Home অপেক্ষা সিজন ২ অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৬০

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৬০

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৬০
Maha Aarat

ঘুমাতে গিয়ে এককোণায় জড়োসড়ো হয়ে ঘুমালো আইরা।মাহের শুয়ে শুয়ে খুব মনোযোগ দিয়ে ফোন চাপছেন তখনো।কি সব ভুংভাং ইংলিশ আর্টিকেল পড়ছেন আইরার আন্দাজের বাইরে সেগুলো।
খানিক পরে আইরার দিকে মনোযোগ হলো উনার।কিছুক্ষণ উসখুস করতে করতে একসময় সংকোচতা নিয়ে বললেন, ‘পাশে এসে ঘুমাও।’

বলে হাত ছড়িয়ে দিতেই আইরার চক্ষু চড়কগাছ।লোকটা ঠিক আছেন তো।শরীর ঠিক আছে তো।একদিনে বেশী ডোউজ হয়ে যাচ্ছে বোধহয়।আইরার কেনো জানি মনে হলো,উনার কথাটা আরেকবার শোনা চাই।যাতে তাঁর মস্তিষ্ক সঠিক ইনফরমেশন দেয় এবং বলে,যা শুনেছো ঠিক শুনেছো।”
মাহের চোখ ইশারা করলেন আবার।এবার বিশ্বাস হলো তাঁর।লজ্জ্বায় লাল নীল হতে হতে চুপিচুপি এসে শুয়ে পড়তেই তিনি অন্যহাত এগিয়ে টেবিলল্যাম্প অফ করলেন।মাহেরের হাতে জড়ানো ছোট্ট মানুষটার হার্টবিটের লাউড আওয়াজ যেনো স্পষ্ট শুনতে পারছেন উনি।মনে মনে হালকা হেসে ধীরসুরে বললেন, ‘তুমি কি ঘুমাতে পারবে যদি এরকম কাঁপতেই থাকো?’

আইরা নিজেকে স্বাভাবিক করলো।রাতের সম্পূর্ণ ঘুমটা তাঁর দরকার।নয়তো সারাদিন ঝিমোবে সে।লোকটার এতো দ্রুত পরিবর্তন নিয়ে সে গভীর চিন্তা করছিলো।একসময় চোখ দূটো ভারী হয়ে বুজে আসে।মাহের তখনো জেগে।আধো অন্ধকারে আইরার মুখটা অস্পষ্ট হলেও একেবারে অস্তিত্বহীন নয়।মাহের যখন সম্পূর্ণ নিশ্চিত হলেন সে ঘুমিয়েছে ধীরে ধীরে তাকে সরিয়ে নেমে এসে ড্রয়ার খুলে কিছু বের করলেন।রুম থেকে বেরিয়ে পাশের রুমের বেলকনির গ্লাস খুলে হন্নের মতো দ্রুতগতিতে সিগারেট ধরালেন।নিকষ কালো ঘন অন্ধকার মাড়িয়ে কেবল এক টুকরো আলো জ্বলছে।কি তীব্র সেই ঝলকানি!গাঢ় সেই তপ্ত আগুনের জিনিসে ঠোঁট পোড়তে থাকলো অনেকক্ষণ,দীর্ঘরাত পর্যন্ত।রাত বাড়ার সঙ্গে ধীরে ধীরে ফ্লোরে বেশ ক’টা খোসা পড়ে রইলো।মাহের রুমে এয়ার কন্ডিশনার ছেড়ে পারফিউম স্প্রে করে দিলেন।ফ্লোরের ময়লা পরিষ্কার করে একটা ওষুধ গিলে স্বাভাবিক হয়ে রুমে ফিরলেন।আইরা গুটিসুটি মেরে অন্যপাশ হয়ে শুয়ে আছে।মাহের তাঁর মুখোমুখি গিয়ে দাঁড়ালেন।তাঁর মুখের ওপর ঝুঁকার সাহস হলো না।দূর থেকে তাকিয়ে কেবল বললেন, ‘জেদ সবসময় ভালো সিদ্ধান্ত আনে না।আমাকে ঠিক করো,আমি তোমার জন্য হলেও স্বাভাবিক হতে চাই।ইউ হ্যাভ টু ডু ইট।প্লিজ ফিক্স মি সুন,বেবিগার্ল!’

অফিসে যাওয়ার জন্য রেডি হয়ে আরহাম সবেমাত্র নিচে নামতেই দেখলেন,মাইমুনার জন্য ব্রেডে জেলি লাগিয়ে দিচ্ছেন আব্বু।এর মাঝে বাবা মেয়ের শত শত আলাপ হাসি আড্ডা হয়ে যাচ্ছে।আরহাম হাফসাকে খুঁজতে দেখলেন সে কিচেনে।কেনো জানি খুব রাগ হলো আরহামের।আম্মুকেও টেবিলে বসতে দেখে কিছু প্রশ্ন হজম করে কিচেনের দিকে এগোলেন।আরহাম সচরাচর কিচেনে আসেন না।তবে খুব সকালে বা রাতে নিজের কফি টা নিজেই করে খান।আরহাম এসে দাঁড়াতেই বিনু আর কাজল চটজলদি বেরিয়ে গেলো।
জুব্বার লম্বা হাতা ফোল্ড করতে করতে হালকা কাশি দিতেই সে পিছু ফিরলো।আগে খেয়াল করেনি আরহামের উপস্থিতি।তাই সামনে ফিরতেই খানিকটা অপ্রস্তুত হয়ে তাকালো।আরহামের ভাবভঙ্গি সম্পূর্ণ খেয়াল না করেই জিজ্ঞেস করলো, ‘কিছু লাগবে?’

আরহাম কড়াস্বরে কঠিন দৃষ্টি নিয়ে বললেন, ‘আপনি আমার কথার অবাধ্য হোন,আমি এটা পছন্দ করি না।’
হাফসা ভড়কে গেলো,ভয়ও পেলো।হঠাৎ সে কি অপরাধ করে ফেলেছে যার জন্য তিনি এতে রেগে গেলেন।কোনো কিছুর সাথে কোনোকিছুরই সমীকরণ মিলছে না তাঁর।
আরহাম তাঁর অবস্থা বুঝলেন যে তাঁর অপরাধ সম্পর্কে সে অজ্ঞাত।তিনি সেটা স্মরণ করিয়ে দিতে বললেন, ‘আপনাকে অনেকদিন বলেছি,কিচেনে আসবেন না,আসবেন না।বিষয়টা এমন না যে,আমি চাইবো না আমার ওয়াইফ রা কিচেনে কাজ করুক।স্ত্রীর হাতে মজাদার খাবার খেয়েই পুরুষরা সারাদিনের কাজ করার এনার্জি পায়।কিন্তু আমি বাসায় থাকার এই কিছু সময়টা আপনি কিচেনে বিজি থাকেন তাহলে আমি কেন চাইবো আপনি কিচেনে কাজ করুন।আমি আর আসবো সন্ধ্যার পর,সকালের এই অল্প সময়টুকুও আপনি ব্যস্ত থাকবেন।এক মিনিট কথা বলার সুযোগ হবে না,দেখা হবে না আই ডোন্ট ওয়ান্ট দিস ওকে?শুধু এ সময় না।অন্য সময়েও সেইম।আপনি তো ভুল করেও কখনো নিজ থেকে আমার সাথে কথা বলতে চাননা,যখন আমি চাই তখনও কেমন এড়িয়ে চলেন।আপনার সাথে সুন্দর সময় কাটাতে গেলেও আপনার কোনো আগ্রহ পাই না,হুয়াই?

আমি কেনো জানি ভাবতে বাধ্য হই,আপনার আমাকে পছন্দ না।প্লিজ এক্সপ্লেইন দিস রিজন,আ’ম ট্রাই মাই বেস্ট টু চেইন্জ দিস!
রাগের চোটে আরহামের গলার আওয়াজ বেড়েছে।হাফসার মাথা নত।এই আওয়াজ টা নিশ্চয়ই ড্রয়িং রুম অব্দি পৌঁছচ্ছে।আরও এক মিনিট সামনে দাঁড়িয়ে থাকলেন আরহাম, তবে চুপ ছিলেন।ভয়,অপরাধবোধে অবনমিত হওয়া মস্তক তুলে হাফসা দ্বিতীয়বার তাকায়নি।এই পুরুষ ভালোবাসায় যেমন কার্পন্য করেন না,রাগের সময় শাসনেও কার্পণ্য করেন না।
আরহামের ভারী দীর্ঘশ্বাসের আওয়াজ শোনা গেলো!
তিনি আর অপেক্ষা করলেন না।তাঁর হাতের পিঠে শুষ্ক ঠোঁট ছুঁইয়ে চুপচাপ বিদায় নিলেন।অথচ অন্যদিন দীর্ঘ সময় নিয়ে কপালে ভালোবাসা এঁকে দিতেন।ড্রয়িংরুমে উনার গলার আওয়াজ শোনা গেলো আবার, ‘ইচ্ছে করছে না।খাবো না।’

অন্যসময় হলে আম্মু মিনতি করতেন তবে এখন কেউ কিছুই বললেন না।হাফসা তখনো ঠায় দাঁড়িয়ে।আস্তে আস্তে বিনু আর কাজল এসে নিজকাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লো।তারও খানিক পর আসলেন আম্মু।উনার নীরব মুখশ্রীর দিকে তাকালেই বুঝা যাচ্ছে, উক্ত ঘটনা সম্পর্কে তিনি জ্ঞাত।হাফসার মাথার ওপর হাত রেখে মমতাময়ী সুরে বললেন, ‘নিজের ঘরে যাও।কিচেনে এসো না আর।তোমার কিছু খেতে ইচ্ছে করলে আমাকে বলবে।কেমন?’
হাফসার চোখ ছলছল।তাঁর কান্না আসার সঠিক কারন সম্পর্কে সে নিজেই সন্দেহে আছে।আরহামের বলা কঠিন কথাগুলো না আম্মুর মমতাময়ী কন্ঠস্বর।চোখ তুলে তাকালো না সে ভেজা চোখ আম্মুর নজরে আসবে বলে।অথচ ড্রইংরুম পেরিয়ে নিজের রুমে যাওয়ার আগে তাকে থামতে হলো।মাইমুনা তাকে কাছে নিয়ে এই প্রথম কড়াসুরে বললেন, ‘শাহকে তুমি হার্ট করছো।আমি এটা পছন্দ করছি না।

বেশ!এই কথাগুলো যথেষ্ট ছিলো হাফসাকে ভেতর থেকে আরো ভেঙে ফেলার।ধীরভাবে মাথা নাড়িয়ে সে রুমে চলে আসলো।বেশ কিছুক্ষণ পর দেখলো ভাইয়ের কল আসছে।অন্যসময় যেখানে ছুটে এসে কল ধরতো এসময় চুপচাপ ইগনোর করে গেলো রিংটোন।কল করেও যখন হাফসার থেকে কোনোরুপ উত্তর গেলো না মাহের বার্তা লিখলেন, ‘তোমাকে মিস করছি,বোন।তাড়াতাড়ি তৈরী হয়ে নাও,দশ মিনিটের মধ্যে আসছি।’
হাফসা হতবাক!ঠিক এই সময়েই ভাইয়া বুঝে গেলেন তাঁর মন খারাপ।ভাই বোনের টান বুঝি এমনই হয়।এটা ভাবতে গিয়ে আরও কিছুক্ষণ কেঁদে নিলো সে।অতপর তৈরী হতে গিয়ে ভাবলো,উনার পারমিশন ছাড়া তো বের হবে না সে।এটা ভেবে বসে থাকলো ততক্ষণে মাহের পুনরায় কল দিলে হাফসা বলল, ‘উনার পারমিশন নিয়ে আসতে হবে।’

‘উনি আবার কে?আমার বোন আমি নিয়ে যাবো।আরহামকে বলতে হবে না।তুমি আসো।’
হাফসা বলতে চাইলো ভাইয়া এটা ঠিক হবে না।আমতাআমতা করে বলতে যাচ্ছিলো তখন মাহের এককথায় সমাপ্তি টেনে দিয়ে বললেন, ‘বলতে হবে না।আরহাম জানবে না।’
আর কথা বলার সুযোগ দিলেন না তিনি।হাফসা তৈরী হয়ে আম্মু আব্বুর পারমিশন নিয়ে আসতেই মাহের মুচকি হেসে গাড়ির দরজা খুলে দেন।সিট বেল্ট বাঁধতে বলে গাড়ি স্টার্ট দিয়ে আরহামকে মেসেজ লিখলেন, ‘ও তোমার পারমিশন চাইছিলো।তাও জোর করে নিয়ে যাচ্ছি।তোমার এক পিস,আর বাসার এক পিস নিয়ে আমার চাকরি ছুটে যাবে।’
আরহামের উত্তর আসলো, ‘কে বলেছিলো তোমার বোন আমার কাছে বিয়ে দিতে।’
‘এহহহ তুমি জোর করে কান্নাকাটি করে বিয়ে করে এখন এ কথা?’
‘উনি কি এখনো কাঁদছেন,মাহের?’
‘চেষ্টা করছে না কাঁদতে।চোখ ঝাপসা হয়ে এলে পলক ফেলছে বারবার।এ শোধটা আমি নিবো আরহাম।’
‘আইরাকে কষ্ট না দিয়ে।আমাকে দিও।’
‘আমি কি তোমার মতো?সাত সকালে মেজাজ দেখিয়ে বেরিয়ে আসি!’

ফ্ল্যাশব্যাক~
সকালের সুন্দর পরিবেশ।নমনীয় বাতাসের সাথে সজীব সমীরণ।পাখির কিচিরমিচির শব্দের সাথে দূরের কোনো মসজিদ থেকে ভেসে আসা কুরআনের সুর।এরই মধ্যে ঘুম ভাঙ্গলো আইরার।চোখ খুলতে দেখতে পেলো মহাজগতের সবচেয়ে নিরাপদ আর আরামদায়ক জায়গায় শুয়ে আছে সে।মাহের হাত দিয়ে তাকে না ধরলেও প্রিয় স্থান থেকে সরাননি।
আইরার ঘুম উবে গেলো।লাজুক চাহনীতে সে তাঁর প্রেমপুরুষের দিকে চাইলো।কি ইনোসেন্ট চেহারা অথচ কি কাঠখোট্টা স্বভাবের তিনি।লোকটার হলদে ফর্সা লাল গালে আলতো ছুঁয়ে দিয়ে মিনমিন স্বরে তাঁর কবিতা গাইতে থাকলো,

গালটা লাল হয়ে ওঠে,
কথা বলি একটু থেমে,
মজা করি হেসে হেসে,
আপনি তো আমার সেরা মেমে।
নাহ!শেষ রক্ষে হলো না আর।একটু আওয়াজ পেতেই চোখ খুললেন তিনি।আইরা ঝুপ করে চুপ হয়ে গেলো।উনি আড়মোড়া ভাঙ্গতে গিয়ে হাতে টান খেতেই আর্তনাদ করে উঠেন।
আইরা দ্রুত জিজ্ঞেস করে বসলো, ‘স্যার স্যার কি হলো?’
মাহের চোখমুখ কুঁচকে বললেন, ‘তুমি নামো হাত থেকে।ও মাই আল্লাহ।’
আইরা সরে আসতেই হাত উপরে তুলে নড়াচড়া করতে করতে ব্যাথাযুক্ত আওয়াজ করছিলেন মাহের।আইরা রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো কেবল।রাতে নিজে ডেকে নিয়ে ঘুমাতে বলে এখন এ অবস্থা?
হাতের এক্সারসাইজ করতে করতে মাহেরের চোখ পড়লো তাঁর দিকে।কিন্তু তাঁর রেগে বোম হয়ে যাওয়ার কোনো কারন খুঁজে পেলেন না তিনি।জিজ্ঞেস করেও লাভ হলো না কিছুই।বরং একটু পরে ভুলটা মাথায় আসতেই ঠাহর হলো কতো সাংঘাতিক ভুল করে ফেলেছেন তিনি।মনে মনে নিজেকে কয়েকঘা ঝাড়ি দিয়ে শোধরে নিয়ে বলতে চাইলেন, ‘ম্ মানে এমনি এমন করলাম।তুমি আসো,ঘুমাও।আমি তো এমনি বলেছি।’

আইরার রাগে মাথা ফাঁটার জোগাড়।চুপচাপ উঠে চলে গেলে মাহের নিজের কপাল চাপড়ে নিজেকে উপহাস করলেন।এবার যদি উনি বাবার বাড়ি যায়,নিশ্চিত আর আসবেন না!
বর্তমান~
মন খারাপের মাঝেও হেসে উঠলো হাফসা।আইরা ঘটনা শেষ করেই দীর্ঘশ্বাস ফেলে একটু দূরে বসে থাকা মাহেরের উদ্দেশ্যে খোঁচা মেরে বললো, ‘আসলে কিছু মানুষের বিহ্যাবিওর কখনোই বদলায় না।কোনো ক্ষেত্রেই না।আমি এটা প্র্যাক্টিক্যালি টের পেয়েছি।’
মাহের সরু চোখে তার দিকে তাকালেন।এটা বুঝতে আর বাকি নেই,জীবনে সর্বোচ্চ রোমান্টিক ধাপে পৌঁছলেও সারাজীবন এর খোঁটা শুনবেন তিনি।

ভদ্রমহিলার সাথে প্রথম সাক্ষাৎ আরহামের।মা’সম মহিলার সাথে কোনোরুপ উত্তেজক আওয়াজ করলেন না তিনি।সুন্দর মতো কুশল বিনিময় করে ঠান্ডাস্বরে উনার মেয়ের সব পাগলামির নমুনা দেখিয়ে বললেন, ‘আন্টি আমার তো নিজের লাইফ আছে।আমার দূজন স্ত্রী আছেন।কি করে ভাবেন আপনার মেয়ে,যে আমি এমন কিছুতে সাড়া দেব?’
লজ্জ্বায় নয় বরং ঘোর অপমানে মাথা নত হয়ে গেলো ভদ্রমহিলার।আরহাম কিছুটা আহত হলেন উনার এহেন আচরনে।চেষ্টা করলেন কোনো কঠিন কথা না বলে আন্তরিকভাবে বুঝানোর।কিন্তু কিছুমুহুর্ত পর তিনি যেটা বললেন সেটা শোনার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না আরহাম।
‘তুমি তো এগুলো দেখে অবাক হচ্ছো।অথচ বাসার দেয়ালে তোমার নাম লিখা,তোমার ক্যান্ডিড ছবি ওয়ালে লাগিয়ে রেখেছে,হাত কেটে তোমার নাম লিখেছে।একজন সুস্থ মানুষ এমন করতে পারে না বাবা…বলতে বলতে মিসেস শেমু কেঁদে ফেললেন।কান্নারত সুরে কথা সম্পূর্ণ করে বললেন, ওর এসব আচরনে আমরা চিন্তায় থাকি সবসময়।ঘরে বন্দী করে রেখেছি,একদিন তো বেঁধে ও রেখেছি তাও কোনো কাজ হয়নি।একটা অনুরোধ, তুমি মেয়েটাকে বুঝিয়ে বলো একবার,ও বুঝবে।তোমাকে সে প্রচন্ড ভালোবাসে,তোমার কথা শুনবে।’

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৫৯

‘সম্ভব না আন্টি।আপনার মেয়েকে আপনারা সামলে নিন।’
মিসেস শেমু চলে গেলে আরহাম অনেকক্ষণ চুপচাপ বসে রইলেন।আজকে মাহেরের বাসায় যাওয়ার কথা উনার।আসরের নামাজের পরপরই রওয়ানা দেওয়ার কথা।অথচ সিদ্ধান্ত বদলে মাহেরকে কেবল লিখলেন, ‘আসবো না।কালকে সকালে এসে নিয়ে যাবো উনাকে।’
গল্প কখন দিবো এ নিয়ে পোল এর অপশন আছে কমেন্ট এর লিংকে। আপনাদের মতামত জানান।

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৬১

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here