অবাধ্য হৃদয় পর্ব ১৯
নুরিয়া ইসলাম
পড়ন্ত বিকেলের রুপালি আলোটা ধীরে ধীরে ক্যাম্পাসের ওপেন ফিল্ড জুড়ে বিছিয়ে পড়েছে। মাঠের মাঝখানে, শতবর্ষী এক পুরনো গাছের ছায়ায় অলস ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে রয়েছে কালো বাইকটা আর তার ওপর আধশোয়া হয়ে আছে এরিক। চোখে গাঢ় সানগ্লাস, ঠোঁটে জ্বলন্ত সিগারেট, বাতাসে এলোমেলো চুল উড়ছে অনিয়মে; গোধূলির ঝিলিক মুখে-চোখে পড়ায় বিরক্তিতে চোখ-মুখ কুঁচকে যায় ছেলেটার। তার প্রতিটি অভিব্যক্তি বলছে, জীবনকে সে অযথা জটিল করে দেখে না━━━━━সে নিজেই এক অপার রহস্য, সময়ের রং মিশে আছে তার অস্তিত্ব জুড়ে।
তার পাশে ঘাসের উপর বসে আছে এ্যালেক্স আর এরেন।বসে রয়েছে বললে ভুল হবে, রীতিমতো সুন্দরী মেয়েদের টিজ করছে।সুন্দরী কোন মেয়েকে দেখে টিজ করাই যেন ওদের প্রিয় খেলা। তাদের এই চটুল ছ্যাঁচরাপনায় এরিকের চোখে বিরক্তির ছায়া নেমে আসে।তবে এরিক কারও মতো নয়, সে কখনোই কোন মেয়েকে সরাসরি টিজ করে না, বরং চুপচাপ নিজস্ব স্টাইলে, ইশারায় কিংবা হালকা হাসিতে পুরো মনোযোগ কেড়ে নেয়।জোর-জবরদস্তি তার স্বভাব বিরুদ্ধ , তার চার্মেই মেয়েরা সেচ্ছায় ধরা দেয় তার ফাঁদে।
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
তখনি তাদের সামনে দিয়ে একটা মেয়ে টাইট জিন্স পরে হালকা দুলতে দুলতে সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলো। কোমরের মুভমেন্টে যেন একটা রিদম আছে যা আলাদা করে চোখে পড়ার মতো।মেয়েটির কোমর দোলাতে দেখে এরেন চোখ থেকে সানগ্লাসটা নামিয়ে মেয়েটির উদেশ্য বলে উঠে,
“এই সুন্দরী! একটু আস্তে হাঁটো না, কোমরের ধাক্কায় ইউনিভার্সিটির মাটি ফেটে যাবে যে!”
কথাটি বলেই এরেন দুষ্টু হাসে,তারা দুইজনেই হেসে কুটি কুটি হয়ে যায়। তাদের প্রাণচঞ্চল হট্টগোলের মাঝেই পেছন থেকে এক পরিচিত গম্ভীর স্বর ভেসে ওঠে,
“কি হচ্ছেটা কী এখানে?”
পরিচিত সেই কণ্ঠ শুনে পিছন ফিরে তাকাতেই, দেখা যায় এলিনা দাঁড়িয়ে, চোখে রাগ আর মুখে অভিমানের প্রলেপ।
এরেন ঘাবড়ে গিয়ে শুকনো গলায় একটু ঢোক গিলে, এলিনার কাছে এগিয়ে য়ায়,এলিনার রাগ ভাঙানোর জন্য মিষ্টি স্বরে বলে উঠে,
“বেবি, তুমি এসেছো! জানো, আমি তোমাকে কী ভয়ানক মিস করেছি?”
এরেনের কথায় এলিনার চেহারায় খানিকও কোমলতা দেখা গেল না।
ক্ষণে পলকে সে এরেনের কলার চেপে ধরে, কড়া গলায় বলে ওঠে,
“তোর ফালতু কথা রাখ, এরেন! আমি সব দেখেছি।শালা, কয়টা মেয়ে লাগে তোর? আমাকে দিয়ে তোর হয় না! এই বলে সে এরেনকে মারতে থাকে।”
এরেন এবার কাঁদো কাঁদো চেহারায় মিনতির স্বরে বলে,
“বেবি… রিলাক্স! আমি তো জাস্ট টাইমপাস করছিলাম, আই সোয়্যার।
কিন্তু এলিনার রাগ কমে না, উল্টো এরেনের গালে পা দিয়ে জোরে একটা কিক মেরে বলে,
“বের করছি তোর টাইমপাস। বল, আর কখনো অন্য মেয়ের দিকে তাকাবি ? টিজ করবি ?”
এরেন বিপাকে পড়ে নিজেকে বাঁচতে এরিকের কাছে ছুটে যায়, পা ধরে মিনতি করে বলে,
“Ash, বাঁচা, ভাই ! জীবনের শেষ প্রেমটা যদি বেল্ট দিয়ে শেষ হয়, আই সোয়্যার, আমি ভূত হয়েও শান্তি দিব না তোকে!”
এরিক এরেনের অবস্থা দেখে মনে মনে বেশ খুশি হয়েছে কিন্তু মুখে গাম্ভীর্যতা ফুটিয়ে সিগারেটের ধোঁয়া ছেড়ে বলে,
“Deal with your own shit. I’m not your fucking savior.”
এরিকের এহেন নির্লিপ্ততায় এলিনা যেন আরো আশকারা পেয়ে যায় আর এইদিকে এরেন এরিককে মনে মনে হাজারটা গালি দিয়ে বলে,
“শালা ডেভিল! হার্টলেস একটা।”
এলিনার সামনে আর কোন উপায় না পেয়ে এরেন এদিক-ওদিক তাকিয়ে মাঠের মাঝেই কান ধরে বলে,
“বেবি, আর হবে না। তোমার কসম!”
এরেনের এই অবস্থা দেখে এ্যালেক্স ঠোঁট চেপে হাসে।এরেন রাগি চোখে এ্যালেক্সের দিকে তাকিয়ে থাকে।
এরেন হাঁপিয়ে গাছের ছায়ায় কিছুক্ষণ নীরব হয়ে দাঁড়িয়ে এরিককে পর্যবেক্ষণ করতে থাকে। তার চোখে মিশ্র বিস্ময়, ঠোঁট কাঁপছে, মনে হয় অনেক কথা আটকে আছে গলায়। শব্দের ভারে মুখটা একটু গম্ভীর, আবার কেমন নরমও হয়ে আছে।
ধীরে এরিকের কাছে এসে সে ফুপিয়ে হেসে বলে,
“Ash, তোকে দেখলেই না আমি সেই আগেকার হার্টলেস্,বেপরোয়া এরিক অ্যাসফোর্ডের সাথে
এখনকার এরিককে কেমন যেন গুলিয়ে ফেলি!”
যেদিন থেকে ইনায়া তোর জীবনে এসেছে, তুই পুরো পাল্টে গেছিস। আগে তোকে দেখে মনে হতো তোর কাছে মেয়ে মানেই শুধু ফান, টাইমপাস…
আর ভালোবাসা? ওটা নাকি ডিসট্র্যাকশন, তুই নাকি এসবের ধার দিয়েও যাস না!
সবসময় তোকে বলতে শুনেছি,
‘Love is distraction. And I don’t get distracted.’
আজ যখন দেখি, সেই অ্যারোগ্যান্ট, বেপরোয়া, বদমেজাজি এরিক অ্যাশফোর্ডকে কারো জন্য পাল্টে যেতে, বিাশ্বাস কর, আমি অবাক হয়ে যাই। কোনদিন ভাবিনি , এরিক অ্যাসফোর্ডের মতো কোন পাগলা ঘোড়াকে,কোনো মেয়ে এমনভাবে ঘায়েল করতে পারবে।বিশ্বাস কর, Ash, এই তুই—আমার দেখা সবচেয়ে অবিশ্বাস্য গল্প!”
এরেনের কথার পৃষ্ঠে এরিক একটা মুচকি হেসে মাথায় হুডটা টেনে বলে,
“I never believed in love. But then, someone showed up who made even a bastard like me crave a fucking weakness. Strange, huh?”
(আমি কখনো ভালোবাসায় বিশ্বাস করিনি, কিন্তু একদিন আমায় এক অ্যানজেল দেখিয়েছে, আমার মতো পশুর হৃদয়েও ভয়ংকর দুর্বলতা আছে। অদ্ভুত তাই না?”)
এরিকের কথার বিপরীতে তারাও মুচকি হেসে এরিকের কথার সাথে সম্মতি জানায়।
“সময় চির বহমান। দেখতে দেখতে ক্যালেন্ডারের পাতাগুলো ঝরা পাতার মতো নিঃশব্দে ঝরে পড়ে, রেখে যায় অগণিত স্মৃতির রেশ আর অনুচ্চারিত কিছু অনুভূতির ছায়া। এই কয় মাসে কত কিছু বদলেছে।শুধু বদলায়নি এরিক-ইনায়ার সম্পর্কের নিরাসক্ত দূরত্ব। সম্পর্কের গভীরে কোনো উত্তাপ আসেনি, ওরা আজও রয়ে গেছে পাশাপাশি অথচ অনেক দূরে।
বরং ক্যালিফোর্নিয়ার গ্রীষ্মময় বিকেলে, রোদ আর বাতাসের খেলা চলাকালীন, ইনায়ার জীবনে এলিনা আর জুলির সাথে এক গভীর, নির্ভরতার বন্ধুত্ব জমে উঠেছে।যেখানে প্রতিদিনের জীবনকার হাসি-কান্না আর গল্প ভাগাভাগি হয় অকপটে।
এখন ক্যালিফোর্নিয়ায় উচ্চ গরমের দিন, গ্রীষ্মের শেষ প্রান্তিক চলছে। সূর্যের প্রচণ্ড দীপ্তি আর উত্তাপে ক্যাম্পাসের মাঠ ফাঁকা, অথচ ক্যানটিনে মিলছে ব্যস্ততার ছোঁয়া। এক দীপ্ত দুপুরে, ক্যানটিনের কাচঘেরা টেবিলে বসে আছে ইনায়া আর সোফিয়া। বাইরে সূর্যের আলোতে কাচ উজ্জ্বল, ঘামের চিকচিকে গন্ধে, ঠাণ্ডা কোল্ড কফির কাপে জড়ানো জলবিন্দু ঝরে পড়ছে নিশ্চুপে। চারপাশে ব্যস্ত পদচারণা, কারো হাসি, আবার কারো মুখে গাঢ় চিন্তার ছায়া। ইনায়ার চোখ জানালার বাইরে, অথচ মন ভাসমান পুরনো দিনের ফেলে আসা কথোপকথনে। সোফিয়া চুপচাপ পাশেই বসে রয়েছে,গায়ের ওপর দিয়ে রোদের চিকচিকে রেখা পড়ছে। চারপাশে ভিড় হলেও তাদের মধ্যে চাপা নির্জনতা দেখা যাচ্ছে।
হঠাৎ পাশ থেকে গম্ভীর পায়ে শব্দ করে এরিক এগিয়ে এসে থমথমে গলায় বলে,
“চল আমার সাথে।”
ইনায়া অবাক হয়ে, শান্ত গলায় জিজ্ঞেস করে,
“কেন? কী হয়েছে?”
এরিক সন্দেহভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
“এই মেয়ে, এত প্রশ্ন করো কেন? যেতে বলেছি মানে যাবে।”
ইনায়া স্বভাবসুলভ এরিকের কথার পৃষ্ঠে প্রতিবাদ করে ওঠে,
“আপনি যেতে বললেই যেতে হবে, কেন?”
এরিক এবার একটু ঝুঁকে এসে গলা নামিয়ে কড়া স্বরে বলে,
“আমি তোমার সিনিয়র, আমার সাথে যেতে তুমি বাধ্য। যদি এখানে কোনো সিনক্রিয়েট না করতে চাও, তাহলে চুপচাপ চলো।”
ইনায়া চোখ নামিয়ে বলে,
“আমি যেতে পারবো না, আমার ক্লাস আছে।”
ইনায়ার কথা শুনে এরিক অনড় তবুও দৃঢ়স্বরে বলে,
“আজ ক্লাস করতে হবে না। নোট আমি তোমায় দিয়ে দেবো। এখন চলো।”
ইনায়া মৃদু স্বরে বলে, “কিন্তু…”
এরিক এবার রাগি দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে,
“ভালো চাইলে চুপচাপ চলো আমার সাথে।”
ক্যাম্পাসের ঝকঝকে আলো, গ্রীষ্মের শেষ উত্তাপ আর দু’জন মানুষের সম্পর্কের অগোছালো সেতু সব মিলিয়ে ভেতরে তৈরি হয় অস্বস্তির নরম জলরঙ। ইনায়া ইচ্ছের বিরুদ্ধে চুপচাপ এরিকের পাশে হাঁটে, পেছনে যেভাবে দুপুরের ছায়া পিছু নেয়; বাইরে থেকে দৃঢ়, ভিতরে লুকানো দ্বিধা নিয়ে।
এরিক তার গাড়িতে ইনায়াকে নিয়ে ঢুকলো শহরের সবচেয়ে বিলাসবহুল রেস্টুরেন্টে। চারদিকে ঝাঁ-চকচকে আলো, এরিকের হাতে সুগন্ধি মেন্যু। এরিক বিন্দুমাত্র ভাবনা না করেই ওয়েটারের দিকে ফিরেই একে একে অর্ডার করলো━━
A5 ওয়াগিউ বিফ স্টেক, বেলুগা ক্যাভিয়ার, লবস্টার থার্মিডর, কিং ক্র্যাব, ঝিনুক ভাপা, পোর্ক বেলি আর ভিনটেজ ওয়াইন।
সোনালি আলোয় টেবিল একের পর এক জমজমাট প্লেটে ভরে উঠল দামি, রাজকীয় সব খাবারে। অথচ ইনায়া প্লেটে চোখ রেখে বলে,
“আমি খাবো না, এগুলো আমার জন্য হারাম।”
এরিক কিছুটা অবাক হয়ে, ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করে,
“খাবারের মধ্যেও হালাল-হারামের ডেফিনেশন আছে নাকি? থাকলে সেটাও দিয়ে দাও,তোমার তো আবার নিয়মের শেষ হয় না!”
ইনায়া রেগে এরিককে বলে ওঠে,
“আপনি আমাকে কথা শোনাতে এনেছেন? অবশ্যই খাবারেরও নিয়ম আছে।যা শরীরের ক্ষতি করে, আমাদের ধর্মে তা হারাম।”
এরিক সংযত স্বরে বলে,
“তাহলে এগুলো তুমি খাবে না?”
ইনায়া নীরবে মাথা নাড়ে।
এরিক ওয়েটারকে বিল দিয়ে এসে বলে,
“চল।”
ইনায়া অবাক হয়ে বলে,
“কোথায়?”
এরিক গম্ভীর স্বরে বলে,
“তোমার ঠিকানায়, যেখানে তুমি নিজের পছন্দের খাবার খেতে পারবা।”
ইনায়া চুপচাপ, আবারও নিজের মধ্যে গুটিয়ে যায়। ভাবে, এ ছেলে কেন বারবার তার সব কিছুর খেয়াল রাখে? সে কী বুঝে না ইনায়া কখনো তার ডাকে সারা দিবে না?অবশ্যই বুঝে, সব বুঝেও কেন বারবার নিষিদ্ধ জিনিসের জন্য পাগলামি করে।
রেস্টুরেন্টে ঢোকার সময় টানা পিছনে একটা কালো গাড়ি ছায়ার মতো ফলো করছিল ওদের। তবে এবার সেটা এরিকের চোখ এড়ায় না।
রেস্টুরেন্টের উজ্জ্বল কাচের ফাঁক দিয়ে গাড়িটাকে এক ঝলক দেখে এরিক ঠোঁটের কোণে রহস্যময় একটা বাঁকা হাসি দিয়ে ইনায়াকে নিয়ে সেইখান থেকে বেরিয়ে যায়।
এরিক ইনায়াকে নিয়ে শহরের পাশে একটা ছোট, নিরিবিলি হালাল রেস্টুরেন্টে যায়।বিরল এক মুহূর্তে, দামি স্টেক কিংবা ক্যাভিয়ার নয়, আজ এরিক চুপচাপ ইনায়ার পছন্দের বিরিয়ানি, হালাল চিকেন টিক্কা, আর নরম রুটি খেয়ে নেয়, কোনো দ্বিধা বা অহংকার ছাড়াই। কে বলে বড়লোকের বিগড়ে যাওয়া ছেলেরা ভালোবাসতে জানে না?ভালোবাসা এমনই শক্তি, যার জন্য রাজা-বাদশারা রাজ্য ছেড়ে দেয়, আর এরিকের মতো বেপরোয়া ছেলে নিজের অহংকার, বিলাসিতা, সব ভুলে যায় ভালোবাসার মানুষটার একটু সান্নিধ্যে পেলে।
তার ভালোবাসায় প্রকৃতিও যেন ফিসফিসিয়ে বলে,
“ভালোবাসার ঝর্ণার খোঁজে সবচেয়ে কঠিন পাহাড়ও নরম হয়ে যেতে জানে…”
এরিকের মতো বেপরোয়া, উন্মাদ ছেলেরা যখন ভালোবাসার নেশায় আশক্ত হয়, তখন ভালোবাসা সব সীমা, শর্ত, নিয়মকানুন উপেক্ষা করে জ্বলে ওঠে নতুন কোনো চাওয়া, যেখানে পুরো পৃথিবীটা শুধু একজনের জন্য বদলে যায়।
শহরের ব্যস্ততা আর অজানা ভবিষ্যতের আশঙ্কার মাঝেখানে, রেস্টুরেন্টের আলো-ছায়ায় ছায়ার মতো নীরব দাঁড়িয়ে ছিল একটা কালো গাড়ি। গাড়ির ভেতর অন্ধকারে বসে আছে এক ছায়ামূর্তি, হাতে ঝকঝকে ডিজিটাল ক্যামেরা———-—একটির পর একটি ছবি তুলে যাচ্ছিলো, ইনায়া আর এরিকের প্রতিটি মুহূর্ত বন্দী হচ্ছিলো লেন্সের ফ্রেমে।
ব্যক্তিটির ঠোঁটে রহস্যময় বাঁকা হাসি ফুটে ওঠে , চোখে অদ্ভুত দীপ্তি ছড়িয়ে পড়ে। কাজ শেষ হতেই সে ধীরে মোবাইলটা কানে নিয়ে মৃদুস্বরে বলে ওঠে,
“ বস্ সব ছবি তোলা হয়ে গেছে। ঠিক যেমন চেয়েছিলেন, ওদের প্রতিটি মুহূর্তের ছবি এখন আমার কাছে। পাঠিয়ে দেব?”
ওপাশে সাড়া দিয়ে কেউ একজন বলে উঠে ,
অবাধ্য হৃদয় পর্ব ১৮
“এখন দরকার নেই। আরেকটু অপেক্ষা করো… সময় এলে জানিয়ে দেবো।”
ব্যক্তিটি ফোন রেখে জানালার বাইরে তাকিয়ে মৃদু হেসে বলে,
“খেলা তো সবে শুরু , এরিক অ্যাশফোর্ড…”
কথাটি বলেই ব্যক্তিটি ভয়ংকরভাবে হাসতে থাকে।
