অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৬৮
Maha Aarat
রাতে ছাদের নিচে বসে আছেন আরহাম আর মাইমুনা। আকাশে চাঁদ ঝলমল করছে।হাওয়ায় একধরনের শান্তির ছোঁয়া।হাফসা ভেতরে ঘুমিয়ে।আরহাম ও মাইমুনা এক কাপ চা হাতে গল্প করছেন।
মাইমুনা একটু থেমে, নিচু স্বরে বললেন , ‘জানেন সেদিন হাফসার চোখে এক রকম আলো দেখলাম।এমন আলো, যা আমি হয়তো কখনো পাব না।’
‘হুম।কিন্তু হানি আপনি জানেন না, আপনার চোখেও আমি আলো দেখি।একটু অন্যরকম, কিন্তু অনেক গভীর।’
‘আমি খুশি ওর জন্য, সত্যিই খুশি।ও যে মা হতে চলেছে, সেটাই আমাদের জন্য আনেক বড় পাওয়া।কিন্তু… আমার ভেতরটা মাঝে মাঝে হাহাকার করে ওঠে।আমি তো মা হতে পারি না, আর সেটার দুঃখ চিরকাল বয়ে নিয়ে বেড়াবো।আমার এমন কেন লাগে শাহ?ও যে খুশিটা আপনাকে দিতে পেরেছে তা আমি কেন পারি না?’
বলেই ফুঁপিয়ে উঠলেন মাইমুনা।ভেতরে চেপে থাকা যন্ত্রণার পাহাড়,যেগুলো খুব সতর্কে হৃদয়ের গভীর থেকে গভীরে আড়াল করে রেখেছিলেন,সেগুলো হুট করে কোনো পূর্বাভাস ব্যতীতই যেনো জেগে উঠলো।সবকিছু,আর সবাই থেকেও যেনো এ মুহুর্তে নিজেকে খুব একা মনে হলো মাইমুনার।আরহাম যেনো সেই ব্যথা অনুভব করে নিলেন।আরহামের চোখ ভিজে এলো এক নীরব ব্যথায়।মাইমুনা স্ট্রং,কিন্তু তিনি যখন ভেঙে পড়েন,আরহামের হৃদয় যেনো ভেঙে যায়।আরহাম শক্ত আলিঙ্গনে বুকের গভীরে তাকে মিশিয়ে নিয়ে বললেন ,
‘কোন সাহসে এগুলো বলেন ,মাইমুনা?
মাইমুনা আপনি শুধু আমার স্ত্রী নন,আপনি আমার জীবনের সবচেয়ে মজবুত ভিত্তি।আপনি না থাকলে আমি এতদূর আসতেই পারতাম না।মা হওয়া একজন নারীর পরিচয়ের শেষ নয়।আপনি একাই একটা সংসার গুছিয়ে রেখেছিলেন,আমার সবটুকু ভালো-মন্দ ভাগ করে নিয়েছিলেন,আমার জন্য আপনি আমাদের সন্তানের মা, বন্ধু, প্রেয়সী-সব।
মাইমুনা জল ছলছল চোখে জিজ্ঞেস করলেন , ‘কিন্তু আপনি কি কখনো মনে মনে ভাবেন না, ইশ… যদি মাইমুনা মা হতে পারতো?’
আরহাম জোর দিয়ে বললেন , ‘না, কখনো না।আমি যা পাইনি, তার জন্য আপনাকে দায়ী ভাবার মতো ছোট মানুষ আমি নই।আর মাইমুনা, সন্তান তো আমাদের—কে গর্ভে বহন করলো সেটা মুখ্য নয়।উমায়েরের ভেতরে যে প্রাণ আসছে, ও আমার যেমন,আপনারও তেমন।আপনি কি ভাবেন ,আমি আপনাকে ছাড়া ওর শৈশব কল্পনাও করতে পারি?’
মাইমুনা একটু হাসেন,ব্যথার হাসি।বললেন , ‘আপনি এভাবে বললে আমার বুক হালকা লাগে।আমি সবসময় দোয়া করবো—এই ছোট্ট প্রাণটা যেন আমাদের জীবনে আরও শান্তি আর আনন্দ বয়ে আনে।’
আরহাম উনার হাত ধরে ভালোবাসার স্পর্শ এঁকে বলেন, ‘মাইমুনা, আপনার কোলে আমি হাজারটা সন্তানের ভালোবাসা খুঁজে পাই।আপনি আমার জীবনের প্রার্থিত সুখ।উনার শরীরে যে অতিথি এসেছে, ও আমাদের সন্তান। আপনিও ওর ‘মা মাইমুনা’, এটা আমি আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছি।’
মাইমুনা নিজেকে সামলে নেওয়ার চেষ্টায় বললেন , ‘আমি ওকে মায়ের মতোই ভালোবাসব, ঠিক মায়ের মতো।’
‘আমি জানি।আমি সবসময় আপনার পাশে থাকব। দুঃখ–হোক তা নিঃসন্তানের, কিংবা জীবনের অন্য কোনো ব্যথা–আপনার একাকীত্ব আমি কখনো হতে দেব না।’
মাইমুনা তৃপ্তির হাসলেন।বললেন , ‘এমন ভালোবাসা সব নারীর ভাগ্যে জোটে না।হ্যাঁ, আমি মা না, কিন্তু আজ বুঝি—ভালোবাসার এমন বিশুদ্ধ রূপ থাকলে, বাকি সব ধরা যায়।’
‘আপনি আমার হৃদয়ের পরিচালক।আমি আপনার ভালোবাসায় বড় হচ্ছি প্রতিদিন।সেই নতুন প্রাণটাও আপনার ছায়ায় বড় হবে।’
‘আপনি যতক্ষণ আমার কাছে থাকেন,আমাকে আগলে রাখেন,আমার দূ:খ লাগে না শাহ।আপনি আমার সবচেয়ে দামী নিয়ামত!’
একটা গোটা রজনী কেটে গেলো নীরব ব্যথার উপশম; শক্ত আলিঙ্গনে।একসময় মাইমুনার ঘুমে কাতর চোখজোড়া বুজে এলো।তাকে ঘুম পাড়িয়ে দিতে গিয়ে আরহাম কেঁদে ফেললেন।সে রাতে খুব করে বর্ষন হলো উনার নীরব দূই চোখে।আরহামের মনে হলো,প্রতি ফোঁটা অশ্রু উনার ভারী ওজনের দূ:খগুলোকে বের করে ফেলে দিচ্ছে।উনার কাঁদতে মন চাইলো খুব।উনার ফুলকে বুকে রেখে অন্ধকারে লুকানো সব অশ্রু মুক্ত করে দিলেন।
চারদিন বাদেই ঈদ।শহরজুড়ে উৎসবের আমেজ।অথচ মুমিনের হৃদয় কাঁদছে রামাদ্বানের বিদায়ে।মনে কেবল উঁকি মারছে সেই চিরন্তন প্রশ্ন,আগামী রামাদ্বান কি পাওয়া হবে আর?
সকালে রেডি হচ্ছেন মাহের।আইরা উঠতে দেরী করলো না।ঝটপট উঠে সবকিছু গুছিয়ে দিলো।দূজনের মধ্যে কোনো কথা নেই।নিয়ম করে সবকিছুই হচ্ছে,শুধু চাইলেও ঠিক করে নেওয়া যাচ্ছে না সম্পর্ক।মাহের নিজেই ক্লান্ত ,যতবার তিনি মনে করেন সব ভ্রান্তিগুলো কুড়িয়ে নিয়ে সব বিষাদের অবসান হোক,ততবারই কোনো না কোনো অজুহাতে এক দ্বিধার দেয়াল চলে আসে দূজনের মধ্যে।রেডি হতে হতে বিছানার কোণায় চুপচাপ বসে থাকা আইরাকে দেখছিলেন তিনি।তার মন খারাপ দেখলেই মনে হয়,কিছু একটা নেই,কিছু একটা নেই।তাঁর নীরবতায় বাসাটা কেমন নির্জীব হয়ে আসে।তাঁর চঞ্চলতা আর ছটফটানি গুটিয়ে গেলেই মনে হয় যেনো ভেতরটা হাসফাঁস লাগছে।
আইরা দূহাত কচলাতে থাকে।পুতুলের মতো দূহাত একত্রিত করে মুকের সামনে ধরে রেখেছে।তাঁর ভয় করছে।কিন্তু কথাটা বলা জরুরী।লাস্ট কয়দিনে উনার রাগ সম্পর্কে যথেষ্ট জেনেছে সে।এরপর থেকে অজানা কোনো শঙ্কায় দূরত্ব বেড়েছে অনেক।
‘কিছু বলবে?’
গুরুগম্ভীর গলায় আঁতকে উঠে সে।তাঁর ডান হাতটা কাঁপতে থাকে খানিক।জোর গলায় বলতে চাইলো, ‘না।’কিন্তু মনে হলো কথা বের হচ্ছে না কন্ঠনালি থেকে।
ইশারায় না বোধক মাথ নাড়িয়ে আবারও পূর্বের ভঙ্গিতে বসে রইলো সে।একটু পরেই তিনি বেরিয়ে যাবেন।কথাটা বলা হবে না আর।সরাসরি তো ভয়,টেক্সটে কীবোর্ড চাপতেও তাঁর ভয় হয় আজকাল।মেসেজ সীন করে রাখলেও তাঁর ভয় হয়।সীন না করলেও ভয় হয়,ছোট ছোট উত্তর দিলেও তাঁর ভয় হয়।
মাহের প্রস্তুত হলেন বেরিয়ে যেতে।দরজা পর্যন্ত আগানোর জন্য আইরা উঠে দাঁড়ালো।তাঁর ভেতরের কথাটা ভেতরেই থেকে যাবে।আব্বুকে কি জবাব দিবে সে,খুব করে ভাবছিলো।একটা মানুষকে এতো ভয় পাওয়ার কি?নিজেকে প্রশ্ন করে নিজেই আশাহত হয় সে।
মাহের বেরোনোর আগে একপলক তাকালেন।দেখলেন সে ভ্রু জোড়া কুঁচকে আছে।বিরক্তিতে নয়,যেনো কোনো ব্যথায়,বাচ্চাদের মতো।এই সরল দৃষ্টিতেই যেনো আটকান মাহের।তিনি আর এগোলেন না।রুমে নিয়ে এসে তাকে জিজ্ঞেস করলেন , ‘তোমার কি হয়েছে?’
আগের মতোই বোবা উত্তর তাঁর।
‘আমাকে ভয় পাচ্ছো?’
তাঁর চোখেই যেনো এর উত্তর।তবুও দ্রুত না বোধক মাথা নাড়ালো সে।মাহের দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।এই মেয়ের বুক ফাঁটবে তবু মুখ ফুটবে না।তাকে বিছানায় বসিয়ে হাঁটু গেঁড়ে মুখোমুখি বসে বললেন, ‘আমি বুঝতে পারছি,আমাকে ভয় পাও।আচ্ছা আমি যখন রেগে যাই,তখন তোমাকে ইগনোর করি,তোমার সামনে থেকে চলে যাই।কেন বুঝতে পারো না?আমি তোমার সাথে না কোনো রুড বিহ্যাভ করে ফেলি,লাউডলি কথা বলি ,এজন্য তোমার সামনে থেকে চলে যাই।আই এম সরী!আই এম সরী এগেইন।’
একটু স্বস্তি হলো আইরার।ভয়ের পারদ এক ধাক্কায়ই নিচে নেমে এলো খানিকটা।তাঁর বুকে খোদাই করা প্রশ্নটা এখন করে ফেলবে।যন্ত্রণায় কাঁতরানোর চাইতে একটু ঝাড়ি খাওয়া খারাপ কিছু হবে না নিশ্চয়ই।
‘ওইদিন কে গিফট দিয়েছে?উনি আপনার কাছের কেউ আমি জানি।আমার কাছ থেকে লুকিয়ে আমাকে এতো কষ্ট দিচ্ছেন কেন?প্লিজ আপনার উত্তর যেন ‘হ্যাঁ’ না হয়।আমি মরেই যাবো।আমি নিজেকে বুঝাতেই পারবো না।কিছুতেই পারবো না।’
তাঁর চোখে কান্নার ঢেউ।অশ্রুর অনর্গল ফোঁটা মেঝে ছুঁইছে।মাহের নি:শব্দে তাকিয়ে রইলেন।
মাহেরের নীরবতায়’ই যেনো সম্মতির আভাস।ভেবে কান্নার বেগ আরও বাড়লো তাঁর।দূহাতে মুখ চেপে ধরলো সে।প্রিয়জন হারানোর ভয় বুঝি এতো ভয়ানক হয়!
একসময় মুখ খুললেন মাহের।উত্তর দিলেন, ‘তুমি আর এই পরিবার ছাড়া আমার আপন কেউ নেই।কেউ নেই।’
আইরা ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে বলল, ‘কিন্তু আমি অতিরিক্ত চিন্তা করি!’
তাঁর গ্রীবায় হাত রাখলেন মাহের।দূহাতের আজলায় মুখ নিয়ে কেবল বললেন, ‘আমি অতিরিক্ত ব্যখ্যা করবো।’
মাহের নিশ্চিন্ত হলেন তাকে হাসতে দেখে।মনে হলো যেনো বুকের ওপর থেকে ভারী কিছু সরে গেলো।সে মিনমিনে স্বরে বলল, ‘আপনি সবসময় এরকম থাকেন না কেন?’
‘কীরকম?এরকম অফিশিয়াল গেট আপে?’
আইরা মাথা চাপড়ায়।মাঝে মাঝে এই লোকটাকে একটু রোমান্টিক ভেবে সেরা ভুলটা করে বসে সে।
‘আব্বুর বাসায় দাওয়াত।আজকে আমরা যাবো,আর কালকে তারা আসবেন।’
‘কিহ?’
মাহেরের স্বর যেনো পাল্টে গেলো মুহুর্তেই।আইরা শুকনো ঢুক গিলে বলে, ‘রেগে যাচ্ছেন কেন?’
‘হুটহাট এমন বললেই হয়?’
‘কেন হবে না?’
‘প্রস্তুতির একটা ব্যাপার আছে।’
‘কেমন প্রস্তুতি?’
‘ঈদের পরে তুমি যেয়ো।কালকে তাদের আসতে বলো।’
‘উহু।আব্বু বলেছেন।উনারা আপনাকে ফোনও করেছেন আপনি ব্যাক করেন নি।আর শুনুন?’
‘হু?’
‘বাচ্চাদের একটা দুলনা আনা যাবে?’
‘হুয়াই?’
‘বাসায় নিবো।’
‘কার জন্য?’-আশ্চর্য্য হলেন মাহের।
‘আপুর বাবুর জন্য।’
মাহের কি উত্তর দিবেন ভেবে পেলেন না।এক গ্রামেরও কম একটা ভ্রূণ,যে এখনো পৃথিবীতে আসার কোনো নামই নেই তাঁর জন্য এখন থেকেই তাঁর এতো প্রস্তুতি?’
যাওয়ালের নামাজ আদায় করেছেন দূজনে।নামাজ শেষ করে উঠে জায়নামাজ হাতে দাঁড়িয়ে আছে হাফসা।আরহামও তাঁর চোখের মায়ায় ডুবে হাবুডুবু খাচ্ছেন এমন সময় ,
‘আপনি কি আজ যাবেন?’
উনার মুখবিকৃত হলো সাথে সাথে।সকাল থেকেই তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন যাওয়ার।কিন্তু কেন যেনো যেতে পারছেন না।ঘড়িতে সময় দূপুর।গোমড়া মুখে বললেন, ‘আমি কি যাব?’
‘আপনি জানেন।’
‘আপনি বলুন।’
‘যেতেই হবে?’
‘যেতে হবে।কিন্তু আমার ইচ্ছে করছে না।’
‘তাহলে যান।গিয়ে তাড়াতাড়ি চলে আসবেন,কেমন?’
গাল ফুলান আরহাম।তাঁর ওরনার কোণ আঙ্গুলে প্যাঁচাতে প্যাঁচাতে একসময় খুশিখুশি কন্ঠে বলে বলেন, ‘আগামী ঈদুল ফিতরে আমরা তিনজন থাকবো,উমায়ের?’
হাফসা দেখলো,উনার চোখেমুখে উচ্ছ্বাস,কন্ঠে কি আকুলতা।চোখ নামিয়ে সে উত্তর দিলো, ইন শা আল্লাহ।’
আরহাম আরও কিছু বলতে যাচ্ছিলেন কিন্তু হাফসাকে দেখে বুঝলেন,সে অপেক্ষা করছে।
প্রসঙ্গ পাল্টে ফোন ওয়ালেট পকেটে পুরে নিয়ে বললেন , ‘আমি যাচ্ছি।কিন্তু আধাঘন্টা থেকেই চলে আসবো।’
হাফসা মুচকি হেসে মাথা নাড়ালো।তাঁর মন চাইছে,লোকটা জোর দিয়ে বলতে, ‘আমাকে আজ না গেলেও হবে’।সকাল থেকেই লোকটার পাগলামি বেশ উপভোগ করছিলো সে।এখন তিনি চলে গেলে নিশ্চয়ই খুব খারাপ লাগবে তাঁর।
‘আজকে আপনাকে একটু বেশীই মায়া লাগছে উমায়ের! কয়েকটা শুকনো চুমু খাই?
তাঁর গাল লাল হয়ে গেলো মুহুর্তেই।আরহাম বেরিয়ে যাওয়ার আগে আরেকবার স্মরন করিয়ে দিলেন, সে যেনো নিজের যত্ন নেয়।বাসায় ফিরে নতুন মেহমানের থেকে কোনো অভিযোগ পেলে তিনি কঠিন শাস্তি দিবেন।
ঘরের ভেতর, রাতের শেষ প্রহর, তাহাজ্জুদের পর দুজনেই শান্ত চিত্তে বসে আছেন।হাফসার কোলে মাথা রেখে তার হাত বুকে জড়িয়ে আছেন আরহাম।
হাফসা একসময় নরম গলায় বলল, ‘আমার এটা গোপন দোয়া ছিল এই রামাদ্বানে।কিন্তু সেটা এতো তাড়াতাড়ি পূর্ণ হয়ে যাবে,আমি কল্পনাও করিনি।আলহামদুলিল্লাহ! ‘
আরহাম মুচকি হেসে বললেন ,’আলহামদুলিল্লাহ।আমাদের জন্য এটাই তো সবচেয়ে বড় আমানত এখন। আল্লাহ আমাদের সন্তানকে সলিহ বানান,নেক বানান।’
‘আমিন।’
‘আপনি এখন থেকে জোরে তিলাওয়াত করবেন।যাতে সে শুনতে পায়।ছোটবেলা থেকেই যেন সে আল্লাহর কথা ভালোবাসে।’
‘জ্বি।আর এমন নাম রাখব যার মাঝে থাকবে দোয়া, বারাকাহ, আর ইসলামি পরিচয়।আর ছোটবেলা থেকেই আমরা তাকে নামাজ, ধৈর্য আর কৃতজ্ঞতা শিখাবো।’
আরহামের আগ্রহ এবার বাড়লো যেনো।তিনি উঠে বসে বলতে লাগলেন , ‘আমি চাই তার খাওয়া-দাওয়া, ঘুম, খেলা—সব কিছুতেই যেন সুন্নাহর আদর্শ থাকে।একদম ছোটবেলা থেকেই যেন আমাদের সন্তান বুঝে, সে শুধু দুনিয়ার জন্য আসেনি, আখিরাতের জন্যও।আমি নিজেও চেষ্টা করব যেন ওর জন্য একজন আদর্শ বাবা হতে পারি।আপনার সাথেও যেন সুন্দর ব্যবহার করি, যেন আমাদের ভালোবাসা থেকেই সে শিখে যায় কীভাবে একটা আদর্শ পরিবার হয়!
অতপর তাঁর হাতের পিঠে চুমু খেয়ে বললেন ,’আর আমি চেষ্টায় থাকব যেন আপনার খেয়াল রাখি।আপনার এই সময়টা কষ্টের হলেও, আমি সবসময় আপনার পাশে থাকবো ইন শা আল্লাহ।আমি চাই আমাদের ঘরে যেন সবসময় আল্লাহর কথা,তাওয়াক্কুল ও প্রশান্তি থাকে।আর আপনি তো আমার চক্ষু শীতলকারনী!’
‘আমাদের ঘরটা যেন ছোট্ট জান্নাত হয়। দোয়া করি, আল্লাহ আমাদের এই নেক নিয়তগুলো কবুল করুন।
শেষে দুজনে একসাথে দোয়া করলেন,
উভয়ে:
“রব্বানা হাব লানা মিন্ আযওয়াজিনা ওয়াযুরিয়্যাতিনা কুররাতা আইয়িনিউ ওয়াজআল্না লিলমুত্তাকিনা ইমামা।”
(“হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের আমাদের চোখের শীতলতা দান করুন, এবং আমাদের মুত্তাকিদের জন্য আদর্শ বানান।”)
অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৬৭
পরদিন সকাল।খুব সকাল।আলো ফোটার পরপরই চোখের সামনে আসে ব্যথিত ,অনাকাঙ্খিত কিছু মুহুর্ত।বাসার পরিবেশ থমথমে,একেকজন একেক স্থানে।আহনাফ তাজওয়ার পুত্রের কাছে ক্ষমা চাইবেন না পরিস্থিতি সামাল দিবেন কিছুই বুঝতে পারছেন না!
আরহাম! কঠিন মুখভঙ্গি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।অথচউনার হৃদপিন্ড রীতিমতো কাঁপছে।প্রিয়তমাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পরিস্থিতি যতই কাটাতে চেয়েছেন সেগুলো যেনো আরও সম্মুখে এসে পড়েছে।আরহাম এই মুহুর্তে খুব করে চাইলেন, সবকিছুর একটা অন্তিম সমাধান যেনো হয়ে যায়!
