অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৭
Maha Aarat
চলন্ত সময়গুলোকে কোনো কঠিন যাদু বা শক্ত শিকল দিয়েও আটকে রাখা যায় না।নদীর বাঁধ ভাঙ্গা ঢেউয়ের মতো বয়ে চলছে আমরণ।সময়ের সাথে যেমন প্রকৃতি বদলায় তেমনি বদলায় আমাদের চিন্তা, রুচি, কাজ।পেরিয়েছে সপ্তাহখানেক।যে যার জায়গায় নিজেদের মতো ব্যস্ত।কিন্তু মাহেরের ব্যস্ততা যেনো একটু বেশিই।তাকে ছুটছে হচ্ছে বড় কিছু দায়িত্ব মাথায় নিয়ে।হাফসাকে এবার তিনি বিয়ের প্রেশার দিবেন না বলে আস্থা দিলেও আড়ালে আবডালে দূ-একটা বায়োডাটা খুঁটিয়ে দেখছেন।যতোই হোক, দিনশেষে এই বড়ো দায়িত্বের দুশ্চিন্তা মাহেরের পিছু ছাড়ে না।তবে এই সপ্তাহটা মাহেরের চরম ব্যস্ততা নিয়ে কেটেছে।ফার্মগেটের এই জায়গাটা সামাদ মুসতাকিনসহ সহ কিছু দূষ্টু লোকের কুদৃষ্টিতে পড়েছে।জায়গাটা এখনো পুরোপুরি মাহেরের হাতে না।বাবা থাকলে হয়তো সামলে নিতেন তবে বায়োলজি ছেড়ে এখন জায়গাজমির বিষয় সমাধান করতে মাহের যেনো হাঁপিয়ে উঠছেন।এই সপ্তাহ অফিস থেকে ছুটি নিয়ে তাকে বারবার ছুটতে হয়েছে ভূমিঅফিসে।সরকারী চাকরিজীবীদের অলসতায় আর খামখেয়ালিতে বিষয়টা এতদিন ঝুলিয়ে থাকলেও এখন একটা সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত তাঁরা।বিষয়টা নিয়ে তারা কাজ করছে বললেও তাদের পকেট গরমের শর্তজুড়া আছে।আজকে একজন উইটনেস নিয়ে তাকে উপস্থিত হতে হবে।উইটনেস বলতে মাহের শুধু চাচা আহমাদকেই বুঝেন কিন্তু উনার অসুস্থতা বেড়েছে বেশ।যেকোনো সময় বিশেষ প্রয়োজনে ডাকলেও তিনি উপস্থিত হতে ব্যর্থ হবেন।তাই মাহের আরহামকেই বেছে নিয়েছেন ব্যক্তিগত সাক্ষী হিসেবে।উনার তো আর বিশ্বস্ত কেউ নেই।চারিদিকে শুধু বিষাক্ত কীট।
ঘড়িতে ১০ টার কাটা পেরিয়েছে মিনিট দশেক আগেই।আরহাম একটু পরপর মাহেরের নাম্বারে কল দিচ্ছেন।কিন্তু ফোনের ফিমেল সুরে বারবার বিরক্ত হচ্ছেন, ‘ডায়ালকৃত নাম্বারে এই মুহুর্তে সংযোগ প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না।’আরহাম স্থির হয়ে বসে আছেন।মাহের অহেতুক কোনো কারনে জরুরী তলব করে না।কাল রাত একটার সময় সে সে খুব সিরিয়াস হয়ে বলছিলো, ‘আরহাম তোমাকে ছাড়া আমার চলবে না।যেকোনো ভাবে ১০ টায় তুমি আমার বাড়িতে থাকবে।’
আরহাম ক্লান্ত দৃষ্টিতে বাড়ির গেটের দিকে তাকালেন
গেট থেকে বেশ দূরেই গাড়ি পার্ক করেছেন তিনি।ভেতরে যেতে মোটেও ইচ্ছে করছে না।ইচ্ছে করছে না বা অজানা কোনো ভয়ে যাচ্ছেন না।এই বাড়িতে এমন কিছু আছে যেটা বারবার উনাকে দূর্বল করে দেয়।
আরহাম সাতপাঁচ ভাবনা একসাইডে রেখে চাবিটা খুললেন।বাড়িতে প্রবেশের আগ আরেকটা বার ভাবলেন, যাওয়াটা কি ঠিক হবে?
মাহের চোখেমুখে চরম বিরক্তি নিয়ে একটার কর একটা ফাইল ঘেটে যাচ্ছেন।পাশে চায়ের মগটা ঠান্ডা হয়ে পড়ে আছে।মাহেরর রাগ যেনো সেকেন্ডের গতিতে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।
আরহাম দরজায় নক করতেই মাহের দৃষ্টি তুললেন।কেবল উত্তর দিলেন, ‘আসো।’
আরহাম কিছু প্রশ্ন করার আগেই মাহের বলতে শুরু করলেন, ‘আমার ডাক্তারি নিয়ে না পড়ে লো নিয়ে পড়া উচিত ছিলো।সরকারের লোকগুলো আমাকে নাকে দঁড়ি দিয়ে নাচাচ্ছে।একেকদিন একেক ফরমায়েশ।’
‘এখন কি হয়েছে?’
‘ফাইলগুলো তো সব নিলাজ।পরে যদি কিছু মিসিং হয়ে এই ভেবে চেক করতে গিয়ে সব আবার অগোছালো হয়ে গেছে।’
‘মাথা ঠান্ডা করো।তুমি রেডি হয়ে আসো।যেতে যেতে গুছিয়ে নিবে।দেরি হয়ে যাচ্ছে।’
‘আচ্ছা।তুমি বসো।খাবার দিতে বলি আ….
‘না।আমি বসবো না।তুমি আসো।আমি বাইরে আছি।’
‘আরে বসো।হাফসাকে খাবার দিতে বলছি।’
‘না মাহের প্লিজ।আমি যাচ্ছি তুমি আসো।’
গাড়িতে বসে আরহাম মনোযোগ দিয়ে মাহেরের দিকে তাকালেন।টাই এর নব ঝুলে আছে,শার্টের একহাত গোটানো।শার্টের ইন ঠিক নেই।ব্লেজারের একহাত পড়া,অন্যহাত গুটিয়ে রাখা।আরহাম নীরবে হেসে বললেন, ‘তুমি এত পেরেশান হচ্ছো কেন?’
‘একটুর জন্য হারাতে বসছি।পেরেশান হবো না?এই জায়গায় অল্ড হোম করা বাবার স্বপ্ন।’
‘ওহ আচ্ছা।’
মাহের কাগজে চোখ বুলাতে ব্যস্ত।আরহাম ইতিমধ্যে ড্রাইভ করে বাড়ি থেকে বেশ দূরে চলে আসছেন।আচমকা মাহের বলে উঠলেন, ‘ব্রেইক করো।’
আরহাম থেমে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কেন?’
মাহের শক্তস্বরে নিজে নিজেকেই বললেন, ‘শীট।একটা ফাইল বাড়িতে থেকে গেছে।’
‘আচ্ছা।’
আরহাম আবারো বাড়ির দিকে ফিরলেন।এসে বললেন, ‘কোন ফাইল?’
‘ব্লু কালার।চোখের সামনেই ছিলো।টেনশনে আমি অন্ধ হয়ে যাচ্ছি?’
‘আচ্ছা কুল।এত হাইপার হয়ো না।মেন্টালি এত ডিপ্রেসড হলে পরের জটিল বিষয়গুলো সামলাবে কি করে।’
মাহের ক্লান্তস্বরে বললেন, ‘আই কান্ট টেইক মোউর।’
‘বি প্যাশেন।এভরিথিং উইল বি ওকে ইন শা আল্লাহ।কোথায় রাখা বলো আমি নিয়ে আসছি।’
আরহাম ফাইল নিয়ে ব্যস্তদৃষ্টিতে যখন বেরোবেন তখনি ভেতর ঘরে ধপাস করে আওয়াজ হয়।আরহাম চমকে পিছু ফিরলেন।তখুনি কানে ভাসলো মৃদু আর্তনাদ।আরহামের অবচেতন মন বলে উঠলো, ‘ভেতরে হয়তো কোনো বিপদ হয়েছে।’পরক্ষণেই এসব চিন্তা বাদ দিয়ে যাওয়ার জন্য উদ্যত হলেন।
রিযাল শার্টের হাতা গুটিয়ে ব্যাথাধরা কন্ঠে বলল, ‘তোমার সাথে দেখা করতে গিয়ে দেখো হাত ছিঁলেছে কীভাবে।যাক ছাদের দরজাটা সটকে ফেলা স্বার্থক।’
হাফসার মুখ ওরনায় ঢাকা।ভীতু একজোড়া চোখ দিয়ে সে দেখছে সামনে থাকা মানুষটাকে।ওর হাতজোড়া চিপকে ধরে আছে হিজাবের অংশ।হাতের মুঠো কাঁপার কারনে দূর্বল হয়ে যাচ্ছে।ভয়ে আর আড়ষ্টতায় মৃদুমৃদু আর্তনাদ করে উঠছে সে।
রিযাল একগাল হেসে বলল, ‘আমাদের কাজিনের মধ্যে তুমি এত সুন্দর হয়ে গেলে কীভাবে বলো তো?কিন্তু এলাস,আমি তোমাকে দেখিনি পর্যন্ত।ওইদিন কেন আমাকে ভয় পেয়ে পালিয়েছিলে হুম?যাক গে মুখ থেকে কাপড়টা সরাও হাফসা তোমাকে একটু দেখি।’
সে ক্রুর হাসতে হাসতে কেবল এগিয়ে আসছিলো।হাফসাকে সে হয়তো আরও কিছু বলতে যাচ্ছিলো অমনিই আচমকা পায়ের চলন থেমে যায়।গালে তীব্র জ্বলা অনুভূত হতেই রিযাল আগুনচোখে তাকায়।সামনে থাকা শুভ্র পোষাকের শুভ্র মানুষটাকে তাকে যমের মতো লাগে।কিন্তু এই মুহুর্তে তার ভয় লাগছে।এখন কি হবে?
আরহাম রক্তচক্ষু নিয়ে তাকিয়ে আছেন।রাগে উনার শরীর কাঁপছে।চোখের মণিতে যেনো আগুনের লাভা ছোটাছুটি করছে।আরহাম শক্তহাতে খপ করে রিযালের কলার ধরলেন।দাঁতে দাঁত চেপে বললেন, উনি না তোমার বোন হয়।বোনের দিকে এমন দৃষ্টি?’
আচমকা আক্রমনে রিযাল থতমত খেয়ে গেলো।আরহামকে সে দূর থেকে চিনে।যদি মাহের ভাই জানতে পারেন তবে তাঁর কুরবান হয়ে যাবে।ভয়ে রিযালের গলা শুকিয়ে কাঠ।
রিযালও সমানতালে আরহামের হাত ছাড়ানোর চেষ্ঠা অব্যাহত রেখে বলল, ‘আমাকে যেতে দিন।’
‘এখনি যাওয়ার দরকার নেই।কিছুক্ষণ থাকো রেস্ট করো।মাহের তুমাকে একটু আপ্যায়ন করিয়ে দিবে।’
বলেই রিযালকে অপ্রস্তুত ভঙ্গিতে দেয়ালে চেপে ধরলেন সমস্ত জোর দিয়ে।রিযাল নিজেও শক্তিমান ছেলে কিন্তু আরহামের অপ্রস্তত আক্রমনে সে তাল মিলাতে পারছে না। আরহাম তাঁর আঙ্গুলের ভাঁজগুলো ভেঙে গুজে রুমাল দিয়ে গিট্টু দিলেন।রিযাল চেঁচিয়ে উঠলো ব্যথায়।আরহামকে সে পা দিয়ে আঘাত করতে চাইলে আরহাম জুতোর শক্ত পিচ দিয়ে চেপে ধরলেন ওর পা।
ছাড়া পেতেই রিযাল বাঁধা হাত নিয়ে ছুটতে লাগলো।আরহাম মাহেরের টিশার্ট খুঁজে খপ করে ধরলেন তাকে।মুখ বেঁধে দিয়ে কলার ধরে নিয়ে গেলেন ছাদে চিলেকোঠার ঘরে।পিলারের সাথে বেঁধে ক্লান্ত একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন, ‘মাহেরকে আমি নিজেও ভয় করি।ও যখন তোমার এমন দূ:সাহসের কথা জানবে তখন কি যে করবে আমি নিজেও সেটা ভাবতে পারছি না।’
রিযাল মুখ দিয়ে উমম উমমম শব্দ করছে।ছোটাছুটি করছে ছাড়া পেতে।সামনে থাকা সুদর্শন লোককে তাঁর ভয় করছে।কত শান্ত উনার কন্ঠ,কিন্তু চোখে যেনো জ্বলন্ত আগুন দাউদাউ করছে।
আরহাম ফিরে এলেন ঘরে।না চাইতেও হাফসার দিকে একবার তাকিয়েই দৃষ্টি সরিয়ে ফেললেন। বুকের ভেতর যেনো বিদ্যুতের বিজলী খেলে গেলো।হাফসার অস্বাভাবিক কাঁপুনি আর ভয় বুঝে ওয়াটার পট থেকে এক গ্লাস পানি ঢেলে পাশের টেবিলে রেখে আসার সময় বললেন, ‘দরজা টা লাগিয়ে নিলে ভালো হয়।’
বেরিয়ে আসার সময় দেখলেন শাপলা খালাকে।আরহাম তাঁর পরিচয় জানেন।বললেন, ‘আজকে সারাদিন কড়াভাবে ভেতরের মানুষের খেয়াল রাখতে বলেছে মাহের।’
শাপলাখালা ভীতদৃষ্টিতে মাথা ঝাঁকিয়ে ভেতরে চলে গেলেন।মাহেরের রাগ তিনি জানেন।আর এই লোকটাও মাহেরের বন্ধু।মাহেরের মতোই রক্তিমান পুরুষ।এদের আদেশ ফেলা যায়?
আরহামকে ডাক শুনে ঘুমে জড়ানো চোখখানা তরাক করে খুলে ফেললেন মাহের।আরহাম গাড়ি স্টার্ট দিতে দিতে শান্তসুরে বললেন, ‘রাতে ঘুমাও না নাকি?’
‘ঘুম হয়নি।তুমি কখন এসেছো?’
‘এইতো।’
মাহের আর প্রশ্ন করলেন না।উনার গরম মাথা একটু শান্ত হয়েছে।এবার ঠান্ডা মাথায় বাকি কাজগুলো সারতে হবে।
আইরা একেকবার একেক বইগুলো হাতে নিচ্ছে তো বইয়ের শক্ত মলাটে চুমু খাচ্ছে।খুশিতে তাঁর পাগল হওয়ার জোগাড়।মনের ভয়ডর সাথে ভাইয়ের ভয় ভুলে সে বইগুলো অনলাইনে অর্ডার দিয়েই দিচ্ছিলো।কিন্তু দূর্ভাগ্যবশত বইগুলো এসেছে আজ সকালে।যখন আরহাম ব্রেকফার্স্ট সেরে একটু হাঁটতে বের হয়েছিলেন।পার্সেলগুলো আরহামের নামেই এসেছে।ডেলিভারি ম্যান যখন তাকে বইগুলো নিতে বলল তখন সে আরহাম হয়ে উত্তর দিলো, ‘আপনি বাসার পাশে চায়ের দোকানে বসে দশ কাপ চা খান।আমি একটু ব্যস্ত।আধঘন্টা পরে নিজেই এসে নিচ্ছি।প্রতি সেকেন্ডের পাওনা পেয়ে যাবেন।’
ডেলিভারি ম্যান যেনো সারাদিনের আগাম ব্যস্ততার কবল থেকে বাঁচতে মেনে নিলো এমন শর্ত।আইরা নিজেই ভাইয়ের জুব্বা পাগড়ি এগিয়ে পাঁচিয়ে দিয়ে তাঁর যম ভাইকে বিদেয় করেই সার্ভেন্ট দিয়ে বইগুলো আনিয়েছিলো সাথে এমন কন্ডিনশের পাওয়াও দিয়েছিল।
সে বইগুলো লুকিয়ে রাখলো আলমারির গোপন তাকে,কয়েকটা বিছানার ম্যাটের নিচে,কোনোটা বা জুয়েলারির বাক্সের ভেতরে।তবুও তাঁর চিন্তা হচ্ছে।ঘর গোছাতে এসে আম্মু যদি দেখে ফেলেন তাঁর রত্নগুলো, তাহলে ভাইয়ের কান পর্যন্ত পৌঁছতে সময় লাগবে না।খুব অস্থিরতায় সে সারাটা দিন পার করলো।অবশেষে সে বইগুলো বালিশের কুশনের মাঝখানে রেখে নিশ্চিন্ত হয়ে লম্বা ঘুম দিলো।
এশা আহত হয়ে ফিরে যায় আজও।লোকটা বেশ কিছুদিন থেকে ডিউটিতে আসছেনও না।এমনকি উনার ফোনও সুইচড অফ।নিশ্চয়ই সিম বদলে ফেলেছেন।রিসিপশনে অমির ব্যস্ত দৃষ্টি পড়ে এশার দিকে।তাকে দেখে তারও মন খারাপ হয়।এমন ঝগড়ুটে একটা বড় বোন তারও ছিলো।বোনটা প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছে কয়েক বছর হলো।বোনের সাথে আর চুল ছেড়ার মতো ঝগড়া হয় না।সময়ে অসময়ে তাকে জ্বালাতন করা যায় না।দূ:খের কথাগুলো সে মন খুলে শেয়ার করার মতো বোনকে আর কাছে পায় না।
এশার প্রশ্নে ধ্যান ভাঙ্গে অমির।এশা আবার জিজ্ঞেস করলো, ‘মাহের আসেন না কেন?’
অমি ইচ্ছে করেই ত্যাড়া প্রশ্ন করলো, ‘মাহের কে?’
এশা ভেতরের রাগ চেপে নরমসুরে টেনে টেনে বলল, ‘ডক্টর মাহের মুসতাকিম আসছেন না কেন?’
অমি ভাবলেশহীন বলল, ‘সত্যি বলতে কারনটা আমি নিজেও জানিনা ম্যাম।ছুটি নেওয়ার আগের দিন শুধু বলেছিলেন, উনার একটা বিয়ে করার প্রয়োজন অনুভব করছেন তিনি।ব্যস আর কিছু জানা নেই আমার।’
‘হুয়াট?মাহের বিয়ে করবেন?কাকে?’
‘ডক্টর মাহের আমার বন্ধু নয় যে এমন সেনসিটিভ বিষয় আমার সাথে শেয়ার করবেন।তিনি আমার স্যার।’
এশা কি ভেবে দ্রুত বেরিয়ে গেলো হসপিটাল থেকে।
বিকেলের মিইয়ে যাওয়া আলো পড়েছে সরু রাস্তায়।বাঁশঝাড় সহ গাছের ছায়াগুলো যেনো মাটির সাথে মিশে গিয়েছে।রোদ্রের তেজ কমে গেছে তুলনায়।কিন্তু মাহেরের রাগের তেজ কমছে না।বাড়ির রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে আরহাম শান্তভঙ্গিতে আজকের সকালের এই ইন্সিডেন্ট টা সম্পর্কে যখন মাহেরকে বললেন আরহামের মনে হলো এই মুহুর্তে সে রিযালকে পেলে একদম খুন করে ফেলবে।
মাহের জিজ্ঞেস করলেন, ‘এটা তুমি আমাকে আগে কেন বলো নি?’
‘তোমার এমনিতেই মাথা গরম ছিলো।তখন বললে কিছু একটা এক্সিডেন্ট ঘটিয়ে ফেলতে।’
অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৬
মাহের আর কোনো উত্তর দিলেন না।এমনকি উত্ত্বপ্ত মস্তিষ্কে আজ আরহামকে বাড়ির ভেতরে যাওয়ার অনুরোধ করতেও ভুলে গেলেন।আরহাম মাহেরের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে গাড়ি স্টার্ট দিলেন।
‘রিযালের ঘটনা তুমি কেন আমার কাছে লুকিয়েছো হাফসা?আই নীড আন্সার।আজ আরহাম তখন না আসলে যদি কোনো ইন্সিডেন্ট হতো?আমি এসব জানি?আমি তোমার গার্ডিয়ান না?’
হাফসা ভাইয়ের সামনে থরথর করে কাঁপতে থাকলো।আজ সে সত্যিই বুঝেছে সেইদিনের অপ্রত্যাশিত ঘটনা ভাইকে জানানো উচিত ছিলো।
মাহের ধমকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কেনো লুকিয়েছো?ওকে বাঁচাতে চাইলে কেন?’
