অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৬
Maha Aarat
ফ্ল্যাশব্যাক______
আরহাম বারান্দায় চোখ বুজে হেলান দিয়ে বসে আছেন।খানিক পর এক্সট্রা আওয়াজে তরাক করে চোখ খুললেন।মাহের চিন্তিত মুখে চাপা আওয়াজে কথা বলেই যাচ্ছে।আরহাম তিলাওয়াত অফ করে বললেন, ‘শুনিনি।বলো এখন।’
‘আমি কি কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছি আরহাম?’
‘এমন মনে হচ্ছে কেন?’
মাহেরের বুকফেড়ে ফাঁকা দীর্ঘশ্বাস উদগীরণ হলো।চোখমুখ কঠিন করে বললেন, ‘হাফসা আসে নি রুমে।ও তো অনেক ভীতু।এখন বুঝতে পারছি ওকে জোর করা উচিত হয়নি আমার।কিন্তু সাফওয়াত কি বলছে জানো?’
আরহাম উৎসুক দৃষ্টি ফেললেন।
‘আমার বোনের নাকি আরও কোনো সমস্যা আছে সেজন্য ও সামনে আসতে চাইছে না।আমার মাথায় আগুন জ্বলছে।সামান্যতেই এতোবড় কথা বলে ফেলল?’
আরহাম নির্বাক তাকিয়ে রইলেন।
মাহের ধপ করে আরহামের পাশে বসে পড়লো।দম নিয়ে বলল, ‘আরহাম। কি করবো বলো?’
‘বুঝতে পারছি না।
মাহের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি মেললেন আরহামের দিকে।চতুর গলায় বললেন, ‘শুরু থেকে তুমি এত আপসেট কেনো?বাসায় কোনো সমস্যা? ‘
‘উহু।’
‘তাহলে…
মাহেরের ফোন কল ডুকলো তখুনি।স্ক্রীনে এশা নামটা ভাসছে।
কল ধরতেই শোনা গেল, ‘আপনি আমার কল ধরেন না কেন?’
‘আমি ব্যস্ত।’
‘ভাই কি দেখা করেছে হাফসার সাথে?’
‘না।’
‘একবারও না?’
‘না।’
‘তবে?’
‘হাফসা ভয় পাচ্ছে।আমি জোর করতে পারছি না।’
‘বলুন দেখা করতে।বিয়ে করবে দেখা করবে না?’
‘আমার বোনকে আমি জোর করতে পারবো না।আপনি যেভাবে পরিবারে মায়ের, ভাইয়ের বাবার অভাব বোধ করেননি।আমার বোন করেছে।আমাদের মা নেই,বাবা নেই।ভাই হয়ে আমি কতটুকু জোর করতে পারি?’
‘রেগে যাচ্ছেন?’
‘ওকে কিছু সময় দেওয়া দরকার।’
‘ভাইয়া সামনের মাসে চলে যাবে।সময় চাইলেই কি দেয়া যায়?’
‘তাহলে আপনার ভাইয়ের জন্য অন্য মেয়ে দেখুন।আমার বোন কোনো ফেলনা নয় যে যেমন তেমন বিহ্যাভের মানুষের হাতে তুলে দিব।’
এশা আরো কিছু বলতে চাইছিলো।মাহের কেটে দিলেন ফোন।হাত মুষ্ঠিবদ্ধ করে নিজের ক্রোধটুকু সামলে নিলেন।
আরহাম নিচুদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন।ব্রেন্চে রাখা উনার ফোনও অবিরত বাজছে।সেটা দেখেও কোনোরূপ ভাবাবেগ হচ্ছে না আরহামের।মাহের আরহামের থেকে কৌতুহলী দৃষ্টি ফেলে ভেতর ঘরে ফিরে গেলেন।
আইরা হাফসাকে টেনে নিজের পাশে বসালো।হাফসা এখন আর কাঁদছে না।সে ভীতু দৃষ্টিতে এদিক-ওদিক তাকাচ্ছে।বারবার মনে হচ্ছে এই বুঝি ভাইয়া এসে তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘সাফওয়াতের সামনে কেনো যাও নি তুমি?’
তেমন কিছুই হচ্ছে না।আইরা তাকে চিন্তিত দেখে বলল, ‘আপু এত ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই।’এক্সিডেন্টের’ এখন একটা শিক্ষা হোক।না মানে আপনার ভাইয়ার একটু বোধোহয় হোক।যেখানে আপনি সারাটাদিন কেঁদে ভাসাচ্ছেন অন্তত আপনার ভাইয়ার বোঝা উচিত ছিলো আপনার এই ছেলেকে পছন্দ হয়নি।
হাফসা টানটান করে চোখ মেলে তাকালো।ওর দৃষ্টি বলে দিচ্ছে আইরার বলায় কিছু ভুল ছিলো।আইরা সেটা শোধরে নিয়ে বলল, ‘মানে কিছু মনে করবেন না।আমি বলতে চাইছিলাম আপনি হয়তো এখন এত বড়ো সিদ্ধান্তে জড়াতে প্রস্তত নয়।’
বর্তমান~
ফিরোজ আঙ্কেলকে গাড়ি বের করার কথা বলে আবারও অন্দরমহলের দিকে গেলেন মাহের।ব্রাশ হাতে রিযাল এগিয়ে এলো উঠোনে।ফিরোজ আঙ্কেলের সাথে টুকটাক আলাপ সেরে নিচ্ছিলো সে।ততক্ষণে মাহের ফিরে এলেন।রিযাল নরম দৃষ্টিতে তাকিয়ে স্মিত হাসলো।মাহের রিযালের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কঠিন দৃষ্টিতে তাকাতেই ওর মুখ চুপসে গেলো।
‘ইদানীং তোমাকে বাড়ির সীমানা ক্রস করতে দেখা যাচ্ছে।আমার বাড়ির সামনে তোমার ঘুরঘুুর করাটা আমি মোটেও পছন্দ করছি না।ছাদ থেকেও উঁকিঝুঁকি মারো।কেন?’
মাহেরের সরাসরি আক্রমনে রিযালের মুখ চুপসে গেল।আমতাআমতা করে বলল, ‘আর আসব না।’
মাহের উঠে গেলেন গাড়িতে।এই ছেলেকে দেখলে উনার মাথার টেম্পারেচার একেবারে চরমে উঠে যায়।মাথা ঠান্ডা করতে ফোনটা বের করলেন পকেট থেকে।ভোর থেকে এখন পর্যন্ত সাতটা কল এসে ডুকেছে।মাহের কী ভেবে ফোন ব্যাক করতেই ওপাশ থেকে রিসিভ হয়ে গেলো।
সালাম দিয়েই এশা বলল, ‘এত বিজি?এখন তো ওয়ার্ক আওয়ার না।’
‘এত কল কেন?এনি ইম্পোর্টেন্ট ইস্যু?’
‘না আমি…
‘রাখছি।গাড়িতে আছি।’
‘আর কত ইগনোর করবেন?’ ইচ্ছে হলো বলতে।প্রশ্নটা করতে।তার আগেই মাহের কল কেটে দিয়েছেন।মলিন মুখে ডিভানে বসে রইলো সে।ছোট্ট একটা এক্সিডেন্ট মাহেরকে এত বদলে ফেললো?
আরহাম আজকে আসছেন উনার ফ্যাক্টরিতে।মেশকাতে আম্বরের বিজনেস তাদের।প্রতি সপ্তাহে অন্তত তিনবার উনাকে হাজিরা দিতে হয়।যোহর নামাজ শেষে ফ্যাক্টরির দিকেই যাচ্ছিলেন তিনি।আর অর্ধেক পথ বাকি।তখনি আচমকা শব্দ করে মেসেজ টিউন বাজলো আরহাম উঁকি মারলেন ফোনের ওয়ালে।মাইমুনার টেক্সট এসে ঢুকেছে।
‘প্লিজ বাসায় আসুন।’
আরহাম স্পীড স্লো করে অন্যহাতে রিপ্লাই দিলেন, ‘কেনো?এনি প্রবলেম?’
‘আসুন তারপর বলছি।’
আরহাম খানিক সময় ভেবেও কোনোকিছু আন্দাজ করতে পারলেন না।গন্তব্য ঘুরিয়ে চললেন মালিবাগের দিকে।
আরহামের পৌঁছতে পৌঁছতে ঘন্টাখানেক লাগলো।আরহাম যখন আসলেন তখন মাইমুনার বাবা পড়লেন সামনে।তিনি আরহামকে হঠাৎ দেখে প্রফুল্ল হলেন বেশ।আরহামকে নিয়ে উনার কক্ষে নিয়ে গেলেন আলোচনার জন্য।আরহাম না চাইতেও সঙ্গ দিচ্ছেন উনার।উনার মন উসখুস করছে।মাইমুনার সাথে অন্তত একবার দেখা করা উচিত।মাইমুনা নিশ্চয়ই শুনবেন,আরহাম বাবার রুমে।শুনলে ভুল করেও এদিকে পা দিবেন না।
ভদ্রলোক আলোচনার বিষয়বস্তু আরো গভীরে টেনে নিচ্ছেন।আরহাম শুধু হ্যাঁ না উত্তর দিচ্ছেন।ততক্ষণে রুমে খাবার এসে পৌঁছলো।ভদ্রলোক জোর করে আরহামকেও বসিয়ে দিলেন পাশে।
প্রায় মিনিট বিশেক পর ভদ্রলোক আচমকা চুপ হয়ে গেলেন।আরহামকে কয়েক সেকেন্ড পরখ করে বললেন, ‘তুমি কি কিছু ভাবছো?চিন্তিত দেখাচ্ছে তোমাকে।’
আরহাম স্বাভাবিকভাবে বললেন, ‘জ্বি না তেমন কিছু না।’
‘মাইমুনার রুমে যাও।’
আচমকা এমন কথায় আরহাম চমকালেন।বাবা কি বুঝে গেলেন মনের কথা।কৌতূহলী দৃষ্টি তুলতেই ভদ্রলোক হেসে বললেন, ‘তোমার বয়স আমরাও পেরিয়ে এসছি।তোমার অমনোযোগী হওয়ার বিষয়টা আমি ঠিকই ধরে নিয়েছি।’
আরহাম স্মিত হেসে মাইমুনার রুমে গেলেন।
সালাম বিনিময় শেষেই মাইমুনা বললেন,
‘এতো দেরি করলেন আসতে?’
‘বাবার রুমে ছিলাম।’
মাইমুনা নিরুত্তর থাকলেন।আর কিছু বললেন না।
মাইমুনার হঠাৎ এমন নীরবতায় আরহাম ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কিছু হয়েছে?’
‘উহু।কি হবে।’
‘তাহলে আসতে বললেন কেন?’
‘আপনাকে বলতে পারবো না আসার কথা।’
আরহাম মাথা ঝাকিয়ে সম্মতি দিলেন কেবল।মাইমুনা আরও আহত হলো।
আরহাম বিছানায় বসে ফোনে কিছু নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন।মাইমুনা আরহামের খাপছাড়া স্বভাব একটুও মেনে নিতে পারছে না।অভিমান লুকিয়ে সে বলল, ‘বাসায় যাবো।’
আরহাম ফোনেই দৃষ্টি রেখে বললেন, ‘ওকে।’
‘শাহ আপনি এমন আচরন করছেন কেন?’
আরহাম স্বাভাবিকভাবে হেসে বললেন, ‘কেমন?’
‘বিয়ের পর থেকে আমি যতোবার বাবার বাড়ি আসছি আপনি আমাকে ফোন দিয়ে পাগল করে ফেলতেন বাসায় চলে যাওয়ার জন্য।এখানে আসার জন্য আমি বলা লাগতো না আপনাকে।শুধু অশান্তি করতেন।আর এইবার একবারও নিজ থেকে আমাকে ফিরার কথা বললেন না।’
‘বলিনি?’
মাইমুনা মাথা নাড়ায়।আরহাম ফোন রেখে বললেন, ‘বাসায় আসুন আমার সাথে এখুনি।’
‘আমি বলায় বলছেন?’
আরহাম আচমকা একেবারে চুপ হয়ে গেলেন।ক্লান্ত স্বরে বললেন, ‘আমি নিজেই বুঝতে পারছি মাইমুনা আমি কেমন বদলে যাচ্ছি।আমি নিজেই নিজেকে চিনতে পারছি না।আমি আপনাকে ইচ্ছে করে কষ্ট দিচ্ছি না।আমার কোনোকিছুই ভালো লাগে না।জানি না কেনো।’
মাইমুনা বোধহয় বুঝলেন আরহামের অসহায়ত্ব।পাশে বসে বললেন, ‘কেন?আপনি কি কোনোকিছু নিয়ে দূ:শ্চিন্তা করছেন?বা এমন কিছু হচ্ছে যেটা আপনি পছন্দ করছেন না বা চাইছেন না?’
আরহাম গোপনে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, ‘জানি না।’
‘কিছুদিন ব্রেইক নিন এসব থেকে।বাসায় থাকুন।’
‘আচ্ছা।আপনি আসবেন না?রেডি হয়ে নিন।’
‘সামনের সপ্তাহে যাবো।’
‘আজকে চলে আসুন না?’
‘দাদূকে রেখে যেতে ভয় লাগে।দাদূর একটু ইমপ্রুভ হোক।’
‘আচ্ছা।’
ফিরে আসার সময় আরহাম দাদূর সাথে দেখা করে এসেছেন।দাদূ আজকে তেমন কথা বলেন নি।তবে দাদূও কেন জানি আরহামের ভেতরের ঝড় বুঝে গেলেন।মাইমুনার আড়ালে বললেন, ‘আমাকে বলো কি নিয়ে তুমি আপসেট?’
আরহাম শুধু উত্তর দিয়েছিলেন, ‘ভালো কিছু নিয়ে নয়।এমন কিছু যেটা থেকে আমি নিজেকে দূরে সরাতে চাচ্ছি কিন্তু পারছি না।যত দূরে সরতে চাচ্ছি বিষয়টা আমার বুকের ওপর চেপে বসছে।আমার খুব অস্থির লাগছে দাদূ।মনে হচ্ছে পুরো আকাশটা যেনো আমার বুকের ওপর চেপে বসেছে।’
‘আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও।সমাধান হয়ে যাবে ইন শা আল্লাহ।’
‘ইন শা আল্লাহ।’
লাঞ্চ শেষে মাহের কেবিনের দিকে ফিরছেন।উনার পিছুপিছু আসছে অমি।মাহের ফোনে ব্যস্ত।এশার কলগুলো তিনি ইচ্ছে করেই ইগনোর করছেন।মাহের বুঝে গেছেন, এই এশার ভিতরে অন্য একটা এশা আছে।যাকে তিনি এখনও চিনেন না।তবে এটা বেশ বুঝতে পেরেছেন, সেই এশাটা স্বার্থপর।
মাহের এসব চিন্তা সাইডে রেখে অমির সাথে গুরুত্বপূর্ণ আলাপ সারতে সারতে কেবিনে ফিরলেন।কেবিনে ফিরতেই দুজনেই ভারী চমকালেন।তবুও মাহের স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বললেন, ‘কেন এসেছেন?’
‘আমি আসতে পারি না?’
অমির ইচ্ছে করলো বলতে, ‘আপনি স্যারের বউ যে যখন তখন জামাই’র টানে চলে আসবেন?’
সে ইচ্ছেটা দামাচাপা দিলো।এসব বললে মেয়েটা তাকে ছিঁড়ে ফেলবে একদম।
মাহেরের কোনোকিছু উত্তর দেওয়ার আগেই এশা বললো, ‘এখন পারমিশন নিয়ে নিয়ে আসতে হবে?’
মাহের এবার কড়াসুরে বললেন, ‘অবশ্যই।এটা আমার ওয়ার্কপ্লেস।আপনার সাথেও আমার কোনো ঘনিষ্ঠতা নেই।আপনার সবকিছুই একতরফা।আপনি যখনতখন চলে আসায় আমাকে নিয়ে কথা উঠেছে হসপিটালে।আই হোপ,নেক্সট টাইম এমন বাড়াবাড়ি করবেন না।আপনার সাথে আমার কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক নেই,তাই এসব সিচুয়েশন সিকিউর করতেও আমি কম্ফোর্টএবল না।’
বলা বাহুল্য মাহেরের কতগুলো অত্যন্ত কঠিন ছিলো।এশার চোখ ছলছল হয়ে উঠলো মুহুর্তেই।আজকে সে আর কিছু বললো না।চোখ মুছতে মুছতে আলগোছে বেরিয়ে গেলো।
এশা চলে যেতেই অমি বলল, ‘স্ স্যার একটা কথা বলবো?’
‘কাজের বিষয় হলে বলো।’
অমি চুপ করে গেলো।স্যার পারমিশন দিলে হয়তো সে বলতো, ‘কথাগুলো বেশীই কঠিন ছিলো স্যার।’
মাহের আচমকা বললেন, ‘অমি আমার মনে হয় আমার একটা বিয়ে করা উচিত।খুব সুন।’
অমির চোখ চকচক করে উঠলো।সে এক্সাইটমেন্ট ধরে রাখতে না পেরে নিজের অবস্থান ভুলে স্যারের সামনাসামনি বসে টেবিলে থাবা দিয়ে উচ্ছাসিত কন্ঠে বলল, ‘স্যার আমি তো এই কথাটাই আপনাকে বলতে পারি না ভয়ে।’
‘তুমি কি বলো?বিয়েটা করা উচিত?’
‘অবশ্যই স্যার।এখানে আর কোনো ভাবাভাবির দরকার নেই।’
‘আচ্ছা।’
‘তাহলে ম্যামকে ডেকে নিয়ে আসবো স্যার?’
‘কেন?’
অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৫
‘আপনি না বললেন বিয়ে করবেন?’
‘সাট আপ।আমি কি বলেছি আমি উনাকে বিয়ে করবো?’
‘তাহলে স্যার?’
মাহের একমনে কোনোকিছু চিন্তা করতে করতে ফোন হাতে নিলেন।অমি অটি রুমে গিয়ে নার্সের সাথে কথা বলছিলো কিছু নিয়ে।আসার সময় বেলকনির গ্লাস দিয়ে দেখলো, ক্যান্টিনে বসে বসে কাঁদছে মেয়েটা।অমির খারাপ লাগলো।কি এমন হলো যে স্যার ম্যামের প্রতি এতোটা কঠিন হয়ে গেলেন?
