অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা পর্ব ২
Sathi
__ সেতু।
“মায়ের তীক্ষ্ণ চি*ৎকারে ভয়ে এইবার কেঁদে দেয় সেতু। বুকের ভেতর ধুকপুক শব্দ যেন বাইরে থেকেও শোনা যাচ্ছে। কাঁপাকাঁপা গলায় বলে উঠে।
__ আম্মু, এসব মিথ্যে। লোকটা মিথ্যে বলছে। আমি চু*মু দিইনি, এই লোকটা আমাকে ব্ল্যাকমেইল করছে!
__ আস্তাগফিরুল্লাহ! কী বলো অর্ধেক বউ? ছবি দেখো, আমি জোর করিনি। তুমি নিজ ইচ্ছায় ফিল নিয়ে চোখ বন্ধ করে চুজমু দিচ্ছো।
“বলেই আম্মুর কাছ থেকে মোবাইল নিয়ে সেতুর হাতে দেয় সে। সেতু তাকিয়ে দেখে, সত্যিই সে চোখ বন্ধ করে আছে, দেখে বোঝা যাচ্ছে যেন নিজ ইচ্ছাতেই দিয়েছে। লোকটার দুই হাত পেছনে, একদম নিষ্পাপ বাচ্চার মতো দাঁড়িয়ে আছে। দৃশ্যটা যেন তার বিরুদ্ধে সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়েছে।ভয়ে চোখে পানি নিয়ে মায়ের উদ্দেশ্য অসহায়তা গলায় বলে।
__ হ্যাঁ, আমি চুমু দিয়েছি। কিন্তু চাপে পড়ে।উনি আমাকে ব্ল্যাকমেইল করে।
__ কী নিয়ে ব্ল্যাকমেইল করেছি, এটাও বলো চু*মুখোর বউ। একদম মিথ্যে বলবে না। যদি মিথ্যে বলো, ভবিষ্যতে তোমার পেটে আমার দশ হালি বাচ্চা জন্ম নেবে।
‘চোখ শক্ত করে, যেন অ*ভি*শাপ দিচ্ছে এমন ভঙ্গিতে কথাটা বলে জেহেফিল, হাত পেছনে মুড়ে দাঁড়িয়ে আছে।
“ব্ল্যাকমেইল করেছে” শুনে মেয়ের প্রতি, সেতুর মা মিনা বেগমের মুখ নরম হয়ে আসে। মেয়ের কাঁধে হাত রেখে মৃদু চিন্তিত স্বরে বলল।
__ সেতু, কী নিয়ে ব্ল্যাকমেইল করেছে লোকটা? আমি জানি আমার মেয়ে এমনি এমনি এমন জঘন্য কাজ করবে না।
“মায়ের প্রশ্নে হাত মু*চড়াতে থাকে সেতু। কী বলবে ভেবে পায় না। তোতলাতে তোতলাতে জবাব দেই।
___ চু*মু নিয়ে।
__ কী?
__ হ্যাঁ আম্মু, সত্যি বলছি, এখানে আমার দোষ নেই। ঐই মিতু আছে। ওই আমার সাহস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল, তাই সেদিন কলেজে লোকটাকে চু*মু দিয়েছিলাম। আর আজ সেটা নিয়ে তোমাকে ব্ল্যাকমেল করে,
__ আবার চু*মু খেয়েছে তাই তো?
“সেতু পুরো কথা শেষ করার আগেই মিনা বেগম বলেই,রাগে এগিয়ে আসে। মায়ের রাগ দেখে সেতু এক দৌড়ে উপরে নিজের রুমে চলে যায়। পেছন থেকে সতর্ক কণ্ঠে মিনা বেগম বলল।
__ আজকে তোর একদিন, না হলে আমার একদিন!
“মা মেয়ের কাণ্ড দেখে জেহেফিল ঠোঁ*টে কুটিল হাসি টেনে বলে।
__ কী হলো আন্টি, বিশ্বাস হলো তো? এখন সুন্দর করে আপনার চু*মুখোর মেয়েকে আমার হাতে তুলে দেন। আমার এই মেয়েকে লাগবে।
“জেহেফিলের কথায়, এইবার মিনা বেগম ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে। ছেলেটার যে লজ্জা নেই, বিন্দুমাত্র সংকোচ নেই, এতক্ষণে সেটা স্পষ্ট বুঝেছে।
__ দেখো বাবা…
__ তুবা তুবা। কিসের বাবা তাবা? আমাকে কি এত বয়স্ক লাগে?
অবাক হয়ে বলে জেহেফিল। মিনা বেগম দাঁত চেপে বলে।
__ দেখো চুকরা..
__ জেহেফিল।
__ হ্যাঁ, জেহেফিল। আমি মানছি আমার মেয়ে অপরাধ করেছে। তবে ও বাচ্চা মানুষ, ভুল করেছে। তাই বলে তুমি এমন আবদার করতে পারো না।
__ কেন পারি না? সে আমার ভা*র্জি*নিটি খেয়েছে, নষ্ট করেছে। এখন যদি অন্য মেয়েকে বিয়ে করি, সে তো ঠকবে, তাই না?
“গম্ভীর মুখে বলে জেহেফিল, যেন বড় কোনো ক্ষতি হয়ে গেছে তার। সোফায় বসে পড়ে নিজের বাড়ির মতো স্বাভাবিক ভঙ্গিতে। মিনা বেগম হতবাক। তার মেয়ে একটা চু*মু খেয়েছে নাকি শ*রী*রটাই শু*ষে খেয়েছে, বোঝেন না।
__ আমি আমার মেয়েকে বিয়ে দেব না। তাকে পড়াবো।
__ আমি কি বাচ্চা যে আপনার মেয়ে পড়ালেখা করলে আমি খাতা-কলম ছিঁ*ড়ে ফেলবো?
__ আমি মেয়ে এখন বিয়ে দিবো না।
__ ঠিক আছে যখন দিবেন তখন করবো। তবে বিয়ে আমি করেই ছাড়বো।
“বলেই গটগট পায়ে বেরিয়ে যায় জেহেফিল।হাঁটার ভঙ্গিতে এক অদ্ভুত আত্মবিশ্বাস, যেন সে যা চায়, তা নিয়েই ছাড়বে।
“মিনা বেগমের বু*কে*র ভেতর দুশ্চিন্তার কাঁজটা বিঁ*ধে থাকে। মনে হয়, ছেলেটা যতটা সহজ দেখাচ্ছে, ততটা নয়। কেমন চিনা চিনা লাগে ছেলেটাকে। কারো এক জনের মুখের সাথে বড্ড মিল, তবে সে তো অনেক আগে হারিয়ে গেছে। ভেবেই ধীরে ধীরে তিনি মেয়ের রুমের দিকে হাঁটে।
“হাতে পচা ডিম নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সেতু। অপেক্ষা করছে কখন লোকটা বাইরে আসবে। দাঁড়াতে দাঁড়াতে পা ব্যথা হয়ে গেছে। বিরক্তিতে নিচে তাকাতেই ঠোঁ*টে বিজয়ের হাসি ফুটে ওঠে।জেহেফিল ঠিক তার বারান্দার নিচ দিয়ে যাচ্ছে।
“সুযোগ বুঝে সেতু নিশানা ঠিক করে একসাথে চারটা পচা* ডিম ছুঁ*ড়ে মা*রে, অতঃপর তাড়াতাড়ি লুকিয়ে পড়ে।
“হঠাৎ মাথার ওপর কিছু পড়তেই থেমে যায় জেহেফিল। গন্ধে বমি আসার জোগাড়। মাথায় হাত দিতেই ল্যাঁটকা ল্যাঁটকা কিছু লাগে, পচা ডিম আর খোসা।
উপরে তাকায়, দেখে কেউ নেই। একটু পর উড়নার কোণা চোখে পড়তেই মুচকি হাসে। দাঁত চেপে গন্ধ সহ্য করেই হাঁটতে থাকে।
“লুকিয়ে লুকিয়ে সব দেখছিল সেতু। লোকটাকে হাসতে দেখে অবাক হয়।
“ভালো ডিম দিয়ে ফেলল নাকি রহিম কাকু?” নিজের মনে বলে পাশে রাখা ডিম থেকে একটা ফাটাতেই গন্ধে দৌড়ে বেসিনে যায়।
__ ওয়াক! হায় আমার প্রিয় আল্লাহ। এই ব*জ্জা*ত লোকটা দাঁত কেলাচ্ছে কীভাবে?
“বমি করতে করতে নিজেই বলে। বুঝতে পারে না জেহেফিল এত গন্ধ কীভাবে সহ্য করল। হাত-মুখ সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলে। ভাগ্য ভালো, মিমের জন্য পচা ডিম এনে রাখা ছিল, তাই কাজে লাগল।
__ সেতু, সেতু। দরজা খোলা।
“বাইরে থেকে মায়ের ডাক। সেতু চমকে ওঠে। নিশ্চয়ই লোকটা কিছু বলে গেছে। ধীরে দরজার কাছে গিয়ে বলে।
__ কিছু বলবে আম্মু?
__ অনেক কিছু বলব। দরজা খোল।
__ যা বলার বাইরে থেকেই বলো। সেতু এখন ভীষণ ভয় পাচ্ছে তোমাকে।
__ এমন কাজ করার আগে ভাবা উচিত ছিল। দরজা খোল।
__ না।
নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকে সেতু। এক সময় মিনা বেগম বিরক্ত হয়ে চলে যায়।
“রাত ১০টা”
বিছানা গুছাচ্ছে সেতু। মা আর ভাই খাওয়ার জন্য ডেকেছে, কিন্তু সে বলেছে, খাবে না।মূল উদ্দেশ্য, দরজা খুলবে না।
মশারির দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে। “হায় আল্লাহ! কবে একটা স্সোয়ামি হবে, আর তাকে দিয়ে এই মশারি টানাবো।”
” কথাটা বলেই নিজেই হেসে ফেলে। কিছুক্ষন দাড়িয়ে অলসতার সাথে মশারিটা টাঙ্গায়।
“পাশে কয়েল জ্বলছিল, তবু মশা যায় না। যেন মশার বিয়ে লেগেছে তাই মশার ১৪ গুষ্টি হাজির। ওদের বিয়ের র*ক্তে*র যোগাড় করতে।
” হঠাৎ দেখে মশারির উপর মশা বসেছে।
__ এইবার দেখি কিভাবে বাঁচিস।
“বলেই মশারির ওপর কয়েল দিয়ে মশা গুলোকে পু*ড়ি*য়ে মা*রতে থাকে। যেখানে বেশি বসেছে, সেখানে বেশি কয়েলের আ*গু*ন লাগায়।
“কিছুক্ষণ পর মশা মা*রা শেষ হতেই, স্বস্তির নিশ্বাস নিয়ে মশারির দিকে তাকাতেই চমকে ওঠে।
__ হায় আল্লাহ। এ কী হলো।
“পুরো মশারি ফুটো। যেখানে বেশি আগুন দিয়েছে, সেখানে বড় বড় ছিদ্র। হাই আল্লাহ আম্মু জানলে তো মে*রেই ফেলবে। আফসোস করতে করতে কপালে হাত মা*রে।ঠিক তখনই ফোন বেজে ওঠে। অচেনা নাম্বার।
অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা পর্ব ১
__ হ্যালো, কে?
__ আসসালামু আলাইকুম চুমুখোর বউ। কেউ কল দিলে আগে সালাম দিতে হয়।
লম্বা সালাম দিয়ে দীর্ঘ বক্তৃটা দিয়ে জেহেফিল থামে। এমন উল্টো কথায় সেতুর মেজাজ ধরে যায়।
__ এই যে। আপনি কে?একদম আমাকে ভদ্রতা শিখাতে আসবেন না।
__ এই তো দেখি, খাঁটি মির্জাপরের বংশধর।দুই দিনে দুইটা চুমু” খেয়ে আমাকে ভুলে গেলে?
“পিছন থেকে কথাটা শুনে সেতুর হাত থেকে ফোন পড়ে যায়। পেছনে তাকাতেই দেখে, জেহেফিল তার রুমে। এত রাতে ওকে দেখে বুকের ভেতর ভয় জমে যায়।
