অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৩৪
Maha Aarat
বেলকনির স্লাইড ডোরে ভেজা শিশির বিন্দু লেপ্টে আছে। কুয়াশায় ঢাকা পৃথিবী।গভীর রাতের নিকষ পরিবেশ।পাখ-পাখালির নীরব বিচরন শেষে পরিবেশ তখনো নিঘুর নিস্তব্ধ।এ গভীরতায় ঘুমন্ত মানুষের গভীর শ্বাসের শব্দ ব্যতীত কিছুই ঠাহর করা যাচ্ছে না।গোটা পৃথিবী যেখানে ঘুমিয়ে ,এশার চোখদূটো তখনো জেগে।
তাঁর ভীষণ ভীষণ মনে পড়ছে সেই কঠিন হৃদয়ের মানুষটার কথা।অনুভূতির ঝোলা নিয়ে হাজির হওয়া নরম হৃদয়ে যিনি অলিখিত নিষেধের সিল মেরে দিয়েছেন।এশা জানে,বিয়ে নিয়ে লোকটার কৌতুক সব মিথ্যা।তবে জানার পর তার এতটুকুও আফসোস হয়নি।তবে মন খারাপ হয়েছে।একটা মানুষ কতোটা অপছন্দের হলে তাঁর সামনে এমন মিথ্যের বুলি ছুড়তে হয়?
রায়ানের সাথে তাঁর সম্পর্ক বেশ ভালো।রায়ানের বহুরুপী আচরণে যতটুকু মন খারাপ নিয়ে সে আপননীড় ছাড়ছিলো তাঁর সবটুকু দূ:খই রায়ান সুদে-সুদে-আসলে মিটিয়ে দিয়েছেন।
ফ্ল্যাশব্যাক…..
বিয়ের রাত_
দেড় ঘন্টার পুরো রাস্তাটুকু রায়ান চুপচাপ ছিলেন।শব্দ ছেড়ে মুখ চেপে কান্না করার দৃশ্য কেবল মিরর দিয়ে দেখেছেন।হাত বাড়িয়ে এক ফোঁটা অশ্রু থামানোর আগ্রহ প্রকাশ করেননি।বুকের ভেতর আগুনজ্বলা শুধু বাড়ছিলো এশার।সেও দেখতে চায়,এই বদলে যাওয়ার শেষ সীমা কোথায়।
ঘন্টা দেড়েক পর ‘আরএম হাউজ’ লেখা দেখতেই গাড়ি টার্ন করলো।পাঁচ মিনিটের সরু পথ পেরিয়ে বাসার সামনে আসতেই এশা তাকালো।আলোতে ঝলমলে চমৎকার সুন্দর বাগানবাড়ি।তাতে তাঁর কী।যেখানে সব সুখ সে চোখের জলে সমাপ্তি দিয়ে এসেছে সেখানে যশ-প্রতিপত্তি তাকে কি সুখ এনে দিবে?
রায়ান আগে আগেই গাড়ি থেকে নেমে ডোর খুলে বললেন , ‘বের হোন ম্যাডাম!’
ভিজে একাকার চোখদূটো মুছে স্বাভাবিক হলো এশা।শাড়ি করে নামতে তাঁর অসুবিধে হবে ভেবেও একটু সাহায্য করতে চাইলেন না রায়ান।একা একা ধীরে ধীরে নেমে আসতেই তিনি কোমল দৃষ্টিতে তাকালেন।বিনা দ্বিধায় হাত বাড়িয়ে ভেজা গাল মুছে দিয়ে বললেন , ‘জীবনের সব কান্না একসাথে কাঁদছিলেন,তাই বাঁধা দিইনি।কান্নার চ্যাপ্টার আমার বাড়ির উঠোনেই শেষ।লেটস গো টু মাই প্যালেস,মাই লেডি।’
রায়ানের আন্টি আর মামনিরা এসেছেন।কনেকে রুমে এনে বসিয়ে জলখাবার খাইয়ে কিছুক্ষণ সাধারণ আলাপ শেষে তাঁরা বেরিয়ে যেতেই এশা হাফ ছেড়ে বাঁচলো।সবার এতো নম্র ব্যবহারের মধ্যেও কারা যেন কানাঘুষা করছিলো, আরে শেষমেশ পালিয়ে যাওয়া সেই খারা*প মেয়েটাকেই রায়ান বউ করে আনলো!আরে ছিহ ছিহ মেয়েটা স্ট্র্যাটেজি করেই রায়ানের মতো সিধেসাদা বোকা ছেলেটাকে হাত করে নিলো।
এশাকে আরও কত নোংরা কথা তাকে হজম করতে হলো হিসেব নেই।চোখের নোনাজল আর ভারী দীর্ঘশ্বাস ছাড়া এ মুহুর্তে তাঁর কোনো সঙ্গী নেই।
রুম খালি হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই কয়েকজন কমবয়সী মহিলা ঢুকেন।বয়সে ছোট হলেও সম্পর্কে তাঁরা রায়ানের বড়।তাদের বাঁকা দৃষ্টি দেখেই এশা ঢোক গিললো।তাঁর এতো চরম মুহুর্তে সবচেয়ে ভরসার মানুষটা কোথায় এখন?
রায়ান ঘরে ফিরলেন ঠিক সাড়ে এগারোটায়।উনাকে দেখে মনে হচ্ছে উনি খুব খোশ মেজাজে।এশা কোনোরুপ বার্তা বিনিময় না করেই চুপচাপ বিছানা থেকে উঠলো।সালাম দিতেই রায়ান হাসিমুখে জবাব দিয়ে আরও কিছু বলতে যাচ্ছিলেন অথচ এশা সেই সুযোগ না দিয়ে হাঁটা ধরলেই কপাল কুঁচকালেন তিনি।
‘কোথায় যান?’
‘ফ্রেশ হতে।’
‘আরে!আমি তো আপনাকে দেখলামই না।’
‘দেখলেন না কেন?’–এশার রাশভারি কন্ঠস্বর!
রায়ান বোধহয় তাঁর থেকে এমন গম্ভীর গলা এক্সপেক্ট করলেন না।এগিয়ে এসে উত্তর দিলেন, ‘সুযোগ পাইনি।’
‘সুযোগ ছিলো।আপনি আসেননি।’
‘আসতে চেয়েছি কিন্তু মামনিরা ছিলেন দেখে…
রায়ান কথা শেষ করার আগেই এশা বলে উঠলো , ‘আমার অস্বস্তি লাগছে।এসব খুলে ফ্রেশ হওয়ার আগ পর্যন্ত শান্তি পাবো না।’
রায়ান কিছুটা হতাশ হয়ে বললেন , ‘আচ্ছা যান।’
ওয়াশরুমের আয়না টা বেশ বড়।সেই আয়নায় খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে নিজেকে দেখছিলো সে।আজকে ভীষণ কেঁদেছে সে,ভীষণ।অথচ এই লোকটা তাঁর ফোলা চোখ দেখেও বুঝলেন না।
আস্তে আস্তে অর্নামেন্টসগুলো খুলতে থাকে এশা।আচমকা দরজায় নক হয়।অথচ ওরনায় থাকা পিন জটিল হয়ে লেগে আছে।সেটা খোলার চেষ্টা চালাচ্ছিল সে।কিন্তু দরজা ওপেন করার সময় না দিয়েই বাইরে থেকে ধুমধাম আওয়াজ পড়লো।এশা আতঙ্কিত হয়ে দরজা খুলতেই দেখে রায়ান দাঁড়িয়ে।
এশা আতঙ্কিত হয়ে প্রশ্ন ছুঁড়লো, ‘কি হলো?’
রায়ান তাঁর দিকে কয়েক পলক গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আচমকাই ঝাপটে ধরলেন বুকের মাঝে।অজানা কোনো কারনে চোখের বাঁধ ভাঙ্গলো এশার।মাঝে মাঝে ভেতরে চেপে রাখা কষ্ট আর যন্ত্রণার জন্য বুঝি হালাল সঙ্গীর এক আলিঙ্গনই যথেষ্ট!
‘এই মেয়ে কি হয়েছে।কেন কাঁদলেন আবার কেন।অনেক তো কেঁদেছেন আমি বাঁধা দিইনি।এশা,দয়া করে আমার নিজের কাছে নিজেকে অপরাধী বানাবেন না।আপনি আমার কতো বড় উপহার আপনি বুঝবেন না।কি হয়েছে বলুন আমাকে।’
‘কিছু না।’
আর কোনো বাক্য বিনিময় হলো না।কিছুক্ষণ পর রায়ান চোখমুখ মুছে দিতেই এশা হাসলো।এতক্ষণের মন খারাপ যেনো তাঁর এক নিমিষেই কেটে গেছে।
রায়ান তার কপালে দীর্ঘ চুমু এঁকে বললেন , ‘সবসময় এভাবে হাসি দেখতে চাই।’
অর্ধেক রাত পর্যন্ত চলে গেলো তাদের খোশালাপে।রায়ান তাকে অর্নামেন্টস আর পিনগুলো খুলতে সাহায্য করছিলেন।এশা হাই তুলতেই রায়ান মুচকি হেসে বললেন , ‘যান অযু সেরে আসুন।’
এশা কিছু বুঝলো না।রায়ান তাকে তাড়া দিয়ে বললেন , ‘গো ফার্স্ট।’
এশা কাচুমাচু হয়ে বলল, ‘আমি ঘুমাবো।’
‘ঘুমাবেন তো।নামাজ পড়ার পর ঘুমাবেন।আই উইল নট ডিস্টার্ব।’
বর্তমান……
সেই রাত কল্পনা করে মুচকি মুচকি হাসছিলো এশা।এর মাঝেই রায়ান তাকে ঘুমের ঘোরে তাঁর বালিশে বিছানা হাতড়ে খুঁজছেন।এশা লক্ষ্য করলো তাকে না পেয়ে ঘুমের ঘোরে কপাল কুঁচকালেন তিনি।চোখ বন্ধ রেখেই ডাকলেন , ‘কই তুমি?’
প্রথমবার এশা জবাব দিলো না।দ্বিতীয়বার ডাকতেই পাশে এসে বলল, আছি তো।’
এশাকে কাছে পেয়ে এবার তিনি নিশ্চিন্ত হলেন।জড়িয়ে ধরে ঘুমে হারানোর আগে বললেন, আমাকে রেখে যেও না।পাশে থেকো।
‘যাবো না কক্ষনো।ঘুমান নিশ্চিন্তে।’
কি দারুণ ভালোবাসা তাদের!
দেখা করে বলা বা কল দিয়ে সরাসরি বলার মতো সাহস আইরার নেই।তবে না বললে সারাজীবনের আক্ষেপ থেকে যাবে।সে তো প্রেমের প্রস্তাব দিচ্ছে না,বিয়ের প্রস্তাব দিচ্ছে তাও হৃদপিণ্ড দ্রীম দ্রীম শব্দে কাঁপছে।
‘স্যার,আমি পছন্দ করি আপনাকে।আমার কোনো খারাপ অনুভূতি নেই আপনাকে নিয়ে।শুধু জানি,আমি অন্য কাউকে বিয়ে করবো না।এ বিয়েতে আমার মত নেই।আব্বুকে ভীষণ ভালোবাসি বলে অবজেকশন দেওয়ার সাহস পাচ্ছি না।প্লিজ আপনি বিয়েটা ভেঙে আমাকে বিয়ে করে নিন।আমি অপেক্ষা করবো আপনার,শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত।”(আইরা)
এই সামান্য মেসেজটা সাজাতে তাঁর ঘন্টাদেড়েক সময় লেগেছে।অনেক গড়িমসি করে সেন্ড এ ক্লিক করতেই হাতটা প্রচন্ড গতিতে কাঁপছিলো।অস্থিরতায় মস্তিষ্ক ভয়ংকর কিছু পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দিতেই দ্রুত মেসেজ ডিলেট করার চেষ্টা করেও লাভ হলো না।তাই ফোন টা বালিশের নিচে রেখে দূরে গিয়ে বসলো সে।ভেতরে চলছে ভয়,আর হেরে যাবার তান্ডব।বারবার মন বলছে, আইরা তুমি জানো উনি ফিরিয়ে দিবে তাও কেন বললে!কেন!!
মাইমুনার সাথে সাক্ষাৎ শেষে আরহাম হাফসার ঘরে এলেন।কিন্তু তাকে ঘরে না পেয়ে অত্যন্ত মনক্ষুন্ন হলেন।এক এক করে রুমগুলো চেক করে নিচে মায়ের রুমে গিয়েও তাকে না পেয়ে কিচেনের দিকে এগোলেন।প্রচন্ড এই শীতে শরীর কেঁপে একাকার।আরহামের শরীরে শার্ট আর একটা পাতলা চাদর।ঠান্ডায় রীতিমতো কাঁপতে কাঁপতে কিচেনে ঢুকলেন।অথচ এই ঠান্ডায় হাফসাকে কাজ করতে দেখে মাথা ঠিক থাকলো না আর।এই শীতের রাতে কে বলেছে তাকে এসব করতে।এসব কি কাল করা যাবে না ভেবে এসেই হালকা ধমকের সুরে বললেন, ‘উমায়ের!এসব কি এই ঠান্ডার মধ্যে?আপনাকে কে এসব করতে বলে হু?’
একমনে কাজ করছিলো সে।মনোযোগ একদিকে স্থির থাকা মস্তিষ্কে হঠাৎ ধমকে হালকা কেঁপে উঠলো হাফসা।কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে গোল গোল চোখে একদৃষ্টে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে রইলো।আরহাম কড়াভাবে বললেন , ‘এক্ষুণি কিচেন থেকে বের হোন।’
হাফসা নিচুমুখে রইল কয়েক সেকেন্ড।অতপর মাছগুলো অন্তত ফ্রীজে রাখার সময় চাওয়ার জন্য ভয়ে ভয়ে চোখ তুলতেই আরহাম কপাল কুঁচকালেন।অর্থাৎ কোনো এক্সকিউজ তিনি শুনতে চান না।
আর কোনো অনুমতি না চেয়েই হাফসা বেরিয়ে গেলো।আরহাম কিছুক্ষণ ঠাঁয় দাঁড়িয়ে রইলেন সেখানে।মাথা একটু ঠান্ডা হতেই মনে মনে নিজেকে বেশ ঝাড়ি দিলেন।কোথায় একটা রোমান্টিক মুড নিয়ে আসছিলেন মেজাজ টা জেলাসি করে বসলো।
আরহাম যতক্ষণে তাঁর ঘরে আসলেন হাফসা ততক্ষণে ঘুমোনোর প্রস্ততি নিচ্ছে।বিছানায় ছড়িয়ে রাখা টাওয়াল আর কাপড়গুলো দ্রুত গুছিয়ে রাখছিলো সে।ঠিক সামনের মিররে আরহামকে প্রবেশ করতে দেখে ভাঁজ করা থামিয়ে কাপড়গুলো চুপচাপ সোফায় রাখার জন্য হাতে নেওয়ার আগেই ঈষৎ আওয়াজ ফুটলো কন্ঠ থেকে।আরহাম আরও গভীর আলিঙ্গনে আবদ্ধ রেখে বললেন, ‘সরি সরি।শীতের দিন আমার হাত পা গরম হয় না।’
পেছন থেকে ঝাপটে ধরতেই উনার ঠান্ডা হাতে স্পর্শ লাগে আর তাতেই চিৎকার দিয়ে বসে সে।আরহাম উনার চাদর বাড়িয়ে তাকেও আবদ্ধ করে নিতেই হাফসা জড়োসড়ো হয়ে রয়।
‘সরি সোনাপাখি।আপনি এই ঠান্ডার মধ্যে কিচেনে পানি নিয়ে কাজ করছেন দেখে আমার রাগ হয়েছিল তাই ভুল করে সাউট করে ফেলেছি।’
হাফসার পক্ষ থেকে কোনো শব্দ না আসায় আরহাম কোমলকন্ঠে জিজ্ঞেস করলেন , ‘রাগ করেছেন?’
হাফসা না বোধক মাথা নাড়ায়।আরহাম কিছুসময় নীরব থেকে বলতে শুরু করলেন, ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রিয় স্ত্রী হাফসা তো রাগী ছিলেন।আর আমার হাফসা একেবারেই নীরব।যে নীরবতা আমাকে পোড়ায়,ভীষণভাবে পোড়ায়!’
আরও কিছুক্ষ ন নীরব থেকে বললেন , ‘কথা বলার জন্য শুধু আওয়াজ থাকতে হবে এমন তো না।আমার সামনে একটাবার স্থির হয়ে থাকেন না।কথা বলতে চাইলে এড়িয়ে চলেন।কাছে আসতে চাইলে ইগনোর করেন।মানে আমার থেকে যতটুকু পালিয়ে থাকা যায়,তাঁর সবটুকু চেষ্টাই আপনি করেন।কিন্তু কেন?এতো লুকোচুরি কেন উমায়ের?আমাকে আপনার অপছন্দ?সত্যিটা বলুন।’
হাফসা নড়েচড়ে উঠতেই আরহাম বাঁধন হালকা করেন।সে সামনাসামনি ফিরে ধীরে ধীরে মাথা দূপাশে নাড়ায়।
‘তাহলে?তাহলে এমন করেন কেন?’
হাফসা নিরুত্তর।বেশ কিছুক্ষণ হলো সে একদমই চুপচাপ।মাঝে মাঝে আরহামের চোখে চোখ পড়তেই তাড়াতাড়ি দৃষ্টি নামিয়ে ফেলছে সে।
‘উমায়ের! আমি আপনাকে চাই।ভীষণ রকম চাই।আপনাকে ভালোবাসি আল্লাহর জন্য , অনেক বেশী ভালোবাসি।আমার থেকে কোনো কষ্ট পেয়ে থাকলে দয়া করে বলুন,আমি শুধরে নিবো।তাও এত চুপচাপ থাকবেন না।’
হাফসার পক্ষ থেকে কোনো রা নেই।সে খুব মনোযোগের সাথে দাঁত দিয়ে নখ খুঁটছে।এ মুহুর্তে যেনো এর থেকে গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজ তার নেই।
আরহামের দৃষ্টি ব্যথিত।এত কথা বলার পরেও সমানতালে অবহেলা আর অমনোযোগ পেয়ে ভেতর ভেতর বুকটা ঝলসে যাচ্ছে উনার।অথচ ওই আগুনজ্বলা বুকে হুট করে এক পশলা বৃষ্টি নামলো।কোনো সংকেত ব্যতীত এক উষ্ণ আলিঙ্গন অনুভব করতেই খুশিতে পাগল হয়ে যাচ্ছিলেন আরহাম।উমায়ের এই প্রথমবার নিজ থেকে উনাকে জড়িয়ে ধরলেন।তিনিও বুকের মাঝে শক্ত করে চেপে ধরলেন উনার ছোট্ট প্রিয়তমাকে।
কিছুক্ষণ পর…..
রুমজুড়ে ড্রীম লাইটের আবছা আলো।সাথে ঘরময় ছেয়ে আছে শীতল বাতাস।শীতে ভেতরে গৃহীত শ্বাসটুকুও যেনো বরফকুচি।আরহামের বাহুতে শুয়ে আছে হাফসা।মুখোমুখি দৃষ্টি তাদের।আরহাম হাত এগিয়ে তাঁর গালে আলতো স্পর্শ করতেই সাথে সাথে চোখ মুখ কুঁচকায় হাফসা।আরহাম অসহায় মুখ করে হাত সরিয়ে নিলেন।এই ঘোর শীতের জন্য বউকে একটু স্পর্শও করা যাবে না?
হাফসা পিটপিট করে তাকাচ্ছে।এতক্ষণ কথা বলে তার জড়তা কিছুটা কমছে।অথচ এই কমাটাকে এক ধমকায় বাড়িয়ে দিতে আরহাম তার গালে উষ্ণ স্পর্শ এঁকে ফেললেন।
অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৩৩
‘হ্যান্ডস এন্ড ফিট আর কোল্ড,বাট মাই লিপস আর নট কোল্ড।’
প্রচন্ড লজ্জায় ডুবতে ডুবতে চোখ বন্ধ করে নিলো হাফসা।আরহাম ঠোঁট কামড়ে হেসে তাকে কাছে টেনে কমল দিয়ে ভালো করে ঢেকে দিতে দিতে বললেন , ‘ভয়কে যেভাবে জয় করতে হয় শীতকেও সেভাবে হেয় করতে হবে জান।ঠান্ডার জন্য ঠিকমতো ভালোবাসতেই পারছি না।’
