Home ৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি ৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৪৬

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৪৬

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৪৬
রুপান্জলি

আজ ২৩ তারিখ, মাঝে কেটেছে ছয়দিন।
রমনার আকাশে বাতাসে এখন নির্বাচনের কলরব। এমপির প্রার্থী হিসেবে মাহিন মির্জার পাশাপাশি আরও তিনজন দাড়িয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে সিরিয়াস পারশোন হচ্ছে তাহরিফ খান। তার আসনের মার্কার নাম “তালা”,,আর মাহিন মির্জার পরেছেন “কবুতর” মার্কা। আরও দুজনার হাতি আর হাস মার্কাও রয়েছে তবে আশা করা যায় তারা নির্বাচনের আগে ভাগেই পদ ত্যাগ করবেন। মুলত তাদেরকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে গননা করা যায়না,, তারা দাড়িয়েছে টাকা খাওয়ার জন্য,, দুই দল থেকে টাকা পেলেই চুপ চাপ বসে পরবেন। রাস্তা জুড়ে এখন শুধু “তালা” আর “কবুতর” মার্কার প্রচারনা। এখনো ভার্সিটির সামনের রোডে শুনা যাচ্ছে,,,

,,গণমানুষের প্রার্থী — কবুতর মার্কা
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রমনা এলাকার উন্নয়ন, সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমাদের প্রার্থী মাহিন মির্জা নির্বাচন করছেন কবুতর মার্কা নিয়ে।
কেন কবুতর মার্কায় ভোট দিবেন?
কবুতর হচ্ছে শান্তির প্রতীক। আমরা চাই রমনা হোক শান্তি, উন্নয়ন ও সৌহার্দ্যের আধার। যেখানে থাকবে সহস্র ন্যায় আর অন্যায়ের প্রতিবাদ,,
,,, ক্যাম্পাসের এক কোনায় দাড়িয়ে আছে চারজন, ইরা, অর্পনা, রাত আর পল্লব। অর্পনা একটা সুপারি গাছে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে বুকে হাত বেধে রাত্রি আর ইরার গসিব শুনছে। তাদের গসিবের মেইন টপিক হচ্ছে তাদের ডিপার্টমেন্টের সবচেয়ে সুন্দর ছেলেটার ক্যারেক্টার। কিছুদিন আগে ছেলেটাকে এক মেয়ের সাৎে লাইব্রারির দরজায় চিপায় দেখেছিলো তারা, আজ আবার অন্য একটা মেয়েকে প্রপোজ করেছে। কদিন পরপরি ছেলেটাকে একেক মেয়ের সাথে দেখা যায়,, এই নিয়েই বদনাম করছে দুজন। পল্লবের সেদিকে মন নেই,, সে মনোযোগ দিয়ে মাইকে চলা প্রচারনা শুনে অর্পনার বাহুতে ঘুসি বসিয়ে বললো — মামা!! তর চাচা শ্বশুরের মাইকিং চলে।

,,, পল্লবের কথায় নাক কুচকালো অর্পনা,, বিরক্তিকর চাহনি ফেলে গুনে গুনে তিনটা ঘুসি ফেরত দিয়ে বললো — থাপ্পড় খাবি কুত্তা,, চাচা শ্বশুরের মাইকিং চলে,, এটা আবার কেমন কথা? এটাকে মাইকিং না প্রচারনা বলে,, সম্মান দিয়ে কথা বলবি।
,,, এহ, সম্মান দিবে। এখন যেই ভালো ভালো কথা গুলো বলছে,, জিতে গেলে তো সব উল্টে যাবে। একটা কথাও রাখবে না। ছোট থেকে দেখে আসছি আমাদের উত্তরের রাস্তাটা পুরোপুরি ভাঙা পরে আছে। নানির বাড়িতে যেতে নিলে রিকশার ঝাকুনিতে পেটের ভিতরের নাড়ী, ভুরি, কলিজা, লিভার, ফ্যাকশা কোথায় কোনটা আছে সব বুঝতে পারি। প্রত্যেক নির্বাচনে পোস্টার দিতে গিয়ে বলে ঠিক করে দিবে অথচ নির্বাচনে জিতে গেলেই সব ফাহহহহ হয়ে যায়।

,,, ফাহহহহহ শব্দ শুনে রাত্রি আর ইরা ৩২ পাটি বের করে হাসলো,, রাত্রি বললো — ভাই,, কালকে সন্ধায় দ্বীপ ভাইয়া আর বিহান ভাইয়া আমাদের ফ্লাটের সামনে গিয়েছিলো। আমি সাথে সাথে ঝানালা দিয়ে উকি দিয়েছিলাম। ভাইয়াকে বলেছিলাম ভোটের বিনিময়ে কিছু দিয়ে যেতে নয়তো ভোট দিবোনা৷ তারপর অনেক্ক্ষন পরে ভাইয়ার ছেলেরা উপরে এসে ফুচকা আর কাচ্ছি দিয়ে গিয়েছিলো।
,,, ইরা নাক ফুলিয়ে বললো — ভাইয়া রাতকে এতো কিছু দিলো বাট আমরা বঞ্চিত হলাম,, মানবো না এসব। নির্বাচনে জিতলে আমাদের ট্রিট চাই। অর্পনা তর জামাইকে ট্রিট দিতে বল।
পল্লব সেসবে পাত্তা দিলোনা, সে রাত্রির কথার টোন ধরে বললো — এক্সকিউজ মি রাত, দ্বীপ ভাইয়ার ছেলেরা মানে কি? অর্পনা তর আবার ছেলে হলো কবে? সত্যি বল,, আগেই বিয়ে করে নিয়েছিলি তরা? বাচ্চা কাচ্চাও বড়ো হয়ে গিয়েছে? তারা আবার বাপের হয়ে নির্বাচন ও করছে? কি শুনালি ভাই!! মাথা ঘুরছে তো, মনে হয় কিডনিতে এটাক আসবে। ( পেট চেপে ধরে)
,,, অর্পনা পল্লবের চুল টেনে বললো — নাটক করবিনা শালা,, তদের কি খেয়ে পরে কাজ নেই? আমার হাসবেন্ড আর চাচা শ্বশুরের পিছনে লেগেছিস কেনো?
,,,,ইরা একটু একটু করে অর্পনার দিকে এগিয়ে গেলো,, নরম হাত জোড়া দিয়ে অর্পনার একটা হাত টেনে আঙ্গুল ফুটাতে ফুটাতে মুচকি হাসলো। ওর হাবভাব দেখে অর্পনা চোখ ছোট ছোট করে ভ্রু নাচিয়ে বললো– মতলব কি?
,,, ইরা লজ্জা পাওয়ার ভাব ভঙ্গি করে অর্পনার হাতের কব্জি নাড়াতে নাড়াতে বললো — মামা!! তর চাচা শ্বশুর তো এমপি হবে তাইনা?

,,, হুম, ইনশাআল্লাহ!! তারপর?
,,, তাহলে একটু বলিস যেনো আমাদের হলের ডালটা একটু গাড়ো করে দেয়,, খেতে পারিনা ভাই,, ডাল নাকি গায়ের হলুদের পানি বুঝতেই পারিনা। পাইনশা লাগে,, পোড়া রসুনের গন্ধ,, কিযে বিদঘুটে খেতে।
,,, আমার চাচা শ্বশুর কি তদের হলের বুয়া? যে ডাল গাড়ো করে রান্না করে দিবে?
,,, ইট্স রং অর্পন,, তুই বোধহয় তর চাচা শ্বশুরের জেন্ডার ভুলে যাচ্ছিস,, ওটা বুয়া নয় বরং দাদা হবে।
,,, পল্লবের কথা শুনে খিল খিল করে হেসে দিলো রাত্রি আর ইরা। অর্পনা রাগি দৃষ্টিতে পল্লবের দিকে তাকাতেই সাথে সাথে পল্লব এক হাতে কানে ধরে চোখ টিপে বললো — সরি মামা,, যা তর চাচা শ্বশুরকে মাফ করে দিলাম,, আর মজা নিলাম না। শুধু নির্বাচনের পর একটু আমাদের উত্তরের রাস্তাটা ঠিক করে দিতে বলিস।

,,, এক হাতে কান ধরে চোখ টিপায় পল্লবকে কিযে সুন্দর দেখালো রাগ দেখাতে চেয়েও দমে গেলো অর্পনা। তার দেখা সুন্দর পুরুষদের মাঝে চতুর্থ স্থানে আছে পল্লব। ছেলেটা একটু বেশি ই সুন্দর, আর সবচেয়ে সুন্দর ওর ভ্রু জোড়া, এতোটা ঘন স্মুথ ভ্রু খুব একটা দেখা যায়না। চোখ জোড়ার দিকে তাকালে যে কোনো মেয়ে ফেসে যাবে নিশ্চিৎ। হাসলে থুতনির নিচে ছোট একটা ডিম্পল পরে,, হাসার সাথে সাথে ক্লিন সেইভ থুতনিতে হওয়া গর্তটা অবলীলায় আকৃষ্ট করে মানুষকে। নাকটা আরও বেশি আকর্ষণীয়, উচু তবে নিচের দিকে কিছুটা ঢাল,, নাকের ডগায় আরও একটা ডিম্পল তবে এটা হাসলে গর্ত হয়না বরং সবসময় ই ছোট করে দাগ হয়ে থাকে। ভালো লাগে দেখতে। অর্পনার মনের কথাটা মুখ ফুটে প্রকাশ করলো রাত্রি — ভাই তোর চোখ জোড়া অমায়িক আর রিয়্যাকশন তো বাধিয়ে রাখার মতো। যে একবার দেখবে সেই ফিদাহ!! যে কারোর মন জয় করে নিতে পারবি তুই।

,,,, পল্লব কেমন করে যেনো হাসলো,, রাত্রির চোখের দিকে তাকিয়ে বললো — সুন্দর হলেই সবার মন পাওয়া যায়না রাত,, খোজ নিলে দেখবি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সৌন্দর্যের অধীকারি লোকটার ও ভিতরা টা শুন্য। কারোর জন্য তরপায় কিন্তু তাকে পাওয়ার কোনো রাস্তা থাকেনা।
,,,, অর্পনা সন্দেহি কন্ঠে সুধালো — তুই কার জন্য তরপাস? কার জন্য তর ভিতরটা শুন্য?
,,, আছে একজন!!
,,, রাত্রি আগ্রহ ভরে প্রশ্ন করলো– কে সে? বল, আমরাও শুনি।
,,, বললে কি হবে? এনে দিতে পারবি?
,,, রাত্রি মাথা ঝাকিয়ে বললো — জীবন দিয়ে হলেও এনে দিবো,, একদম টানতে টানতে তর বুকে এনে ফেলবো,, ট্রাস্ট মি।
,,, পল্লব শান্ত কন্ঠে বললো– শিউর? সত্যি ই পারবি? না করবি নাতো? কোনো অজুহাত দিয়ে পালিয়ে যাবি না তো?
,,, রাত্রি ভ্রু কুচকে বললো– আমি কি পলাতক আসামি, নাকি আমাদের ভীতু মনে করিস? যে তর প্রেমিকাকে আনার ভয়ে পালিয়ে যাবো।

,,,, পল্লব রাত্রির চোখে চোখ রেখে বললো — সোজা সাপ্টা বল এনে দিতে পারবি?
,,,, পারবো!!
,,, শিউর!!
,,, বল্লাম তো দিবো,, এবার বল।
,,, বিরক্ত হয়েছিস কেনো? বলবো না।
,,, বলবি না?
,,, না!!
,,, তাহলে তখন রাজি হলি কেনো?
,,, তুই বিরক্ত না হলে বলতাম।
,,, আচ্ছা সরি, এবার বল।
,,,, এদিকে আয় কানে কানে বলছি।
,,, রাত্রি বিশ্বাস করে কানটা এগিয়ে দিলো পল্লবের দিকে,, রাত্রি খাটো হওয়ার দরুন ঝুকে এলো পল্লব,, কান থেকে দু ইঞ্চি দূরত্ব রেখে ফিসফিস করে বললো — ঐশরিয়া রায়কে চিনিস? সালমান খান যার জন্য এখনো সিঙ্গেল,, আমিও তার জন্যই মাতোয়ারা। এবার এনে দে,, অজুহাত দিলে লাত্থি খাবি।

,,,, কথাটা ফিসফিস করে বললেও ইরা আর অর্পনাও শুনেছে। পল্লবের এহেন কথায় ঠোঁট উল্টালো রাত্রি,, মেজাজ খারাপ হলো তার,, সে কতোটা সিরিয়াসলি নিয়েছিলো। ইরা আর পল্লব শব্দ করে হেসে উঠলো,, অর্পনাও ঠোট বাকিয়ে সুক্ষ্ম হাসলো। এই মজাটা ইরার সাথেও করেছে পল্লব,, এমন ভাবে কথা বলেছে যেনো সত্যি সত্যি কাউকে ভালোবাসে। ইরা যখন আগ্রহ ভরে শুনতে চাইলো তখনি ঐশরিয়া রায়ের কথা বলে ওকেও বোকা বানিয়েছিলো। ওদেরকে হাসতে দেখে রেগে গেলো রাত্রি,, রাগ সামলাতে না পেরে ঝুকে থাকা পল্লবের কলার টেনে ধরে চাপা বরাবর ঘুসি বসাতে নিতেই পল্লব সতর্ক কন্ঠে বললো — স্টপ!! তর ডান হাত ইন্জুর্ড,, ব্যাথা পাবি।
,,, পল্লবের কথায় হুস ফিরলো রাত্রির,,এতোদিন পর বন্ধু বান্ধবদের কাছে পেয়ে ব্যাচারি ভুলে
ই গিয়েছে সে যে অসুস্থ। মনে হতেই পল্লবের কলার ছেড়ে দিলো। মুখটা কাদো কাদো করে বললো — আমার হাত ব্যাথা কর,

,,, রাত!!
,,, কথা শেষ করার আগেই পরিচিত কন্ঠে নিজের নাম শুনে ঘাড় ঘুড়িয়ে তাকালো রাত্রি,, তার ঠোঁটে প্রাপ্তির হাসি। ওদের থেকে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে আছে অরুন,, আজ নয় দিন পর কথা বলতে পারছে সে,, এতোদিন কতো চেষ্টা করলো,, কতো ডক্টর দেখালো কিন্তু কথা ঠিক হচ্ছিলো না। আজ ফাইনাললি ঠিক হলো,, খুশিতে রাত্রির চোখ জোড়া চিকচিক করে উঠলো,, সে খোরাতে খোরাতে এগিয়ে যেতে নিলে অরুন স্থান কাল বিবেচনা না করেই দৌড়ে এসে রাত্রিকে দুহাতে ঝাপ্টে ধরলো। ছোট খাটো শরীরটা বুকের সাথে মিশিয়ে নিয়ে বললো — রাত!! এই!! আমি কথা বলতে পারছি। তুই খুশি হয়েছিস?
,,, রাত্রি অরুনের বুকে মিশে রইলো,, অনেকটা সময় পর মাথা তুলে মাথা ঝাকিয়ে বললো — খুব,, কতোদিন পর তুই নাম ধরে ডাকলি।
,,, অরুন রাত্রির কপালে চুমু খেয়ে বললো —
আই লাভ ইউ,, আই লাভ ইউ সোনা। ডু ইউ লাভ মি? আজ বলবি? প্লিজ!! বলনা। একবার বল,, শুনতে ইচ্ছা করছে খুব।
,,, রাতের চোখে পানি,, সে মাথা নামিয়ে অরুনের শার্টে চোখ ডলে মিনমিনে স্বরে বললো — ভালোবাসি তো,, অনেক অনেক ভালোবাসি। এই পৃথিবীকে যতোখানি ভালোবাসা ঘিরে রেখেছে তার থেকেও শতগুণ বেশি ভালোবাসি তকে।

,,, রাত্রির মিহি কন্ঠে বলা ভালোবাসি শব্দটা খুব সুন্দর শুনালো,,ইরা, অর্পনা, পল্লব ওদের দিকেই তাকিয়ে ছিলো,, পল্লব একটু মুচকি হেসে চোখ ঘুরিয়ে অন্য দিকে তাকালো। অর্পনা তাকিয়ে থাকতে থাকতেই উদাশ হয়ে গেলো,, দ্বীপের কথা খুব মনে পরছে,, মাথাটা ফাকা ফাকা লাগছে। কতোদিন ওনার শক্ত পোক্ত বুকে মাথা রাখেনি সে? ৬ টা দিন পেরিয়ে গিয়েছে,, অর্পনার চোখ জ্বালা করলো,, ইচ্ছা করছে দ্বীপকে এক পলক দেখতে, শক্ত করে জড়িয়ে ধরতে,, দ্বীপের হাটুর উপর বসে গলা জড়িয়ে ধরে গলায় মুখ গুজে ঘুমাতে। নিজের মনের বাচ্চা বাচ্চা ভাবনাগুলো বুঝে আসতেই ঠোঁট বাকিয়ে হাসলো অর্পনা। লোকটা বড্ড অদ্ভুত তো,, জোর করে করে তাকে কেমন অভ্যস্ত বানিয়ে দিলো। তার মতো একজন প্রায় ২৩ বছরের রমনির মন কিনা এসব বাচ্চাসূলভ আবদার করছে? স্বামীর নিকট আহ্লাদ পেতে পেতে অর্পনার শক্ত মনটা কি আহ্লাদী হয়ে উঠছে? ইট্স নট ফেয়ার, এটা সত্যি ই উচিৎ হচ্ছে না। অর্পনার ভাবনার মাঝে অরুন রাত্রিকে এক পাশে নিয়ে সবার উদ্দেশ্যে বললো — তরা দাড়িয়ে আছিস কেনো? আসার জন্য ইনভাইটেশন কার্ড পাঠাতে হবে?
,,, পল্লব এগিয়ে আসতে আসতে বললো — তোমরা তো ভালোবাসা বিনিময় করছিলে তাই আরকি।
,,, অরুন পল্লবের পেটে ঘুষি মেরে বললো — কাহিনি মারাও? কতোদিন তকে পচাই না, আজকে আর ছাড়া পাবিনা, এদিক আয়!!
,,, বলতে বলতে পল্লবকে এক পেশে জড়িয়ে ধরলো,, অর্পনা আর ইরা এগিয়ে এসে জড়িয়ে ধরলো তিনজনকে। পাচজন মিলে একটা ভালোবাসাময় বন্ধন তৈরি হলো,, এটা আজকের বন্ধন নয়,, আবার আগামীকাল হাড়িয়ে যাবার বন্ধন ও নয়। এই বন্ধনটা দৃঢ়,, যার পরিপূর্ন নাম বন্ধুত্ব।

,,, টিসি চত্বরে দলবল নিয়ে বসে আছে দ্বীপ,, অকারনেই বসে আছে। বিষয়টা অকারন নয়,, দ্বীপ কখনোই কারন ছাড়া কিছু করেনা তবে কি কারন সেটা বিহান ধরতে পারছে না। ধরতে চাইছেও না,, আপাতত সে দ্বীপের প্রতি বিরক্ত। সেই কখন থেকে একটার পর একটা সি*গারেট খেয়ে যাচ্ছে,, ফ্লাটে তো নেশার আসর বসিয়েছে। রোজা রাখেনা, নামাজ পরেনা,, আগের মতো উগ্রতা শুরু করে দিয়েছে। বিহান দ্বীপের দিকে বিরক্তিকর দৃষ্টি ফেলে বললো — কি করছিস ভাই? এই রোজা রমজানের দিনে রাস্তায় বসে সিগারেট খাচ্ছিস। লোকে কি বলবে? বলবে না? এই ছেলেটা এতো বড়ো দামড়া ছেলের বড়ো ভাই হয়েও রোজা রাখেনা? ছিহ!! তখন আমার মানসম্মান থাকবে? লোককে মুখ দেখাবো কি করে? তর জন্য এই বয়সে সম্মান হাড়িয়ে কচু গাছে ফাস দিতে পারবো না,, মাফ কর।
,,, দ্বীপ পাত্তা দিলো না, নিজের মতো সিগারেট টানছে আর নাক মুখ দিয়ে ধোঁয়া উড়াচ্ছে। যেখানে সয়ং আল্লাহ জানেন দ্বীপ রোজা রাখেনি সেখানে মানুষের জানায় না জানায় কি আসে যায়। পাত্তা না পেয়ে ঠোঁট উল্টালো বিহান,, দলের ছেলেরা হাসলো। বিহান নাক মুখ কুচকে সামনে তাকাতেই কিছু একটা নজরে পরলো, সাথে সাথে ঠোঁটে পৈশাচিক হাসি ফুটিয়ে দ্বীপের বাহু টেনে বললো — ভাই!! সাইডে দেখ,তর মরন তর দিকে তাকিয়ে আছে।

,,, বিহানের কথায় ভ্রু কুচকে নিলো দ্বীপ, ওর ইশারা অনুযায়ী তাকাতেই দেখলো কিছুটা দূরে একটা গাড়ি পার্ক করা, গাড়িটি দ্বীপের, যেটা বর্তমানে অর্পনা ইউজ করছে। দ্বীপ সরাসরি ড্রাইভিং সিটের দিকে তাকালো,, সাথে সাথে চোখাচোখি হলো দু-জোড়া কাতর নয়নের। ভার্সিটি থেকে মির্জা বাড়িতে যেতে হলে টিসি চত্বরের সামনে দিয়ে যেতে হয়। পথিমধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে কাঙ্ক্ষিত পুরুষকে দেখে থমকে গিয়েছিলো রমনি। গাড়ির গ্লাস নামাতেই দেখলো লোকটা আয়েশ করে সিগারেট খাচ্ছে,, এই দৃশ্য চক্ষু গোচর হতেই থমকে গিয়েছিলো সে,, এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলো কঠোর মানবের দিকে। এখন চোখাচোখি হতেই অর্পনা অভিমান ভরা দৃষ্টিতে তাকালো,, মন থেকে চাইলো দ্বীপ যেনো ওকে দেখে সিগারেট ফেলে দেয় কিন্তু কঠোর মানব প্রতিক্রিয়া করলো না। অর্পনার চোখের দিকে তাকিয়েই সিগারেট ঠোঁটে চেপে লম্বা করে টান দিলো,, পরপর ধোয়া ছাড়ার বদলে সেটা গিলে নিলো। অর্পনার বুকটা কেমন করে উঠলো,, সে এতোবার নিষেধ করার পরেও লোকটা এসব খাচ্ছে? কথার দাম দিলো না?

লাস্টবার তো চোখে চোখ রেখেই কথা দিয়েছিলো,, যতো যাই হোক, যতই খারাপ ই লাগুক না কেনো,, এসব ছুয়েও দেখবেনা। মানুষ এতো অদ্ভুত কেনো? যেই চোখে চোখ রেখে ওয়াদা করা যায়, সেই চোখে চোখ রেখে ওয়াদা ভঙ্গ ও করা যায়? এটা দ্বারা উনি কি বুঝাতে চাইলেন? অর্পনাকে ছাড়া উনি খুব কষ্টে আছে? হাসি পেলো অর্পনার,, এটা তো উনার স্বভাব,, ছোট থেকে এসবি করে এসেছেন। কারনে-অকারনে সিগারেট খেয়েছেন,, মন মতো কিছু না হলে সিগারেট খেয়েছেন,, কেউ কথা না শুনলে,, তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছু করাতে চাইলে,, পারুকে ভালোবেসে,, পারুকে কাছে না পেলে বরাবরই এসব খেয়ে এসেছেন। এইযে সিগারেটের ধোয়া গিলে নেওয়া, এই রিয়্যাকশনটা পারুর বেলায় ও ছিলো,, সুতরাং এটুকু শুধু পারুর প্রাপ্প। অথচ দ্বীপ তার জন্যেও এটা করছে,, কেনো করবে?

অন্যের জন্য যা করেছিলো তার জন্য একই কাজ কেনো? অর্পনার নিজেকে স্পেশাল কিছু মনে হলো না। কষ্ট তো তারো হচ্ছে,, হচ্ছেনা? বরং দ্বীপের চেয়ে হাজার গুন বেশি কষ্ট পাচ্ছে সে। দ্বীপ ওকে ভালোবেসেছে কতোদিন হবে? এইতো মাস খানিক। এখনতো ভালোবাসাটা প্রকাশ করতে পারেনি, হয়তো মনে মনেও স্বীকার করেনি সে অর্পনাকে ভালোবাসে। অথচ অর্পনা শুরু থেকে ভালোবেসেছিলো,, যখন এই পরিপাটি দ্বীপ মির্জাটা বনমানুষ ছিলো তখন থেকে ভালোবেসেছিলো। তখন তো এতো রুপ, গুন ছিলো না,, অধ্বপ্রান্ত অগোছালো একটা মানুষ ছিলো। সেই অগোছালো, অসুস্থ লোকটাকেই নিজের সবটা দিয়ে ভালোবেসে অর্পনা। তাহলে কার কষ্টের মাত্রাটা বেশি? অবশ্যই অর্পনার। কই, বুকে তোলপাড় করা ঝর আর দ্বীপের সূন্যতা নিয়ে অর্পনা তো এসব বেচে নেয়নি? দ্বীপ কেনো নিবে? কেনো কথা রাখবেনা? আর রাখবেনাই যখন, তখন কথা দিলো কেনো? অর্পনার ভিতরকার আত্মাটা জখম হলো,, সে অবলীলায় আল্লাহ এর কাছে আরজি জানালো,,

,,, আল্লাহ!! আপনি আমায় জীবনের অন্তিম মুহুর্ত পর্যন্ত নিঃসঙ্গ রাখুন তবুও যার জীবনে আমার আলাদা কোনো মূল্য নেই তার তাকদিরে আমায় রাখবেন না। যে মূল্য দিতে জানলো না তার নসিব হতে উঠিয়ে নিন। যে কথা রাখলো না, আমায় কষ্ট দিলো,, সে যেনো সুখ দেওয়ার সুযোগ না পায়।
,,, ভালোবাসা এতো সোজা নয়। ভালোবাসলেই ম*দ, গা*জা, সি*গারেট খেয়ে যন্ত্রণার প্রমান দিতে হয়না। কখনো কখনো প্রেয়সীর চোখে তাকিয়েও বুঝানো যায় আমি তোমায় ছাড়া ভালো নেই। কখনো কখনো প্রেয়সীকে দেওয়া কথা রেখেও বুঝানো যায়, আমার কাছে তোমার চেয়ে মুল্যবান আর কিছু নয়। এখন যদি দ্বীপের হাতে সিগারেট না থাকতো অর্পনা অবলীলায় ছুটে যেতো দ্বীপের কাছে,, এমনকি তার বর্তমান গন্তব্য ও ছিলো দ্বীপের ফ্লাট। ওর কাছেই যেতে চেয়েছিলো সে,, বলতে চেয়েছিলো “” আমার সময় খুব খারাপ যাচ্ছে,, আপনার উচিৎ সময়টা ভালো করে দেওয়া”” অথচ মনমাফিক কিছুই হলো না।

লোকটা তাকে ভালোবাসলো ঠিকি কিন্তু তার মতো করে ভালোবাসতে পারলো না,, ওপ্স!! উনি তো আবার অর্পনাকে ভালোবাসেনা। ভেবে এক টুকরো হাসলো অর্পনা,, দ্বীপ বোধয় জানেনা,, মেয়ে মানুষ নিজের থেকে দশ মাইল দূরে থাকা পুরুষের চাহনি দেখেও তার মনোভাব বুঝতে পারে। দ্বীপ তো তার কাছেই ছিলো,, সব অনুভূতি বুঝতে প্রকাশ শব্দটা উচ্চারন করতে হয়না।
,, অর্পনার হাসিটা দেখলো দ্বীপ, অবাক হলো। এই হাসির মানেটা ধরতে পারলো না,, এতে কি মিশে ছিলো? তাচ্ছিল্য, অবজ্ঞা নাকি অবহেলা? দ্বীপের তাকিয়ে থাকার মাঝেই গাড়ির ঝানালার কাচ উঠে গেলো,, সেকেন্ডে এগিয়ে গেলো সামনের রোড ধরে। যতক্ষণ গাড়িটা দেখা গেলো এক ধ্যানে তাকিয়ে রইলো দ্বীপ,, ফোনে মেসেজের টোন বাজতেই ধ্যান ভাঙলো,, দ্বীপ বুঝলো মেসেজটা কার। সহসা সিগারেটে টান মেরে মোবাইলের সাটার নামাতেই দেখলো —
,,, সিগারেট খাচ্ছেন ভালো কথা, আমার আপত্তি নেই। শুধু এই কলুষিত ঠোঁট জোড়া নিয়ে কখনো আমার ঠোঁট স্পর্শ করার স্বপ্ন দেখবেন না। আমি অপবিত্র হতে পারি কিন্তু কলুষিত নয়।

অর্পনা রান্নাঘরের এক পাশে দাড়িয়ে আছে দৃষ্টি জগের দিকে স্থির,, যেখানে কান্টিনিওয়্যাসলি মেধা চামচ ঘুড়িয়ে যাচ্ছে,, উদ্দেশ্য ট্যাং, বিট লবন, লেবুর রস, চিনি মিক্সড করা। অর্পনা এর আগে কখনো শরবত টেস্ট করেনি,, সবার মতো এভারেজ ইফতার আইটেম দিয়েও ইফতার করেনি কোনোদিন। যা করেছে, ঐ কোল্ড ড্রিংক্স, ফ্রুট্স, ফাস্ট ফুড, এসবি। আসলে, পরিবার ছিলো নাতো, সেই সাথে পাপ্পাও বেশিভাগ দিন কাজের সূত্রে এখানে ওখানে থাকতো। সব মিলিয়ে স্বাভাবিক জীবনটা কখনো পাওয়া হয়নি তার। শুরুতে চারটে রোজা আগের নিয়মে কাটলেও আজ আরিব গিয়ে ডেকে এনেছে ওকে। বলেছে,,”” বড়ো আব্বুর আদেশ,, আজ সবার সাথে ইফতার করতেই হবে। “” শ্বশুরকে অমান্য করবেনা বলে নিচে নেমে এসেছে অর্পনা তবে নিচে নামতেই দেখলো শ্বাশুড়ির মুখ থমথমে,, তার সাথে কথা বলছে না। এটা সে ছয়দিন যাবতি খেয়াল করছে। দ্বীপ বাড়ি নেই বলে দ্বীপের আম্মু তার উপর নারাজ,, সবসময় মুখটা কঠিন করে রাখেন যেনো অর্পনাকে উনার সহ্য হচ্ছে না। এমনিতেই মন খারাপ ছিলো, এখন দ্বীপের মায়ের মুখো ভঙ্গি দেখে আরও মন খারাপ হলো। ইচ্ছা করলো এখান থেকে চলে যেতে কিন্তু শ্বশুরকে সম্মান করার ফলে যেতে পারলো না। তাই কোনো উপায় না পেয়ে চোখ মুখ শক্ত করে শরবত বানানোর প্রসেস দেখছে। ওর মনোযোগে বেঘাত ঘটিয়ে ফোন হাতে দৌড়ে এলো পরশী,, তাড়াহুড়ো করে ওর সামনে এসে হাপাতে হাপাতে বললো — জানো ভাবি কি হয়েছে?

,,, অর্পনা চোখ তুলে পরশীর দিকে তাকিয়ে বললো — না বললে বুঝবো কি করে? আগে দম নেও তারপর বলো।
,,, পরশী কয়েকবার দম নিয়ে অর্পনার সামনে ফোনটা এগিয়ে দিয়ে বললো — তোমার সর্বনাশ হয়ে যাচ্ছে আর তুমি কিছুই জানোনা? ছিহ ভাবি,, এই দেখো, তোমার জামাইকে নিয়ে মেয়েরা কি পোস্ট করছে,, সবাই একদম আমার ভাবি হওয়ার জন্য প্রস্তুত।
,,, পরশীর নাটকিয় ভঙ্গিতে বলা কথায় ফোনের দিকে তাকালো অর্পনা,, চোখের সামনে ভাসছে দ্বীপের স্লোগান দেওয়া, পোস্টার বিলানোর ভিডিও,, আর মেয়েদের দেওয়া ক্যাপশন। প্রতিটি ভিডিওতে সুন্দর করে ক্যাপশন দেওয়া “” আমার ফিউচার মন্ত্রী মশাই””,, “” ক্রাস খেয়েছি””,, “‘ বিয়ে করলে দ্বীপ মির্জাকেই করবো””

“” আমার জামাই ‘””,, “” বান্ধবী তর জামাই পাইছি”” “” আপনি এতো সুন্দর কেনো মন্ত্রী মশাই””। মুহুর্তেই পরিবেশটা কেমন থমকে গেলো,, অর্পনা অনুভব করলো তার মুখটা তেতো তেতো লাগছে। অভিমান আর রাগের সংমিশ্রণে মিশ্রিত অনুভূতি হচ্ছে। লোকটার এতো সাহস,, ছটাদিন ছাড় দিয়েছে বলে বাহিরে এসব করে বেড়াচ্ছেন? ভিডিওতে উনাকে এতোটা আকর্ষণনীয় লাগছে কেনো? নিশ্চয়ই ইচ্ছা করে নিজেকে আকর্ষিত করেছেন।পোস্টার দেওয়ার সময় এতো মিষ্টি করে হাসতে হবে কেনো? বাড়িতে তো জোক্স শুনিয়েও এতোটা হাসানো যায়না। ওর সাথে যেমন নরম স্বরে কথা বলে তেমন করে অন্য লোকের সাথে বলবে কেনো? যেটা অর্পনার সেটা শুধুই অর্পনার। দ্বীপ, দ্বীপের সৌন্দর্য, দ্বীপের হাসি, দ্বীপের নরম স্বর সবটা অর্পনার। তার সম্পদ অন্য কাউকে বিলানোর স্পর্দা কে দিয়েছে উনাকে? অর্পনার রাগকে আরও দুই দফা বাড়িয়ে দিতে পারশী কি লিখে যেনো সার্চ দিলো সাথে সাথে দ্বীপের ছবি দিয়ে কিসব যেনো লেখা এলো। পরশী ক্যাপশনে ক্লিক করে দেখালো — দেখো ভাবি,, এরা তোমার জামাইকে জামাই বানিয়ে, সংসার সাজিয়ে, বাসর ও করে ফেলেছে। কদিন পর বাচ্চা কাচ্চাও হয়ে যাবে।

,,,, অর্পনা পারশীর কথা বুঝলো না, বুঝবে কি করে? সে তো কখনো টিকটক ইউজ করেনি আর না এই সম্পর্কে কোনো ধারনা আছে। সে সহসা ভ্রু গুটিয়ে বললো — কি এসব? বুঝিনি।
,,, পরশী লেখাগুলোর দিকে ইশারা করে বললো — এটা এফ এফ,, মানে ফ্যান ফিকশন। আমরা যাদেরকে আইডল কিংবা ক্রাশ মনে করি তাদেরকে মনে মনে জামাই ভেবে সংসার করা আর সেই সংসারকে লেখালেখির মাধ্যমে প্রেজেন্ট করাকে,,
,,,অর্পনা থামিয়ে দিয়ে বললো– এসব জানি আমি,, এবার পরের টুকু বলো। ফ্যান ফিকশনের সাথে তোমার ভাইয়ার কি সম্পর্ক?

,,, পরশী মিটি মিটি হাসলো,, হাসতে হাসতে অর্পনাকে পড়ে দেখার জন্য ইশারা করলো৷ পরশী খুজে খুজে সেই পর্বটাই দিয়েছে যেখানে দ্বীপ আর আরেকটা মেয়ের বাসর চলছে। সেখানে কত্ত দুষ্ট মিষ্টি কথা লিখা। দ্বীপ মেয়েটাকে বলছে “” বউ কাছে আসো, আমার প্রেম পাচ্ছে “” আর মেয়েটা লজ্জায় গোলাপি হয়ে বলছে “অসভ্য লোক” অর্পনার মাথায় এমনি রাগ ছিলো এখন যেনো তা ধরা ছোয়ার বাহিরে পৌছালো। মন চাইলো সেই মেয়েটাকে মাঝখান থেকে কেটে রোদে শুকিয়ে শুটকি বানিয়ে ফেলতে,, আরেকটা অভাবনীয় ভাবনাও উদয় হয়েছে তার মনে যা কখনোই তার ব্যাক্তিত্বের সাথে যায়না। তবুও তার ইচ্ছা করছে মেয়েটার চুল টেনে ছিড়ে একদম টাকলা বানিয়ে ফেলতে। কতো বড়ো সাহস হলে তার হাসবেন্ডকে নিয়ে এসব লেখে? যেখানে এখনো পর্যন্ত সে তার জামাইয়ের হার্টবিট গভীর ভাবে অনুভব করলো না সেখানে একটা মেয়ে তার জামাইয়ের সাথে বাসর পর্যন্ত সেরে নিয়েছে? হাও ইজ দিস পসিবল ইয়্যার? অর্পনা রাগে কটমট করে পারশীর দিকে তাকালো,, পরশী আরেকটু কূটনামি করে বললো — তুমি এখনো চুপ থাকবে ভাবি? দেখছো মেয়েরা কিসব লিখছে? তুমি এখোনি ভাইয়াকে ফোন দাও, ফোন দিয়ে জবাব চাও। তোমাকে বিয়ে করে আনার পরেও এতো ভাব নিয়ে ঘুরে কেনো? মেঝো ভাইয়াকে নিয়ে তো কেউ কিছু বলেনা? পোস্ট ও করেনা। সব দোষ ভাইয়ার। এতো ভাব না নিলে নিশ্চয়ই আপু গুলো ক্রাশ খেতো না, আর ক্রাশ না খেলে নিশ্চয়ই এসব পোস্ট করতো না। বুঝে নাও,, তুমি দূরে রাখছো বলে ভাইয়াও তোমায় দূরে সরিয়ে দেওয়ার পায়তারা করছে। বিবাহিত হয়েও নিজেকে অবিবাহিত প্রমান করছে। চালাক হও ভাবি,, পুরুষ মানেই ভেজাল,, বুঝলে?
,,, পারশীর কূটনৈতিক চাল কাজে দিলো,, অর্পনা ওর বলা সব কথা বিশ্বাস করে নিলো। কথায় আছে বাঙালি মেয়েরা কখনোই কাউকে স্বামীর ভাগ দেয়না। এক চুল ও না, এক মূহুর্তের জন্য ও না। সে যতই কঠিন মনের মানুষ হোক না কেনো,, হিংসা তার হবেই। অর্পনা দাতে দাত চেপে বললো — এই মেয়েগুলোকে তুমি চিনো? বাড়ি কই এদের?

,,, পরশী দুদিকে মথা নাড়িয়ে ইনোসেন্ট লুক করে বললো — আমি কিভাবে চিনবো ভাবি? ওরা একেকজন একেক বিভাগের সদস্য।
,,, ওদের কথোপকথনে ফিক করে হেসে দিলো মেধা, পরক্ষনেই শ্বাশুরির দিকে নজর যেতেই চুপ করে গেলো। ছয়দিন ধরে আম্মু রাগ করে আছেন,, কখন না জানি বোম ব্লাস্ট হয় আল্লাহ মালুম। অর্পনা তো এখনো শ্বাশুড়ির রাগি রুপ দেখেনি, যখন দেখবে তখন হজম করতে পারবে কিনা সন্দেহ। অর্পনা ঠোট টিপে কিছু একটা ভেবে বললো — ওকেহ!! চিনতে হবে না, তুমি শুধু আইডির স্ক্রিনশট গুলো নিয়ে আমাকে সেন্ড করো।
,,,সবগুলো?

,,, পাই টু পাই,, আজ থেকে তোমার প্রধান কাজ হলো তোমার ভাইয়াকে নিয়ে যারা যারা পোস্ট করবে তাদের আইডির স্ক্রিনশট পাঠানো। এই কাজের জন্য তোমায় আমি ২০ টা সবুজ নোট দিবো। খুশি?
,,, পরশী ঠোঁট প্রসারিত করে হেসে অর্পনার গলা জড়িয়ে গালে শক্ত করে চুমু খেয়ে বললো — অন্নেক খুশি।
,,, নাক কুচকালো অর্পনা,, ভাই বোন সব এক,, কিছু হলেই জড়িয়ে ধরে চুমু খায়। পরশী অর্পনাকে ছেড়ে দিয়ে কাজে লেগে পরলো। অর্পনা রয়ে সয়ে সোফায় বসে পল্লবকে কল করলো,, ওপাশ থেকে কল ধরতেই বললো — পল্লব!! আমি তকে কয়েকটা আইডির স্ক্রিনশট পাঠাচ্ছি,, বিষয়টা ক্লিয়ার কর।

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৪৫

,,, অর্পনার কথায় ওপাশ থেকে প্রতিত্তোর আসার আগেই পরশি তাড়াহুড়ো করে বললো — ভাবি, উনি যেহেতু কাজটা করবেন,, আমি সরাসরি উনাকে স্ক্রিনশট পাঠিয়ে দেই? বলো আমায় এক্সেপ্ট করতে।
,,, পরশীর কথাটা পছন্দ হলো অর্পনার, তাই পল্লবকে বললো যেনো পরশীর ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট এক্সেপ্ট করে নেয়। পল্লব প্রথমে মানা করলেও পরবর্তীতে কাজের সূত্রে মেনে নিলো। পরশী তো মহা খুশি,, ভাগ্যিস সে ভাইয়া ভাবিকে মিলাতে কূটনামি করেছিলো। এখন রেগে মেগে হলেও ভাবি ভাইয়ার সাথে কথা বলবে আর এই সুযোগে পল্লব ও তাকে এক্সেপ্ট করে নিলো। আহ!! একেই বলে,, এক ঢিলে দুই পাখি মারা।

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৪৬ (২)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here