অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৪৪
Maha Aarat
❝আপনার কথামতো বাবা আমার জন্য একজন ন্যায়বিচারক খুঁজছিলেন আর ভাইয়া ডাক্তার।কিন্তু আমি জানতাম আমার ফিউচার আপনি।আপনাদের পরিবারের সাথে আমাদের খুব ভালো একটা বন্ডিং ছিলো।একদিন বাবাকে বলতে শুনেছিলাম,আপনাকে তিনি আরেক ছেলে বানিয়ে আনবেন।আমি তখন যদিও ছোট,তবু এর মিনিং বুঝে লজ্জ্বায় আর সামনে পড়তাম না আপনার….
আরহাম অস্থির হয়ে বললেন , ‘ওয়েট ওয়েট,সামহাউ আপনার সাথে আমার বিয়ের সিদ্ধান্ত ছিলো ওটা?’
হাফসা হ্যাঁ বোধক মাথা নাড়াতেই আরহাম চোখ বুজে রেলিং এ জোরে এক আঘাত বসালেন।হাফসা দ্রুত এগিয়ে আসলো।
বুকভরা আক্ষেপ আর আফসোস নিয়ে আরহাম তিক্তস্বরে বললেন, ‘কতোটা রাত কতোটা দিন আমি ছটফটি করেছি।সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার ভয়ে বলতেও পারিনি অথচ…
‘কিন্তু সেই সময় আপনার বিয়ের দাওয়াত গেলো।তাও সেদিন,যেদিনের নীরবতা পর আমি আর কথা বলতে পারিনি।মনের পট্টিতে ভাঁজ করা মানুষটার বিয়ে,বাবার জীবনের কঠিন সত্য আর মায়ের অসুস্থতার রহস্য ,একই দিনে ঘটা এই সত্যিগুলো আমাকে একেবারে দূর্বল করে দিয়েছিল।মানসিকভাবে খুব দূ:খ পেয়েছিলাম।আমাকে স্বান্তনা দিবে,এমন কেউ আমি পাইনি।একাকীত্ব আর নীরবতা আমার জীবন থেকে কতোটা বছর গ্রাস করে নিলো,সাথে বাবা-মা সব হারালাম।
এতক্ষণের বেশ দৃঢ় কন্ঠ শেষ কথাতেই কেমন যেনো গুড়িয়ে গেলো।চোখের অশ্রু মুছার জন্য কারো সাহায্য হাফসা এখনো নেয়নি।বছরের পর বছর ভাঙ্গা ‘আমিটাকে’ সামলে সে বেশ ম্যাচিয়ুর এখন।ঠিক তাঁর বয়সের কাছাকাছি আইরা পাগলামি করে,বাচ্চামো করে আর সে একেবারে বাস্তববাদী,বোঝদার,ম্যাচিয়ুর।ব্যাপারটা চমৎকার না!
ম্যাচুরিটির জন্য বয়স হতে হয় না,জীবনের কঠিন কিছু বাস্তব আর একাকী লড়াইয়ের সংগ্রামটুকু সামলে নিতে কখন যে আবেগ তলিয়ে যায় বাস্তবতার ধামাচাপায় বুঝা বড় দায়!জীবনটা আজব এক গোলক ধাঁধা।যেখানে কোনো নষ্ট তালায় ভেতর থেকেই কপাট আটকানো।
পুরনো চ্যাপ্টার অব্যাহত থাকা মানে প্রেয়সীর হৃদয়ে যত্নে লুকিয়ে রাখা দূ:খগুলো মুচড়ে দেওয়া।আরহাম তার দূহাত নিজের মুঠোয় আবদ্ধ করে নিলেন।তার চোখে স্পষ্ট কান্না অথচ দৃষ্টিতে ভয়ংকর হুশিয়ারী।তার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছে এ দূ:খ-কষ্ট তার একার।এই কষ্টের ভাগ বাড়তে সে নারাজ।
‘যেটা হয়েছে সেটা অতীত।আমার যন্ত্রণা আপনার তুলনায় একেবারে নগণ্য।শুকরিয়া আদায় করে শেষ করতে পারবো না যে দেরিতে হলেও আপনি আমার হয়েছেন।আগে নাহয় দূ:খ দিয়েছি,এখন তো আমি আছি।দূ:খ আপনার জীবনের অতীত।এখনকার দূ:খগুলো…
এতটুক বলে আরহাম আটকান।তার চোখে কথার সারি।হাফসা হালকা হেসে বলল, ‘উহু,দূ:খ আমার দলিল করা সম্পদ।সবই ছিলো নিয়তি,মেনে নিয়ে মানিয়ে নিলাম।এখন একা হাসি,একা কাঁদি, একাই নি:সঙ্গতায় বাঁচি।নেই কোনো দায়বদ্ধতা, নেই হারানোর ভয়,যা কিছু ছিল আগেই হারিয়েছি।❞
‘একটু নিচে আসো।’
অপেক্ষা না করে দ্রুত গেট খুলে বাইরে যায় এশা।গিয়েই চমকায়।হুডি পরা থাকলেও বৃষ্টিতে কাকভেঁজা অবস্থায় বাইকসহ দাঁড়িয়ে রায়ান।এশা কি বলবে ভেবে পায়না।
রায়ানকে দ্রুত টেনে নিয়ে আসে ভেতরে।সে নিজেও কাঁপছে কিন্তু এ মুহুর্তে প্রিয়তমকে দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে জড়িয়ে ধরতে চাইলেই রায়ান পিছু সরে যান।এশা মাথা নিচু করে সরে আসে।রায়ানকে উপরে নিয়ে আসে কাপড় চেন্জ করতে দিয়ে খাবার রেডি করে।উনার শুকনো চোখমুখে তাকালেই বুঝা যাচ্ছে খান নি তিনি।ঠান্ডা শাওয়ার নিয়ে এসে গরম খাবারটাই যেনো প্রয়োজন ছিল রায়ানের।খিদে পেটে ঝটপট খেয়ে নিলেন।অতপর এশার দিকে মনোযোগী হলেন।পূর্ববর্তী সবকিছুর জন্য ক্ষমা চেয়ে বললেন, ‘আই এম সরী।’
এশা রিপ্লাই দেয় না।ভালোবেসে একটু জড়িয়ে ধরতে গিয়েছিল সে।তাতেই বাঁধা।আজ আর কথাই বলবে না সে।রায়ান বোধহয় তার পেটের কথা বুঝে নিলেন বললেন, ‘আমি ভেজা অবস্থায় কি করে!’
এশা তবুও মুখ তুলে না।রায়ান এবার দূষ্টু হেসে তাকে জড়িয়ে ধরে বললেন, ‘এখন তো সমস্যা নেই।এখন জড়িয়ে ধরতে পারি,চুমুটুমুও দিতে পার,ইচ্ছেমতো ভালোবাসতে পারি দেখি আপত্তি করো!
এশার লাজুক চাহনী রায়ানকে আরো মোহিত করে।কপালে উষ্ণ এক স্পর্শ এঁকে তার কানে চুপিসারে বললেন, ‘এমন দীর্ঘ দূরত্ব বেঁচে থাকতে আর কখনো না হোক,এশা!এত দূরত্ব আমি সহ্য করতে পারবো না!ভালোবাসি,আমার রাণী।’
‘বাসায় ফিরার সময় ফুচকা পার্সেল করে আনবেন।আজকেও ভুলে যাবেন না প্লিজজ…
বাসার সামনে এসেই মেসেজটা নজরে আসলো মাহেরের।ফোনের স্ক্রীনে কতশত নোটিফিকেশন জমে আছে,তাঁর মেসেজে কি খেয়াল আছে উনার।আশেপাশে জানামতো কোনো ফুচকার স্টল নেই আর থাকলেও পুনরায় উল্টো ঘুরার মতো এনার্জিও মাহেরের নেই।
কলিং বেল বাজার কিছুক্ষণের মধ্যে আইরা ঝটপট দরজা খুলে নিলো।সালামের উত্তর দিতে দিতে মাহের জুতো খুলে রুমের দিকে এগোচ্ছিলেন।এদিকে দরজা লক করে দ্রুত মাহেরের সামনাসামনি দাঁড়ালো সে।হাইটে মাহেরের ঠিক বুক অব্দি আইরা।এতো সুঠামদেহী মেদহীন লম্বা মানুষের সাথে ম্যাচ হতে হলে তাকে আরো এক যুগ খাবার খেয়ে বড় হতে হবে।
তাঁর এতো তাড়াহুড়ার কারন ফুচকার প্যাকেট।মাহের ধীরে ধীরে বললেন,
‘সরি আজকেও আমি ভুলে গিয়েছি।’
হাসিমাখা মুখ সাথে সাথে নিভে যায় আইরার।কিছুটা ইতস্তত করে জিজ্ঞেসও করে, ‘আনেন নি?’
‘নাহ।’
লাল টুকটুকে মুখে আঁধারের জোনাকি নামে।মাহের রুমে চলে যেতেই মনে মনে নিজেকে একদফা শাসায় সে।সারাদিন ব্যস্ত হয়ে ফিরতে গিয়ে তিনি নিশ্চয়ই মনে রাখবেন না এটাই স্বাভাবিক।তবুও আজকে পুনরায় রিমাইন্ডার দেয়া একদমই উচিত হয়নি।নিজেকে বুঝিয়ে নিতে গিয়েও তাঁর অন্যমন বলে উঠে, ‘একটু কষ্ট করে মনে করে আনা যেতো না?খুব বেশী আহামরি কিছু তো সে চায়নি।’
মাহের সিঙ্গেল ছিলেন বলে বাসায় কোনো গার্লস সার্ভেন্ট
রাখা অপছন্দনীয় ছিল।বাট এখন একজন সার্ভেন্ট আছেন।তিনি রান্না করলেও খাবার পরিবেশন করে আইরা নিজেই।মাহের টেবিলে এসে বসতেই দ্রুত খাবার সার্ভ করে সে।প্রাত্যাহিক খাবারের সাথে রোজ রোজ সবজি,ডিম আর দূধ খাওয়া তাঁর পছন্দ হচ্ছে না।এ কয়দিনে মাহের তাঁর সাথে যতবার কথা বলেছেন তাঁর বেশীরভাগই পড়া নিয়ে।ব্রেইন ফ্রেশ রাখতে হলে পুষ্টিকর খাবার প্রয়োজন আর সেটাও তাঁর ডেইলি রুটিনে যোগ করে দিয়েছেন অথচ আইরার ইচ্ছে হয় মাঝে মাঝে একটু ভিন্ন স্বাদ পেতে।অর্ধসিদ্ধ সবজি,হাফ বয়েল ডিম বা দূধ প্রতিদিন খেতে বমি পায় তাঁর।তবুও একটাই আদেশ,কষ্ট করে হলেও খেতে হবে।
খাবার টেবিলে মাহের বেশ কিছুক্ষণ থেকে লক্ষ্য করছেন শুধু ভাতই মেখে যাচ্ছে সে।ভাতের দলা পাকিয়ে ছানামাখা করছে।সেই কখন মুখে দেয়া এক চিমটি খাবার এখনো চিবোচ্ছে।মাহের দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, ‘খাবার কি তোমার পছন্দ হয়নি?’
আইরা হ্যাঁ বোধক মাথা নাড়িয়ে খাবারে মনোযোগী হওয়ার চেষ্টা করে।মাহের আর কথা বাড়ালেন না।খাবার শেষে তাকে বই নিয়ে বসতে বললেন মাহের।উনার কথা হলো,খেয়েই ঘুমানো যাবে না।ঘুমানোর অন্তত দূ ঘন্টা আগে খাবার খেতে হবে।আইরা বই বের করে চুপচাপ বসে আছে।ম্যাথের মুন্ডুটাও বুঝে না সে।ক্লাসের মোটামুটি সবাই আলাদা কোচিং করে।সে কী করবে?
অনেকক্ষণ থেকে চুপচাপ বসে আছে আইরা।মুখে কলম চিবানো ছাড়া কোনো কাজেই সে মনোযোগ দিতে পারছে না।এতো ক্রিটিক্যাল ম্যাথ গুলো তাঁর মাথায় ঢুকার জন্য কোনো পথই খুঁজে পাচ্ছে না।সে ভাবছে কি করে কম পড়ে ভালো মার্কস তোলা যায়!এই ভাবনায়ও তাঁর মন পুরোপুরি বসছে না।কোথায় সে ভেবেছিলো বিয়ে হলে পড়াশোনা থেকে মুক্তি পাবে,জামাই নিয়ে এদেশ ওদেশ ঘুরবে,ইচ্ছেমতো টাইম স্পেন্ড করবে,স্কুল কলেজের বারান্দায়ও পা দিবে না অথচ শেষে কি সেই কলেজের লেকচারারই কপালে জুটলো?তাও নিজের পছন্দে?
কতো প্রশ্ন তাঁর মাথায় আসে।সুবিধামতো কোনো উত্তর না পেয়ে বারেবার হতাশ হয়ে পড়ছে সে।এতো হতাশা-দূশ্চিন্তার মধ্যে কি পড়ায় মন বসানো যায়?মোটেই না।গুনগুন করে চিন্টুর কবিতা আওড়ানো আরম্ভ করলো সে।দরজাটা চাপানো আছে।ঘুম পেলে এখানেই ঘুমিয়ে যাবে ব্যস আর চিন্তা নেই।
‘এসব ফালতু জিনিস ছেড়ে পড়াশোনা নিয়ে সিরিয়াস হতে পারো না?আমি তোমাকে আমার জন্য এস্টাবলিশড হতে বলছি?এসব খামখেয়ালি ইমম্যাচিয়ুর আচরন আমার পছন্দ নয়।ট্রাই টু বি ম্যাচিয়ুর,ট্রাই টু বি চেইন্জ ইয়োরসেল্ফ,প্লিজ!’
পিছন থেকে আসা আচমকা ধমকে কেঁপে উঠে আইরা।একটু সময়ের জন্য তাঁর বিশ্বাস হলো না প্রতিটা সেকেন্ড তাঁর কল্পনায় বিচরণ করা সেই অতিপ্রিয় মানুষটা আজ তাঁর সাথে এমন আচরণ করতে পারে।কান্নাটা আটকানো মুশকিল হলো তাঁর।সে তো ওতো ম্যাচিয়ুর নয় যে নীরবে কান্নাটা গিলে নিবে।এই সময়টুকু খুব করে আব্বুর কথা মনে পড়লো তাঁর।বাবাদের কাছে মেয়েরা আসলেই রাজকন্যা।আব্বু কখনো তাঁর চোখে এক ফোঁটা কান্না আসতে দেননি অথচ এখন নীরবে কতো কান্না সে হজম করে সেটার হিসেব নেই।জীবনের বাস্তবতা কি এই জায়গায় এসে এতো কঠিন?
মাহেরের খুব অনুশোচনা হচ্ছে ওই বাচ্চা মেয়েটার সামনে যেতে।একঘন্টা যাবত উনার মাথা হ্যাং হয়ে আছে এক মিনিটের কড়া কথাগুলোর জন্য।আর তাকে গিয়ে সরি বলার চেষ্টাটা এই উনষাট মিনিট ধরে চলছে,তবুও সেই সাহসটুকু হচ্ছে না উনার।
নিজেকে স্থির করে প্রথমে ঠিক করলেন যেখান থেকে হোক ফুচকা নিয়ে আসতে হবে।বাকি পরিস্থিতি সামলানো যাবে কোনোমতে।
ফুচকা খুঁজতে গিয়ে আধঘণ্টা সময় লাগলো মাহেরের।অবশেষে যকের ধন হাতে পেয়ে বাসায় ফিরলেন তিনি।ড্রয়িংরুমে পার্সেলের বক্সটা রেখে স্টাডি রুমের দিকে এগোলেন।স্টাডি রুমে একটা ম্যাট আর একটা টেবিল।
ম্যাটের এক কোণায় হাঁটু ভাঁজ করে চুপচাপ বসে আছে সে।কাছে আসতেই তাঁর গুঙ্গিয়ে কান্নার আওয়াজ আরও স্পষ্ট হলো।বেশ খারাপ লাগলো মাহেরের।
মাথা চুলকাতে চুলকাতে বেশ অপ্রস্তুত ভঙ্গিতে বললেন, ‘আমি সরি।আমার ভুল হয়েছে।আর কখনো এমন বলবো না।’
আইরা চোখতুলে অব্দি তাকাচ্ছে না।এই লাল কারনেশান টা আরো লাল হয়ে আছে কান্নার চোটে।মাহের একটু একটু করে এগিয়ে হাঁটুগেড়ে আইরার মুখোমুখি বসলেন।কিছু বলার জন্য উদ্যত হবার আগেই এই অসময়ে কলিং বেলটা বেজে উঠলো হঠাৎ।কিছুটা বিরক্ত হলেন মাহের।এখনি বাজতে হলো?
অথচ ডোর খুলতেই আরহামকে দেখে ভ্রু কুঁচকালেন।চমকালেন তখন যখন আরহাম গম্ভীরস্বরে বললেন, ‘আইরা কোথায়?আম্মু বলেছেন ওকে নিয়ে যেতে।’
মাহের কিছুই বুঝতে পারলেন না।জিজ্ঞেস করলেন, ‘হুট করে?কেন?’
আরহাম কেনো জানি উত্তর দিলেন না।পেছনে দেখলেন আইরা এসে দাঁড়িয়েছে।গায়ে শাল জড়িয়ে সে প্রস্তুত ভাইয়ের সাথে সাক্ষাতের।এবার মাহের সবকিছু বুঝে নিলেন।
ভাইয়ের পাশে গিয়ে দাঁড়ালো সে।আরহাম ওর হাত ধরে বললেন, ‘পরে গিয়ে নিয়ে এসো।’
‘দাঁড়াও।’
আরহাম ভ্রু কুঁচকে তূখর দৃষ্টি ফেললেন।মাহের আরহামের মুখোমুখি এসে দাঁড়ালেন।আরহামের থেকে আইরার হাতটুকুন ছাড়িয়ে নিজের হাতে আবদ্ধ করে মুখোমুখি দাঁড়িয়েই বললেন, ‘সে এখন আমার স্ত্রী।আমার স্ত্রীকে শাসন করলে কেবল আমি করবো।এক্ষেত্রে অন্য কারোর হস্তক্ষেপ আমি পছন্দ করছি না।’
আরহাম কোনো প্রত্যুত্তর করলেন না।সেইম কথা দিয়ে কি দারুণ রিভেন্জ!বাসা থেকে বেরিয়ে স্টিয়ারিং ধরে মুচকি হাসলেন আরহাম….
লোকটার প্রতি ভয় কেবল বাড়ছেই আইরার।এই মুহুর্তে ভয়ের পরিধিটা আকাশছোঁয়া।মাহের তাকে কটু কথা বলেছেন এই খবরটা আম্মু পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, এটা এতক্ষণে বুঝে গেছেন তিনি এতে সন্দেহ নেই।এখন নিশ্চয়ই আরেক ঝড় বয়ে যাবে।ভয়ে কলিজার পানি শুকিয়ে মরুভূমি আইরার।অথচ এক নীরব কন্ঠস্বর তাঁর শুষ্ক মরুভূমিতে ঝরনার ফোয়ারা বইয়ে দিলো।
‘ক্ষমা করে দাও!সরি।’
বলে একহাত কানে দিলেন মাহের।আইরা চোখ বড়বড় করে তাকালো।এই লোকটা সরি বলছে তাকে?যার ভয়ে কিনা তটস্থ সে।
‘এটা আশা করিনি।ভালোভাবে একটা ঘন্টা সময় দিয়ে দেখতে, আমি ক্ষমা চাই কি না!’
ওয়াল্লাহি।একেবারে শান্তসুরে বলা মাহেরের এই দূটো কথায় সে প্রচন্ড লজ্জ্বিত হলো।উনার ছোট হয়ে যাওয়া শুকনো চেহারাই যেনো বলে দিচ্ছে লোকটা ভীষণ কষ্ট পেয়েছেন!
এতক্ষণে ফুচকাগুলো রেডি করছিলেন মাহের।সম্পূর্ণ হতেই আইরার সামনে প্লেট ধরিয়ে দিতে সে আমতা আমতা করে বলল, ‘খ্ খাবো না।’
অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৪৩
‘তাহলে ভেবে নিব?তুমি এখনো রেগে আছো।’
আইরা প্লেটটা হাতে নেয়।মাহের সামনে বসে রইলেন সে খাওয়া সম্পূর্ণ করলো।অতপর মাহের উঠে গেলেন রুমে।রাতে আর একবারও কথা হলো না।বিছানায় কিছুক্ষণ এপাশ ওপাশ করতে করতে একসময় ঘুমিয়ে গেলেন মাহের।আইরার এক সেকেন্ডের জন্যও কেন জানি দুচোখ এক হলো না।তাঁর কানে কেবল বাজতে থাকলো উনার বলা কথাটা,
‘এটা আশা করিনি।’
আইরা বুঝতে পারছে তার এ কাজে লোকটা সত্যিই কষ্ট পেয়েছেন।ভীষণ কষ্ট পেয়েছেন।
