Home অপেক্ষা সিজন ২ অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৩৬

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৩৬

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৩৬
Maha Aarat

বাবার পাশে চোরাবালির ন্যায় নিশ্চুপ হয়ে বসে আছে আইরা।তাদের পাশে মাইমুনা,হাফসা আম্মু।আরহাম দরজায় দাঁড়িয়ে।এক হৃদয়ঘন মুহুর্তের পর পুরো মহল নিশ্চুপ।পরিবার থেকে বিচ্ছেদের কষ্টে তাঁর কিশোরী মন আহত বলে জানা সবাই তাঁর ভেতরের নীরব কালবৈশাখীর সংবাদ সম্পর্কে অজ্ঞাত।
এক কোণায় বসে থাকা হাফসা আড়চোখে বারবার তাকাচ্ছিলো দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা আরহামের দিকে।উনার এমন মন খারাপ কখনো দেখা হয়নি তাঁর।ঠিক এমন অনুভূতি বোধহয় তাঁর ভাইয়েরও হয়েছিলো।বোনকে বিদায় দেওয়ার যন্ত্রণা কেমন!ভেতরে কাঁপতে থাকা ছোট্ট হৃদপিণ্ড টা কি পুড়ছে?

সবার অগোচরা দৃষ্টি খেয়াল না করলেও হাফসার আঁখিদ্বয় ঠিকই পড়ে নিলো আরহামের নিশ্চল,নির্বাক দৃষ্টি।আইরার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন আরহাম।আইরার দৃষ্টি মোজাইকের মেঝেতে।রুমের পরিবেশ থমথমে,নীরব।আম্মু একটু পরপর অগোচরে নিজের চোখের জল মুছছেন।
হঠাৎ আরহামের দৃষ্টি আইরার থেকে হাফসার থেকে নিবদ্ধ হলেই হাফসা দৃষ্টি নামিয়ে নেয়।কি এক চমৎকার অনুভূতি!
সে ব্যস্ত হয়ে পড়ে আব্বুর রুম থেকে উনার মেডিসিন নিয়ে আসায়।এর পরে নীরবতা মাড়িয়ে বহু আলোচনা হলো।স্মৃতিচারণ হলো অতীতের সেরা কিছু মজার ঘটনা।আইরার মুখের হাসিতে সবাই খুশি হলেও মাঝ থেকে আরহাম চুপচাপ বেরিয়ে গেলেন।

ঘরভর্তি মেহমান।আজকে বুধবার।বাড়িতে ব্যস্ততার তোড়জোড়।আজকে রাতে মাহদিন আর উনার মা আসবে।আইরার সাথে আজ প্রথম সাক্ষাৎ মাহদিনের।আগত মেজবান আর বাসাভর্তি মেহমানদের জন্য দারুণ সব খানাপিনার আয়োজন।আম্মু ,নাওমির আম্মু নুজহাত আরা ,হাফসা,আর আইরার মামনিরা হাতে হাতে খাবার রেডি করছিলেন।এরই মধ্যে নুজহাত আরা বললেন, ‘আইরাকে ডাকুন তো।আইরা তো জালফ্রাই পছন্দ করে।ঝালের পরিমানটা ওকে দেখিয়ে দিই!মেয়েটার খাবারদাবারে সমস্যা না হোক!’
উনার কথাবার্তায় আহ্লাদের ছাপ।খানিক পরপর একেক তরকারির টেস্ট চেক করে আবার এসে নিজের কাজে মনোযোগী হচ্ছেন।আম্মুর হাতে ঝামেলার কাজ।হাফসাকে ইশারায় কাছে ঢেকে বললেন , ‘আইরাকে একটু ঢেকে আনো তো!’
বাধ্যমেয়ের মতো মাথা নাড়িয়ে হাফসা প্রস্থান করলো।রান্নার কটমট,বাসনের ক্যাচ ক্যাচ আওয়াজে কিচেনের পরিবেশ গরম।

কিছুক্ষণের মধ্যে হাফসা আসলে তিনি জিজ্ঞাসাদৃষ্টিতে তাকালেন।হাফসা ইশারায় উত্তর দিলেও তিনি বুঝতে ব্যর্থ হলেন।হাফসা খুব সতর্কের সহিত বুঝাতে চাইলেও ভদ্রমহিলা বিরক্ত হলেন।তৃতীয় বার বুঝতে ব্যর্থ হয়ে বেশ কটাক্ষ সুরে ধমকালেন , ‘কথা যখন বুঝাতে না পারো তাহলে গিয়েছিলে কেন!’
কিচেনে উপস্থিত সবার হাত থেমে গেল মুহুর্তেই।কিচেনের রমরমা গরম পরিবেশকে ঠান্ডা করতে যেনো এক কর্কষ আওয়াজই যথেষ্ট ছিলো।অপমানে লজ্জ্বিত হওয়া চোখগুলো হাফসা তুলেছিলো আম্মুর দিকে।অথচ আম্মুর অভিব্যক্তি ছিলো এমন,যেনো এটা খুব স্বাভাবিক হওয়ার।
কয়েক সেকেন্ডের নীরব পরিস্থিতির সমাপ্তি হলো আইরার উপস্থিতিতে।ঠান্ডায় কাঁপতে কাঁপতে গায়ে শাল জড়িয়ে নিতে নিতে বলল, ‘আমাকে নাকি খুঁজেছো?আমি তো শাওয়ারে ছিলাম।’
টলমলে ভেজা চোখের জল যেনো এ মুহুর্তে ঘোর শত্রু হাফসার।সত্যিই তো,তাঁর কথা নেই তাহলে না গেলেও পারা যেতো।তবুও মন কেনো বুঝে না?
একমনে কাজ করতে গিয়ে বারবার যখন চোখ ভিজে যাচ্ছিলো তখন ভেজা চোখ বারবার আম্মুর দিকে যাচ্ছিল।কেন জানি এর কারন উদঘাটন করতে পারলো না সে।

সকাল থেকেই রুমের মধ্যে দরজা বন্ধ করে আছে ছেলেটা।কয়েকবার এসে নক করে যাওয়ার পরেও কোনো রেসপন্স না পেয়ে আহমাদ এবার বেশ ক’বার নক করতেই থাকলেন।কিছুক্ষণ পর ঘুমু ঘুমু চোখ খুলে মাহের বেরোলেই আহমাদ ব্যস্ত হয়ে বললেন , ‘কি অবস্থা বলো?আমি তো জানিই না তুমি বাড়িতে এসেছো।বিশেষ প্রয়োজনে ঘরে আসতে দেখলাম দরজাটা খোলা।সারাদিন থেকে রুমে কি করছো?এই নিয়ে দূইবার তোমার খাবার গরম করালাম।’
‘আমি পরে উঠে খেয়ে নিব।’
‘তুমি বোধহয় ঘুমাচ্ছিলে তবে খেয়েই ঘুমাও।এখনও গরম করে রাখা হয়েছে।’
‘খিদে নেই।পরে উঠে খাব।’
আহমাদ এবার উনার দিকে সন্দিহান দৃষ্টি ফেলে বললেন , ‘তুমি ঠিক আছো?তোমাকে…
‘জ্বি ঠিক।’
‘হুট করে এলে..
চাচার কথা সম্পূর্ণ করার আগেই মাহের গম্ভীর স্বরে বললেন , ‘কাজের প্রেসার বেড়েছে।কয়েকটা দিন বাড়িতে থাকবো।’
‘বেশ।খেয়ে নিও হাতমুখ ধুয়ে।’
রুমের জানালা বদ্ধ।কয়েকটা সিগারেটের ধোঁয়াতেই রুমটা ধোঁয়ায় ধোঁয়াশা হয়ে আছে।গন্ধ খুব একটা নাকে লাগছে না মাহেরের।কারন লাস্ট কতদিন যাবত সিগারেট কেমন যেনো ইউজড টু হয়ে গেছে।

কাল বাদ পরশু আক্বদের অনুষ্ঠান।এখন শুধু আক্বদ সম্পন্ন করা হবে।অনুষ্ঠান করে নিয়ে যাবে তিনমাস পর।তবুও আক্বদ নামক পবিত্র সম্পর্কের মাধ্যমেই তাদের নতুন যাত্রার শুরু।এ উপলক্ষ নিয়ে আইরার সম্পূর্ণ অমতে গিয়ে মেহেদী পড়ার বাধ্যবাধকতা দিয়ে দিলেন নুজহাত আরা।ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল বা গ্রাম্য গুণীকথার জাতাকলে পড়ে তাকে মেহেদীর আসরে বসতেই হলো।সন্ধার পর থেকে পিচ্চি বাহিনীসহ কাজিনদের হাত রাঙ্গানো মোটামুটি শেষ।
আইরাকে মেহেদী দেওয়ার বাহানায় জোর দেওয়ার আরেকটা কারণ হচ্ছে তাঁর মন ভালো করা।সারাদিন থেকে চুপচাপ বসে থাকা আর চুপিচুপি কান্না করায় আব্বু সবচেয়ে বেশী কষ্ট পাচ্ছেন।যেটা কারোরই ভালো লাগছিলো না।
মেহেদী পড়িয়ে দিচ্ছে তাঁর মামাতো বোন ফাইজা।একে একে তাঁর দূহাত ভরিয়ে দিতেই মাইমুনা বায়না ধরলেন।ইচ্ছে হলো হাফসারও।তাঁর ভীষণ পছন্দের কয়েকটা জিনিসের মধ্যে মেহেদী অন্যতম।তাকে জিজ্ঞেস করতে সেও বিনা দ্বিধায় মাথা নেড়ে বলল, ‘বেশ।সেও দিতে চায়।”
সিরিয়াল পড়লো মাইমুনার পরপরই তাকে দেওয়া হবে।অথচ মাইমুনার হাত সম্পূর্ণ করার পর যেই হাফসা হাত এগিয়ে দিলো অমনি আম্মু এসে বেশ তাড়া নিয়ে বললেন , ‘তাড়াতাড়ি এসো।ডিনার রেডি করতে হবে।আইরাও খেয়ে ঘুমাতে হবে।কান্না করতে করতে চোখমুখ ফুলিয়ে ফেলেছো।’
হাফসার মন খারাপ হয়ে যাওয়াটা আর কেউ নোটিশ না করলেও করলো একজন;ইনায়াত।মেহেদী দিতে চাওয়ায় তাঁর খুশিমাখা মুখের খুশিটুকু চুপসে গেলো বিষাদের আড়ালে।তবুও চমৎকার হাসি দিয়ে আম্মুর সাথে চুপচাপ কিচেনের দিকে চলে গেলো সে।

সারাদিনের ধকল শেষে ক্লান্তদেহ সবার বিশ্রাম নেওয়ার অপেক্ষায়।প্রচন্ড শীতের তোপে গুটিসুটি মেরে যে যার আরামদায়ক আসন বুঝে নিচ্ছে।অথচ এতো ব্যস্ততার মধ্যে প্রিয়তমাদের সাথে একবারও দেখা করার সুযোগ পাননি আরহাম।বাইরের ব্যস্ততায় সারাদিন কাটলেও দিনশেষে প্রিয় মুখগুলোই উনার একমাত্র স্বস্তি।
মাইমুনার সাথে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে কিছুটা বিপদেও পড়তে হলো উনাকে।তাঁর সাথে ঘুমোচ্ছে কাজিনরা।আরহাম তবুও বিশেষ প্রয়োজনের অজুহাত দেখিয়ে ঠিকই কিছুটা সময় চেয়ে নিলেন।দেখা হওয়ার প্রথমেই চমৎকৃত হলেন তাঁর মেহেদী রাঙ্গানো হাত দেখে।চমৎকার হেসে হাতের পিঠে চুমু এঁকে জিজ্ঞেস করলেন , ‘কে দিয়ে দিয়েছেন?’
‘ফাইজা।’
‘আইরাকে দেওয়া হয়েছে?’
‘জ্বি।’
‘বেশ।সুন্দর লাগছে মাশা আল্লাহ।’
‘সবাই দিয়েছি।শুধু হাফসা দিতে পারেনি।ও দিতেই লাগছিলো অমনি আম্মু ডিনারের জন্য ডাকলেন।’
আরহাম ভ্রু কুঁচকে খানিক চুপ থেকে জিজ্ঞেস করলেন , ‘ডিনারের পরও দেওয়ার সুযোগ হয়নি?’
‘ও তো ব্যস্ত ছিল আম্মুর সাথে।’
‘ওহ।’
আরহাম আর আলাপ দীর্ঘ করলেন না।কপালে শুষ্ক এক চুমু এঁকে বেরিয়ে গেলেন।

আরহাম রুমে ফিরে দেখতে পেলেন এক ক্লান্ত মুখশ্রী।তার চোখ ছোট হয়ে আছে তন্দ্রায়।এই মলিন মুখটা আরহামের শান্ত মস্তিষ্কে তোলপাড় তুলে দেয়,আবার কখনো তাঁর হাস্যোজ্জ্বল মুখশ্রী আরহামের সারাদিনের ক্লান্তিকে দূর করে দেয়।
‘উমায়ের!’
খুব কোমল সুরে ডাকলেন আরহাম।হাফসা বিছানা গুছিয়ে নেওয়ার ফাঁকে চোখতুলে তাকালো।
‘আপনাকে এমন দেখাচ্ছে কেন?’
অন্যসময়ের মতো লজ্জ্বায় লাল হয়ে যাওয়া বা চটপটে মেয়েটা ইশারায় জিজ্ঞেস অবধি করলো না তাকে কেমন দেখাচ্ছে বলে মনে করছেন আরহাম।
‘মেহেদী দেননি?’
হাফসা মাথা নাড়িয়ে না বোধক সম্মতি দিলো।
‘কেন?দিয়ে দেয়নি তারা?’
বেশ।এতোটুকু যথেষ্ট ছিলো তাঁর লুকোনো কান্না টেনে হিচড়ে বের করে আনতে।চোখগুলো ঝাপসা হয়ে যাচ্ছিলো তবুও মুখে মলিন হাসি ধরে রাখার চেষ্টা অনড় রেখে বুঝালো তাঁর নিজেরই ইচ্ছে করেনি।
আরহাম দেরি না করে অকপটে বলে ফেললেন, ‘আপনি না মেহেদী পছন্দ করেন?’
হাফসা বিষয়টা হালকা হেসে উড়িয়ে দিয়ে ঘুমাতে গেলো।আরহামও আর না ঘেটে বাইরের দিকে গেলেন।শরীরে জ্বর জ্বর লাগছে।একটা প্যারাসিটামল খেয়ে নেওয়া ভালো।এই উদ্দেশ্যে কিচেনের দিকে যেতে না চাইতেও কানে আসলো কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত কথা।

‘হাফসা ভাবিকে এভাবে ইনসাল্ট করে কষ্ট দিয়ে কথা বলা তোমার মোটেও উচিত হয়নি মামনি।’
আরহাম থেমে গেলেন।সারাদিনের ক্লান্তি,পরিশ্রম আর অচল মস্তিষ্কও যেখানে বিশ্রাম খুঁজতে ব্যস্ত সেখানে বিশ্রাম কি উনার সবটুকু আয়েশ তো কেড়ে নিয়েছে এই কথাটা।আরও কিছু উচ্চবাক্যের কথা শুনে আরহাম আন্দাজ করে নিলেন উনার অনুপস্থিতিতে উনার কলিজায় তারা আঁচড় কেটেছে তাও তাঁর সবচেয়ে বড় দূর্বলতা নিয়ে।আরহামের সহ্য হলো না।দূহাত মুষ্টিবদ্ধ করেও নিজের রাগ সংযত করতে না পেরে আন্টির মেয়ে নুজাইফাকে জিজ্ঞেস করেই নিলেন।আরহামকে ভয় পেয়ে সে মিথ্যে বলার সুযোগ ছাড়লো না অথচ আরহাম জানিয়ে দিলেন তিনি সবকিছু শুনেছেন।মাথা নত করে সে মায়ের খারাপ বাক্য গুলো উদগীরণ করলো।সাথে বুদ্ধিমতীর মতো আরহামের আম্মুর চুপ থাকাও চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝিয়ে দিলো।সত্যটা জানানোর বিনিময় হিসেবে নুজাইফা অনুরোধ করে বসলো তাঁর মাকে যেনো এ নিয়ে আরহাম কিছু না বলেন।সে নিজেই বুঝিয়ে বলবে।

আরহাম চুপচাপ রুমে ফিরে এসে দেখলেন লাইট বন্ধ।দ্রুত এসে লাইট জ্বালিয়ে হাত ধরে টেনে তুললেন হাফসাকে।সরাসরি জিজ্ঞেস করে বসলেন, ‘আপনি আদৌ আমাকে কিঞ্চিং বিশ্বাস বা ভরসা করেন উমায়ের?’
আরহামের চোখেমুখে হঠাৎ এত ক্রোধ দেখে ভয়ে চুপসে গেল হাফসা।দ্রুত মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বোধক উত্তর দিতেই আরহাম তাচ্ছিল্যের সহিত মাথা নেড়ে বললেন , ‘আপাতত আমার বিশ্বাস হচ্ছে না।’
তাঁর চোখেমুখে শঙ্কা।এমন কি ভুল সে করে বসলো যে আরহাম এতো রেগে আছেন?’
চরম রাগের মুহুর্তেও আরহাম বোধহয় তাঁর ভয় পাওয়া ফেইস বুঝে নিলেন।অতপর সময় নিয়ে নিজের রাগ আয়ত্তে এনে কোমল সুরে জিজ্ঞেস করলেন ,

‘আপনাকে কে কি বলেছে সেটা বলুন।’
হাফসার তাও নীরবতা দেখে আরহাম তাঁর থুতনিতে আঙ্গুল ঠেকিয়ে মুখ উঁচু করে বললেন, ‘বলছেন না কেন।এ বাসায় আমার জন্যই আপনার আসা,আমার স্ত্রী এ জন্য।সো আপনাকে কিছু বলার অধিকার শুধু আমার আছে।আপনাকে ভালোবাসার অধিকারও আমার,আপনাকে শাসন করার অধিকারও আমার।কেন আপনাকে কেউ কথা বলবে?যে কোনো বিষয় হোক।আপনাকে কেনো হার্ট করবো।নো! এত কোমল হয়ে যাইনি আমি…
বলতে বলতে হাফসার হাত ধরে আরহাম নিচে যেতে নিলেই হাফসা ঢুকরে কেঁদে উঠে।আরহাম এবার আম্মুকে সামনে রেখেই এর জিজ্ঞাসা করতে চান।একটাবার আম্মুকে সামনে রেখে জিজ্ঞেস করতে চান,বিয়ে করে উনি বউ এনেছেন না কাজের লোক!
অথচ হাফসার চোখেমুখে আকুতি।আরহামের হাত ছাড়িয়ে মিনতির দৃষ্টিতে বলে,এ ব্যাপারটা যেনো বাইরে না যায়।
হাফসার কান্না দেখে আরহাম থেমে গেলেন।এ মেয়েটার মায়াচোখের পানিতেই উনার সব শক্তি,রাগ,তেজ মিশে একাকার হয়ে যায়।আরহাম গালে স্নেহের হাত বুলিয়ে দূর্বল সুরে বললেন, ‘আপনাকে কাঁদতে দেখলে আমার ভীষণ খারাপ লাগে উমায়ের।ভীষণণ।
জেনেশুনে মাইমুনাকে কখনো আঘাত দিইনি।উনাকে সবসময় হাসিখুশি দেখেছি।আমার ভালো লাগে।আর উনার কোনোকিছু নিয়ে মন খারাপ করলে বা কষ্ট পেলে আমাকে শেয়ার করেন,সমাধান হয়ে যায়।আপনার মতো ভেতরে চেপে রাখেন না।

কি ভাবেন উমায়ের?আমাকে শেয়ার করলে আমি আপনাকে খারাপ ভাববো?আমার ফ্যামিলিকে আপনার সহ্য হচ্ছে না এটা ভাববো?নেভার।আমি জানি আপনি মিথ্যা বলবেন না।আমি আপনাকে বিশ্বাস করি।ভরসা করি কিন্তু আপনি কেন পারেন না?সম্পর্কের এতোদিনেও কি আমি আপনার বিশ্বস্ত হতে পারিনি?’
হাফসা মাথা নাড়ে।আরহাম তাকে ভুল ভেবেই চলেছেন।
‘এই যে আপনি মেহেদী দিতে পারেন নি।রুমে তো এসেছেন কাঁদোকাঁদো হয়ে।কষ্ট পাচ্ছিলেন কিন্তু আমাকে বুঝতে দেননি।কিন্তু আমি বুঝেছিলাম জেনেও বলেননি।অধিকার নিয়ে যদি একবার বলতেন, আপনি আমার মন ভালো করে দিন।আপনি মেহেদী পরিয়ে দিন যদিও পারি না তবুও এসব বললে কি আমি রাগ করতাম বা বিরক্ত হতাম?উদাহরণ হিসেবে বলছি উমায়ের।কেন আপনার মন খারাপ আমার সাথে শেয়ার করেন না?কেন শেয়ার করতে চান না,উমায়ের?

আপনি খুব ইন্ট্রোভার্ট।বাট হুয়াই?কেন এমন করেন?আমি তো সবসময় আপনার কাছাকাছি থাকতে পারবো না।কিন্তু যখন থাকবো,মন খারাপ লুকিয়ে রাখেন হাসি দিয়ে।আমাকে তো মন ভালো করে দেওয়ার সুযোগ দেননা বরং বুঝতেও দেন না।এভাবে সম্পর্ক কতটুকু এগিয়ে নেওয়া যায়?আমি জানিনা আপনি আমাকে পছন্দ করেন কি না তবু্ও যদি বলি, একবার ভালোবাসি লিখে দেন তাও লজ্জায় হাবুডুবু খেতে খেতে হেরে যাবেন।কিন্তু আমি আপনাকে ভালোবাসি এটা বলার জন্য আপনি বলে দিতে হয়?আর বলে দিলে তো হাজার বার বলতেও বিরক্ত হবো না।আমার আরেকজন স্ত্রী আছেন এটা ভাবলেই আমাকে নিয়ে আপনার মনের ভেতর একটা দূরত্ব চলে আসে তাই না?
হাফসা চট করে চোখতুলে তাকালো।আরহাম তাকে ভুল ভেবেই চলেছেন।আর তাঁর ব্যবহারে উনি যে কষ্ট পেয়েছেন এটা উনার কথায়ই বোঝা যাচ্ছে।

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৩৫

‘যাই হোক,আর কিছু বলবো না।আমি চাই আমি আর আপনি আগে বেস্টফ্রেন্ড হই,বেস্টফ্রেন্ড।দ্যান হাজবেন্ড ওয়াইফ।এতটুকু ভালো আন্ডারস্ট্যান্ডিং আমাদের হোক,যতটুকু হলে আপনি আমাকে কিছু বলতে কখনো দ্বিধা বোধ করবেন না।

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৩৭