিটিশন থেকে উইনার হয়ে উমরাহ করার সুযোগও পান।এই সবকিছুর ডিরেকশন দিতে হয় আরহামকে।এই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের জন্য রয়েছে বাধ্যতামূলক কিছু শর্ত।যেটা তাঁরা এপোয়েনমেন্ট পেপারের সাথেই বুঝে নেন।
প্রতিষ্ঠানের মহিলাদের পরিচালনায় প্রধান হিসেবে আছেন হালিমা।প্রতিষ্ঠানিক ডিউটি শেষেও যার তত্ত্বাবধানে বিকেলে চলে তালিমের ক্লাস।
আরহাম কাজে ব্যস্ত থাকাকালীন কর্মচারী এসে জানালেন,হালিমা ম্যাডামের পক্ষ থেকে নোটিশ আসছে।আরহাম সেটা চেক করে কিছুক্ষণ ভেবে বললেন, ‘তালিমের সময়টা তিনটা থেকে দিয়ে দিন এবং ঠিক চারটায় যেনো শেষ হয়।কারন ক্লাসের ছুটি হয় চারটা পনেরো তে।আমি চাই না স্টুডেন্ট এর জন্য মহিলারা বিব্রতবোধ করুন।’
যোহরের আযানের সময় হয়েছে।ল্যাপটপ অফ করে আরহাম চেয়ারে হেলান দিয়ে রইলেন।মনটা খচখচ করছে শুধু।উমায়ের এর কাছে একবার অন্তত ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিলো,একবার অন্তত উচিত ছিলো।নাস্তার টেবিলে উনার ব্যবহার ছিলো একদম স্বাভাবিক।কিন্তু সকালে তিনি কেঁদেছিলেন এটা অস্বীকার করতে পারবেন না।
নামাজ সেরে একটুখানি তিলাওয়াত করে মাএ উঠলো সে।আম্মুর সাথে লাঞ্চ রেডি করতে সাহায্য করতে হবে।কিন্তু কিচেনে এসে দেখলো আম্মু নেই।আম্মুকে রুমে নামাজে দেখে আপুর ঘরে যাচ্ছিলো হাফসা।
মাইমুনা তাকে দেখে বললেন, ‘কষ্ট করে ওয়াটার পটে একটু পানি এনে দিতে পারবে?মেডিসিন নিবো।’
হাফসা মুচকি হেসে ওয়াটার পট টা হাতে নিয়ে বুঝালো সামান্য এটুকুর জন্য এতো অনুরোধ করতে হয়?
পানি নিয়ে এলে মাইমুনা তার সাথে গল্প শুরু করে দিলেন।হাফসা উনার চুলগুলো হেয়ারড্রায়ার দিয়ে শুকাতে সাহায্য করছিলো আর মাইমুনা গল্প করছিলেন উনার পরিবােরর কথা।কিরানের আলাপ করার সময় হাফসা হেসে ফেললো তাঁর বাচ্চামোতে।মাইমুনা আচমকা তাকে আয়নায় লক্ষ্য করে বললেন, ‘হাসলে তো তোমাকে দারুণ লাগে মাশাআল্লাহ।সবসময় এভাবে হাসো না কেন?’
‘আমার হাসি নিয়ে কখনো বলো নি তো এমন?আমার হাসি কি খারাপ?’ বলতে বলতে আইরা মাইমুনার গলায় ঝুলে বলল, ‘তুমি কি বেলীফুলের হেয়ারঅয়েল ইউজ করেছো ভাবি?এত্তো সুন্দর স্মেল।’
‘না তো।’
‘তাহলে স্মেল আসছে যে!’
‘বেলিফুল রুমে আছে তাই।’
চুল শুকানো শেষ হলে হেয়ারড্রায়ার টা অফ করতে নিলে মাইমুনা বাঁধা দিয়ে বললেন, ‘এবার তুমি বসো।তুমিও তো শাওয়ার নিয়েছো।তোমার চুল আমি শুকিয়ে দিই।’
হাফসা বাঁধা দিয়ে বুঝালো প্রয়োজন নেই।সে রোদে যাবে।
‘বাইরে রোদ বেশী?’
হাফসা উত্তর দিলো, না প্রায় নিভে যাওয়া রোদ।
আইরা সহমত পোষন করে বলল, ‘আচ্ছা লাঞ্চের পর আমরা তিনজন ছাদে যাবো।আমিও রুমে থাকতে থাকতে অলস হয়ে গেছি।বাইরে যাওয়া হয় না।’
লাঞ্চ সার্ভ করার সময় মাইমুনা ড্রয়িং এ তাদের আড্ডায় যুক্ত ছিলেন।আইরা, হাফসা একসাথে সার্ভ করে নিতেই আম্মু তিলাওয়াত সেরে আসলেন।উপস্থিত পরিবেশ দেখে সন্তুষ্টিসুরে বললেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ।’
আইরা সরু নজরে তাকালো আম্মুর দিকে।আম্মু তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, ‘আমি চাই তুমি এভাবে হাত পা নাড়াও।অলসের মতো ঘুমিয়ে না থেকে কাজে সাহায্য করো,শিখো।তাহলে তোমার ফিউচার মাদার ইন লো আমাকে কথা শোনাবেন না।’
‘তিনি তোমাকে কেন কথা শোনাবেন?’
‘বলবেন আমি তোমাকে শিখাইনি।’
‘হু আপনার সব কথাই ‘বিয়ে’ জিনিসটায় গিয়ে থামে।’
লাঞ্চ করতে যাওয়ার জন্য এশা নিজের কেবিন ছেড়ে কেবল উঠেছে।।আগে নামাজ আদায় করে নিবে,তারপর খাবে।
রিসিপশনে গিয়ে সার্ভেন্টের খোঁজ করছিলো সে খাবার অর্ডার দেওয়ার জন্য।অমনি বাইরে বেরিয়ে দেখলো, অফিসে বেশ গোলমেলে পরিবেশ।কিছুক্ষণ পরিস্থিতি অবলোকন করে বুঝলো,কোনো নতুন গেস্ট আসছেন হয়তো।কিন্তু গেস্ট হিসেবে যখন তাঁর হবু না হওয়া শ্বশুরকে দেখলো অমনি আকাশ থেকে পড়লো সে।বসের সাথে তাদের ইম্পোর্টেন্ট মিটিং হওয়ার প্রস্তুতি চলছে।সে যাকগে,এখন সে নামাজ টা পড়ে খেতে হবে।এসব মিটিং ফিটিং এ তাঁর কাজ নেই।ফিরে আসছিলো অমন সময় পেছনে তাঁর নাম ধরে কেউ ডাকতেই হকচকিয়ে তাকায়।রায়ান তাকে হুশিয়ারি ইশারা করে বলে, ‘মাস্ক টা উঠান।আমার বাবা আপনাকে দেখলে একদম চাকরি নট করে দিবে।’
মাস্ক তুলে রাগীসুরে বলল, ‘আমার চাকরি নট করার আপনার বাবা কে?’
‘বাবা কেউ না।তবে উনি চাইলে তো…
‘আমি কি আপনার বাবার আন্ডারে কাজ করি যে তিনি চাইলেই নট করে দিবেন।’
‘কুল!প্লিজ কুল!আপনি বাবার না হওয়া বউমা এই ক্রোধ তো এখনো আছে তাই…..’
এশা আর কোনো প্রত্যুত্তর না করে চলে যাচ্ছিলো কিন্তু রায়ান পথ আটকে বলেন, ‘আপনি নিশ্চয়ই লাঞ্চে যাচ্ছেন তাই না?’
‘না।’
‘তাহলে?’
‘নামাজ পড়তে যাচ্ছি।’
‘ওহ।তাহলে আমি অপেক্ষা করি।’
‘কেন?’
‘লাঞ্চ করবো একসাথে?’
‘সরি?আমি কাউকে শেয়ার করি না।’
‘শেয়ার করতে কই বললাম?আমি আলাদা….
‘আর আপনি এখানে কেন?কিছুক্ষণের মধ্যে তো আপনাদের মিটিং।’
‘আমি তো আর বাবার কোম্পানিতে কাজ করি না।সো এসবে আমি নেই।’
‘তাহলে কেন আসছেন?’
‘সকালে শুনলাম বাবা আপনাদের অফিসে আসবেন আজ।তাই আমার অফিসে না গিয়ে বাবার অফিসে চলে আসলাম।’
এশা কথা না বাড়িয়ে বলল, ‘আমার লাঞ্চ অর্ডার দেওয়া হয়েছে।সেটা আমার ডেস্কে চলে আসবে।আর এমনিতেও আপনাদের জন্য স্পেশাল আয়োজন করা হয়েছে।সুতরাং ক্যান্টিনের খাবার আপনাদের জন্য নয়।’
‘আমি ক্যান্টিনেই খাবো।’
এশা চুপচাপ চলে আসছিলো।লোকটা থাকুক তাঁর জিদ নিয়ে।এতে আমার কি।অথচ পেছন থেকে আবারও ডাকলেন,
‘এশা!’
এশা বেশ বিরক্তি নিয়ে তাকিয়ে বলল, ‘বলুন।’
‘আপনি আমার ওপর রেগে আছেন?’
‘না।’
‘তাহলে ফোন ধরলেন না যে।’
‘দেখুন মিস্টার রায়ান আপনার উপকার আমি কখনোই ভুলবো না।কখনো আপনার কোনো উপকার করতে পারলে খুশি হবো।এর বাইরে আমাদের আর কিছু নেই।’
‘আপনি এখনো কি ডক্টর মাহেরের অপেক্ষায় আছেন?’
এশা বেশ ভেবেচিন্তে উত্তর দিলো, ‘নাহ।’
রায়ান এক্সাইটমেন্ট নিয়ে বললেন, ‘তাহলে এখন আমাকে একটা সুযোগ দেওয়া যায়?’
‘এসব নিয়ে ভাবছি না আপাতত।আমার দেরী হচ্ছে, আসি।’
ছাদের চিলেকোঠার বারান্দায় তিনজনে আড্ডা দিচ্ছিলো।তাদের কথা হচ্ছিলো তাদের ছোটবেলার সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতি নিয়ে।কথা বলার ফাঁকে মাইমুনা বারবার লক্ষ্য করছেন হাফসার মন খারাপ হয়ে যায় তবুও সে হাসছে।মেয়েটা বুঝতে দেয় না।মাইমুনা এমন প্রসঙ্গ এড়িয়ে চললেও বারবার কথায় কথায় এমন কিছু চলে আসে,যে বিষয়গুলো হাফসার ছোটবেলার একাকীত্বকে স্মরণ করায়।আইরা যখন কথা বলে তখন তাঁর ব্যালেন্স থাকে না।এক টপিক ছেড়ে অন্য টপিকে সে কীভাবে যায় নিজেই বুঝতে পারে না।ওর স্মৃতিতে ডুবতে গিয়ে সে হাফসাকে ইনডিরেক্টলি আঘাত দিয়ে যাচ্ছে।মাইমুনা এসব প্রসঙ্গ পুরোপুরি থামাতে চাইলেন।এই উদ্দেশ্যে কিছু বলবেন তার আগেই আম্মু খবর পাঠালেন,আরহাম বাসায় এসছেন।হাফসাকে কোনো বিশেষ প্রয়োজনে ডাকছেন।মাইমুনা মনে মনে স্বস্তির শ্বাস ফেলে আইরার দিকে তাকাতে দেখলেন সে মুখ ফুলিয়ে চুপ হয়ে আছে।তাঁর এতো সুন্দর স্মৃতিচারনণের মধ্যে এখনি ভাবিপুকে ডাকতে হলো।আলোচনায় বাঁধা পেয়ে মুডটাই খারাপ হয়ে গেলো তার।
মাইমুনা ওর এমন লটকে থাকা ফেইস দেখে হেসে ফেললেন।বললেন, তুমি যে হাফসার সামনে এতোকিছু বলছো,স্বাভাবিকভাবে ওর তো খারাপ লাগবে।তাঁর আম্মুকে তাঁর ছোটবেলা হারিয়েছে আর আব্বুকে মাএ কিছুদিন আগে।সুতরাং ওর কাছে অতীতের স্মৃতি মানেই বিষাদ।তুমি খেয়াল করো নি ওর বারবার মন খারাপ হয়ে যাচ্ছিলো।তবুও বোকার মতো হাসছিলো।
আইরা সিরিয়াস হয়ে বলে, ‘তুমি এতো কিছু খেয়াল করো?’
‘ওর চেহারাতেই ওর কষ্ট পাওয়া প্রকাশ পাচ্ছিলো।’
আইরা মাইমুনার গাল টেনে বলে, ‘তোমাদের সম্পর্ক টা কিন্তু হিংসার।সরি,হিংসার না আমি বুঝাতে চাচ্ছিলাম এভাবে স্বাভাবিকভাবে একটু প্রতিহিংসা চলে আসে।কিন্তু আপনারা কতো ফ্রী।তুমিও এতো বুঝো ভাবিপুকে।খালি আমিই বুঝি না।’
মাইমুনা দীর্ঘশ্বাস ফেলে অন্যমনষ্ক হয়ে বললেন, ‘আমার প্রিয়তমের প্রিয়তম সে।আমি ওকে কষ্ট দিলে বা আঘাত দিলে ও কষ্ট পাবে।ওর কষ্ট দেখে শাহ ব্যথিত হবেন।আর শাহ ব্যথিত হওয়া মানে আমিই কষ্ট পাওয়া।কারন উনাকে আমি ভালোবাসি।সো ঘুরেফিরে আঘাত টা আমা’কেই দিচ্ছি তাই না?তাই আমি ওকে খুশি রাখতে চাই,যাতে শাহ ও খুশি থাকেন।আর হাফসা সত্যি একা বড় হয়েছে।আমার পরিবার আছে, তোমার পরিবার আছে,কিন্তু ওর নেই।ওকে কষ্ট দিতে আমার রুহ কাঁপবে।আর ওকে যদিও আমি আঘাত দিই,শাহ আমাকে আস্ত রাখবেন মনে করো?হাফসাকে কষ্ট দিলে উনি আমাকে শাসনে ছাড় দিবেন না।আমি কখনোই উনার বিশ্বাস ভাঙ্গতে চাই না।’
হাফসা রুমে এসে দেখে আরহাম অপেক্ষা করছেন।আম্মু বললেন উনি উনার কিছু পেপারস খুঁজে পাচ্ছেন না অথচ সেগুলো তো সকালে রুমেই রেখেছিলেন।হাফসা এসে ড্রেসিং টেবিলের ভেতর থেকে পেপারগুলো বের করে এনে হাতে দিতেই আরহাম বললেন, ‘এটা রাখুন।আমি অন্য প্রয়োজনে ডেকেছি।’
হাফসা জিজ্ঞাসুদৃষ্টিতে তাকালো।প্রয়োজন শেষ হলে সে ছাদে যাবে।তাকে রেখে ওরা হয়তো সুন্দর সুন্দর সব গল্প করে ফেলছেন।কিন্তু লোকটা উসখুস কেন করছেন?
আরহাম বেশ ইতস্তত করে বললেন, ‘আপনি চাইলে আজ রাতে আমরা বেড়াতে যাই?’
হাফসা এতক্ষণে ধরতে পারলো উনার নার্ভাসনেসের কারন।লোকটা হয়তো ভাবছেন,কাল আপুকে নিয়ে টাইম স্পেন্ড করায় সে রাগ করেছে?’
হাফসা মাথা নাড়িয়ে না বোধক উত্তর দিয়ে বুঝালো, না সে যাবে না।
‘কেন?’
এমনিই।তাঁর এমন কোনো ইচ্ছে নেই রাতের শহর ঘুরার।উত্তর দিতেই আরহাম চুপ হয়ে গেলেন।
হাফসা মনে মনে একটু তাড়াহুড়োয় ছিলো।লোকটার কথা শেষ হলে সে ছাদে যাবে।কিন্তু তিনি তো কিছু বলছেন না।
যাওয়ার অনুমতি চাইতেই তিনি জানতে চাইলেন কোথায় যাবে।ছাদে যাওয়ার কথা বলতেই বললেন, ‘উহু এখন যাবেন না।আমি আপনার জন্য বাসায় এসেছি….
সত্যি?সে ভ্রু কুঁচকে তাকালে আরহাম অপ্রস্তুত হয়ে বললেন, না মানে আজকে ভালো লাগছিলো না সেখানে।তাই চলে আসছি।’
আরহাম মনে মনে নিজেকেই ধিক্কার দিচ্ছেন।কথার কথা এখনো একটাও বলতে পারলেন না।এতটুক একটা মেয়ের সামনে উনার নার্ভাসফিল হচ্ছে কেন।আশ্চর্য!
পরপর কয়েকটা লম্বা শ্বাস নিয়ে আরহাম একদমে বলতে লাগলেন, ‘উমায়ের।আমি সত্যি অনুতপ্ত।আমি আপনাকে হার্ট করতে চাইনি।আসলে এ কয়দিন আপনার সাথে ছিলাম আর মাইমুনা অসুস্থও ছিলেন।তাই যাস্ট উনার মুড ভালো করতে।বাট আপনার কেয়ার নেওয়া হয়নি।এজন্য আমি খুব খুব সরি।আজকে আসুন,আজকে আপনার ইচ্ছেমতো সময় কাটুক।নাহলে আমি খুব রিগ্রেট ফিল করছি।’
হাফসা হুট করে মুচকি হাসতেই আরহাম অবাক হলেন।কি সুন্দর সাংঘাতিক হাসি।অথচ সে আরহামের সামনে হাসেই না।
হাফসা ইশারায় বুঝালো তাঁর একটুও মন খারাপ হয়নি আপুকে নিয়ে যাওয়ায়।সেও চাইছিলো আপুর মন ভালো হোক।এ নিয়ে আরহামের গিল্টিফিল করার কোনো প্রয়োজন নেই।
‘তাই?তাহলে সকালে কাঁদছিলেন কেন?’
হাফসাও স্বাভাবিকভাবে উত্তর দিলো, বাড়ির কথা মনে পড়ছিলো এজন্য।
আরহাম এবার একটু স্বস্তি পেলেন।হাফসার ওরনার প্যাঁচ খুলে চুলগুলো বেরিয়ে পড়ছে।আরহাম চুলে হাত দিতেই সে চট করে ওরনায় ঢেকে এলোমেলো চুলগুলো সামলে নিতে চাইলো।অথচ আরহাম তার খোঁপা এলিয়ে বিস্ময়ভরা কন্ঠে বললেন, ‘মাশাল্লাহ।’
লোকটা তার চুলগুলো নাড়াচাড়া করছেন।এদিকে যেনো তাঁর হৃদপিণ্ড ঝুলছে অস্থিরতায়।চুলগুলো কি খেলার জিনিস? কিন্তু তাঁর নাকে এত সুঘ্রাণ ভাসছে কেন?
আরহাম চুল ছেড়ে দিতেই ভারী ভারী লাগলো তাঁর।হাত এগিয়ে নিতেই বুঝলো খোঁপাতে ফুল গোজা।আয়নায় দেখতে পেলো ফুলের গাজরা।হাফসা আরও চমৎকৃত হলো যখন আরহাম পকেট থেকে আরেকগুচ্ছ ফুল বের করে তাঁর হাতে পরিয়ে দিতে লাগলেন।আর বললেন, ‘আপনার জন্য ও এনেছিলাম কিন্তু এসে দেখলাম আপনি ঘুমে।ফুলগুলো শুকিয়ে গিয়েছিলো তাই আবার নিয়ে আসলাম।’
হাফসা হাতে টা নাকের কাছে নিয়ে ফুলের গন্ধ শুঁকেই খুশিতে হেসে ফেললো।আরহাম মনে মনে ভাবছিলেন,ফুলের মধ্যে এমন কি।মেয়েরা এত দূর্বল কেন এটায়?
শুধু ফুল দিয়েই ক্ষান্ত হলেন না তিনি।কপালে একটা ভালোবাসা আঁকতেই তাঁর মুখ নিচু হয়ে গেলো।
আরহাম তাঁর এহেন লজ্জ্বা দেখে হাসতে হাসতে বললেন,
অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ২৬
‘আপনি যে এতো লজ্জা পান,একদম লাল গুলুমুলু লাজুকফুল হয়ে যান,এটা যে আমাকে আরও বেশি আকৃষ্ট করে এটা বুঝেন?’
ইসস!এবার সাইনেস এর এক্সচেন্জ কি পাবে সে।লজ্জা পাচ্ছে জেনেও লোকটা কেন তাকিয়ে থাকেন সে এটা বুঝে না।
ওর মুখ নিচু করা দেখে আরহাম শব্দ করে হেসে বললেন, ‘ভেরী সুন আই উইল ব্রেইক ইউর সাইনেস…ভেরী সুন।ওয়ার্ন করে রাখলাম।’বলতে বলতে নাকে খোঁচা দিয়ে মুচকি হাসতে হাসতে তিনি বেরিয়ে গেলেন।
