অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ২৪
রুপা
আর্য অফিস থেকে ফিরে আসার পর থেকে একবারও পুষ্পর দেখা না পেয়ে সারা রুম জুড়ে পায়চারি করছে। যে ছেলে অফিস থেকে ফিরে এসে সবার আগে কাপড় নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে শাওয়ার নেয়, সে আজ অফিস থেকে ফিরেছে ঘণ্টারও বেশি হচ্ছে—এখনো অফিসের কাপড় পর্যন্ত পাল্টায়নি! পুষ্পকে রুমে না পেয়ে রুম থেকে পেরিয়ে করিডোরে দাঁড়িয়ে পুরো ড্রয়িং রুমে চোখ বুলিয়ে দেখেছে, রান্নাঘরে দেখেছে; পুষ্পকে না দেখে আবার রুমে ফিরে গেছে। তখন থেকে রুমে পায়চারি করছে আর বারবার দরজার দিকে তাকাচ্ছে—এই বুঝি একটু পর মেয়েটা রুমে আসবে! কিন্তু আজকে পুষ্প আর আসে না!
ঘড়ির কাঁটায় রাত দশটা। পুষ্প ঘুম থেকে উঠেছে সাতটার দিকে, কিন্তু সিমরানের রুম থেকে বের হয়ে আসেনি। এখন সবাইকে রাতের খাবারের জন্য ডাকতেই এক এক করে সবাই এসে টেবিলে বসে। সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসছে আর্য, পরনে ক্যাজুয়াল নরমাল সাদা টি-শার্ট আর কালো ট্রাউজার। আর্য আশেপাশে তাকিয়ে দেখল পুষ্প আছে কিনা, কিন্তু পুষ্প এখনো নিচে নামেনি। আর্যর ভেতরের তীব্র অশান্তি যেন কমছেই না; সে বুঝতে পারছে পুষ্প নিজে থেকে আর্যর সামনে আসছে না। সে গিয়ে চেয়ারে বসে পড়ল, বারবার সিঁড়ির দিকে তাকাচ্ছে—পুষ্প খেতে নিচে আসবে এই আশায়।
সবাই খাওয়া শুরু করে, কিন্তু পুষ্প আসে না।
এদিকে আর্য না খেয়ে প্লেটে আঙুল নাড়াচ্ছে। তার এখন নিজের ওপর রাগ হচ্ছে—কেন সে নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে পারল না? সে যদি রাতে মেয়েটার সাথে অমন রুড বিহেভিয়ার না করত, তাহলে মেয়েটা তার সামনে আসত। আচ্ছা, মেয়েটা কি বেশি হার্ট হয়েছে? তাকে ভয় পেয়ে তার সামনে আসছে না? সকালে ও কিছু খায়নি, দুপুরেও নিজের অস্থিরতায় কিছু খেতে পারেনি; এখন পেটে খিদে আছে, কিন্তু আর্য খেতে পারছে না। মেয়েটার ভাবনা যেন মন-মস্তিষ্ক থেকে বের করতে পারছে না সে।
শেহনাজ সরকার পুষ্পকে না দেখে সিমরানকে জিজ্ঞেস করলেন, “পুষ্প কোথায়, খেতে আসেনি কেন?” সিমরান জানায়, পুষ্পর নাকি খিদে নেই, সে খাবে না। কথাটা শুনে শেহনাজ সরকার দীর্ঘশ্বাস ফেলেন, কিছু বলেন না। ঠিক করলেন সবার খাওয়া শেষ হলে নিজে গিয়ে খাইয়ে দেবেন—হয়তো মিনারা বেগমের কথায় কষ্ট পেয়েছে মেয়েটা। এদিকে আর্য কথাটা শুনে হাত ধুয়ে উঠে ওপরে চলে যায়!
পুষ্প সিমরানের রুমে কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে, চোখে ঘুম নেই তবুও শুয়ে আছে। রাতে আর্যর রেগে যাওয়ায়, তাকে ধমক দেওয়ায় একটু বেশিই ভয় পেয়েছে সে। সে মনে মনে ঠিক করে নিয়েছে আর্যর সামনে যাবে না। সে নিজের ভাগ্যকে মেনে নিয়েছে। আগেও চাচীর অত্যাচার-নির্যাতন সবকিছু সহ্য করেছে, নিজের ভাগ্য তখনও মেনে নিয়েছিল। কিন্তু মাঝখানে ফুফুমণি এসে তার সাথে সরকার সাহেবের বিয়ে দিলেন। তার কোনোদিন মাথাতেও আসেনি বিয়ে নিয়ে কিছু ভাবার, কারণ ভাবার সময় ছিল না। কিন্তু তাকে ছোটবেলায় দাদি একটা কথা বলেছিল, “দিদিভাই, বিয়ের পর স্বামীর চেয়ে আপন কেউ হয় না। স্বামী একমাত্র মানুষ যে ইহকাল-পরকাল তোর সাথে থেকে তোকে আগলে রাখবে; তাকে সবসময় সম্মান করবি, ভালোবাসবি।” দাদি কথাগুলো হাসতে হাসতে বললেও, যখন আর্যর সাথে পুষ্পর বিয়ে হলো তখন থেকে পুষ্প আর্যকে তার স্বামী রূপে স্বীকার করে নিয়েছে। হয়তো অবুজ মনে ভালোবাসতেও শুরু করেছে নিজের স্বামীকে; তাই সবসময় আর্যর সব কাজ নিজে থেকে করার চেষ্টা করত। তারপর শেহনাজ সরকার নিজেও পুষ্পকে আর্যর আশেপাশে রাখার জন্য পুষ্পকে আর্যর সব কাজ করতে বলতেন।
কিন্তু এতদিনে পুষ্প এইটা বুঝে গেছে যে আর্য কোনোদিন তাকে মেনে নেবে না—ভালোবাসা তো অনেক দূর! আর এই ভাবনাটা মনে আসতেই পুষ্পর যেন আরও বেশি কান্না পাচ্ছে। পুষ্প সেই মেয়েদের মধ্যে পড়ে না যে নিজের ভালোবাসার কথা বলে বোঝাতে পারবে কিংবা নিজের ভালোবাসার দাবি নিয়ে দাঁড়াতে পারবে; সে শুধু নীরবে ভালোবাসতে পারবে। এতে বিপরীত দিকের মানুষটা ভালোবাসা দিলে সাদরে গ্রহণ করে নেবে, ঘৃণা দিলেও নীরবে গ্রহণ করে নেবে। কিন্তু আজকাল পুষ্পর মন যেন পুষ্পর কথা মানতে নারাজ! আগে পুষ্প আর্যর কাছ থেকে দূরে থাকলে তেমন অনুভূতি কাজ করত না, কিন্তু কয়েক দিন আর্য ভালো ব্যবহার করে আবারও আগের মতো হয়ে যাওয়ায় যেন একটু বেশি কষ্ট ও দমবন্ধকর অনুভূতি হচ্ছে। মেয়েটা বুঝতেও পারছে না কেন এমন অনুভূতি হচ্ছে; শুধু বুঝতে পারছে তার ভালো লাগছে না, সব কিরকম মনমরা, কিছু ভালো লাগছে না। তাই তো এভাবে কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে।
পুষ্পর ভাবনার মাঝেই দরজা খোলার আওয়াজ হয়। পুষ্প শুনেও ওঠে না; মনে করে সিমরান এসেছে। সে নিজের চোখের অবাধ্য পানিগুলো মুছে নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে। এদিকে আর্য সিমরানের রুমে ঢুকে খাটের ওপর কম্বল মুড়ি দিয়ে পুষ্পকে শুয়ে থাকতে দেখে কিছু বলে না। এগিয়ে একদম খাটের পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। নিজের কণ্ঠ একদম নরম করে ডাকল—
– “স্টুপিড গার্ল!”
আর্যর কণ্ঠে চমকে ওঠে পুষ্প। আর্যকে হয়তো কোনোভাবেই এই রুমে আশা করেনি পুষ্প, কিন্তু সে কিছু বলল না; একদম ঘুমানোর ভান ধরে রইল। পুষ্পকে নিশ্চুপ দেখে আর্য আবারও ডাকল—
– “ফ্লাওয়ার!”
পুষ্প এবারও নিশ্চুপ। আর্য আর কিছু না বলে পুষ্পর গা থেকে একটানে কম্বল সরিয়ে নিল। কোনো সতর্কতা ছাড়াই পুষ্পকে পাঁজাকোলা করে তুলে রুম থেকে বেরিয়ে যেতে লাগল। এদিকে পুষ্প এমন কিছু হয়তো স্বপ্নেও ভাবেনি; হঠাৎ তুলে নেওয়ায় ভয় পেয়ে আর্যর টি-শার্টের গলা খামচে ধরল। এদিক-অদিক তাকিয়ে মিনমিন করে ভয়ার্ত কণ্ঠে বলল—
– “কী করছেন আপনি? আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন?”
আর্য কোনো জবাব দিল না। শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখল রমণীর ভয়ার্ত মুখশ্রী। মেয়েটা তাকে দেখলে এত ভয় পায় কেন, বুঝে উঠতে পারে না। তাকে এত ভয় পেতে হবে কেন? আর্যর ভাবনায় নিজের ভেতরেই যেন কেউ টিটকারি মেরে বলল—‘ভয় পাবে না? বাচ্চা মেয়েটাকে তুই বিয়ের পর থেকে কী কী করেছিস, ভুলে গেছিস? মেয়েটার গায়ে হাত তুলেছিস তুই! মেয়েটা তোকে ভয় না পেয়ে কাকে ভয় পাবে?’ আর্যর সব মনে পড়তেই নিজের ভেতর তীব্র অপরাধবোধ ও অনুশোচনা কাজ করতে লাগল। সে যদি শুরু থেকে এতটা রুড না হতো, মেয়েটা হয়তো তাকে এতটা ভয় পেত না।
আর্য ভাবতে ভাবতেই করিডোর পেরিয়ে নিজের রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিল। সবাই নিচে খাওয়ায় ব্যস্ত হওয়ায় কেউ আর্য-পুষ্পকে খেয়াল করল না। আর্য পুষ্পকে নিয়ে গিয়ে খাটের ওপর বসিয়ে দিয়ে নিজে পুষ্পর পায়ের কাছে মাটিতে হাঁটু গেড়ে বসল। পুষ্প সাথে সাথে নিজের পা সরিয়ে নিল; এতে আর্য কিছু বলল না। সে তো একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে পুষ্পর মুখের দিকে। পুষ্প নিজের চোখ নামিয়ে রেখেছে। আর্য রমণীর মুখ দেখে বুঝতে পারছে মেয়েটা অনেকক্ষণ কেঁদেছে। পুষ্প কেঁদেছে, ওই ভীত চোখ দুটো থেকে আবারও পানি ঝরেছে—শুধু তার কারণে! বিষয়টা বুঝতে পেরে আর্যর বুকে মোচড় দিয়ে উঠল, তীব্র হাহাকার ছড়িয়ে পড়ে। সে নরম কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল—
– “বেশি কষ্ট পেয়েছ?”
পুষ্প কিছু বলে না, তার নিচু করে রাখা চোখ দুটো আবারও ভরে উঠল নোনা পানিতে। তবুও সে ঠোঁট কামড়ে ধরে নিজের কান্না আটকানোর চেষ্টা করতে লাগল। আর্য পুষ্পকে চুপ করে থাকতে দেখে আবারও বলল—
– “আমার থেকে দূরে থাকছো কেন?”
পুষ্প এবারও নিশ্চুপ। সে কী বলবে বুঝতে পারছে না। আর্যর এরকম ব্যবহার তার বোধগম্য হচ্ছে না; রাতের আর্যর সাথে এই আর্যর কোনো মিল নেই। তখন হিংস্র ছিল, এখন একদম নরম! তবে পুষ্প কিছু বলে না, তার মনে এই ভয় চেপে ধরেছে—আর্য এখন একটু ভালো ব্যবহার করছে, একটু পর আবারও আগের মতো রেগে গিয়ে তাকে আঘাত করবে। এদিকে পুষ্পকে চুপ করে থাকতে দেখে আর্যর ভেতরে যেন ছটফটানি বাড়ছে। কেন কথা বলছে না মেয়েটা? তার দিকেও তাকাচ্ছে না! মেয়েটা কি তার সাথে আর কথা বলবে না?
– “কথা বলছ না কেন? বেশি ভয় পেয়েছ? আচ্ছা সরি, কথা বলো!”
আর্যর এইরকম ছটফটানি দেখে পুষ্প অবাক হয়। লোকটার কণ্ঠ কিরকম কাঁপছে, কিরকম অস্থির, অগোছালো দেখাচ্ছে! আর্য এবার উঠে পুষ্পর মুখে হাত দিতে চাইলে পুষ্প ভয় পেয়ে পিছিয়ে গিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠে। তার মনে হচ্ছে আর্য আবারও তার চোয়াল চেপে ধরবে রুমের বাইরে থাকার অপরাধে; কালকে চেপে ধরায় এখনো ব্যথা থেকে গেছে। পুষ্প কাঁদতে কাঁদতে বলল—
– “আমি আপনার কথার অবাধ্য হব না, আমি আর রুমের বাইরে যাব না, আপনার সব কথা শুনব!”
পুষ্পর কথা শুনে, তাকে ভয় পেয়ে পিছিয়ে যেতে যেতে কাঁদতে দেখে আর্যর ভেতরে কিছু যেন নিঃশব্দে ভেঙে গুঁড়ো গুঁড়ো হতে শুরু করেছে। মেয়েটা তার ছোঁয়াকে ভয় পাচ্ছে! আর্য এবার হাত সরিয়ে নিয়ে মেয়েটাকে একটানে বিছানা থেকে তুলে নিজের বুকের সাথে চেপে ধরল; দুহাতে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। পুষ্প সাইজে ছোট হওয়ায় তার পা শূন্যে ভেসে আছে। আর্য পুষ্পকে জড়িয়ে ধরে অবরুদ্ধ কণ্ঠে বলল—
– “আই এম সরি ফ্লাওয়ার! সরি, খুব সরি! আমি আর একদম রাগ করব না তোমার উপর, তোমাকে ধমকাবো না, বকব না, একটুও হার্ট করব না। তুমি শুধু আমার সাথে কথা বলো! তুমি আমাকে ভয় পেয়ো না, ওকে? টু বি মাই গুড গার্ল, একটুও হার্ট করব না। হুস কাঁদে না, ইউর টিয়ারস… ইটস হার্টিং মি!”
পুষ্প এখনো ফুঁপিয়ে কাঁদছে; আর্যর কথা তার কানে গেল কিনা কে জানে! আর্য পুষ্পকে এখনো কাঁদতে দেখে পুষ্পর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল—
– “স্টপ ক্রায়িং, ইটস হার্টিং মি!”
পুষ্প কান্না থামানোর চেষ্টা করে, তবে পুরোপুরি থামে না; এখনো নাক টানছে মাঝে মাঝে। আর্য পুষ্পকে খাটের ওপর বসিয়ে দিয়ে নিজে এক পা ভাঁজ করে বসল পুষ্পর দিকে মুখ করে। পুষ্প মুখ নত করে রেখেছে, এমনভাবে নিচু করে রেখেছে যে একটু হলেই থুতনি বুকে লাগবে। আর্য দুই হাতে পুষ্পর মুখটা তুলে চোখের পানিগুলো মুছে দেয়। পুষ্প কিছু বলে না, তার মধ্যে ভয় থেকে গেছে—আর্য এখন ভালো ব্যবহার করছে, একটু পর আবার রেগে যাবে। তবে এবার আর্য নরম সুরে জিজ্ঞেস করল—
– “আমাকে এত ভয় পাও কেন?”
পুষ্প কিছু বলে না। কী বলবে সে? সে তো শুরু থেকেই সবাইকে ভয় পায়! কেউ একটু জোরে কথা বললে ভয়ে কেঁপে ওঠে, মনে হয় তার একটু ভুল হলেই আবার মারবে। এখন হয়তো যে তার সাথে ভালো ব্যবহার করে, আদর করে, তার সাথে মিশতে পারে; যেমন সরকার বাড়ির সবার সাথে মোটামুটি পুষ্প মিশে গেছে, তাই সবার প্রতি ভয়টাও কমে গেছে। মিশতে পারেনি শুধু আর্যর সাথে, তাই ভয়টা থেকে গেছে তার প্রতি। যদিও আর্য কিছুদিন ভালো ব্যবহার করায় পুষ্প আর্যর সাথে কিছুটা সহজ হচ্ছিল, তবে রাতের ঘটনার পর পুষ্প আবারও আর্যকে ভয় পেতে শুরু করেছে! এদিকে পুষ্পকে চুপ করে থাকতে দেখে আর্য আবারও জিজ্ঞেস করল—
– “আচ্ছা ঠিক আছে, তোমাকে বলতে হবে না! শুধু এইটুকু বলো, আমার থেকে নিজেকে আড়াল করছ কেন?”
আর্য জানে পুষ্প রাতের ঘটনার জন্য আর্যকে ভয় পেয়ে নিজেকে আড়াল করছে, কিন্তু সে পুষ্পর মুখ থেকে শুনতে চায় যাতে পুষ্প একটা হলেও কথা বলে। তবে আর্যকে নিরাশ করে রমণীর মুখ থেকে কোনো শব্দ উচ্চারণ হয় না। আর্য দীর্ঘশ্বাস ফেলল। সে বুঝে গেছে—এই মেয়ে আশেপাশে না থাকলে তার নিঃশ্বাস নেওয়া মুশকিল হয়ে যাবে। এখন তার শান্তিতে থাকার জন্য হলেও এই মেয়েকে বড্ড বেশি প্রয়োজন। আর যদি কথা হয় ভালোবাসার, তবে আর্য সেটা কিরকম অনুভূতি কোনোদিন ফিল করেনি; তাই ভালোবাসে কিনা সেটা বোঝা মুশকিল।
অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ২৩
সে ওসব ভালোবাসা বোঝে না; সে এই মেয়েকে নিজের সাথে রাখবে—তার শান্তিতে থাকার জন্য হলেও রাখবে! এই মেয়ের কিছু হলে সে এলোমেলো হয়ে যায়, দমবন্ধ হয়ে আসে। তাই তার ভালো থাকার জন্য হলেও এই মেয়েকে তার ভালো রাখতে হবে, নিজের করে রাখতে হবে। আর সে রাখবেই যেকোনো মূল্যে; তার বন্ধুর মতো একই ভুল সে করবে না!
